জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৪ এএম

রাজধানীর মিরপুরে একটি এনজিওর স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি 'ভেঙে পড়ার' অভিযোগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরকারের 'অস্তিত্ব' নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, দিনের পর দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন ভয়াবহ অবনতি ঘটলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা গোটা জাতির জন্য লজ্জার।


জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা নাহিদ শনিবার এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এক ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, ৫০ বছর ধরে প্রসূতি মা ও শিশুদের সেবা এবং টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা রাড্ডা এমসিএইচএফপি সেন্টার মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা ভঙ্গুর, তার ভয়াবহ নিদর্শন।


তিনি লেখেন, "রাতভর প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ও নির্বিকার ভূমিকা গভীর উদ্বেগের। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।"


স্থানীয়দের অভিযোগের বরাতে নাহিদ লেখেন, "এই ভাঙচুর ও দখলদারির পেছনে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এবং মহানগর উত্তর বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ইন্ধন রয়েছে।"


বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার নামের একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। হামলাকারীরা জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’ এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে চলে যান।


প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, হামলার সময় তাদের অফিসের সামগ্রীসহ টিকাদানের প্রচুর সামগ্রী লুটপাট হয়েছে।


এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এনসিপি আহ্বায়ক অভিযোগ করে বলেন, "এমনকি খোদ রাজধানীর বুকে চর দখলের মতো একটি হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দিয়ে দখল করে নেওয়ার ঘটনায় দেশে আদৌ কোনো সরকারের অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিয়েই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।"


তিনি বলেন, "আমাদের সুস্পষ্ট দাবি, রাড্ডা এমসিএইচএফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।"


এ ঘটনার সরেজমিন খোঁজ খবর নিতে রোববার সকালে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল মিরপুরে ঘটনাস্থলে যাবে। তারা সেখানে সংবাদ সম্মেলন করবে বলে শনিবার মধ্যরাতে এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষার সাংবাদিকদের জানান।


এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় শাহ আলী থানায় একটি মামলা করেন রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ ২০০/২৫০ জনকে আসামি করা হয়।


এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।



সর্বশেষ সব খবর

ডা. শফিকুর রহমান ও সালমান মুক্তাদির

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫০ পিএম

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


ফেসবুক পোস্টে তিনি একটি ভিডিও আপলোড করেন। সেখানে দেখা যায় সালমান মুক্তাদির তার স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের বর্ণনা দিচ্ছেন।


ভিডিওর ক্যাপশনে জামায়াত আমির লিখেন, ‘গভীর রাতে জুলাইযোদ্ধা ও সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের বাসা ও স্টুডিওতে চাঁদাবাজদের হানা, ভাঙচুর, লুটতরাজ ও তাণ্ডব।’


তিনি চাঁদাবাজদের উদ্দেশে বলেন, ‘মাঝে মাঝে মধু আহরণকারী চাঁদাবাজরা মৌচাক মনে করে ভিমরুলের চাকেও ঢিল ছুড়ে দেয়। তখন সেই ঢিল বুমেরাং হয়ে তাদের দিকেই ফিরে আসে।’


শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘কর্তৃত্বশালীরা নিজেদের চাঁদাবাজদের কী সামলাবেন? একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। হ্যাঁ, এর শেষ হবে একদিন, ইনশাআল্লাহ।’

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৫ পিএম

ঢাকার গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে আটক ২৭৮ জনের মধ্যে ২৪৯ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বাকি ২৯ জনের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। আগের দিন জাসদের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ জনকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল পুলিশ।


রোববার দুপুর দেড়টার দিকে এ তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) সাকিবুল আলম ভূঁইয়া।


তিনি বলেন, “আমরা জাসদের নেতাদের কাছ থেকে কাগজপত্র (নেতা-কর্মীদের তালিকা) নিয়েছি। সেসব দেখে যাচাই-বাছাই করে পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় ২৪৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


“পুলিশের হেফাজতে আরও ২৯ জন আছেন। তাদেরও পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। পরিচয় শনাক্ত হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”


তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।


জাসদ কার্যালয়ে শনিবার দুপুরের পর অভিযান চালিয়ে সেখানে থাকা লোকজনকে আটক করে পল্টন থানা পুলিশ। একের পর এক প্রিজন ভ্যান এনে কার্যালয়ের ভেতর থেকে লোকজনকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। জাসদ কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়েছেন তথ্যে এমন অভিযান চালানোর কথা বলেছিল পুলিশ।


