ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে ঢাকা যানজট নিরসন কমিটি
ঢাকা শহরে যারা বসবাস করেন তাদের কাছেই খুবই পরিচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যানজট। তবে এবার যানজট নিরসনে ১১টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে ঢাকা যানজট নিরসন কমিটি নামের একটি বেসরকারি সংগঠন। রোববার (১২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাবনা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা যানজট নিরসন কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরেন ঢাকা যানজট নিরসন কমিটির সভাপতি ইছহাক দুলাল।
তিনি বলেন, ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২৩০-২৫০ মিলিয়নে পৌঁছবে এবং এ জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি বড় অংশ ঘটবে শহরাঞ্চলে। এখনই যানজট হ্রাসে উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। ঢাকায় ২০০৭-২০০৮ সালে গাড়ির গড় গতিবেগ ছিল ২১ কি.মি. যা বর্তমানে ৪.৫ হতে ৭ কি.মি. প্রতি ঘণ্টায়।
সিপিডির এক জরিপ বলছে, ঢাকার যাত্রীদের প্রতি দুই ঘণ্টায় ৪৬ মিনিট যানজটে আটকে থাকতে হয়, যা বছরে জনপ্রতি প্রায় ২৭৬ ঘণ্টার সমান। এই অচলাবস্থার কারণে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা, যার আর্থিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আমরা ইতোপূর্বে ২০১০ সালে ও ২০২৪ সালে এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যালোচনামূলক গবেষণা করে নিম্নোক্ত প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেছি। যার কিছু ইতোমধ্যেই বাস্তবায়নের পর্যায়ে আছে এবং বাকিগুলোর বাস্তবতা উপলব্ধি করে সরকারের কাছে তুলে ধরার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
যানজট নিরসন কমিটির ১১টি প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে—
১. খাল সংস্কার: ঢাকা শহরের চারদিকে যে খাল আছে সেগুলো সংস্কার করে স্পিডবোট, ওয়াটার বাস, ছোট ছোট লঞ্চ চালু করা।
২. ট্রাম রোড: ঢাকা শহরের চারপাশে নদী ঘেঁষে একটি ট্রাম রোড (মিনি রেলপথ) স্থাপন করা।
৩. রিং রোড: মিনি রেলপথ ঘেঁষে একটি রিং রোড তৈরি করা।
৪. বাস স্ট্যান্ড স্থানান্তর: সায়দাবাদ বাস স্ট্যান্ডকে কাঁচপুরে স্থানান্তর করা। মহাখালী বাস স্ট্যান্ডকে টঙ্গীতে স্থানান্তর করা, বাবুবাজার বাস স্ট্যান্ড বর্তমানে পরিচিত কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা। গাবতলী বাস স্ট্যান্ড গাবতলীতে থাকবে।
৫. কমলাপুর থেকে বাইপাস বেসলাইন টঙ্গীর সঙ্গে সংযুক্ত অথবা উড়াল সেতু নির্মাণ করা: কমলাপুর থেকে বাইপাস রেললাইন টঙ্গীর সঙ্গে সংযুক্ত অথবা উড়াল সেতু নির্মাণ করলে ঢাকা শহরের অভ্যন্তরীণ মানভট নিরসনে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হতে পারে।
৬. জেল ও আদালত ভবন একই স্থানে স্থাপনের প্রস্তাব: ঢাকা শহরকে দুইটি জোনে ভাগ করে- জোন এক, কেরানীগঞ্জ জেলখানার পাশে আদালত ভবন স্বাদন করা। জোন দুই, কাশিমপুর জেলখানার পাশে আদালত ভবন স্থাপন করা।
৭. ঢাকার চারদিকে ১০০ কি. মি. ট্রেন চালু করা: ঢাকা শহর থেকে যানজট ও মানুষের চাপ কমানোর জন্য ঢাকার নিকটবর্তী জেলা শহরগুলোর সঙ্গে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা।
৮. ফুটপাত দখল মুক্ত করার প্রস্তাব : ফুটপাত দখল মুক্ত করে হকার পুনর্বাসন করা। যেমন ফুটপাত জনগণের সম্পদ। আর হকারদের ফুটপাতে না বসিয়ে হলিডে মার্কেট চালু করা। ফুটপাতে জনগণ চলাফেরা করবে। ঢাকাকে সাতটি জোনে ভাগ করে যেদিন যে এলাকায় মার্কেট বন্ধ থাকবে সেদিন সে স্থানে হলিডে মার্কেট ওই এলাকার উন্মুক্ত স্থানে করার ব্যবস্থা করা।
৯. ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো: ট্রাফিকের এসআই থেকে সহকারী কমিশনার পর্যান্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং কনস্টেবলদের এসআই এই ট্রেনিং করাবে। প্রয়োজনে বুয়েটের মাধ্যমে সহযোগিতা নেওয়া। গাড়ির ড্রাইভার, সিএনজি ড্রাইভার, রিকশার ড্রাইভার ও বাইক চালকদের অন্তত মাসে একবার ট্রাফিক দিক নির্দেশনামূলক ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা। রাস্তায় কে কোন লাইনে গাড়ি চালাবে এই বিষয়ে সচেতন করা।
১০. নগর পরিবহন চালু করা: ঢাকা ২ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নগর পরিবহন চালু করা। এক, নন এসি গাড়ি, দুই, এসি গাড়ি। নন এসি গাড়ি ভাড়া ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা অর্থাৎ ভর্তুকি দেওয়া আর এসি গাড়ি থেকে যে পরিমাণ লাভ আসবে তা নগর পরিবহন চালু করলে প্রতিযোগিতা হবে না, এতে করে মানুষ নাগরিক সুবিধা অধিকার ভোগ উন্নতি হবে।
১১. জাতীয় স্বার্থে গাড়িতে গ্যাস দেওয়া বন্ধ করা: গ্যাসকে সংযোজন করে উৎপাদন বাড়বে এবং সিএনজি ছাড়া অন্য কোনো গাড়িতে যেন গ্যাস না দেওয়া হয়। গাড়িতে গ্যাস না দিয়ে যে সব রপ্তানিমুখী শিল্প ফ্যাক্টরিতে গ্যাসের অভাবে উৎপাদনের বিঘ্ন ঘটেছে সে সব ফ্যাক্টরিগুলোতে এই অতিরিক্ত উৎপাদন সচল করে সম্প্রসারণ করা। এতে করে আমাদের শিল্প ফ্যাক্টরিগুলো বেঁচে যাবে, আমাদের রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাবে। দেশ ও জাতির উন্নতি হবে।
পুরান ঢাকার বাদামতলী মার্কেট সংলগ্ন সকল অবৈধ পার্কিং ও অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ আনিছুর রহমান বাদামতলী এলাকার অবৈধ স্থাপনা ও পার্কিং সমস্যা নিরসনে ডিএসসিসি প্রশাসকের কাছে সহায়তা চান। বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের অবৈধ পার্কিং ও স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন।
