ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিন।
বিজয় যেমন গণতন্ত্রের অংশ, তেমনি পরাজয়ও গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য সত্য। নির্বাচনের পর সবাই মিলে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আর মাত্র একদিন পরই সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট। সারা জাতির বহু বছরের আকাঙ্ক্ষার দিন। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি এবং স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের সাফল্যের পর আজ আবার গণতান্ত্রিক উত্তরণের যুগ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি।
আপামর জনগণের-বিশেষ করে জুলাইয়ের যোদ্ধাদের-আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন, এই গণভোট-কোনোটিই সম্ভব হতো না। সমগ্র জাতি তাই তাদের কাছে চিরঋণী।
তিনি বলেন, আগামী পরশুদিন দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা সবাই মিলে নতুন সরকার গঠনের নির্বাচন করব এবং পাশাপাশি গণভোটের মাধ্যমে আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণ করব।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। এখন আমাদের সবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রচার-প্রচারণা পূর্ববর্তী যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো সংযম দেখিয়েছে, প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ সচেতন থেকেছেন। এই পরিবেশ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি-এটি সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ফল।
ড. ইউনূস বলেন, তবে এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মাঝেও আমাদের হৃদয়ে গভীর বেদনার ছায়া রয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এবং প্রচার-প্রচারণাকালে সংঘটিত কয়েকটি সহিংস ঘটনায় আমরা কিছু মূল্যবান প্রাণ হারিয়েছি। এই সহিংসতা আমাদের জাতীয় বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। গণতন্ত্রের চর্চায় কোনো প্রাণ ঝরে যাওয়া-কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্যই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যা এ যাবৎকালের যেকোনো নির্বাচনের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। আগের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে এর চেয়ে বেশি প্রার্থী প্রায় কখনোই দেখা যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এবারের নির্বাচন শুধু আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয়। এটি একটি গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ আমরা দেখেছি, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ। রাজপথের সেই দাবি আজ আপনাদের ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হতে যাচ্ছে। তাই এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।’
‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছি না-একইসঙ্গে আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। আমরা কি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে পারব, নাকি আবারও পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃত্তে ফিরে যাব-এই প্রশ্নের উত্তর দেবে গণভোট।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, আজ আমি বিশেষভাবে কথা বলতে চাই আমাদের তরুণ ভোটার ও নারী ভোটারদের সঙ্গে। আপনারাই সেই প্রজন্ম, যারা গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে পারেননি। আপনারা বড় হয়েছেন এমন এক বাস্তবতায়, যেখানে ভোটের মুখোশ ছিল-কিন্তু ভোট ছিল না; ব্যালট ছিল-কিন্তু ভোটার ছিল না। এই দীর্ঘ সময়ের বঞ্চনা ও অবদমনের সবচেয়ে বড় মূল্য জাতিকে প্রতিদিন দিতে হয়েছে।
‘তবু আপনারা আশা ছাড়েননি। অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি। আন্দোলনে, প্রতিবাদে, চিন্তায় ও স্বপ্নে আপনারা একটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা লালন করেছেন। আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলানোর সেই দিনটি এসেছে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের নারীরা-মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সবকটি গণআন্দোলন, পরিবার থেকে রাষ্ট্র-সবখানেই শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। নারীরাই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা। নারীরাই এ দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শক্ত ভিত। ক্ষুদ্র ঋণ, কুটির শিল্প, নারী উদ্যোক্তা এই শব্দগুলোর পেছনে আছে পরিবর্তনের গল্প, পরিবার ও সমাজে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প।
