• প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২৭ পিএম

ইসলামি উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী ছেলে সন্তান না থেকে শুধু মেয়ে সন্তান থাকলে সম্পদের বণ্টনের অনুপাত এবং অংশীদার বদলে যায়। প্রখ্যাত ইসলামি আলোচক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমাদুল্লাহ এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন।


সম্প্রতি তাকে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন বর্তমানে যাদের ছেলে নাই কিন্তু মেয়ে আছে, তার বাবা মৃত্যুর আগে সম্পত্তি মেয়েদের নামে লিখে দিয়ে যায় যাতে ভাতিজারা যেন না পায়। তা কতটুকু শরীয়ত সম্মত?


প্রশ্নের জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোনো মানুষ জীবদ্দশায় একটা মেয়ে আছে, সব সম্পদ তাকে লিখে দিয়েছে, অথবা দুইটা মেয়ে আছে, সব সম্পদ তাদেরকে দিয়ে গেছেন। ভাতিজারা যেন না পায় বা হকদাররা যেন না পায়। এই কাজ করা অনুচিত। যদি দিয়ে যায়, মেয়েদের জন্য সেটা হালাল হবে।


তিনি বলেন, এটি করা অনুচিত, কারণ কোনো ওয়ারিসকে বা আপনার সম্পদ কেউ পেতে পারে তাকে আপনি বঞ্চিত করার ইচ্ছা করলেন, এটা হলো তার প্রতি এক রকমের অবিচার ও জুলুম, এটা জায়েজ না। কিন্তু যদি এভাবে দিয়ে দেয় মেয়েদেরকে হেবা হিসেবে বা দান হিসেবে—ঠিক আছে আমি তোমাদেরকে দান করে দিলাম বা বাপ মেয়েদেরকে দান করতেই পারে সমান হারে দিল—তাহলে সেক্ষেত্রে সেটা দেওয়াটা জায়েজ হবে, কিন্তু অন্যকে যে ঠকানোর উদ্দেশ্য হয়েছে ওটার কারণে তার গুনাহ হবে।


তিনি আরও বলেন, অতএব এরকমটি না করা উচিত। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, তোমাদের ওয়ারিসদের মধ্যে কে বেশি উপকারে তোমরা জানো না। এজন্য আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন সে অনুযায়ী দেওয়া উচিত এবং ওইটাকে মানার ভেতরেই কল্যাণ আছে। আহমাদুল্লাহ বলেন, তবে হ্যাঁ, মেয়েদেরকে কিছু সম্পদ আপনি গিফট হিসেবে সমান হারে ভাগ করে দেন জীবদ্দশায়, সেটা ভিন্ন বিষয়। আর কিছু সম্পদ রাখেন যে মৃত্যুর পরে সমান হারে যার যা প্রাপ্য তা পাবে। সবগুলো আপনি দিয়ে দিবেন না। আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৯ পিএম

ইমানদার আল্লাহ–তাআলার প্রিয় বান্দা। ইমানের আলোয় আলোকিত মানুষই দুনিয়ার পথচলায় সঠিক দিশা পায় এবং আখেরাতের অনন্ত জীবনে সফলতার অধিকারী হয়। পবিত্র কোরআন মুমিনদের এই সৌভাগ্যের কথা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথপ্রাপ্ত, আর তারাই প্রকৃত সফলকাম।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৫)


তবে ইমান শুধু মুখের স্বীকৃতির নাম নয়, এর রয়েছে কিছু দৃশ্যমান আলামত, নৈতিক বৈশিষ্ট্য ও জীবনঘনিষ্ঠ দাবি। মানুষের অন্তরে ইমানের যে আলো জ্বলে, তার বিচ্ছুরণ আচরণ, চিন্তা, আমল ও জীবনদর্শনে প্রকাশ পায়।


তাই প্রকৃত মুমিনকে চেনার জন্য তার কথার পাশাপাশি কর্ম ও চরিত্রের দিকেও তাকাতে হয়।


ইমানের বাস্তবতা কেমন


এক হাদিসে মুমিনের এমন ২০টি বৈশিষ্ট্যের কথা উঠে এসেছে, যার মধ্যে ইমানের মৌলিক বিশ্বাস, ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আমল এবং উন্নত নৈতিক গুণাবলি সবই অন্তর্ভুক্ত।


সাহাবি সুওয়াইদ ইবনে হারেস (রা.) বলেন, একবার তিনি তাঁর গোত্রের সাতজন লোককে সঙ্গে নিয়ে রাসুলের দরবারে উপস্থিত হন। তাঁদের চেহারা ও পোশাক দেখে সন্তুষ্ট হয়ে নবীজি জানতে চাইলেন, ‘তোমরা কারা?’


তাঁরা উত্তর দিলেন, ‘আমরা মুমিন।’


তাঁদের এ পরিচয় শুনে নবীজি মুচকি হাসলেন। এরপর বললেন, ‘প্রত্যেক জিনিসের একটা বাস্তবতা রয়েছে। তোমাদের কথার এবং তোমাদের ইমানের বাস্তবতা কী?’


