শরিফুল ইসলামের ৬ উইকেটে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ
তখনও গ্যালারিতে দর্শক হাজার দশেক। রোমাঞ্চ-উত্তেজনার বিস্ফোরণে যেন ফেটে পড়ছিল গোটা মাঠ। কিন্তু তাসকিন আহমেদের বলে অ্যাডাম জ্যাম্পার ড্রাইভে বল সীমানার দিকে যেতেই নেমে এলো পিন পতন নীরবতা। অভাবনীয় এক জয়ের যে আশা ছড়িয়ে পড়েছিল, তা মিলিয়ে গেল হাওয়ায়। এভাবেও ম্যাচে ফেরা যায়!
দর্শকদের কেউ কেউ বাড়ির পথ ধরেছেন তখন, হাল ছেড়ে দিয়েছেন মাঠে থাকা আরও অনেকে। সবাইকে হুট করে থমকে দাঁড়াতে হলো কিছুক্ষণের জন্য। শরীফুল ইসলাম যে পরপর দুই বলে ২ উইকেট তুলে নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার নেই ৭ উইকেট! কাজটা তখনও বাংলাদেশের জন্য কঠিন। ৩০ বলে অস্ট্রেলিয়ার দরকার কেবল ৯ রান। তবু শরীফুলের জাগিয়ে দেওয়া বিশ্বাসের বার্তাটা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। পরের প্রতিটি বলেই কৌতূহলী চোখ, এই বুঝি কী হলো!
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের চোখেমুখে তখন হতাশার আঁধার, ২২ গজে জ্বলজ্বল করছিল শুধু দুই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানের চওড়া হাসি। কুপার কনোলির মহাকাব্যিক ১৪৯ রানের সঙ্গে শরিফুল ইসলামের ৬ উইকেটে ম্যাচ পৌঁছে গিয়েছিল রোমাঞ্চকর এক মোড়ে। কিন্তু শেষ ওভারের ফয়সালায় শেষ পর্যন্ত পেরে উঠল না বাংলাদেশ। ১ উইকেটের জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। শেষের অমন নাটকীয়তার আধঘণ্টা আগেও ম্যাচে অনায়াস জয়ের পথে ছিল অস্ট্রেলিয়া।
শেষ ৫ ওভারে প্রয়োজন ছিল তাদের স্রেফ ৯ রান, উইকেট তখনও পাঁচটি। কিন্তু ম্যাচে ভিন্ন আবহের দোলা দিলেন শরিফুল। টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে পূর্ণ করলেন তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট। পরে আরও এক উইকেট নিয়ে ম্যাচ আরও জমিয়ে তুললেন এই বাঁহাতি পেসার। বাংলাদেশ তখন যেন রক্তের স্বাদ পেয়ে তেতে উঠেছে আরও। প্রবল চাপে পড়ে আরও খেই হারাল অস্ট্রেলিয়া। মুস্তাফিজুর রহমানের অনেক বাইরের বল স্টাম্পে টেনে আনলেন কনোলি।
গর্জনে ফেটে পড়ল চারপাশ। উইকেট তখণ বাকি একটি, রান লাগে তখনও চার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাসকিন পারলেন না শেষ ওভারে দলকে স্মরণীয় এক জয় এনে দিতে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার বাংলাদেশ তোলে ৫০ ওভারে ২৭৪ রান। ৮৮ বলে ৮৩ রান করেন তাওহিদ হৃদয়, ফিফটি করেন লিটন কুমার দাস ও মোসাদ্দেক হোসেন। রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়া জিতে যায় তিন বল বাকি রেখে।
ইনিংস শুরু করতে নামা কনোলি দেখিয়েছেন, কেন তাকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের এত আশা। একার হাতেই দলকে এগিয়ে নেন ২২ বছর বয়সী ক্রিকেটার। প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে ১৩ চার ও ৬ ছক্কায় ১৩৪ বলে করেন তিনি ১৪৯। শেষের ওই উত্তেজনার পরও বলা যায়, কনোলি একাই হারিয়ে দিলেন বাংলাদেশকে। ২৭৫ রান তাড়ায় একজনই দেড়শ ছাড়িয়ে গেলে বাকি আর থাকে কী! কনোলির কারণেই হোয়াইটওয়াশড হলো না অস্ট্রেলিয়া।
