• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ৭:৫৯ এএম

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পেলেন সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া। 

বৃহস্পতিবার বিকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত পত্রে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।

ড. রেজা কিবরিয়া প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে।

বিএনপির মতো একটি দলে মনোনয়ন পেয়ে খুবই আনন্দিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি বলেন, এর ফলে আমি আমার এলাকা নবীগঞ্জ-বাহুবলের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। প্রথমেই আমার বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে চাই। এছাড়া আমি উন্নতমানের কলেজ, টেকনিক্যাল কলেজ, নার্সিং কলেজ করতে চাই। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষিত লোক তৈরির জন্য যা যা করার দরকার সবই আমি করতে চাই। আমার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে নবীগঞ্জ-বাহুবলের শিক্ষার উন্নয়ন করা। সর্বোপরি আমি সবার সহযোগিতা চাই।

উল্লেখ্য, এ আসনে আরও ৪ জন ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এর মধ্যে সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া শক্ত অবস্থানে ছিলেন। এছাড়াও মাঠে বেশ জোরেশোরে অবস্থান নিয়েছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মুখলেছুর রহমান মুখলিস। তারা দুজনেই মাঠে খুব আলোচিত ছিলেন। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিলেন শেখ সুজাত মিয়া।

তবে বেশ কিছু দিন ধরেই আলোচনায় উঠে আসেন ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন বলেই বেশি আলোচনা ছিল। প্রথমদিকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলেই আলোচনা হচ্ছিল। দিন যত ঘনিয়ে আসছিল ততই আলোচনায় আসে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন। গত কয়েক দিনে বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। এরপরই মাঠে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন শেখ সুজাত মিয়া।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৩ পিএম

গত ছয় মাসে কয়েকটি মৌলিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘বিএনপি সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন’ সংবাদ সম্মেলনে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। 


তিনি বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ছয় মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর এখন সরকারের কর্মকাণ্ডকে শুধু প্রতিশ্রুতির ভাষায় নয়, বাস্তব ফলাফল, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহির মানদণ্ডে মূল্যায়নের সময় এসেছে। গত ছয় মাসে কয়েকটি মৌলিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অনীহা, ভয়াবহ গ্যাস-জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনার অভাব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের চাপ, শিক্ষকদেরকে কৌশলে রাজনীতি থেকে বিরত রাখার চক্রান্ত, ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধকরণ, গুম প্রতিরোধ আইনে উদ্বেগজনক ফাঁক এবং পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত দুর্বলতা। এই বিষয়গুলোকে মোটেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো সরকারের প্রথম ছয় মাসের রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা, অগ্রাধিকার ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে। 


সরকারের ব্যর্থতা তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ধারাবাহিকভাবে জাতির সামনে তুলে ধরে জামায়াত নেতা বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের নেতিবাচক ভূমিকা ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে জনগণ সুস্পষ্ট রায় দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ' ভোট ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০ এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১। অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ব্যবধান আড়াই কোটিরও বেশি ভোট। এটি শুধু সংস্কারের পক্ষে সাধারণ মতামত ছিল না। এর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন কাঠামোও যুক্ত ছিল। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বলা হয়েছিল, ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে এবং পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। কিন্তু সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের কাঠামো কার্যকর হয়নি। সরকার পরবর্তী সময়ে সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হয়েছে। 


তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিরোধীদল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির নেতৃত্ব, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিষয় রয়েছে। যার একটিরও বাস্তবায়ন দেখা যায়নি গত ছয় মাসে।


জামায়াতে ইসলামী এই নেতা বলেন, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট সমাধানে কোনো সাময়িক ব্যবস্থাপনা নয়, এটা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন বর্তমানে বাংলাদেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, অথচ দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে। এর প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং অন্যান্য গ্রাহকের ওপর। দেশীয় ২০টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র থেকে জুলাইয়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬৩০ ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সংকটের তুলনায় দেশীয় উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর ফল এখনো দৃশ্যমান নয়। এই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে ৪০ শতাংশ কম উৎপাদন চলছে শিল্প কারখানায়। প্রায় ২০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত বাংলাদেশের দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কাতারের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর মার্চে বাংলাদেশকে দুটি স্পট এলএনজি কার্গো কিনতে হয় প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮.২৮ ডলার ও ২৩.০৮ ডলারে। পরে কাতার এনার্জি বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ২০২৬ সালের এলএনজি সরবরাহ প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেয়। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের প্রায় ৭ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানির মধ্যে প্রায় ৪.১৫ মিলিয়ন টন কাতার থেকেই এসেছিল। আমাদের প্রশ্ন, এত বড় আমদানিনির্ভরতার পরও বিকল্প এলএনজি উৎস, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, কৌশলগত ফুয়েল রিজার্ভ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে শিল্প ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অগ্রাধিকার নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা কোথায়?


রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় করণ করে দলীয় নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্র বানানোর চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার মেধা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রথম ছয় মাসেই প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ জোরালো হয়েছে। আমাদের খাতভিত্তিক পর্যালোচনাতেও পদোন্নতি পদায়ন, ওএসডি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে দলঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে।


‘আমরা লক্ষ্য করেছি, সরকার একসঙ্গে ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার শীর্ষ পদে বিএনপি নেতাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিয়োগের তথ্যও উঠে এসেছে। প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন সংস্কার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব নিয়োগে প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। মার্চে সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান হিসেবে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের সবারই বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন বা দলীয় কাঠামোর সঙ্গে অতীত বা বর্তমান সংশ্লিষ্টতা ছিল।’


তিনি বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছে এবং বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু সরকারি ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের তথ্য উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ তৈরি করছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নে মার্চ-এপ্রিল সময়ে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে দেশজুড়ে ৬৯ থেকে ৮০টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ থেকে ৪২ জন নিহত হওয়ার তথ্যও টিআইবি তুলে ধরেছে। পুলিশ সদরদপ্তরের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক গবেষণায় মার্চ-মে, এই ৩ মাসেই ৯১৫টি হত্যা মামলা, ৪৬১টি ডাকাতি, ২৮৬টি অপহরণ, ৩ হাজার ২৭৭টি চুরি এবং ৫ হাজার ৪৪৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের তথ্য পাওয়া যায়। একই পর্যালোচনায় দেখা যায়, শুধু মার্চ-মে ২০২৬-এ ৯১৫টি হত্যা মামলা নিবন্ধিত হয়েছে। যেখানে পুরো ২০২৫ সালে এর সংখ্যা ছিল ৭৬৭ এবং ২০২৪ সালে এর সংখ্যা ছিল ৭৯৪। একই সঙ্গে মব ও রাজনৈতিক সহিংসতা, নারী-শিশু নির্যাতন এবং সম্পত্তিসংক্রান্ত অপরাধ উচ্চ পর্যায়ে থাকার কথা উঠে এসেছে।


বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘর্ষ, দখল, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও অঙ্গসংগঠনের নামও অভিযোগ হিসেবে এসেছে জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আমরা কাউকে অভিযোগের ভিত্তিতেই অপরাধী ঘোষণা করছি না। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় যেন কোনো ব্যক্তিকে আইনি বা প্রশাসনিক সুবিধা না দেয়। অপরাধীর পরিচয় রাজনৈতিক নয়। আইনের চোখে সে কেবল অপরাধের অভিযুক্ত।


পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত দুর্বলতা স্পষ্ট জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ‘ বাংলাদেশ ফার্স্ট’কে পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হিসেবে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ছয় মাসের অভিজ্ঞতায় আমরা মনে করি, এই ঘোষণাকে এখনো একটি সুস্পষ্ট ও সমন্বিত কার্যকরী পররাষ্ট্র-নীতি কাঠামোতে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি এবং ১৬ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই বলতে হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য আরও ‘অনুকূল পরিবেশ’ প্রয়োজন। 


অন্যদিকে রোহিঙ্গা সংকটেও প্রত্যাবাসনের বাস্তব অগ্রগতি নেই। মিয়ানমার প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাতে প্রত্যাবাসন এখনো শুরু হয়নি। একই সময়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ঘাটতিও বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। সেই সঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দূর্বলতা স্পষ্ট বোঝা গেছে।


