স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আজকাল আমার নিজেরই মনে হয় যে, আমি ঢাকা শহরে থাকব না; আমি আমার দেশের অন্য শহরে গিয়ে থাকব। কারণটা হচ্ছে, এটা আর বাসযোগ্য মনে হয় না।”
শনিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘দক্ষিণের জানালা’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনি ঘর থেকে বের হলেই যে অক্সিজেন গ্রহণ করেন, সেটাও দূষিত। আপনি যদি একটি সরকারি হাসপাতালে যান, সেখানে ঢোকাই যায় না। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। সেই অবস্থা থেকে যদি আমরা বের হতে না পারি, প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামনে এগিয়ে আনতে না পারি, তাহলে এতক্ষণ যে স্বপ্নের কথা বলা হলো, সেগুলো স্বপ্নই থেকে যাবে। কারণ আমরা কি সত্যিই সেই মুক্ত বাতাস নিতে পারব?”
তিনি বলেন, আরও বেশিদিন যেন মানুষ বেঁচে থাকতে পারে, সে জন্য দূষণমুক্ত অক্সিজেন নিশ্চিত এবং বাসযোগ্য শহর ও নগর গড়ে তোলার আন্দোলন প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীকে আলোড়িত করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, শুধু নাগরিকদের সচেতন করলেই হবে না। যারা নীতিনির্ধারণ করছেন, ঢাকা শহর পরিচালনা করছেন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন, তাদেরও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, “হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পর প্রকল্প চলছে এই ঢাকা নগরের জন্য—কিন্তু মানুষ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, নাগরিকরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, সেই বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা দরকার। সেই বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এগোনো দরকার।”
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন স্থানীয় সরকারের একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন নগর নির্বাচিত মেয়র ও স্বশাসিত করপোরেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে আরও গভীর চিন্তা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।
ঢাকার পরিবেশ ও নদী দূষণের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, কলেজজীবনে আমরা প্রায়ই বুড়িগঙ্গায় নৌকায় চড়ে ঘুরতে যেতাম। কিন্তু এখন সেই নদীর কাছেও যাওয়া যায় না। “এত দূষিত, এত দুর্গন্ধ। আমার কাছে মনে হয়, ঢাকা শহরের অনেক সমস্যার মূলেই বোধহয় এই বুড়িগঙ্গা। বুড়িগঙ্গার পানি আজ যে অবস্থায় আছে, শীতলক্ষ্যাও প্রায় একই অবস্থার দিকে যাচ্ছে। তাহলে ঢাকা শহরের নাগরিকরা যাবে কোথায়?”
তিনি বলেন, চলমান উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি কাঠামোগত পরিবর্তনও প্রয়োজন। পরিকল্পনা সঠিকভাবে নিতে হবে এবং ‘প্রজেক্ট শেষ তো সব শেষ’—এমন পরিস্থিতি যেন না হয়।
ঢাকা শহরের পানির অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এক ক্যাবিনেট বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। “ঢাকা শহরের পানির অবস্থা খুবই ভয়াবহ। একটি বড় অংশের পানি সেবনযোগ্য নয়। আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হাজার মিটার নিচে নেমে যাচ্ছে। এটি ঢাকার জন্য একটি ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে।”
তিনি বলেন, নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। “এত প্রকল্প হয়, কিন্তু বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার কোনো কার্যকর প্রকল্প তৈরি হয় না। আমি চেষ্টা করব, এ বিষয়ে আলোচনা করে আমরা বুড়িগঙ্গাকে ঠিক করতে পারি কিনা, তুরাগকে ঠিক করতে পারি কিনা, —সেসব বিষয় দেখতে হবে।”
পুরান ঢাকার বাদামতলী মার্কেট সংলগ্ন সকল অবৈধ পার্কিং ও অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ আনিছুর রহমান বাদামতলী এলাকার অবৈধ স্থাপনা ও পার্কিং সমস্যা নিরসনে ডিএসসিসি প্রশাসকের কাছে সহায়তা চান। বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের অবৈধ পার্কিং ও স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন।
ডিএসসিসি প্রশাসকের এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) বলেন, "সরকারি কোনো দপ্তর থেকে এমন দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত পাওয়া সত্যিই প্রেরণাদায়ক। মাননীয় প্রশাসকের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে আমরা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে পারব এবং বাদামতলী এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন করা সম্ভব হবে।"
বাবুবাজার ব্রিজের পার্কিং স্থগিত:
এদিকে, একটি জাতীয় দৈনিকে বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি ডিএসসিসির নজরে এসেছে। এর প্রেক্ষিতে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুবাজার ব্রিজের নিচে নবনির্মিত কার পার্কিংয়ের 'এ' থেকে 'ডি' পর্যন্ত ৪টি ব্লকের ২৮,০৫১.১২ বর্গফুট খোলা জায়গায় পরিচালিত চলমান কার পার্কিংয়ের সকল কার্যক্রম পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, "সিটি কর্পোরেশন জনগণের সেবার জন্য। সুতরাং নাগরিকদের ভোগান্তি সৃষ্টি হয় বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কাজ সিটি কর্পোরেশন নিজে করবে না এবং অন্য কাউকেও করতে দেওয়া হবে না।"
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অধিবেশন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি। আজ বুধবার রাত ১২টা থেকে অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সোমবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকে অনুষ্ঠেয় অধিবেশন যাতে নির্বিঘ্নে চলে তা নিশ্চিতে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং যেকোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকবে।
যেসব এলাকায় নিষেধাজ্ঞা
নিষেধাজ্ঞার আওতার মধ্যে পড়েছে ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত; বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত; পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত। এ ছাড়া মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি ১৬ (পুরনো ২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন নবম ডিভিশন (উত্তরা জাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত, জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এসব সীমানার মধ্যে থাকা সব রাস্তা ও গলিপথ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।
জাহিদুল ইসলাম ও আল মামুন শিপলু
বরগুনা জেলা কল্যাণ ফোরামের ১১ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজধানীর আদাবরে টোকিও স্কয়ার কনভেনশন সেন্টারে এক সভায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কমিটিতে আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলামকে সভাপতি এবং বেতাগীর ব্যবসায়ী মো. আল মামুন শিপলুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া জি এম জাফর আহমেদ সহসভাপতি, আজীম রিপন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আসাদুজ্জামান জুয়েল কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন। পাশাপাশি আরও ছয়জনকে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় বরগুনার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও জেলার মানুষের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। ফোরামের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে অসহায় মানুষের চিকিৎসা ও শিক্ষায় সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং দুর্যোগের সময় জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান।
সংগঠনের নেতারা জানান, দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে বরগুনার মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ফোরামের মূল লক্ষ্য।
রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে উত্তরা আজমপুর কাঁচাবাজার ও বিসমিল্লাহ পল্লী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পল্লবী থানায় কর্মরত এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম (৪৩) এবং মো. ওয়াসিম (২৪)। সোমবার (২৪ আগস্ট) দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার হোসেন তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক কেনাবেচার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে প্রথমে আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ওয়াসিমকে আটক করা হয় এবং তার দেহ তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবাসহ এএসআই শফিকুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ।
পরবর্তীতে তাদের দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজমপুর কাঁচাবাজারের বিসমিল্লাহ পল্লীর ৬৭ নম্বর নূর বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে যৌথ তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে আরও ৫ হাজার ১১০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
দক্ষিণখান থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহিনুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার দুজন ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও দু-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দক্ষিণখান ও এর আশপাশের এলাকায় তারা খুচরা বিক্রি করতেন।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক জানান, এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম পল্লবী থানায় অনিয়মিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তার গ্রেপ্তারের খবর তারা পেয়েছেন।
ঢাকার সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর আরও ৫০টি ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টে এআই ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে ঢাকার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সেমি-অটোমেটেড ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়েছে। এসব সিগন্যালের কয়েকটিতে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা যুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হচ্ছে।
চালকদের মধ্যেও এআই ক্যামেরা নিয়ে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। তাদের কেউ কেউ বলছেন, সিগন্যাল অমান্য করলে এআইয়ের মাধ্যমে মামলা হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এখন চালকরা আগের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকছেন।
ডিএমপির একজন কর্মকর্তা বলেন, মানুষকে দীর্ঘদিনের অনিয়ম থেকে বের করে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
তবে এআই সিগন্যাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিটনেসবিহীন ও নিয়মবহির্ভূত যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যত্রতত্র পথচারী পারাপার ও ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রযুক্তিটির কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা পরিচালনায় অতিরিক্ত লোকবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গড়ে তোলার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ ইউনিটকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
দুররানী ব্রিজ সংলগ্ন আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে পরিচ্ছনতা অভিযান
রাজধানীর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের হারানো নাব্যতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দূররানী খাল ও সংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন।
শুক্রবার সেকশন ব্রিজ সংলগ্ন আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল থেকে ময়লার ভাগাড় অপসারণ করে এর পূর্বের রূপ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় চ্যানেলটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরুর আগে বিডি ক্লিনের সদস্যসহ উপস্থিত অংশীজনদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এবং ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।
ঢাকার প্রাচীন জলধারাগুলোর অন্যতম আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার। এর প্রায় ১ হাজার ফুট অংশ দূররানী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। দীর্ঘদিন দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে চ্যানেলটির বিভিন্ন অংশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। এতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব ও জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়ে।
জানা গেছে, ১৯৯০ সালে ঢাকা শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে ঢাকা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর পরবর্তী সময়ে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হতে থাকে। বিভিন্ন অংশে দখল ও বর্জ্য জমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে চ্যানেলটির সংশ্লিষ্ট অংশ দখলমুক্ত করা হয়।
বর্তমানে চ্যানেলটিকে পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব জলাধারে রূপ দিতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে চ্যানেল ও সংলগ্ন এলাকার জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে চ্যানেল ও খালে বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চ্যানেলের দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। জনসাধারণের চলাচল ও অবসর সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করতে নির্মাণ করা হবে ওয়াকওয়ে। ফলে একদিকে জলধারাটির পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরবে, অন্যদিকে এলাকাটি একটি নান্দনিক ও জনবান্ধব স্থানে পরিণত হবে।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খাল ও নদীগুলোকে ময়লা-আবর্জনামুক্ত রাখা অপরিহার্য। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের এই যৌথ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি, এ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এর সুফল ভোগ করবেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চ্যানেল পরিষ্কার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এটি পুনরায় দখল ও দূষণের শিকার না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এ উদ্যোগে সহযোগিতা করে চ্যানেল ও খালে বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিচ্ছন্নতা, নাব্যতা পুনরুদ্ধার, সৌন্দর্যবর্ধন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলটি তার হারানো প্রাণ ফিরে পাবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট থেকে স্বস্তি মিলবে স্থানীয় বাসিন্দাদের।