• প্রকাশ : রবিবার ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:৫৯ এএম

ঢাকার অলিগলিতে নামে-বেনামে কার্যক্রম চালাচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ের শত-শত স্কুল। সরু গলির ভেতরে, আবাসিক ভবনের নিচতলায়, ভাড়া করা ফ্ল্যাটে কিংবা অস্থায়ী কিছু কক্ষে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। 


প্রি-প্রাইমারি, কেজি, স্কুল-মাদ্রাসা, ইংলিশ মিডিয়ামসহ নানা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীদের। প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগেরই নেই খোলা ক্লাসরুম, খেলার জায়গা কিংবা অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা।


এ ধরনের স্কুলগুলোর শিক্ষার মান, শিশুদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধানে সরকারের কোনো তদারকি নেই, নেই সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালাও। স্কুলগুলো কে খুলছে, কারা চালাচ্ছে, কার অনুমতিতে চলছে, সরকার আদৌ জানে কি না সেখানে কী হচ্ছে– এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।


সম্প্রতি রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় শারমিন একাডেমি নামে একটি স্কুলের ভেতরে এক শিশুশিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, স্কুলের অফিস কক্ষের ভেতরে এক ব্যক্তি ৪ বছর বয়সি শিশুটিকে বেধড়ক মারধর করছেন। 


পাশে গোলাপি শাড়ি পরা এক নারী শিশুটির হাত ধরে রেখেছেন। কিছুক্ষণ পরপর ওই ব্যক্তি শিশুটিকে আঘাত করছেন। পরে জানা যায়, মারধরকারী ব্যক্তি ওই স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার, আর পাশে বসে থাকা নারী সেখানকার প্রধান শিক্ষক শারমিন আক্তার। মূলত এ দুজনই একাডেমিটির মালিক। ঘটনার তিনদিন পর পুলিশ পবিত্র কুমারকে গ্রেপ্তার করে।


গত ২২ জানুয়ারি সকাল থেকে নয়াপল্টনের ওই এলাকা ও স্কুল প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, স্কুলের ভেতরে কোনো ধরনের কার্যক্রম নেই। মাঝে মধ্যে দুই- একজন অভিভাবক ও কৌতূহলী পথচারী সেখানে এসে স্কুলের ভেতরের দিকে তাকাচ্ছেন, কেউ কেউ খোঁজখবর নিচ্ছেন। তবে ভেতর থেকে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ থাকায় কারও প্রবেশের সুযোগ ছিল না।


স্কুল ভবনের কেয়ারটেকার কামরুল হক ঢাকা পোস্টকে জানান, গতকাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি খোলা ছিল। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাউকে আসতে দেখেননি তিনি। 


কেন স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে- এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কারণও জানাতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে জানতে স্কুলটির দেয়ালে ও ব্যানারে থাকা কয়েকটি নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সবগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।


স্থানীয় ও আশপাশের বাসিন্দারা জানান, ঢাকার বহু অলিগলির স্কুলের মতো শারমিন একাডেমিও পরিচালিত হচ্ছে সীমিত পরিসরে একটি ভবনের মধ্যে। ওই ভবনের ভেতরে রয়েছে একটি বিউটি পার্লারও। 


স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জানতেন সেখানে একটি স্কুল আছে কিন্তু সেটির অনুমোদন আছে কি না, শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কোনো নীতিমালা আছে কি না বা শিশুরা সেখানে নিরাপদ কি না- এসব বিষয়ে কারও কোনো ধারণা নেই।


অবশ্য গোটা রাজধানীজুড়েই এমন অসংখ্য স্কুল-মাদ্রাসা রয়েছে। যেগুলোর শুধু সাইনবোর্ড দেখে মানুষ, আর বাচ্চাদের ভর্তি করে দেয়। 


অনুমোদিত নাকি অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান তা আর যাচাই করে না কেউ। রাজধানীর আজিমপুর, পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বাড্ডা, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় অলিগলির ভেতরে গড়ে ওঠা এমন স্কুলের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। 


