সংরক্ষিত ধানে পোকামাকড়ের আক্রমণে প্রতিবছরই বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন কৃষকরা। এ ক্ষতি কমাতে রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তিনির্ভর নতুন এক পদ্ধতি উদ্ভাবনে কাজ করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা।
এ প্রেক্ষিতে ‘ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট আল্ট্রাসনিক পেস্ট কন্ট্রোল সিস্টেম ফর পোস্ট-হারভেস্ট লস রিডাকশন ইন স্টোরড প্যাডি’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন কার্যালয়ে কর্মশালাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার (বাউরিক)।
আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংরক্ষিত ধানে পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণের এ উদ্যোগ সফল হলে কৃষকদের রাসায়নিকের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদের সভাপতিত্বে কর্মশালার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউরিকের আরএলসি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শরিফুল হক ভূঁইয়া।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আওয়াল। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধানের সংরক্ষণকালীন সময়ে মোট ধানের প্রায় ৭ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হয়। এর প্রধান কারণ পোকামাকড়ের আক্রমণ। দেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া পোকা ও ছত্রাকের বিস্তারের জন্য অনুকূল হওয়ায় এই ক্ষতি আরও বেড়ে যায়। দেশের মোট ধান উৎপাদনের মাত্র ৫ শতাংশ ক্ষতি রোধ করা গেলে বছরে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব। পাশাপাশি ধানের বীজের অঙ্কুরোদগম হার অন্তত ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন বীজ সাশ্রয় হবে। এর আর্থিক মূল্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।'
নতুন প্রযুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্রেইন গার্ড’ একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিভাই। মানুষের কানে অশ্রাব্য উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তরঙ্গ তৈরি করে। এই তরঙ্গ ধানের ক্ষতিকর পোকা ‘রাইস উইভিল’-এর স্নায়ুতন্ত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং তাদের চলাচল, খাদ্য গ্রহণ ও প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। ফলে পোকাগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে শস্য থেকে সরে যায়। এতে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই শস্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
এসময় গবেষণার ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রধান গবেষক জানান , 'ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট আল্ট্রাসনিক পেস্ট কন্ট্রোল সিস্টেম ফর পোস্ট-হারভেস্ট লস রিডাকশন ইন স্টোরড প্যাডি’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় পাঁচ বছর আগে এ গবেষণার ধারণা শুরু হয়। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার (বাউরিক)-এর অধীনে এজ (ইডিজিই) সাব-প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় দেড় বছর মেয়াদি অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তার নেতৃত্বে এবং সহযোগী গবেষক অধ্যাপক ড. এহসানুল কবিরের অংশগ্রহণে একটি গবেষক দল ‘গ্রেইন গার্ড’ যন্ত্রটির উন্নয়ন, নকশা, পরীক্ষামূলক বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ে যাচাই সম্পন্ন করেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, কৃষিতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনই ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তার মূল চালিকা শক্তি। ধান-চালে পোকার সমস্যার সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। তবে এটি সমাধানে আগে তেমন একটা পদক্ষেপ দেখা যায়নি। প্রযুক্তিনির্ভর এই সমাধানটি ধান সংরক্ষণকে আরও আধুনিক ও টেকসই করতে সহায়তা করবে বলে আশা রাখছি। পাশাপাশি এই প্রযুক্তির যেসকল সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নোবিপ্রবি শাখার নেতৃবৃন্দ। আলোচনায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
আলোচনায় পকেট গেইট সার্বক্ষণিক খোলা রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ৩৬০ ডিগ্রি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ই-কারের ভাড়া ৫ টাকায় নামিয়ে আনা, ব্যাকলগ ও ইমপ্রুভমেন্টের নিয়ম পুনর্বিবেচনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে লোকাল যাত্রী পরিবহন বন্ধ এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া বাসগুলো দ্রুত মেরামত করে পরিবহন বহরে যুক্ত করার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
ইমপ্রুভমেন্টের ক্ষেত্রে সিজিপিএ ৩.০০-এর নিচে থাকা শিক্ষার্থীদের ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে ব্যাকলগের বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানানো হয়।
আলোচনায় নোবিপ্রবি ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন শান্ত, শাখাওয়াত সায়েম, সাখাওয়াত হোসেন, খায়রুল আমান শাওন ও আনিসুর রহমান সিফাতসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ করে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে নোবিপ্রবি ছাত্রদল।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এগ্রিকালচার বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হচ্ছে কৃষি। একটি দেশের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি খাদ্য নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ভবিষ্যতের কৃষিকে হতে হবে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও সহনশীল।”
বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরা শুধু কৃষির শিক্ষার্থী নও, তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম কারিগর। তোমাদের অর্জিত জ্ঞানকে মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এবং কৃষির বিদ্যমান সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।”
এ সময় কৃষির গুরুত্ব বিবেচনায় নোবিপ্রবিতে কৃষি অনুষদ ও গবেষণার জন্য আরও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির আশ্বাস দেন উপাচার্য।
জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও এগ্রিকালচার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাসান উদ্দীন।
বক্তারা বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য শুভকামনা জানান এবং দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে তাদের দক্ষতা ও মেধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্মৃতিচারণ এবং ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
