আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দিলে ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলকে আলাদা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির প্রতিবাদে সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ দেওয়া বক্তব্য্যে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ ভারতের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, “যারা আমার দেশের সার্বভৌমত্ব, ভোটাধিকার, মানবাধিকার, বাংলাদেশের সন্তানদের বিশ্বাস করে না, তাদেরই আশ্রয়, ট্রেনিং দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে উস্কে দিচ্ছেন; আমরাও বলে দিচ্ছি, আপনাদের থেকে যারা স্বাধীনতা চায় তাদেরও আশ্রয় দিয়ে সেই সেভেন সিস্টার্সকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেব।”
এসময় তিনি বলেন, “যারা এখনো দিল্লির তাবেদারি করছে, তাদের বলছি- আপনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা তৃতীয় স্বাধীনতা অর্জন করবো।”
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উদ্দেশ করে হাসানাত বলেন, “আমাদের সমাজে এখনো কিছু মানুষ আছে, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে নীল দলের যে শিক্ষকরা আছে; তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দিতে হবে।”
রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যারা শহীদ মিনারে অংশগ্রহণ করে নাই; তাদের বলছি- ক্ষমতার লোভে অন্ধ হইয়েন না। আর যারা এসেছেন, তারা এখানে এসে একটা বক্তব্য দিয়ে আবার সিট নিয়ে নেগোসিয়েশন করবেন- এভাবে জাতীয় ঐক্য হবে না।”
তিনি বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলার চেষ্টা কোনো বিচ্ছিন্ন বা স্থানীয় ঘটনা নয়। আগামীর বাংলাদেশে যদি কারও বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সহিংসতা চালানো হয়, তবে সেই বিদ্রোহের আগুন শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।
নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে এনসিপির এই নেতা বলেন, “আপনার-আমার মৃত্যু এই নির্বাচন কমিশনের কাছে কেবল একটি সংখ্যা। এই মেরুদণ্ডহীন প্রধান নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যেন এমন ঘটনা ঘটে, তার অপেক্ষায় আছি আমরা। এক ইলেকশন কমিশনার গেলে হাজারটা ইলেকশন কমিশনার পাওয়া যাবে। কিন্তু আমাদের ভাই হাদি চলে গেলে আর কোনো হাদিকে পাওয়া যাবে না।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভারত বাংলাদেশকে একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করছে। এ ধরনের অপচেষ্টা কখনোই সফল হতে দেওয়া হবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কেউই নির্ধারিত সময়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে তফসিল অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ। বৃহস্পতিবার এই দুজনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
আজ মঙ্গলবার বিকেল চারটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। নির্ধারিত সময় শেষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, দুজন প্রার্থীর কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। এ সময় তিনি ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়ার বিষয় তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ ভোট হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এরপর মাঝে সাতজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থী হিসেবে। বিরোধী দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে এবার ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে ভোটার হচ্ছেন সংসদ সদস্যরা। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত। অন্যদিকে জামায়াত জোটের সংসদ সদস্য ৯০ জন।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে এই ভোট গ্রহণ হবে। আজই নির্বাচনের ব্যালট পেপার তৈরি করা হবে। ভোট গ্রহণের দিন শুরুতে নির্বাচন কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের (ভোটার) ভোট গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে জানাবেন।
ইসি সচিব আরও বলেন, ব্যালট পেপারের দুটো অংশ—একটা মুড়ি অংশ, আরেকটা ব্যালট পেপার অংশ। মুড়ি অংশে থাকে তিনটা তথ্য। এগুলো হচ্ছে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম এবং তার বিভক্তি নম্বর। সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন। ডান পাশের অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী সাজানো থাকবে। নামের ডান পাশে খালি (স্পেস) জায়গায় সংসদ সদস্যরা তাঁদের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপর নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে তাঁরা ব্যালট পেপার জমা দেবেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে।
ইসি সচিব জানান, ৫টার পর ব্যালট গণনা করা হবে। ব্যালটের রং হবে সাদার ওপর কালো প্রিন্ট।
সংরক্ষিত নারীসহ সংসদে ভোট আসন বা সদস্যসংখ্যা ৩৫০। বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্যপদ বাতিল করেছেন আদালত। ফলে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। ভোট গ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই গণনা করা হবে। পরে সেখানে ফলাফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। পরে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ শূন্য হবে। ফলে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া নিশ্চিত। তবু দুজন প্রার্থী থাকায় তফসিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট ভোট গ্রহণ করা হবে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দলের স্থায়ী কমিটির চার সদস্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পাওয়া নতুন চার সদস্য।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম (ডোনার) ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুর ইসলাম রনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চার নেতার সাক্ষাতের সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে স্থায়ী কমিটির এই চার সদস্য শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পাস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন।