তাঁরা বললেন, ‘পনেরোটি গুণ রয়েছে আমাদের মধ্যে। এর পাঁচটি বিষয়ে আপনার প্রেরিত দূতেরা আমাদের ইমান আনতে বলেছেন, পাঁচটি বিষয়ে আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আরও পাঁচটি গুণ আমরা ইসলামপূর্ব যুগে অর্জন করেছি, এখনো সেগুলোর ওপর অটল আছি। আপনি যদি এগুলোর কোনোটি অপছন্দ করেন, তাহলে আমরা তা পরিত্যাগ করব।’


রাসুল (সা.) প্রথমে জানতে চাইলেন, ‘আমার প্রেরিত দূতেরা তোমাদের কোন কোন বিষয়ে ইমান আনতে বলেছেন?’ তাঁরা বললেন,


১. আল্লাহর ওপর ইমান আনা।


মুমিনের বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু এক আল্লাহ। তাঁর সত্তা, ক্ষমতা, জ্ঞান ও কর্তৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা ইমানের প্রথম ভিত্তি।


২. ফেরেশতাদের ওপর ইমান আনা।


আল্লাহর নুরানি সৃষ্টি ফেরেশতারা তাঁর নির্দেশ পালন করেন। তাঁদের অস্তিত্ব ও তাঁদের প্রতি অর্পিত দায়িত্বে বিশ্বাস করা ইমানের অপরিহার্য অংশ।


৩. আল্লাহর কিতাবসমূহের ওপর ইমান আনা।


মানবজাতির হিদায়াতের জন্য আল্লাহ যুগে যুগে তাঁর নবীদের ওপর কিতাব ও ওহি নাজিল করেছেন। সেই আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস রাখা আকিদার অবিচ্ছেদ্য অংশ।


৪. রাসুলদের ওপর ইমান আনা।


মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোয় আনার জন্য আল্লাহ যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। তাঁদের সত্যতা স্বীকার করা এবং তাঁদের আনীত হিদায়াতকে সত্য বলে গ্রহণ করা ইমানের অপরিহার্য দাবি।


৫. পুনরুত্থানের ওপর বিশ্বাস রাখা।


মানুষ মৃত্যুবরণ করবে। এরপর একদিন সবাইকে পুনরায় জীবিত করে আল্লাহর সামনে দাঁড় করানো হবে এবং দুনিয়ার প্রতিটি কাজের হিসাব নেওয়া হবে।


এরপর রাসুল (সা.) জানতে চাইলেন, ‘আমার প্রেরিত দূতেরা তোমাদের কী কী আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন?’ তাঁরা উত্তর দিলেন,


৬. ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করা।


এই তাওহিদের ঘোষণা ইমানের ভিত্তি। এর মাধ্যমে ইমানদার ব্যক্তি সব মিথ্যা উপাস্য ও পরাধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে এক আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে সমর্পণ করে।


৭. নামাজ কায়েম করা।


নামাজ আল্লাহর সঙ্গে মুমিনের সম্পর্ককে জীবন্ত রাখে। ইবাদতের পাশাপাশি এটি অন্তরকে পরিশুদ্ধ ও জীবনকে শৃঙ্খলিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।


৮. জাকাত প্রদান করা।


সম্পদ আল্লাহর দেওয়া আমানত। তার নির্ধারিত অংশ হকদারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে মুমিন নিজের সম্পদকে পবিত্র করে এবং সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি তার দায়িত্ব পালন করে।


৯. রমজানের রোজা রাখা।


রোজা মানুষকে প্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ শেখায়। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার মধ্য দিয়ে আত্মসংযম, তাকওয়া ও আল্লাহভীতির যে শিক্ষা অর্জিত হয়, তা মুমিনের চরিত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।


১০. সামর্থ্য থাকলে হজ করা।


আর্থিক ও শারীরিক সক্ষমতা অর্জিত হলে আল্লাহর ঘরের হজ করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এতে মুমিন আল্লাহর আনুগত্য, ত্যাগ, ঐক্য ও আত্মসমর্পণের অনন্য শিক্ষা লাভ করে।


এরপর রাসুল (সা.) জানতে চাইলেন, ‘ইসলামপূর্ব যুগে তোমরা কোন কোন গুণ অর্জন করেছিলে?’ তাঁরা বললেন,


১১. স্বাচ্ছন্দ্যে আল্লাহর শোকর আদায় করা।


সুখ-সমৃদ্ধি মানুষের জন্য যেমন পরীক্ষা, তেমনি বিপদও পরীক্ষা। প্রকৃত মুমিন প্রাচুর্যে আত্মভোলা হয় না। নিজের প্রাপ্তিকে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে দেখে কৃতজ্ঞতায় মাথা নত করে।


১২. বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ করা।


জীবনের পথ সব সময় মসৃণ থাকে না। দুঃখ, ক্ষতি ও সংকটের মুহূর্তে নিজেকে সামলে রাখা এবং আল্লাহর ওপর আস্থা অটুট রাখা মুমিনের অন্যতম সৌন্দর্য।


১৩. সম্মুখযুদ্ধে অঙ্গীকার রক্ষা করা।


ভয় কিংবা বিপদের মুখেও প্রতিশ্রুতি থেকে সরে না যাওয়া চারিত্রিক দৃঢ়তার পরিচয়। মুমিনের কাছে অঙ্গীকার তার নৈতিক দায়বদ্ধতার অংশ।


১৪. আল্লাহর সব ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা।


আল্লাহ যা নির্ধারণ করেন, তার পেছনে তাঁর প্রজ্ঞা রয়েছে। এই বিশ্বাস মুমিনের অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টি করে। নিজের ইচ্ছা পূরণ না হলেও সে আল্লাহর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো কাজ করে না।


