ছবি : সংগৃহীত
আইইএলটিএস পরীক্ষার তারিখ ঠিক করেছেন, হাতে সময় আছে তিন মাস। এখন প্রশ্ন হলো, এই সময়টাকে কীভাবে কাজে লাগাবেন? শুরু থেকেই একের পর এক মক টেস্ট দেবেন, নাকি আগে ইংরেজির দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করবেন? চারটি অংশেই কি সমান সময় দেবেন, নাকি যেটিতে সমস্যা বেশি, সেটিতে বেশি মনোযোগ দেবেন?
তিন মাসে প্রস্তুতি নেওয়ার সুবিধা হলো, পুরো সময়টাকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করে এগোনো যায়। প্রথমে পরীক্ষার ধরন বুঝে নিজের অবস্থান যাচাই করা, এরপর দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করা এবং শেষ দিকে পরীক্ষার মতো পরিবেশে নিয়মিত অনুশীলন করা যায়। তবে তিন মাস সবার জন্য যথেষ্ট হবে, এমন নয়। আপনার ইংরেজির বর্তমান দক্ষতা এবং কাঙ্ক্ষিত ব্যান্ড স্কোরের ওপর প্রস্তুতির সময় অনেকটাই নির্ভর করবে।
তাই হাতে থাকা ১২ সপ্তাহে কত ঘণ্টা পড়বেন, শুধু সেই হিসাব না করে কখন কী নিয়ে কাজ করবেন, সেই পরিকল্পনাটাই আগে করা দরকার।
শুরুতেই নিজের অবস্থান বুঝুন
প্রথম সপ্তাহেই একটি পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিয়ে দেখুন বর্তমানে আপনি কোথায় আছেন। সম্ভব হলে পরীক্ষার মতো সময় ধরে লিসেনিং, রিডিং ও রাইটিং অংশগুলো করুন। স্পিকিংয়ের জন্য নিজের উত্তর রেকর্ড করেও শুনতে পারেন।
শুধু কত স্কোর হলো, সেটি দেখলেই হবে না। কোন ধরনের প্রশ্নে বেশি ভুল হচ্ছে, সেটিও খেয়াল করুন। রিডিং শেষ করতে সময় বেশি লাগছে? লিসেনিংয়ে বানান ভুল হচ্ছে? রাইটিংয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লেখা শেষ করতে পারছেন না? নাকি স্পিকিংয়ে উত্তর জানা থাকলেও বলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছেন? এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেই পরের তিন মাসের পরিকল্পনা সাজান।
প্রথম মাস: ভিত্তি ও পরীক্ষার ধরন বুঝুন
প্রথম মাসের লক্ষ্য হওয়া উচিত আইইএলটিএসের চারটি অংশের সঙ্গে ভালোভাবে পরিচিত হওয়া। লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিংয়ে কী ধরনের প্রশ্ন আসে এবং প্রতিটি অংশে কতটা সময় পাওয়া যায়, সেগুলো জেনে নিন।
রিডিংয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন আলাদাভাবে অনুশীলন করতে পারেন। শুরুতেই দ্রুত শেষ করার চাপ না নিয়ে কেন উত্তর ভুল হচ্ছে, সেটি বোঝার চেষ্টা করুন।
লিসেনিংয়ে শুধু মক টেস্টের অডিও না শুনে নিয়মিত ইংরেজি শোনার অভ্যাসও তৈরি করুন। সংবাদ, সাক্ষাৎকার, পডকাস্ট বা অন্য কোনো আগ্রহের বিষয় শুনতে পারেন। কোনো অংশ বুঝতে সমস্যা হলে আবার শুনুন এবং নতুন শব্দ বা উচ্চারণ খেয়াল করুন।
রাইটিংয়ের ক্ষেত্রে প্রশ্ন বুঝে উত্তর দেওয়ার দিকে গুরুত্ব দিন। কীভাবে ভূমিকা, মূল অংশ ও উপসংহার সাজাবেন, সেটির চর্চা করুন। কঠিন শব্দ ব্যবহারের চেয়ে বক্তব্য পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করার অভ্যাস তৈরি করুন।
আর স্পিকিংয়ের জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় ইংরেজিতে কথা বলুন। একা হলেও সমস্যা নেই। পরিচিত কোনো বিষয় নিয়ে এক বা দুই মিনিট কথা বলে নিজের ফোনে রেকর্ড করতে পারেন।
দ্বিতীয় মাস: দুর্বল জায়গায় বেশি সময় দিন
এক মাস অনুশীলনের পর নিজের দুর্বল জায়গাগুলো আরও পরিষ্কার হওয়ার কথা। দ্বিতীয় মাসে তাই চারটি অংশে সমান সময় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
ধরুন, রিডিং ও লিসেনিংয়ে ভালো করছেন, কিন্তু রাইটিংয়ে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যেতে পারছেন না। তাহলে রাইটিংয়ে তুলনামূলক বেশি সময় দিন। আবার স্পিকিংয়ে বারবার থেমে গেলে নিয়মিত কথা বলার চর্চা বাড়াতে হবে।
এ সময় ভুলের একটি খাতা রাখতে পারেন। রিডিংয়ে কোন ধরনের প্রশ্নে ভুল হচ্ছে, লিসেনিংয়ে কোন শব্দ শুনতে সমস্যা হচ্ছে কিংবা রাইটিংয়ে কী ধরনের ভুল বারবার করছেন, সেগুলো লিখে রাখুন। সপ্তাহ শেষে সেই তালিকা দেখলে নিজের দুর্বলতার ধরন বোঝা সহজ হবে।
এই মাস থেকেই সময় ধরে অনুশীলনের পরিমাণও বাড়ান। কারণ উত্তর জানা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর দিতে পারা এক বিষয় নয়।
তৃতীয় মাস: পরীক্ষার পরিবেশে অনুশীলন করুন
শেষ মাসে নতুন নতুন কৌশল শেখার চেয়ে এত দিনের প্রস্তুতিকে পরীক্ষার উপযোগী করে তোলার দিকে মনোযোগ দিন। নির্দিষ্ট সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিন। পরীক্ষা যদি কম্পিউটারভিত্তিক হয়, তাহলে কম্পিউটারে টাইপ করে রাইটিং অনুশীলন করুন।