সিরিজে প্রথমবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচ দুটির তুলনায় উইকেটে এ দিন ঘাস ছিল একটু কম। তবে নতুন বলে পেসারদের সহায়তা ছিল ঠিকই। প্রথম ওভারেই প্রথম উইকেটের দেখা পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। জেভিয়ার বার্টলেটের বলে আলগা ড্রাইভে বল স্টাম্পে টেনে আনেন সৌম্য সরকার। সেই ধাক্কা সামাল মোটামুটি সামলে নেন তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি কেউই। জুটি থেমে যায় অর্ধশত পেরিয়েই।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আক্রমণে আসা স্পিনার ম্যাট রেনশকে উইকেট উপহার দিয়ে ফেরেন তানজিদ (২০ বলে ১৯)। এতে রানের গতি যায় থমকে। পরের ৫ ওভারে রান আসে ৯। এর মধ্যেই রেনশকে সুইপ করার চেষ্টায় উইকেট হারান শান্ত (৫০ বলে ২৪)। ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে নড়বড়ে হয়ে পড়া দলকে ভরসা জোগান লিটন ও হৃদয়।লিটন শুরুতে টাইমিং করতে ভুগলেও উইকেট আঁকড়ে পড়ে থাকেন। প্রথম বাউন্ডারি মারতে বল খেলেন তিনি ২৮টি।
হৃদয় ক্রিজে গিয়ে রানের চাকা সচল করেন। ফর্মে থাকলেও ইনিংস বড় করতে পারছিলেন না তিনি সাম্প্রতিক সময়ে। ওয়ানডেতে আগের ১৫ ইনিংসে তার ফিফটি পাঁচটি। তবে প্রতিটিতেই আটকে পড়েন ৬০ ছোঁয়ার আগে। আরও ২৫ ছুঁয়ে ফিফটি করতে পারেননি আরও সাত ইনিংসে। সেই জাল ছিড়ে এবার ইনিংস টেনে নিতে পারেন তিনি। লিটন একটা পর্যায়ে ধুঁকছিলেন পায়ে ক্র্যাম্প করায়। তার রান যখন ফিফটির কাছে আর শতরানের কাছে জুটি, খেলা আর চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। ৯৫ রানের জুটিতে দলের ভিত তখন শক্ত হয়েছে বেশ। প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক হোসেন সেই ফর্মকে বয়ে আনেন এই ম্যাচেও। ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ে রানের গতিতে দম দেন তিনি। হৃদয়ের ব্যাট তখন আরও সাবলিল। দুজনের জুটিতে ৯০ রান আসে ৮১ বলে।
বেন ডোয়ার্শাসকে উড়িয়ে ফ্লিক করে হৃদয়ের ইনিংস থামে ৪৬তম ওভারে। এরপর শেষটা আর প্রত্যাশিত দ্রুততায় করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৪৩ বলে ফিফটির পর একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েন মোসাদ্দেক। পরের ৮ বলে তিনি করতে পারেন মোটে ৬ রান। ৪৮তম ওভারে ফিরে ফিফটি পূরণ করেন লিটন। ১১ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মিরপুরে প্রথম ফিফটি পেলেন তিনি ২৮তম ইনিংসে। শেষ ওভারে লিটনের ছক্কার পরও শেষ ৫ ওভারে রান আসে মাত্র ৩২। একসময় মনে হচ্ছিল, রান হতে পারে তিনশর আশেপাশে। শেষ পর্যন্ত হয়নি ২৭৫ রানও। অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়ার শুরুটা ছিল আগ্রাসী। কনোলি ও জশ ইংলিস চার ওভারেই তুলে ফেলেন ৪০ রান।
নাহিদ রানার জায়গায় একাদশে ফেরা শরিফুল ইসলাম পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এসেই জোড়া উইকেট এনে দেন দলকে। ইংলিস (১২ বলে ২১) ধরা পড়েন মোসাদ্দেকের হাতে, পায়ের পেছন দিয়ে বোল্ড হন রেনশ (০)। তাসকিনের বলে শর্ট কাভারে সৌম্যর দারুণ রিফ্লেক্স ক্যাচ অল্পতে ফেরায় অ্যালেক্স কেয়ারিকেও। কিন্তু কনোলিকে থামানোর কোনো পথ পায়নি বাংলাদেশ। তার ব্যাটে রানের স্রোত থাকায় রান রেটের চাপে পড়তে হয়নি অস্ট্রেলিয়াকে। তরুণ ব্যাটসম্যানকে সঙ্গ দেন অন্যরা। টানা তিনটি ষাটোর্ধ্ব জুটিতে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান তিনি।
৬৪ রানের জুটি আসে মার্নাস লাবুশেনের (২৯) সঙ্গে, ৬৮ রানের জুটি ক্যামেরন গ্রিনকে (২৭) নিয়ে এবং সিরিজে প্রথম খেলতে নামা অলিভার পিকের (২৭) সঙ্গে জুটি ৬৪ রানের। তখনও পর্যন্ত ভাবা যায়নি, কত নাটক জমা আছে এই ম্যাচে! পিককে ফিরিয়ে জুটি ভাঙার পরের বলেই শরিফুল বোল্ড করেন দিলেন জেভিয়ার বার্টলেটকে। পরের ডেলিভারিতে হ্যাটট্রিক হলো না একটুর জন্য। এরপর নিজের বলে বেন ডোয়ার্শাসের ক্যাচ নিতে পারলেন না মুস্তাফিজ। পরের ওভারেই সেই ডোয়ার্শাস ক্যাচ ক্যাচ দিলেন পয়েন্টে। বাংলাদেশে পঞ্চম বোলার হিসেবে এক ম্যাচে ছয় উইকেটের স্বাদ পেলেন শরিফুল।