১৫. বিপদের সময় শত্রুর বিদ্রূপ সহ্য করা।


প্রতিকূলতার সময় মানুষ যখন বিদ্রূপ ও কটূক্তির শিকার হয়, তখন উত্তেজিত হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো সহজ। কিন্তু অপমানের জবাবে নিজেকে সংযত রাখা এবং ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া উন্নত চরিত্রের লক্ষণ।


এই গুণগুলোর কথা শুনে নবীজি তাঁদের প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করলেন। তিনি বললেন, ‘তোমরা জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান। তোমাদের বোধবুদ্ধি প্রায় নবীদের কাছাকাছি।’


এরপর নবীজি (সা.) বললেন, ‘তোমরা যদি ইমানের দাবিতে সত্যবাদী হও, তাহলে আমি তোমাদের জন্য আরও পাঁচটি গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছি।’


এভাবে ইমানের বৈশিষ্ট্য পূর্ণ হলো ২০টিতে। সেই পাঁচটি গুণ হলো,


১৬. এমন সম্পদ সঞ্চয় না করা, যা নিজে ভোগ করা হবে না।


সম্পদ কেবল প্রয়োজন মেটানোর উপায়, জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়। প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম করে শুধু জমিয়ে রাখার নেশা মানুষকে দুনিয়ার মোহে বন্দী করে ফেলে। তাই মুমিন সম্পদের মালিক হলেও তার দাস হয় না।


১৭. এমন ঘর নির্মাণ না করা, যেখানে বসবাস করার সুযোগ হবে না।


মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, অথচ অনেক সময় সে এমন ভবিষ্যতের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে, যার সাক্ষাৎ তার ভাগ্যে নাও জুটতে পারে। মুমিন তাই দুনিয়ার সৌন্দর্য উপভোগ করলেও জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্যকে ভুলে যায় না।


১৮. এমন বিষয় নিয়ে বিবাদে না জড়ানো, যা আগামীকাল ছেড়ে যেতে হবে।


দুনিয়ার অসংখ্য বিষয় নিয়ে মানুষ রাগ, বিরোধ ও শত্রুতায় জড়িয়ে পড়ে। অথচ যার জন্য আজ এত উত্তেজনা, মৃত্যুর মুহূর্তে তার কিছুই সঙ্গে যাবে না। বিচক্ষণ মুমিন তাই ক্ষণস্থায়ী বিষয়কে কেন্দ্র করে নিজের শান্তি ও সম্পর্ক নষ্ট করে না।


১৯. সেই আল্লাহকে ভয় করা, যাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে।


তাকওয়া মুমিনের অন্তরের প্রহরী। মানুষ যখন একাকী থাকে, যখন তাকে দেখার মতো কেউ থাকে না, তখনো ‘আল্লাহ দেখছেন’ এই অনুভূতিই তাকে গোপন ও প্রকাশ্য উভয় পাপ থেকে দূরে রাখে।


২০. সেই চিরস্থায়ী জীবনের প্রতি আকাঙ্ক্ষী হওয়া, যেখানে অনন্তকাল অবস্থান করতে হবে।


দুনিয়া মুমিনের চূড়ান্ত ঠিকানা নয়। তার আসল আকাঙ্ক্ষা এমন জীবন, যেখানে মৃত্যু, বিচ্ছেদ, দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ এবং কোনো ধরনের অপূর্ণতা নেই। (আবু নুআইম ইস্পাহানি, হিলয়াতুল আউলিয়া ওয়া তবকাতিল আসফিয়া, ৯/২৭৯, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৪১৬ হিজরি)

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৩ এএম

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ বুধবার। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম এবং ওফাতের পুণ্য স্মৃতিময় দিন। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে, আরবি বর্ষের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে তাঁর জন্ম হয়। ৬৩ বছরের জীবনে ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির পথ দেখিয়ে একই তারিখে তিনি পৃথিবী ছেড়ে যান। 


আরব দুনিয়া যখন আইয়ামে জাহেলিয়াত বা পাপাচারের অন্ধকারে ডুবে ছিল, তখন আলোকবর্তিকা হয়ে জন্ম হয় আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর। মক্কার কুরাইশ গোত্রের সাধারণ পরিবারে তাঁর জন্ম। অল্প বয়সেই তিনি সত্যবাদিতা ও সততার প্রতীক হয়ে ওঠেন; শান্তি প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত হন। ক্ষমাশীলতা, দানশীলতা ও সহিষ্ণুতায় তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত হন। হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন। দীর্ঘ ২৩ বছর ইসলামের বার্তা প্রচার করেন। শুধু আধ্যাত্মিক শিক্ষা নয়; মদিনায় কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। 


সারাবিশ্বের ইসলাম ধর্মাবলম্বীর মতো বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও যথাযোগ্য মর্যাদায় হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও মৃত্যুর দিনকে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করেন। অনেকে নফল নামাজ আদায় করেন। কেউ কেউ রোজা রাখেন। রাসুল (সা.)-এর সম্মানে কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো সাজানো হয়েছে কালেমাখচিত পতাকা ও জাতীয় পতাকায়। 


ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশ ও মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা-বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। 


ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। বন্ধ থাকবে সংবাদপত্রও। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন আলোচনা সভা, মিলাদ, দোয়া মাহফিলসহ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে গতকাল মঙ্গলবার বাদ মাগরিব থেকে শুরু হয়েছে পক্ষকালব্যাপী আয়োজন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি। সিরাতুন্নবী (সা.) নামে জামায়াত এবং দলটির বিভিন্ন সংগঠন মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে। আজ বাদ আসর বাংলামটরে দলীয় কার্যালয়ে মেহফিলে ইশক রাসুল (সা.) এবং নাত-সন্ধ্যার আয়োজন করেছে এনসিপি। 


অন্যান্য বছরের মতো এবারও আশেকানে মাইজভান্ডারি জশনে জুলুসের আয়োজন করছে। আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০১ এএম

সাহস, আত্মত্যাগ, দৃঢ়তা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন সাহাবি জুবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.)। তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ফুফাতো ভাই, ঘনিষ্ঠ সাহাবি এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ সাহাবির একজন। বদর, উহুদ, খন্দক, ইয়ারমুকসহ গুরুত্বপূর্ণ সব যুদ্ধে তিনি বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে নিজের হাওয়ারি বা একান্ত সহচর ও সাহায্যকারী হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।


জুবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.)-এর বংশ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বংশের সঙ্গে মিলিত হয়েছে কুসাইয়ের মাধ্যমে। সাফিয়া বিনতে আবদুল মুত্তালিব ছিলেন তার মা। 


মাত্র ১৬ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অংশ নেওয়া কোনো যুদ্ধেই তিনি অনুপস্থিত ছিলেন না। ইসলাম গ্রহণের পর তাকে নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়। 


বর্ণিত আছে, তার চাচা তাকে চাটাইয়ে পেঁচিয়ে আগুনের ধোঁয়া দিতেন এবং বলতেন, কুফরিতে ফিরে যাও। জবাবে জুবায়ের (রা.) বলতেন, আমি কখনো কুফরি করব না।


নবীজির (সা.) প্রতি ভালোবাসা


সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর পথে সর্বপ্রথম তরবারি বের করেন জুবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.)।

একদিন জুবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.) শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ তিনি শুনতে পেলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিহত হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে খোলা তরবারি হাতে নিয়ে ছুটতে লাগলেন। পথিমধ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে তার দেখা হলো।


রাসুলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, কী হয়েছে, জুবায়ের? তিনি বললেন, শুনেছি আপনি নিহত হয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তাহলে তুমি কী করতে? জুবায়ের (রা.) বললেন, আল্লাহর কসম, আমি মক্কার সবাইকে আক্রমণ করতে বেরিয়ে পড়তাম। তখন নবীজি (সা.) তার জন্য কল্যাণের দোয়া করেন। 


সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব (রহ.) বলেন, আমি আশা করি, আল্লাহর কাছে জুবায়ের (রা.)-এর জন্য নবীজি (সা.)-এর সেই দোয়া কখনো বিফলে যায়নি।


হাবশা ও মদিনায় হিজরত


সাহাবিদের ওপর কুরাইশের নির্যাতন যখন চরমে পৌঁছাল, তখন সাহাবিদের হাবশায় হিজরতের পরামর্শ দেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। সেখানে ন্যায়পরায়ণ শাসক নাজাশির আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ ছিল। ফলে সাহাবিরা সেখানে নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে থাকেন।


এভাবে তারা নিরাপদ ও স্থিতিশীল জীবনযাপন করছিলেন। একপর্যায়ে হাবশার এক ব্যক্তি নাজাশির সঙ্গে রাজক্ষমতা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এতে মুসলমানরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় সাহাবিরা নীল নদের অপর পারে নাজাশি ও ওই ব্যক্তির মধ্যে চলমান সংঘর্ষের খবর জানতে চাইলেন।


উম্মে সালামা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিরা বললেন, কে এমন ব্যক্তি আছেন, যিনি গিয়ে তাদের যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করে আমাদের কাছে খবর নিয়ে আসবেন? জুবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.) বললেন, আমি যাব। তারা বললেন, তাহলে তুমিই যাও। তখন তিনি ছিলেন দলের সবচেয়ে কম বয়সীদের একজন।


তার জন্য একটি মশক ফুলিয়ে দেওয়া হলো। তিনি সেটি বুকে বেঁধে সাঁতার কেটে নীল নদের সেই অংশে পৌঁছালেন, যেখানে দুই পক্ষের লোকজন একত্র হয়েছিল। এরপর তিনি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেন।


উম্মে সালামা (রা.) বলেন, তখন কী ঘটতে যাচ্ছে, তা নিয়ে উব্দেগ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম আমরা। এমন সময় জুবায়ের (রা.) ফিরে এলেন। তিনি নিজের কাপড় নাড়িয়ে বলতে লাগলেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো। নাজাশি বিজয়ী হয়েছেন। আল্লাহ তার শত্রুকে ধ্বংস করেছেন এবং তার দেশে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছেন।


হাবশা থেকে মক্কায় ফিরে আসার পর জুবায়ের (রা.) প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সান্নিধ্যে থেকে ইসলামের শিক্ষা, আদেশ ও নিষেধ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে থাকেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনায় হিজরত করেন, তখন জুবায়ের (রা.)-ও মদিনায় হিজরতকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।


বদর যুদ্ধে জুবায়ের (রা.)