প্রতিটি মক টেস্টের পর শুধু ব্যান্ড স্কোর নিয়ে চিন্তা না করে ভুল বিশ্লেষণ করুন। আগের ভুলগুলো কি এখনো হচ্ছে? সময়ের অভাবে কোনো অংশ বাদ যাচ্ছে? তাড়াহুড়ার কারণে সহজ প্রশ্নে ভুল করছেন? সেই অনুযায়ী পরের অনুশীলন ঠিক করুন।
স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রেও পরিচিত প্রশ্নের মুখস্থ উত্তর না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে বন্ধু, শিক্ষক বা অন্য কারও সঙ্গে পরীক্ষার মতো করে অনুশীলন করতে পারেন।
প্রতিদিন কতক্ষণ পড়বেন?
তিন মাসের প্রস্তুতিতে প্রতিদিন ঠিক কত ঘণ্টা পড়তেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। কারও জন্য প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন কার্যকর হতে পারে, আবার কারও আরও বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।
বরং সপ্তাহের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন। যেমন: নির্দিষ্ট কয়েকটি রিডিং অনুশীলন শেষ করবেন, দুটি রাইটিং লিখবেন কিংবা কয়েক দিন স্পিকিং রেকর্ড করবেন। এতে শুধু ‘আজ দুই ঘণ্টা পড়েছি’ হিসাব না করে আসলে কী কাজ হলো, সেটি বোঝা যায়। এক দিন পাঁচ ঘণ্টা পড়ে পরের চার দিন কিছু না করার চেয়ে নিয়মিত চর্চা বেশি কাজে আসে।
শুধু মক টেস্টেই আটকে থাকবেন না
প্রতিদিন পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিলেই দ্রুত উন্নতি হবে, এমন নয়। মক টেস্ট মূলত আপনি কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন এবং কোথায় সমস্যা হচ্ছে, সেটি বুঝতে সাহায্য করে।
কোনো একটি রিডিংয়ে দশটি ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি রিডিং শুরু না করে আগের ভুলগুলো দেখুন। একইভাবে রাইটিং লিখে রেখে দিলে হবে না। সম্ভব হলে কারও কাছ থেকে ফিডব্যাক নিন অথবা নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের মানদণ্ড দেখে নিজের লেখা যাচাই করুন। ভুল ধরার পর সেটি ঠিক করার কাজটাই প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শেষ সপ্তাহে নতুন চাপ নয়
পরীক্ষার আগের সপ্তাহে হঠাৎ করে পড়ার সময় দ্বিগুণ করার প্রয়োজন নেই। বরং যে ভুলগুলো নিয়মিত হচ্ছিল, সেগুলো আরেকবার দেখুন। পরীক্ষার নিয়ম, সময় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। পরীক্ষার আগের রাতে নতুন শব্দের দীর্ঘ তালিকা মুখস্থ করা বা রাত জেগে মক টেস্ট দেওয়ার চেয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া বেশি কাজে দেবে।
তিন মাসে আইইএলটিএসের প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো পরিকল্পনাটি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সাজানো। প্রথম মাসে পরীক্ষাকে বুঝুন, দ্বিতীয় মাসে দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করুন এবং তৃতীয় মাসে সময় ধরে পরীক্ষার মতো অনুশীলন করুন। অন্য কেউ কত দিনে কত ব্যান্ড পেয়েছেন, সেই হিসাবের সঙ্গে নিজের প্রস্তুতি মেলানোর প্রয়োজন নেই। তিন মাস শেষে আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বেশি অনুশীলন করা নয়, বরং আগের চেয়ে কম ভুল করা এবং পরীক্ষার প্রতিটি অংশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামলাতে পারা।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নোবিপ্রবি শাখার নেতৃবৃন্দ। আলোচনায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
আলোচনায় পকেট গেইট সার্বক্ষণিক খোলা রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ৩৬০ ডিগ্রি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ই-কারের ভাড়া ৫ টাকায় নামিয়ে আনা, ব্যাকলগ ও ইমপ্রুভমেন্টের নিয়ম পুনর্বিবেচনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে লোকাল যাত্রী পরিবহন বন্ধ এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া বাসগুলো দ্রুত মেরামত করে পরিবহন বহরে যুক্ত করার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
ইমপ্রুভমেন্টের ক্ষেত্রে সিজিপিএ ৩.০০-এর নিচে থাকা শিক্ষার্থীদের ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে ব্যাকলগের বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানানো হয়।
আলোচনায় নোবিপ্রবি ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন শান্ত, শাখাওয়াত সায়েম, সাখাওয়াত হোসেন, খায়রুল আমান শাওন ও আনিসুর রহমান সিফাতসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ করে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে নোবিপ্রবি ছাত্রদল।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এগ্রিকালচার বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হচ্ছে কৃষি। একটি দেশের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি খাদ্য নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ভবিষ্যতের কৃষিকে হতে হবে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও সহনশীল।”
বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরা শুধু কৃষির শিক্ষার্থী নও, তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম কারিগর। তোমাদের অর্জিত জ্ঞানকে মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এবং কৃষির বিদ্যমান সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।”
এ সময় কৃষির গুরুত্ব বিবেচনায় নোবিপ্রবিতে কৃষি অনুষদ ও গবেষণার জন্য আরও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির আশ্বাস দেন উপাচার্য।
জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও এগ্রিকালচার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাসান উদ্দীন।
বক্তারা বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য শুভকামনা জানান এবং দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে তাদের দক্ষতা ও মেধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্মৃতিচারণ এবং ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
এ সময় এগ্রিকালচার বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেছেন, অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষকদের জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের বদলির সুযোগ নেই। ফলে ঢাকা, রাজশাহী বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিয়মিতভাবে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান না। এ অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ পদে যুক্ত করে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর একটি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন অনুযায়ী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। সরকার এ ধরনের একটি ‘ইকোসিস্টেম’ বা ‘ইকো-লার্নিং সিস্টেম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে, যা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) লেকচারার অ্যান্ড অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর ফোরামের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। সংগঠনটি পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার (৯ আগস্ট) কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংগঠনটির এক আলোচনা সভায় এ কমিটি ঘোষণা করা হয় বলে জানান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো.শরিফুল ইসলাম।
কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনিমেল ব্রিডিং এ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো.শরিফুল ইসলাম। সদস্য হিসেবে আছেন ইন্টারডিসিপ্লিনারি ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটির সহকারী অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ সরকার, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক জনাব জুলি আক্তার এবং ভাষা বিভাগের প্রভাষক জনাব জাওয়াদ রামী।
আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো.শরিফুল ইসলাম জানান, আহ্বায়ক কমিটির কাজ হলো ফোরাম পুনর্গঠন এবং যত দ্রুত সম্ভব একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা। যতো দিন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী গঠিত হবে না ততো দিন এই কমিটি সংগঠনটি পরিচালনা করবে এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) লেকচারার ও সহকারী অধ্যাপকদের পেশাগত উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এই সংগঠনের লক্ষ্য। বিশেষ করে তরুণ ও প্রারম্ভিক পর্যায়ের গবেষকদের কৃষির অত্যাধুনিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। গবেষণার নতুন প্রযুক্তি, পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে আমরা কাজ করতে করবো। একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন,গবেষণা সহযোগিতা এবং উচ্চমানের গবেষণার জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। এই কমিটি তরুণ শিক্ষকদের পেশাগত বিকাশের পাশাপাশি বাকৃবির গবেষণা ও শিক্ষার মান আরও এগিয়ে নিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সাধারণ নির্বাচন ২০২৬-২৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে সমিতির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ চারটি পদে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়েছে। নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আসাদুর রহমান।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির কার্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। পরে ভোট গণনা শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
প্রধান নির্বাচন পরিচালক মো. লুৎফর রহমান জানান, নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতি ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এই চারটি পদে ভোটগ্রহণ হয়।সমিতির মোট ৫১৭ জন ভোটারের মধ্যে ৫০১ জন উপস্থিত ছিলেন। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৯৭ শতাংশ। সভাপতি পদে তিনজন, সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন, সহসভাপতি পদে তিনজন এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এর মধ্যে সভাপতি পদে মো. জাহাঙ্গীর আলম ২০৫ ভোট, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আসাদুর রহমান ১৭৬ ভোট, সহসভাপতি পদে মো. আব্দুল হালিম ২০৪ ভোট এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মো. শাহীন ২৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
এ ছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. হেলাল উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা পদে শরিফা খাতুন, সাংগঠনিক ও প্রচার সম্পাদক পদে এমদাদ হোসেন এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোবারক হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
কার্যনির্বাহী কমিটির বাকি পদগুলো পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনয়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
জানা যায়, নির্বাচন কমিশন গঠনের ২৫তম দিনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. লুৎফর রহমান। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন মো. সিরাজ উদ্দিন, মো. আব্দুল মান্নান, সোহেল রানা ও মো. কামরুজ্জামান।
নির্বাচন শেষে প্রধান নির্বাচন পরিচালক মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন খুব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে। ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল বেশ সক্রিয়। প্রশাসনও আমাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে। সব মিলিয়ে খুব সুন্দর পরিবেশে নির্বাচনটি সম্পন্ন হয়েছে।’
গ্র্যান্ড ফাইনালে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘ক্রাউন অব আর্গুমেন্ট: ফ্রেশার্স ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপ’ এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গণিত বিভাগ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শহিদুল ইসলাম সৌরিভ ও পূর্ণী আক্তারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসাইন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ জুলহাস উদ্দীন এবং কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহবুব।
টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগের দল অংশ নেয়। তিনটি রাউন্ড শেষে গণিত বিভাগ ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ফাইনালে জায়গা করে নেয়। উত্তেজনাপূর্ণ বিতর্ক শেষে গণিত বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহমান আস সাদী বলেন, “১৯টি বিভাগীয় দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য ছিল নবীন শিক্ষার্থীদের যুক্তিচর্চায় সম্পৃক্ত করা। আমি চাই, অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক নবীন বিতার্কিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেকে একজন চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুক।”
তিনি আরও বলেন, “আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কণ্ঠগুলো নিজেদের প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। আশা করি, আজকের এই নবীন বিতার্কিকরাই ভবিষ্যতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কাঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং জাতীয় পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করবে।”