উপকমিশনার হারুন অর রশিদ বলেছিলেন, “আমাদের কাছে একটি তথ্য ছিল, জাসদ এবং তাদের সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে নাশকতা করার উদ্দেশ্যে অথবা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে এখানে জড়ো হয়েছিলেন।


“তো এ সংবাদ পেয়ে আমাদের পুলিশ প্রাথমিক ব্যবস্থাগুলো নিয়েছে। স্থানীয় ছাত্র-জনতা পুলিশকে সহায়তা করেছে।”


আটকদের মধ্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক নেতা আবু জাফর সূর্য ছিলে। প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর রোববার ভোর ৫টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।


ঘটনার বিষয়ে আবু জাফর সূর্য বলেন, তিনি একসময় জাসদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। শনিবার জাসদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা থাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুরনো রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলেন বলে ভাষ্য তার।


আবু জাফর সূর্য বলেন, “সভা চলছিল। তখন হঠাৎ নিচতলার প্রধান ফটকে হট্টগোল ও স্লোগানের শব্দ শুনে নিচে নামি। পুলিশকে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দিই। এরপরও পুলিশ আমাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আটক করে। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও বিষয়টি আমলে নেয়নি এবং দীর্ঘ সময় থানায় আটকে রাখে। পরে কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর ভোর ৫টার দিকে আমাকে মুক্তি দেওয়া হয়।”


পুলিশ ও বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শুরুতে পুলিশের আচরণ ‘অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও’ পরে তাদের ভূমিকার পরিবর্তন হয়। যুবদলের স্থানীয় নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে সেখানে ‘মব’ তৈরি করে হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তবে এ বিষয়ে যুবদলের ওই নেতার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


জাসদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করে এবং লিখিত অনুমতি নিয়েই প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়েছিল।


পুলিশের কাছে জাসদ কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার তথ্য রয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন উপকমিশনার হারুন অর রশিদ। পাশাপাশি সেখানে অন্য কোনো কর্মকাণ্ড হয়েছে কি না এবং কেন তারা একত্রিত হয়েছিলেন, তা যাচাই করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন।


উপকমিশনার তখন বলেছিলেন, যাচাই-বাছাই করে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না, তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।


অভিযানের সময় ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেছিলেন, কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং ভেতরে একটি সভা চলার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে গিয়ে অনেককে নিয়ে যাচ্ছে।


এর আগে অভিযান শুরুর সময় পল্টন থানার এসআই নাজমুল হোসেন জানিয়েছিলেন, জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে অন্তত ৪০০ লোক ছিলেন।


অন্যদিকে জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের দাবি ছিল, সারাদেশ থেকে আসা প্রায় সাড়ে তিনশ নেতাকে নিয়ে প্রতিনিধি সভা চলার সময় দুপুর আড়াইটার দিকে বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে হামলা চালান।


তিনি বলেছিলেন, “প্রতিনিধি সভায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। আমরা অফিসে অবরুদ্ধ আছি। পুলিশ আসছে, হয়তো অ্যারেস্ট করবে।”


জাসদের এই নেতার দাবি অনুযায়ী, পরে পুলিশ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে জাসদের নেতা-কর্মীদের আটক শুরু করে।


তবে বিএনপি ও যুবদলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জাসদ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নকে সেখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ‘গোপন বৈঠক’ করছেন বলে বলতে দেখা যায়।


জাসদের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়, সেখানে দলটির প্রতিনিধি সভা চলছিল এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সেখানে থাকার প্রশ্নই আসে না।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৮ পিএম

ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েমের বিজয়কে একসময় ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী শক্তির এক অনন্য বিজয় হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিলেন পরিচিত ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। তবে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নেতৃত্বে আয়োজিত বিভিন্ন ছাত্রকল্যাণমূলক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে নারীদের পোশাক এবং খেলাধুলা সংক্রান্ত কিছু বিষয় সামনে আসায় তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ ও ঝাঁজালো স্ট্যাটাস দিয়ে ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমকে সতর্ক করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এই ইসলামি বক্তা।