জুবায়ের (রা.) ছিলেন দুর্ধর্ষ অশ্বারোহী ও সাহসী যোদ্ধা। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কোনো যুদ্ধেই তিনি অনুপস্থিত ছিলেন না। প্রতিটি যুদ্ধ ও সংঘাতে তাকে সাহস, বিরল বীরত্ব, পূর্ণ নিষ্ঠা এবং সত্যের বিজয়ের জন্য আত্মনিবেদনের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা যায়।


আল্লাহর পথে তিনি নিজের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করেছিলেন। এর বিনিময়ে আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করেছেন।


বদর যুদ্ধে তার মাথায় হলুদ পাগড়ি ছিল। উরওয়া (রহ.) থেকে বর্ণিত, বদরের দিন জুবায়ের (রা.)-এর মাথায় হলুদ পাগড়ি ছিল। জিবরাইল (আ.) তার আকৃতিতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এটি ছিল এমন এক মর্যাদা, যার তুলনায় পুরো দুনিয়ার সম্পদও তুচ্ছ। 


খন্দক যুদ্ধে নবীজির সহচর জুবায়ের


রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে দাওয়াতের পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন জুবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.)। অল্প বয়স থেকেই ইসলামের দায়িত্ব বহনের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন। আহজাবের যুদ্ধে জুবায়ের (রা.)-এর ভূমিকা তার সাহস, সাহায্যের মানসিকতা ও ব্যক্তিত্বের অনন্য পরিচয় বহন করে।


খন্দকের যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, বনু কুরাইজা সম্পর্কে কে আমাকে খবর এনে দেবে? জুবায়ের (রা.) বললেন, আমি যাব। তিনি ঘোড়ায় চড়ে রওনা হলেন এবং তাদের সম্পর্কে খবর নিয়ে ফিরে এলেন। এরপর নবীজি (সা.) দ্বিতীয়বার একই কথা বললেন। জুবায়ের (রা.) আবার বললেন, আমি যাব। তিনি আবার গেলেন। 


তৃতীয়বারও রাসুলুল্লাহ (সা.) একই কথা বললে তিনি বললেন, আমি যাব। তখন নবীজি (সা.) বললেন, প্রত্যেক নবীর একজন হাওয়ারি থাকে, আর আমার হাওয়ারি হলো জুবায়ের।


হাওয়ারি বলতে বোঝায়, আমার ঘনিষ্ঠ সহচর, সাহায্যকারী ও একান্ত অনুগত সাহাবি। ঈসা (আ.)-এর সাহাবিদেরও হাওয়ারি বলা হয়। অর্থাৎ হাওয়ারি হলো এমন এক নিষ্ঠাবান সাহায্যকারী, যে সত্যের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়।


ইয়ারমুকের যুদ্ধে জুবায়ের (রা.)


উরওয়া থেকে বর্ণিত, ইয়ারমুকের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিরা জুবায়ের (রা.)-কে বললেন, আপনি কি একবার শত্রুদের ওপর আক্রমণ করবেন না? আমরা আপনার সঙ্গে আক্রমণ করব। তিনি বললেন, আমি যদি আক্রমণ করি, তাহলে তোমরা কি সত্যিই আমার সঙ্গে থাকবে? তারা বললেন, অবশ্যই থাকব।


জুবায়ের (রা.) শত্রুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। তিনি তাদের সারি ভেদ করে এত দূর চলে গেলেন যে তার সঙ্গে আর কেউ ছিল না। এরপর তিনি ফিরে এলেন। সাহাবিরা তার ঘোড়ার লাগাম ধরে তাকে থামালেন। তার কাঁধে দুটি আঘাতের দাগ ছিল। এর একটি বদরের দিনকার আঘাত।


উরওয়া বলেন, আমি ছোটবেলায় সেই আঘাতের দাগে আঙুল ঢুকিয়ে খেলতাম। সেদিন তার সঙ্গে তার ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়েরও ছিলেন। তখন তাঁ বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। জুবায়ের (রা.) তাকে ঘোড়ায় বসিয়ে একজন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে দেন।


মিসর বিজয়ে জুবায়ের (রা.)


আমর ইবনে আস (রা.) যখন মিসর বিজয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন, তখন তার সঙ্গে থাকা বাহিনী মিসর বিজয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তাই তিনি ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর কাছে আরও সৈন্য পাঠানোর অনুরোধ করেন।


ওমর (রা.) আমরের বাহিনীর সংখ্যা কম হওয়ায় উদ্বিগ্ন হলেন। তিনি জুবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.)-এর নেতৃত্বে আরও ১২ হাজার সৈন্য পাঠান। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ওমর (রা.) চার হাজার সৈন্য পাঠিয়েছিলেন। এই বাহিনীতে বিশিষ্ট্য সাহাবিদের ছিলেন জুবায়ের, মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ, উবাদা ইবনে সামিত ও মাসলামা ইবনে মুখাল্লাদ। 


ওমর (রা.) চিঠিতে লিখেছিলেন, আমি তোমাকে চার হাজার সৈন্য দিয়ে সাহায্য করছি। তাদের প্রত্যেক হাজারের সঙ্গে এমন একজন রয়েছেন, যিনি এক হাজার সৈন্যের সমান।