ডিএসসিসি প্রশাসকের এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) বলেন, "সরকারি কোনো দপ্তর থেকে এমন দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত পাওয়া সত্যিই প্রেরণাদায়ক। মাননীয় প্রশাসকের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে আমরা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে পারব এবং বাদামতলী এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন করা সম্ভব হবে।"
বাবুবাজার ব্রিজের পার্কিং স্থগিত:
এদিকে, একটি জাতীয় দৈনিকে বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি ডিএসসিসির নজরে এসেছে। এর প্রেক্ষিতে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুবাজার ব্রিজের নিচে নবনির্মিত কার পার্কিংয়ের 'এ' থেকে 'ডি' পর্যন্ত ৪টি ব্লকের ২৮,০৫১.১২ বর্গফুট খোলা জায়গায় পরিচালিত চলমান কার পার্কিংয়ের সকল কার্যক্রম পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, "সিটি কর্পোরেশন জনগণের সেবার জন্য। সুতরাং নাগরিকদের ভোগান্তি সৃষ্টি হয় বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কাজ সিটি কর্পোরেশন নিজে করবে না এবং অন্য কাউকেও করতে দেওয়া হবে না।"
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অধিবেশন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি। আজ বুধবার রাত ১২টা থেকে অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সোমবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকে অনুষ্ঠেয় অধিবেশন যাতে নির্বিঘ্নে চলে তা নিশ্চিতে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং যেকোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকবে।
যেসব এলাকায় নিষেধাজ্ঞা
নিষেধাজ্ঞার আওতার মধ্যে পড়েছে ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত; বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত; পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত। এ ছাড়া মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি ১৬ (পুরনো ২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন নবম ডিভিশন (উত্তরা জাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত, জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এসব সীমানার মধ্যে থাকা সব রাস্তা ও গলিপথ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।
জাহিদুল ইসলাম ও আল মামুন শিপলু
বরগুনা জেলা কল্যাণ ফোরামের ১১ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজধানীর আদাবরে টোকিও স্কয়ার কনভেনশন সেন্টারে এক সভায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কমিটিতে আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলামকে সভাপতি এবং বেতাগীর ব্যবসায়ী মো. আল মামুন শিপলুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া জি এম জাফর আহমেদ সহসভাপতি, আজীম রিপন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আসাদুজ্জামান জুয়েল কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন। পাশাপাশি আরও ছয়জনকে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় বরগুনার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও জেলার মানুষের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। ফোরামের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে অসহায় মানুষের চিকিৎসা ও শিক্ষায় সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং দুর্যোগের সময় জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান।
সংগঠনের নেতারা জানান, দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে বরগুনার মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ফোরামের মূল লক্ষ্য।
রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে উত্তরা আজমপুর কাঁচাবাজার ও বিসমিল্লাহ পল্লী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পল্লবী থানায় কর্মরত এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম (৪৩) এবং মো. ওয়াসিম (২৪)। সোমবার (২৪ আগস্ট) দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার হোসেন তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক কেনাবেচার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে প্রথমে আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ওয়াসিমকে আটক করা হয় এবং তার দেহ তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবাসহ এএসআই শফিকুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।
পরবর্তীতে তাদের দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজমপুর কাঁচাবাজারের বিসমিল্লাহ পল্লীর ৬৭ নম্বর নূর বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে যৌথ তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে আরও ৫ হাজার ১১০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