দুই বল পর সেটি হতে পারত প্রথম বোলার হিসেবে সাত উইকেট। কিন্তু জ্যাম্পার ব্যাটে ছোবল দিয়ে আসা বল গালিতে মুঠোয় জমাতে ব্যর্থ হলেন তানজিদ হাসান। ১৪৯ রানে দাঁড়িয়ে টানা তিন ওভারে স্ট্রাইক না পেয়ে আরেক প্রান্ত থেকে কনোলি দেখছিলেন সতীর্থদের আসা-যাওয়া। অবশেষে ৪৯তম ওভারে তিনি পেলেন স্ট্রাইক। কিন্তু তার অসাধারণ ইনিংসের সমাপ্তিও হলো হতাশা। ওভারের তৃতীয় বলে আলগা শটে যখন তিনি ড্রেসিং রুমের পথ ধরলেন, সুবাস সুবাস তখন পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। ৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট নিয়ে অপেক্ষা তখন আর একটি উইকেটের। শেষ পর্যন্ত মধুর সমাপ্তি হলো না। অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করা আর আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের আটে ওঠাও হলো না। তবে ওয়ানডেতে ক্রমে উন্নতির পথে থাকা বাংলাদেশ পেল সামনের পথচলায় প্রেরণার অনেক রসদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৭৪/৪ (সৌম্য ২, তানজিদ ১৯, শান্ত ২৪, লিটন ৫৮*, হৃদয় ৮৩, মোসাদ্দেক ৫৬*, শেখ মেহেদি ৩; বার্টলেট ৮-০-৪৭-২, মেরেডিথ ৭-০-৪১-০, ডোয়ার্শাস ৮-০-৫৫-১, গ্রিন ৬-২-১৮-০, রেনশ ৯-০-৪৪-২, জ্যাম্পা ১০-০-৪৮-০, লাবুশেন ২-০-১০-০)।
অস্ট্রেলিয়া: ৪৯.৩ ওভারে ২৭৭/৯ (কনোলি ১৪৯, ইংলিস ১৯, রেনশ ০, কেয়ারি ৮, লাবুশেন ২৯, গ্রিন ২৭, পিক ২৭, বার্টলেট ০, জ্যাম্পা ৪*, মেরেডিথ ২*; তাসকিন ৭.৩-১-৫৯-১, মুস্তাফিজ ১০-০-৫৬-১, শরিফুল ১০-১-৪৮-৬, শেখ মেহেদি ১০-১-৩৭-১, তানভির ৭-০-৩৮-০, মোসাদ্দেক ৬-০-৩৬-০)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ১ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: কুপার কনোলি
ম্যান অব দা সিরিজ: মোসাদ্দেক হোসেন
ব্রাজিলের ব্র্যান্ডই হলো ফুটবল। তাদের শৈল্পিক ফুটবলে মোহিত পুরো বিশ্ব। পেলে-রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের খেলা দেখে ব্রাজিলের ভক্ত হয়ে গেছে বাংলাদেশের একটি অংশ।
টেলিভিশনে যে দলের সুন্দর ফুটবলে মুগ্ধ হয়েছিলেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা, এবার বাস্তবে সেই ব্রাজিলের ছন্দময় খেলা দেখার সুযোগ। ঢাকার মাঠে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-রাফিনিয়ার মতো ইউরোপ মাতানো তারকা খেলবেন, ব্যাপারটি স্বপ্ন মনে হলেও বাস্তবতায় খুবই সম্ভব।
রোববার ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের পাঁচ প্রতিনিধি ঢাকায় আসার পরই যে গুঞ্জন রটেছিল ফুটবলপাড়ায়, তা হয়তো আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। আগামী অক্টোবরে ঢাকার মাঠে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলার আগ্রহ দেখিয়েছে ব্রাজিল প্রতিনিধি দল। তাদের আগ্রহে সাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। সবকিছু ঠিক থাকলে ৬ অক্টোবর হামজা চৌধুরী-ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দ্বৈরথটা দেখা যাবে জাতীয় স্টেডিয়ামে।
রোববার জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার মাঠ দেখেন ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি কয়েকটি আবাসিক হোটেলও দেখেন তারা। দুই মাঠের মান ও সংলগ্ন অবকাঠামো নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তারা।
তবে ড্রেসিংরুম, টেকনিক্যাল জোন এবং প্রবেশ-বহির্গমন গেটের নিরাপত্তাসহ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছে প্রতিনিধি দল। দুটি স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে পরশু রাতেই বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা। সেখানেই বাংলাদেশ আর ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।