জুবায়ের (রা.) আমরের কাছে পৌঁছে দেখলেন, তিনি বাবিলিয়নের দুর্গ অবরোধ করেছেন। জুবায়ের (রা.) ঘোড়ায় চড়ে দুর্গের চারপাশের পরিখা ঘুরে দেখলেন এবং পরিখার চারদিকে সৈন্যদের অবস্থান করালেন।


অবরোধ দীর্ঘ হতে হতে সাত মাসে পৌঁছাল। তখন জুবায়ের (রা.)-কে বলা হলো, দুর্গের ভেতরে প্লেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বললেন, আমরা তো আঘাত ও মহামারির মুখোমুখি হতে এসেছি।


আমর ইবনে আসের জন্য বিজয় বিলম্বিত হচ্ছিল। তখন জুবায়ের (রা.) বললেন, আমি নিজেকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করছি। আশা করি, এর মাধ্যমে আল্লাহ মুসলমানদের বিজয় দান করবেন।


তিনি একটি মই এনে দুর্গের পাশের হাম্মাম মার্কেটের দিকের দেয়ালে সেটি ঠেকিয়ে দিলেন। এরপর তিনি মই বেয়ে ওপরে উঠলেন এবং সৈন্যদের বললেন, তোমরা যখন আমার তাকবির শুনবে, তখন সবাই একসঙ্গে তাকবির দেবে।


হঠাৎ তারা দেখল, জুবায়ের (রা.) দুর্গের চূড়ায় উঠে গেছেন। তার হাতে তরবারি এবং তিনি তাকবির দিচ্ছেন। তাকে অনুসরণ করে সৈন্যরা মইয়ের ওপর উঠতে শুরু করল। তখন আমর ইবনে আস (রা.) তাদের থামালেন, কারণ তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, বেশি লোক উঠলে মইটি ভেঙে যেতে পারে।


রোমানরা যখন দেখল, আরবরা দুর্গ দখল করে ফেলেছে, তখন তারা সেখান থেকে সরে গেল। এভাবেই বাবিলিয়নের দুর্গ মুসলমানদের জন্য খুলে গেল। এই দুর্গ বিজয়ের মধ্য দিয়ে মিসর বিজয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। জুবায়ের (রা.)-এর অসাধারণ সাহসই মুকাওকিসের বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ের সরাসরি কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৭ এএম

দিনের সমস্ত ক্লান্তি দূর করে ঘুম মানুষের শরীরকে আবারও প্রাণবন্ত করে তোলে। এটি মহান আল্লাহ তা’য়ালার অশেষ নেয়ামতগুলোর মধ্যে একটি। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে আবরণ ও নিদ্রাকে আরামপ্রদ করেছেন এবং দিনকে করেছেন জাগ্রত থাকার সময়।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৪৭)


পবিত্র কুরআনে মহান রাব্বুল আলামিন আরও ইরশাদ করেছেন, ‘আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী। রাত্রিকে করেছি আবরণ।’ (সুরা নাবা, আয়াত: ৯-১০)। তবে ঘুমন্ত অবস্থায় মানুষ অবচেতনভাবে নানা কাল্পনিক ঘটনা অনুভব করে থাকে, যাকে আমরা স্বপ্ন বলে অবহিত করে থাকি। এ ক্ষেত্রে স্বপ্নকে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। একটি হলো الرُّؤْيَا (আর-রুউয়া) বা ভালো স্বপ্ন এবং অপরটি الْحُلْمُ (আল-হুলমু) বা দুঃস্বপ্ন কিংবা খারাপ স্বপ্ন।


হাদিসে এসেছে, ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫১৫, ৬৫৩৩)। এজন্য রাসুল (সা.) দুঃস্বপ্ন বা খারাপ স্বপ্ন দেখলে উম্মতদের মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলেছেন। আবার কোনো কোনো হাদিসে খারাপ স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনার পাশাপাশি বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলার কথাও এসেছে। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৫৩)


আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ভালো স্বপ্ন হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর দুঃস্বপ্ন হলো শয়তানের পক্ষ থেকে। কাজেই কেউ যদি স্বপ্নে অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তবে সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে, আর এর অনিষ্ট থেকে যেন আল্লাহর কাছে পানাহ চায়। ফলে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ২২৮০)


এ ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে অনেক সময় মানুষ স্বপ্নে মৃত বাবা-মা কিংবা পরিচিত কাউকে ডাকতে দেখেন। কেউ কেউ আবার নিজের কিংবা আত্মীয়-স্বজনদের কারও মৃত্যুও দেখে থাকেন। যার ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন শোনা যায় যে, স্বপ্নে মৃত কাউকে ডাকতে দেখা কিংবা নিজের মৃত্যু দেখার অর্থ কাছের কেউ বা পরিচিত কেউ মারা যাবে। এমন স্বপ্ন আসলেই কি এই ইঙ্গিত দেয়?


আলেমদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শয়তান মানুষকে নাজেহাল করতে খারাপ স্বপ্ন দেখায়। অযথাই মানুষকে ভয়ংকর কিছু দেখায় পেরেশানি বা দুশ্চিন্তায় রাখতে। তবে কেউ খারাপ স্বপ্ন দেখলে সেটি আল্লাহওয়ালা ব্যক্তি বা আলেম কিংবা স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানেন- এমন কাউকে ছাড়া অন্যদের বলার ক্ষেত্রে নিষেধ রয়েছে।


ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, স্বপ্নে কাউকে ডাকতে দেখা কিংবা নিজের মৃত্যু দেখলেই যে কেউ মারা যাবে, বিষয়টি এমন নয়। হতে পারে স্বপ্নে কেউ নিজের মৃত্যু দেখলো, অথচ বাস্তবে তার হায়াত (আয়ু) বাড়বে। এ কারণে যারা স্বপ্নের ব্যাখ্যা ভালো বুঝেন, এমন কারও কাছেই একমাত্র স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া উচিত।


জনপ্রিয় এই ইসলামিক স্কলারের ভাষ্য, যে স্বপ্ন দেখার পর নিজের মধ্যে অস্থিরতা কাজ করে, এমন মনে হয় যে স্বপ্নে খারাপ কিছুর ইঙ্গিত পেয়েছেন- এমন স্বপ্ন কাউকে বলা উচিত নয়। এমন হলে বেশি বেশি ইস্তিগফারের পাশাপাশি মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে পানাহ চাওয়া উচিত। সেই সঙ্গে সম্ভব হলে তৎক্ষণাৎ বাম পাশে তিনবার থুথু ফেলার পাশাপাশি দুই রাকাত সালাত আদায় করা যেতে পারে বলেও মত শায়খ আহমাদুল্লাহর।


মনে রাখতে হবে, আবু রাযীন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিমের স্বপ্ন হয় নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের একভাগ। যতক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয় কারও সঙ্গে আলোচনা না করে, ততক্ষণ তা পাখির পায়ের ঝুলন্ত জিনিসের মতো। কিন্তু কারও সঙ্গে আলোচনা করে ফেললে (প্রদত্ত তা’বীর অনুসারেই বা স্বপ্নের নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা অনুসারে) তা ঘটে যায়। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ২২৮২)


এ ছাড়াও ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রে হাদিসে একই কথা হাদিসে এসেছে। আবু সালামা (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, আমি আবু কাতাদা (রা.) কে বলতে শুনেছি, তিনি এমন স্বপ্ন দেখতেন যা তাকে রোগাক্রান্ত করে ফেলত। অবশেষে তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেন- ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। তাই যখন কেউ পছন্দনীয় কোনো স্বপ্ন দেখে তখন এমন ব্যক্তির কাছেই বলবে, যাকে সে পছন্দ করে। আর যখন অপছন্দনীয় কোনো স্বপ্ন দেখে, তখন যেন সে এর ক্ষতি ও শয়তানের ক্ষতি থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায় এবং তিনবার থু থু ফেলে আর সে যেন তা কারও কাছে বর্ণনা না করে। তাহলে এ স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করবে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫৬৮)

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:০১ পিএম

মানুষের জীবনে কিছু বিস্মৃতি আছে, যা সাময়িক, আবার কিছু বিস্মৃতি এমন, যা মানুষের গোটা জীবনবোধকে বিপর্যস্ত করে দেয়। আল্লাহকে ভুলে যাওয়া তেমনই এক বিস্মৃতি, যার অভিঘাত মানুষের হৃদয়, চিন্তা, চরিত্র এমনকি পরকাল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার পাঁচটি অনিবার্য পরিণতি হলো—


১. নিজেকে ভুলে যাওয়া


আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার প্রথম এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিণতি হলো, এতে মানুষ নিজের প্রকৃত পরিচয় এবং পৃথিবীতে আগমনের মূল উদ্দেশ্য ভুলে যায়। মানুষ তখন নিজের দেহের যত্ন নিলেও আত্মার পরিচর্যায় উদাসীন হয়ে পড়ে, ভবিষ্যতের জন্য সম্পদ সঞ্চয় করলেও আখেরাতের জন্য নেকি সঞ্চয়ে তেমন তৎপর থাকে না।


আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে তিনি তাদের নিজেদেরই ভুলিয়ে দিয়েছেন।’ (সুরা হাশর, আয়াত:১৯)


আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হলে মানুষের নিজের সঙ্গেও সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যায়। এটাই আত্মবিস্মৃতির সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ।


২. জীবন সংকীর্ণ হয়ে ওঠে


অন্তরের প্রশান্তি মানুষের জীবনে অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। প্রাসাদ-অট্টালিকা, অর্থবিত্ত, সুনাম-সুখ্যাতি কিংবা সামাজিক মর্যাদা মানুষের বাহ্যিক জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারে, কিন্তু হৃদয়ের অস্থিরতা দূর করতে পারে না।


হৃদয়ের প্রকৃত প্রশান্তি আল্লাহর স্মরণে নিহিত। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ, আয়াত: ২৮)


অন্যদিকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখতার পরিণতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জীবন হবে সংকীর্ণ।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত: ১২৪)


‘সংকীর্ণ জীবন’ মানেই যে দরিদ্র জীবন, বিষয়টি এত সরল নয়। ঘরে প্রাচুর্য থাকলেও হৃদয় অস্থিরতায় বিপর্যস্ত হতে পারে, চারপাশে অগুনতি মানুষ থাকলেও অন্তরে বাসা বাঁধতে পারে নিঃসঙ্গতা। এগুলো সংকীর্ণ জীবনেরই চিত্র।