ড. ইউনূস বলেন, আমাদের তরুণরা-যাদের স্বপ্ন, মেধা ও শক্তিই আগামী বাংলাদেশের ভিত্তি-এই ভোট আপনাদের প্রথম সত্যিকারের রাজনৈতিক উচ্চারণ। তাই আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ নয়, দাবি জানাচ্ছিভয়কে পেছনে রেখে, সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান। আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচন করবে না; এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের জবাব দেবে, জাতিকে নতুনভাবে গঠিত করবে এবং প্রমাণ করবে-এই দেশ তার তরুণ ও নারী এবং সংগ্রামী জনতার কণ্ঠ আর কোনোদিন হারাতে দেবে না।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। এবার রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও ব্যাপকভাবে দায়িত্বে রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা দ্রুত ও কঠোরভাবে প্রতিহত করা যায়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো সারাদেশে ব্যাপক পরিসরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা শরীরে ক্যামেরা ব্যবহার করছেন। নিরাপত্তা ও নজরদারিতে ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এসব ব্যবস্থার একমাত্র লক্ষ্য-ভোটাররা যেন নির্ভয়ে, নিশ্চিন্তে ও সম্মানের সঙ্গে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী আমাদের ভাই-বোনেরা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অংশগ্রহণ করতে পারছেন-এটি আমাদের গণতন্ত্রের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে। আমাদের এই নতুন অভিজ্ঞতা অন্যান্য দেশে প্রচলনের জন্য ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমাদের অভিজ্ঞতার প্রতিটি ধাপ তারা পর্যবেক্ষণ করছে।
‘একইসঙ্গে দেশে অবস্থানরত সরকারি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং আইনি হেফাজতে বা কারাগারে থাকা যোগ্য নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি প্রমাণ করে-রাষ্ট্র কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে চায়।’
রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের দ্ব্যর্থহীনভাবে নির্দেশ দিন, যেন কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কেন্দ্র দখল, ভোটে প্রভাব বিস্তার করা কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়। কেউ যেন সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনভাবে গুজব না ছড়ায়। রাষ্ট্র কোনোভাবেই এ ধরনের আচরণ সহ্য করবে না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়-একটি ত্রুটিপূর্ণ, প্রশ্নবিদ্ধ বা সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচন শেষ পর্যন্ত কারও জন্যই মঙ্গল বয়ে আনে না। বরং দেশের সর্বনাশ ডেকে আনে। যারা জনগণের মতামত উপেক্ষা করে শক্তি ও অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছে, তারা সবাই শেষ পর্যন্ত জনগণের আদালতে কঠিন জবাবদিহিতার মুখোমুখি হয়েছে।
ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা লক্ষ্য করছি-একটি চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে নাগরিকদের মনে সন্দেহ, ভয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্য একটাই-নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করা, জনগণের আস্থাকে দুর্বল করা।
তিনি বলেন, আমি আপনাদের অনুরোধ করছি-সতর্ক থাকুন, দায়িত্বশীল থাকুন। যাচাই না করে কোনো তথ্য শেয়ার করবেন না। গুজবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো সচেতনতা ও সত্য। নির্বাচন নিয়ে যারা বিগত মাসগুলিতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি করেছিল, তারা সম্পূর্ণভাবে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে তারা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আপনারা সকল প্রকার অপপ্রচার থেকে নিজেদের মুক্ত রাখুন। তথ্য যাচাইয়ের জন্য সরকারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখুন। নির্বাচনবন্ধু হটলাইন- ৩৩৩ এতে ফোন করে সঠিক খবর জেনে নিন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখন নতুন করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নাকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিঘ্ন সৃষ্টি করা। আপনারা নিশ্চিত থাকুন, নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার দায়িত্ব সমাপ্ত করবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ কোনো দলের একক ইশতেহার নয়। দীর্ঘ নয় মাস ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই জাতীয় সনদ প্রস্তুত করেছে। এই আলোচনায় অনেক প্রস্তাবের পক্ষে বিপক্ষে দীর্ঘ মতবিনিময় শেষে রাজনৈতিক দলগুলো এতে স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ জাতির ভবিষ্যৎ পথচলার এক ঐতিহাসিক দলিল, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা।
‘এই সনদের মাধ্যমে আমরা সংস্কারসমূহ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছি। তবে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহিতা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং সমাজে সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ-এসবের সফল বাস্তবায়ন এককভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামত। কারণ একটি জাতীয় রূপান্তর কখনোই একক সিদ্ধান্তে বা একক শাসনের মাধ্যমে টেকসই হয় না। জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি। পরিবর্তনের চূড়ান্ত বৈধতা আসে জনগণের সম্মতি থেকেই। তাই দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে জনগণকে সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেওয়াই হলো গণতান্ত্রিক পথের মূল ভিত্তি।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই লক্ষ্যেই আমরা গণভোটের আয়োজন করেছি-যাতে দেশের ভবিষ্যৎ সংস্কার-দিশা নির্ধারণে জনগণ সরাসরি নিজেদের মতপ্রকাশ করতে পারেন। এই গণভোট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে। এখানে আপনার প্রতিটি ভোট আগামী দিনের রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি রচনা করবে। এর প্রভাব থাকবে বহু প্রজন্মজুড়ে।
