রাহিদ খান পাভেল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে কয়েক দফায় মেরে পুলিশের হাতে সোর্পদ করার অভিযোগ উঠেছে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
সোমবার ভোর রাতে সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হাসিবুল ইসলাম, একই বর্ষের দর্শন বিভাগের সর্দার নাদিম মাহমুদ শুভ, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত সবাই একই বর্ষের শিক্ষার্থী। সর্দার নাদিম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন। পরবর্তী তিনি গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদে যুক্ত হয়েছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, বুয়েট ক্যান্টিনে সেহরিরখেতে গিয়ে ছাত্রলীগ পুনর্বাসন, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের ইন্ধনে ইফতার পার্টি এবং সম্প্রতি ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার নিয়ে পাভেলকে ডেকে তার সঙ্গে তর্কে জড়ান হাসিব আল ইসলামসহ নেতা-কর্মীরা। এরপর এটি হাতাহাতিতে জড়ায় এবং পরবর্তী পাভেলকে বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এনে কয়েক দফা পিটিয়ে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। পরে সেখান থেকে পুলিশ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এব্যাপারে ভুক্তভোগী পাভেল বলেন, “আমি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহেরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারও খাচ্ছিল। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেছে।
“আমার দোষ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হোক–আমি তাদেরও বলেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি।”
পাভেল বলেন, “তারা সেখান থেকে মেরে পরে পলাশীতে এনে আবার মারে। আবার সেখান থেকে আমাকে বাইকে করে ভিসি চত্বরে নিয়ে এসে কয়েকজন মিলে কিল-ঘুষি মারে। পরে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে শাহবাগ থানায় ফেলে দিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ আটক করে।
“তারা আমাকে ছাত্রলীগ বলে পেটায়। আমি কখনো কোন সংগঠনে ছিলাম না। আমার কোনো পদ নেই।”
মারার পর তারা মোবাইল, মানিব্যাগ ও বাইকের চাবি নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন পাভেল।
ঘটনাটি তুলে ধরে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী অদিতি ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলের ওপর হামলার বিচার চাই। হামলাকারীদের এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য শাস্তির দাবি জানাই।’
তিনি আর বলেন, ‘‘হামলায় জড়িতদের মধ্যে চিহ্নিত তিনজন হলো- সরদার নাদিম মাহমুদ শুভ, হাসিব আল ইসলাম, সাইফুল্লাহ। এরা প্রত্যেকে ছাত্রশক্তির সঙ্গে যুক্ত এবং হামলাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য ‘কতিপয় সাধারণ শিক্ষার্থী’ তকমা ব্যবহার করছে। ক্যাম্পাসে এই উঠতি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন, এদের রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে প্রতিহত করুন।’’
ঘটনার পর ফেসবুকে সাইফুল্লাহ লেখেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল্লাহ বলেন, বুয়েটে সেহরি খেতে গেলে পাভেলকে দেখে হাসিব ডাক দেয়। এসময় ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের ইস্যু ইত্যাদি নিয়ে তারা তর্কে জড়ায়। পরে পাভেল কাকে যেন ফোন দেয়। এরপর হাসিব ও শুভর সঙ্গে হাতাহাতি হয় আর তাকে বের করে নিয়ে যায়। আমি তখনও বুয়েট ক্যান্টিনেই ছিলাম। পরে বের হয়ে শাহবাগ থানায় গিয়ে দেখি মারধর করা হয়েছে। ছাত্রলীগ ইস্যু থাকায় আমি তখন ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলাম। তবে পাভেল এমনিতে আমার খুবই ভালো বন্ধু।
ঘটনার বিষয়ে জানতে হাসিব আল ইসলাম ও সরদার নাদিম শুভকে একাধিকবার ব্যক্তিগত নাম্বার ও হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করা হয়। তবে তারা কল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে ঘটনার পর সর্দার নাদিম শুভর ফেসবুক আইডি বন্ধ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলামকে ফোন করলেও তারা ধরেননি।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, “আজকে সেহরির সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাকে (পাভেল) পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। এখন সে আমাদের হেফাজতে আছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ, এজন্য ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে আগে সুস্থ হোক, তারপর আমরা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।”
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চাইলে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমি এ ঘটনা জানার পর সেই ছেলেকে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দিতে শাহবাগ থানাকে রিকোয়েস্ট করেছি। আমরা তার খোঁজ খবর রাখছি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।”
পুরান ঢাকার বাদামতলী মার্কেট সংলগ্ন সকল অবৈধ পার্কিং ও অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ আনিছুর রহমান বাদামতলী এলাকার অবৈধ স্থাপনা ও পার্কিং সমস্যা নিরসনে ডিএসসিসি প্রশাসকের কাছে সহায়তা চান। বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের অবৈধ পার্কিং ও স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন।