দক্ষিণখান থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহিনুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার দুজন ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও দু-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দক্ষিণখান ও এর আশপাশের এলাকায় তারা খুচরা বিক্রি করতেন।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক জানান, এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম পল্লবী থানায় অনিয়মিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তার গ্রেপ্তারের খবর তারা পেয়েছেন।
ঢাকার সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর আরও ৫০টি ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টে এআই ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে ঢাকার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সেমি-অটোমেটেড ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়েছে। এসব সিগন্যালের কয়েকটিতে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা যুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হচ্ছে।
চালকদের মধ্যেও এআই ক্যামেরা নিয়ে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। তাদের কেউ কেউ বলছেন, সিগন্যাল অমান্য করলে এআইয়ের মাধ্যমে মামলা হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এখন চালকরা আগের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকছেন।
ডিএমপির একজন কর্মকর্তা বলেন, মানুষকে দীর্ঘদিনের অনিয়ম থেকে বের করে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
তবে এআই সিগন্যাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিটনেসবিহীন ও নিয়মবহির্ভূত যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যত্রতত্র পথচারী পারাপার ও ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রযুক্তিটির কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা পরিচালনায় অতিরিক্ত লোকবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গড়ে তোলার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ ইউনিটকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
দুররানী ব্রিজ সংলগ্ন আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে পরিচ্ছনতা অভিযান
রাজধানীর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের হারানো নাব্যতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দূররানী খাল ও সংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন।
শুক্রবার সেকশন ব্রিজ সংলগ্ন আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল থেকে ময়লার ভাগাড় অপসারণ করে এর পূর্বের রূপ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় চ্যানেলটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর আগে বিডি ক্লিনের সদস্যসহ উপস্থিত অংশীজনদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এবং ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।
ঢাকার প্রাচীন জলধারাগুলোর অন্যতম আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার। এর প্রায় ১ হাজার ফুট অংশ দূররানী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। দীর্ঘদিন দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে চ্যানেলটির বিভিন্ন অংশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। এতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব ও জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়ে।
জানা গেছে, ১৯৯০ সালে ঢাকা শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে ঢাকা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর পরবর্তী সময়ে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হতে থাকে। বিভিন্ন অংশে দখল ও বর্জ্য জমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে চ্যানেলটির সংশ্লিষ্ট অংশ দখলমুক্ত করা হয়।
বর্তমানে চ্যানেলটিকে পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব জলাধারে রূপ দিতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে চ্যানেল ও সংলগ্ন এলাকার জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে চ্যানেল ও খালে বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চ্যানেলের দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। জনসাধারণের চলাচল ও অবসর সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করতে নির্মাণ করা হবে ওয়াকওয়ে। ফলে একদিকে জলধারাটির পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরবে, অন্যদিকে এলাকাটি একটি নান্দনিক ও জনবান্ধব স্থানে পরিণত হবে।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খাল ও নদীগুলোকে ময়লা-আবর্জনামুক্ত রাখা অপরিহার্য। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের এই যৌথ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি, এ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এর সুফল ভোগ করবেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চ্যানেল পরিষ্কার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এটি পুনরায় দখল ও দূষণের শিকার না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এ উদ্যোগে সহযোগিতা করে চ্যানেল ও খালে বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিচ্ছন্নতা, নাব্যতা পুনরুদ্ধার, সৌন্দর্যবর্ধন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলটি তার হারানো প্রাণ ফিরে পাবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট থেকে স্বস্তি মিলবে স্থানীয় বাসিন্দাদের।