ফেসবুক পোস্টে রফিকুল ইসলাম মাদানী সবিস্তারে উল্লেখ করেন, জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ বা ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদের মতো ছাত্রনেতাদের জয়লাভের খবর পেয়ে তিনি গভীর রাতেও সজাগ থেকে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন। ক্যাম্পাসে সিট বাণিজ্য চিরতরে বন্ধ করা, মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ, বৃষ্টির দিনে ছাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে ভেনগাড়ির ব্যবস্থা কিংবা গরমের দিনে সুপেয় পানির সুব্যবস্থার মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলোকে তিনি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও সাধুবাদ জানানোর যোগ্য বলে মনে করেন। তবে তার মূল প্রশ্ন হলো—একজন মুসলমান হিসেবে আমরা কি কেবল পার্থিব সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়নমূলক কাজের মাপকাঠিতে নেতৃত্বকে সমর্থন করতে পারি? দুনিয়ার সকল চাকচিক্য ও সুবিধার চেয়েও আল্লাহর বিধান ও ইসলামের মূল আদর্শ কি আমাদের কাছে সর্বাগ্রে হওয়া উচিত নয়?


বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নারীদের শর্ট প্যান্ট ও টাইট ফিটিং জার্সি পরিধান করে বাস্কেটবল খেলার আয়োজন এবং প্রকাশ্যে তা উদযাপনের তীব্র সমালোচনা করে মাদানী স্পষ্টভাবে জানান, বিষয়টি কেবল খেলাধুলার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এর মাধ্যমে ইসলামি অনুশাসন ও শালীনতাকে গৌণ করে তোলার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন দেখেন সাদিক কায়েম দেশের শীর্ষস্থানীয় ও জনপ্রিয় আলেম যেমন শায়েখ আহমদুল্লাহ, শায়েখ মিজানুর রহমান আজহারী, শায়েখ মামুনুল হক ও আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহর মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে নিয়মিত মঞ্চ ভাগ করছেন এবং জামায়াতে ইসলামীর আমিরের মতো শীর্ষ নেতাদের সমর্থন লাভ করছেন, তখন সরলমনা শিক্ষার্থীরা মনে করতে পারেন যে এসকল বিতর্কিত কর্মকাণ্ডও বোধ হয় শরিয়তসম্মত। বিশেষ করে ছাত্রী সংস্থার বা মহিলা শাখার মারজিয়া মমতাজের মতো দায়িত্বশীলদের টকশোতে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করে তিনি শীর্ষ আলেমদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা এই স্পর্শকাতর বিষয়ে নিজেদের স্পষ্ট অবস্থান ও দিকনির্দেশনা জাতির সামনে তুলে ধরেন।


সাদিক কায়েমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে রফিকুল ইসলাম মাদানী আরও জোরালো ভাষায় বলেন, কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেখিয়ে কোনো রাজনৈতিক শক্তির বৈধতা অর্জন করা যায় না। ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারও দেশের ইতিহাসে অসংখ্য বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল, কিন্তু জনগণের মৌলিক অধিকার ও ইসলামের মৌলিক আদর্শের বিপরীতে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাদের করুণ পরিণতি হয়েছে। পশ্চিমা বা মার্কিন শক্তির কাছে নিজেদের প্রগতিশীল ও আধুনিক হিসেবে প্রমাণ করার জেদে যদি ইসলামের মৌলিক বিধিবিধানগুলোকে গৌণ করে ফেলা হয়, তবে সেই ক্ষমতার কোনো নৈতিক ভিত্তি থাকতে পারে না। এমন পন্থায় কাকতালীয়ভাবে কোনো ক্ষমতা অর্জিত হলেও তা ইসলামের পক্ষে কল্যাণকর হবে না এবং ভবিষ্যতে সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধেও স্পষ্ট ও আপসহীন অবস্থান বজায় রাখা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এই ইসলামি বক্তা।

সর্বশেষ সব খবর

শামা ওবায়েদকে হেনস্তার চেষ্টা

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৩ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে না পেরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদকে নিউইয়র্কে হেনস্তার চেষ্টা করেছেন তারই দলের কিছু নেতাকর্মী। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতের এই ঘটনার সময় তার ছেলে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।


এই ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছেন কয়েকজন প্রবাসী বাঙালি। পেছনে কেউ একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মারতে বলছেন। পাশ থেকে ছেলে এগিয়ে আসলে তার ওপরও চড়াও হন প্রবাসে থাকা এই নেতাকর্মীরা।


ঘটনার সময় শামা ওবায়েদ হোটেলটির লিফটে ছিলেন। বাইরে একই লিফটে উঠতে যাচ্ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। 


পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ছেলে এগিয়ে এসে বলেন, ‘আমার মা এইটা।’ এ সময় প্রতিমন্ত্রীর ছেলেকে কেউ একজন ধাক্কা দেন।


ঘটনার শেষ দিকে এক নারীও একই ধরনের আচরণ করেন। তিনি শামা ওবায়েদের ছেলেকে পেছন থেকে ধাক্কা দিতে থাকেন।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে এবার তৈরি হয়েছিল বিপুল উদ্দীপনা। সেজন্য দলীয় প্রধানকে একনজর দেখার আকুলতা আর শুভেচ্ছা জানাতে অনেকেই ছুটে এসেছিলেন নিউইয়র্কে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীর চোখ ছিল হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতের লবিতে।


তবে আকুলতা আর দীর্ঘ প্রতীক্ষা-সবই রূপ নেয় চরম ক্ষোভ আর হতাশায়। শেষ মুহূর্তে চরম বিশৃঙ্খলা ও আয়োজকদের অব্যবস্থাপনার কারণে মাত্র হাতেগোনা ও শীর্ষ কয়েকজন সাক্ষাৎ পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মীই প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাননি।


ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত নেতাকর্মী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বহু প্রতীক্ষিত এই সাক্ষাতের অন্তিমে বিমর্ষতা আর ক্ষোভের ছায়াই ফুটে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির তৃণমূলের চোখে-মুখে। দীর্ঘ বিশ বছর পর নিউইয়র্কে এসেও দলীয় প্রধানকে না দেখার আক্ষেপ নিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে নেতাকর্মীদের।

সর্বশেষ সব খবর

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতনের বর্ণনা দেন গাজী সালাউদ্দিন তানভীর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৪ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের পর গত ৫ আগস্ট সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন। মুক্ত হওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেছেন জেলে ও রিমান্ডে তাঁকে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়েছে।


তানভীরের ভাষ্য, ‘আমার শরীরে অসংখ্য ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। এসব কিসের ইনজেকশন, তা আমি জানি না। অন্তত ৭০–৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে আমাকে। সারাক্ষণ জ্বর থাকত আর তারা আমাকে ইনজেকশন দিত।’


আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতনের বর্ণনা দেন গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। সেখানে তাঁর হাতে স্যালাইন লাগানো ছিল। তাঁর ‘শারীরিক অবস্থা ও তাঁর ওপর হওয়া বর্বর নির্যাতনসহ সার্বিক বিষয়ে’ এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সেখানে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সচিবালয়ে প্রবেশ করে জেলা প্রশাসক নিয়োগে হস্তক্ষেপ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই ছাপার কাজে কমিশন–বাণিজ্যে জড়ানোর অভিযোগ উঠলে আলোচিত হন গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। সমালোচনার মুখে ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাঁকে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এক বছর তিনি দলের বাইরে ছিলেন। তবে পরে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় গত ১৬ এপ্রিল সালাউদ্দিনকে আবার দলে নেওয়া হয়।


দলে ফেরার সাড়ে তিন মাসের মাথায় গত ৩১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে একটি আপত্তিকর পোস্ট দেন সালাউদ্দিন তানভীর। সেদিন রাতে তাঁকে এনসিপি থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সাময়িক অব্যাহতি ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। অবশ্য এনসিপির ফেসবুক পেজে সাময়িক অব্যাহতির সেই চিঠি প্রকাশের কাছাকাছি সময়ে সালাউদ্দিন তানভীরও নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তাঁর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। এর পাঁচ দিনের মাথায় ৫ আগস্ট ঢাকার পূর্ব মণিপুর এলাকা থেকে তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।


আজ ডিআরইউতে সংবাদ সম্মেলনে গাজী সালাউদ্দিন তানভীর বলেন, ‘৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলে এবং রিমান্ডে আমাকে চরম নির্যাতন করা হয়েছে এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে নির্যাতনের কথা বাইরে বললে আমার পরিবারের সদস্যদের গুম করে ফেলা হবে। এরপরও আপনাদের সামনে সত্যটা তুলে ধরতে এসেছি, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না, সত্য সবার সামনে তুলে ধরতে চাই। বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারের মধ্যে খুনি ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলের কালো ছায়া আগের মতোই হুবহু রয়ে গেছে, জেলে গিয়ে তার প্রমাণ আমি পেয়েছি। জীবনের ঝুঁকি রয়েছে জেনেও আমি এসব জাতির সামনে তুলে ধরতে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি।’


