বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন। তার আগে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সেখানে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।
বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পূর্ব লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়ন হলে যুক্তরাজ্য বিএনপির উদ্যোগে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তারেক রহমান।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে এই অনুষ্ঠানকে সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে যুক্তরাজ্য বিএনপি।
তারেক রহমান ২০০৭ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হন। প্রায় ১৮ মাস কারান্তরীণ থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুক্তি পান তিনি। এরপর ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান। এরপর থেকে যুক্তরাজ্যেই আছেন তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে দেখা করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে যান তিনি। সেখানে মিনিট পাঁচেক তিনি অবস্থান করেন। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি সরাসরি সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যান।
বের হওয়ার সময় সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকেরা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এ নিয়ে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বেরোলে সাংবাদিকেরা জানতে চান ভেতরে কী কথা হলো। এ প্রশ্নের উত্তরে মিষ্টি বলেন, ‘আমি স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি, কথা বলেছি।’
এ সময় সাংবাদিকেরা জানতে চান, আপনি পদত্যাগ করেছেন কি না? এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি দ্রুত চলে যান। এ প্রসঙ্গে স্পিকারের অফিস থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাড়িতে ওঠার পরও সাংবাদিকেরা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি।’
পদত্যাগের প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত হোক।’ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, তা হবে।’
জাতীয় সংসদ ও বিএনপির সূত্র বলছে, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করার জন্যই স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেছেন। স্পিকার সম্ভবত বিএনপির দলীয় পর্যায়ে বিষয়টি আরও একটু নিশ্চিত হতে চান। এ জন্যই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হচ্ছে না।
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার রাতে ফেরদৌসী আহমেদকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্র আরও বলছে, পদত্যাগের পর দলীয়ভাবেও সংসদ সদস্যের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বিএনপি ও সরকারের সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাড্ডার ঘটনা নিয়ে সরকারও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দুই দিন ধরে ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। হামলা ও ভাঙচুরে কারা জড়িত ছিলেন, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং নেপথ্যে কারা ভূমিকা রেখেছেন-এসব বিষয়ে তথ্য নেওয়া নিয়েছেন। তদন্তে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দলীয় ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে গতকাল জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, তদন্তে যার নামই আসুক, সরকার তার বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র বলেছে, রাড্ডার ঘটনাটি দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট এবং জমি দখলের অভিযোগের সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের নাম আসায় বিষয়টি নিয়ে সরকার বিব্রত। ঘটনার সঙ্গে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসার পর তাঁর ভূমিকা ও রাজনৈতিক দায়ও আলোচনায় এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংসদ সদস্যের বিষয়েও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
উমামা ফাতেমা
জুলাইয়ের ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ আন্দোলনকে ‘ভাই-ব্রাদার কোরাম আর শিবিরের’ হাতে বন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা। তিনি বলেছেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় সকল ছাত্র সংগঠনকে মাইনাস করে শিবির ও ছাত্রশক্তি কোরামের (গুপ্তশিবির) লোকজনকে সমন্বয়ক কমিটির অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তার কারণে ৫ আগস্টের পরে যদু-মধু-কদু এসে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে।”
রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার যে একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথি’ ছিলেন তা জামায়াতের ছাত্রসংগঠনটি স্বীকার করার পর আজ বৃহস্পতিবার রাতে ফেইসবুক পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া জানান উমামা।
তিনি লিখেছেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ১৭ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের সাথে ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা মানুষ উড়ে এসে নেতা হয়েছে। সালাউদ্দীন আম্মার তাদের অন্যতম।”
গতকাল বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সালাহউদ্দিন আম্মারের সাথি পদ বাতিল করে। এর আগের দিন রাকসু নির্বাচনে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ নামের একটি প্যানেল ঘোষণা করে সাবেক সমন্বয়করা। এটি শিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ বা ‘ছায়া দল’ কি না, সাংবাদিকরা সেদিন এমন প্রশ্ন রেখেছিলেন সাবেক সমন্বয়কদের কাছে।
তখন সালাহউদ্দিন আম্মার বলেছিলেন, “আমার কাছে এই কথাগুলোকে অযাচিত বলে মনে হয়। কারণ আমার বিশ্বাস, শিবির কখনোই এমন কোনো প্যানেল গঠন করবে না যেটা তাদের নিজেদের নয়।
“তারা আলাদা প্যানেল দিয়েছে। আমরা আলাদা দিয়েছি। এখানে ‘ডামি’ বা ‘ছায়া দল’ হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।”
ছাত্রশিবির এমন এক সময়ে আম্মারকে বহিষ্কারের তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে, যখন রাকসুর মেয়াদ আছে আর এক মাস। ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র ভিপি পদপ্রার্থী উমামা ফাতেমা লিখেছেন, জুলাইয়ের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে ‘ভাই-ব্রাদার কোরাম আর শিবিরের’ হাতে বন্দি করা হয়েছে।
“দেশকে নিয়ে আন্দোলনের পর যারা ছেলেখেলা করছে তারা সব দখল করতে চাইছিল।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রশিবির পরিচিত হলেও ছাত্রসংগঠনটি তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। শিবিরের পাশাপাশি জামায়াতকেও তোপ দেগেছেন ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক সময়ের সদস্য সচিব উমামা।
তিনি লিখেছে, “বাংলাদেশের জার্নি এতদিন ছিল ৫০ বছরের। এখন তো জামায়াতের কারণে হিস্ট্রি ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে শুরু করতে হয়। একদল মোনাফেকের হাতে পড়ছে দেশের রাজনীতি।”
“জামায়াত আর আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই। জামায়াত তাদের গণহত্যার কালিমা ঢাকতে দেশকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে রাজি আছে।”
দেশকে অস্থিতিশীল করতে সোশাল মিডিয়াকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও পর্যবেক্ষণ উমামার।
তিনি বলছেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার কন্টেন্টগুলোকে আমি মোটেও নিরীহভাবে দেখিনা। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ফেসবুক ম্যানিপুলেশন যথেষ্ট, তাই পর্দার আড়ালের ইন্টারেস্ট গ্রুপগুলা সময়ে সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জুলাই এর নামে ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট জেনারেট করে।
“তরুণদের মধ্যে হিরো হিসেবে ম্যানুফ্যাচারড ফিগার আছে অনেক, যারা তরুণদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দি করতে কাজ করছে।”
উমামা লিখে চলেছেন, “আমি মায়ানমারের দিকে তাকালে ভয় পাই। রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য ফেসবুক অত্যন্ত এফিশিয়েন্ট টুল ছিল।
“এগুলা সম্ভব হইছে আমাদের মধ্যবিত্তের-I hate politics থেকে জুলাইএ হঠাৎ চোখ ফুটার কারণে, আর সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানিপুলেট করে আজকে একে তো কালকে ওকে হিরো বানানোর কারণে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
ডিসেম্বর মাসে কোনো ‘অপশক্তি’ অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরছেন- এমন আলোচনা রয়েছে। এর জেরে ডিসেম্বর ঘিরে সম্ভাব্য অস্থিরতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আপনারা ডিসেম্বর ডিসেম্বর করছেন কেন? ডিসেম্বর তো আমাদের বিজয়ের মাস। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ অভিযানের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে যৌথ অভিযানের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
“পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদক নিরসনে প্রতিনিয়ত পরিচালিত হচ্ছে।”
এই কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য আগের সরকারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন- এমন অভিযোগ এবং এ বিষয়ে তালিকা তৈরির পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব সদস্যের দায়িত্বে গাফিলতি বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
“তাদেরকে প্রত্যাহার করে আমরা থেমে থাকছি না। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ক্রিমিনাল অফেন্স যদি করে থাকে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
তেজগাঁওয়ে আনসারের নতুন সদর দপ্তর
তেজগাঁওয়ে আনসার ও ভিডিপির নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রায় ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
“বর্তমানে খিলগাঁও থেকে পরিচালিত আনসার সদর দপ্তরের অপরিসর জায়গায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করতে এখানে একটি আধুনিক ও বৃহৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।”
বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং প্রায় ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছেন। এ ছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে বলে তথ্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের আবাসন সংকট কমাতে ডরমেটরি ও ব্যারাকের জন্য ঢাকার আশুলিয়া এবং শেরেবাংলা নগরেও অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
জুলাইয়ের অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি-দাওয়া পূরণে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলীতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সমালোচনার মুখে থাকা ক্ষমতাসীন বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ছাত্রদল ঢাকা মহানগর পশ্চিমের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকার সাংগঠনিক থানাগুলো এসব কমিটির অধীনে রয়েছে। যুবদলের শাহ আলী থানা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দারুস সালাম থানার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার রাতে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক এবং সদস্য সচিব মো. মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি নির্দেশক্রমে বিলুপ্ত করা হয়েছে। শিগগির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।
২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর আমিনুল হকের নেতৃত্বে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি গঠিত হয়েছিল। তিনি বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। আগের আহ্বায়ক সাইফুল আলম নিরবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠার পর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুর্বৃত্তরা রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেয়। উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির অনুসারীরা এতে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের কয়েক নেতাকে ভাঙচুরের সংশ্লিষ্টতা দেখা গেছে। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে মহানগর উত্তরের কমিটি বিলুপ্ত করল বিএনপি।
বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনৈতিক কার্যকলাপসহ সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুভ্রকে প্রাথমিক সদস্যসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে আজ রাতে যুবদলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক ছিলেন শরিফ উদ্দিন জুয়েল এবং সদস্য সচিব ছিলেন সাজ্জাদুল মিরাজ। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের সময় সাজ্জাদুল মিরাজ তা ঠেকাতে সক্রিয় হয়েছিলেন বলে জানা যায়। তিনি শাহ আলী পুলিশ থানা তৎকালীন ওসি এবং মিরপুর জোনের উপকমিশনারকে ঘটনা জানিয়েছিলেন। ভাঙচুরের সময় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং থানার ওসির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের সামনে এনেছিলেন সাজ্জাদুল মিরাজ।
মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শাহ আলী থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর আলম, থানা যুবদল নেতা সাজ্জাদুর রহমান মিশু, মো. সোহল, কবির হোসেন এবং আকবর হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ছাত্রদলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার রাতে জানানো হয়েছে, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে।
মো. রবিন খানকে সভাপতি এবং আকরাম আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের ৯ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠিত হয়েছিল। বৃহত্তর মিরপুর এবং মোহাম্মদপুরের ১১টি থানা এই কমিটির আওতাধীন। ছাত্রদলের কয়েকজনের বিরুদ্ধেও মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজি এবং রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভিডিও ফুটেজে থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের কয়েকজনকে দেখা যায়।
বৃহত্তর মিরপুরের দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই শীর্ষস্থানীয় নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ রাতে বিএনপির এই অঙ্গসংগঠনের সহদপ্তর সম্পাদক ওসমান গণি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আক্তার এবং সদস্য সচিব হাফিজুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রাশেদ খাঁন ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ছাত্র ফেডারেশনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকাকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বর্তমান মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ চুরি করেছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দুইটি ভিন্ন পোস্টে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
ফেসবুক পোস্টে নিজের দাবির সপক্ষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বহিষ্কারসংক্রান্ত বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের একটি পুরোনো নোটিশের ছবি কমেন্ট বক্সে যুক্ত করেন রাশেদ খাঁন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালে ছাত্র ফেডারেশনে থাকাকালীন নাসীরুদ্দীনের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ আনেন। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের তৎকালীন দায়িত্বশীল নেতারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে।
রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে বিষয়টি জানা ছিল। চুরির দায়ে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নাসীরুদ্দীন দীর্ঘ সময় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি এবি পার্টিতে যোগদানের মাধ্যমে পুনরায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপর হন। রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, এবি পার্টির নেতারা হয়তো এই চুরির ঘটনার বিষয়ে অবগত ছিলেন না; জানলে তারা তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করতেন না।
পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী লেখেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের কারণে ও নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সম্পর্কের খাতিরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ল্যাপটপ চোর থেকে ছাগলচোরে পরিণত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ছাত্র রাজনীতিতে যার হাতেখড়ি ল্যাপটপ চুরি দিয়ে আর জাতীয় রাজনীতিতে ছাগল চুরি দিয়ে, সেই চোর নাসীর কীভাবে এত ন্যায়নীতির বয়ান আওড়ায়?’
এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী। দ্রুত দেশে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। সেই সঙ্গে সারাদেশের নেতাকর্মীদের আমি বলতে চাই যেখানে দখলদারিত্ব চাঁদাবাজি হচ্ছে জনগণকে সাথে নিয়ে এসব রুখে দিতে হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন সময় অসংলগ্ন কথা বলছেন। তিনি তার দায়িত্ব পালনে অলরেডি ব্যর্থ হয়েছেন। সংস্কার ইস্যুতে জাতির সঙ্গে প্রতারণামূলক কথা বলেছেন। পরিস্থিতি ইস্যুতে সংসদে যখন তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হতো বা প্রশ্ন করা হতো, এটা রাজপথের বক্তব্যটা পল্টনের বক্তব্য এসব বলে তিনি কথা এড়িয়ে যেতেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, মিরপুরের রাড্ডা সেন্টার ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হলো, তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এই কার্যক্রম চললো। বোঝাই যাচ্ছে সেখানে স্থানীয় বিএনপি, একজন নারী এমপির নাম এসেছে সেই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের নীরবতা মাধ্যমে তাদের পরোক্ষ সহযোগিতার মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার মতো একটি শহরে তিন ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চালাবে এবং প্রশাসন কিছুই করতে পারবে না এটি হতে পারে না।
তিনি বলেন, এটি বিএনপির সারা দেশের যে নৈরাজ্য এবং তাণ্ডব, দখলবাজি গত ৫ আগস্টের পর থেকে অর্থাৎ ৬ আগস্ট থেকে শুরু করেছিল তারই ধারাবাহিকতায় মিরপুরের রাড্ডা সেন্টার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের অফিস ভাঙচুরের ঘটনা দেখতে পারলাম।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখলাম কীভাবে প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। দেশে কোনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আছে বলে মনে হচ্ছে না। এ সরকার বলেছিল দেশের নির্বাচিত সরকার আসলে মব থেমে যাবে, আইনশৃঙ্খলা পরিষদের উন্নতি হবে। এখন আমরা দেখছি, বিএনপি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তারা নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
এ সময় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।