৩. দুনিয়া হয়ে যায় জীবনের লক্ষ্য


আল্লাহকে ভুলে গেলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। যে জীবনকে আল্লাহ আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের সুযোগ হিসেবে দিয়েছেন, সেটিই তখন চূড়ান্ত গন্তব্য বলে মনে হয়।


ফলে সম্পদ, সন্তান, পদপদবি, জনপ্রিয়তা ও সামাজিক মর্যাদা প্রয়োজনের সীমা ছাড়িয়ে জীবনের আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে চলে আসে। মানুষ এগুলোর জন্য আল্লাহর নির্দেশও উপেক্ষা করতে শুরু করে।


আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এমন করবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সুরা মুনাফিকুন, আয়াত: ৯)


অর্থাৎ সমস্যা সম্পদে নয়, সন্তানেও নয়, সমস্যা তখনই, যখন এগুলো মানুষকে আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এর ফলে দুনিয়া ব্যবহার করার পরিবর্তে মানুষ দুনিয়ার দ্বারা ব্যবহৃত হতে থাকে।


৪. শয়তান হয়ে যায় তার নিত্যসঙ্গী


মানুষের অন্তর কখনো শূন্য থাকে না। আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হলে শয়তান ধীরে ধীরে মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘পরম দয়াময়ের স্মরণ থেকে যে বিমুখ হয়, আমি তার জন্য এক শয়তান নিয়োজিত করি, অতঃপর সে তার সঙ্গী হয়ে যায়।’ (সুরা যুখরুফ, আয়াত: ৩৬)


অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘শয়তান তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে এবং তাদের আল্লাহর জিকির ভুলিয়ে দিয়েছে।’ (সুরা মুজাদালা, আয়াত: ১৯)


শয়তান যখন মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তখন গুনাহ আর আগের মতো ভয়ংকর মনে হয় না। হারামকে বিভিন্ন যুক্তির আলোকে বৈধ মনে হয়, পাপের পর অনুশোচনা কমে আসে, নসিহত বিরক্তিকর মনে হয়।


৫. আখেরাতে অনুতাপ


আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার ভয়াবহ পরিণতি দুনিয়াতেই শেষ হয়ে যায় না, এর ছায়া বিস্তৃত থাকে আখেরাত পর্যন্ত।


এমন ব্যক্তি সম্পর্কে কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় সমবেত করব।’ সে বলবে, “হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় কেন উঠালেন? অথচ আমি তো দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ছিলাম।”


আল্লাহ বলবেন, “এভাবেই তো আমার নিদর্শনাবলি তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। আজ তেমনিভাবেই তোমাকে ভুলে যাওয়া হবে।”’ (সুরা ত্বহা, আয়াত: ১২৪-১২৬)


প্রতিদান কর্মের অনুরূপই হয়ে থাকে। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়ে তাঁকে ভুলে গিয়েছিল, এমনকি তাঁর স্মরণে নিহিত নিজের কল্যাণ থেকেও বিস্মৃত হয়েছিল, আখেরাতে তাকে অন্ধ, বধির ও বোবা অবস্থায় জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। (ইবনে নাসির সাদি, তাইসিরুল কারিমির রহমান ফি তাফসিরি কালামিল মান্নান, ৫১৬, মাকতাবাতুল উবাইকান, রিয়াদ, ১৪২২ হিজরি)


ফেরার দরজা এখনো খোলা


আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার পরিণতি যতই ভয়াবহ হোক, তাঁর দিকে ফিরে আসার দরজা এখনো খোলা। নিজের ভুল উপলব্ধি করাই সেই প্রত্যাবর্তনের প্রথম ধাপ।


আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর রহমত থেকে তোমরা নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩)


আল্লাহর স্মরণ মানে জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে তাঁর বিধানকে প্রাধান্য দেওয়া, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্যে তাঁর ভয় অন্তরে ধারণ করা, নিয়ামতের শোকর আদায় করা, বিপদে তাঁর ওপর ভরসা রাখা এবং গুনাহ হয়ে গেলে বিলম্ব না করে তওবার মাধ্যমে রবের দিকে ফিরে আসা।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫০ এএম
  • আপডেট : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০২ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫০ এএম

পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা আজ বুধবার। হিজরি ২৩ সনের সফর মাসের শেষ বুধবার মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দীর্ঘ রোগে ভোগার পর সুস্থবোধ করেন। দিনটি বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোয় অত্যন্ত মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়ে থাকে।


২৩ হিজরির শুরুতে মহানবী (সা.) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ক্রমে অবস্থার অবনতি হওয়ায় নামাজের ইমামতি পর্যন্ত করতে পারছিলেন না। ২৮ সফর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। ওই দিন শেষবারের মতো গোসল করে নামাজে ইমামতি করেন রাসুল (সা.)। তাঁর সুস্থতার খবরে সাহাবিরা উচ্ছ্বসিত হয়ে হাজার হাজার স্বর্ণমুদ্রা দান করেন। তবে পরদিন আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ১৫ দিন পর ১২ রবিউল আউয়ালে ইন্তেকাল করেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)।


ফারসি শব্দগুচ্ছ ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ অর্থ শেষ বুধবার। সাহাবিদের অনুসরণে এ দিন দানখয়রাত করেন মুসলমানরা। আখেরি চাহার সোম্বা উপলক্ষে আজ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর