• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচিত ও সমালোচিত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন আইনে বাহিনীর দায়িত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন বিধান।


প্রস্তাবিত আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো, এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদাচরণ বা হয়রানির অভিযোগ সরাসরি করতে পারবেন সাধারণ নাগরিক। এসব অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত এবং নিষ্পত্তির জন্য পৃথক একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।


‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।


খসড়ায় র‌্যাবের বিদ্যমান কাঠামোকে আইনি ভিত্তি দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে নতুন এই বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসআরবির দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা এবং নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়া হবে। এরপর মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।


সেখানে অনুমোদন পেলে আইনটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত আগের কিছু বিধান প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ কার্যকর থাকবে।


খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট।


এর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। বাহিনীর সদর দপ্তর ঢাকায় থাকলেও দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।


শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এসআরবি গঠন করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।


খসড়া আইনে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকদ্রব্য দমন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধকে এসআরবির দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সহায়তা করার দায়িত্বও থাকবে।


আদালত, সরকার কিংবা পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতার করতে পারবেন এসআরবির সদস্যরা।


মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে ইউনিটটির।


তদন্তের ক্ষেত্রে অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রমে ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণের বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। এ জন্য এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকার বিধান রাখা হয়েছে।


খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’। নতুন বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত এবং বাহিনীর কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই কমিটি কাজ করবে।


কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।


কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজনে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন করতে পারবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করার ক্ষমতাও থাকবে। বাহিনীর কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব, হয়রানি, পদায়ন, পদোন্নতি বা বিভাগীয় শাস্তি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়ও কমিটি পর্যালোচনা করতে পারবে।


খসড়া আইনে এসআরবির সদস্যদের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনিভাবে অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা করা এবং জুয়া বা অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো অপরাধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।


কোনো সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা ফৌজদারি অপরাধ করে পলাতক হলে তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অনুরোধ করার সুযোগ থাকবে।


খসড়া অনুযায়ী, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাবের সব সম্পদ, জনবল, তহবিল, দায়-দায়িত্ব, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিদ্যমান চুক্তি এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে।


নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র‌্যাবের বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যবিধিও প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ কার্যকর থাকবে।


খসড়া আইনের বিভিন্ন বিধান বিশ্লেষণে দেখা যায়, নাম ও সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও অভিযান পরিচালনা, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও তদন্তের মতো মৌলিক ক্ষমতার বড় অংশই নতুন বাহিনীর জন্য বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক কমিটি এবং সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট শৃঙ্খলাবিধি যুক্ত করা হয়েছে।




  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৬ পিএম

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী।


তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ এবং নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে; একইভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোরও একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নীতির প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।


ঢাকায় চলমান ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘ভারতের দিক থেকে আমরা মনে করি, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বাংলাদেশের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক রয়েছে তার ওপর নির্ভর করে না।’

‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স : ম্যানেজিং গ্রেট-পাওয়ার কম্পিটিশন উইদাউট কনফ্লিক্ট’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার নিরাপত্তাগত স্বার্থ সম্পর্কে অবগত এবং নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে।


ত্রিবেদী বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি দেশ এবং জনগণ গণতান্ত্রিকভাবে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে। তাই বাংলাদেশ যে সিদ্ধান্তই নিক, সেটি বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত।’


‘বাংলাদেশের কী করা উচিত, তা কাউকে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই,’ যোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, উভয় দেশেরই নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার অধিকার রয়েছে।


তিনি বলেন, দুর্যোগ বা নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জের সময় প্রতিবেশীদের একে অপরকে সহযোগিতা করা উচিত। তবে এর পাশাপাশি একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নীতির প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।


‘একই সময়ে কোনো প্রতিবেশীরই একে অপরের নীতিতে হস্তক্ষেপ করার কোনো কারণ নেই,’ বলেন তিনি।


দ্বিপক্ষীয় অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে অব্যাহত সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করে ত্রিবেদী পানি, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, যোগাযোগ ও পরিবহনসহ বিভিন্ন বিষয়ে উপযুক্ত ফোরামের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।


তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো লুকিয়ে রাখার কোনো অর্থ নেই এবং বিষয়গুলো নিয়ে কথা না বলারও কোনো অর্থ নেই।’


হাইকমিশনার বলেন, দ্বিপক্ষীয় সংলাপ অব্যাহত রাখতে হবে। আলোচনার অগ্রগতি ধীর হতে পারে, তবে প্রক্রিয়া থেমে যায়নি।


তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি, প্রক্রিয়া থেমে নেই। প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’


