• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩৫ পিএম

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তি, চাকরি জাতীয়করণ, শতভাগ উৎসব ভাতা ও সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়াসহ ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি জাতীয়করণ জোট ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী সমন্বিত ফোরাম।


আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে দাবিগুলো পূরণের আল্টিমেটাম দিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, দাবি বাস্তবায়ন না হলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বিভাগীয় সমাবেশসহ বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে শিক্ষক-কর্মচারীরা।


বুধবার (১২ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।


সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা জসিম উদ্দিন আহমদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ ছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে জাতীয়করণের আগে শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


যেসব দবি:

সংগঠনটির ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা অর্থ প্রচলিত নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী প্রদান, বৈষম্য নিরসনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ, দ্রুত বদলির ব্যবস্থা, শতভাগ উৎসব ভাতা এবং সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া প্রদান।


এ ছাড়া শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর পরিবর্তে পিএসসি-২ ব্যবস্থা চালু, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করা, ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা, চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছরে উন্নীত করা এবং নৈশপ্রহরীদের প্রচলিত নিয়মে ছুটির পাশাপাশি দ্বিতীয় নৈশপ্রহরী নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে।


অবসর সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন:

সংবাদ সম্মেলনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ও অবসর সুবিধার অর্থ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। জসিম উদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অতীতে সর্বশেষ বেতনের ভিত্তিতে কল্যাণ ও অবসর সুবিধা দেওয়ার বিধান ছিল। ফলে বর্তমান ব্যবস্থায় কেন নির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারণ করা হচ্ছে—এ প্রশ্নের জবাব চান তিনি।


তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শুধু জমাকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার আলোচনা রয়েছে—এমন খবরে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


‘জাতীয়করণই বৈষম্য দূর করার পথ’:

সংগঠনের নেতারা বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বড় একটি অংশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এখনও নানা ক্ষেত্রে সরকারি শিক্ষকদের তুলনায় বৈষম্যের শিকার। বেতন-ভাতা, বাড়িভাড়া, উৎসব ভাতা, বদলি, অবসর সুবিধা ও চাকরির নিরাপত্তায় বৈষম্য রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।


তাদের মতে, শুধু সাময়িক ভাতা বৃদ্ধি নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ প্রয়োজন। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রের বৈষম্যও কমবে।


সরকারের প্রতি আস্থার পাশাপাশি অসন্তোষ:

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সরকারের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ও শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, সরকারের সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীদের দূরত্ব তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।


নেতারা বলেন, সরকার শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগী হলে তারা সরকারের প্রতি আরও আস্থাশীল হবেন। কিন্তু ঘোষিত বিভিন্ন সুবিধা বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে মাঠপর্যায়ে অসন্তোষ বাড়বে।


৩ দফা কর্মসূচি ঘোষণা:

৩১ আগস্টের মধ্যে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে তিন দফা কর্মসূচি পালন করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।


প্রথমত, আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১০ সদস্যের শিক্ষক প্রতিনিধিদলের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।


দ্বিতীয়ত, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করে দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হবে।


তৃতীয়ত, দল-মত নির্বিশেষে দেশের শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে সংগ্রাম কমিটি গঠন করে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


‘আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে’:

সংগঠনের নেতারা বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন-ভাতা, চাকরির নিরাপত্তা ও অবসর সুবিধার সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে। তাদের ভাষ্য, শিক্ষক সমাজকে শুধু আশ্বাস দিয়ে নয়, বাস্তব সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করতে হবে।


তারা আরও বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তি এবং চাকরি জাতীয়করণের বিষয়টি এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো দাবি নয়; এটি শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য দূর করার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।


সংবাদ সম্মেলনে মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন জসিম উদ্দিন আহমদ। এ সময় অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম, মো. আলী, নূর মোহাম্মদ খোকন, হাসিম তালুকদার, লুৎফর ইসলাম, ইউসুফ ও ঝর্ণা বিশ্বাসসহ শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় :



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৯ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নোবিপ্রবি শাখার নেতৃবৃন্দ। আলোচনায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।


আলোচনায় পকেট গেইট সার্বক্ষণিক খোলা রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ৩৬০ ডিগ্রি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ই-কারের ভাড়া ৫ টাকায় নামিয়ে আনা, ব্যাকলগ ও ইমপ্রুভমেন্টের নিয়ম পুনর্বিবেচনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে লোকাল যাত্রী পরিবহন বন্ধ এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া বাসগুলো দ্রুত মেরামত করে পরিবহন বহরে যুক্ত করার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।


ইমপ্রুভমেন্টের ক্ষেত্রে সিজিপিএ ৩.০০-এর নিচে থাকা শিক্ষার্থীদের ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে ব্যাকলগের বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানানো হয়।


আলোচনায় নোবিপ্রবি ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন শান্ত, শাখাওয়াত সায়েম, সাখাওয়াত হোসেন, খায়রুল আমান শাওন ও আনিসুর রহমান সিফাতসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ করে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে নোবিপ্রবি ছাত্রদল।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০৩ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এগ্রিকালচার বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।




অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হচ্ছে কৃষি। একটি দেশের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি খাদ্য নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ভবিষ্যতের কৃষিকে হতে হবে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও সহনশীল।”


বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরা শুধু কৃষির শিক্ষার্থী নও, তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম কারিগর। তোমাদের অর্জিত জ্ঞানকে মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এবং কৃষির বিদ্যমান সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।”


এ সময় কৃষির গুরুত্ব বিবেচনায় নোবিপ্রবিতে কৃষি অনুষদ ও গবেষণার জন্য আরও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির আশ্বাস দেন উপাচার্য।


জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও এগ্রিকালচার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাসান উদ্দীন।


বক্তারা বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য শুভকামনা জানান এবং দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে তাদের দক্ষতা ও মেধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্মৃতিচারণ এবং ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।


এ সময় এগ্রিকালচার বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫৫ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেছেন, অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষকদের জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।


মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী উপস্থিত ছিলেন।


উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের বদলির সুযোগ নেই। ফলে ঢাকা, রাজশাহী বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিয়মিতভাবে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান না। এ অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ পদে যুক্ত করে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর একটি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।


তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন অনুযায়ী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। সরকার এ ধরনের একটি ‘ইকোসিস্টেম’ বা ‘ইকো-লার্নিং সিস্টেম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে, যা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৪ পিএম

‎বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) লেকচারার অ্যান্ড অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর ফোরামের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। সংগঠনটি পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার (‎৯ আগস্ট) কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংগঠনটির এক আলোচনা সভায় এ কমিটি ঘোষণা করা হয় বলে জানান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ​ড. মো.শরিফুল ইসলাম।

কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ​ড. মো. মাসুদ রানা এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনিমেল ব্রিডিং এ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ​ড. মো.শরিফুল ইসলাম। ‎সদস্য হিসেবে আছেন ইন্টারডিসিপ্লিনারি ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটির সহকারী অধ্যাপক ​ড. অনিরুদ্ধ সরকার, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক জনাব জুলি আক্তার এবং ভাষা বিভাগের প্রভাষক জনাব ​জাওয়াদ রামী।

‎আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ​ড. মো.শরিফুল ইসলাম জানান, আহ্বায়ক কমিটির কাজ হলো ফোরাম পুনর্গঠন এবং যত দ্রুত সম্ভব একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা। যতো দিন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী গঠিত হবে না ততো দিন এই কমিটি সংগঠনটি পরিচালনা করবে এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

‎তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) লেকচারার ও সহকারী অধ্যাপকদের পেশাগত উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এই সংগঠনের লক্ষ্য। বিশেষ করে তরুণ ও প্রারম্ভিক পর্যায়ের গবেষকদের কৃষির অত্যাধুনিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। গবেষণার নতুন প্রযুক্তি, পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে আমরা কাজ করতে করবো। একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন,গবেষণা সহযোগিতা এবং উচ্চমানের গবেষণার জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। এই কমিটি তরুণ শিক্ষকদের পেশাগত বিকাশের পাশাপাশি বাকৃবির গবেষণা ও শিক্ষার মান আরও এগিয়ে নিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩০ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সাধারণ নির্বাচন ২০২৬-২৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে সমিতির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ চারটি পদে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়েছে। নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আসাদুর রহমান।


সোমবার (২৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির কার্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। পরে ভোট গণনা শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।


প্রধান নির্বাচন পরিচালক মো. লুৎফর রহমান জানান, নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতি ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এই চারটি পদে ভোটগ্রহণ হয়।সমিতির মোট ৫১৭ জন ভোটারের মধ্যে ৫০১ জন উপস্থিত ছিলেন। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৯৭ শতাংশ। সভাপতি পদে তিনজন, সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন, সহসভাপতি পদে তিনজন এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।


এর মধ্যে সভাপতি পদে মো. জাহাঙ্গীর আলম ২০৫ ভোট, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আসাদুর রহমান ১৭৬ ভোট, সহসভাপতি পদে মো. আব্দুল হালিম ২০৪ ভোট এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মো. শাহীন ২৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।


এ ছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. হেলাল উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা পদে শরিফা খাতুন, সাংগঠনিক ও প্রচার সম্পাদক পদে এমদাদ হোসেন এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোবারক হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।


কার্যনির্বাহী কমিটির বাকি পদগুলো পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনয়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


জানা যায়, নির্বাচন কমিশন গঠনের ২৫তম দিনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. লুৎফর রহমান। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন মো. সিরাজ উদ্দিন, মো. আব্দুল মান্নান, সোহেল রানা ও মো. কামরুজ্জামান।


নির্বাচন শেষে প্রধান নির্বাচন পরিচালক মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন খুব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে। ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল বেশ সক্রিয়। প্রশাসনও আমাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে। সব মিলিয়ে খুব সুন্দর পরিবেশে নির্বাচনটি সম্পন্ন হয়েছে।’

সর্বশেষ সব খবর

গ্র্যান্ড ফাইনালে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৬ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘ক্রাউন অব আর্গুমেন্ট: ফ্রেশার্স ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপ’ এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গণিত বিভাগ। 


সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে এ আয়োজন করা হয়। 


অনুষ্ঠানে শহিদুল ইসলাম সৌরিভ ও পূর্ণী আক্তারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসাইন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ জুলহাস উদ্দীন এবং কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহবুব। 


টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগের দল অংশ নেয়। তিনটি রাউন্ড শেষে গণিত বিভাগ ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ফাইনালে জায়গা করে নেয়। উত্তেজনাপূর্ণ বিতর্ক শেষে গণিত বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।


ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহমান আস সাদী বলেন, “১৯টি বিভাগীয় দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য ছিল নবীন শিক্ষার্থীদের যুক্তিচর্চায় সম্পৃক্ত করা। আমি চাই, অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক নবীন বিতার্কিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেকে একজন চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুক।”


তিনি আরও বলেন, “আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কণ্ঠগুলো নিজেদের প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। আশা করি, আজকের এই নবীন বিতার্কিকরাই ভবিষ্যতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কাঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং জাতীয় পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করবে।”

সর্বশেষ সব খবর