তিনি আরও বলেন, এই ভোটের মাধ্যমেই আপনারা জানি জুলাই সনদের প্রস্তাবিত সংস্কার কাঠামোকে এগিয়ে নিতে চান কি না। আপনাদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে রাষ্ট্র কোন পথে অগ্রসর হবে, শাসনব্যবস্থা কোন কাঠামোয় গড়ে উঠবে এবং একটি নতুন বাংলাদেশ কীভাবে তার গণতান্ত্রিক ও মানবিক রূপ লাভ করবে।
‘এই গণভোটে আপনার একটি ভোট শুধু একটি কাগজে দেওয়া সিল নয়-এটি আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ, আপনার পরিবারের নিরাপত্তা এবং দেশের আগামী দিনের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। আজ আপনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তার প্রভাব পড়বে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে। এটি এমন একটি মুহূর্ত, যেখানে নাগরিক হিসেবে আপনার দায়িত্ব ও অধিকার এক বিন্দুতে এসে মিলিত হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
গণভোটে সবাইকে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই নিশ্চিত করুন।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচন হয়ে গেলে নির্বাচিত সরকার দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করবে। তার সঙ্গে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব। আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এবং গৌরবের সঙ্গে নবনির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করে, তাদের সাফল্য কামনা করে বিদায় নিয়ে নিজ নিজ কাজে ফিরে যাবো। আমরা এই শুভ মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হেয়ার রোডে তাঁর সরকারি বাসভবনে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি কখনো ভাবিনি যে রাষ্ট্রপতি হবো। এটা দলের এবং মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি। রাষ্ট্রপতি হলেও আমার ইচ্ছে আছে, আমি জনগণের পাশে থেকে সেবা করবো।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হেয়ার রোডে মির্জা ফখরুলের সরকারি বাসভবনে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, যতই ব্যস্ত থাকি না কেন, সবসময় জনগণের জন্য এবং এলাকার উন্নয়নে পাশে থাকবো।
সাক্ষাৎকালে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার নেতারা পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। এ সময় মির্জা ফখরুল আবেগাপ্লুত হন এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। এসময় তিনি প্রত্যেকের খোঁজ-খবর নেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সংগঠনের সভাপতি বাংলাদেশ প্রতিদিনের মানিক মুনতাসির, সাধারণ সম্পাদক সমকালের দেলোয়ার হোসেন, বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদক মানিকুল আজাদ, সহ-সভাপতি স্টার টিভির মাহবুব আলম রাজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কালবেলার শফিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক বাসসের জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ৭১ টেলিভিশনের আব্দুল লতিফ, প্রচার সম্পাদক জিটিভির সাজ্জাদ হোসেন ও নারী বিষয়ক সম্পাদক নিউজ টোয়েন্টি ফোর’র মোছা. শিউলী বেগম নাহিদ, কার্যনির্বাহী সদস্য ৭১ টেলিভিশনের নূর তাজমিন নীর, স্টার টিভির ফরহাদ বিন নূর, কালের কণ্ঠের মো. নবাব শরীয়তুল্লাহ (সৌম্য সরকার), সাম্প্রতিক দেশকালের নাসরিন আখতার, যুগান্তরের ইমরান খান, চ্যানেল আইয়ের তাফহিমুল ইসলাম ও নিউজ এজেন্সি এবিপির বিশেষ প্রতিনিধি আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের উপদেষ্টা সিনিয়র সাংবাদিক মশিউর রহমান, প্রথম আলোর তুহিন সাইফুল্লাহ ও বাসসের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মাহাবুর আলম সোহাগ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা
মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত
যাত্রী পরিবহনে নারীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নারী-বান্ধব ও নারী চালকদের মাধ্যমে পরিচালিত বিশেষ বাস সার্ভিস আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, নারীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও যাত্রীবান্ধব পরিবহনসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। এ উদ্যোগ শুধু কয়েকটি রুটে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও গুরুত্বপূর্ণ শহরে এ ধরনের বাসসেবা চালু করা হবে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কার্যালয়ে মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নারীরা বাসে ওঠার আগে অপেক্ষার সময়, বাসে অবস্থানকালে এবং বাস থেকে নামার সময় বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই নারী-বান্ধব বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারেন এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি অংশ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সরকারের এ উদ্যোগ।
তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণে নারীদের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দেশের ভোটারদেরও অর্ধেকের বেশি নারী। পরিবারের অর্থনীতি থেকে শুরু করে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাই তাদের সক্ষমতা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বাস সার্ভিস চালু করা।
সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই নারী-বান্ধব এবং নারী চালকদের মাধ্যমে পরিচালিত এই বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ১৪টি বাস ১৩টি রুটে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি বাস চলাচল করবে।
ঢাকার জন্য নির্ধারিত বাসগুলোর মধ্যে একটি একতলা এবং বাকি নয়টি দ্বিতল বাস রয়েছে। চট্টগ্রামে একটি রুটে দু’টি দ্বিতল বাস এবং বগুড়ায় দু’টি রুটে দু’টি দ্বিতল বাস চলাচল করবে।
মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এ বাস সার্ভিসের রুট আরও বাড়ানো হবে এবং বাসের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হবে। বর্তমানে যে সেবা চালু করা হয়েছে, সেটিকে ধীরে ধীরে আরও উন্নত, আধুনিক, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করা হবে।
বিআরটিসির বর্তমান কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে ৫০০টির বেশি ট্রাকসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ বা তারও বেশি বাস পরিচালনা করছে।
বিআরটিসি বর্তমানে লোকসানে নেই; বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থানে রয়েছে। তবে সংস্থাটির মানসম্মত সেবা ও অপারেশন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বিআরটিসিকে আরও যুগোপযোগী, যাত্রীবান্ধব ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ চলছে। একই সঙ্গে রাজধানীর গণপরিবহনের রুট ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা হবে।
ঢাকার রুট পারমিটের অসংগতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক রুটের অস্তিত্ব না থাকলেও সেসব রুটের পারমিট রয়েছে।
আবার অনেক রুটে পারমিট না থাকলেও বাস চলাচল করছে। এসব রুট অনেক আগে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন ঢাকা শহরের যাত্রীদের চাহিদা, যাত্রীর চাপ এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে রুট নির্ধারণ, রুট পারমিট ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা যৌক্তিক করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বৈদ্যুতিক বাস বা ইভি বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে ২০০টি ইভি বাস সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে ইভি বাস সংগ্রহ করতে গেলে প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, দরপত্র এবং আন্তর্জাতিক ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যেতে পারে। ফলে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা দ্রুত চালুর লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় যাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর পরিবহন থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে পরিবেশবান্ধব ও সবুজ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ইভি বাস সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু ঢাকা নয়, পর্যায়ক্রমে সারা দেশে পরিবহন খাতে নতুন মাত্রা তৈরি করা হবে।
নারী চালকদের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, নারীরা কোনোভাবেই পুরুষের চেয়ে কম সক্ষম নন। তারা দক্ষতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে পারেন এবং দায়িত্ব পালন করতে পারেন। দেশের নারীরা মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাহস ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন। তাই পরিবহন খাতেও নারীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা আজ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রাষ্ট্র ও অর্থনীতিতে তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে নারীদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
মন্ত্রী বিআরটিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আজ যে সেবা চালু হলো, দুই মাস পর সেই সেবার মান আরও উন্নত করতে হবে। শুধু উদ্বোধন করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। অনেক উদ্যোগ অতীতে উদ্বোধনের পর কয়েক মাস যেতে না যেতেই কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান সরকার এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না।
তিনি বলেন, নারী বাস সার্ভিসকে টেকসই ও কার্যকর রাখতে বিআরটিসির অপারেশন, ব্যবস্থাপনা ও জনবলের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও সময়ানুবর্তিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নারী যাত্রীরা যাতে নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে এই বাসে উঠতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, এই সেবাকে আরও উন্নত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দায়বদ্ধ থাকবে। সাংবাদিকদেরও এই উদ্যোগের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও ভুল-ত্রুটি থাকলে তা জানাতে হবে, যাতে দ্রুত সংশোধন করা যায়।
তিনি আরও বলেন, নারী-বান্ধব বাস সার্ভিস চালু করা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। তবে এটিকে ধরে রাখা, টেকসই করা, সেবার মান বাড়ানো এবং নতুন নতুন রুটে সম্প্রসারণ করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টরা প্রস্তুত রয়েছে।
বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন সচিব বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আনিসুর রহমান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও বগুড়া থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর নেতিবাচক প্রভাব ও অপব্যবহার রোধে নীতি নির্ধারণ ও সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তির এই আশীর্বাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে জনকল্যাণমুখী করতে না পারলে তা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানবের মতো মানবসভ্যতার জন্যই মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।’
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ : পলিসি, প্ল্যাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করে নরওয়ে সরকার ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।
সেমিনারে ইউএনডিপি ও নরওয়ে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি বা তথ্যের সততা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সংহতি বজায় রাখার বিষয়টি এখন কেবল সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের টেক জায়ান্টদের একার বিষয় নয়। এটি আমাদের সম্পূর্ণ একটি নতুন ইকোসিস্টেমের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাঠামোগত জটিলতা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর অ্যালগরিদম ও প্ল্যাটফর্ম মূলত ব্যবসার উদ্দেশে পরিচালিত হয়, জনকল্যাণের জন্য নয়। সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় থাকা ইন্টারনেট এবং সামাজিক মাধ্যমের এই ব্যবসায়িক স্বার্থ একত্রে এক জটিল বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। এই ইকোসিস্টেমের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আশীর্বাদকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলার মাধ্যম আমাদেরই খুঁজে বের করতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আজকাল অনেক পেশাজীবী বা তরুণ নিজস্ব উদ্ভাবনী ক্ষমতা ব্যবহারের চেয়ে এআই প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, যা কাজের মৌলিকত্ব ও সততাকে ব্যাহত করছে। প্রযুক্তি আমাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও কাজের দক্ষতাকে বৃদ্ধি করবে ঠিকই, তবে তা যেন আমাদের চোরাবালির দিকে নিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। আইটি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কান্ডজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নীতি নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সংবাদপত্রের বর্তমান রূপান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রচলিত গণমাধ্যমগুলো এখন তাদের মূল মেকানিজমের পাশাপাশি ডিজিটাল ও মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে ভালো আয় করছে। এই রূপান্তরের যুগে গণমাধ্যম, রাষ্ট্র এবং অরাজনৈতিক অংশীদারদের একযোগে সঠিক তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে অপতথ্য প্রতিরোধ এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে গণমুখী করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ফোরাম ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা আশা করেন তথ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই প্রক্রিয়ায় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে বলেও আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী।
সেমিনারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতিসংঘের প্রতিনিধিবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মঙ্গলবার মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ছবি: সংগৃহীত
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, দেশের মৎস্য খাত বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সক্ষমতা অর্জন করেছে। এখন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
আজ মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন ঢাকার বাইরে কিশোরগঞ্জে করার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৎস্য উৎপাদনে হাওরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের মিঠাপানির মাছের একটি বড় অংশ হাওরাঞ্চল থেকে আসে। তাই প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্যচাষি, জেলে ও মৎস্য খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের কাছে কর্মসূচির বার্তা পৌঁছে দিতে ঢাকার বাইরে এ আয়োজন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে নদী খনন, খাল সংস্কারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও মৎস্য খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি ও মৎস্য খাতের কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘এবার আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বড় আয়োজন করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও নির্দেশনায় ঢাকার বাইরে এই কর্মসূচি আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত ও ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে।’
