• প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ৯:৪৬ এএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য বাসভবন এবং অফিস প্রস্তুত করেছে বিএনপি। রাজধানীর গুলশান এভিনিউর ১৯৬নং বাসাতে উঠবেন তিনি। এই বাসার পাশেই ভাড়া করা বাসা ‘ফিরোজা’য় থাকেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য আলাদা চেম্বারও তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া গুলশানে আরেকটি বাসা ভাড়া নেওয়া হয়েছে, যেটি থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের ৯০নং সড়কে ১০/সির নতুন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতা কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

আগামী ২৫ ডিসেম্বর টানা ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত থাকার পরে ঢাকায় ফিরছেন তারেক রহমান। তার আগমন উপলক্ষে বিএনপি ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ২৫ তারিখ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে তাকে নেতাকর্মীরা সংবর্ধনা জানাতে উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের নেতার অপেক্ষা আছে দেশবাসী। সেদিন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সড়কের দুই পাশে সুশঙ্খলভাবে অবস্থান নিয়ে প্রিয় নেতাকে অভ্যর্থনা জানাবে। আমরা সেই প্রস্তুতির কাজ করছি।’

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তারেক রহমানকে কীভাবে অভ্যর্থনা দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তারেক রহমানের বাসভবন ঠিক করা হয়েছে গুলশান এভিনিউর ১৯৬নং বাসাটি। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়াকে এই বাড়িটি বরাদ্দ দেয়। কয়েক মাস আগে এই বাড়ির দলিলপত্র বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে হস্তান্তর করেন গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের রাজউকে চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু। সেই বাড়িতে উঠছেন তারেক। এই বাসার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাসার সামনে নিরাপত্তা ছাউনি বসানো হয়েছে। সড়কের সামনে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।

নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মীরা জানান, এখানে তারেক রহমান সাহেব থাকবেন, সেজন্য এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তারেক রহমানের জন্য গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে চেয়ারপারসনের চেম্বারের পাশে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য আলাদা চেম্বার তৈরি করা হয়েছে। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও আলাদা চেম্বার তৈরি করা হয়েছে তার জন্য। কেন্দ্রীয় কার্যালয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আলাদা চেম্বার আছে। এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্যও আরেক চেম্বার করা হলো।

এদিকে গুলশানের ৯০ সড়কের ১০সি বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে বিএনপি অফিস হিসেবে। চার তলায় এই ভবনে রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এখানে দোতলায় রয়েছে ব্রিফিং রুম। অন্যান্য তলায় বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে গবেষণা সেল।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। আমরা এখন অধীর আগ্রহে সময় গুনছি কখন আমাদের বহুদলীয় গণতন্ত্রের মানসপুত্র আধুনিক স্বনির্ভর রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্নদ্রষ্টা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকার মাটিতে পা রাখবেন। সে লক্ষ্যে আপনি যাই বলুন, আমাদের সব প্রস্তুতি তাকেই ঘিরে। ইনশাল্লাহ দেশের মানুষ যেমন প্রত্যাশা করছে, আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নেতা হারানো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন।’

নতুন অফিস খোলার পরে বিকেলে এই প্রথম সংবাদ সম্মেলনে মাহাদী আমিন বলেন, এটি বিএনপির একটি কার্যালয়। এখান থেকে নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত যে, আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরবেন ইনশাআল্লাহ। তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে গণ মানুষের মাঝে রয়েছে তীব্র আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও আগ্রহ। আমাদের নেতা বিশ্বাস করেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে রাজনীতি এবং আদর্শের ঊর্ধ্বে গণতন্ত্রকামী প্রতিটি মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করতে হবে। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য আমাদের এ রাষ্ট্র বিনির্মাণের জন্য। ইতোমধ্যে বিএনপি প্রণীত দেশ গড়ার পরিকল্পনার শীর্ষক কর্মসূচি নিয়ে ঢাকায় এক সপ্তাহব্যাপী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এসেছিলেন। আমাদের তৃণমূলের মানুষের নেতা তারেক রহমান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, যেহেতু এই বাংলাদেশটা আমাদের সবার ধর্ম-বর্ণ-আদর্শ -দর্শন-রাজনীতির অবস্থান, সবকিছুর ঊর্ধ্বে আমাদের দল-মত পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে এক হয়ে এই দেশটাকে গড়তে হবে, সবাইকে একযোগে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

মাহদী আমিন বলেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা একটি জাতীয় রিল মেকিং প্রতিযোগিতা শুরু করতে যাচ্ছি। আমাদের এই আয়োজন শুরু হবে আজ থেকে এবং এই প্রতিযোগিতা চলমান থাকবে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অর্থাৎ ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে দেশ এবং বিদেশের সব শ্রেণি এবং পেশার মানুষ দেশ গড়ার প্রত্যয়ে তাদের নিজ নিজ যে পরিকল্পনা, প্রত্যাশা, ভাবনা-চিন্তা তা প্রত্যেকটি এক মিনিটের রিল ভিডিওর মাধ্যমে অনলাইনে সাবমিট করতে পারবেন। এই রিল হতে পারে ছোট্ট একটা ভিডিও, যেখানে যে কোনো কন্টেন্টের মাধ্যমে প্রত্যেকটা অংশগ্রহণকারী তাদের নিজেদের বক্তব্য, স্যাটায়ার, গান, সংলাপ, ডকুমেন্টারি অ্যানিমেশন কিংবা কয়েকটি ছবি বা আর্টের সমন্বয় সেটি সাবমিট করতে পারবেন। যার মাধ্যমে হতে পারে গঠনমূলক সমালোচনা। হতে পারে নতুন কোনো ভাবনা। হতে পারে সুবিস্তৃত কোনো পরিকল্পনা কিংবা ব্যক্তিগত অভিব্যক্তির বহির্প্রকাশ।

তিনি বলেন, আমার ভাবনায় বাংলাদেশ- এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশ গড়ার মহাপরিকল্পনায় দেশের প্রতিটি মানুষকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ করে দেওয়া এবং একটি গণমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে গণমানুষের যে ভাবনা এবং পরিকল্পনা সেগুলোকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পৃক্ত করা। আমাদের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান সুযোগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চিন্তাগুলোকে পৌঁছে দিতে চাই এবং তৃণমূলের সাথে আমাদের শীর্ষ নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্বে যদি বিএনপি আসে সেই দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর একটি আন্তরিকতার এবং সৌহার্দ্যের মেলবন্ধন তৈরি করতে চাই। বাংলাদেশের সব তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীসহ যে কোনো বয়সের যে কোনো নাগরিক তিনি দেশে থাকুক কিংবা দেশের বাইরে থাকুক যেন নিজের ভাবনাকে সর্বোচ্চ সৃজনশীলতার মাধ্যমে কন্টেন্টরূপে জনসম্মুখে উপস্থাপন করতে পারেন সে সুযোগ আমরা এর মাধ্যমে তৈরি করে দিতে চাই।

তিনি জানান, আমার ভাবনায় বাংলাদেশ- এই কর্মসূচির সবচাইতে বড় চমক হচ্ছে, যারা বিজয়ী হবেন মেধাভিত্তিক সেই বিজয়ের মাধ্যমে আমাদের শীর্ষ ১০ জনকে আমরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একান্ত আলাপচারিতার সুযোগ দিব।

সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ, জিয়া উদ্দিন হায়দার, চেয়ারপারসনের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সদস্য সাইমুম পারভেজ এবং মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।



সর্বশেষ সব খবর

জাতীয় নাগরিক পার্টির লোগো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২০ এএম

দেশের ৫০০ উপজেলার মধ্যে ২৭৬টিতে দলীয় কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে (১৫ অক্টোবরের মধ্যে) বাকি উপজেলাগুলোতেও আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি।


গতকাল বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। পরে এ পোস্টের বক্তব্য দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বার্তা হিসেবে পাঠানো হয়।


এনসিপির বার্তায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ৫০০টি উপজেলার মধ্যে ২৭৬টিতে দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার দুই মহানগর ছাড়া অন্য ১১টি মহানগরের ৬১টি থানার মধ্যে ৩৪টিতে আহ্বায়ক কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দেশের ৫০০ উপজেলাতেই এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি থাকবে।


পাশাপাশি ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দেশের ৩৩০ পৌরসভা এবং ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৭ পিএম

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে দেখা করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। 


আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে যান তিনি। সেখানে মিনিট পাঁচেক তিনি অবস্থান করেন। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি সরাসরি সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যান।


বের হওয়ার সময় সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকেরা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এ নিয়ে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বেরোলে সাংবাদিকেরা জানতে চান ভেতরে কী কথা হলো। এ প্রশ্নের উত্তরে মিষ্টি বলেন, ‘আমি স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি, কথা বলেছি।’


এ সময় সাংবাদিকেরা জানতে চান, আপনি পদত্যাগ করেছেন কি না? এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি দ্রুত চলে যান। এ প্রসঙ্গে স্পিকারের অফিস থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


গাড়িতে ওঠার পরও সাংবাদিকেরা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি।’ 


পদত্যাগের প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত হোক।’ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, তা হবে।’


জাতীয় সংসদ ও বিএনপির সূত্র বলছে, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করার জন্যই স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেছেন। স্পিকার সম্ভবত বিএনপির দলীয় পর্যায়ে বিষয়টি আরও একটু নিশ্চিত হতে চান। এ জন্যই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হচ্ছে না।


রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার রাতে ফেরদৌসী আহমেদকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্র আরও বলছে, পদত্যাগের পর দলীয়ভাবেও সংসদ সদস্যের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।


বিএনপি ও সরকারের সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাড্ডার ঘটনা নিয়ে সরকারও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দুই দিন ধরে ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। হামলা ও ভাঙচুরে কারা জড়িত ছিলেন, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং নেপথ্যে কারা ভূমিকা রেখেছেন-এসব বিষয়ে তথ্য নেওয়া নিয়েছেন। তদন্তে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।


রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দলীয় ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে গতকাল জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।


সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, তদন্তে যার নামই আসুক, সরকার তার বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে।


বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র বলেছে, রাড্ডার ঘটনাটি দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট এবং জমি দখলের অভিযোগের সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের নাম আসায় বিষয়টি নিয়ে সরকার বিব্রত। ঘটনার সঙ্গে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসার পর তাঁর ভূমিকা ও রাজনৈতিক দায়ও আলোচনায় এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংসদ সদস্যের বিষয়েও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সর্বশেষ সব খবর

উমামা ফাতেমা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৭ পিএম

জুলাইয়ের ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ আন্দোলনকে ‘ভাই-ব্রাদার কোরাম আর শিবিরের’ হাতে বন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা। তিনি বলেছেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় সকল ছাত্র সংগঠনকে মাইনাস করে শিবির ও ছাত্রশক্তি কোরামের (গুপ্তশিবির) লোকজনকে সমন্বয়ক কমিটির অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তার কারণে ৫ আগস্টের পরে যদু-মধু-কদু এসে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে।”


রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার যে একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথি’ ছিলেন তা জামায়াতের ছাত্রসংগঠনটি স্বীকার করার পর আজ বৃহস্পতিবার রাতে ফেইসবুক পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া জানান উমামা।


তিনি লিখেছেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ১৭ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের সাথে ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা মানুষ উড়ে এসে নেতা হয়েছে। সালাউদ্দীন আম্মার তাদের অন্যতম।”


গতকাল বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সালাহউদ্দিন আম্মারের সাথি পদ বাতিল করে। এর আগের দিন রাকসু নির্বাচনে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ নামের একটি প্যানেল ঘোষণা করে সাবেক সমন্বয়করা। এটি শিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ বা ‘ছায়া দল’ কি না, সাংবাদিকরা সেদিন এমন প্রশ্ন রেখেছিলেন সাবেক সমন্বয়কদের কাছে।


তখন সালাহউদ্দিন আম্মার বলেছিলেন, “আমার কাছে এই কথাগুলোকে অযাচিত বলে মনে হয়। কারণ আমার বিশ্বাস, শিবির কখনোই এমন কোনো প্যানেল গঠন করবে না যেটা তাদের নিজেদের নয়।


“তারা আলাদা প্যানেল দিয়েছে। আমরা আলাদা দিয়েছি। এখানে ‘ডামি’ বা ‘ছায়া দল’ হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।”


ছাত্রশিবির এমন এক সময়ে আম্মারকে বহিষ্কারের তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে, যখন রাকসুর মেয়াদ আছে আর এক মাস। ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র ভিপি পদপ্রার্থী উমামা ফাতেমা লিখেছেন, জুলাইয়ের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে ‘ভাই-ব্রাদার কোরাম আর শিবিরের’ হাতে বন্দি করা হয়েছে।


“দেশকে নিয়ে আন্দোলনের পর যারা ছেলেখেলা করছে তারা সব দখল করতে চাইছিল।”


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রশিবির পরিচিত হলেও ছাত্রসংগঠনটি তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। শিবিরের পাশাপাশি জামায়াতকেও তোপ দেগেছেন ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক সময়ের সদস্য সচিব উমামা।


তিনি লিখেছে, “বাংলাদেশের জার্নি এতদিন ছিল ৫০ বছরের। এখন তো জামায়াতের কারণে হিস্ট্রি ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে শুরু করতে হয়। একদল মোনাফেকের হাতে পড়ছে দেশের রাজনীতি।”


“জামায়াত আর আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই। জামায়াত তাদের গণহত্যার কালিমা ঢাকতে দেশকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে রাজি আছে।”


দেশকে অস্থিতিশীল করতে সোশাল মিডিয়াকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও পর্যবেক্ষণ উমামার।


তিনি বলছেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার কন্টেন্টগুলোকে আমি মোটেও নিরীহভাবে দেখিনা। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ফেসবুক ম্যানিপুলেশন যথেষ্ট, তাই পর্দার আড়ালের ইন্টারেস্ট গ্রুপগুলা সময়ে সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জুলাই এর নামে ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট জেনারেট করে।


“তরুণদের মধ্যে হিরো হিসেবে ম্যানুফ্যাচারড ফিগার আছে অনেক, যারা তরুণদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দি করতে কাজ করছে।”


উমামা লিখে চলেছেন, “আমি মায়ানমারের দিকে তাকালে ভয় পাই। রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য ফেসবুক অত্যন্ত এফিশিয়েন্ট টুল ছিল।


“এগুলা সম্ভব হইছে আমাদের মধ্যবিত্তের-I hate politics থেকে জুলাইএ হঠাৎ চোখ ফুটার কারণে, আর সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানিপুলেট করে আজকে একে তো কালকে ওকে হিরো বানানোর কারণে।”

সর্বশেষ সব খবর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৪ পিএম

ডিসেম্বর মাসে কোনো ‘অপশক্তি’ অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরছেন- এমন আলোচনা রয়েছে। এর জেরে ডিসেম্বর ঘিরে সম্ভাব্য অস্থিরতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।


জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আপনারা ডিসেম্বর ডিসেম্বর করছেন কেন? ডিসেম্বর তো আমাদের বিজয়ের মাস। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।”


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ অভিযানের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে যৌথ অভিযানের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।


“পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদক নিরসনে প্রতিনিয়ত পরিচালিত হচ্ছে।”


এই কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য আগের সরকারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন- এমন অভিযোগ এবং এ বিষয়ে তালিকা তৈরির পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব সদস্যের দায়িত্বে গাফিলতি বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


“তাদেরকে প্রত্যাহার করে আমরা থেমে থাকছি না। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ক্রিমিনাল অফেন্স যদি করে থাকে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”


তেজগাঁওয়ে আনসারের নতুন সদর দপ্তর


তেজগাঁওয়ে আনসার ও ভিডিপির নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রায় ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ পাওয়া গেছে।


“বর্তমানে খিলগাঁও থেকে পরিচালিত আনসার সদর দপ্তরের অপরিসর জায়গায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করতে এখানে একটি আধুনিক ও বৃহৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।”


বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং প্রায় ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছেন। এ ছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে বলে তথ্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের আবাসন সংকট কমাতে ডরমেটরি ও ব্যারাকের জন্য ঢাকার আশুলিয়া এবং শেরেবাংলা নগরেও অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।


জুলাইয়ের অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি-দাওয়া পূরণে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩০ পিএম

রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলীতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সমালোচনার মুখে থাকা ক্ষমতাসীন বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ছাত্রদল ঢাকা মহানগর পশ্চিমের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকার সাংগঠনিক থানাগুলো এসব কমিটির অধীনে রয়েছে। যুবদলের শাহ আলী থানা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দারুস সালাম থানার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার রাতে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 


বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক এবং সদস্য সচিব মো. মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি নির্দেশক্রমে বিলুপ্ত করা হয়েছে। শিগগির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।


২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর আমিনুল হকের নেতৃত্বে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি গঠিত হয়েছিল। তিনি বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। আগের আহ্বায়ক সাইফুল আলম নিরবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠার পর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।


মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুর্বৃত্তরা রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেয়। উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির অনুসারীরা এতে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের কয়েক নেতাকে ভাঙচুরের সংশ্লিষ্টতা দেখা গেছে। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে মহানগর উত্তরের কমিটি বিলুপ্ত করল বিএনপি। 


বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনৈতিক কার্যকলাপসহ সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুভ্রকে প্রাথমিক সদস্যসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 


এদিকে আজ রাতে যুবদলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।


উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক ছিলেন শরিফ উদ্দিন জুয়েল এবং সদস্য সচিব ছিলেন সাজ্জাদুল মিরাজ। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের সময় সাজ্জাদুল মিরাজ তা ঠেকাতে সক্রিয় হয়েছিলেন বলে জানা যায়। তিনি শাহ আলী পুলিশ থানা তৎকালীন ওসি এবং মিরপুর জোনের উপকমিশনারকে ঘটনা জানিয়েছিলেন। ভাঙচুরের সময় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং থানার ওসির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের সামনে এনেছিলেন সাজ্জাদুল মিরাজ।


মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শাহ আলী থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর আলম, থানা যুবদল নেতা সাজ্জাদুর রহমান মিশু, মো. সোহল, কবির হোসেন এবং আকবর হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 


ছাত্রদলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার রাতে জানানো হয়েছে, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। 


মো. রবিন খানকে সভাপতি এবং আকরাম আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের ৯ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠিত হয়েছিল। বৃহত্তর মিরপুর এবং মোহাম্মদপুরের ১১টি থানা এই কমিটির আওতাধীন। ছাত্রদলের কয়েকজনের বিরুদ্ধেও মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজি এবং রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভিডিও ফুটেজে থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের কয়েকজনকে দেখা যায়।


বৃহত্তর মিরপুরের দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই শীর্ষস্থানীয় নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ রাতে বিএনপির এই অঙ্গসংগঠনের সহদপ্তর সম্পাদক ওসমান গণি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আক্তার এবং সদস্য সচিব হাফিজুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

সর্বশেষ সব খবর

রাশেদ খাঁন ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১১ পিএম

ছাত্র ফেডারেশনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকাকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বর্তমান মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ চুরি করেছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।


মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দুইটি ভিন্ন পোস্টে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।


ফেসবুক পোস্টে নিজের দাবির সপক্ষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বহিষ্কারসংক্রান্ত বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের একটি পুরোনো নোটিশের ছবি কমেন্ট বক্সে যুক্ত করেন রাশেদ খাঁন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালে ছাত্র ফেডারেশনে থাকাকালীন নাসীরুদ্দীনের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ আনেন। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের তৎকালীন দায়িত্বশীল নেতারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে।


রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে বিষয়টি জানা ছিল। চুরির দায়ে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নাসীরুদ্দীন দীর্ঘ সময় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি এবি পার্টিতে যোগদানের মাধ্যমে পুনরায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপর হন। রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, এবি পার্টির নেতারা হয়তো এই চুরির ঘটনার বিষয়ে অবগত ছিলেন না; জানলে তারা তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করতেন না।


পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী লেখেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের কারণে ও নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সম্পর্কের খাতিরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ল্যাপটপ চোর থেকে ছাগলচোরে পরিণত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ছাত্র রাজনীতিতে যার হাতেখড়ি ল্যাপটপ চুরি দিয়ে আর জাতীয় রাজনীতিতে ছাগল চুরি দিয়ে, সেই চোর নাসীর কীভাবে এত ন্যায়নীতির বয়ান আওড়ায়?’

সর্বশেষ সব খবর