জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২২ এএম

প্রশাসন সংস্কার ও মেধাভিত্তিক পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে বাড়ছে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য, ওএসডি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি দেওয়া এবং মেধাবী কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করার অভিযোগের পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ঘটনা ঘটছে। এতে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। 


স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রায়হান কাওছারকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয় গত ২৫ মার্চ। পরে তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়। 


বিএনপি সরকারের গত সাড়ে পাঁচ মাসে নানা কারণে ১১ জন সচিবকে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়েছে। পদোন্নতি পেলেও তাদের কোথাও কাজে লাগাতে পারছে না সরকার।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব করা হয় ১৭৯ জনকে। তাদের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও রয়েছেন। কিন্তু ২৪ ও ২৫ ব্যাচে মেধা তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চার কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়নি। 


২৪ ব্যাচের দুই কর্মকর্তা দুই দফায় বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যান্য ক্যাডার কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিবে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হযেছে। মেধা তালিকা মানা হয়নি। আন্তঃক্যাডার কর্মকর্তাদের বৈষম্য আরও বেড়েছে। 


আগের চেয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএনপির নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।


শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব পদ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত হওয়া কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ১৭ বছর কোনো পদোন্নতি পাইনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সচিব হিসেবে পদোন্নতির পর কেন জনপ্রশাসনে সংযুক্ত হলাম- কিছুই বুঝতে পারছি না।’ 


সাবেক সচিব, জনপ্রশাসন সংস্কার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারে মেধাভিত্তিক জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে। বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এটা অনেক ভালো দিক। কিন্তু এই সংস্কারে আমলাতন্ত্রই প্রধান বাধা। কারণ তারা নতুন কিছু চায় না।


তিনি বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমলাদের আন্তরিকতার সঙ্গে ফাইল উপস্থাপন করতে হবে। এর পর মন্ত্রী-এমপিরা সিদ্ধান্ত দেবেন। কিন্তু আমলারা সংস্কারের সেই প্রস্তাব উপস্থাপনই করেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেসব সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ ছিল, সেগুলোর মধ্যে অনেক প্রস্তাব তারা বাদ দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনকে পরিবর্তন করতে হলে সরকারপ্রধানকে সরাসরি তদারক ও সমন্বয় করতে হবে।   


সংস্কারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নেই


জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশে মেধাভিত্তিক নিয়োগ-পদোন্নতি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর কথা বলা হয়েছিল। একই ধরনের অঙ্গীকার রয়েছে জুলাই ঘোষণাপত্র, ৩১ দফা এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও। কিন্তু প্রশাসনের বর্তমান চিত্রে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, কেবল সরকার পরিবর্তন করলেই প্রশাসনের চরিত্র বদলায় না। পদোন্নতি, পদায়ন, মূল্যায়ন ও জবাবদিহির কাঠামোয় মৌলিক সংস্কার ছাড়া একই ধরনের সংকট বারবার ফিরে আসবে।


বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ: মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হয়, সেটাও নিশ্চিত করা হবে। 


এদিকে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের কম সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশের অগ্রগতি নেই। জনপ্রশাসন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ; সরকারি কর্মচারীর জন্য নতুন আচরণবিধি প্রণয়ন; সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় হলফনামায় সই করার মতো সুপারিশের বাস্তবায়ন নেই। 


দণ্ডপ্রাপ্তরা পেলেন পদোন্নতি


আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সমন্বয়ক মুহম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আন্তঃক্যাডার বৈষম্য কমেনি বরং আরও বেড়েছে। কারণ শিক্ষা ক্যাডারের বদলি নীতিমালা-২০২৬ এ প্রশাসন ক্যাডারের ক্ষমতা বেড়েছে। আঞ্চলিক পর্যায়ে এডিসি শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলির ক্ষমতায় যুক্ত করা হয়েছে। 


মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরেও শিক্ষা ক্যাডারের বদলিতে প্রশাসন ক্যাডারের হস্তক্ষেপ রয়েছে। যুগ্ম সচিবের পদোন্নতির তালিকায় থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত উপসচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। ডেমরার সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকাকালে অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তাঁকে তিন বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করলেও তাঁর দণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল।


সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মো. শাহীনুর ইসলামকে বালুমহাল কেলেংকারিতে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) থাকাকালে তিস্তা নদীর বালুমহালের ইজারা গ্রহীতার চেক ব্যাংকে জমা না দিয়ে অর্থপ্রাপ্তির ভুয়া চুক্তি করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে এক বছরের জন্য বেতন গ্রেডের সর্বনিম্ন ধাপে অবনমিতকরণের দণ্ড দেওয়া হয়। তিনিও পদোন্নতি পেয়েছেন। 


স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের উপসচিব মুহাম্মদ মকবুল হোসেনকে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে দুর্নীতির দায়ে শাস্তি দেওয়া হয়। রংপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে কর্মরত থাকাকালে নির্মাণকাজে দুর্নীতি ও অসদাচরণের দায়ে তাঁকে দুই বছরের জন্য দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার দণ্ড দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল তাঁর এ দণ্ড বাতিল করেন। তিনিও আছেন পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে।


কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে


প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি, মেধাভিত্তিক প্রশাসন গঠন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত জনপ্রশাসনের অঙ্গীকার- এসব প্রত্যাশা নিয়ে প্রশাসনে পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন কর্মকর্তারা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পদোন্নতি, পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আগের সরকারের সময়কার বিতর্কিত ধারা বহুলাংশে বহাল রয়ে গেছে।  


মেধা ও কর্মদক্ষতার বদলে নানা বিবেচনায় পদোন্নতির অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। এতে যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ আবারও বঞ্চিত। অনেকে দ্বিতীয় দফায় ওএসডি হয়েছেন।


অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা বা বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তার যুগ্ম সচিবে পদোন্নতি প্রশাসনের ভেতরে নতুন অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং মাঠ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসনের সংস্কার নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, বাস্তবে তার প্রতিফলন খুবই সীমিত। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।


চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাড়ছে 


একদিকে নিয়মিত পদোন্নতি ও পদায়নে জটিলতা, অন্যদিকে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে শুধু সচিব পদে ২২ জন কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। এতে অপেক্ষমাণ কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। 


নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, অবসরোত্তর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ব্যতিক্রম হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মে পরিণত হচ্ছে।


এসএসবির কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে


পদোন্নতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কমিটি সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বোর্ডের কার্যক্রম যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়। মূল্যায়নের সুস্পষ্ট মানদণ্ড প্রকাশ না হওয়ায় পদোন্নতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিবে পদোন্নতি দেওয়ার পর তা বাতিল করা হয়।


প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, মেধা, জ্যেষ্ঠতা, কর্মদক্ষতা, সততা ও পেশাগত সাফল্যের ভিত্তিতে মূল্যায়নের পরিবর্তে অন্য বিবেচনা প্রাধান্য পাচ্ছে- এমন ধারণা প্রশাসনের ভেতরে জোরালো হচ্ছে। বাড়ছে বঞ্চনাবোধ।




বিমানবন্দরে ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২১ এএম

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক-কে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


ভুটানের রাজাকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করে। বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন। এসময় রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। জবাবে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।


ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি শুভকামনা জ্ঞাপন করেন।


আলাপকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি বলেন, ভুটান সবসময় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে। কারণ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ভুটান।


বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতা, রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও শুভ কামনাও রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।


দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে ভুটানের রাজা শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।


ভুটানের রাজা তার দূরদর্শী ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং এ উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।


সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভুটানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩৪ এএম

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।


তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তাঁর আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।


পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি মানবজাতির হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।’


পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১)। মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন। তাঁর জীবনাচরণে আমরা যেমন আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্যের শিক্ষা পাই, তেমনি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার অপূর্ব প্রকাশ দেখতে পাই।


মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।


তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। এমন এক সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ হতে পারে এক অনন্য প্রেরণার উৎস। তাঁর আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।’


তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তাঁর আদর্শকে আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার চেতনাকে আরো সুদৃঢ় করুক। বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হোক-এই পবিত্র দিনে এটাই আমার আন্তরিক প্রার্থনা।’


পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে তিনি দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।


দেশে সারের সংকট নেই

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

দেশে সারের কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‌'কৃষকদের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত সার আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। ফলে সামনে সারের কোনো ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।' আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুদামে মোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে মজুত ছিল প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার মজুত বেড়েছে। তবে দেশের কোথাও কোথাও সার বিতরণে অনিয়মের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


তিনি বলেন, সার বিতরণে কিছুটা অনিয়ম রয়েছে। কৃষক ও জনগণের স্বার্থে সরকার বিতরণব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। নতুন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে কোথাও কোথাও কিছুটা অস্থিরতা ও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।


তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কোনো কোনো ডিলার তাঁদের বরাদ্দের সার উত্তোলন করছেন না। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে সরকার আশা করছে, এ সমস্যা বেশি দূর গড়াবে না।


গ্যাস পরিস্থিতি


সংবাদ সম্মেলনে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্যাসের ক্ষেত্রে একটি ভালো অবস্থানে যেতে সরকারের প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এ সময়ের মধ্যে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হবে। বরং ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।


বিদিশা এরশাদ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩২ পিএম

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন বলেন, ২০০৮ সালের একটি প্রতারণা মামলায় তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। ওই মামলার বিচারে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আদালত পরোয়ানা জারি করেন। সেই পরোয়ানামূলে আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান-২ নম্বর সেকশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কাল বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।


সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৬ পিএম

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য চীনের তৈরি যুদ্ধবিমান জে-১০সি কেনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। 


আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সমসাময়িক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।


উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মডেলের চতুর্থ প্রজন্মের এমআরসিএ ফাইটার এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার ও ইউএভি সিস্টেম-এগুলো কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই অর্থবছরে বাজেট পাওয়া গেলে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী বাজেটে চলে যাবে।


উপদেষ্টা বলেন, এমআরসিএ (জে-১০ সিই) এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে নেগোসিয়েশন মিটিংয়ের খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।


চীনের তৈরি জে-১০ সিই ফাইটারের সক্ষমতার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘সাম্প্রতিক একটা রিয়েল এক্সপেরিয়েন্স আছে কমব্যাট সিচুয়েশনে। ভারত-পাকিস্তানে যখন যুদ্ধ হচ্ছে, ভারতের রাফাল ডাউন হয়েছিল, সেটা করেছিল চায়নিজ জে-১০। এই তথ্য এখন প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং চায়নার তৈরি একটা মাল্টিরোল ফাইটার, এখন রাফালকে বলা হয় ৪.৫ জেনারেশনের সবচেয়ে আধুনিক ফাইটারগুলোর একটা। তার সঙ্গে কমব্যাট সিচুয়েশনে খুবই ভালো করেছে। সো, বাংলাদেশ সেদিকে মনোযোগ দিয়েছে এবং আশা করা যায় আমরা এই পথে খুব ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।’


জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘একটা কথা বলে রাখা ভালো, সিমিলার কোয়ালিটির রাফাল বলি বা ইউরো ফাইটার টাইফুন বলি, ইউরোপিয়ান ভেরিয়েন্টের-তার তুলনায় চায়নিজ ফাইটারগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম। আশা করি, আমাদের সরকার জনগণের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সব রকমের পদক্ষেপ নেবে।’


এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, এমআরসিএ (জে-১০ সিই) এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংক্রান্ত কমিটি ‘নেগোসিয়েশন বৈঠকের’ মাধ্যমে খসড়া চুক্তিপত্র তৈরি করেছে। সেটা অনুমোদনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:১৭ পিএম