‘বিশ্বাস করুন, এর একটি সমাধান হতে হবে এবং একটি সমাধান হবেই,’ যোগ করেন তিনি।


প্রতিবেশী দুই গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে ত্রিবেদী বলেন, এসব মতপার্থক্য নিরসনের প্রচেষ্টার ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক আস্থা।


তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলোর সমাধান কেবল সংলাপ ও পরামর্শের মাধ্যমেই হতে পারে। আর সেই সংলাপের ভিত্তি হলো আস্থা।’


ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক শুধু লেনদেনভিত্তিক নয়; এর ভিত্তি গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন।


তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু লেনদেনভিত্তিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাই না, এর পরিধি অনেক বিস্তৃত এবং এর মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্কও রয়েছে। এই সাংস্কৃতিক বন্ধনটি অত্যন্ত, অত্যন্ত দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।’


পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসার কথা উল্লেখ করে ত্রিবেদী দুই দেশের সম্পর্কের সাংস্কৃতিক ভিত্তির উদাহরণ হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অভিন্ন ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন।


তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে শক্তিশালী যোগাযোগ ও সম্পর্ক ভবিষ্যতেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।


‘এটি টিকে থাকবে-- এ বিষয়ে আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে,’ বলেন তিনি।


আলোচনায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এএনএম মুনিরুজ্জামান, সাবেক ভারতীয় সেনা কমান্ডার অরুণ কুমার সাহনি, জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ক্যারল ক্রিস্টিন ফেয়ার এবং ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা মুস্তাফা ওসমান তুরান অংশ নেন।


বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাভিত্তিক ‘সিএনএসএলটিজি-বিএসএনএসএস-ডিভিএলপিএমএনটি’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারিস হাদ্রোভিচ অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন।


বাংলাদেশে তুরস্কের সাবেক রাষ্ট্রদূত তুরান বলেন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের অর্থ শুধু মাঝামাঝি অবস্থানে বসে থাকা নয়।


অধিবেশনটিতে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা কীভাবে সামাল দেওয়া যায় এবং উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৬ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব পাওয়া নতুন সরকার আগামী পাঁচ বছরে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা এখন প্রতিশ্রুতি থেকে সরাসরি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। 


আজ শনিবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।


এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’। সম্মেলনটি ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে শতাধিক দেশের প্রায় ২শ’ বক্তা, ৩শ’-এর বেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিচ্ছেন। 


সম্মেলনে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ এবং মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করার পাশাপাশি দেশকে শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উৎপাদন, সেবা, রপ্তানিসহ সকল খাতে আমরা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। 


বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতাই বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দেবে।


তিনি বলেন, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ অগ্রাধিকার পান। ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। যা সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু হবে। ‘কৃষক কার্ড’ কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষিসেবা ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করবে। ‘হেলথ কার্ড’ সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে এবং চূড়ান্তভাবে ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।


স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগে কাজ করছে, যাদের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী হবেন। তাঁরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করবেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।




শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের জন্য নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করারও মাধ্যম হতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছি।’ 


তিনি আরও বলেন, শিশুদের চরিত্র গঠনে পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়া এবং সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে। 


শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নতিকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।’ দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে দক্ষতা, উন্নয়ন ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। 


তিনি বলেন, 'সরকার ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা  উন্নয়ন ও স্টার্ট-আপগুলোকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই আমাদের তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করুক এবং ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করুক।'


কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজারসংযোগ আরও সহজলভ্য করা হচ্ছে। মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার পরিপূরক হিসেবে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিপণ্য রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।’ 


পানি নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ কৃষিখাতকে সহায়তা করার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।’


পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।’ 


তিনি বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষ ১শ’টি লিড সার্টিফায়েড ফ্যাক্টরির মধ্যে ৫৩টিই এখন বাংলাদেশে রয়েছে।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে বর্জ্য হ্রাস, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।’


প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সুদৃঢ় করছি। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। 


আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।’


রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখনও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।’ 


এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে সংকটের মূল কারণগুলোরও সমাধান করতে হবে। যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।’


বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখে চলেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিকভাবে অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে হলে আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব। নতুন বাজার উন্মুক্ত করার পাশাপাশি তরুণদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আমরা আরও শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি।


বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ তার সব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাবে। কারণ শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূলভিত্তি। 


প্রধানমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে এমন একটি এলাকায় পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সমান সুবিধা গ্রহণ করবে এবং নাগরিকরা অর্থবহ সহযোগিতার হাত প্রসারিত করবে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


