• প্রকাশ : বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:০৩ এএম

‌‘ভোটকেন্দ্র কোথায় এখনও সেটা জানি না। আগে তো বাসায় স্লিপ দিয়ে যেত। এবার কেউ ভোটার স্লিপ দিয়ে যায়নি। এমনিতে সবসময়ই লেডি দেহলভি স্কুলে ভোট দিয়েছি। হয়তো ওই কেন্দ্রই হবে। সমস্যা নাই, সার্চ করলেই জানা যাবে।’ কথাগুলো বলছিলেন চাঁদপুরের একজন ভোটার সেলিনা আক্তার। 


ভোটারদের এবার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটসহ মোট দুইটি ভোট দিতে হবে। আবার ভোটগ্রহণের সময়ও এবার এগিয়ে আনা হয়েছে এবং এক ঘণ্টা সময়ও বাড়ানো হয়েছে।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতে আর ১৬ ঘণ্টারও কম সময় হাতে রয়েছে। গুগল ও স্যোশাল মিডিয়ায় দেখা গেছে, নির্বাচনের ঠিক আগেভাগে এ নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মানুষ। যেমন, ইলেকশন ২০২৬, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজম্যান্ট বিডি ২০২৬, ভোটার স্লিপ বিডি, ভোটার নম্বর চেক অনলাইন, ভোট সেন্টার চেক, ভোটার নম্বর বের করার নিয়ম এমন নানা শব্দ গুগলে লিখে ভোটের শেষ মুহূর্তে আজ বুধবারও মানুষ এ সম্পর্কিত তথ্য জানতে চাচ্ছেন। 


কেবল দুইটি শব্দ বাংলায় লিখে সার্চ করেছেন বা খুঁজেছেন ভোটাররা। তবে বেশিরভাগ শব্দই ইংরেজিতে লিখে সেটি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। গুগল বা সামাজিক মাধ্যমে মানুষ জানতে চেয়েছেন এমন বেশ কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর এই লেখায় তুলে ধরা হলো।


ইলেকশন ২০২৬


গুগল সার্চের একদম ওপরে রয়েছে এই শব্দটি। জাতীয় নির্বাচন ২০২৬, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এরকম আরো কয়েকটি শব্দ দিয়ে মানুষ নির্বাচন সম্পর্কেই বেশি জানতে চেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৫৯ টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫১ টি দল। 


বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট ৫১ দলের প্রার্থীরা নির্বাচন করছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র - তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিও এবারই প্রথমবার শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছে। নিবন্ধন স্থগিত থাকায় এবার ভোটে অংশ নিতে পারছে না ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ।


নিবন্ধিত দল হলেও ভোট করছে না এমন আরো কয়েকটি জাসদ, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ইত্যাদি দল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে এবারের নির্বাচনে। সারাদেশের আসনভিত্তিক যে ভোটার তালিকা ইসি প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে, এবার ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার এবং নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার। এছাড়া হিজড়া ভোটার এক হাজার ১২০ জন।


ভোট কখন শুরু, কখন শেষ?


বাংলাদেশে এর আগে যেসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেগুলোতে সাধারণত সকাল আটটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হতো। বিকাল চারটা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে পারতেন। কিন্তু এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর সময় আধা ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।


ভোট সেন্টার


চাঁদপুরের ভোটার সেলিনা আক্তারের মতো অনেক ভোটারই এবার নিজের ভোটকেন্দ্র নিয়ে এখনও সংশয়ে ভুগছেন। তবে মিজ আক্তারের মতো অনেকেই গুগলে নিজের ভোটকেন্দ্র কোনটি সেটি বের করতে ভোট সেন্টার চেক, ভোট সেন্টার এমন বেশ কিছু শব্দ দিয়ে তথ্য জানতে চাচ্ছেন। 


গুগল ট্রেন্ড ঘেঁটে দেখা যায়, গত একদিনে সবচেয়ে বেশি যে শব্দটি সার্চ করা হয়েছে সেটি হলো ভোট সেন্টার চেক বিডি বা ভোট কেন্দ্র চেক। অর্থাৎ ভোটাররা এখনো তার ভোট কেন্দ্র কোনটি সেটি নিয়ে জানতে চান। এমন ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশন এবার অ্যাপ, হটলাইন নম্বর, এসএমএস সেবা চালু করেছে।


এমনকি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়েও ভোটার তার ভোট কেন্দ্র কোনটি সেটি সম্পর্কে জানতে পারবেন। ইসির ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ভোট কেন্দ্র নামে একটি অপশন রয়েছে। সেখানে ভোট কেন্দ্র অনুসন্ধানের জন্য দুইটি তথ্য দিতে হয়। একটি ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং অপরটি জন্ম তারিখ। এই দুই তথ্য লিখে অনুসন্ধানে ক্লিক করলেই দেখা যায় ভোট কেন্দ্রের তথ্যের বিস্তারিত পাওয়া গেছে। ভোটার নম্বর, ক্রমিক নম্বর, লিঙ্গ, ভোট কেন্দ্রের নাম এবং কেন্দ্রের অবস্থানও ম্যাপে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে।


স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি ২০২৬


গুগল ট্রেন্ডের সার্চের একেবারে শুরুর দিকে এই শব্দটি পাওয়া যাচ্ছে। মূলত স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি, একটি অ্যাপ যেটি নির্বাচন কমিশন ভোটারদের নানা তথ্য পাওয়ার জন্য চালু করেছে। এই অ্যাপে ঢুকে একজন ভোটার তার ১০ নম্বর অথবা ১৩ নম্বরের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম তারিখ দিয়ে সার্চ দিলেই তার ভোটকেন্দ্র পেয়ে যাবেন। আবার ভোটার নম্বরও এই অ্যাপে পাওয়া যাবে।


ভোটার নাম্বার বের করার নিয়ম


ভোটার সিরিয়াল নম্বর চেক, ভোটার নম্বর চেক, ভোটার সিরিয়াল নম্বর বের করার নিয়ম জানতে চেয়ে সার্চ করছেন অনেক ভোটার। এসব তথ্য যাতে ভোটার পূর্ণাঙ্গভাবে পায় সে কারণে নির্বাচন কমিশন নিজেদের ওয়েবসাইট, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজম্যান্ট বিডি অ্যাপ, এসএমএস, হটলাইন নম্বরে ফোন করে তথ্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 


যে কোনো ভোটার হটলাইন নম্বর ১০৫ এ ফোন করে নিজের ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার নম্বর বের করতে পারবেন। ১০৫ এ ফোন করে অপারেটরের সাথে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। পরে ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম তারিখ দিয়ে ভোটার নম্বর যেমন জানা যাবে তেমনি ভোট কেন্দ্রের নামও জানতে পারবেন ভোটাররা।


ভোটার স্লিপ


গুগল ট্রেন্ডে ঘেঁটে দেখা যায়, ভোটার স্লিপ, ভোটার স্লিপ চেক, ভোটার স্লিপ পিডিএফ ডাউনলোড ২০২৬ এমন শব্দ লিখে ভোটাররা গত সাতদিনে তথ্য খুঁজেছেন। ভোটার স্লিপ হচ্ছে এমন একটি তথ্য সংবলিত কাগজ, যেখানে ভোটারের নামের পাশাপাশি ভোটার নম্বর ও ভোট কেন্দ্র লেখা থাকে। 


বাংলাদেশে সাধারণত বিভিন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেখা গেছে, স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার, কাউন্সিলর বা প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভোটারের নম্বর, ভোটকেন্দ্র সংবলিত একটি স্লিপ দেওয়া হতো। কিন্তু এই ভোটার স্লিপ আসলে সরকারি কোনো স্লিপ নয়। কিন্তু এবার বেশিরভাগ জায়গাতেই এসব স্লিপ দেওয়া হয়নি। এবার এই স্লিপ ভোটাররা পাননি যেটি বিবিসি বাংলাকে মিজ আক্তারই বলেছিলেন।


ভোটকেন্দ্রে সেলফি তোলা যাবে?


অনেক ভোটার আছেন যারা চান স্মৃতি জমিয়ে রাখতে। আবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রথমবার দেবেন এমন ভোটাররা হয়তো ছবি তুলে রাখতে চাইবেন। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের চারশো গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নেওয়ার ওপর নির্বাচন কমিশন প্রথমে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তীব্র সমালোচনার মুখে তা প্রত্যাহার করে নেয়। পরে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন ভোটার, প্রার্থী, এজেন্ট এবং সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবে এবং ছবিও তোলা যাবে। 


কিন্তু কোনোভাবেই গোপন কক্ষের ভেতরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করা বা ছবি তোলা যাবে না বলে জানিয়েছে ইসি। অর্থাৎ ভোটাররা বুথের যে গোপন কক্ষে ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন সেখানে মোবাইল নিয়ে যাওয়া ও ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে ছবি বা সেলফি তোলার সুযোগ নেই।


মুখের নিকাব খুলতে হবে?


অনেক ভোটার আছেন যারা মুখ ঢেকে পর্দা করেন, তারা কিছুটা শঙ্কায় ভোট দিতে গেলে কী মুখের পর্দা বা নিকাব খুলতে হবে? নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রথম পোলিং অফিসারের দায়িত্বই হলো ভোটারের চেহারার দিকে তাকানো। ওই কর্মকর্তার কাছে থাকা ভোটার তালিকার ছবির সাথে ভোটারের চেহারা মিলিয়ে দেখে তিনি উচ্চস্বরে ভোটারের নাম ও ভোটার নম্বর বলবেন। 


পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক সংবলিত একটি ব্যালট পেপার ও গণভোটের হ্যাঁ, না সংবলিত আরেকটি ব্যালট পেপার দিয়ে আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দেবেন নির্বাচনী কর্মকর্তা। কিন্তু যদি পরিচয় গোপন করে বা ছদ্মবেশে জাল ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে গিয়েছেন এমন বিষয় প্রমাণ হয় তবে ওই কর্মকর্তা তাকে নির্বাচনী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করবেন। তিনি তখন সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচারের দায়িত্ব পালন করবেন। এমন অপরাধে ছয় মাস পর্যন্ত জেল ও জরিমানাও হতে পারে।


নির্বাচনের দিন যানবাহন চলবে কী?


রাজধানী ঢাকায় এখনো এমন অনেক ভোটার আছেন যারা অন্য জেলার ভোটার, কিন্তু ঢাকা ছেড়ে যাননি। আজ বুধবার বিকেলে বা রাতে ঢাকার বাইরে যেতে কোনো যানবাহন আছে কি না এমন বিষয়ও গুগলে সার্চ করে দেখছেন তারা। এদিকে, নির্বাচন ঘিরে যানবাহন চলাচলে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। 


নির্বাচন কমিশনের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, মঙ্গলবার ১০ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ভোটের পরদিন ১৩ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই কারণে মঙ্গলবার রাত থেকেই বন্ধ রয়েছে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মোটরসাইকেল সার্ভিস।


এছাড়া ১১ই ফেব্রুয়ারি, আজ বুধবার মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন ১২ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের যানবাহন এই আওতামুক্ত থাকবে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন, ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি এবং সংবাদপত্র বহনকারী সকল ধরনের যানবাহনও চলাচল করতে পারবে।


ভোট কেন্দ্রে বাচ্চা নেওয়া যাবে?


সন্তানের বয়স যদি প্রতীক বোঝার মতো না হয় তাহলে যে কোনো মা ভোটার ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষেও ওই সন্তানকে নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু যদি প্রতীক বোঝার মতো বয়সী কোনো সন্তান হয় সেক্ষেত্রে ওই সন্তানকে ভোট কেন্দ্রে নিতে পারলেও তাকে বাইরে রেখেই ভোটারকে ভোট কক্ষে ঢুকতে হবে।


গণভোটের ব্যালট ফেলবো কোন বাক্সে?


সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই সাথে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দুটি ব্যালটেই একই সাথে ভোট দিতে হবে। এক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনের জন্য যে ব্যালট থাকবে সেটি হবে সাদাকালো আর গণভোটের ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রংয়ের। দুইটি ব্যালট পেপার এক বাক্সে ফেলবেন কিনা এ বিষয়ে কিছুটা সংশয়ে রয়েছেন অনেক ভোটার। এই বিষয়ে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন একটি পরিপত্র জারি করেছে।


এতে বলা হয়েছে, "জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত, নির্ধারিত এবং সরবারহকৃত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সই গণভোটের বাক্স হিসাবে ব্যবহৃত হবে। ভোটারগণ ভোট প্রদান শেষে জাতীয় সংসদের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট একই বাক্সে ফেলবেন।" অর্থাৎ, ভোটার জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালটে সিল দেওয়ার পর সেটি একই বাক্সে ফেলবেন।


ভোটের ফলাফল কখন জানা যাবে?


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল কখন জানা যাবে এমন প্রশ্ন রয়েছে। কেননা এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফলে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশে সময় বেশি লাগবে সেটি ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে।


ইসির কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা শুরু হবে। কেন্দ্র থেকে গণনার পরে সেই ফলাফল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যায়। সেখান থেকে সেটি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় হয়ে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছায়। এরপর সেখান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। 


সাধারণত বাংলাদেশের বেতার ও টেলিভিশনে এসব ফলাফল প্রচার করা হয়। অতীতের সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মধ্যরাত নাগাদ কোন আসনে কোন প্রার্থী এগিয়ে রয়েছে, সেই সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু এবার গণভোট এক সাথে গণনার ফলে সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে।


তবে, ধারণা করা হচ্ছে, অনানুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে শুক্রবার দুপুর কিংবা বিকেল হয়ে যেতে পারে। ফলাফল নিয়ে আপত্তি না থাকলে, যাচাই বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। সেটাই আনুষ্ঠানিক সরকারি ফলাফল। এটা আসতে আসতে শনিবার বা রোববার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিনদিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যের শপথ পড়ানোর বিধান রয়েছে।


নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন কে?


গত পাঁচই ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের তিন দিন পরই নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে। ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে পারেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, যেহেতু জাতীয় সংসদ কার্যকর নেই তাহলে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন কে?


অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সেদিন (পাঁচই ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেফতার হওয়ায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত প্রধান বিচারপতি অথবা তিনদিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারেন। অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা চায় উল্লেখ করে মি. নজরুল জানিয়েছেন, ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথের সম্ভাবনা বেশি।




বিএনপির লোগো

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৪৭ এএম

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার পর বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও সরকারে দায়িত্ব বণ্টনে একাধিক পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে রুহুল কবির রিজভীসহ চার নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শূন্য হওয়া মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে মন্ত্রিসভায় সীমিত রদবদলের বিষয়েও আলোচনা চলছে।


বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে যুক্ত হওয়া অন্য তিন নেতা হলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরহাদ হালিম (ডোনার)। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১৩ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলামের প্রার্থিতার এক দিন পর স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হলো। যদিও সদস্যদের কারও কারও অন্তর্ভুক্তি দলের অনেকের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।


শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিএনপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।


স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হওয়া রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা। সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশায় চিকিৎসক ফরহাদ হালিম জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।


নতুন চার সদস্যকে নিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। তাঁরা হলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ফরহাদ হালিম।


এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহাসচিবের পদসহ দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয়। অসুস্থতার কারণে বহু বছর ধরে তাঁকে দলের সভা ও কর্মসূচিতে দেখা যায় না।


বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিব স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত বলে গণ্য হন। তাঁদেরসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা ১৯ জন। চেয়ারম্যান স্বয়ং এ কমিটির প্রধান থাকবেন।


২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এরপর সদস্যদের মৃত্যু, পদত্যাগসহ বিভিন্ন কারণে কমিটির কয়েকটি পদ শূন্য হয়। বিভিন্ন সময়ে এসব পদে নতুন সদস্য যুক্ত করেছে দলটি। এবার একসঙ্গে চারজনকে স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করা হলো।


স্থায়ী কমিটির সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নামও আলোচনায় ছিল।


আসাদুজ্জামান রিপন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিশ্চয়ই তিনি (দলের প্রধান) সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যশীল এবং আস্থাবান।’


মন্ত্রিসভায় রদবদলের আলোচনা


মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হওয়ায় তাঁর দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ায় মন্ত্রিসভার কাজ পর্যালোচনা করে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতির শপথের আগে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা কম। তবে কয়েকজন নতুন মুখকে যুক্ত করে সীমিত পরিবর্তন আনা হতে পারে।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ আনার আলোচনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।


সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের নাম আলোচনায় রয়েছে।


এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন, এমন অন্তত কয়েকজনকে পূর্ণ মন্ত্রী করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলোচনা আছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।


এ বিষয়ে এই প্রতিবেদক গত দুই দিনে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু কেউ মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদলের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।


মহাসচিব পদে কে


মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদ শূন্য হবে। এ পদে কে আসবেন, তা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে এখনো কোনো নাম আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আনা হয়নি।


দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করার পর তাঁকে আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।


ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উত্তরসূরি কে


রাষ্ট্রপতি হলে মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনও শূন্য হবে। ফলে ওই আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর ছোট ভাই ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন এবং বড় মেয়ে মির্জা শামারুহের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। তবে মির্জা পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন এবং মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্বের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসে। এর সঙ্গে সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভায় সীমিত রদবদলের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৯ পিএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন বিকাল ৪টার দিকে বলেন, “কার্যালয়ে দলীয় কর্মসূচি পণ্ড করতে এবং ভবনটি তালাবদ্ধ করার জন্য পুলিশ সেখানে অবস্থান নিয়েছে।”


জানতে চাইলে পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার মাজহারুল ইসলাম বলেন, “সেখানে কোনো ধরনের প্রোগ্রাম করার জন্য আমাদের কাছে অনুমতি নাই।”


সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটা ডেপ্লয়মেন্ট না, কোনো প্রোগ্রাম ঘিরে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না ঘটে সেজন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।”


এদিন বিকাল ৫টায় তোপখানা রোডের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি রেখেছিল বাংলাদেশ জাসদ।


১৫ অগাস্ট সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়ে শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটি বলেছিল, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এ বর্বর ঘটনা এক অমোচনীয় কলঙ্ক হিসেবেই থেকে যাবে।


“দেশে আইনের শাসন, ন্যায় বিচার ও গণতন্ত্র নিশ্চিত করার মাধ্যমেই জাতির এ কলঙ্ক দূর করা সম্ভব বলে বাংলাদেশ জাসদ মনে করে।”


১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হত।


২০২৪ সালে ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসাবে ১৫ অগাস্টের ছুটির বাতিল করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারও ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।


রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৯ পিএম

চার নেতাকে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছে বিএনপি। দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের মনোনীত করা হয়।


শনিবার (১৫ আগস্ট) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেনের সই করা এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।


মনোনীত নেতারা হলেন রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম এবং মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।


বিএনপির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, এই চার নেতা তাদের মেধা ও বিচক্ষণতার দ্বারা সুচিন্তিত পরামর্শের মাধ্যমে দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখবেন।


বিএনপির লোগো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৩ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।


শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় কিংবা স্থানীয় মসজিদে এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। 

এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও অন্যান্য প্রশাসনিক পর্যায়ে বিএনপি এবং এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে।


ঘোষিত এসব কর্মসূচিতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব সদস্যকে যথা সময়ে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।



জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২০ পিএম

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি এখন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টেবিলে। যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্যদিয়ে ছাত্রদলের ইতিহাসে ‘রেকর্ডসংখ্যক সাংগঠনিক ইউনিটের’ কমিটি দেওয়া রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির নেতৃত্বাধীন কমিটির অধ্যায় শেষ হতে পারে।


বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা। বৈঠকে সংগঠনের সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পেশাদারত্ব বজায় রাখা এবং নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি গুরুত্ব পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, সাক্ষাৎকালে বিগত বৈষম্যবিরোধী ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের অবদানের কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান সংগঠনের নেতাদের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পেশাদারত্ব বজায় রাখার তাগিদ দেন তিনি। বৈঠকে অংশ নেওয়া ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশে তারেক রহমান তাদের ত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সংগঠনের গতিশীলতা ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।


শীর্ষপদে আলোচনায় যারা

ছাত্রদলের নতুন কমিটির শীর্ষপদে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, সহ-সভাপতি - ইজ্জাজুল কবির রুয়েল, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদায় প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ইশরাক।


নতুন কমিটি ঘোষণা হলে রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটির আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শেষ হবে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হবে।


দুই বছরের মেয়াদ শেষ

২০২৪ সালের ১ মার্চ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটির দায়িত্ব পান বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। একই সময় আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া সিনিয়র সহ-সভাপতি, শ্যামল মালুম সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আমান উল্লাহ আমান সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদকাল দুই বছরের প্রস্তাব করা হয়েছে। সে হিসাবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর থেকেই নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা লবিং, তদবির ও সিনিয়র নেতাদের মন জোগাতে সময় দিচ্ছেন।


নতুন কমিটিতে নিয়মিত শিক্ষার্থী ও নারী নেতৃত্বে জোর

পদপ্রত্যাশীরা বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে ছাত্রদলকে সত্যিকারের শিক্ষার্থীদের সংগঠনে রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল দল বিএনপি এবং অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে যথাযথ মূল্যায়ন করে বড় দায়িত্ব দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।


রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে মনোনয়নপত্র তুলে দেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১৩ পিএম

রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় দলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য হলো। এই পদে কে আসছেন- তা নিয়ে নানান জল্পনা-কল্পনা থাকলেও দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। 


তবে এ বিষয়ে দল থেকে এখনো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। যদিও সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘মহাসচিব কে হচ্ছেন এই বিষয়ে অপেক্ষা করেন, পরে জানানো হবে।’


বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী জানুয়ারিতে দলীয় কাউন্সিল হতে পারে। সে পর্যন্ত রুহুল কবির রিজভীই দলের এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে পারেন। অবশ্য এ বছরে অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলে নতুন কোনো মুখ দেখা যেতে পারে। সেখানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ। দলের নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই মনে করছেন- আগামীতে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সালাহ উদ্দিন আহমদকে দেখা যেতে পারে। 


দলের মহাসচিব পদ ছাড়াও নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও অনেক রদবদল আসতে পারে। এর মধ্যে যেমন শূন্য পদগুলোয় নতুন মুখ দেখা যাবে; তেমনি অসুস্থ ও বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদেরও নতুন জায়গায় দেখা যেতে পারে।


বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, স্থায়ী কমিটির পদসংখ্যা ১৯। সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ পদত্যাগ করায় মোট শূন্য পদ রয়েছে ৭টি। এর বাইরে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। রাজনীতি থেকে তিনি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।


আসন্ন জাতীয় কাউন্সিল ও দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পুনর্গঠনে বেশ কিছু নেতার নাম নতুন মুখ হিসেবে বা পদ পূরণের জন্য আলোচনায় রয়েছে। এসব পদে রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। 


বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে। এরপর ১০ বছরের বেশি সময় নানা কারণে আর কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। 


বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করাসহ নেতৃত্ব পরিবর্তনের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন নেতারা।