গাজী সালাউদ্দিন তানভীর অভিযোগ করেন, ২ আগস্ট সাইবার সুরক্ষা আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। বগুড়া সদর থানা বিএনপির সভাপতি এইচ এস মাফুতুন আহমেদ খান এই মামলার বাদী। ৫ আগস্ট তাঁকে গ্রেপ্তার করে বগুড়ায় কারাগারের এমন একটি সেলে নেওয়া হয়, যেটি চরম অপরিচ্ছন্ন এবং আলো–বাতাসহীন। বিদ্যুৎ ছিল না, পাখাও ছিল না।


কারারক্ষীরাও আওয়ামী লীগের দাবি করে এনসিপির এই নেতা বলেন, তাদের বেশির ভাগই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের এবং তারা তাঁকে জুলাই জঙ্গি বলে গালিগালাজ করত। আশপাশের কয়েদিরাও সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগের আসামি। তারাও যা–তা বলে সম্বোধন করত।


গাজী সালাউদ্দিন তানভীর বলেন, ‘৫ আগস্ট যেদিন প্রথম জেলে নেওয়া হলো, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবসে সবাইকে ভালো খাবার দেওয়া হলো, কিন্তু আমাকে দুই দিনের পচা খাবার দেওয়া হলো। কারাগারে এমন পচা–বাসি খাবারদাবার দেওয়া হতো, যা খাওয়ার অযোগ্য। একপর্যায়ে আমার ডায়রিয়া হয়ে যায়। চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় আমাকে। সেখানে যে ওষুধ লিখেছেন ডাক্তার, সেটা আমাকে দেওয়া হয়নি। খুলে দেওয়া অজানা ওষুধ আমাকে খেতে হয়েছে। আমার শরীরে অসংখ্য ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। এসব কিসের ইনজেকশন, তা আমি জানি না। অন্তত ৭০–৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে আমাকে। সারাক্ষণ জ্বর থাকত আর তারা আমাকে ইনজেকশন দিত।’


একদিন হাত–পা কাঁপার কারণে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নষ্ট এমআরআই মেশিনে তাঁকে ঢোকানো হয়েছিল উল্লেখ করে তানভীর বলেন, ‘আমি ওটার ভেতরে থাকা অবস্থায় বিকট আওয়াজ হয়ে সেটি বন্ধ হয়ে গেল। আমার কোমর থেকে পা পর্যন্ত প্যারালাইজড হয়ে গেল। আমি ১০–১২ ঘণ্টা অজ্ঞান ছিলাম। পরে দেখি শহীদ জিয়া মেডিকেলের প্রিজন সেলে এবং আমার শরীরে প্রস্রাব-পায়খানা। একজন কোনো রকমে পরিষ্কার করে দিল।’


এরপর উন্নত চিকিৎসার কথা বলে তাঁকে ঢাকায় আনা হয় বলে জানান গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। রাখা হয় কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য তাঁকে একদিন শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে ডাক্তার দেখিয়ে জেলে নেওয়ার সময় গাড়িতে হঠাৎ সাদাপোশাকে কয়েকজন লোক উঠে আসে। তারা আমাকে নির্যাতন করে। তাদের মধ্যে একজন আমাকে বলে, ‘‘বসুন্ধরার মালিককে তুইতোকারি করেছিলি, এত বড় সাহস তোর।” বসুন্ধরার মালিক আহমেদ আকবর সোবহান এবং তাঁর ছেলে আনভীরের নাম বলে আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে। এই মাফিয়া গোষ্ঠীর হাত এতটাই লম্বা তারা কারাবন্দী একজনকে এভাবে নির্যাতন করতে পারে। এদের কি কোনো বিচার হবে না—জাতির কাছে আমার প্রশ্ন।’ ওই ঘটনার পর কারাগারেও একটি অন্ধকার কক্ষে নিয়ে তাঁকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেন তানভীর।


এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আবু সাঈদ লিয়ন, কেন্দ্রীয় মিডিয়া উপকমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত, এনসিপির চিকিৎসক সংগঠন ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব আবদুল আহাদ প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ সব খবর

মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় দলটির আমির শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ পিএম