অনেক ক্ষেত্রে একটি ফ্ল্যাটে ৩০-৪০ জন শিশুকে গাদাগাদি করে বসানো হচ্ছে। নেই খোলা জায়গা, নেই জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা। তবুও এসব প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।


২০২৫ সালে বেড়েছে শিশু শিক্ষার্থী নির্যাতন


আইন অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ২০১১ সালে হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক শাস্তি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অসাংবিধানিক। শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী, শিশুকে নির্যাতন করা একটি ফৌজদারি অপরাধ।


প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী নির্যাতনের আলাদা তথ্য না থাকলেও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সামগ্রিক তথ্য বলছে, ২০২১ সালে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের নির্যাতনের ২১টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল, যেখানে শিক্ষার্থীদের বয়স ছিল শূন্য থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। 


এই সংখ্যা ২০২২ সালে বেড়ে ৪৯-এ দাঁড়ায়। তারপর ২০২৩ সালে সামান্য কমে ৪৭ এবং ২০২৪ সালে আরও কমে ৩০-এ নেমে আসে। তবে নির্যাতনের ঘটনা বন্ধ হয় না।


২০২৫ সালে শিশু নির্যাতনের ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৯টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।


উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা


এমন অবস্থায় রাজধানীসহ সারা দেশের অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। সামাকি মাধ্যমে অনেকে এসব নির্যাতনের ঘটনা দেখে আঁতকে উঠছেন এবং স্কুলগুলোর তদারকির ব্যবস্থা কী- সেই প্রশ্ন রাখছেন। তারা বলছেন, এখনই কঠোর নজরদারি ও বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের মাধ্যমে এসব স্কুলকে তদারকির আওতায় আনা দরকার।


রাজধানীর মিরপুর এলকার নাঈমা মিতু নামে এক অভিভাবক বলেন, আমরা বাবা-মায়েরা চাকরি বা কাজের কারণে বাধ্য হয়ে কাছাকাছি স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করাই। কিন্তু এসব স্কুলের ভেতরে কী হচ্ছে, শিক্ষকরা কেমন আচরণ করেন- তা জানার কোনো উপায় নেই। 


শারমিন একাডেমির ঘটনার ভিডিও দেখে আমি ভীষণ আতঙ্কিত। যদি আমার সন্তানের সঙ্গে এমন কিছু ঘটে? সরকারের উচিত এসব স্কুলের নিয়মিত তদারকি করা বা শিক্ষাদান ও শিক্ষকদের গুণগত মানের বিষয়ে খোঁজখবর রাখা।


শারমিন সুলতানা নামে আরেক অভিভাবক বলেন, লটারি-নির্ভর ব্যবস্থা আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারকে ঠেলে দিচ্ছে গলির ভেতরের স্কুলে। কোনো অনুমোদন, কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই যারা শিশুদের পড়ায়, তাদের হাতে আমরা সন্তান তুলে দিচ্ছি। 


তাছাড়া শিশুদের শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে দেখছি উল্টো চিত্র। এসব ছোট ছোট স্কুলে অভিভাবকদের কথাও তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত।


প্রি-প্রাইমারি শিক্ষা নিয়ে পরিকল্পনা নেই, রাষ্ট্রের তদারকি দাবি


বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল জায়গাটি হলো তদারকি না থাকা। প্রাইমারি বা কেজি স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় পড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত পরিদর্শন বা কার্যকর নজরদারি নেই। আর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল। 


এগুলো জাতীয় শিক্ষাবোর্ডের অধীনে নয়, আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণেও নেই। ফলে কার্যত এসব স্কুল একটি ‘আইনগত ধূসর অঞ্চলে’ পরিণত হচ্ছে।


আবার অনেক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয় বরং সোসাইটি, ট্রাস্ট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত। এতে করে স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষক নিয়োগ, শিশু সুরক্ষা বা আচরণবিধি– এসব বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। একবার সাইনবোর্ড ঝোলালেই কার্যক্রম শুরু করা যায়।


প্রাথমিক বা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক এমন অগোছালো ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাষ্ট্রের পরিসরে যা কিছু ঘটে, তার দায় সরকারের রয়েছে। 


একই সঙ্গে সমাজ ও কমিউনিটির স্টেকহোল্ডারদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশে একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে কোথায় কতগুলো প্রি-প্রাইমারি ও প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন তার সঠিক পরিকল্পনাই হয়নি।


অধ্যাপক জিন্নাহ বলেন, বর্তমানে ভর্তি ব্যবস্থায় লটারির ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে। লটারিতে যাদের নাম ওঠে, তারা স্কুলে ভর্তি হতে পারে, আর যাদের নাম ওঠে না, তারা কোথায় যাবে- এই প্রশ্নের কোনো কার্যকর সমাধান নেই। 


একদিকে শিক্ষা সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত, অন্যদিকে ভর্তি সীমিত করার এই বাস্তবতা একটি বড় বৈপরীত্য তৈরি করছে। এই সুযোগেই পাড়া-মহল্লায় নামে-বেনামে অনেক বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল গড়ে উঠছে, যেগুলো মূলত ব্যবসায়িক মানসিকতায় পরিচালিত।


তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিশুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে আঘাত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নীতির বাস্তবায়ন দেখা যায় না। 


শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার সঙ্গে নার্সিং, কেয়ারিং ও টিচিং–এই তিনটি বিষয় গভীরভাবে যুক্ত। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও মনোজাগতিক প্রস্তুতি ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে শিশু নির্যাতনের মতো অমানবিক ঘটনা ঘটতেই থাকবে।


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই একক মালিকানাভিত্তিক ক্ষমতার জায়গা হতে পারে না উল্লেখ করে অধ্যাপক জিন্নাহ বলেন, শিশুদের শারীরিক নির্যাতন, অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে পরিচালনা করা গ্রহণযোগ্য নয়। দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানো নয় বরং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর মান উন্নয়ন জরুরি। পাশাপাশি হাওর, বাওর, চর ও প্রত্যন্ত এলাকায় মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতে হবে।


তিনি বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বহু শিক্ষক রয়েছেন, কিন্তু তাদের কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। শুধু তালিকা তৈরি করে বসিয়ে না রেখে শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। 


অপ্রতুল অবকাঠামো, অল্পসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে একাধিক শ্রেণি পরিচালনা, নামমাত্র বেতন ও অতিরিক্ত কাজের চাপ- এসব বাস্তবতায় শিক্ষকরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। ফলে এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিশু নির্যাতনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবেই।


এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট শিশুদের শিক্ষা দেওয়া সবচেয়ে কঠিন ও দায়িত্বশীল কাজ। শিশুরা হলো একটি ‘ছোট চারা গাছ’। এই চারার যত্ন নিতে হলে দক্ষ ‘মালি’ প্রয়োজন। 


অর্থাৎ যারা শিশুদের দেখভাল ও শিক্ষা দেবেন, তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। এই জায়গায় ঘাটতি তৈরি হলেই বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।


শিশুকে নির্যাতনের অধিকার কারও নেই, নিবন্ধনের আওতায় আসছে সব স্কুল


শিশু শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, কোনো শিশুকে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতনের অধিকার কারও নেই। এটি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হলে তা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।


ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারিভাবে পরিচালিত কেজি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর তদারকি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিবন্ধনের বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর দেখে থাকে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই সরবরাহের বিষয়টিও নিবন্ধনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।


তবে সরাসরি মনিটরিং বা তদারকির দায়িত্ব মূলত মন্ত্রণালয়ের বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নিবন্ধনসংক্রান্ত কার্যক্রমসহ অন্যান্য নির্ধারিত কাজগুলো তদারকি করে থাকে।


ডিজি আরও জানান, বেসরকারি বিদ্যালয় নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত একটি বিধিমালা রয়েছে, যা সম্প্রতি সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত সেই বিধিমালার আলোকে বিদ্যালয়গুলোর নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে সম্প্রতি একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট টিমের প্রশিক্ষণ চলছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরই সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা করা হবে– যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মানদণ্ড বা ক্রাইটেরিয়া পূরণ করে, কেবল তারাই নিবন্ধনের আওতায় আসবে।


এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার কার্যালয়ে গিয়ে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৯ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নোবিপ্রবি শাখার নেতৃবৃন্দ। আলোচনায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।


আলোচনায় পকেট গেইট সার্বক্ষণিক খোলা রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ৩৬০ ডিগ্রি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ই-কারের ভাড়া ৫ টাকায় নামিয়ে আনা, ব্যাকলগ ও ইমপ্রুভমেন্টের নিয়ম পুনর্বিবেচনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে লোকাল যাত্রী পরিবহন বন্ধ এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া বাসগুলো দ্রুত মেরামত করে পরিবহন বহরে যুক্ত করার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।


ইমপ্রুভমেন্টের ক্ষেত্রে সিজিপিএ ৩.০০-এর নিচে থাকা শিক্ষার্থীদের ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে ব্যাকলগের বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানানো হয়।


আলোচনায় নোবিপ্রবি ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন শান্ত, শাখাওয়াত সায়েম, সাখাওয়াত হোসেন, খায়রুল আমান শাওন ও আনিসুর রহমান সিফাতসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ করে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে নোবিপ্রবি ছাত্রদল।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০৩ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এগ্রিকালচার বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।




অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হচ্ছে কৃষি। একটি দেশের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি খাদ্য নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ভবিষ্যতের কৃষিকে হতে হবে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও সহনশীল।”


বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরা শুধু কৃষির শিক্ষার্থী নও, তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম কারিগর। তোমাদের অর্জিত জ্ঞানকে মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এবং কৃষির বিদ্যমান সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।”


এ সময় কৃষির গুরুত্ব বিবেচনায় নোবিপ্রবিতে কৃষি অনুষদ ও গবেষণার জন্য আরও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির আশ্বাস দেন উপাচার্য।


জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও এগ্রিকালচার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাসান উদ্দীন।


বক্তারা বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য শুভকামনা জানান এবং দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে তাদের দক্ষতা ও মেধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্মৃতিচারণ এবং ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।


এ সময় এগ্রিকালচার বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫৫ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেছেন, অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষকদের জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।


মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী উপস্থিত ছিলেন।


উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের বদলির সুযোগ নেই। ফলে ঢাকা, রাজশাহী বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিয়মিতভাবে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান না। এ অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ পদে যুক্ত করে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর একটি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।


তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন অনুযায়ী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। সরকার এ ধরনের একটি ‘ইকোসিস্টেম’ বা ‘ইকো-লার্নিং সিস্টেম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে, যা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৪ পিএম

‎বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) লেকচারার অ্যান্ড অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর ফোরামের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। সংগঠনটি পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার (‎৯ আগস্ট) কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংগঠনটির এক আলোচনা সভায় এ কমিটি ঘোষণা করা হয় বলে জানান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ​ড. মো.শরিফুল ইসলাম।

কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ​ড. মো. মাসুদ রানা এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনিমেল ব্রিডিং এ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ​ড. মো.শরিফুল ইসলাম। ‎সদস্য হিসেবে আছেন ইন্টারডিসিপ্লিনারি ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটির সহকারী অধ্যাপক ​ড. অনিরুদ্ধ সরকার, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক জনাব জুলি আক্তার এবং ভাষা বিভাগের প্রভাষক জনাব ​জাওয়াদ রামী।

‎আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ​ড. মো.শরিফুল ইসলাম জানান, আহ্বায়ক কমিটির কাজ হলো ফোরাম পুনর্গঠন এবং যত দ্রুত সম্ভব একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা। যতো দিন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী গঠিত হবে না ততো দিন এই কমিটি সংগঠনটি পরিচালনা করবে এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

‎তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) লেকচারার ও সহকারী অধ্যাপকদের পেশাগত উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এই সংগঠনের লক্ষ্য। বিশেষ করে তরুণ ও প্রারম্ভিক পর্যায়ের গবেষকদের কৃষির অত্যাধুনিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। গবেষণার নতুন প্রযুক্তি, পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে আমরা কাজ করতে করবো। একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন,গবেষণা সহযোগিতা এবং উচ্চমানের গবেষণার জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। এই কমিটি তরুণ শিক্ষকদের পেশাগত বিকাশের পাশাপাশি বাকৃবির গবেষণা ও শিক্ষার মান আরও এগিয়ে নিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩০ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সাধারণ নির্বাচন ২০২৬-২৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে সমিতির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ চারটি পদে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়েছে। নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আসাদুর রহমান।


সোমবার (২৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির কার্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। পরে ভোট গণনা শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।


প্রধান নির্বাচন পরিচালক মো. লুৎফর রহমান জানান, নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতি ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এই চারটি পদে ভোটগ্রহণ হয়।সমিতির মোট ৫১৭ জন ভোটারের মধ্যে ৫০১ জন উপস্থিত ছিলেন। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৯৭ শতাংশ। সভাপতি পদে তিনজন, সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন, সহসভাপতি পদে তিনজন এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।


এর মধ্যে সভাপতি পদে মো. জাহাঙ্গীর আলম ২০৫ ভোট, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আসাদুর রহমান ১৭৬ ভোট, সহসভাপতি পদে মো. আব্দুল হালিম ২০৪ ভোট এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মো. শাহীন ২৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।


এ ছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. হেলাল উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা পদে শরিফা খাতুন, সাংগঠনিক ও প্রচার সম্পাদক পদে এমদাদ হোসেন এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোবারক হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।


কার্যনির্বাহী কমিটির বাকি পদগুলো পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনয়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


জানা যায়, নির্বাচন কমিশন গঠনের ২৫তম দিনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. লুৎফর রহমান। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন মো. সিরাজ উদ্দিন, মো. আব্দুল মান্নান, সোহেল রানা ও মো. কামরুজ্জামান।


নির্বাচন শেষে প্রধান নির্বাচন পরিচালক মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন খুব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে। ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল বেশ সক্রিয়। প্রশাসনও আমাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে। সব মিলিয়ে খুব সুন্দর পরিবেশে নির্বাচনটি সম্পন্ন হয়েছে।’

সর্বশেষ সব খবর

গ্র্যান্ড ফাইনালে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৬ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘ক্রাউন অব আর্গুমেন্ট: ফ্রেশার্স ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপ’ এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গণিত বিভাগ। 


সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে এ আয়োজন করা হয়। 


অনুষ্ঠানে শহিদুল ইসলাম সৌরিভ ও পূর্ণী আক্তারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসাইন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ জুলহাস উদ্দীন এবং কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহবুব। 


টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগের দল অংশ নেয়। তিনটি রাউন্ড শেষে গণিত বিভাগ ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ফাইনালে জায়গা করে নেয়। উত্তেজনাপূর্ণ বিতর্ক শেষে গণিত বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।


ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহমান আস সাদী বলেন, “১৯টি বিভাগীয় দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য ছিল নবীন শিক্ষার্থীদের যুক্তিচর্চায় সম্পৃক্ত করা। আমি চাই, অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক নবীন বিতার্কিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেকে একজন চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুক।”


তিনি আরও বলেন, “আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কণ্ঠগুলো নিজেদের প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। আশা করি, আজকের এই নবীন বিতার্কিকরাই ভবিষ্যতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কাঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং জাতীয় পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করবে।”

সর্বশেষ সব খবর