দ্রব্যমূল্যের চাপে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬-এ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.১৬ শতাংশ; খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮.৬০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.৬১ শতাংশ। অথচ জুন ২০২৫-এ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির হার সামান্য কমলেও সামগ্রিক মূল্যস্তর এখনো উচ্চ এবং সাধারণ মানুষের ওপর বাজারের চাপ অব্যাহত রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ৯.৪২ শতাংশ থেকে ৯.১৬ শতাংশে নামা মানে পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়। বরং দাম বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমা। বাস্তবে খাদ্য, বাসাভাড়া, পরিবহন ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের আয়কে ক্রমেই চাপে ফেলছে। ফলে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে, কিন্তু বাজারে সেই অনুপাতে স্বস্তি ফিরছে না।


ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের ঘোষণা আছে, কিন্তু আস্থা ও শৃঙ্খলায় দৃশ্যমান পরিবর্তন নেই জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট দীর্ঘদিনের, এটি আমরা স্বীকার করি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২.২৬ শতাংশ। তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। কিন্তু সরকারের প্রথম ছয় মাসেও খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের তারল্য সংকট, আমানতকারীদের আস্থাহীনতা এবং উচ্চ সুদের চাপ থেকে বের হওয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দুর্বল এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি খোলা আগের বছরের তুলনায় ২০-৩০ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য উদ্বেগজনক। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকে সরকারদলীয় হস্তক্ষেপ ব্যাংকিং খাতকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ইসলামী ব্যাংক ডাকাতির বড় ডাকাতকে মামলা থেকে বাঁচানোর ষড়যন্ত্র হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর জোর করে নির্দেশ দিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিয়োগ করা আইনজীবী পরিবর্তনে বাধ্য করেছে।


‘গুমের মতো ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি যেন আর কখনো না ঘটে, এটি জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম মৌলিক প্রত্যাশা। সরকার নতুন ‘জোরপূর্বক অন্তর্ধান প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু ১৭ জুন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা খসড়াটির কয়েকটি বিধান নিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ জানিয়েছে। টিআইবিও মাত্র এক দিনের সময় দিয়ে অংশীজনের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে সমালোচনা করেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, গুম প্রতিরোধের নামে এমন কোনো আইন হতে পারে না, যেখানে গোপন আটক বা অস্বীকৃত হেফাজতের সামান্য সুযোগও থেকে যায়। চূড়ান্ত বিলের আগে সংশোধিত খসড়া প্রকাশ, স্বাধীন তদন্তের নিশ্চয়তা এবং ভুক্তভোগীদের মতামত গ্রহণ করতে হবে।’


জামায়াতে ইসলামীর এই সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গত ছয় মাসে গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ, আইনশৃঙ্খলা, জ্বালানি নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং জনজীবনের অন্যান্য মৌলিক প্রশ্নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। এসব ঘাটতি দ্রুত কাটিয়ে উঠে জনগণের আস্থা ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আমরা সরকারের প্রতি নিম্নোক্ত ৮ দফা আহ্বান জানাচ্ছি।


এগুলো হলো—১. গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সময়াবদ্ধ রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে। 


২. সংবিধান সংস্কার পরিষদ, ১৮০ কার্যদিবসের বাস্তবায়ন কাঠামো এবং গণভোটে অনুমোদিত সংস্কারগুলো কোন প্রক্রিয়ায় ও কত দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে।


৩. গ্যাস ও জ্বালানি সংকটকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে সমন্বিত এনার্জি সিকিউরিটি স্ট্র্যাটিজি প্রণয়ন করতে হবে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, এলএনজি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, কৌশলগত জ্বালানি মজুত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের সরবরাহ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিতে হবে।


৪. প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে। প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়, রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-পদায়নের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে মেধা, যোগ্যতা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড করতে হবে এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক নিয়োগ পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।


৫. প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে। প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়, রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-পদায়নের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে মেধা, যোগ্যতা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড করতে হবে এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক নিয়োগ পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।


৬. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করতে হবে। হত্যা, মব সহিংসতা, চাঁদাবাজি, দখল, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে; ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় যেন কোনো অভিযুক্তকে প্রশাসনিক বা আইনি সুবিধা না দেয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।