ডিএসসিসি প্রশাসকের এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) বলেন, "সরকারি কোনো দপ্তর থেকে এমন দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত পাওয়া সত্যিই প্রেরণাদায়ক। মাননীয় প্রশাসকের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে আমরা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে পারব এবং বাদামতলী এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন করা সম্ভব হবে।"
বাবুবাজার ব্রিজের পার্কিং স্থগিত:
এদিকে, একটি জাতীয় দৈনিকে বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি ডিএসসিসির নজরে এসেছে। এর প্রেক্ষিতে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুবাজার ব্রিজের নিচে নবনির্মিত কার পার্কিংয়ের 'এ' থেকে 'ডি' পর্যন্ত ৪টি ব্লকের ২৮,০৫১.১২ বর্গফুট খোলা জায়গায় পরিচালিত চলমান কার পার্কিংয়ের সকল কার্যক্রম পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, "সিটি কর্পোরেশন জনগণের সেবার জন্য। সুতরাং নাগরিকদের ভোগান্তি সৃষ্টি হয় বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কাজ সিটি কর্পোরেশন নিজে করবে না এবং অন্য কাউকেও করতে দেওয়া হবে না।"
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অধিবেশন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি। আজ বুধবার রাত ১২টা থেকে অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সোমবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকে অনুষ্ঠেয় অধিবেশন যাতে নির্বিঘ্নে চলে তা নিশ্চিতে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং যেকোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকবে।
যেসব এলাকায় নিষেধাজ্ঞা
নিষেধাজ্ঞার আওতার মধ্যে পড়েছে ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত; বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত; পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত। এ ছাড়া মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি ১৬ (পুরনো ২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন নবম ডিভিশন (উত্তরা জাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত, জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এসব সীমানার মধ্যে থাকা সব রাস্তা ও গলিপথ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।
জাহিদুল ইসলাম ও আল মামুন শিপলু
বরগুনা জেলা কল্যাণ ফোরামের ১১ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজধানীর আদাবরে টোকিও স্কয়ার কনভেনশন সেন্টারে এক সভায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কমিটিতে আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলামকে সভাপতি এবং বেতাগীর ব্যবসায়ী মো. আল মামুন শিপলুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া জি এম জাফর আহমেদ সহসভাপতি, আজীম রিপন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আসাদুজ্জামান জুয়েল কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন। পাশাপাশি আরও ছয়জনকে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় বরগুনার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও জেলার মানুষের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। ফোরামের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে অসহায় মানুষের চিকিৎসা ও শিক্ষায় সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং দুর্যোগের সময় জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান।
সংগঠনের নেতারা জানান, দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে বরগুনার মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ফোরামের মূল লক্ষ্য।
রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে উত্তরা আজমপুর কাঁচাবাজার ও বিসমিল্লাহ পল্লী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পল্লবী থানায় কর্মরত এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম (৪৩) এবং মো. ওয়াসিম (২৪)। সোমবার (২৪ আগস্ট) দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার হোসেন তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক কেনাবেচার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে প্রথমে আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ওয়াসিমকে আটক করা হয় এবং তার দেহ তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবাসহ এএসআই শফিকুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।
পরবর্তীতে তাদের দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজমপুর কাঁচাবাজারের বিসমিল্লাহ পল্লীর ৬৭ নম্বর নূর বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে যৌথ তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে আরও ৫ হাজার ১১০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
দক্ষিণখান থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহিনুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার দুজন ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও দু-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দক্ষিণখান ও এর আশপাশের এলাকায় তারা খুচরা বিক্রি করতেন।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক জানান, এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম পল্লবী থানায় অনিয়মিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তার গ্রেপ্তারের খবর তারা পেয়েছেন।
ঢাকার সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর আরও ৫০টি ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টে এআই ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে ঢাকার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সেমি-অটোমেটেড ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়েছে। এসব সিগন্যালের কয়েকটিতে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা যুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হচ্ছে।
চালকদের মধ্যেও এআই ক্যামেরা নিয়ে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। তাদের কেউ কেউ বলছেন, সিগন্যাল অমান্য করলে এআইয়ের মাধ্যমে মামলা হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এখন চালকরা আগের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকছেন।
ডিএমপির একজন কর্মকর্তা বলেন, মানুষকে দীর্ঘদিনের অনিয়ম থেকে বের করে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
তবে এআই সিগন্যাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিটনেসবিহীন ও নিয়মবহির্ভূত যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যত্রতত্র পথচারী পারাপার ও ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রযুক্তিটির কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা পরিচালনায় অতিরিক্ত লোকবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গড়ে তোলার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ ইউনিটকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সেকশন ব্রিজ সংলগ্ন আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে পরিচ্ছনতা অভিযান
রাজধানীর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের হারানো নাব্যতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দূররানী খাল ও সংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন। শুক্রবার সেকশন ব্রিজ সংলগ্ন আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল থেকে ময়লার ভাগাড় অপসারণ করে এর পূর্বের রূপ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় চ্যানেলটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর আগে বিডি ক্লিনের সদস্যসহ উপস্থিত অংশীজনদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এবং ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।
ঢাকার প্রাচীন জলধারাগুলোর অন্যতম আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার। এর প্রায় ১ হাজার ফুট অংশ দূরানী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। দীর্ঘদিন দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে চ্যানেলটির বিভিন্ন অংশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। এতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব ও জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়ে।
জানা গেছে, ১৯৯০ সালে ঢাকা শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে ঢাকা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর পরবর্তী সময়ে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হতে থাকে। বিভিন্ন অংশে দখল ও বর্জ্য জমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে চ্যানেলটির সংশ্লিষ্ট অংশ দখলমুক্ত করা হয়।
বর্তমানে চ্যানেলটিকে পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব জলাধারে রূপ দিতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে চ্যানেল ও সংলগ্ন এলাকার জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে চ্যানেল ও খালে বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চ্যানেলের দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। জনসাধারণের চলাচল ও অবসর সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করতে নির্মাণ করা হবে ওয়াকওয়ে। ফলে একদিকে জলধারাটির পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরবে, অন্যদিকে এলাকাটি একটি নান্দনিক ও জনবান্ধব স্থানে পরিণত হবে।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খাল ও নদীগুলোকে ময়লা-আবর্জনামুক্ত রাখা অপরিহার্য। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের এই যৌথ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি, এ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এর সুফল ভোগ করবেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চ্যানেল পরিষ্কার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এটি পুনরায় দখল ও দূষণের শিকার না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এ উদ্যোগে সহযোগিতা করে চ্যানেল ও খালে বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিচ্ছন্নতা, নাব্যতা পুনরুদ্ধার, সৌন্দর্যবর্ধন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলটি তার হারানো প্রাণ ফিরে পাবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট থেকে স্বস্তি মিলবে স্থানীয় বাসিন্দাদের।