ব্রাজিলের প্রস্তাবিত তারিখ ৫ ও ৬ অক্টোবর। ৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে ঢাকায় আসতে চাইছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নানা আলোচনা চললেও ৬ অক্টোবর ম্যাচ নিশ্চিত হয়ে গেছে- এমন খবর সঠিক নয় বলে গতকাল জানিয়েছেন বাফুফে সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন, ‘আমাদের সভাপতি ফিফার সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্ত নেবেন, যাতে ব্রাজিল ম্যাচটাও খেলতে পারি এবং আসিয়ান কাপও খেলতে পারি।’
ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার জন্য আসিয়ান কাপ থেকে সরে দাঁড়ায় ভারত। তাদের জায়গায় এই টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ হয়েছে বাংলাদেশের। এখন মহাসমস্যায় পড়েছে বাফুফে। ফিফার আমন্ত্রিত টুর্নামেন্ট আসিয়ান কাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে পারছে না দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আবার ব্রাজিলের মতো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রস্তাবও উপেক্ষা করার মতো নয়। তাই তো বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল হাঁটছেন সুন্দর সমাধানের পথে। ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ফিফা আসিয়ান কাপ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলবে।
এরপর আছে স্থান নির্ধারণী ম্যাচও, যার সম্ভ্যাব্য তারিখ ৩ অক্টোবর। তাই স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি না খেলে অথবা এক দিন এগিয়ে ২ অক্টোবর করা যায় কিনা, তা ফিফার কাছে আবেদন করবে বাফুফে। সেক্ষেত্রে স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলে রাতেই ঢাকায় রওনা দিলে ধকলটা কমবে বাংলাদেশের। তখন ৬ অক্টোবর ব্রাজিলের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
বাংলাদেশে বেশ বড় বহর নিয়ে আসতে চায় ব্রাজিল। জানা গেছে ৯০ জনের কন্টিনজেন্টকে কলকাতা থেকে ঢাকায় এবং ঢাকা থেকে দুবাই চার্টার্ড করে পাঠাতে হবে বাফুফেকে। পাশাপাশি আনুষঙ্গিক খরচ তো রয়েছেই। শুধু ম্যাচ আয়োজনের জন্য কয়েক কোটি টাকা প্রয়োজন। পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান দিয়ে এই খরচ বহন করা কঠিন বাফুফের জন্য। তাই ব্রাজিলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের অর্থের জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা চাইবে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
‘ভালো কোনো উদ্যোগের জন্য অর্থ তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের সভাপতি নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নেবেন। ক্রীড়ামন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তা নেওয়া হবে। এ রকম ম্যাচ সরকারের সহায়তা নিয়েই করতে হবে’ বলেন শাহীন।
ছবি : সংগৃহীত
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী একটি বল এবারও উঠল নিলামে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার করা বিখ্যাত ‘হাত দিয়ে করা’ গোলের বলটি বিক্রি হয়েছে ২৫ লাখ পাউন্ডে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪২ কোটি টাকায়।
যুক্তরাষ্ট্রে গত শনিবার এই নিলামের আয়োজন করে হেরিটেজ অকশনস। ঐতিহাসিক বলটির দাম সর্বোচ্চ ১ কোটি মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৭৩ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম দামেই এটি বিক্রি হয়েছে। নিলামে বলটির চূড়ান্ত মূল্য দাঁড়ায় ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার, যা প্রায় ২৫ লাখ পাউন্ডের (৪১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩৫০০ টাকা) সমান।
