• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৩৬ এএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ০১ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৩৬ এএম

ছবি: সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৩৬ এএম

স্ট্রোক একটি গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যা। যত অসংক্রামক রোগে মানুষের মৃত্যু হয় তার মধ্যে স্ট্রোক দ্বিতীয় প্রধান কারণ। 


অনেকের ধারণা স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাক একই বিষয়। এখানে মনে রাখতে হবে যে হার্ট অ্যাটাক আর স্ট্রোক সম্পূর্ণ ভিন্ন দুইটি রোগ। এই বিষয়ে সচেতনতা জরুরি। স্ট্রোক সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সৈয়দা শাবনাম মালিকের কাছ থেকে।


স্ট্রোক কী ও কেন হয়


ডা. শাবনাম মালিক বলেন, স্ট্রোক মস্তিষ্কের একটি রোগ। এটা সাধারণত হয় কোনো কারণে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ যদি বন্ধ হয়ে যায়। সেটা মস্তিষ্কের রক্তনালি ব্লক হয়ে হতে পারে অথবা মস্তিষ্কের রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে মস্তিষ্কের কোনো একটি অংশে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এক্ষেত্রে সেই স্থানের কোষগুলো মৃত হয়ে যায়। যার ফলে স্ট্রোকের লক্ষণ প্রকাশ পায়। রোগীর মধ্যে যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় সেগুলো সাধারণত ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে প্রকাশিত হয়।


স্ট্রোকে সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে ডা. শাবনাম মালিক বলেন, মাইল্ড স্ট্রোক বা মাইনর স্ট্রোক এরকম একটি কথা প্রচলিত আছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাক বলে। এক্ষেত্রেও স্ট্রোকের যে লক্ষণগুলো আছে রোগীর ক্ষেত্রে একই লক্ষণ প্রকাশ পায়। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগীর এই লক্ষণগুলো আবার ঠিক হয়ে গিয়ে রোগী সুস্থ হয়ে যায়। এখানেই স্ট্রোক আর ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাকের পার্থক্য।


স্ট্রোকের লক্ষণ ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে থাকবে আর ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাক হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভালো হয়ে যায়। ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাক মস্তিষ্কের সতর্কতামূলক সংকেত অর্থাৎ এটা একজন রোগীকে সতর্কতা দেয় যে পরে তার বড় ধরনের স্ট্রোক হতে পারে।


স্ট্রোক দুই ধরনের হয়। যেমন-


স্কিমিক স্ট্রোক: মস্তিষ্কের রক্তনালি কোনো কারণে ব্লক হয়ে যেতে পারে। সেটার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে।


হেমোরেজিক স্ট্রোক: মস্তিষ্কের রক্তনালি যখন ছিঁড়ে যায় তখন তাকে হেমোরেজিক স্ট্রোক বলে।


অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল, ধূমপান ও মদ্যপান, অতিরিক্ত ওজন, অলস জীবনযাপন এবং হার্টের রোগ থেকেও স্ট্রোক হতে পারে। জন্ময়িনন্ত্রণ বড়ি খাওয়া নারীদের স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা যায় বাবা-মা বা পরিবারে স্ট্রোকের ইতিহাস আছে। তাদেরও স্ট্রোক হতে পারে। এ ছাড়া ৫০ থেকে ৫৫ বছর বয়স এবং তার বেশি বয়সীদের স্ট্রোকের প্রবণতা বেশি। নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে স্ট্রোক বেশি হয়।


স্ট্রোকের লক্ষণ


ডা. শাবনাম মালিক বলেন, নিউরোলজিস্টরা স্ট্রোকের লক্ষণ ও পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বোঝার জন্য একটি শব্দ ব্যবহার করেন, সেই শব্দটি হলো- FAST (Face, Arm, Speech, Time)।


মূলত মস্তিষ্কের কোন রক্তনালিতে ব্লক হয়েছে সেটার উপর ভিত্তি করেই স্ট্রোকের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে FAST এর লক্ষণগুলোই স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণ।


১.  মুখের কোনো এক অংশ বাঁকা হয়ে যাওয়া


২.  শরীরের কোনো একটি দিক অর্থাৎ বাম অথবা ডান পাশ অবশ হয়ে যাওয়া, দুর্বল হয়ে যাওয়া, অনুভূতিহীন হয়ে যাওয়া।


৩. কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অস্পষ্টতা।


৪. স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিতে হবে রোগীকে।


এ ছাড়া ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, মাথা ঝিমঝিম করা, প্রচণ্ড মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা বা অন্ধকার দেখা, বমি হওয়ার লক্ষণও থাকতে পারে রোগীর মধ্যে।