৭. রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, মধ্যপ্রাচ্য, জ্বালানি কূটনীতি, শ্রমবাজার ও বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট লক্ষ্য, কৌশল ও পরিমাপযোগ্য ফলাফলসহ একটি পূর্ণাঙ্গ বৈদেশিক নীতি কাঠামো প্রকাশ করতে হবে।


৮. ইচ্ছাকৃত ও প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা, দুর্বল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা এবং উৎপাদনশীল খাতে স্বাভাবিক ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে যেকোনো দলীয় বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। গুম প্রতিরোধ আইনে গোপন আটক বা অস্বীকৃত হেফাজতের সব ধরনের আইনি সুযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। চূড়ান্ত আইন প্রণয়নের আগে সংশোধিত খসড়া প্রকাশ, স্বাধীন তদন্তব্যবস্থা নিশ্চিত এবং গুমের শিকার পরিবার, মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত গ্রহণ করতে হবে।


মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিএনপি সরকার প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো সুস্পষ্ট সাফল্যের চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরতে পারেনি। তারা যে ৩১ তফা নিয়ে রাজনীতি করে, সেটাই তারা লঙ্ঘণ করেছে। সেই সঙ্গে গণভোটের রায়, জুলাইয়ের সংস্কার-আকাঙ্ক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, জ্বালানি নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য, ব্যাংকিং সুশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতার মতো মৌলিক প্রশ্নে সরকার প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।


তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক সমস্যা রয়েছে। জনগণ সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নয়, সমাধান দেওয়ার জন্য। কিন্তু বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সময়ক্ষেপণ, নীতিগত দ্বিধা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং বাস্তব ফলাফলের ঘাটতি সরকারের ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করেছে। তাই, আমরা মনে করি প্রথম ছয় মাসে সরকার সামগ্রিকভাবে জনগণের সামনে এমন কোনো শক্তিশালী অর্জন উপস্থাপন করতে পারেনি যাতে সরকারের সক্ষমতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতি আস্থা বাড়ায়।


তিনি আরও বলেন, আমরা চাই সরকার এই বাস্তবতা স্বীকার করুক। কারণ জনগণের আস্থা শুধু বক্তব্য, প্রতিশ্রুতি বা পরিকল্পনায় তৈরি হয় না। দৃশ্যমান ফলাফলে তৈরি হয়। আগামী সময়ে সরকার যদি প্রথম ছয় মাসের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বাস্তব পরিবর্তন দেখাতে না পারে, তাহলে জনগণের হতাশা ও আস্থার সংকট আরও গভীর হবে। আমাদের প্রত্যাশা একটাই, সরকার এখন ব্যাখ্যা নয়, ফলাফল দেখাবে। প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন দেখাবে এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার কথা নয়, তার প্রমাণ দেবে।

সর্বশেষ সব খবর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪২ পিএম

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কেউই নির্ধারিত সময়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে তফসিল অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক‌্যের প্রার্থী অলি আহমদ। বৃহস্পতিবার এই দুজনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।


আজ মঙ্গলবার বিকেল চারটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। নির্ধারিত সময় শেষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, দুজন প্রার্থীর কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। এ সময় তিনি ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়ার বিষয় তুলে ধরেন।


রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ ভোট হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এরপর মাঝে সাতজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থী হিসেবে। বিরোধী দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে এবার ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে ভোটার হচ্ছেন সংসদ সদস্যরা। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত। অন্যদিকে জামায়াত জোটের সংসদ সদস্য ৯০ জন।


ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে এই ভোট গ্রহণ হবে। আজই নির্বাচনের ব্যালট পেপার তৈরি করা হবে। ভোট গ্রহণের দিন শুরুতে নির্বাচন কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস‌্যদের (ভোটার) ভোট গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে জানাবেন।


ইসি সচিব আরও বলেন, ব্যালট পেপারের দুটো অংশ—একটা মুড়ি অংশ, আরেকটা ব্যালট পেপার অংশ। মুড়ি অংশে থাকে তিনটা তথ্য। এগুলো হচ্ছে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম এবং তার বিভক্তি নম্বর। সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন। ডান পাশের অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী সাজানো থাকবে। নামের ডান পাশে খালি (স্পেস) জায়গায় সংসদ সদস্যরা তাঁদের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপর নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে তাঁরা ব্যালট পেপার জমা দেবেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে।


ইসি সচিব জানান, ৫টার পর ব্যালট গণনা করা হবে। ব্যালটের রং হবে সাদার ওপর কালো প্রিন্ট।


সংরক্ষিত নারীসহ সংসদে ভোট আসন বা সদস্যসংখ্যা ৩৫০। বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্যপদ বাতিল করেছেন আদালত। ফলে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। ভোট গ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই গণনা করা হবে। পরে সেখানে ফলাফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। পরে গেজেট প্রকাশ করা হবে।


প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ শূন্য হবে। ফলে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া নিশ্চিত। তবু দুজন প্রার্থী থাকায় তফসিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট ভোট গ্রহণ করা হবে।


গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

সর্বশেষ সব খবর

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দলের স্থায়ী কমিটির চার সদস্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩০ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পাওয়া নতুন চার সদস্য।


আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম (ডোনার) ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।


প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুর ইসলাম রনি এ তথ্য জানান।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চার নেতার সাক্ষাতের সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে স্থায়ী কমিটির এই চার সদস্য শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পাস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন।


গত ১৫ আগস্ট বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই চারজনকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেন।


দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন চার নেতাকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। বিএনপি আশা প্রকাশ করেছে, চার নেতা তাদের মেধা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে সুচিন্তিত পরামর্শ দিয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখবেন।


বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। ওই কাউন্সিলের পর জাতীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পরে সদস্যদের মৃত্যু ও পদত্যাগসহ বিভিন্ন কারণে কমিটির কয়েকটি পদ শূন্য হয়। বিভিন্ন সময়ে এসব পদে নতুন সদস্য যুক্ত করেছে দলটি। এবার একসঙ্গে চারজনকে স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করা হলো।


১৯ সদস্যবিশিষ্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে আগে থেকে ১৩ জন সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন- তারেক রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন।


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করবেন।


নতুন চার সদস্য যুক্ত হওয়ায় এখন স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।

সর্বশেষ সব খবর

সলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। ফাইল ফোটো।

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৬ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তিতে সরকারের প্রতি ছয়টি পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।


পরামর্শগুলো হলো, জুলাই সনদ ও জুলাই গণভোট বাস্তবায়ন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, গণহারে দলীয়করণ না করা, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা এবং পাচার করা টাকা উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা।


সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব পরামর্শ দেন তিনি।


বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও এই সরকার দেশের ৫৫ বছরের গতানুগতিক কোনো নির্বাচন বা সরকার নয়; বরং স্বাধীনতার ৫৪ বছরে রাষ্ট্রের পরতে পরতে জমা জঞ্জাল দূর করার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় জন্ম নেওয়া একটি গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিয়ে এই সরকার গঠিত হয়েছে। পরিবর্তন ও প্রত্যাশার সেই রক্তস্নাত পটভূমি বিবেচনায় নিলে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে। কষ্টের বিষয় হলো, আশার আলো ক্রমেই ফিকে হয়ে যাচ্ছে।


তিনি বলেন, ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের পর দায়িত্ব নেওয়া একটি সরকারের মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস হয়তো যথেষ্ট সময় নয়, কিন্তু ছয় মাস সময় হিসেবে কমও নয়। সরকারের মেয়াদের এক-দশমাংশ সময় এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে। এই সময়ে অনেক ক্ষেত্রে সফলতা হয়তো দেখা যাবে না, তবে সূচনা ও পদ্ধতি দেখা যায়। সেই বিবেচনায় বিশেষ করে সংস্কারের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জাতির মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।


চরমোনাই পীর বলেন, জুলাই সনদের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটকে কার্যত বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রকে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা থেকে রক্ষা করার জন্য জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন করে যে আইন আনা হয়েছে, তাতে আগের সমস্যার কোনো সমাধান নেই। এগুলো জুলাইয়ে মাঠে নেমে আসা অরাজনৈতিক ছাত্র-জনতার প্রত্যাশার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।


তিনি আরও বলেন, জনপ্রত্যাশাকে উপেক্ষা করার পরিণতি ভালো হয় না। আজকেই হয়তো মানুষ মাঠে নামবে না; কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি তারা আস্থা হারিয়ে ফেলবে।


তবে সরকারের কিছু উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা প্রশংসার যোগ্য। বিশেষ করে সরকারপ্রধানের দৃশ্যমান আচরণ ও ব্যতিব্যস্ততা ভালো কিছুর ইঙ্গিত দেয়। সরকারের অন্যদের কাছ থেকেও একই রকম ভূমিকা আশা করেন তারা।


সরকারের প্রতি দেওয়া ছয় পরামর্শের বিষয়ে চরমোনাই পীর বলেন, জুলাই সনদ ও জুলাই গণভোট বাস্তবায়ন করুন। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরুন। নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানোর ব্যবস্থা করুন। গণহারে দলীয়করণ করবেন না। ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনুন। পাচার করা টাকা উদ্ধারে অগ্রগতি দৃশ্যমান করুন।


বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই এই সরকার সফল হোক।’

সর্বশেষ সব খবর

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, অতীতে বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক নেতাকর্মী ও তাদের পরিবার পুনর্বাসন ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তবে বর্তমান সরকার এই বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সবার পুনর্বাসন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।


বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।


ইশরাক হোসেন বলেন, ‘কিছু বঞ্চিত পরিবার রয়েছে যাদেরকে অতীতে বিএনপির দলীয় পরিচয়ের কারণে যথাযথ পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হয়নি। আমরা সেসব বিষয় পর্যালোচনা করছি। আমাদের কাছে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় আসবে না। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে এবং শহীদ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে, তাদের প্রাপ্য সম্মান তাদের দেওয়া হবে।’


তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের তালিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেকে বাদ পড়েছেন। তাদের যাচাই-বাছাই করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কাউকে রাজনৈতিক বিবেচনায় বাদ দেওয়া হবে না।’


প্রধানমন্ত্রী জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।


ইশরাক বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা, তাদের পুনর্বাসন, পরিবার-পরিজনের শিক্ষাসহায়তা এবং বিভিন্ন ভাতার বিষয়ে তিনি হালনাগাদ তথ্য জানতে চেয়েছেন।’


জুলাই ফাউন্ডেশন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অতীতে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেছিল। সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে আমরা তার নির্দেশনা গ্রহণ করেছি।’

সর্বশেষ সব খবর

প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২০ মে, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই।


তিনি বলেন, জুলাই সনদের সঙ্গে বিএনপি যুক্ত ছিল এবং দলটি সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবে। তবে জুলাই আদেশ নিয়ে বিএনপির কিছু মতপার্থক্য রয়েছে, যা নির্বাচনের আগেই দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।


বুধবার (২০ মে) রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


ইশরাক হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। ওই শিক্ষার্থীদের স্মরণে কলেজের সামনে বা মূল সড়কে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। জুলাইয়ের স্মৃতি ও আন্দোলনের কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।


তিনি বলেন, কলেজটি একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও বিগত ১৭ বছরে অবহেলার শিকার হয়েছে। তিনি কলেজ ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তুলে ধরে বলেন, কোথাও ফাটল বা ক্ষতি হওয়ায় অস্থায়ী পিলার বসাতে হয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, শ্রেণিকক্ষের ঘাটতি ও আধুনিক বিজ্ঞানাগারের অভাবের বিষয়টি আমার জানা আছে। এ সমস্যাগুলো সমাধানে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে কলেজ পরিদর্শনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।


কলেজের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে কলেজটিকে আরও উন্নত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


এ সময় তিনি ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকার পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরের ‘জঞ্জাল’ একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদক, কিশোর গ্যাং ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


ইশরাক বলেন, যেকোনো অপকর্ম প্রতিরোধে ছাত্রসংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে তাদেরও জবাবদিহির মধ্যে আনা হবে।


অনুষ্ঠানে কলেজের জন্য একটি প্রজেক্টর দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এ বিষয়ে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে যৌথভাবে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান।


কলেজের শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাজেটসহ মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে লিখিতভাবে তুলে ধরতে। ঈদের ছুটির পর শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে কলেজসহ আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


সরকার গঠনের ৯২ দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সে কারণে অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডক্টর খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমিন, অফিসার্স কাউন্সিলের সম্পাদক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অনন্যা সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দরা।

সর্বশেষ সব খবর