সংসদ নির্বাচনের পরে বিরোধীদলীয় নেতা সাক্ষাৎকার কেন দেন না, মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকেরা সেটি জানতে চান। তখন আমির বলেন, ‘ইন্টারভিউতে যা বলি, ফটোকার্ডে তা আসে না। মিসলিড করা হয়। কাটপিচ, লেজ নাই, মাথা নাই, মাঝখান থেকে পেট ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এটার মাধ্যমে মানুষ কনফিউজড হয়।...যদি আমরা এ নিশ্চয়তা পাই যে এগুলো হবে না, তাহলে আমরা কথা ইনশা আল্লাহ বলব।’


আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিট সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।


নির্বাচনের পরে এখন পর্যন্ত সরকারি খরচে বিদেশ সফরে যাননি উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, তিনি সরকারি খরচে হাত দিতে চান না। মাসিক যে ভাতা পান, তা–ও অন্য খাতে দিয়ে দেন, নিজে নেন না।


নিজের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি বাসা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, সেখানে বিভিন্ন কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, সংগঠন ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। তবে এখানে তিনি থাকেন না বলে জানান।


পে স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি কোনো কোনো মহল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর চিন্তা করছে বলে উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এটা অন্যায় সিদ্ধান্ত হবে। জামায়াত এটা চায় না। টাকা রোজগার করতে বিরোধী দল সংসদে যায়নি। সরকার এ ধরনের উদ্যোগ নিতে চাইলে বিরোধী দল তাতে বাধা দেবে।


আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিট সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।


শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে জামায়াতে ইসলামী সরকারি প্লট না নেওয়া এবং শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। সেটি তাঁরা নেননি। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরাও নির্বাচিত হওয়ার পর একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে সংসদে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তও হয়েছে, কোনো এমপি এই সুবিধা নেবেন না।


রাজধানী ঢাকায় যানবাহনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সরকারি দলের নেতা ও সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনেছেন। এই অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ‘এখন বলা হচ্ছে, ট্রেনে আগুন, বাসে আগুন, ককটেল ফোটানো এটা বিরোধী দল, এটা জামায়াতের লোকেরা, এটা এনসিপির লোকেরা করেছে। জামায়াত কেন এটা করতে যাবে? সে কি নিজে নিজের কর্মসূচি বানচাল করতে চাইবে? বরঞ্চ যদি আমাদের কর্মসূচিটাই বানচাল করার জন্য কেউ এ ধরনের প্যানিক সিচুয়েশন তৈরি করে থাকে, এই দায় তাদের।’


জামায়াতের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বক্তব্য ও নোটিশকে সরকার গুরুত্ব না দেওয়ায় বিরোধী দল রাজপথের আন্দোলনে নেমেছে বলে জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার বিরোধী দলের ভালো পরামর্শগুলো গ্রহণ না করলে তাদের কিছু করার নেই। এ ক্ষেত্রে তারা চাইলে ফাইল ছুড়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বের হয়ে যেতে পারেন। তবে তাঁরা এসব করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চান না। তাঁরা মনে করেন এতে সমস্যার সমাধান হবে না।


কোটি কোটি টাকা মানুষের পকেট থেকে যাবে

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, প্রতিদিন লাখ লাখ লিটার তেল ব্যবহার হয়। মূল্যবৃদ্ধির কারণে নতুন করে কোটি কোটি টাকা মানুষের পকেট থেকে যাবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে উদাহরণ দেওয়া হচ্ছে, আশপাশের দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সে দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থার মতো কি না, সে প্রশ্ন রেখে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘যদি আমাদের অর্থনীতির সামঞ্জস্যতা ওই দেশের অর্থনীতির সঙ্গে না থাকে, তাহলে শুধু জ্বালানি নিয়ে ওখানে তুলনা করবেন?’


বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে তিন দফায় জ্বালানি তেলের (ডিজেল দুবার, পেট্রল ও অকটেন তিনবার) দাম বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, দাম বাড়িয়ে বলা হয় সহনীয় মাত্রায় বাড়ানো হয়েছে। যিনি দাম বাড়িয়েছেন তাঁর জন্য এটি সহনীয় হতে পারে, কিন্তু বাইকচালক, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে।


মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ, আবদুল হালিম, রফিকুল ইসলাম খান, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), মোবারক হোসাইন, মতিউর রহমান আকন্দ, শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রমুখ।

সর্বশেষ সব খবর