 স্ট্রোকে সময়ের গুরুত্ব ও চিকিৎসা


ডা. শাবনাম মালিক বলেন, স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর থেকে সাড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় রোগীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে রোগীকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া সম্ভব হলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক যদি দেখেন রক্তনালিতে ব্লক হয়ে স্ট্রোক হয়েছে তাহলে শিরা পথে ইনজেকশন দেওয়া হয়, যেটাকে আই ভি থ্রম্বোলাইসিস বলা হয়। এতে রক্তনালির ব্লক ছুটে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল সচল হয়ে গেলে রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি কমে আসে এবং পক্ষাঘাতগ্রস্ত হলো সেটার পরিমাণও কমে আসে। রোগী তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যান।


লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার পরিবর্তে যদি ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া যায় তাহলে মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমি চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে ক্যাথেটার নামক বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে রোগীর মস্তিষ্কে রক্তনালিতে যেখানে ব্লক আছে সেখানের জমাট বাঁধা রক্ত বের করে আনা হয়। ফলে রক্ত চলাচল পুনরায় সচল হয়ে যায়।


যেসব রোগীরা এই সময়ের ভেতরে চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না তাদের ক্ষেত্রে কিছুই করার থাকে না। ধীরে ধীরে রক্ত জমাট বাঁধার যে প্রবণতা সেটি কম করার জন্য অ্যাসপিরিন বা ইকোস্প্রিন নামক ওষুধ দেওয়া হয়।


স্কিমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে আই ভি থ্রম্বোলাইসিস এবং মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমি চিকিৎসা দেওয়া হয়।


হেমোরেজিক স্ট্রোকের চিকিৎসায় রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে রক্তপাতের পরিমাণ বেশি হলে প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাথা থেকে রক্ত বের করা হয়। তবে মস্তিষ্কের কোন অংশে রক্তনালি ছিঁড়েছে, জমা রক্তপাতের পরিমাণ এবং রোগীর জ্ঞানের পরিমাণ কেমন এসবের উপর ভিত্তি করেই সার্জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


এ ছাড়া স্কিমিক ও হেমোরেজিক স্ট্রোকের চিকিৎসা পদ্ধতির পাশাপাশি রোগীর যে ঝুঁকিগুলো আছে যেমন- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয় তা নিয়ন্ত্রণে। স্ট্রোক পুর্নবাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যারা পক্ষাঘাতগ্রস্ত তাদের ফিজিওথেরাপি দিতে হবে।


স্ট্রোক প্রতিরোধ


স্ট্রোক প্রতিরোধে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জীবনাচারে পরিবর্তন আনতে হবে, অ্যালকোহল ও ধূমপান পরিহার করতে হবে। কেউ যদি জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি খায় সেটি বন্ধ করতে হবে। ভাতের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া যাবে না। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটতে হবে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এর পাশাপাশি যাদের একবার স্ট্রোক বা ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাক হয়েছে তাদের পরবর্তী স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেশি। সেজন্য তাদের ইকোস্প্রিন জাতীয় ওষুধ আজীবন চালিয়ে যেতে হয়।




সর্বশেষ সব খবর

হাওয়া বেগম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৫ এএম

জীবন যখন চরম অনিশ্চয়তায় মোড়ানো, চারপাশে যখন কেবলই অভাবের কালো ছায়া—এমন এক কঠিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়েও হার মানেননি হাওয়া বেগম। স্বামীকে হারিয়ে জীবনযুদ্ধের ময়দানে একদম একা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। 


কোনো সন্তান না থাকায় নিজের কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার কিংবা বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানোর মতো আপনজনও ছিল না। তবে অভাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি হাওয়া বেগম। জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। সেই সুযোগই একসময় তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তাঁর পাশে দাঁড়ায় সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম)। প্রতিষ্ঠানটির ‘জীবিকা উন্নয়ন কেন্দ্র, সান্তানপাড়া, নরসিংদী’প্রকল্পের সহায়তায় শুরু হয় তাঁর জীবনে পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়।


১৫ হাজার টাকা থেকে স্বপ্নের সূচনা


স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সিজেডএম থেকে প্রথমে ১৫ হাজার টাকা তহবিল সহায়তা পান হাওয়া বেগম। এই অর্থের মধ্য থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে দুটি ছাগল কিনে শুরু করেন ছাগল পালন। অভাবের জীবনে এটিই ছিল তাঁর নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম অবলম্বন।


শুরুটা ছিল ছোট। কিন্তু স্বপ্নটা ছিল বড়। নিজের হাতে থাকা সামান্য সম্পদকে যত্ন, শ্রম ও ধৈর্যের মাধ্যমে কীভাবে বড় করে তোলা যায়, সেই চেষ্টাই করতে থাকেন তিনি। ছাগল দুটির পরিচর্যায় কোনো ধরনের অবহেলা করেননি। খাবার, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার দিকে নজর রেখেছেন নিয়মিত। ধীরে ধীরে সেই ছোট উদ্যোগেই সম্ভাবনার আলো দেখতে শুরু করেন তিনি।


হাওয়া বেগমের কাছে দুটি ছাগল ছিল শুধু দুটি প্রাণী নয়; ছিল নিজের জীবনের নতুন অধ্যায়ের ভিত্তি। তাই প্রতিদিনের পরিশ্রমের পাশাপাশি তিনি খামারটিকে আরও বড় করার স্বপ্ন দেখতে থাকেন।


মেধা ও পরিশ্রমে মিনি খামার


হাওয়া বেগমের একাগ্রতা, পরিশ্রম ও যত্নশীলতায় প্রথম পদক্ষেপটি সফল হতে শুরু করে। এরপর তাঁকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। কাজের ধারাবাহিকতায় ধাপে ধাপে তিনি আরও সহায়তা গ্রহণ করেন এবং ছাগলের খামারের পরিধি বাড়াতে থাকেন।


এভাবে মোট পাঁচটি ধাপে মোট এক লাখ টাকা সহায়তা পান তিনি। সেই অর্থের সঙ্গে নিজের শ্রম ও অভিজ্ঞতা যুক্ত করে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন একটি সমৃদ্ধ ‘মিনি ছাগলের খামার’। তাঁর নিরলস পরিচর্যা ও ভালোবাসায় আজ খামারটিতে শোভা পাচ্ছে ছোট-বড় ১২টি সুস্থ-সবল ছাগল।


একসময় যে নারী অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, সেই তিনিই এখন নিজের একটি উদ্যোগের মালিক। খামারের প্রতিটি ছাগল তাঁর কাছে সম্ভাবনার প্রতীক। একটি ছাগল বিক্রি করে পাওয়া অর্থ যেমন তাঁর দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করে, তেমনি নতুন ছাগল কেনার মাধ্যমে ব্যবসা আরও সম্প্রসারণের সুযোগও তৈরি হয়।


হাওয়া বেগম বলেন, “যখন প্রথম ১৫ হাজার টাকা সাহায্য পাইলাম, মনে হইলো যেন একটা খড়কুটো আঁকড়ে ধরলাম। ১০ হাজার টাকা দিয়া দুইটা ছাগল কিইন্যা নিজের সন্তানের মতো যত্ন করতে লাগলাম। এরপর ধাপে ধাপে টাকা পাইছি আর খামার বড় করছি। ভাবতেও পারি নাই, আমার মতো অভাবী মানুষেরও একদিন ১২টা ছাগলের একটা খামার হবে।”


অভাব থেকে আত্মমর্যাদার পথে


হাওয়া বেগমের গল্প শুধু একটি ছাগলের খামার গড়ে ওঠার গল্প নয়; এটি একজন অসহায় নারীর নিজের ভাগ্য বদলে নেওয়ার গল্প। একসময় যেখানে প্রতিদিনের খাবারের চিন্তাই তাঁকে তাড়া করত, সেখানে আজ তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারেন। নিজের পরিশ্রমে আয় করার সুযোগ তাঁকে শুধু আর্থিক স্বস্তিই দেয়নি, ফিরিয়ে দিয়েছে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাও।


ছাগল পালনকে তিনি এখন আর শুধু সহায়তার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখেন না। এটি তাঁর কাছে একটি নিয়মিত জীবিকা ও ভবিষ্যতের বিনিয়োগ। ছাগলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে তাঁর সম্ভাবনাও। খামারের প্রতিটি ছাগলের যত্ন, খাবারের ব্যবস্থা, পরিচর্যা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিক্রির সিদ্ধান্ত—সবকিছুতেই এখন তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।


সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে তাঁর মানসিকতায়। অন্যের সাহায্যের অপেক্ষায় থাকা একজন নারী আজ নিজের উদ্যোগে আয় করছেন। ফলে জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে গেছে। এখন তিনি বিশ্বাস করেন, সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে অভাবগ্রস্ত মানুষও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন।


সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন


হাওয়া বেগমের চোখে এখন আরও বড় স্বপ্ন। তাঁর ছোট্ট খামারটিকে আরও বড় করা, ছাগলের সংখ্যা বাড়ানো এবং নিয়মিত আয় নিশ্চিত করাই তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য। একদিন যে নারী ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সুযোগই পেতেন না, আজ তিনিই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করছেন।


হাওয়া বেগমের জীবনসংগ্রাম তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি সম্ভাবনার গল্প, ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প এবং আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়ার গল্প। তাঁর ছোট্ট খামারের প্রতিটি ছাগলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর সংগ্রাম, পরিশ্রম, স্বপ্ন ও নতুন জীবনের প্রত্যয়।


অভাবের কঠিন পথ পেরিয়ে হাওয়া বেগম আজ প্রমাণ করছেন—সুযোগের একটি দরজা খুলে দিলে একজন মানুষ নিজেই নিজের জন্য আরও অনেক দরজা খুলে দিতে পারেন। সঠিক দিকনির্দেশনা, শ্রম এবং জাকাতভিত্তিক উৎপাদনমুখী সহায়তা একজন অসহায় মানুষকে শুধু সাহায্যপ্রার্থী নয়, একজন স্বাবলম্বী উদ্যোক্তায় পরিণত করতে পারে।


সিজেডএমের জীবিকা কর্মসূচির প্রধান এনামুল হক বলেন, জীবিকা কর্মসূচির মাধ্যমে সিজেডএম এ পর্যন্ত প্রায় ৩৩ হাজার পরিবারের জীবনমান পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। এসব পরিবারের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন ও উন্নত জীবন গঠনের পথে পাশে থাকতে পেরে আমরাও সম্মানিত ও গর্বিত বোধ করছি।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫২ পিএম

যে কোনো পিতাই তার কন্যাকে যে কোনো পশু থেকে রক্ষা করার জন্য বিচারের অপেক্ষা না করেই মেগাটনের থাপ্পড় বা লাথি মারার ক্ষমতা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা লেখেন তিনি।


ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যে কোনো পিতাই তার কন্যাকে যে কোনো পশু থেকে রক্ষা করার জন্য মেগাটনের থাপ্পড় বা লাথি মারার ক্ষমতা রাখে, বিচারের অপেক্ষা না করেই। এটা হিট অব দ্য মোমেন্ট। আমি হলেও তাই করব বা আরও বেশি করব।’নিজের বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘একবার সিঙ্গাপুরে এক নির্জন রাস্তায় যাত্রী ছাউনিতে ৫-৬ বছরের ছোট্ট এক মেয়ে একা বসে আছে দেখে ভাবলাম, হারিয়ে গেছে বোধহয়। অথবা কোনো বিপদে পড়েছে কি না ভেবে তার সঙ্গে কথা বলার জন্য এগিয়ে যেতেই সিঙ্গাপুরের সিটিজেন কাজিন আমাকে পেছন থেকে হুড়মুড় করে টেনে নিয়ে গেল। ভাই আপনি করছেন কী! এখানে বাচ্চা কখনোই হারাবে না। আর বিপদে পড়লে পুলিশ আছে। আপনি ছোট্ট বাচ্চার পাশে গিয়ে বসলেই বরং সন্দেহ করে পুলিশ আপনাকেই ধরে নিয়ে যাবে।’তিনি আরও লেখেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার সিটিজেন আমার ছোট বোনের একমাত্র বাচ্চা একেবারে শিশু অবস্থায় দেশ ছেড়ে সেখানে চলে যায়। এরপর বাচ্চার ৫/৬ বছর বয়সে দেশে বেড়াতে আসলে আমি ভাগ্নির মাথায় আদর করে একবার চুমু দিয়েছিলাম। সে তার মাকে বলেছিল, খালু আমাকে টাচ করেছে কেন! অথচ আদর করেছিলাম ওর মায়ের সামনেই। বিদেশে বাচ্চাদের এভাবেই শিক্ষা দেওয়া হয়।’


সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব আরও লেখেন, ‘এই হলো বাইরের জগত। এটাই স্বাভাবিক। তাদের শিক্ষা, আইন ও সুস্থ পরিবেশ আজ তাদের উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে গেছে। আমরা সব অপকর্ম, কুকর্ম, অন্যায়-অনিয়ম, নির্যাতন-দুর্নীতি, অবিচার-অত্যাচার, ব্যাভিচার-জিনা-বলাৎকার নির্দ্বিধায় করে চলেছি। কেন? কেন এত সাহস পাই? কেন কর্ম ও ধর্ম আমাদের ঠিক করতে পারছে না!’


পোস্টে মাহবুব কবির লেখেন, ‘কারণ সমস্যা অনেক গভীরে। আরও খারাপ হবে। ধ্বংস হয়ে যাবে সবকিছু। কারণ আমরা কেউ সৎ কর্মশীল নই। আমরা জানি এই দেশের বিচার ব্যবস্থা। আমরা জানি যতই অপরাধ করি না কেন, দুই দিন পর জামিনে বের হয়ে আসব। পাঁচবার জামিনে বের হয়ে পাঁচবার খুন করলেও জামিনদারের কোনো বিচার বা শাস্তি হবে না।’


তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা জানি বা আমাদের বলা হয়, আশ্বস্ত করা হয়, শুধু নামাজ পড়লেই সব কুকর্ম মাফ হয়ে যাবে। জিনা, ধর্ষণ, হত্যা, দুর্নীতি, বলাৎকার, যাই কর না কেন, নামাজ ছাড়া যাবে না। তো নামাজ মিস হয় না, কুকর্মও মিস হয় না।’


সবশেষে তিনি যুক্ত করেন, ‘এবার বুঝে নিন, নারী শুধু ভোগের বস্তু এবং তা হালাল, সেই সেন্সের উৎপত্তি কোথা থেকে এবং কেন হয়েছে। তার মানে শুধু নামাজ পড়লে সৎ কর্মশীল হবার কোনো প্রয়োজন নেই। অথচ আল্লাহপাক সৎ কর্মশীল হবার কথা বারবার বলেছেন। নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত সৎ কর্মের একটা অংশ মাত্র। হজরত লূত (আ)-এর অভিশপ্ত কওম হাসবে একদিন আমাদের দেখে। অথবা হেসেই চলেছে।’

সর্বশেষ সব খবর

ইকবাল মাহমুদ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২০ এএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আয়োজনে ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দীর্ঘতম সংস্করণের খেলায় ধারাভাষ্য দিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকবাল মাহমুদ।

১৮ থেকে ২১ অক্টোবর রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ২৮তম আসরের রাজশাহী বিভাগ ও বরিশাল বিভাগের মধ্যকার ম্যাচে ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এর আগে জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে ঢাকার শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহী বিভাগ ও খুলনা বিভাগের মধ্যকার ম্যাচ এবং বসুন্ধরার আনভির ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় একাদশের রাজশাহী বিভাগ ও চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যকার ম্যাচেও ধারাভাষ্য দেন ইকবাল।

এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগকে আগের আসরগুলোর তুলনায় ভিন্ন আঙ্গিকে সাজিয়েছে বিসিবি। কাউন্টি ক্রিকেটের আদলে বিভিন্ন রঙের ব্লেজার, ব্যাগি ক্যাপ পরে টস, কাস্টমাইজড হেলমেট, শেফিল্ড শিল্ডের আদলে ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার, প্রাইজমানি ও উইনিং বোনাসসহ বেশ কিছু নতুন সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকও বাড়ানো হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নতুন সংস্কৃতি ও পেশাদারত্বের ছাপ তৈরি হয়েছে এবারের আসরে।

জাতীয় ক্রিকেট লিগের মতো দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ আসরে ধারাভাষ্য দেওয়াকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন ইকবাল মাহমুদ। এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ মে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ধারাভাষ্য দেওয়ার মাধ্যমে পেশাদার ধারাভাষ্যকার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি।

এরপর দেশের স্পোর্টস চ্যানেল টি-স্পোর্টসের ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত বিভিন্ন করপোরেট ও অ্যামেচার টুর্নামেন্টে ধারাভাষ্য দিয়েছেন ইকবাল। পাশাপাশি আইনজীবীদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, জেলা প্রশাসন উইমেন্স গোল্ডকাপ, জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ, ময়মনসিংহ প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ধারাভাষ্যের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

জাতীয় ক্রিকেট লিগে ধারাভাষ্য দেওয়ার অনুভূতি জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, “জাতীয় ক্রিকেট লিগের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি আসরে ধারাভাষ্য দেওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য দারুণ একটি অভিজ্ঞতা। এই সুযোগ পেয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত। একই সঙ্গে আমার বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা আমার ভালো লাগার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চেষ্টা করেছি ধারাভাষ্যের মাধ্যমে দর্শকদের খেলাটার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত রাখতে এবং ম্যাচটিকে তথ্যবহুল ও উপভোগ্য করে তুলতে। এই সুযোগ পাওয়ার পেছনে যারা সহযোগিতা করেছেন, সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”

উল্লেখ্য, এর আগে ৩ থেকে ৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রিকেট লিগের ২৮তম আসরের চট্টগ্রাম বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগের মধ্যকার ম্যাচেও ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইকবাল মাহমুদ।

ইকবাল মাহমুদ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা, স্পোর্টস রিপোর্টিং ও ধারাভাষ্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৭ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৭ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৭ পিএম

শেকড়ের টানে গ্রামে ফেরা, প্রিয়জনদের সঙ্গে স্মৃতিময় সময় কাটানো আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক আনন্দঘন দিন স্বজনের টান, সুহৃদের ভালোবাসা আর বন্ধুদের আন্তরিকতা যখন এক সুতোয় গাঁথা হয়, তখন সাধারণ একটি দিনও হয়ে ওঠে অসাধারণ। ব্যস্ত জীবনের নানা ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর নাগরিক কোলাহল পেছনে ফেলে একসঙ্গে কিছু সময় কাটানোর আনন্দই আলাদা।


সেই আনন্দকে সঙ্গী করে স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের নিয়ে ১৬ অক্টোবর আয়োজন করা হয়েছিল এক আনন্দময় পারিবারিক ভ্রমণ। রূপগঞ্জের ‘গ্রামের বাড়ি পার্কে’ গ্রামীণ পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানো, পার্কে ঘুরে বেড়ানো, সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করা এবং সবশেষে পূর্বচলের নীল মার্কেটে হাঁসের মাংস দিয়ে ভূড়িভোজের মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।


শেকড়ের টানে গ্রামের বাড়ি পার্ক ভ্রমণের শুরুতেই ছিল ‘গ্রামের বাড়ি পার্কে’ যাওয়ার আনন্দ। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে গ্রামের পথে পা রাখতেই যেন বদলে যায় চারপাশের চেনা দৃশ্যপট। গ্রামের নির্মল পরিবেশ, সবুজ প্রকৃতি, পরিচিত পথঘাট আর শৈশবের স্মৃতিমাখা আবহ মনকে নিয়ে যায় অন্য এক জগতে। গ্রামের বাড়ি পার্ক মানেই শুধু একটি ঠিকানা নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শেকড়ের টান, পারিবারিক ঐতিহ্য, প্রিয়জনদের স্মৃতি এবং হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা অসংখ্য অনুভূতি।


স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের একসঙ্গে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া যেন সেই আবেগকে আরও গভীর করে তোলে। একদিকে পারিবারিক বন্ধনের উষ্ণতা, অন্যদিকে পুরোনো স্মৃতির হাতছানি। গল্প, হাসি আর খুনসুটিতে সময় কাটতে থাকে আপন ছন্দে। কেউ স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসেন, কেউ পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেন, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেন জীবনের নানা অভিজ্ঞতা।


গ্রামের বাড়ি পার্কে এমন একসঙ্গে সময় কাটানোর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো আপনজনদের আরও কাছ থেকে অনুভব করা। সম্পর্কের ব্যস্ততা ও দূরত্বের মাঝে যে আন্তরিকতার জায়গাটি কখনো কখনো আড়ালে পড়ে যায়, এমন আয়োজন তাকে আবারও উজ্জ্বল করে তোলে।


পার্কে ঘোরাঘুরি, আনন্দ আর আড্ডায় গ্রামের বাড়ি পার্কে ভ্রমণের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয় পার্কে ঘুরে বেড়ানো, পরিচিত গণ্ডির বাইরে খোলা পরিবেশে সবার সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে হাঁটাহাঁটি করা, ছবি তোলা আর হাসি-আড্ডায় মেতে ওঠার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় আনন্দের নতুন উপলক্ষ।


এ ধরনের ভ্রমণে গন্তব্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সঙ্গীদের উপস্থিতি। একই দৃশ্য কারও কাছে প্রকৃতির সৌন্দর্য, কারও কাছে ছবি তোলার উপলক্ষ, আবার কারও কাছে বন্ধুদের সঙ্গে কিছু নির্ভার সময় কাটানোর সুযোগ। সবার ভাবনা ও অনুভূতি মিলেমিশে ভ্রমণকে করে তোলে প্রাণবন্ত।


কর্মব্যস্ত জীবনে মানুষ অনেক সময় কাছের মানুষদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলার সুযোগ পায় না। পার্কের মতো উন্মুক্ত পরিবেশে সেই সুযোগ তৈরি হয় সহজেই। দৈনন্দিন জীবনের হিসাব-নিকাশ ভুলে সবাই যখন একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন, তখন বয়সের ব্যবধান কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যায়।


সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে আনন্দময় সময়


ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে যাওয়া। দুটি স্থানে ঘুরে দিনের আনন্দকে আরও বিস্তৃত করতে এই গন্তব্য যোগ করে নতুন মাত্রা। স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের সঙ্গে এমন একটি অবকাশযাপনের স্থানে সময় কাটানোর মধ্যে রয়েছে আলাদা রোমাঞ্চ। পরিচিত মানুষদের সঙ্গে নতুন পরিবেশে ঘোরাঘুরি, গল্প করা এবং একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোকে স্মৃতিতে ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়।


রিসোর্টে পৌঁছানোর পর ভ্রমণসঙ্গীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ আরও ছড়িয়ে পড়ে। কেউ চারপাশের পরিবেশ উপভোগ করেন, কেউ সঙ্গীদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠে, আবার কেউ স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একসঙ্গে ছবি তোলা, হাসিমুখে স্মৃতি ধরে রাখা এবং পরস্পরের সঙ্গে সময় ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ভ্রমণটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।


এখানে আসার মূল আনন্দ কেবল একটি বিনোদনকেন্দ্র ঘুরে দেখা নয় বরং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে একই সময়ে, একই জায়গায় উপস্থিত থাকার আনন্দ। দিনের নানা মুহূর্তে তৈরি হওয়া হাসি, গল্প আর আনন্দের স্মৃতিই পরে হয়ে ওঠে একসঙ্গে কাটানো সময়ের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।


সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করার আয়োজন


স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই ভ্রমণ কেবল বেড়ানোর আয়োজন ছিল না এর মধ্যে ছিল সম্পর্ককে নতুন করে অনুভব করার সুযোগ। আত্মীয়তার বন্ধন মানুষকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে, সুহৃদদের আন্তরিকতা কঠিন সময়ে সাহস জোগায়, আর বন্ধুত্ব জীবনের একঘেয়েমির মধ্যে এনে দেয় আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য।


একটি সফল পারিবারিক মিলনমেলার সৌন্দর্য এখানেই যে, সেখানে সবাই নিজের মতো করে আনন্দ খুঁজে নিতে পারেন। কেউ গল্পে, কেউ আড্ডায়, কেউ প্রকৃতির সান্নিধ্যে, আবার কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তোলার মধ্যে খুঁজে পান সুখের মুহূর্ত। কিন্তু সবার আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু একটাই একসঙ্গে থাকা। এই ভ্রমণ আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে, সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখতে বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই প্রয়োজন আন্তরিকতা, সময় দেওয়া এবং একে অন্যের পাশে থাকার মানসিকতা।


স্মৃতির পাতায় থেকে যাবে আনন্দময় দিনটি


গ্রামের বাড়ি পার্কের মায়া, পার্কে ঘোরাঘুরি আর সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে কাটানো সময় সব মিলিয়ে স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই ভ্রমণ হয়ে উঠেছে আনন্দ ও স্মৃতির এক সুন্দর সময়। এরপর চলে নীলা মার্কেটে হাঁসের মাংস আর রুটি খাওয়ার পালা। ছোট ছোট বাচ্চাদের দেয়া হয় উপহার সামগ্রী এবং র‌্যাফেল ড্রতে উপহার পান হাবিব, লিয়ন ও মাসুদ। দিনের শেষে সবাই ফিরে গেছে নিজ নিজ কর্মব্যস্ত জীবনে, কিন্তু সঙ্গে নিয়ে গেছে একসঙ্গে কাটানো সময়ের অমূল্য স্মৃতি। ছবি হয়তো মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখবে, কিন্তু সেই মুহূর্তের হাসি, আন্তরিকতা আর ভালোবাসার অনুভূতি থেকে যাবে হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরে। ভবিষ্যতে যখন আবারও ব্যস্ততা বাড়বে, তখন এই ভ্রমণের স্মৃতিই হয়তো মনে করিয়ে দেবে জীবনের প্রকৃত আনন্দ শুধু সাফল্য কিংবা প্রাপ্তিতে নয় বরং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই নিহিত।


স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই মিলনমেলা তাই একটি দিনের ভ্রমণেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি সম্পর্কের প্রতি ভালোবাসা, শেকড়ের প্রতি টান এবং একসঙ্গে পথচলার অঙ্গীকারের প্রতীক। এমন আয়োজন বারবার ফিরে আসুক, নতুন আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করুক এবং সবার হৃদয়ে ভালোবাসার বন্ধন আরও গভীর করুক। তিনবারে ভোজনে প্রিয় খাবারের মেনুতে ছিল খিচুড়ি, চা, ফ্রাইড রাইস, কোমল পানীয়, হাঁসের মাংস ও রুটি, পানি ইত্যাদি। সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা সে এক অন্যরকম আনন্দ।


এ মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করে জ্যোতিষ সমাদ্দার বাবু, শামীম হোসেন, কবির আহাম্মদ, মনসুর আহমেদ, ওয়াহিদ মুরাদ অপু, অলিদুল রহমান অলি, লিয়াকত হোসেন সুমন, হাবিবুর রহমান, মাসুদ আলম, জসিম মজুমদার, ইমরান হোসেন টিপু, রিদওয়ান আক্রাম, রাজিব, মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ লিয়ন, , আবদুল মোতালেব পলাশ, আমিনুল ইসলাম, সায়কা বানু, বারি দেওয়ান হৃদয়, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রেজাউল কবির রাজিব, রেজওয়ানা হোসেন বর্ণা, টিপু সুলতান দিপু এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। 


পথচলার শেষে গন্তব্যের স্মৃতি যতটা না মনে থাকে, তার চেয়ে অনেক বেশি অমলিন হয়ে থাকে প্রিয় মানুষদের সঙ্গে কাটানো আনন্দময় মুহূর্তগুলো। সকাল ৭টায় ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু হয় এবং এর সফল সমাপ্তি ঘটে রাত ৯টায় সবার নিজ নিজ ঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ এএম

বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগারের উদ্যোগে শিক্ষক সমাজের মর্যাদা, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা এবং বর্তমান সমাজে শিক্ষকের মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।


সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগারের সভাপতি শাহজাহান শোভন।


অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  লেখক, সংগঠক ও সমাজকর্মী মোস্তফা হুমায়ূন হিমু, সংস্কৃতিকর্মী মু. মোস্তফা কামাল বাদল, সাংবাদিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অলিদুর রহমান অলি, কবি আতিক শাহরিয়ার, শাহীন কাউসার, সমাজকর্মী সালাম খান তরুণ, জহিরুল ইসলাম দুখুসহ শিক্ষক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।


আলোচনায় বক্তারা বলেন, একটি জ্ঞাননির্ভর ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষকের মর্যাদা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৯ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৯ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৯ পিএম

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই অর্থনীতিতে বাঁশের বহুমুখী ব্যবহার তুলে ধরতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঁশ দিবস। 


চলতি বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘Bamboo Beyond Borders’, যার অর্থ ‘সীমানা ছাড়িয়ে বাঁশ’। গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্যবাহী এই উদ্ভিদ এখন পরিবেশবান্ধব শিল্প, নির্মাণ, খাদ্য ও জীবিকার অন্যতম সম্ভাবনাময় উপাদান হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।


বাঁশ শুধু গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্যবাহী উপকরণ নয়; পরিবেশ সুরক্ষা, শিল্প, হস্তশিল্প ও অর্থনীতিতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আসবাবপত্র, কাগজ, ঘরবাড়ি নির্মাণসহ দৈনন্দিন নানা পণ্য তৈরিতে বাঁশের ব্যবহার হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।


বিশ্ব বাঁশ সংস্থার উদ্যোগে প্রতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালিত হয়। ২০০৫ সালে World Bamboo Organization (WBO) প্রতিষ্ঠার পর বাঁশের সম্ভাবনা ও ব্যবহার নিয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির কার্যক্রম আরও জোরদার হয়। পরে ২০০৯ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত অষ্টম বিশ্ব বাঁশ কংগ্রেসে ১৮ সেপ্টেম্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব বাঁশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।


পরিবেশের জন্যও বাঁশ গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত বেড়ে ওঠা এই উদ্ভিদ কার্বন শোষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে বাঁশকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র শিল্প ও হস্তশিল্পে বহু মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।


দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো বাঁশের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরা, এর টেকসই ব্যবহার বাড়ানো এবং দৈনন্দিন জীবনে বাঁশভিত্তিক পণ্যের ব্যবহারকে উৎসাহিত করা।

সর্বশেষ সব খবর