ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি।
রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠন করে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। খসড়া অধ্যাদেশের প্রস্তাবের মত সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত না করে চূড়ান্ত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কলেজগুলোর স্বকীয়তা বজায় রেখে একাডেমিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় রোববার 'ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬ গেজেট আকারে প্রকাশ করে।
এ অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত হল। কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এ বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ছিলেন।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সাতটি কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের পাঠ্যক্রম, শিক্ষক, সনদায়নসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি গঠন করা হচ্ছে।
এ অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী ঢাকায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সুবিধা সম্বলিত স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি করা হবে। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ভবন ও জায়গা ভাড়া করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সাতটি কলেজ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত কলেজ হিসাবে থাকবে। সংযুক্ত কলেজগুলোর পরিচয়, বৈশিষ্ট্য, অবকাঠামো, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও অন্যান্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা অক্ষুণ্ণ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যদের সমন্বয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামে এই স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান গঠিত হবে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির দায়িত্ব ও ক্ষমতা নিয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংযুক্ত কলেজে শিক্ষাদানের জন্য পাঠ্যক্রম নির্ধারণ ও পরীক্ষা গ্রহণ; জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে কোনো শাখায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাদান, গবেষণা, জ্ঞানের সৃজন, উৎকর্ষ সাধন ও বিতরণের ব্যবস্থা করা; কর্মদক্ষ জনসম্পদ সৃষ্টির জন্য, আধুনিক প্রযুক্তি, পেশা, বৃত্তি ও অর্থনৈতিক চাহিদার ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষার নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কোর্স প্রণয়ন ও পরিচালনা করা; আর বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের কোনো কোর্স শেষ করা ব্যক্তিদের অধ্যয়নকৃত বা গবেষণাকৃত বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করা এবং ডিগ্রি, ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট দেওয়া; সম্মানসূচক ডিগ্রি বা অন্য কোনো সম্মাননা দেওয়া।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক, সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ও এমিরেটাস অধ্যাপকের পদসহ গবেষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যে কোনো পদ সৃষ্টি করা এবং সংশ্লিষ্ট সিলেকশন বোর্ডের সুপারিশ শেষে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কলেজগুলোর প্রশাসনিক প্রধান পদে থাকবেন অধ্যক্ষরা। আর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রধান হবেন উপাচার্য। সংযুক্ত কলেজগুলো শিক্ষকরা কলেজ শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা শুধু শিক্ষক হিসেবে অবিহিত হবেন।
সংযুক্ত কলেজসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সাথে সম্পর্কিত সব শিক্ষাদান ও গবেষণা কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবে। শিক্ষাদানের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের দেওয়া বক্তৃতা, পরীক্ষাগার বা কর্মশালায় কার্যক্রম, টিউটোরিয়াল, ভার্চুয়াল এবং অন্যান্য শিক্ষাদান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাঠ্যক্রম, পাঠ্যসূচি ও শিক্ষাদান পদ্ধতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল নির্ধারণ করবে।
পূর্বাপর
এক সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকা এ কলেজগুলোকে ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিল। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলে কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ‘ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে’ সরকার পরিবর্তনের পর সে আন্দোলন আরও বেগবান হয়। সাত কলেজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর রূপরেখা প্রণয়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি কলেজগুলোর অধিভুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তখন এ কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া চলছিল। পরে অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন করে কলেজগুলোতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ইউজিসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রস্তাব করে। তার ভিত্তিতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়
খসড়ায় সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়। বলা হয়, কলেজগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানও চালু থাকবে।
কিন্তু প্রস্তাবিত স্কুলিং কাঠামোর বিরোধিতা করেন কলেজগুলোর শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা। তাদের আশঙ্কা ছিল, ওই কাঠামোতে তাদের পদোন্নতির মত মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে।
তারা কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে 'অধিভুক্তিমূলক কাঠামোতে' নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছিলেন।
আর কলেজগুলোর বর্তমান শিক্ষার্থীদের একাংশ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনি কাঠামো দ্রুত নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ জারির দাবিতে আন্দোলনে নামে।
অবশেষে এ বছর ২২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি' স্থাপনের জন্য অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন করে। দুই সপ্তাহ পর তা গেজেট আকারে জারি হল।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নোবিপ্রবি শাখার নেতৃবৃন্দ। আলোচনায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
আলোচনায় পকেট গেইট সার্বক্ষণিক খোলা রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ৩৬০ ডিগ্রি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ই-কারের ভাড়া ৫ টাকায় নামিয়ে আনা, ব্যাকলগ ও ইমপ্রুভমেন্টের নিয়ম পুনর্বিবেচনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে লোকাল যাত্রী পরিবহন বন্ধ এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া বাসগুলো দ্রুত মেরামত করে পরিবহন বহরে যুক্ত করার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
ইমপ্রুভমেন্টের ক্ষেত্রে সিজিপিএ ৩.০০-এর নিচে থাকা শিক্ষার্থীদের ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে ব্যাকলগের বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানানো হয়।
আলোচনায় নোবিপ্রবি ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন শান্ত, শাখাওয়াত সায়েম, সাখাওয়াত হোসেন, খায়রুল আমান শাওন ও আনিসুর রহমান সিফাতসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ করে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে নোবিপ্রবি ছাত্রদল।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এগ্রিকালচার বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হচ্ছে কৃষি। একটি দেশের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি খাদ্য নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ভবিষ্যতের কৃষিকে হতে হবে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও সহনশীল।”
বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরা শুধু কৃষির শিক্ষার্থী নও, তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম কারিগর। তোমাদের অর্জিত জ্ঞানকে মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এবং কৃষির বিদ্যমান সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।”
এ সময় কৃষির গুরুত্ব বিবেচনায় নোবিপ্রবিতে কৃষি অনুষদ ও গবেষণার জন্য আরও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির আশ্বাস দেন উপাচার্য।
জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও এগ্রিকালচার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাসান উদ্দীন।
বক্তারা বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য শুভকামনা জানান এবং দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে তাদের দক্ষতা ও মেধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্মৃতিচারণ এবং ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
এ সময় এগ্রিকালচার বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেছেন, অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষকদের জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের বদলির সুযোগ নেই। ফলে ঢাকা, রাজশাহী বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিয়মিতভাবে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান না। এ অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ পদে যুক্ত করে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর একটি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন অনুযায়ী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। সরকার এ ধরনের একটি ‘ইকোসিস্টেম’ বা ‘ইকো-লার্নিং সিস্টেম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে, যা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) লেকচারার অ্যান্ড অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর ফোরামের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। সংগঠনটি পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার (৯ আগস্ট) কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংগঠনটির এক আলোচনা সভায় এ কমিটি ঘোষণা করা হয় বলে জানান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো.শরিফুল ইসলাম।
কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনিমেল ব্রিডিং এ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো.শরিফুল ইসলাম। সদস্য হিসেবে আছেন ইন্টারডিসিপ্লিনারি ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটির সহকারী অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ সরকার, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক জনাব জুলি আক্তার এবং ভাষা বিভাগের প্রভাষক জনাব জাওয়াদ রামী।
আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো.শরিফুল ইসলাম জানান, আহ্বায়ক কমিটির কাজ হলো ফোরাম পুনর্গঠন এবং যত দ্রুত সম্ভব একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা। যতো দিন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী গঠিত হবে না ততো দিন এই কমিটি সংগঠনটি পরিচালনা করবে এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) লেকচারার ও সহকারী অধ্যাপকদের পেশাগত উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এই সংগঠনের লক্ষ্য। বিশেষ করে তরুণ ও প্রারম্ভিক পর্যায়ের গবেষকদের কৃষির অত্যাধুনিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। গবেষণার নতুন প্রযুক্তি, পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে আমরা কাজ করতে করবো। একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন,গবেষণা সহযোগিতা এবং উচ্চমানের গবেষণার জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। এই কমিটি তরুণ শিক্ষকদের পেশাগত বিকাশের পাশাপাশি বাকৃবির গবেষণা ও শিক্ষার মান আরও এগিয়ে নিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সাধারণ নির্বাচন ২০২৬-২৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে সমিতির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ চারটি পদে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়েছে। নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আসাদুর রহমান।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির কার্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। পরে ভোট গণনা শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
প্রধান নির্বাচন পরিচালক মো. লুৎফর রহমান জানান, নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতি ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এই চারটি পদে ভোটগ্রহণ হয়।সমিতির মোট ৫১৭ জন ভোটারের মধ্যে ৫০১ জন উপস্থিত ছিলেন। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৯৭ শতাংশ। সভাপতি পদে তিনজন, সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন, সহসভাপতি পদে তিনজন এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এর মধ্যে সভাপতি পদে মো. জাহাঙ্গীর আলম ২০৫ ভোট, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আসাদুর রহমান ১৭৬ ভোট, সহসভাপতি পদে মো. আব্দুল হালিম ২০৪ ভোট এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মো. শাহীন ২৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
এ ছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. হেলাল উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা পদে শরিফা খাতুন, সাংগঠনিক ও প্রচার সম্পাদক পদে এমদাদ হোসেন এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোবারক হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
কার্যনির্বাহী কমিটির বাকি পদগুলো পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনয়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
জানা যায়, নির্বাচন কমিশন গঠনের ২৫তম দিনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. লুৎফর রহমান। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন মো. সিরাজ উদ্দিন, মো. আব্দুল মান্নান, সোহেল রানা ও মো. কামরুজ্জামান।
নির্বাচন শেষে প্রধান নির্বাচন পরিচালক মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন খুব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে। ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল বেশ সক্রিয়। প্রশাসনও আমাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে। সব মিলিয়ে খুব সুন্দর পরিবেশে নির্বাচনটি সম্পন্ন হয়েছে।’
গ্র্যান্ড ফাইনালে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘ক্রাউন অব আর্গুমেন্ট: ফ্রেশার্স ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপ’ এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গণিত বিভাগ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শহিদুল ইসলাম সৌরিভ ও পূর্ণী আক্তারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসাইন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ জুলহাস উদ্দীন এবং কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহবুব।
টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগের দল অংশ নেয়। তিনটি রাউন্ড শেষে গণিত বিভাগ ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ফাইনালে জায়গা করে নেয়। উত্তেজনাপূর্ণ বিতর্ক শেষে গণিত বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহমান আস সাদী বলেন, “১৯টি বিভাগীয় দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য ছিল নবীন শিক্ষার্থীদের যুক্তিচর্চায় সম্পৃক্ত করা। আমি চাই, অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক নবীন বিতার্কিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেকে একজন চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুক।”
তিনি আরও বলেন, “আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কণ্ঠগুলো নিজেদের প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। আশা করি, আজকের এই নবীন বিতার্কিকরাই ভবিষ্যতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কাঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং জাতীয় পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করবে।”