গত ১৫ আগস্ট বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই চারজনকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেন।
দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন চার নেতাকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। বিএনপি আশা প্রকাশ করেছে, চার নেতা তাদের মেধা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে সুচিন্তিত পরামর্শ দিয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখবেন।
বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। ওই কাউন্সিলের পর জাতীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পরে সদস্যদের মৃত্যু ও পদত্যাগসহ বিভিন্ন কারণে কমিটির কয়েকটি পদ শূন্য হয়। বিভিন্ন সময়ে এসব পদে নতুন সদস্য যুক্ত করেছে দলটি। এবার একসঙ্গে চারজনকে স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করা হলো।
১৯ সদস্যবিশিষ্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে আগে থেকে ১৩ জন সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন- তারেক রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করবেন।
নতুন চার সদস্য যুক্ত হওয়ায় এখন স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।
সলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। ফাইল ফোটো।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তিতে সরকারের প্রতি ছয়টি পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।
পরামর্শগুলো হলো, জুলাই সনদ ও জুলাই গণভোট বাস্তবায়ন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, গণহারে দলীয়করণ না করা, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা এবং পাচার করা টাকা উদ্ধারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব পরামর্শ দেন তিনি।
বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও এই সরকার দেশের ৫৫ বছরের গতানুগতিক কোনো নির্বাচন বা সরকার নয়; বরং স্বাধীনতার ৫৪ বছরে রাষ্ট্রের পরতে পরতে জমা জঞ্জাল দূর করার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় জন্ম নেওয়া একটি গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিয়ে এই সরকার গঠিত হয়েছে। পরিবর্তন ও প্রত্যাশার সেই রক্তস্নাত পটভূমি বিবেচনায় নিলে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে। কষ্টের বিষয় হলো, আশার আলো ক্রমেই ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের পর দায়িত্ব নেওয়া একটি সরকারের মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস হয়তো যথেষ্ট সময় নয়, কিন্তু ছয় মাস সময় হিসেবে কমও নয়। সরকারের মেয়াদের এক-দশমাংশ সময় এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে। এই সময়ে অনেক ক্ষেত্রে সফলতা হয়তো দেখা যাবে না, তবে সূচনা ও পদ্ধতি দেখা যায়। সেই বিবেচনায় বিশেষ করে সংস্কারের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জাতির মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।
চরমোনাই পীর বলেন, জুলাই সনদের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটকে কার্যত বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রকে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা থেকে রক্ষা করার জন্য জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন করে যে আইন আনা হয়েছে, তাতে আগের সমস্যার কোনো সমাধান নেই। এগুলো জুলাইয়ে মাঠে নেমে আসা অরাজনৈতিক ছাত্র-জনতার প্রত্যাশার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, জনপ্রত্যাশাকে উপেক্ষা করার পরিণতি ভালো হয় না। আজকেই হয়তো মানুষ মাঠে নামবে না; কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি তারা আস্থা হারিয়ে ফেলবে।
তবে সরকারের কিছু উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা প্রশংসার যোগ্য। বিশেষ করে সরকারপ্রধানের দৃশ্যমান আচরণ ও ব্যতিব্যস্ততা ভালো কিছুর ইঙ্গিত দেয়। সরকারের অন্যদের কাছ থেকেও একই রকম ভূমিকা আশা করেন তারা।
সরকারের প্রতি দেওয়া ছয় পরামর্শের বিষয়ে চরমোনাই পীর বলেন, জুলাই সনদ ও জুলাই গণভোট বাস্তবায়ন করুন। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরুন। নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানোর ব্যবস্থা করুন। গণহারে দলীয়করণ করবেন না। ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনুন। পাচার করা টাকা উদ্ধারে অগ্রগতি দৃশ্যমান করুন।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই এই সরকার সফল হোক।’
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ছবিঃ সংগৃহীত
ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, অতীতে বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক নেতাকর্মী ও তাদের পরিবার পুনর্বাসন ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তবে বর্তমান সরকার এই বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সবার পুনর্বাসন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘কিছু বঞ্চিত পরিবার রয়েছে যাদেরকে অতীতে বিএনপির দলীয় পরিচয়ের কারণে যথাযথ পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হয়নি। আমরা সেসব বিষয় পর্যালোচনা করছি। আমাদের কাছে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় আসবে না। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে এবং শহীদ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে, তাদের প্রাপ্য সম্মান তাদের দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের তালিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেকে বাদ পড়েছেন। তাদের যাচাই-বাছাই করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কাউকে রাজনৈতিক বিবেচনায় বাদ দেওয়া হবে না।’
প্রধানমন্ত্রী জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ইশরাক বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা, তাদের পুনর্বাসন, পরিবার-পরিজনের শিক্ষাসহায়তা এবং বিভিন্ন ভাতার বিষয়ে তিনি হালনাগাদ তথ্য জানতে চেয়েছেন।’
জুলাই ফাউন্ডেশন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অতীতে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেছিল। সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে আমরা তার নির্দেশনা গ্রহণ করেছি।’
প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ছবি : সংগৃহীত
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের সঙ্গে বিএনপি যুক্ত ছিল এবং দলটি সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবে। তবে জুলাই আদেশ নিয়ে বিএনপির কিছু মতপার্থক্য রয়েছে, যা নির্বাচনের আগেই দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
বুধবার (২০ মে) রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। ওই শিক্ষার্থীদের স্মরণে কলেজের সামনে বা মূল সড়কে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। জুলাইয়ের স্মৃতি ও আন্দোলনের কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কলেজটি একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও বিগত ১৭ বছরে অবহেলার শিকার হয়েছে। তিনি কলেজ ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তুলে ধরে বলেন, কোথাও ফাটল বা ক্ষতি হওয়ায় অস্থায়ী পিলার বসাতে হয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, শ্রেণিকক্ষের ঘাটতি ও আধুনিক বিজ্ঞানাগারের অভাবের বিষয়টি আমার জানা আছে। এ সমস্যাগুলো সমাধানে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে কলেজ পরিদর্শনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
কলেজের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে কলেজটিকে আরও উন্নত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ সময় তিনি ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকার পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরের ‘জঞ্জাল’ একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদক, কিশোর গ্যাং ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইশরাক বলেন, যেকোনো অপকর্ম প্রতিরোধে ছাত্রসংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে তাদেরও জবাবদিহির মধ্যে আনা হবে।
অনুষ্ঠানে কলেজের জন্য একটি প্রজেক্টর দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এ বিষয়ে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে যৌথভাবে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান।
কলেজের শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাজেটসহ মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে লিখিতভাবে তুলে ধরতে। ঈদের ছুটির পর শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে কলেজসহ আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সরকার গঠনের ৯২ দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সে কারণে অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডক্টর খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমিন, অফিসার্স কাউন্সিলের সম্পাদক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অনন্যা সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দরা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানি নীতির কারণে দেশে বিদ্যুৎ নিয়ে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার স্যার জগদীশ জেসি বোস ইনস্টিটিউশন অ্যান্ড কলেজ এবং বিক্রমপুর ভূঁইয়া মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘জ্বালানি খাতকে ফ্যাসিবাদমুক্ত এবং সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে আনতে বর্তমান সরকার দক্ষতার সঙ্গে সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। আগামী সংসদে এসব নীতিমালা উপস্থাপন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদলের ১৪৮ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। অথচ বর্তমানে আন্দোলনের নামে যারা নানা ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন, তাদের কেউ কেউ এখন জ্বালানি ইস্যু নিয়েও আন্দোলন করতে চাইছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারাই এখন নিজেদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে দাবি করছেন-এমন বক্তব্য হাস্যকর।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু।
শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জসিম মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহামুদ হাসান ফাহাদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।