আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি করা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড

  • প্রকাশ : সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১১:৫২ পিএম

আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি করা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড, দ্রুত তদন্ত ও বিচারের জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট সময়সীমা। তবু পাল্টায়নি রূঢ় বাস্তবতা। রাজধানীর কাফরুলের গার্মেন্টস কর্মী বীথির (ছদ্মনাম) মতো নির্যাতনের শিকার অসংখ্য নারী আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন বিচারের আশায়। 


যেখানে আইন অনুযায়ী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ হওয়ার কথা, সেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্ত শেষ হতেই লাগছে মাসের পর মাস, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে পার হয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছরও। আর অভিযোগ গঠনের পর চার থেকে ছয় মাস এমনকি আট মাস অন্তর শুনানির তারিখ পড়ছে। সবমিলিয়ে বিচার শেষ হতে লেগে যাচ্ছে বছরের পর বছর।


তদন্তে ধীরগতি, সাক্ষী হাজির না হওয়া এবং শুনানির দীর্ঘ বিরতিতে ঝুলে আছে হাজারো মামলা। অপরাধ দমনে কঠোর আইন থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রয়োগ না থাকায় প্রায়ই পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে দীর্ঘায়িত হচ্ছে ভুক্তভোগীদের দীর্ঘশ্বাস।


রাজধানীর কাফরুলের জব্বারের গলিতে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিবেশীর বাসায় ধর্ষণের শিকার হন গার্মেন্টস কর্মী বীথি (ছদ্মনাম)। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় এক বছরের মাথায় ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেয় কাফরুল থানা পুলিশ। চার্জশিট দাখিলের পর গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি বিচারের জন্য পাঠানো হয় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এ। 


বিচারে পাঠানোর পাঁচ মাস পর গত বছরের ১৭ জুলাই এ মামলায় অভিযোগ গঠন করেন বিচারক। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য চার মাস পর একই বছরের ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের দিন কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির না হওয়ায় এ দফায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয় আট মাস পর। আগামী ৯ জুলাই মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। দুই আসামিই রয়েছে জামিনে। অন্যদিকে, বিচারপ্রার্থী মাসের পর মাস ঘুরছেন আদালতের বারান্দায়।


সর্বশেষ আইন অনুযায়ী ধর্ষণের মামলায় অভিযোগ গঠনের পর থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করার কথা। অপরাধী হাতেনাতে ধরা পড়লে ১৫ কার্যদিবসে এবং হাতেনাতে ধরা না পড়লে ৩০ কার্যদিবসে তদন্ত শেষ করার কথা বলা আছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্ত শেষ হতে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর পার হয়ে যাচ্ছে। আর অভিযোগ গঠনের পর ৪ থেকে ৬ মাস, এমনকি ৮ মাস অন্তর মামলার শুনানির তারিখ পড়ছে। বিচার শেষ হতে লেগে যাচ্ছে বছরের পর বছর। ফলে ধর্ষণের বিচার ও শাস্তি দৃশ্যমান হচ্ছে না। অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচিত ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসার পর নড়ে চড়ে বসে সবাই। সরকার-প্রশাসন, নারী অধিকার কর্মীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। ধর্ষণের মতো ঘটনা প্রতিরোধে নেওয়া হয় নানামুখী পদক্ষেপ। বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে ধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশ উত্তাল অবস্থা তৈরি হওয়ার পর দুবার আইন সংশোধনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নোয়াখালীতে বিবস্ত্র করে এক নারীকে নির্যাতন, সিলেটের এমসি কলেজে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, খিলক্ষেতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যৌন নিপীড়নের ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর আইন সংশোধন করে সরকার। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এ আইনের অধীনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে। পাশাপাশি ধর্ষণ মামলার আসামি শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়।


এরপর গত বছরের মার্চে মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার আইন সংশোধন করে ধর্ষণের বিচার ও তদন্তের সময়সীমা কমিয়ে আনে। ধর্ষণের ঘটনার তদন্ত ও বিচারের সময় অর্ধেক করা হয়। ধর্ষণের ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়লে তদন্ত হবে ১৫ কার্যদিবসে; অন্য ক্ষেত্রে ৩০ কার্যদিবসে তদন্ত শেষ করতে হবে। 


এ ছাড়া অভিযোগ গঠনের পর থেকে বিচার হবে ৯০ কার্যদিবসে। তবে বিচারক মনে করলে সময় বাড়াতে পারবেন। এ ছাড়া ভুক্তভোগী ও আসামির ডিএনএ পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে বলা হয়, আদালত যদি মনে করেন ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া মেডিকেল সনদ দিয়ে বিচারকাজ পরিচালনা করা যাবে, তাহলে ডিএনএ পরীক্ষা লাগবে না।


ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর এ অপরাধ দমন ও অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির মুখোমুখি করতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ধর্ষণের বিচার ও তদন্তে গতি ফেরেনি। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন থানার বেশকিছু ধর্ষণ মামলা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৫-৬ মাস ধরে ঝুলে আছে তদন্ত। ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে আসামি আটক হলেও অধ্যাদেশ অনুসারে ১৫ কার্যদিবসে প্রতিবেদন দাখিল হচ্ছে না। 


গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদে নিজ বাসায় ধর্ষণের শিকার হন ১৫ বছরের কিশোরী আমেনা খাতুন (ছদ্মনাম)। আসামি মো. রিয়াদ চৌধুরীকে (১৯) ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় হওয়া ধর্ষণ মামলায় নতুন অধ্যাদেশ অনুসারে ১৫ কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা। কিন্তু ৬ মাস পার হয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি দক্ষিণখান থানা পুলিশ। পাঁচবার সময় পিছিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৯ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত। আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছে।


জানতে চাইলে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক সাদিকুজ্জামান বলেন, ‘আমি গত মাসে বদলি হয়ে গেছি। এত কম সময়ে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া ও তদন্ত শেষ করা সম্ভব হয় না। ধর্ষণের সঙ্গে এ মামলায় পর্নোগ্রাফি আইনও আছে।’


আসামি হাতেনাতে ধরা পড়েছে, নতুন অধ্যাদেশ অনুসারে ১৫ কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান থাকলেও এ মামলায় কেন হয়নি, জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকার থেকে নির্দিষ্ট সময় বললেও বাস্তবতা ভিন্ন। নতুন অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে আমার জানা নেই।’


গত বছর রাজধানীর উত্তরখানের চাঁনপাড়া এলাকায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলিং করে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠে জাহিদুল হক ওরফে সাফান (২৬) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ৩১ অক্টোবর জাহিদুলের বিরুদ্ধে মামলার ৫ মাস পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি উত্তরখান থানা পুলিশ। আসামিকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন ধার্য রয়েছে।


এদিকে বিচারের পথ সুগম করতে দুই দফা আইন সংশোধনের পরও দেশে ধর্ষণের ঘটনা কমেনি। উল্টো বিগত এক বছরে ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েছে ২৭ শতাংশ। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে সারা দেশে মামলা হয় ২১ হাজার ৯৩৯টি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় ৯টি অভিযোগে মামলা করা যায়। সেগুলো হলো ধর্ষণ ও ধর্ষণের কারণে মৃত্যু, বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক স্থাপন, যৌনপীড়ন, যৌতুক, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে শিশুর অঙ্গহানি এবং দহনকারী পদার্থ দিয়ে সংঘটিত অপরাধ। 


গত বছর হওয়া মামলার মধ্যে ৭ হাজার ৬৮টি ধর্ষণের অভিযোগের। ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ৫ হাজার ১৭১ জন ও শিশু ১ হাজার ৮৯৭। ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর নারী নির্যাতনের মামলার সংখ্যা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালে ১৭ হাজার ৫৭১টি মামলা হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের মামলা ছিল ৫ হাজার ৫৬৬টি। তার আগে ২০২৩ সালে ১৮ হাজার ৯৪১টি, ২০২২ সালে ২১ হাজার ৭৬৬টি ও ২০২১ সালে ২২ হাজার ১৩৬টি মামলা হয়েছিল নারী নির্যাতনের অভিযোগে।


উচ্চ আদালতের তথ্যানুসারে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের ৯৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৭টি মামলা বিচারাধীন ছিল। ট্রাইব্যুনালপ্রতি গড়ে ১৩শর বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি। ঢাকার ৯টি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ১১ হাজার ৫৬৭টি। ৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন ৩ হাজার ৯১টি মামলা।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন সংশোধন করে তা যদি বাস্তবে প্রয়োগ না করা হয়, তাহলে সে সংশোধনী তো লোকদেখানো। এমন লোকদেখানো কাজ করে ধর্ষণের মতো ঘটনা কমানো যাবে না। আইনে কঠোর শাস্তির যে বিধান করা হয়েছে, তার প্রয়োগ করতে হবে। অপরাধীদের শাস্তি দৃশ্যমান হতে হবে। এর জন্য বিচারক সংকটসহ যেসব সংকট রয়েছে, যেসব জায়গায় ত্রুটি রয়েছে, সেগুলো দূর করতে হবে। তাহলেই ধর্ষণের মতো অপরাধের লাগাম টানা যাবে। অন্যথায় অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলে এ অপরাধ ক্যানসারের মতো ছড়াতেই থাকবে।


বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. শাহজাহান সাজু কালবেলাকে বলেন, ‘দেশে জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় ধর্ষণের ঘটনাও বেশি। কিন্তু ঘটনার তুলনায় বিচারক অনেক কম। যে পরিমাণ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাতে দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে এখনই আরও ১০ হাজার বিচারক প্রয়োজন। কিন্তু আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এত বিপুলসংখ্যক বিচারক একসঙ্গে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণে প্রতি বছর বিচারক নিয়োগ বাড়াতে হবে।’


