• প্রকাশ : বুধবার ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:৫৫ এএম
  • আপডেট : বুধবার ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:৫৫ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে সমমনা জোটের বৈঠক। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:৫৫ এএম

বিএনপি আগামীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মধ্যে যাদের মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি, যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অতীতের মতো আসন্ন নির্বাচনেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিতের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে ১২ দলীয় জোট ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের পৃথক বৈঠকে এমন আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। উভয় বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।



বৈঠকে তারেক রহমান দুই জোটের নেতাদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেন।


এ দিকে এটা সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল জানিয়ে বিএনপির মিডিয়া সেল বলেছে, রাজনৈতিক সৌজন্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


প্রথমে তারেক রহমানের সঙ্গে ১২ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জোট নেতাদের মধ্যে ন্যাশনাল লেবার পার্টির লায়ন মো. ফারুক রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল করিম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির শামসুদ্দিন পারভেজ, বাংলাদেশ এলডিপির এমএ বাসার, ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম, ইউনাইটেড লিবারেল পার্টির আমিনুল ইসলাম, প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দলের (পিএনপি) ফিরোজ মুহাম্মদ লিটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


এরপর সেখানে সমমনা জোট নেতাদের বৈঠক হয়। জোট নেতাদের মধ্যে ছিলেন জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, গণদলের এটিএম গোলাম মওলা চৌধুরী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ব্যারিস্টার নাসিম খান, বাংলাদেশ ন্যাপের এমএন শাওন সাদেকী, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির এসএম শাহাদাত, এনপিপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) খোকন চন্দ্র দাস, এনডিপির আব্দুল্লাহ আল হারুন সোহেল প্রমুখ।


জানা যায়, জোট নেতারা ফ্যাসিবাদবিরোধী বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে নিজেদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। বিগত সময়ে একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠনে বিএনপির অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে তারা বলেন, এর অংশ হিসেবে আসন্ন নির্বাচনে আপনি জোট থেকে কয়েকজনকে মনোনয়ন দিয়েছেন। যাদের মনোনয়ন দিতে পারেননি, তারা মনোক্ষুণ্ন নয়। আমরা চাই, বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করলে আপনি তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন।


তখন তারেক রহমান বলেন, আপনারা অতীতের মতো আসন্ন নির্বাচনেও ধানের শীষকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুন। বিএনপি সরকার গঠন করলে যোগ্যতা অনুযায়ী আপনাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।



বৈঠক সূত্রমতে, তারেক রহমানকে জোট নেতারা আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মুক্তির স্বপ্ন দেখে; তারা চায় একটি সমতাভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও উন্নত রাষ্ট্র। আপনার নেতৃত্ব ও দর্শন সেই স্বপ্নকে ধারণ করে। আজকে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, ন্যায়ের পথে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে হবে।


বৈঠক প্রসঙ্গে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এসএম শাহাদাত কালবেলাকে বলেন, জোট নেতারা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ভূমিকা তুলে ধরেছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান বলেছেন, আপনাদের মধ্যে যাদের মনোনয়ন দিতে পারিনি, আগামীতে সরকার গঠন করলে বিগত দিনের কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী আপনাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।


বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোট নেতারা স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।


১২ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মো. ফারুক রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আমাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যানকে বলেছি, আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।


তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের জন্য ডিজিটাল ডাটাবেইজ তৈরি ও কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমানো, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে আমরা বলেছি। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এসব বিষয়ের অনেকগুলো নিয়ে বিএনপি এরই মধ্যে কাজ করছে বলে তারেক রহমান আমাদের জানিয়েছেন।




এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪৭ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী। দ্রুত দেশে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। সেই সঙ্গে সারাদেশের নেতাকর্মীদের আমি বলতে চাই যেখানে দখলদারিত্ব চাঁদাবাজি হচ্ছে জনগণকে সাথে নিয়ে এসব রুখে দিতে হবে।


সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।


তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন সময় অসংলগ্ন কথা বলছেন। তিনি তার দায়িত্ব পালনে অলরেডি ব্যর্থ হয়েছেন। সংস্কার ইস্যুতে জাতির সঙ্গে প্রতারণামূলক কথা বলেছেন। পরিস্থিতি ইস্যুতে সংসদে যখন তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হতো বা প্রশ্ন করা হতো, এটা রাজপথের বক্তব্যটা পল্টনের বক্তব্য এসব বলে তিনি কথা এড়িয়ে যেতেন।


নাহিদ ইসলাম বলেন, মিরপুরের রাড্ডা সেন্টার ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হলো, তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এই কার্যক্রম চললো। বোঝাই যাচ্ছে সেখানে স্থানীয় বিএনপি, একজন নারী এমপির নাম এসেছে সেই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের নীরবতা মাধ্যমে তাদের পরোক্ষ সহযোগিতার মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার মতো একটি শহরে তিন ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চালাবে এবং প্রশাসন কিছুই করতে পারবে না এটি হতে পারে না।


তিনি বলেন, এটি বিএনপির সারা দেশের যে নৈরাজ্য এবং তাণ্ডব, দখলবাজি গত ৫ আগস্টের পর থেকে অর্থাৎ ৬ আগস্ট থেকে শুরু করেছিল তারই ধারাবাহিকতায় মিরপুরের রাড্ডা সেন্টার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের অফিস ভাঙচুরের ঘটনা দেখতে পারলাম।


তিনি আরও বলেন, আমরা দেখলাম কীভাবে প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। দেশে কোনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আছে বলে মনে হচ্ছে না। এ সরকার বলেছিল দেশের নির্বাচিত সরকার আসলে মব থেমে যাবে, আইনশৃঙ্খলা পরিষদের উন্নতি হবে। এখন আমরা দেখছি, বিএনপি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তারা নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।


এ সময় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


ডা. শফিকুর রহমান ও সালমান মুক্তাদির

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫০ পিএম

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


ফেসবুক পোস্টে তিনি একটি ভিডিও আপলোড করেন। সেখানে দেখা যায় সালমান মুক্তাদির তার স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের বর্ণনা দিচ্ছেন।


ভিডিওর ক্যাপশনে জামায়াত আমির লিখেন, ‘গভীর রাতে জুলাইযোদ্ধা ও সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের বাসা ও স্টুডিওতে চাঁদাবাজদের হানা, ভাঙচুর, লুটতরাজ ও তাণ্ডব।’


তিনি চাঁদাবাজদের উদ্দেশে বলেন, ‘মাঝে মাঝে মধু আহরণকারী চাঁদাবাজরা মৌচাক মনে করে ভিমরুলের চাকেও ঢিল ছুড়ে দেয়। তখন সেই ঢিল বুমেরাং হয়ে তাদের দিকেই ফিরে আসে।’


শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘কর্তৃত্বশালীরা নিজেদের চাঁদাবাজদের কী সামলাবেন? একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। হ্যাঁ, এর শেষ হবে একদিন, ইনশাআল্লাহ।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৫ পিএম

ঢাকার গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে আটক ২৭৮ জনের মধ্যে ২৪৯ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বাকি ২৯ জনের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। আগের দিন জাসদের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ জনকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল পুলিশ।


রোববার দুপুর দেড়টার দিকে এ তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) সাকিবুল আলম ভূঁইয়া।


তিনি বলেন, “আমরা জাসদের নেতাদের কাছ থেকে কাগজপত্র (নেতা-কর্মীদের তালিকা) নিয়েছি। সেসব দেখে যাচাই-বাছাই করে পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় ২৪৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


“পুলিশের হেফাজতে আরও ২৯ জন আছেন। তাদেরও পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। পরিচয় শনাক্ত হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”


তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।


জাসদ কার্যালয়ে শনিবার দুপুরের পর অভিযান চালিয়ে সেখানে থাকা লোকজনকে আটক করে পল্টন থানা পুলিশ। একের পর এক প্রিজন ভ্যান এনে কার্যালয়ের ভেতর থেকে লোকজনকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। জাসদ কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়েছেন তথ্যে এমন অভিযান চালানোর কথা বলেছিল পুলিশ।


উপকমিশনার হারুন অর রশিদ বলেছিলেন, “আমাদের কাছে একটি তথ্য ছিল, জাসদ এবং তাদের সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে নাশকতা করার উদ্দেশ্যে অথবা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে এখানে জড়ো হয়েছিলেন।


“তো এ সংবাদ পেয়ে আমাদের পুলিশ প্রাথমিক ব্যবস্থাগুলো নিয়েছে। স্থানীয় ছাত্র-জনতা পুলিশকে সহায়তা করেছে।”


আটকদের মধ্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক নেতা আবু জাফর সূর্য ছিলে। প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর রোববার ভোর ৫টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।


ঘটনার বিষয়ে আবু জাফর সূর্য বলেন, তিনি একসময় জাসদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। শনিবার জাসদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা থাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুরনো রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলেন বলে ভাষ্য তার।


আবু জাফর সূর্য বলেন, “সভা চলছিল। তখন হঠাৎ নিচতলার প্রধান ফটকে হট্টগোল ও স্লোগানের শব্দ শুনে নিচে নামি। পুলিশকে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দিই। এরপরও পুলিশ আমাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আটক করে। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও বিষয়টি আমলে নেয়নি এবং দীর্ঘ সময় থানায় আটকে রাখে। পরে কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর ভোর ৫টার দিকে আমাকে মুক্তি দেওয়া হয়।”


পুলিশ ও বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শুরুতে পুলিশের আচরণ ‘অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও’ পরে তাদের ভূমিকার পরিবর্তন হয়। যুবদলের স্থানীয় নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে সেখানে ‘মব’ তৈরি করে হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তবে এ বিষয়ে যুবদলের ওই নেতার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


জাসদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করে এবং লিখিত অনুমতি নিয়েই প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়েছিল।


পুলিশের কাছে জাসদ কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার তথ্য রয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন উপকমিশনার হারুন অর রশিদ। পাশাপাশি সেখানে অন্য কোনো কর্মকাণ্ড হয়েছে কি না এবং কেন তারা একত্রিত হয়েছিলেন, তা যাচাই করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন।


উপকমিশনার তখন বলেছিলেন, যাচাই-বাছাই করে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না, তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।


অভিযানের সময় ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেছিলেন, কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং ভেতরে একটি সভা চলার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে গিয়ে অনেককে নিয়ে যাচ্ছে।


এর আগে অভিযান শুরুর সময় পল্টন থানার এসআই নাজমুল হোসেন জানিয়েছিলেন, জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে অন্তত ৪০০ লোক ছিলেন।


অন্যদিকে জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের দাবি ছিল, সারাদেশ থেকে আসা প্রায় সাড়ে তিনশ নেতাকে নিয়ে প্রতিনিধি সভা চলার সময় দুপুর আড়াইটার দিকে বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে হামলা চালান।


তিনি বলেছিলেন, “প্রতিনিধি সভায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। আমরা অফিসে অবরুদ্ধ আছি। পুলিশ আসছে, হয়তো অ্যারেস্ট করবে।”


জাসদের এই নেতার দাবি অনুযায়ী, পরে পুলিশ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে জাসদের নেতা-কর্মীদের আটক শুরু করে।


তবে বিএনপি ও যুবদলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জাসদ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নকে সেখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ‘গোপন বৈঠক’ করছেন বলে বলতে দেখা যায়।


জাসদের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়, সেখানে দলটির প্রতিনিধি সভা চলছিল এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সেখানে থাকার প্রশ্নই আসে না।

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৮ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৮ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৮ পিএম

ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েমের বিজয়কে একসময় ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী শক্তির এক অনন্য বিজয় হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিলেন পরিচিত ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। তবে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নেতৃত্বে আয়োজিত বিভিন্ন ছাত্রকল্যাণমূলক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে নারীদের পোশাক এবং খেলাধুলা সংক্রান্ত কিছু বিষয় সামনে আসায় তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ ও ঝাঁজালো স্ট্যাটাস দিয়ে ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমকে সতর্ক করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এই ইসলামি বক্তা।


ফেসবুক পোস্টে রফিকুল ইসলাম মাদানী সবিস্তারে উল্লেখ করেন, জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ বা ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদের মতো ছাত্রনেতাদের জয়লাভের খবর পেয়ে তিনি গভীর রাতেও সজাগ থেকে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন। ক্যাম্পাসে সিট বাণিজ্য চিরতরে বন্ধ করা, মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ, বৃষ্টির দিনে ছাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে ভেনগাড়ির ব্যবস্থা কিংবা গরমের দিনে সুপেয় পানির সুব্যবস্থার মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলোকে তিনি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও সাধুবাদ জানানোর যোগ্য বলে মনে করেন। তবে তার মূল প্রশ্ন হলো—একজন মুসলমান হিসেবে আমরা কি কেবল পার্থিব সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়নমূলক কাজের মাপকাঠিতে নেতৃত্বকে সমর্থন করতে পারি? দুনিয়ার সকল চাকচিক্য ও সুবিধার চেয়েও আল্লাহর বিধান ও ইসলামের মূল আদর্শ কি আমাদের কাছে সর্বাগ্রে হওয়া উচিত নয়?


বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নারীদের শর্ট প্যান্ট ও টাইট ফিটিং জার্সি পরিধান করে বাস্কেটবল খেলার আয়োজন এবং প্রকাশ্যে তা উদযাপনের তীব্র সমালোচনা করে মাদানী স্পষ্টভাবে জানান, বিষয়টি কেবল খেলাধুলার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এর মাধ্যমে ইসলামি অনুশাসন ও শালীনতাকে গৌণ করে তোলার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন দেখেন সাদিক কায়েম দেশের শীর্ষস্থানীয় ও জনপ্রিয় আলেম যেমন শায়েখ আহমদুল্লাহ, শায়েখ মিজানুর রহমান আজহারী, শায়েখ মামুনুল হক ও আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহর মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে নিয়মিত মঞ্চ ভাগ করছেন এবং জামায়াতে ইসলামীর আমিরের মতো শীর্ষ নেতাদের সমর্থন লাভ করছেন, তখন সরলমনা শিক্ষার্থীরা মনে করতে পারেন যে এসকল বিতর্কিত কর্মকাণ্ডও বোধ হয় শরিয়তসম্মত। বিশেষ করে ছাত্রী সংস্থার বা মহিলা শাখার মারজিয়া মমতাজের মতো দায়িত্বশীলদের টকশোতে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করে তিনি শীর্ষ আলেমদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা এই স্পর্শকাতর বিষয়ে নিজেদের স্পষ্ট অবস্থান ও দিকনির্দেশনা জাতির সামনে তুলে ধরেন।


সাদিক কায়েমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে রফিকুল ইসলাম মাদানী আরও জোরালো ভাষায় বলেন, কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেখিয়ে কোনো রাজনৈতিক শক্তির বৈধতা অর্জন করা যায় না। ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারও দেশের ইতিহাসে অসংখ্য বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল, কিন্তু জনগণের মৌলিক অধিকার ও ইসলামের মৌলিক আদর্শের বিপরীতে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাদের করুণ পরিণতি হয়েছে। পশ্চিমা বা মার্কিন শক্তির কাছে নিজেদের প্রগতিশীল ও আধুনিক হিসেবে প্রমাণ করার জেদে যদি ইসলামের মৌলিক বিধিবিধানগুলোকে গৌণ করে ফেলা হয়, তবে সেই ক্ষমতার কোনো নৈতিক ভিত্তি থাকতে পারে না। এমন পন্থায় কাকতালীয়ভাবে কোনো ক্ষমতা অর্জিত হলেও তা ইসলামের পক্ষে কল্যাণকর হবে না এবং ভবিষ্যতে সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধেও স্পষ্ট ও আপসহীন অবস্থান বজায় রাখা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এই ইসলামি বক্তা।

দেশে সরকারের ‘অস্তিত্ব’ আছে কিনা- প্রশ্ন নাহিদের

মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৪ এএম

রাজধানীর মিরপুরে একটি এনজিওর স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি 'ভেঙে পড়ার' অভিযোগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরকারের 'অস্তিত্ব' নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, দিনের পর দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন ভয়াবহ অবনতি ঘটলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা গোটা জাতির জন্য লজ্জার।


জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা নাহিদ শনিবার এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এক ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, ৫০ বছর ধরে প্রসূতি মা ও শিশুদের সেবা এবং টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা রাড্ডা এমসিএইচএফপি সেন্টার মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা ভঙ্গুর, তার ভয়াবহ নিদর্শন।


তিনি লেখেন, "রাতভর প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ও নির্বিকার ভূমিকা গভীর উদ্বেগের। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।"


স্থানীয়দের অভিযোগের বরাতে নাহিদ লেখেন, "এই ভাঙচুর ও দখলদারির পেছনে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এবং মহানগর উত্তর বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ইন্ধন রয়েছে।"


বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার নামের একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। হামলাকারীরা জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’ এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে চলে যান।


প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, হামলার সময় তাদের অফিসের সামগ্রীসহ টিকাদানের প্রচুর সামগ্রী লুটপাট হয়েছে।


এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এনসিপি আহ্বায়ক অভিযোগ করে বলেন, "এমনকি খোদ রাজধানীর বুকে চর দখলের মতো একটি হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দিয়ে দখল করে নেওয়ার ঘটনায় দেশে আদৌ কোনো সরকারের অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিয়েই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।"


তিনি বলেন, "আমাদের সুস্পষ্ট দাবি, রাড্ডা এমসিএইচএফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।"


এ ঘটনার সরেজমিন খোঁজ খবর নিতে রোববার সকালে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল মিরপুরে ঘটনাস্থলে যাবে। তারা সেখানে সংবাদ সম্মেলন করবে বলে শনিবার মধ্যরাতে এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষার সাংবাদিকদের জানান।


এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় শাহ আলী থানায় একটি মামলা করেন রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ ২০০/২৫০ জনকে আসামি করা হয়।


এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।


শামা ওবায়েদকে হেনস্তার চেষ্টা

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৩ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে না পেরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদকে নিউইয়র্কে হেনস্তার চেষ্টা করেছেন তারই দলের কিছু নেতাকর্মী। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতের এই ঘটনার সময় তার ছেলে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।


এই ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছেন কয়েকজন প্রবাসী বাঙালি। পেছনে কেউ একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মারতে বলছেন। পাশ থেকে ছেলে এগিয়ে আসলে তার ওপরও চড়াও হন প্রবাসে থাকা এই নেতাকর্মীরা।


ঘটনার সময় শামা ওবায়েদ হোটেলটির লিফটে ছিলেন। বাইরে একই লিফটে উঠতে যাচ্ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। 


পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ছেলে এগিয়ে এসে বলেন, ‘আমার মা এইটা।’ এ সময় প্রতিমন্ত্রীর ছেলেকে কেউ একজন ধাক্কা দেন।


ঘটনার শেষ দিকে এক নারীও একই ধরনের আচরণ করেন। তিনি শামা ওবায়েদের ছেলেকে পেছন থেকে ধাক্কা দিতে থাকেন।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে এবার তৈরি হয়েছিল বিপুল উদ্দীপনা। সেজন্য দলীয় প্রধানকে একনজর দেখার আকুলতা আর শুভেচ্ছা জানাতে অনেকেই ছুটে এসেছিলেন নিউইয়র্কে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীর চোখ ছিল হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতের লবিতে।


তবে আকুলতা আর দীর্ঘ প্রতীক্ষা-সবই রূপ নেয় চরম ক্ষোভ আর হতাশায়। শেষ মুহূর্তে চরম বিশৃঙ্খলা ও আয়োজকদের অব্যবস্থাপনার কারণে মাত্র হাতেগোনা ও শীর্ষ কয়েকজন সাক্ষাৎ পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মীই প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাননি।


ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত নেতাকর্মী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বহু প্রতীক্ষিত এই সাক্ষাতের অন্তিমে বিমর্ষতা আর ক্ষোভের ছায়াই ফুটে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির তৃণমূলের চোখে-মুখে। দীর্ঘ বিশ বছর পর নিউইয়র্কে এসেও দলীয় প্রধানকে না দেখার আক্ষেপ নিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে নেতাকর্মীদের।