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় থাকা ১১৭টি ওষুধের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশের উৎপাদন বন্ধ রেখেছে কোম্পানিগুলো। ওষুধ শিল্প সমিতি বলছে মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিনিময় হার, শ্রমিকের মজুরি, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে এসবের উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। 


গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির (বাপি) কার্যালয়ে ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সমিতির নেতারা এসব কথা বলেন। উৎপাদন বন্ধ থাকায় এসব ওষুধের পরিবর্তে রোগীদের তুলনামূলক বেশি দামের বিকল্প ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসায় ব্যয় বাড়ছে।


বাপির নেতারা বলেন, বর্তমানে ১৯৯৪ সালের প্রাইসিং কাঠামোর ভিত্তিতে ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। গত ৩২ বছরে মাত্র দুবার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তবে বছরে গড়ে ৮ শতাংশ হারে মূল্য সমন্বয়ের কথা ছিল। এই সময়ে মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিনিময় হার, শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম সমন্বয়ের ব্যবস্থা থাকা দরকার।


তারা আরও বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদে ওষুধ শিল্প মালিকদের কোনো আপত্তি নেই। তবে তালিকা তৈরিতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া এবং ওষুধের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছ, টেকসই ও নিয়মিত সমন্বয়যোগ্য নীতি প্রণয়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি ব্যয়ের চাপ দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকলে ওষুধের দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।


সমিতির সাবেক মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন বলেন, ওষুধ শিল্পকে শুধু মূল্য নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে তাদের কোনো বিরোধিতা নেই। তবে যোগ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে তালিকাটি নিয়মিত হালনাগাদ এবং ওষুধের দাম নির্ধারণে সঠিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন।


প্রয়োজনীয় ওষুধ সুলভ মূল্যে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে ডা. জাকির হোসেন বলেন, সরকার চাইলে ভর্তুকি বা সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে কম দামে ওষুধ সরবরাহ করতে পারে। তবে বেসরকারি উৎপাদনকারীদের কোনো ধরনের ভর্তুকি ছাড়া দীর্ঘদিন কম দামে ওষুধ উৎপাদনের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।


রাষ্ট্রায়ত্ত এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি তুলনা করাও ঠিক নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইডিসিএলের নির্দিষ্ট সরকারি ক্রয়াদেশ ও নিশ্চিত বাজার রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বিপণন ব্যয়ের চাপও তাদের নেই। সরকার চাইলে ইডিসিএলের মাধ্যমে ওষুধ উৎপাদন করে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের বিনা মূল্যে বা কম দামে দিতে পারে।


বাপির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ১৯৯৪ সালের ওষুধ নীতি দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছে। সেই সময় ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে উৎপাদনের জন্য ১৯টি ওষুধ নিবন্ধন করা হয়নি। ফলে ৯৮টি ওষুধের প্রাপ্যতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা হয়। তিনি বলেন, বর্তমানে এসব ওষুধের উৎপাদন খরচ উঠে আসে না। তাই দাম সমন্বয় না হওয়ায় প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। 


গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটেও ওষুধের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে বলে জানান বাপির মহাসচিব মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান। তিনি বলেন, কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। কারখানাগুলোকে জেনারেটর, বড় ইউপিএস ও বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।


তিনি বলেন, ওষুধের উৎপাদন প্রক্রিয়া একবার শুরু হলে তা মাঝপথে বন্ধ করা যায় না। বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কারখানাগুলোতে জেনারেটর ও বড় ইউপিএসের ব্যাকআপ রাখতে হয়। গ্যাসের সংকটে জেনারেটর চালাতেও ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে জানিয়ে হালিমুজ্জামান বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের ডিজেল মজুতের সক্ষমতাও পর্যাপ্ত নয়। মজুত শেষ হয়ে গেলে দ্রুত ডিজেল সংগ্রহ করতে হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যায়।