• প্রকাশ : সোমবার ১০ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ৩:৩২ এএম
  • আপডেট : সোমবার ১০ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ৩:৩২ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর

জাতীয় নির্বাচনে নাশকতার আশঙ্কা, ইসির প্রস্তুতি

জাতীয় নির্বাচনে নাশকতার আশঙ্কা, ইসির প্রস্তুতি

জাতীয় নির্বাচনে নাশকতার আশঙ্কা, ইসির প্রস্তুতি

জাতীয় নির্বাচনে নাশকতার আশঙ্কা, ইসির প্রস্তুতি

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ৩:৩২ এএম

ডিসেম্বরের প্রথমদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে রয়েছে কমিশন। তবে নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসি।

সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসংক্রান্ত বৈঠকে কমিশন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেশে নাশকতা, সহিংসতা ও গুজব ছড়ানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে। সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরাও বৈঠকে একই ধরনের শঙ্কা জানিয়েছেন।

বৈঠকের কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, ভোটারদের বাধা দেওয়া, নির্বাচনি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা এবং ভোটের সততা (ইন্টিগ্রিটি) নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনের মোট ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৮ হাজার ৬৬৩টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

রোববার বৈঠকের কার্যবিবরণী সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাব, সিআইডি, ডিজিএফআই ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইসির ধারণা, বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়ায় নাশকতা বা জালিয়াতির চেষ্টা হতে পারে। নির্বাচনকালীন সময়ে দেশে অবৈধ অস্ত্রের জোগান আসতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে।

এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গুজব, ভুল তথ্য ও ভয়েস ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে চরিত্র হননের প্রচেষ্টা হতে পারে, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “নির্বাচনপূর্ব সময়ে কিছু অস্বাভাবিক পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, পরাজিত প্রার্থীর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা নির্বাচনের সততা নিয়ে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষের ভয়েস ক্লোন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো কিংবা প্রবাসীদের ভোটিং প্রক্রিয়া বানচাল করার চেষ্টা হতে পারে। এসব মোকাবিলায় সব বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে হবে।”

বৈঠকে সেনাবাহিনী প্রধানের প্রতিনিধি জানান, নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হামলা, ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, “ভোটগ্রহণের সময় সেনাবাহিনীকে যদি বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে তারা আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।”

এছাড়া ভোটগ্রহণ সামগ্রী ও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সুপারিশও করেন তিনি।

বৈঠকে আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক বলেন, “আগের নির্বাচনের সঙ্গে এবারের তুলনা করা ঠিক হবে না, কারণ এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ। রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত আনসার সদস্যদের নির্বাচনে মোতায়েন করা হবে না।”

ডিজিএফআই প্রধান বলেন, নির্বাচনে গুজব অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

সিআইডি প্রধান জানান, ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ও এআই-নির্ভর গুজব ছড়ানোর একাধিক প্রচেষ্টা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। র‌্যাবের সাইবার ইউনিট এ বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এসবি প্রধানের প্রতিনিধি জানান, নির্বাচনের সময় অবৈধ অস্ত্র ও অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। সিআইডিকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

ওই বৈঠকে ২২টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, নাশকতা প্রতিরোধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। জুলাই সনদ অনুযায়ী গণভোট করতে গেলে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ভোটগ্রহণ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “তফসিল ঘোষণার সময় ঘনিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক উত্তাপ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কমিশনের প্রধান উদ্বেগের বিষয়।”

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কমিশন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে গুজব, ডিজিটাল বিভ্রান্তি ও সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবিলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ পিএম

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আদেশটি যথাযথ ছিল না। ওই মামলায় ফেনী জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ যথাযথভাবে বিচারিক মানসিকতা প্রয়োগ করেননি- পর্যবেক্ষণে এমন অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফৌজদারি মামলার বিচারকাজ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  


আজ সোমবার ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের রায় ঘোষণার সময় এ আদেশ দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। এই মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি। মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।


২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর আলোচিত এই মামলাটির রায় দিয়েছিলেন নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ। রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি হাইকোর্টে আসে। পরে আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।


নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন তাঁর মা শিরীন আখতার। এ মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর তাঁর অনুগত কয়েকজন জনমত গঠন করে তাঁকে কারাগার থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে। ৩ এপ্রিল অভিযুক্ত খুনিরা কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করে। ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাঁকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। সেখান থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছর ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।


ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।


নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

সর্বশেষ সব খবর

নুসরাত জাহান রাফি

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৫ পিএম

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। এছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি। মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম। 


আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায় ঘোষণা করে আজ সোমবার এ আদেশ দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।আদালতে আসামিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।


আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি হাইকোর্টে আসে। পরে আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।


নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন তাঁর মা শিরীন আখতার। এ মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর তাঁর অনুগত কয়েকজন জনমত গঠন করে তাঁকে কারাগার থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে। ৩ এপ্রিল অভিযুক্ত খুনিরা কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করে। ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাঁকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। সেখান থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছর ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।


ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।


নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

সর্বশেষ সব খবর

হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৪ হাজার ৭১৮টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মোট ৬০ হাজার ৪৪৮টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 


এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬৭ হাজার ৩৫৫টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 



বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



সর্বশেষ সব খবর

সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:২৯ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করতে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।


বুধবার (১৯ আগস্ট) হলফনামায় তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।


রিটকারীর আইনজীবী জানিয়েছেন, বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হবে।


রিট করার বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল জানান, আবদুল হান্নান মাসউদের হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগের ভিত্তিতে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়েছে।



রিটে আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করার পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪৭ পিএম

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।


মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভেকেট ইউনুছ আলী আকন্দ।


সোমবার (১৭ আগস্ট) সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিটের আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এ রিট করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ।


সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’


আইনজীবী জানান, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হয়।


সর্বশেষ সব খবর

হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ পিএম

হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৫ হাজার চারশত পাঁচটি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১২ কার্যদিবসে মোট ৫৫ হাজার ৭৩০টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 



এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬২ হাজার ৬৩৭টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 




বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ সব খবর