সিজিএস আয়োজিত এবারের বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের পাঁচটি মূল আলোচ্য বিষয়-ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবারস্পেস ও তথ্যক্ষমতা, বাণিজ্য, সংযোগ ও কৌশলগত প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু, সহনশীলতা ও মানব নিরাপত্তা।

স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

অরাজকতার চেষ্টা করছে কিছু দল, সোচ্চার থাকতে হবে


বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবিঃ পিএমও

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:০৬ পিএম

‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের মধ্যে যারা অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।


বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা আজকে অরাজকতা তৈরি করছে দেশের মধ্যে, বিশৃঙ্খলতা তৈরি করতে চাচ্ছে- তাদের ব্যাপারে সতর্ক করতে হবে।’


গুপ্তবাহিনী প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘এই গুপ্তবাহিনী এই যাদের সম্পর্কে কথা বলছি এদের আরেকটা কথা বলি। গত ১৭ বছর যখন স্বৈরাচার দেশের শাসনভার জোর করে ধরে রেখেছিল, মানুষের কণ্ঠস্বর ও ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল; পরে সেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যখন ৫ আগস্ট মানুষ বেরিয়েছিল পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।গুপ্তবাহিনীর লোকজন বলল কয়েক দিন আগে যে তারা যদি আসে, রাজনীতি করে আমাদের কোনো আপত্তি নাই।’


আপত্তি থাকবে কেমন করে- প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘বরাবরই তো এরা একসাথে ছিল। সেই ’৯১ সালেও তারা একসাথে ছিল, ’৮৬ সালেও একসাথে ছিল। গত নির্বাচনের সময়ও তারা একসাথেই তলে তলে কাজ করেছিল। এই জন্যই তো তাদেরকে গুপ্ত বলা হয়।’


গত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা জেল-জুলুম, হত্যার শিকার হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা গায়েবি মামলার শিকার হয়েছে। শুনেছেন তাদের ওইসবের শিকার হয়েছিল।’


রাজপথের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজপথে মিছিল করেছিলেন, মিটিং করেছিলেন, হরতাল করেছিলেন, তাদের কাউকে দেখেছিলেন রাজপথে আপনাদের সাথে? তারা রাজপথে কেউ ছিল না। আজকে তারা এবং ওরা যারা পালিয়ে গেছ- —এই স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসাথে হয়েছে।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি এবং বিএনপি সরকার আজ দিয়ে আমরা প্রমাণ করেছি যে আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। আমরা আমাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে প্রমাণ করেছি যে, বিএনপি যা বলে তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করে কাজ করে। আমরা আমাদের কর্মসূচি নিয়ে প্রমাণ করেছি যে বিএনপি সবসময় জনগণের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করে।’


দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ-সংক্রান্ত প্রকল্প উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।


ফুলগাজীর অনুষ্ঠানে ফেনীর ৭ হাজার ৬৪৩ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পাশাপাশি ৫১০ জনকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি ছিল।



অরাজকতার চেষ্টা করছে কিছু দল, সোচ্চার থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সারা দেশে অরাজকতার চেষ্টা করছে কিছু কিছু দল। দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হলে উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটবে। তাই আপনাদের সোচ্চার থাকতে হবে। দেশ যেন এগিয়ে যেতে পারে। এক দফা বলে দেশকে পিছিয়ে নেওয়া যাবে না। যারা এক দফা বলছে, আবার যারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।


বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকালে ফেনীর ফুলগাজীতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড উদ্বোধন ও ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতদের ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


তারেক রহমান বলেন, একটি দল নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট দিয়েছে। এই গুপ্তবাহিনী মানুষের অধিকার নষ্ট করছে। ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর গুপ্তরা বলেছে, পালিয়ে যাওয়াদের নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। কারণ তারা তো একসময় একসঙ্গে ছিল।


তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের জন্য কাজ করে। আমরা সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা কৃষক, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও সাধারণ মানুষের সাথে আছি। যারা হত্যার রাজনীতি করে, তাদের কাছে জনগণের জন্য কিছু নেই।


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বহু বছর পর আজ এখানে এসেছি। নানা বাড়ির লোকজনরা, আমাকে দেখে রাখতে হবে। মা যেহেতু নেই। মা মারা গেছেন, এখন আপনারা আমাকে দেখে রাখবেন।


দলের দেওয়া কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে বলেছি, ফ্যামিলি কার্ড দিব। কৃষক ভাইদের মধ্যে কৃষক কার্ড দিয়েছি। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা দিয়েছি। জনগণের অর্থ অসচ্ছল মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছি।


এ সময় সভাপতির বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। বক্তব্য দেন কৃষি ও মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, নারী সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলা উদ্দিন আল আজাদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু ইউসুফ প্রমুখ।



সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৪ এএম

কোনো শিশু নিখোঁজ হলে প্রথম কয়েক ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে ‘মুন’ নামে একটি সেবা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নিখোঁজ শিশুর তথ্য দ্রুত অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এতে শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) ও অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সেবা চালু করেছে। এখানে নিখোঁজ শিশুর তথ্য জানাতে টোল-ফ্রি হটলাইন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যায়।



নিখোঁজ শিশুর তথ্য যেভাবে জানাবেন

১৩২১৯ নম্বরে কল করুন:মুন অ্যালার্টের টোল-ফ্রি হটলাইন নম্বর এটি। এই নম্বরে কল করে নিখোঁজ শিশুর তথ্য জানানো যায়।

অনলাইনে জানান: munalert.org ওয়েবসাইটে গিয়ে নিখোঁজ শিশুর জন্য অ্যালার্ট বা সতর্কবার্তা দেওয়ার আবেদন করা যায়।


দ্রুত ব্যবস্থা নিন

কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম তিন ঘণ্টাকে ‘গোল্ডেন টাইম’ বা গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। তাই দেরি না করে দ্রুত খবর জানানো জরুরি। কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের উচিত পুলিশকে বিষয়টি জানানো।


পুলিশের পাশাপাশি ‘মুন অ্যালার্ট’ ব্যবহার করুন। এটি পুলিশের কাজের কোনো বিকল্প নয়। বরং এটি পুলিশের অনুসন্ধান কার্যক্রমকে আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে।


অ্যালার্ট দেওয়ার পর কী হয়

‘মুন অ্যালার্টে’র মাধ্যমে কোনো শিশুর নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে দেওয়া হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামও আছে।


নিখোঁজ শিশুর ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য মেট্রোরেল স্টেশন, এটিএম বুথ ও ব্যাংকের ডিজিটাল স্ক্রিনেও দেখানো হতে পারে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে মসজিদের মাইকেও শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘোষণা দেওয়া যেতে পারে।


মুন অ্যালার্টের সঙ্গে মেটারও অংশীদারত্ব রয়েছে। এর ফলে ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে নিখোঁজ শিশুর বিষয়ে নোটিফিকেশন পাঠানো সম্ভব হয়।


মুন অ্যালার্টের নোটিফিকেশন পেলে করণীয়

আপনার কাছে মুন অ্যালার্টের কোনো নোটিফিকেশন এলে শিশুটির ছবি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে দেখুন। যদি মনে করেন, শিশুটিকে কোথাও দেখেছেন, তাহলে নিজে গিয়ে বিষয়টি সামলানোর চেষ্টা না করে পুলিশ বা মুন অ্যালার্টে উল্লেখ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।


মুন অ্যালার্টের মূল লক্ষ্য হলো, নিখোঁজ শিশুর খবর দ্রুত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। যাতে সাধারণ মানুষও শিশুটিকে খুঁজে বের করতে পুলিশকে সাহায্য করতে পারেন। তবে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করবে কত দ্রুত নিখোঁজ শিশুর খবর জানানো হচ্ছে, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা কতটা কার্যকরভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে, অ্যালার্টটি কত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ কোনো শিশুর খোঁজ পেলে তা রিপোর্ট করছে কি না, তার ওপর।

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১৫ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১৫ পিএম

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত H.E. Brent T. Christensen-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ সেনাসদরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি-এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।


সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি তাঁরা বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের বিষয়ে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি ইউনাইটেড স্টেটস আর্মি প্যাসিফিক (ইউএসএআরপিএসি)-এর সঙ্গে ‘এক্সারসাইজ টাইগার লাইটনিং’-এ বাংলাদেশ স্পেশাল ফোর্সের সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও কর্মদক্ষতার প্রশংসা করেন।

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০১ এএম
  • আপডেট : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৪১ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ফটো

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০১ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন আজ সোমবার। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। 


রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।


এ সফরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।


পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কয়েকটি দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রথমত, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।


তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাই, এটি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।


পররাষ্ট্র সচিব জানান, অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিউইয়র্কে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন। সকালে তিনি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে স্বাগত প্রাতরাশে যোগ দেবেন। এর পর তিনি এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করবেন। সন্ধ্যায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।


প্রধানমন্ত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। এর পর তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং স্পেন কর্তৃক আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলাবিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন। বিকেলে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন।

তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর এবারের অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এ সভায় তিনি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন।


প্রধানমন্ত্রী একই দিন বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন। তিনি ২৩ সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন।


তিনি ২৪ সেপ্টেম্বরে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারিবিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এ সময় তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করবেন।


সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।


এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।


এ ছাড়া অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে তিনি ওয়াল স্ট্রিট, মেটাসহ আরও কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।