• প্রকাশ : বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:০৩ এএম

‌‘ভোটকেন্দ্র কোথায় এখনও সেটা জানি না। আগে তো বাসায় স্লিপ দিয়ে যেত। এবার কেউ ভোটার স্লিপ দিয়ে যায়নি। এমনিতে সবসময়ই লেডি দেহলভি স্কুলে ভোট দিয়েছি। হয়তো ওই কেন্দ্রই হবে। সমস্যা নাই, সার্চ করলেই জানা যাবে।’ কথাগুলো বলছিলেন চাঁদপুরের একজন ভোটার সেলিনা আক্তার। 


ভোটারদের এবার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটসহ মোট দুইটি ভোট দিতে হবে। আবার ভোটগ্রহণের সময়ও এবার এগিয়ে আনা হয়েছে এবং এক ঘণ্টা সময়ও বাড়ানো হয়েছে।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতে আর ১৬ ঘণ্টারও কম সময় হাতে রয়েছে। গুগল ও স্যোশাল মিডিয়ায় দেখা গেছে, নির্বাচনের ঠিক আগেভাগে এ নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মানুষ। যেমন, ইলেকশন ২০২৬, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজম্যান্ট বিডি ২০২৬, ভোটার স্লিপ বিডি, ভোটার নম্বর চেক অনলাইন, ভোট সেন্টার চেক, ভোটার নম্বর বের করার নিয়ম এমন নানা শব্দ গুগলে লিখে ভোটের শেষ মুহূর্তে আজ বুধবারও মানুষ এ সম্পর্কিত তথ্য জানতে চাচ্ছেন। 


কেবল দুইটি শব্দ বাংলায় লিখে সার্চ করেছেন বা খুঁজেছেন ভোটাররা। তবে বেশিরভাগ শব্দই ইংরেজিতে লিখে সেটি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। গুগল বা সামাজিক মাধ্যমে মানুষ জানতে চেয়েছেন এমন বেশ কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর এই লেখায় তুলে ধরা হলো।


ইলেকশন ২০২৬


গুগল সার্চের একদম ওপরে রয়েছে এই শব্দটি। জাতীয় নির্বাচন ২০২৬, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এরকম আরো কয়েকটি শব্দ দিয়ে মানুষ নির্বাচন সম্পর্কেই বেশি জানতে চেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৫৯ টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫১ টি দল। 


বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট ৫১ দলের প্রার্থীরা নির্বাচন করছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র - তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিও এবারই প্রথমবার শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছে। নিবন্ধন স্থগিত থাকায় এবার ভোটে অংশ নিতে পারছে না ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ।


নিবন্ধিত দল হলেও ভোট করছে না এমন আরো কয়েকটি জাসদ, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ইত্যাদি দল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে এবারের নির্বাচনে। সারাদেশের আসনভিত্তিক যে ভোটার তালিকা ইসি প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে, এবার ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার এবং নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার। এছাড়া হিজড়া ভোটার এক হাজার ১২০ জন।


ভোট কখন শুরু, কখন শেষ?


বাংলাদেশে এর আগে যেসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেগুলোতে সাধারণত সকাল আটটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হতো। বিকাল চারটা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে পারতেন। কিন্তু এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর সময় আধা ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।


ভোট সেন্টার


চাঁদপুরের ভোটার সেলিনা আক্তারের মতো অনেক ভোটারই এবার নিজের ভোটকেন্দ্র নিয়ে এখনও সংশয়ে ভুগছেন। তবে মিজ আক্তারের মতো অনেকেই গুগলে নিজের ভোটকেন্দ্র কোনটি সেটি বের করতে ভোট সেন্টার চেক, ভোট সেন্টার এমন বেশ কিছু শব্দ দিয়ে তথ্য জানতে চাচ্ছেন। 


গুগল ট্রেন্ড ঘেঁটে দেখা যায়, গত একদিনে সবচেয়ে বেশি যে শব্দটি সার্চ করা হয়েছে সেটি হলো ভোট সেন্টার চেক বিডি বা ভোট কেন্দ্র চেক। অর্থাৎ ভোটাররা এখনো তার ভোট কেন্দ্র কোনটি সেটি নিয়ে জানতে চান। এমন ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশন এবার অ্যাপ, হটলাইন নম্বর, এসএমএস সেবা চালু করেছে।


