আজ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতের আমিরের সভাপতিত্বে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৮ পিএম

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি ইসলামী দল ভবিষ্যতে একসঙ্গে চলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত নতুন একটি রাজনৈতিক জোটে রূপ নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।


আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতের আমিরের সভাপতিত্বে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 


সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চলা সভায় কওমি ধারার সাতটি দল অংশ নেয়। সভায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তিনজন করে প্রতিনিধি অংশ নেন। এ ছাড়া হেফাজতের অন্তত ২০ জন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।


সভা শেষে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, সাতটি দল ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। অল্প দিনের মধ্যেই সেই ঐক্যের প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।


কেন এই উদ্যোগ


সভায় অংশ নেওয়া একাধিক নেতা বলেছেন, সাতটি ইসলামি দল কওমি ধারার। হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার রাজনৈতিক দল রয়েছে। সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্ন ভিন্ন জোটে যাওয়ায় কওমি অঙ্গনে বিভক্তি তৈরি হয়।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাতটি দলের মধ্যে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা হলেও দলটি শেষ পর্যন্ত আটটি আসনে এককভাবে নির্বাচন করে।


অন্যদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ চারটি আসনে সমঝোতার মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যায়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন ভাগাভাগির বিরোধে জামায়াত জোট ছেড়ে এককভাবে নির্বাচন করে। ইসলামী ঐক্যজোটও এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়।


নির্বাচনের পর জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় যাওয়া কয়েকটি দলের সঙ্গে হেফাজতের শীর্ষ আলেমদের একাংশের দূরত্ব তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। একপর্যায়ে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১-দলীয় ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। 


এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক চট্টগ্রামে গিয়ে হেফাজতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানান, জামায়াতের সঙ্গে তাদের ঐক্য আদর্শিক নয়, রাজনৈতিক ছিল।


সভাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, হেফাজতের আমির চান কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ হোক এবং তারা নিজেদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলুক। এ জন্য প্রতিটি দলের কাছে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। দলগুলো নিজ নিজ ফোরামে আলোচনা শেষে প্রস্তাব জমা দেবে। সেগুলো নিয়ে আগামী আগস্টের শুরুতে আবার বৈঠক হবে। তখন সম্ভাব্য ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করার চেষ্টা হবে।


হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন প্রভাবশালী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কওমি অঙ্গনের আলেমরা জামায়াতবিরোধী। সে কারণে জামায়াতের সঙ্গে কয়েকটি দল জোট বাঁধায় কিছুটা দূরত্ব, বিভক্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। 


আজকের সভায় সাত ইসলামি দলের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলগুলো একসঙ্গে চলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি রাজনৈতিক জোটে রূপ নিতে পারে।


যা বলছেন নেতারা


আজকের এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বা সভার বাইরে থাকলেও পুরো বিষয় সম্পর্কে জানেন, সাত দলের এমন শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে গণমাধ্যম। এই উদ্যোগের বিষয়ে তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে যাওয়া হয়।


জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, আপাতত সাতটি দল ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়ে একমত হয়েছে। কী প্রক্রিয়ায় একসঙ্গে পথচলা যায়, সে বিষয়ে প্রতিটি দলের কাছে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আমির চান এই দলগুলো অন্য কোনো দলের সঙ্গে না গিয়ে নিজেরাই ঐক্যবদ্ধ থাকুক।


হেফাজতের তত্ত্বাবধানে সাতটি দল কীভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে, সে বিষয়ে সভায় আলোচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। 


তিনি বলেন, সাতটি দলের আকিদা-বিশ্বাস কাছাকাছি হওয়ায় ঐক্যের ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব বলে সভায় মত এসেছে। তবে কী ধরনের কাঠামোয় এই ঐক্য হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকগুলোতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হক  বলেন, বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল কওমি ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব দূর করা। এখনো নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।


খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতা করছে অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। সেই সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা চাচ্ছেন, ইসলামি দলগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকুক। সেই ঐক্য কীভাবে অটুট রাখা যায়, সে বিষয়ে দলগুলোকে লিখিত প্রস্তাবনা দিতে বলা হয়েছে। তবে এই ঐক্য কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে।


সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন, প্রতিটি দলের লিখিত প্রস্তাব পাওয়ার পর আগামী আগস্টের শুরুতে আবার বৈঠকে বসার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই বৈঠকেই সাত দলের সম্ভাব্য ঐক্যের কাঠামো ও পরবর্তী কর্মপন্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। ফলে হেফাজতের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কওমি ধারার ইসলামি দলগুলোর নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



সর্বশেষ সব খবর

সলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। ফাইল ফোটো।

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৬ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তিতে সরকারের প্রতি ছয়টি পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।


পরামর্শগুলো হলো, জুলাই সনদ ও জুলাই গণভোট বাস্তবায়ন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, গণহারে দলীয়করণ না করা, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা এবং পাচার করা টাকা উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা।


সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব পরামর্শ দেন তিনি।


বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও এই সরকার দেশের ৫৫ বছরের গতানুগতিক কোনো নির্বাচন বা সরকার নয়; বরং স্বাধীনতার ৫৪ বছরে রাষ্ট্রের পরতে পরতে জমা জঞ্জাল দূর করার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় জন্ম নেওয়া একটি গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিয়ে এই সরকার গঠিত হয়েছে। পরিবর্তন ও প্রত্যাশার সেই রক্তস্নাত পটভূমি বিবেচনায় নিলে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে। কষ্টের বিষয় হলো, আশার আলো ক্রমেই ফিকে হয়ে যাচ্ছে।


তিনি বলেন, ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের পর দায়িত্ব নেওয়া একটি সরকারের মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস হয়তো যথেষ্ট সময় নয়, কিন্তু ছয় মাস সময় হিসেবে কমও নয়। সরকারের মেয়াদের এক-দশমাংশ সময় এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে। এই সময়ে অনেক ক্ষেত্রে সফলতা হয়তো দেখা যাবে না, তবে সূচনা ও পদ্ধতি দেখা যায়। সেই বিবেচনায় বিশেষ করে সংস্কারের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জাতির মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।


চরমোনাই পীর বলেন, জুলাই সনদের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটকে কার্যত বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রকে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা থেকে রক্ষা করার জন্য জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন করে যে আইন আনা হয়েছে, তাতে আগের সমস্যার কোনো সমাধান নেই। এগুলো জুলাইয়ে মাঠে নেমে আসা অরাজনৈতিক ছাত্র-জনতার প্রত্যাশার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।


তিনি আরও বলেন, জনপ্রত্যাশাকে উপেক্ষা করার পরিণতি ভালো হয় না। আজকেই হয়তো মানুষ মাঠে নামবে না; কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি তারা আস্থা হারিয়ে ফেলবে।


তবে সরকারের কিছু উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা প্রশংসার যোগ্য। বিশেষ করে সরকারপ্রধানের দৃশ্যমান আচরণ ও ব্যতিব্যস্ততা ভালো কিছুর ইঙ্গিত দেয়। সরকারের অন্যদের কাছ থেকেও একই রকম ভূমিকা আশা করেন তারা।


সরকারের প্রতি দেওয়া ছয় পরামর্শের বিষয়ে চরমোনাই পীর বলেন, জুলাই সনদ ও জুলাই গণভোট বাস্তবায়ন করুন। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরুন। নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানোর ব্যবস্থা করুন। গণহারে দলীয়করণ করবেন না। ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনুন। পাচার করা টাকা উদ্ধারে অগ্রগতি দৃশ্যমান করুন।


বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই এই সরকার সফল হোক।’

সর্বশেষ সব খবর

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, অতীতে বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক নেতাকর্মী ও তাদের পরিবার পুনর্বাসন ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তবে বর্তমান সরকার এই বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সবার পুনর্বাসন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।


বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।


ইশরাক হোসেন বলেন, ‘কিছু বঞ্চিত পরিবার রয়েছে যাদেরকে অতীতে বিএনপির দলীয় পরিচয়ের কারণে যথাযথ পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হয়নি। আমরা সেসব বিষয় পর্যালোচনা করছি। আমাদের কাছে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় আসবে না। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে এবং শহীদ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে, তাদের প্রাপ্য সম্মান তাদের দেওয়া হবে।’


তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের তালিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেকে বাদ পড়েছেন। তাদের যাচাই-বাছাই করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কাউকে রাজনৈতিক বিবেচনায় বাদ দেওয়া হবে না।’


প্রধানমন্ত্রী জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।


ইশরাক বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা, তাদের পুনর্বাসন, পরিবার-পরিজনের শিক্ষাসহায়তা এবং বিভিন্ন ভাতার বিষয়ে তিনি হালনাগাদ তথ্য জানতে চেয়েছেন।’


জুলাই ফাউন্ডেশন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অতীতে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেছিল। সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে আমরা তার নির্দেশনা গ্রহণ করেছি।’

সর্বশেষ সব খবর

প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২০ মে, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই।


তিনি বলেন, জুলাই সনদের সঙ্গে বিএনপি যুক্ত ছিল এবং দলটি সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবে। তবে জুলাই আদেশ নিয়ে বিএনপির কিছু মতপার্থক্য রয়েছে, যা নির্বাচনের আগেই দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।


বুধবার (২০ মে) রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


ইশরাক হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। ওই শিক্ষার্থীদের স্মরণে কলেজের সামনে বা মূল সড়কে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। জুলাইয়ের স্মৃতি ও আন্দোলনের কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।


তিনি বলেন, কলেজটি একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও বিগত ১৭ বছরে অবহেলার শিকার হয়েছে। তিনি কলেজ ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তুলে ধরে বলেন, কোথাও ফাটল বা ক্ষতি হওয়ায় অস্থায়ী পিলার বসাতে হয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, শ্রেণিকক্ষের ঘাটতি ও আধুনিক বিজ্ঞানাগারের অভাবের বিষয়টি আমার জানা আছে। এ সমস্যাগুলো সমাধানে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে কলেজ পরিদর্শনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।


কলেজের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে কলেজটিকে আরও উন্নত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


এ সময় তিনি ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকার পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরের ‘জঞ্জাল’ একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদক, কিশোর গ্যাং ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


ইশরাক বলেন, যেকোনো অপকর্ম প্রতিরোধে ছাত্রসংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে তাদেরও জবাবদিহির মধ্যে আনা হবে।


অনুষ্ঠানে কলেজের জন্য একটি প্রজেক্টর দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এ বিষয়ে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে যৌথভাবে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান।


কলেজের শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাজেটসহ মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে লিখিতভাবে তুলে ধরতে। ঈদের ছুটির পর শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে কলেজসহ আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


সরকার গঠনের ৯২ দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সে কারণে অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডক্টর খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমিন, অফিসার্স কাউন্সিলের সম্পাদক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অনন্যা সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দরা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানি নীতির কারণে দেশে বিদ্যুৎ নিয়ে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।


মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার স্যার জগদীশ জেসি বোস ইনস্টিটিউশন অ্যান্ড কলেজ এবং বিক্রমপুর ভূঁইয়া মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।


ইশরাক হোসেন বলেন, ‘জ্বালানি খাতকে ফ্যাসিবাদমুক্ত এবং সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে আনতে বর্তমান সরকার দক্ষতার সঙ্গে সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। আগামী সংসদে এসব নীতিমালা উপস্থাপন করা হবে।’


তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদলের ১৪৮ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। অথচ বর্তমানে আন্দোলনের নামে যারা নানা ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন, তাদের কেউ কেউ এখন জ্বালানি ইস্যু নিয়েও আন্দোলন করতে চাইছেন।’


তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।’


প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারাই এখন নিজেদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে দাবি করছেন-এমন বক্তব্য হাস্যকর।


অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু।


শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জসিম মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহামুদ হাসান ফাহাদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।


বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সর্বশেষ সব খবর

বিএনপির লোগো

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৪৭ এএম

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার পর বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও সরকারে দায়িত্ব বণ্টনে একাধিক পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে রুহুল কবির রিজভীসহ চার নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শূন্য হওয়া মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে মন্ত্রিসভায় সীমিত রদবদলের বিষয়েও আলোচনা চলছে।


বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে যুক্ত হওয়া অন্য তিন নেতা হলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরহাদ হালিম (ডোনার)। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১৩ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলামের প্রার্থিতার এক দিন পর স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হলো। যদিও সদস্যদের কারও কারও অন্তর্ভুক্তি দলের অনেকের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।


শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিএনপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।


স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হওয়া রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা। সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশায় চিকিৎসক ফরহাদ হালিম জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।


নতুন চার সদস্যকে নিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। তাঁরা হলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ফরহাদ হালিম।


এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহাসচিবের পদসহ দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয়। অসুস্থতার কারণে বহু বছর ধরে তাঁকে দলের সভা ও কর্মসূচিতে দেখা যায় না।


বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিব স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত বলে গণ্য হন। তাঁদেরসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা ১৯ জন। চেয়ারম্যান স্বয়ং এ কমিটির প্রধান থাকবেন।


২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এরপর সদস্যদের মৃত্যু, পদত্যাগসহ বিভিন্ন কারণে কমিটির কয়েকটি পদ শূন্য হয়। বিভিন্ন সময়ে এসব পদে নতুন সদস্য যুক্ত করেছে দলটি। এবার একসঙ্গে চারজনকে স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করা হলো।


স্থায়ী কমিটির সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নামও আলোচনায় ছিল।


আসাদুজ্জামান রিপন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিশ্চয়ই তিনি (দলের প্রধান) সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যশীল এবং আস্থাবান।’


মন্ত্রিসভায় রদবদলের আলোচনা


মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হওয়ায় তাঁর দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ায় মন্ত্রিসভার কাজ পর্যালোচনা করে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতির শপথের আগে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা কম। তবে কয়েকজন নতুন মুখকে যুক্ত করে সীমিত পরিবর্তন আনা হতে পারে।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ আনার আলোচনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।


সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের নাম আলোচনায় রয়েছে।


এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন, এমন অন্তত কয়েকজনকে পূর্ণ মন্ত্রী করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলোচনা আছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।


এ বিষয়ে এই প্রতিবেদক গত দুই দিনে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু কেউ মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদলের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।


মহাসচিব পদে কে


মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদ শূন্য হবে। এ পদে কে আসবেন, তা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে এখনো কোনো নাম আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আনা হয়নি।


দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করার পর তাঁকে আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।


ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উত্তরসূরি কে


রাষ্ট্রপতি হলে মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনও শূন্য হবে। ফলে ওই আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর ছোট ভাই ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন এবং বড় মেয়ে মির্জা শামারুহের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। তবে মির্জা পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন এবং মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্বের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসে। এর সঙ্গে সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভায় সীমিত রদবদলের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৯ পিএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন বিকাল ৪টার দিকে বলেন, “কার্যালয়ে দলীয় কর্মসূচি পণ্ড করতে এবং ভবনটি তালাবদ্ধ করার জন্য পুলিশ সেখানে অবস্থান নিয়েছে।”


জানতে চাইলে পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার মাজহারুল ইসলাম বলেন, “সেখানে কোনো ধরনের প্রোগ্রাম করার জন্য আমাদের কাছে অনুমতি নাই।”


সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটা ডেপ্লয়মেন্ট না, কোনো প্রোগ্রাম ঘিরে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না ঘটে সেজন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।”


এদিন বিকাল ৫টায় তোপখানা রোডের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি রেখেছিল বাংলাদেশ জাসদ।


১৫ অগাস্ট সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়ে শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটি বলেছিল, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এ বর্বর ঘটনা এক অমোচনীয় কলঙ্ক হিসেবেই থেকে যাবে।


“দেশে আইনের শাসন, ন্যায় বিচার ও গণতন্ত্র নিশ্চিত করার মাধ্যমেই জাতির এ কলঙ্ক দূর করা সম্ভব বলে বাংলাদেশ জাসদ মনে করে।”


১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হত।


২০২৪ সালে ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসাবে ১৫ অগাস্টের ছুটির বাতিল করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারও ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।

সর্বশেষ সব খবর