এ সময় এগ্রিকালচার বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেছেন, অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষকদের জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের বদলির সুযোগ নেই। ফলে ঢাকা, রাজশাহী বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিয়মিতভাবে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান না। এ অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ পদে যুক্ত করে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর একটি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন অনুযায়ী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। সরকার এ ধরনের একটি ‘ইকোসিস্টেম’ বা ‘ইকো-লার্নিং সিস্টেম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে, যা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) লেকচারার অ্যান্ড অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর ফোরামের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। সংগঠনটি পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার (৯ আগস্ট) কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংগঠনটির এক আলোচনা সভায় এ কমিটি ঘোষণা করা হয় বলে জানান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো.শরিফুল ইসলাম।
কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনিমেল ব্রিডিং এ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো.শরিফুল ইসলাম। সদস্য হিসেবে আছেন ইন্টারডিসিপ্লিনারি ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটির সহকারী অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ সরকার, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক জনাব জুলি আক্তার এবং ভাষা বিভাগের প্রভাষক জনাব জাওয়াদ রামী।
আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো.শরিফুল ইসলাম জানান, আহ্বায়ক কমিটির কাজ হলো ফোরাম পুনর্গঠন এবং যত দ্রুত সম্ভব একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা। যতো দিন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী গঠিত হবে না ততো দিন এই কমিটি সংগঠনটি পরিচালনা করবে এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) লেকচারার ও সহকারী অধ্যাপকদের পেশাগত উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এই সংগঠনের লক্ষ্য। বিশেষ করে তরুণ ও প্রারম্ভিক পর্যায়ের গবেষকদের কৃষির অত্যাধুনিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। গবেষণার নতুন প্রযুক্তি, পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে আমরা কাজ করতে করবো। একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন,গবেষণা সহযোগিতা এবং উচ্চমানের গবেষণার জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। এই কমিটি তরুণ শিক্ষকদের পেশাগত বিকাশের পাশাপাশি বাকৃবির গবেষণা ও শিক্ষার মান আরও এগিয়ে নিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সাধারণ নির্বাচন ২০২৬-২৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে সমিতির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ চারটি পদে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়েছে। নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আসাদুর রহমান।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির কার্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। পরে ভোট গণনা শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
প্রধান নির্বাচন পরিচালক মো. লুৎফর রহমান জানান, নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতি ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এই চারটি পদে ভোটগ্রহণ হয়।সমিতির মোট ৫১৭ জন ভোটারের মধ্যে ৫০১ জন উপস্থিত ছিলেন। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৯৭ শতাংশ। সভাপতি পদে তিনজন, সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন, সহসভাপতি পদে তিনজন এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এর মধ্যে সভাপতি পদে মো. জাহাঙ্গীর আলম ২০৫ ভোট, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আসাদুর রহমান ১৭৬ ভোট, সহসভাপতি পদে মো. আব্দুল হালিম ২০৪ ভোট এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মো. শাহীন ২৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
এ ছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. হেলাল উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা পদে শরিফা খাতুন, সাংগঠনিক ও প্রচার সম্পাদক পদে এমদাদ হোসেন এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোবারক হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
কার্যনির্বাহী কমিটির বাকি পদগুলো পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনয়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
জানা যায়, নির্বাচন কমিশন গঠনের ২৫তম দিনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. লুৎফর রহমান। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন মো. সিরাজ উদ্দিন, মো. আব্দুল মান্নান, সোহেল রানা ও মো. কামরুজ্জামান।
নির্বাচন শেষে প্রধান নির্বাচন পরিচালক মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন খুব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে। ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল বেশ সক্রিয়। প্রশাসনও আমাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে। সব মিলিয়ে খুব সুন্দর পরিবেশে নির্বাচনটি সম্পন্ন হয়েছে।’
গ্র্যান্ড ফাইনালে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘ক্রাউন অব আর্গুমেন্ট: ফ্রেশার্স ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপ’ এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গণিত বিভাগ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শহিদুল ইসলাম সৌরিভ ও পূর্ণী আক্তারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসাইন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ জুলহাস উদ্দীন এবং কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহবুব।
টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগের দল অংশ নেয়। তিনটি রাউন্ড শেষে গণিত বিভাগ ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ফাইনালে জায়গা করে নেয়। উত্তেজনাপূর্ণ বিতর্ক শেষে গণিত বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহমান আস সাদী বলেন, “১৯টি বিভাগীয় দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য ছিল নবীন শিক্ষার্থীদের যুক্তিচর্চায় সম্পৃক্ত করা। আমি চাই, অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক নবীন বিতার্কিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেকে একজন চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুক।”
তিনি আরও বলেন, “আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কণ্ঠগুলো নিজেদের প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। আশা করি, আজকের এই নবীন বিতার্কিকরাই ভবিষ্যতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কাঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং জাতীয় পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করবে।”