এমনকি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়েও ভোটার তার ভোট কেন্দ্র কোনটি সেটি সম্পর্কে জানতে পারবেন। ইসির ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ভোট কেন্দ্র নামে একটি অপশন রয়েছে। সেখানে ভোট কেন্দ্র অনুসন্ধানের জন্য দুইটি তথ্য দিতে হয়। একটি ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং অপরটি জন্ম তারিখ। এই দুই তথ্য লিখে অনুসন্ধানে ক্লিক করলেই দেখা যায় ভোট কেন্দ্রের তথ্যের বিস্তারিত পাওয়া গেছে। ভোটার নম্বর, ক্রমিক নম্বর, লিঙ্গ, ভোট কেন্দ্রের নাম এবং কেন্দ্রের অবস্থানও ম্যাপে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে।


স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি ২০২৬


গুগল ট্রেন্ডের সার্চের একেবারে শুরুর দিকে এই শব্দটি পাওয়া যাচ্ছে। মূলত স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি, একটি অ্যাপ যেটি নির্বাচন কমিশন ভোটারদের নানা তথ্য পাওয়ার জন্য চালু করেছে। এই অ্যাপে ঢুকে একজন ভোটার তার ১০ নম্বর অথবা ১৩ নম্বরের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম তারিখ দিয়ে সার্চ দিলেই তার ভোটকেন্দ্র পেয়ে যাবেন। আবার ভোটার নম্বরও এই অ্যাপে পাওয়া যাবে।


ভোটার নাম্বার বের করার নিয়ম


ভোটার সিরিয়াল নম্বর চেক, ভোটার নম্বর চেক, ভোটার সিরিয়াল নম্বর বের করার নিয়ম জানতে চেয়ে সার্চ করছেন অনেক ভোটার। এসব তথ্য যাতে ভোটার পূর্ণাঙ্গভাবে পায় সে কারণে নির্বাচন কমিশন নিজেদের ওয়েবসাইট, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজম্যান্ট বিডি অ্যাপ, এসএমএস, হটলাইন নম্বরে ফোন করে তথ্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 


যে কোনো ভোটার হটলাইন নম্বর ১০৫ এ ফোন করে নিজের ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার নম্বর বের করতে পারবেন। ১০৫ এ ফোন করে অপারেটরের সাথে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। পরে ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম তারিখ দিয়ে ভোটার নম্বর যেমন জানা যাবে তেমনি ভোট কেন্দ্রের নামও জানতে পারবেন ভোটাররা।


ভোটার স্লিপ


গুগল ট্রেন্ডে ঘেঁটে দেখা যায়, ভোটার স্লিপ, ভোটার স্লিপ চেক, ভোটার স্লিপ পিডিএফ ডাউনলোড ২০২৬ এমন শব্দ লিখে ভোটাররা গত সাতদিনে তথ্য খুঁজেছেন। ভোটার স্লিপ হচ্ছে এমন একটি তথ্য সংবলিত কাগজ, যেখানে ভোটারের নামের পাশাপাশি ভোটার নম্বর ও ভোট কেন্দ্র লেখা থাকে। 


বাংলাদেশে সাধারণত বিভিন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেখা গেছে, স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার, কাউন্সিলর বা প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভোটারের নম্বর, ভোটকেন্দ্র সংবলিত একটি স্লিপ দেওয়া হতো। কিন্তু এই ভোটার স্লিপ আসলে সরকারি কোনো স্লিপ নয়। কিন্তু এবার বেশিরভাগ জায়গাতেই এসব স্লিপ দেওয়া হয়নি। এবার এই স্লিপ ভোটাররা পাননি যেটি বিবিসি বাংলাকে মিজ আক্তারই বলেছিলেন।


ভোটকেন্দ্রে সেলফি তোলা যাবে?


অনেক ভোটার আছেন যারা চান স্মৃতি জমিয়ে রাখতে। আবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রথমবার দেবেন এমন ভোটাররা হয়তো ছবি তুলে রাখতে চাইবেন। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের চারশো গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নেওয়ার ওপর নির্বাচন কমিশন প্রথমে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তীব্র সমালোচনার মুখে তা প্রত্যাহার করে নেয়। পরে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন ভোটার, প্রার্থী, এজেন্ট এবং সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবে এবং ছবিও তোলা যাবে। 


কিন্তু কোনোভাবেই গোপন কক্ষের ভেতরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করা বা ছবি তোলা যাবে না বলে জানিয়েছে ইসি। অর্থাৎ ভোটাররা বুথের যে গোপন কক্ষে ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন সেখানে মোবাইল নিয়ে যাওয়া ও ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে ছবি বা সেলফি তোলার সুযোগ নেই।


মুখের নিকাব খুলতে হবে?


অনেক ভোটার আছেন যারা মুখ ঢেকে পর্দা করেন, তারা কিছুটা শঙ্কায় ভোট দিতে গেলে কী মুখের পর্দা বা নিকাব খুলতে হবে? নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রথম পোলিং অফিসারের দায়িত্বই হলো ভোটারের চেহারার দিকে তাকানো। ওই কর্মকর্তার কাছে থাকা ভোটার তালিকার ছবির সাথে ভোটারের চেহারা মিলিয়ে দেখে তিনি উচ্চস্বরে ভোটারের নাম ও ভোটার নম্বর বলবেন। 


পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক সংবলিত একটি ব্যালট পেপার ও গণভোটের হ্যাঁ, না সংবলিত আরেকটি ব্যালট পেপার দিয়ে আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দেবেন নির্বাচনী কর্মকর্তা। কিন্তু যদি পরিচয় গোপন করে বা ছদ্মবেশে জাল ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে গিয়েছেন এমন বিষয় প্রমাণ হয় তবে ওই কর্মকর্তা তাকে নির্বাচনী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করবেন। তিনি তখন সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচারের দায়িত্ব পালন করবেন। এমন অপরাধে ছয় মাস পর্যন্ত জেল ও জরিমানাও হতে পারে।


নির্বাচনের দিন যানবাহন চলবে কী?


রাজধানী ঢাকায় এখনো এমন অনেক ভোটার আছেন যারা অন্য জেলার ভোটার, কিন্তু ঢাকা ছেড়ে যাননি। আজ বুধবার বিকেলে বা রাতে ঢাকার বাইরে যেতে কোনো যানবাহন আছে কি না এমন বিষয়ও গুগলে সার্চ করে দেখছেন তারা। এদিকে, নির্বাচন ঘিরে যানবাহন চলাচলে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। 


নির্বাচন কমিশনের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, মঙ্গলবার ১০ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ভোটের পরদিন ১৩ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই কারণে মঙ্গলবার রাত থেকেই বন্ধ রয়েছে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মোটরসাইকেল সার্ভিস।


এছাড়া ১১ই ফেব্রুয়ারি, আজ বুধবার মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন ১২ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের যানবাহন এই আওতামুক্ত থাকবে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন, ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি এবং সংবাদপত্র বহনকারী সকল ধরনের যানবাহনও চলাচল করতে পারবে।


ভোট কেন্দ্রে বাচ্চা নেওয়া যাবে?


সন্তানের বয়স যদি প্রতীক বোঝার মতো না হয় তাহলে যে কোনো মা ভোটার ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষেও ওই সন্তানকে নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু যদি প্রতীক বোঝার মতো বয়সী কোনো সন্তান হয় সেক্ষেত্রে ওই সন্তানকে ভোট কেন্দ্রে নিতে পারলেও তাকে বাইরে রেখেই ভোটারকে ভোট কক্ষে ঢুকতে হবে।


গণভোটের ব্যালট ফেলবো কোন বাক্সে?


সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই সাথে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দুটি ব্যালটেই একই সাথে ভোট দিতে হবে। এক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনের জন্য যে ব্যালট থাকবে সেটি হবে সাদাকালো আর গণভোটের ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রংয়ের। দুইটি ব্যালট পেপার এক বাক্সে ফেলবেন কিনা এ বিষয়ে কিছুটা সংশয়ে রয়েছেন অনেক ভোটার। এই বিষয়ে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন একটি পরিপত্র জারি করেছে।


এতে বলা হয়েছে, "জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত, নির্ধারিত এবং সরবারহকৃত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সই গণভোটের বাক্স হিসাবে ব্যবহৃত হবে। ভোটারগণ ভোট প্রদান শেষে জাতীয় সংসদের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট একই বাক্সে ফেলবেন।" অর্থাৎ, ভোটার জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালটে সিল দেওয়ার পর সেটি একই বাক্সে ফেলবেন।


ভোটের ফলাফল কখন জানা যাবে?


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল কখন জানা যাবে এমন প্রশ্ন রয়েছে। কেননা এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফলে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশে সময় বেশি লাগবে সেটি ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে।


ইসির কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা শুরু হবে। কেন্দ্র থেকে গণনার পরে সেই ফলাফল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যায়। সেখান থেকে সেটি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় হয়ে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছায়। এরপর সেখান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। 


সাধারণত বাংলাদেশের বেতার ও টেলিভিশনে এসব ফলাফল প্রচার করা হয়। অতীতের সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মধ্যরাত নাগাদ কোন আসনে কোন প্রার্থী এগিয়ে রয়েছে, সেই সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু এবার গণভোট এক সাথে গণনার ফলে সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে।


তবে, ধারণা করা হচ্ছে, অনানুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে শুক্রবার দুপুর কিংবা বিকেল হয়ে যেতে পারে। ফলাফল নিয়ে আপত্তি না থাকলে, যাচাই বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। সেটাই আনুষ্ঠানিক সরকারি ফলাফল। এটা আসতে আসতে শনিবার বা রোববার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিনদিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যের শপথ পড়ানোর বিধান রয়েছে।


নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন কে?


গত পাঁচই ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের তিন দিন পরই নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে। ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে পারেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, যেহেতু জাতীয় সংসদ কার্যকর নেই তাহলে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন কে?


অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সেদিন (পাঁচই ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেফতার হওয়ায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত প্রধান বিচারপতি অথবা তিনদিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারেন। অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা চায় উল্লেখ করে মি. নজরুল জানিয়েছেন, ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথের সম্ভাবনা বেশি।




বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৯ পিএম

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, আবার বিএনপি সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে তা নিয়েও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ-সমালোচনা হচ্ছে।


রাজধানীর মিরপুরে ৫০ বছরের পুরোনো একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের জড়িত থাকা এবং তাতে একজন এমপির ইন্ধন থাকার অভিযোগ ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল সম্প্রতি। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৬শে সেপ্টেম্বর রাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সালমান মুক্তাদির এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে এসে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেছিলেন।


এই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ ছাড়তে বলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১ অক্টোবর তিনি পদত্যাগ করেন। একজন এমপির পদত্যাগ, বিএনপির বিভিন্ন কমিটিতে পরিবর্তন আনা এবং পুলিশের গ্রেফতার কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলা হলেও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা, একইসঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগ থামছে না। বরং, বাংলাদেশের 'অবনতিশীল' আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পেছনে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, আবার বিএনপি সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে তা নিয়েও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ-সমালোচনা হচ্ছে।


যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইতোমধ্যেই বলেছেন, যা ঘটছে তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সম্প্রতি মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার পর বেসরকারি সংস্থা টিআইবি এক বিবৃতিতে দখল, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছিল। সরকারের দিক থেকে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেগুলোকে 'তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া' হিসেবে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, "ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কিছু ব্যবস্থা হচ্ছে; সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলার উন্নতির জন্য সারাদেশ দলকে সামলানোর কার্যকর কৌশল তো দেখছি না"।



আবার, সরকারের নির্দেশনা তার দলেরই একটি অংশ মানছে না, বরং অপরাধমূলক ঘটনার পৃষ্ঠপোষক বা ইন্ধনদাতা হিসেবে যাদের নাম আসছে তা দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে বলে মত অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হকের। যদিও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলছেন যে, বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামগ্রিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। "প্রধানমন্ত্রীও সরকারের দিক থেকে কিছু ব্যবস্থা নিয়ে কঠিন বার্তা দিয়েছেন। দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করলে কেউ রেহাই পাবে না- এ বার্তা সবাই পেয়েছে," বলেছেন তিনি।



মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এলে, গত ৩০শে সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন যে, তার সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটা তদন্তাধীন। তবে ওইদিনই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপর যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণ দেখিয়ে বহিষ্কার করা হয় তখন। যদিও এসব কমিটি বিলুপ্ত কেন করা হয়েছে তা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।



দলের ভেতরে কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে ধারণা পাওয়া গেছে যে, রাড্ডা হামলার ঘটনাতেই এসব সিদ্ধান্ত এসেছে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনিয়মের সঙ্গে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়েছেন এমন কিছু নেতাকর্মীর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলেও ধারণা দিয়েছেন তারা। আবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিকভাবে পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে একটি অভিযান পরিচালনা করার প্রয়োজন আছে কি-না তাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে সরকারের ভেতর থেকে।



পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে অপরাধের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এসময়ে সারাদেশে ছোট-বড় বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে প্রায় এক লাখ মামলা হয়েছে। "সরকারের সাত মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে" এবং "সকল অপরাধের পেছনে মদদ দিচ্ছে সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও মন্ত্রীরা" এই অভিযোগ তুলে গত ২৮শে সেপ্টেম্বর একটি বিবৃত দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিরোধী দলীয় নেতারা রাড্ডার ঘটনাসহ একাধিক হামলা-ভাঙচুর-বিশৃঙ্খলার পেছনে বিএনপির কর্মীদের দায়ী করে প্রায় নিয়মিতই বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন।



আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দল সামাল দেওয়াই এখন বিএনপির জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি দলটির স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য। দুজনই  বলেছেন, এ বিষয়ে তারা মন্তব্য করতে চান না। 


দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স অবশ্য বলেছেন, সুনির্দিষ্ট কয়েকটা ঘটনা ঘটেছে যে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার ও দল। তার মতে, সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির "আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে" বলে দল মনে করছে। "আমাদের লাখ লাখ নেতাকর্মী। গুটিকয়েকের অপকর্মের দায় দল নেবে কেন? প্রধানমন্ত্রী যে বার্তা দিয়েছেন তাতে এটি স্পষ্ট যে, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অপকর্ম করতে পারবে না। সাংগঠনিক ও আইনগত সব ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে। সে কারণে ঢালাওভাবে সরকার বা দলকে দোষ দেওয়ার কিছু নেই," বলছিলেন তিনি ।


প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছিল। তখন প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে। এর মধ্যে প্রায় নয়শ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল তখন। এর বাইরে যুবদল, ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনের বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। যদিও এসব বহিষ্কারাদেশ বা সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আদৌ কোনো কাজে লেগেছে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।



টিআইবির ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই দল কিংবা দলের নেতাকর্মীদের সামলানোটাই বিএনপি নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। "এরপর সংকট ক্রমাগত বেড়েছে। কারণ সত্যিকার অর্থে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তবে কিছু ঘটনা দল ও সরকারকে বিব্রত করার পর তাৎক্ষণিক কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এগুলোও বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ। যেসব ঘটনা সারাদেশে ঘটছে তার বেশিরভাগের সাথেই সরকারি দলের নেতাকর্মীদের নাম আসছে। কিন্তু দলকে সামলানোর কার্যকর কৌশল তো দেখছি না। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর বারবারই আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গটি। পরে পুলিশের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা সভাগুলোতে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তৎপরতা, পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র এবং চাঁদাবাজিতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্তদের জড়িয়ে পড়াই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বড় কারণ। চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব ছাড়াও আলোচনায় ছিল কিশোর গ্যাং, ধর্ষণ, শিশু অপহরণ ও নিখোঁজ হওয়ার মতো ঘটনা।



মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসেও রাজনৈতিক সহিংসতা, কারা হেফাজতে মৃত্যু, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার, সাইবার আইনে গ্রেফতার ও মামলার ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটি জানায়, এ সময়েই মব সহিংসতার কমপক্ষে ৬৫টি ঘটনায় ২৩ জন নিহত হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসেও ধর্ষণের ৬৯টি ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি এই সংস্থাটি। গত ১ অক্টোবর ঢাকার তেজগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, "যৌথবাহিনী গঠনের কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যারা আছে সবাই সমন্বিতভাবে একটা অপারেশন পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে"।



ড. তৌহিদুল হক বলছেন, নিজের নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ডই সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সরকার না পারছে কঠোর হতে, আবার না পারছে এড়িয়ে যেতে। "কিন্তু অপরাধের ইন্ধনদাতা ও পৃষ্ঠপোষকতায় যাদের নাম আসছে তা সরকারকে বিব্রত করছে। সেজন্যই বহিষ্কার কিংবা এমপির পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সরকার যদি দল থেকে পূর্ণ সহযোগিতা না পায় তাহলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়। দল ও সরকার মিলেমিশে যাওয়ার কারণে অপরাধ অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা ঘটনা ঘটছে।  ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, পদত্যাগ বা দল থেকে বহিষ্কার প্রয়োজন ছিল, তবে যথেষ্ট নয়। যেসব অভিযোগে পদত্যাগে বাধ‍্য বা বহিষ্কার করা হলো, আইনি প্রক্রিয়ায় তার জন্য দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।


জাতীয় নাগরিক পার্টির লোগো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২০ এএম

দেশের ৫০০ উপজেলার মধ্যে ২৭৬টিতে দলীয় কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে (১৫ অক্টোবরের মধ্যে) বাকি উপজেলাগুলোতেও আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি।


গতকাল বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। পরে এ পোস্টের বক্তব্য দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বার্তা হিসেবে পাঠানো হয়।


এনসিপির বার্তায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ৫০০টি উপজেলার মধ্যে ২৭৬টিতে দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার দুই মহানগর ছাড়া অন্য ১১টি মহানগরের ৬১টি থানার মধ্যে ৩৪টিতে আহ্বায়ক কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দেশের ৫০০ উপজেলাতেই এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি থাকবে।


পাশাপাশি ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দেশের ৩৩০ পৌরসভা এবং ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৭ পিএম

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে দেখা করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। 


আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে যান তিনি। সেখানে মিনিট পাঁচেক তিনি অবস্থান করেন। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি সরাসরি সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যান।


বের হওয়ার সময় সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকেরা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এ নিয়ে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বেরোলে সাংবাদিকেরা জানতে চান ভেতরে কী কথা হলো। এ প্রশ্নের উত্তরে মিষ্টি বলেন, ‘আমি স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি, কথা বলেছি।’


এ সময় সাংবাদিকেরা জানতে চান, আপনি পদত্যাগ করেছেন কি না? এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি দ্রুত চলে যান। এ প্রসঙ্গে স্পিকারের অফিস থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


গাড়িতে ওঠার পরও সাংবাদিকেরা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি।’ 


পদত্যাগের প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত হোক।’ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, তা হবে।’


জাতীয় সংসদ ও বিএনপির সূত্র বলছে, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করার জন্যই স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেছেন। স্পিকার সম্ভবত বিএনপির দলীয় পর্যায়ে বিষয়টি আরও একটু নিশ্চিত হতে চান। এ জন্যই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হচ্ছে না।


রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার রাতে ফেরদৌসী আহমেদকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্র আরও বলছে, পদত্যাগের পর দলীয়ভাবেও সংসদ সদস্যের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।


বিএনপি ও সরকারের সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাড্ডার ঘটনা নিয়ে সরকারও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দুই দিন ধরে ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। হামলা ও ভাঙচুরে কারা জড়িত ছিলেন, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং নেপথ্যে কারা ভূমিকা রেখেছেন-এসব বিষয়ে তথ্য নেওয়া নিয়েছেন। তদন্তে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।


রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দলীয় ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে গতকাল জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।


সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, তদন্তে যার নামই আসুক, সরকার তার বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে।


বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র বলেছে, রাড্ডার ঘটনাটি দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট এবং জমি দখলের অভিযোগের সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের নাম আসায় বিষয়টি নিয়ে সরকার বিব্রত। ঘটনার সঙ্গে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসার পর তাঁর ভূমিকা ও রাজনৈতিক দায়ও আলোচনায় এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংসদ সদস্যের বিষয়েও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।


উমামা ফাতেমা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৭ পিএম

জুলাইয়ের ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ আন্দোলনকে ‘ভাই-ব্রাদার কোরাম আর শিবিরের’ হাতে বন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা। তিনি বলেছেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় সকল ছাত্র সংগঠনকে মাইনাস করে শিবির ও ছাত্রশক্তি কোরামের (গুপ্তশিবির) লোকজনকে সমন্বয়ক কমিটির অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তার কারণে ৫ আগস্টের পরে যদু-মধু-কদু এসে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে।”


রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার যে একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথি’ ছিলেন তা জামায়াতের ছাত্রসংগঠনটি স্বীকার করার পর আজ বৃহস্পতিবার রাতে ফেইসবুক পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া জানান উমামা।


তিনি লিখেছেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ১৭ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের সাথে ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা মানুষ উড়ে এসে নেতা হয়েছে। সালাউদ্দীন আম্মার তাদের অন্যতম।”


গতকাল বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সালাহউদ্দিন আম্মারের সাথি পদ বাতিল করে। এর আগের দিন রাকসু নির্বাচনে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ নামের একটি প্যানেল ঘোষণা করে সাবেক সমন্বয়করা। এটি শিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ বা ‘ছায়া দল’ কি না, সাংবাদিকরা সেদিন এমন প্রশ্ন রেখেছিলেন সাবেক সমন্বয়কদের কাছে।


তখন সালাহউদ্দিন আম্মার বলেছিলেন, “আমার কাছে এই কথাগুলোকে অযাচিত বলে মনে হয়। কারণ আমার বিশ্বাস, শিবির কখনোই এমন কোনো প্যানেল গঠন করবে না যেটা তাদের নিজেদের নয়।


“তারা আলাদা প্যানেল দিয়েছে। আমরা আলাদা দিয়েছি। এখানে ‘ডামি’ বা ‘ছায়া দল’ হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।”


ছাত্রশিবির এমন এক সময়ে আম্মারকে বহিষ্কারের তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে, যখন রাকসুর মেয়াদ আছে আর এক মাস। ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র ভিপি পদপ্রার্থী উমামা ফাতেমা লিখেছেন, জুলাইয়ের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে ‘ভাই-ব্রাদার কোরাম আর শিবিরের’ হাতে বন্দি করা হয়েছে।


“দেশকে নিয়ে আন্দোলনের পর যারা ছেলেখেলা করছে তারা সব দখল করতে চাইছিল।”


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রশিবির পরিচিত হলেও ছাত্রসংগঠনটি তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। শিবিরের পাশাপাশি জামায়াতকেও তোপ দেগেছেন ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক সময়ের সদস্য সচিব উমামা।


তিনি লিখেছে, “বাংলাদেশের জার্নি এতদিন ছিল ৫০ বছরের। এখন তো জামায়াতের কারণে হিস্ট্রি ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে শুরু করতে হয়। একদল মোনাফেকের হাতে পড়ছে দেশের রাজনীতি।”


“জামায়াত আর আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই। জামায়াত তাদের গণহত্যার কালিমা ঢাকতে দেশকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে রাজি আছে।”


দেশকে অস্থিতিশীল করতে সোশাল মিডিয়াকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও পর্যবেক্ষণ উমামার।


তিনি বলছেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার কন্টেন্টগুলোকে আমি মোটেও নিরীহভাবে দেখিনা। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ফেসবুক ম্যানিপুলেশন যথেষ্ট, তাই পর্দার আড়ালের ইন্টারেস্ট গ্রুপগুলা সময়ে সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জুলাই এর নামে ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট জেনারেট করে।


“তরুণদের মধ্যে হিরো হিসেবে ম্যানুফ্যাচারড ফিগার আছে অনেক, যারা তরুণদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দি করতে কাজ করছে।”


উমামা লিখে চলেছেন, “আমি মায়ানমারের দিকে তাকালে ভয় পাই। রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য ফেসবুক অত্যন্ত এফিশিয়েন্ট টুল ছিল।


“এগুলা সম্ভব হইছে আমাদের মধ্যবিত্তের-I hate politics থেকে জুলাইএ হঠাৎ চোখ ফুটার কারণে, আর সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানিপুলেট করে আজকে একে তো কালকে ওকে হিরো বানানোর কারণে।”


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৪ পিএম

ডিসেম্বর মাসে কোনো ‘অপশক্তি’ অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরছেন- এমন আলোচনা রয়েছে। এর জেরে ডিসেম্বর ঘিরে সম্ভাব্য অস্থিরতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।


জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আপনারা ডিসেম্বর ডিসেম্বর করছেন কেন? ডিসেম্বর তো আমাদের বিজয়ের মাস। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।”


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ অভিযানের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে যৌথ অভিযানের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।


“পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদক নিরসনে প্রতিনিয়ত পরিচালিত হচ্ছে।”


এই কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য আগের সরকারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন- এমন অভিযোগ এবং এ বিষয়ে তালিকা তৈরির পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব সদস্যের দায়িত্বে গাফিলতি বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


“তাদেরকে প্রত্যাহার করে আমরা থেমে থাকছি না। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ক্রিমিনাল অফেন্স যদি করে থাকে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”


তেজগাঁওয়ে আনসারের নতুন সদর দপ্তর


তেজগাঁওয়ে আনসার ও ভিডিপির নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রায় ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ পাওয়া গেছে।


“বর্তমানে খিলগাঁও থেকে পরিচালিত আনসার সদর দপ্তরের অপরিসর জায়গায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করতে এখানে একটি আধুনিক ও বৃহৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।”


বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং প্রায় ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছেন। এ ছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে বলে তথ্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের আবাসন সংকট কমাতে ডরমেটরি ও ব্যারাকের জন্য ঢাকার আশুলিয়া এবং শেরেবাংলা নগরেও অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।


জুলাইয়ের অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি-দাওয়া পূরণে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩০ পিএম

রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলীতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সমালোচনার মুখে থাকা ক্ষমতাসীন বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ছাত্রদল ঢাকা মহানগর পশ্চিমের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকার সাংগঠনিক থানাগুলো এসব কমিটির অধীনে রয়েছে। যুবদলের শাহ আলী থানা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দারুস সালাম থানার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার রাতে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 


বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক এবং সদস্য সচিব মো. মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি নির্দেশক্রমে বিলুপ্ত করা হয়েছে। শিগগির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।


২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর আমিনুল হকের নেতৃত্বে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি গঠিত হয়েছিল। তিনি বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। আগের আহ্বায়ক সাইফুল আলম নিরবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠার পর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।


মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুর্বৃত্তরা রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেয়। উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির অনুসারীরা এতে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের কয়েক নেতাকে ভাঙচুরের সংশ্লিষ্টতা দেখা গেছে। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে মহানগর উত্তরের কমিটি বিলুপ্ত করল বিএনপি। 


বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনৈতিক কার্যকলাপসহ সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুভ্রকে প্রাথমিক সদস্যসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 


এদিকে আজ রাতে যুবদলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।


উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক ছিলেন শরিফ উদ্দিন জুয়েল এবং সদস্য সচিব ছিলেন সাজ্জাদুল মিরাজ। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের সময় সাজ্জাদুল মিরাজ তা ঠেকাতে সক্রিয় হয়েছিলেন বলে জানা যায়। তিনি শাহ আলী পুলিশ থানা তৎকালীন ওসি এবং মিরপুর জোনের উপকমিশনারকে ঘটনা জানিয়েছিলেন। ভাঙচুরের সময় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং থানার ওসির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের সামনে এনেছিলেন সাজ্জাদুল মিরাজ।


মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শাহ আলী থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর আলম, থানা যুবদল নেতা সাজ্জাদুর রহমান মিশু, মো. সোহল, কবির হোসেন এবং আকবর হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 


ছাত্রদলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার রাতে জানানো হয়েছে, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। 


মো. রবিন খানকে সভাপতি এবং আকরাম আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের ৯ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠিত হয়েছিল। বৃহত্তর মিরপুর এবং মোহাম্মদপুরের ১১টি থানা এই কমিটির আওতাধীন। ছাত্রদলের কয়েকজনের বিরুদ্ধেও মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজি এবং রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভিডিও ফুটেজে থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের কয়েকজনকে দেখা যায়।


বৃহত্তর মিরপুরের দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই শীর্ষস্থানীয় নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ রাতে বিএনপির এই অঙ্গসংগঠনের সহদপ্তর সম্পাদক ওসমান গণি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আক্তার এবং সদস্য সচিব হাফিজুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।