তিনি মনে করেন, মামলার সংখ্যা অনুযায়ী হাইকোর্টে পাঁচশ এবং আপিল বিভাগে একশ বিচারক থাকা উচিত। প্রয়োজনে ভবন ভাড়া করে আদালত বসাতে হবে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হলে সরকারের যে পরিমাণ রাজস্ব আয় বাড়বে, তা দিয়ে এ ব্যয় সংকুলান করা সম্ভব বলে দাবি করেন সাবেক এ জেলা ও দায়রা জজ। 


তিনি বলেন, ‘শুধু আইন সংশোধন করেই ধর্ষণ কমানো যাবে না। আইনের প্রয়োগ দৃশ্যমান হতে হবে। অপরাধীদের সাজা দৃশ্যমান হতে হবে। তাহলেই সমাজে এ অপরাধের ওপর প্রভাব পড়বে। অন্যথায় এ অপরাধ কমানো সম্ভব নয়।’


বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সালামা আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর অভিযোগের বিচারের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটর, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিচারকের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। তাদের সমন্বিত চেষ্টাই পারে বিচারে গতি ফেরাতে। পাশাপাশি মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্টদের মনিটরিং থাকতে হবে। তাহলেই বিচার দ্রুত সম্ভব। তিন কার্যদিবসেও মামলার বিচার করার নজির আছে, তাহলে মামলা কেন বছরের পর বছর পড়ে থাকবে?’


এ ক্ষেত্রে সংকট তুলে ধরে সালামা আলী বলেন, ‘সারা দেশে একটা অস্থির পরিবেশ। আইন প্রয়োগের কাঠামো নেই। ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অভিযোগ তদন্তে যোগ্য তদন্ত কর্মকর্তা নেই, যোগ্য আইন কর্মকর্তা নেই। ভালো অবকাঠামো নেই। বিচারকের স্বল্পতাসহ নানা সংকট রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে ব্যাপারে সংসদে আলোচনার দাবি জানাই।’


শুধু বিচার প্রক্রিয়া তদারকি না করে তদন্ত প্রক্রিয়ার দিকেও নজর দেওয়া দরকার বলে মনে করেন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তিনি বলেন,‘বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে তদন্তকাজ শেষ করা হচ্ছে কি না, দেখতে হবে। মামলায় পুলিশ ও চিকিৎসকের মতো পেশাদার সাক্ষীরা অনেক সময় আসেন না। অনেকে বদলি হয়ে যান। তাদের আসা-যাওয়ার কোনো খরচও দেওয়া হয় না। এ বিষয়টা সমন্বয় করা দরকার। সাক্ষী সুরক্ষা জরুরি।’ 


নারী নির্যাতনের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ পিএম

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আদেশটি যথাযথ ছিল না। ওই মামলায় ফেনী জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ যথাযথভাবে বিচারিক মানসিকতা প্রয়োগ করেননি- পর্যবেক্ষণে এমন অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফৌজদারি মামলার বিচারকাজ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  


আজ সোমবার ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের রায় ঘোষণার সময় এ আদেশ দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। এই মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি। মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।


২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর আলোচিত এই মামলাটির রায় দিয়েছিলেন নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ। রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি হাইকোর্টে আসে। পরে আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।


নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন তাঁর মা শিরীন আখতার। এ মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর তাঁর অনুগত কয়েকজন জনমত গঠন করে তাঁকে কারাগার থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে। ৩ এপ্রিল অভিযুক্ত খুনিরা কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করে। ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাঁকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। সেখান থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছর ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।


ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।


নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

সর্বশেষ সব খবর

নুসরাত জাহান রাফি

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৫ পিএম

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। এছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি। মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম। 


আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায় ঘোষণা করে আজ সোমবার এ আদেশ দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।আদালতে আসামিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।


আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি হাইকোর্টে আসে। পরে আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।


নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন তাঁর মা শিরীন আখতার। এ মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর তাঁর অনুগত কয়েকজন জনমত গঠন করে তাঁকে কারাগার থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে। ৩ এপ্রিল অভিযুক্ত খুনিরা কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করে। ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাঁকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। সেখান থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছর ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।


ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।


নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

সর্বশেষ সব খবর

হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৪ হাজার ৭১৮টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মোট ৬০ হাজার ৪৪৮টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 


এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬৭ হাজার ৩৫৫টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 



বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



সর্বশেষ সব খবর

সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:২৯ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করতে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।


বুধবার (১৯ আগস্ট) হলফনামায় তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।


রিটকারীর আইনজীবী জানিয়েছেন, বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হবে।


রিট করার বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল জানান, আবদুল হান্নান মাসউদের হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগের ভিত্তিতে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়েছে।



রিটে আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করার পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪৭ পিএম

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।


মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভেকেট ইউনুছ আলী আকন্দ।


সোমবার (১৭ আগস্ট) সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিটের আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এ রিট করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ।


সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’


আইনজীবী জানান, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হয়।


সর্বশেষ সব খবর

হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ পিএম

হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৫ হাজার চারশত পাঁচটি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১২ কার্যদিবসে মোট ৫৫ হাজার ৭৩০টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 



এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬২ হাজার ৬৩৭টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 




বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ সব খবর