জাতীয় মৎস্য পক্ষের আয়োজন সফল করতে মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হাতের পাঁচটি আঙুলের মতো আমাদের সবার দায়িত্ব আলাদা হতে পারে, কিন্তু সবাই একসঙ্গে কাজ করলেই মুষ্টিবদ্ধ হাতের মতো শক্তি তৈরি হয়। এবারের আয়োজনও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল হয়েছে।’
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কোনো দায়িত্বে অবহেলা বা কাজে ফাঁকি দেওয়া যাবে না। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এই নীতিতে বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা ও দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা ও সরকারি দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের সঙ্গে থেকে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এই চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একা কারও পক্ষে কোনো বড় কাজ করা সম্ভব নয়। একটি দক্ষ ও আন্তরিক টিম থাকলে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। এজন্য কর্মকর্তাদের জনগণের কল্যাণে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান। মৎস্য খাতের উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এ খাতের উন্নয়নে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক অর্থনীতিতে মৎস্য অধিদপ্তর আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, মৎস্যচাষি ও সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা নিতে এসে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। যার যে দায়িত্ব, তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। জনগণের সেবা প্রদানে কোনো ধরনের কার্পণ্য করা যাবে না। তিনি বলেন, সরকারের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন ঢাকার বাইরে সর্বশেষ ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর এবার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাঠপর্যায়ের মৎস্যচাষি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ায় এবারের আয়োজন মৎস্য খাতের সঙ্গে সম্পৃক্তদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মৎস্যচাষি, জেলে ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আজ রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬-এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা, বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।
ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের সকল কার্যক্রমের সাফল্যের উপরেই সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের সফলতা বহুলাংশে নির্ভরশীল।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এ কথা বলেন।
সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বর্তমানে এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রত্যাশা করে। বিশেষ করে করদাতাগণ এনবিআরকে তাদের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়।
এনবিআরকে ভয় নয়, বিশ্বাস করবে মানুষ: প্রধানমন্ত্রী
দক্ষ এবং টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জন আস্থা অর্জন সম্ভব জানিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেটি আপনাদের বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে। করদাতাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব আপনাদের অবশ্যই নিতে হবে। বর্তমান সরকার এনবিআর তথা রাজস্ব কাঠামোকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অভিশাপ থেকে রাষ্ট্রের অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও মুক্ত থাকতে পারেনি। নীতি নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যক্তি কিংবা দলীয় স্বার্থে কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা, কারও প্রতি বিরূপ মনোভাব ও রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতা করে এনবিআরকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছিল। এনবিআরের ওপর মানুষের আস্থা বিনষ্টের অন্যতম কারণ ছিল এই বিষয়গুলো। কিন্তু ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে এখন আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। একের পর এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ ঘটছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধরণ পরিবর্তিত হচ্ছে। ব্যবসায় নতুন নতুন মডেল তৈরি হচ্ছে। নানা রকম চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কর বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসেছে পরিবর্তন। পরিবর্তিত বিশ্বের অর্থনৈতিক সমস্যা, সম্ভাবনা, সুবিধা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি।
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থার বিকল্প নেই
তিনি বলেন, ডিজিটাল ইকোনমি, ই-কমার্স, ট্রান্সফার প্রাইসিং, ইন্টারন্যাশনাল ট্যাক্সেশন, ট্রেড ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এই সবগুলো বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকাটা এখন অত্যন্ত প্রয়োজন।
অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ট্যাক্স জিডিপি রেশিও এখনো সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম। অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো আনুষ্ঠানিক। নিয়মিত করদাতার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। করদাতা ও রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সারা বিশ্বে একটি প্রযোজ্য বিষয় হলো আধুনিক কর প্রশাসনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বেশি কর আদায় নয়। বরং বেশি সংখ্যক মানুষকে স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহিত করা। একজন করদাতা যিনি নিম্ন কর আদায় করছেন রাষ্ট্র যেমন তাকে সম্মানিত করবে, একইভাবে যিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিহার করছেন তাকেও কর প্রদানের জন্য যথাযথভাবে আগ্রহী করে তোলা প্রয়োজন।
কর ব্যবস্থাপনা কিংবা কর আদায় পদ্ধতি সহজ এবং দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত হওয়া প্রয়োজন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাতে মানুষ স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে কর দেয়, কর দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। একই করদাতাদের ওপর বারবার করের বোঝা বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির নীতি খুব টেকসই পদ্ধতি নয়। বরং কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের যথাযথ নিয়মে করের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা বা কার্যক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এজন্য ডিজিটালি আধুনিক ডাটাভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।
তারেক রহমান বলেন, ভ্যাট আধুনিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস। তবে ভ্যাট ব্যবস্থাপনার সফলতা নির্ভর করে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। ভ্যাট প্রশাসনের জটিলতার কারণে যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত না হয় সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কাস্টমস, ভ্যাট কিংবা ট্যাক্স আদায় শুধু জোর করার বিষয় নয় বরং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর করদাতাদের আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হলে রাজস্ব আহরণ অনেক সহজ হয়। তাই দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে এমনভাবে গড়ে তোলা প্রয়োজন যেখানে মানুষ এই প্রতিষ্ঠানকে ভয় না করে বরং বিশ্বাস করে।
উপস্থিত রাজস্ব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করি দেশের স্বার্থে আপনারা এনবিআরকে জনগণের কাছে আরো বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সক্ষম হবেন। ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে প্রতিষ্ঠান তথা সবার আগে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকার চায় সবাইকে সাথে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। প্রত্যেকটি মানুষের অবদানকে সম্মানের সঙ্গে দেখতে চায় সরকার। সমস্যা আছে, থাকবে। আমরা আলোচনা করে ধীরে ধীরে সমস্যার সমাধান বের করার চেষ্টা করবো।
তারেক রহমান বলেন, সরকারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাবৃন্দ, আপনারা নিরাপদে স্বস্তি নিয়ে দেশ গঠনে কাজ করুন। সরকারের অবস্থান থেকে আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো দেশের স্বার্থে যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোকে প্রাধান্য দিতে।
তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত সময়টিতে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ছিল ইতিবাচক। এটি প্রমাণ করে আপনারা (রাজস্ব কর্কর্তারা) পারবেন। অবশ্যই পারবেন ইনশাল্লাহ। আমাদের সকলের প্রয়োজন দেশপ্রেম ও আন্তরিকতা। আসুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বার্থে আমরা সবাই মিলে একটি শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলি।
এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের শুরু হয়। এর পর চলে রাজস্ব আদায় নিয়ে মুক্ত আলোচনা। এরপর বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী এনবিআরের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। তিনি পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পরিবেশিত স্টলের ডিজিটাল স্ক্রিনে নানা উপস্থাপনা ঘুরে ঘুরে দেখেন।
বেগম খালেদা জিয়া এবং নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তরটি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সীমানার বাইরে পড়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বছরের পর বছর স্মারকটি যথাযথ গুরুত্ব ও সংরক্ষণ পায়নি। এর চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখার পাশাপাশি পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থাকা খালেদা জিয়ার নামসংবলিত উদ্বোধনী ফলকও বিভিন্ন সময় ফুলের টব ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে আড়াল করে রাখা হতো। তবে ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুটি ফলকই পরিমার্জন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০০৫ সালের ১ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর দুই বছর পর ২০০৭ সালের ২৫ মে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতেই বিশ্ববিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। ওই বছরের ৩ জুন শুরু হয় একাডেমিক কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠার সময় চারটি বিভাগ ও ১৮৫ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টি পরবর্তী সময়ে বিস্তৃত হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার সেই স্মারকটি এখনো মূল ক্যাম্পাসের বাইরে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের স্থানটির পাশ দিয়ে একসময় একটি রাস্তা ছিল। তখন রাস্তা থেকেই স্মারকটি দেখা যেত। পরবর্তী সময়ে ওই রাস্তা বন্ধ করে সেখানে শিউলিমালা হল নির্মাণ করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ হলে ভিত্তিপ্রস্তরটি সীমানার বাইরে থেকে যায়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে বড় ধরনের অবকাঠামোগত পরিবর্তন হলেও প্রতিষ্ঠার স্মারকটি রয়ে যায় ক্যাম্পাসের বাইরে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বলেন, ভিত্তিপ্রস্তরের পাশের রাস্তা বন্ধ করে হল নির্মাণের ফলে স্মারকটি আড়ালে পড়ে যায়। পরে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের সময়ও এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে যায়। জায়গাটি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হলে ভিত্তিপ্রস্তর-সংলগ্ন অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলেও জানান তিনি। এ জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ এবং হলের পাশ দিয়ে বিকল্প রাস্তা তৈরির পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
ভিত্তিপ্রস্তরটির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, সীমানার বাইরে থাকায় ভিত্তিপ্রস্তরটির চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা হতো। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে তাঁরা কয়েকবার জায়গাটি পরিষ্কার ও ভিত্তিপ্রস্তরটি রং করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ কারণে অনেকে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে তাঁর অভিযোগ।
একইভাবে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় খালেদা জিয়া নিজে এখানে এসেছিলেন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছিলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও সীমানায় পরিবর্তন এলেও ভিত্তিপ্রস্তরটি বাইরে থেকে যায়। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ভিত্তিপ্রস্তরটি ভেতরে এনে সংরক্ষণ করা উচিত। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক বটগাছটিও সংরক্ষণের দাবি জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য সচিব মারুফ হাসান (মামুন সরকার) বলেন, প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ভিত্তিপ্রস্তর কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম-ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। যে স্থান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটিকে যথাযথ মর্যাদা দিতে প্রশাসনিক ও আইনগত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। সম্ভব হলে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ভিত্তিপ্রস্তর ও বটগাছকে ক্যাম্পাসের অন্তর্ভুক্ত করে একটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থান তৈরির প্রস্তাবও দেন তিনি।
অন্যদিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. তানজিল হোসেন ভিত্তিপ্রস্তরটি সীমানার বাইরে থাকার ঘটনাকে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা নানা ধরনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ছিলেন। ২০১৪ সালের পর সাদা দলের কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন প্রশাসন বা আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষক সংগঠনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরটি বর্তমানে সীমানার বাইরে রয়েছে। সেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। সেখানে ঐতিহাসিক বটতলাও রয়েছে, যাকে কেন্দ্র করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তাই বটতলা ও ভিত্তিপ্রস্তর—দুটোকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে প্রতিষ্ঠার স্মারক হিসেবে ভিত্তিপ্রস্তরটির সংরক্ষণই এখন গুরুত্বপূর্ণ। ৫ আগস্টের পর দুটি ফলক পরিমার্জন করা হলেও ভিত্তিপ্রস্তরটি এখনো মূল ক্যাম্পাসের বাইরে। ফলে জায়গাটি অধিগ্রহণ, সীমানা পুনর্নির্ধারণ কিংবা ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও তাঁর হাতে স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের অংশ, তা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। এখন সেই ইতিহাস রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রেখে কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়, সেটিই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন।