জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১১:৪৭ পিএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ কি পুংলিঙ্গ, স্ত্রীলিঙ্গ নাকি ক্লীবলিঙ্গ- আমি জানি না। কারণ, আদেশের জামানা তো ১৯৭৩ সালেই শেষ, এখন রাষ্ট্রপতি কীভাবে অর্ডার জারি করলেন? আমরা তখনই প্রশ্ন তুলেছিলাম, আমরা এই সব আরোপিত জবরদস্তিমূলক কোনো আদেশের বলে সার্বভৌম জাতীয় সংসদের ক্ষমতা খর্ব হতে দেবো না।


মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলয়নাতনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের প্রতি আইনজীবীদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি আমরা শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ। এটা রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, আমরা সই করেছি। আমরা তো জুলাই জাতীয় সনদকে অস্বীকার করি না। জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা শব্দকে অক্ষরকে আমরা ধারণ করি এবং আমরা সেটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, জাতির কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি। বরং যারা সমালোচনা করছেন, তারা সই করেছেন এই গত কয়েকদিন আগে নির্বাচনের পরে।


তিনি বলেন, আমরা সংবিধান মেনেই এ পর্যন্ত এসেছি, সংবিধান মেনে চলছি এবং সামনেও সংবিধান মেনে চলার আকাঙ্ক্ষা রাখি। কিন্তু আমাদের বক্তব্য হলো যদি গণভোটের রায়কে আমরা সম্মান দিতে চাই, জাতীয় সংসদে আগে যেতে হবে। সেখানে আলাপ আলোচনা করতে হবে, আইন করতে হবে। সংবিধানে সেটা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তারপরে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হয়, সেটা সেখানেই নির্ধারণ করা হবে, সিদ্ধান্ত হবে এবং কোন ফর্মে শপথ হবে সেটা তৃতীয় তফসিলে আনতে হবে। কে শপথ বাক্য পাঠ করাবে সেটা নির্ধারিত হবে, তারপরে এটা বিধিসম্মত হবে।


সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, যাদের জবরদস্তিমূলক শপথ পড়ানো হলো, যিনি জবরদস্তিমূলক শপথ পড়ালেন, সেটা সংবিধান মেনে হয়েছে কি না, সেটা অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টের দেখার দায়িত্ব। কারণ বিচারপতিরা সংবিধান সুরক্ষার শপথ নিয়েছেন।


তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন কীভাবে করতে হবে, সেটা জাতীয় সংসদে বসে আমরা আলাপ করবো। তার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করবো। এরপরে যদি সবাই সম্মত হয়, গৃহীত হয়- সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তখন আমরাও শপথ নেবো।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের অভিপ্রায়ের কথা বলা হচ্ছে। অভিপ্রায়ের অনুকূলে সরকার হয়েছে, অভিপ্রায়ের অনুকূলে নির্বাচন হয়েছে, সুতরাং অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে সবকিছু করতে হবে বলা হচ্ছে। আমাদের কথা হলো, অভিপ্রায় যদি সবকিছু হয়, সংবিধানের আর্টিকেল ১০৬ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টে আসতে হলো কেন? অভিপ্রায় যদি সবকিছু হয় আর্টিকেল ১০৬ অনুসারে প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্যান্য উপদেষ্টা শপথ নিলেন কেন?


তিনি বলেন, যদি বলা হয় সংবিধান অনুসারে তিন মাসের মধ্যে শেখ হাসিনা যাওয়ার পরে নির্বাচন হওয়ার কথা, নির্বাচন হলো না কেন? এই না হওয়ার জন্য ১০৬ এর দ্বারস্থ হতে হয়েছে। সেই এক্সেপশনাল পজিশনের জন্য ডকট্রিন অব নেসেসিটির জন্যই ১০৬ এর কাছে যেতে হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের কাছে যেতে হয়েছে।


জামায়াতকে ইঙ্গিত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন অনেকে বলে যে, এত ভোট পেয়েছিলাম আমরা, নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপনারা স্বপ্নে দেখেন কীভাবে। স্বপ্ন দেখারও তো একটা সীমারেখা আছে। যে দল মনে করে যে তারাই সরকার গঠন করতে পারতো, তাদের হারানো হয়েছে- এই স্বপ্ন দেখাও তো নাজায়েজ, একটা সীমারেখা থাকে।


তিনি আরও বলেন, যাই হোক, গণতন্ত্রের মাঠে অনেকে অনেক কথা বলবে, আমরা এগুলো শুনবো। কারণ এগুলো শোনার জন্যই তো আমরা জীবন দিয়েছি। এগুলো বলার জন্যই তো আমরা গণঅভ্যুত্থান করেছি। সবাই সবকিছু বলবে, বিতর্ক হবে, বাহাস হবে। আসুন ভাইসব, জাতীয় সংসদের ভেতরে ঢুকে যাই। ওখানে সব বিতর্ক হবে এবং আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে যেটা জনগণ চাইবে, যেটা আইনানুগ হবে, যেটা সাংবিধানিক হবে- সেটা আমরা করবো।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ পিএম

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আদেশটি যথাযথ ছিল না। ওই মামলায় ফেনী জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ যথাযথভাবে বিচারিক মানসিকতা প্রয়োগ করেননি- পর্যবেক্ষণে এমন অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফৌজদারি মামলার বিচারকাজ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  


আজ সোমবার ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের রায় ঘোষণার সময় এ আদেশ দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। এই মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি। মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।


২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর আলোচিত এই মামলাটির রায় দিয়েছিলেন নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ। রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি হাইকোর্টে আসে। পরে আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।


নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন তাঁর মা শিরীন আখতার। এ মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর তাঁর অনুগত কয়েকজন জনমত গঠন করে তাঁকে কারাগার থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে। ৩ এপ্রিল অভিযুক্ত খুনিরা কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করে। ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাঁকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। সেখান থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছর ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।


ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।


নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

সর্বশেষ সব খবর

নুসরাত জাহান রাফি

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৫ পিএম

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। এছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি। মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম। 


আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায় ঘোষণা করে আজ সোমবার এ আদেশ দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।আদালতে আসামিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।


আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি হাইকোর্টে আসে। পরে আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।


নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন তাঁর মা শিরীন আখতার। এ মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর তাঁর অনুগত কয়েকজন জনমত গঠন করে তাঁকে কারাগার থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে। ৩ এপ্রিল অভিযুক্ত খুনিরা কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করে। ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাঁকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। সেখান থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছর ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।


ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।


নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

সর্বশেষ সব খবর

হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৪ হাজার ৭১৮টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মোট ৬০ হাজার ৪৪৮টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 


এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬৭ হাজার ৩৫৫টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 



বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



সর্বশেষ সব খবর

সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:২৯ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করতে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।


বুধবার (১৯ আগস্ট) হলফনামায় তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।


রিটকারীর আইনজীবী জানিয়েছেন, বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হবে।


রিট করার বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল জানান, আবদুল হান্নান মাসউদের হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগের ভিত্তিতে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়েছে।



রিটে আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করার পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪৭ পিএম

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।


মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভেকেট ইউনুছ আলী আকন্দ।


সোমবার (১৭ আগস্ট) সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিটের আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এ রিট করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ।


সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’


আইনজীবী জানান, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হয়।


সর্বশেষ সব খবর

হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ পিএম

হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৫ হাজার চারশত পাঁচটি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১২ কার্যদিবসে মোট ৫৫ হাজার ৭৩০টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 



এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬২ হাজার ৬৩৭টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 




বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ সব খবর