বলটি ছিল অ্যাডিডাসের ‘আজতেকা’। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের মেক্সিকো সিটিতে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনারের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে এই বলই ব্যবহার করা হয়েছিল। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে লড়াইয়ে মাথার বদলে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান ম্যারাডোনা। গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন তিউনিসিয়ান রেফারি আলি বিন নাসের।
শুধু বিতর্কিত সেই গোলই নয়, একই ম্যাচে ম্যারাডোনা এমন একটি গোল করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে পরিচিত হয়। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোল করেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। পাঁচজন ইংলিশ আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে ড্রিবল করে শিলটনকে পরাস্ত করেছিলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপও জিতে নেয় ম্যারাডোনার দল।
৩০ বছর ধরে রেফারির কাছে ছিল বল
ওই ম্যাচের পর বলটি নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন ম্যাচের রেফারি আলি বিন নাসের। তিন দশকেরও বেশি সময় তার সংগ্রহেই ছিল ঐতিহাসিক এই বস্তুটি।
২০২৩ সালে বিন নাসের একটি চিঠিতে নিশ্চিত করেন, ১৯৮৬ সালের ওই ম্যাচে ব্যবহৃত একমাত্র বলটিই তার কাছে আছে। পরে স্বাধীনভাবে করা পরীক্ষাতেও বলটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।
নিলামের আগে হেরিটেজ অকশনসের নিলাম বিশেষজ্ঞ মাইক প্রোভেনজালে বলটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার মতে, এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীগুলোর একটি।
এর আগেও বিক্রি হয়েছিল
এটি অবশ্য বলটির প্রথম নিলাম নয়। ২০২২ সালে আলি বিন নাসের বলটি বিক্রি করেছিলেন ২৩ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলারে, যা সে সময় প্রায় ১৭ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডের সমান ছিল। পরের বছর নতুন মালিক আবার বলটি নিলামে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্য পর্যন্ত কোনো দর না ওঠায় সেটি বিক্রি হয়নি।
অবশেষে ২০২৬ সালের নতুন নিলামে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাওয়া যায়। ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার বা ২৫ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হলো ম্যারাডোনার ‘হাত দিয়ে করা’ গোলের সেই ঐতিহাসিক বল।
একই ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সিও এর আগে নিলামে উঠেছিল। ২০২২ সালে সেই জার্সি বিক্রি হয়েছিল ৭১ লাখ পাউন্ডে। ফলে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচের স্মারক হিসেবে ম্যারাডোনার জার্সির তুলনায় বলটির দাম এবারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমই থাকল।
পুলিশ ডাকলেন বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ
আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ দল ২৭ আগস্ট দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কিন্তু মাঠের অনুশীলন কিংবা দলীয় পারফরম্যান্সের চেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে কোচিং স্টাফের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর মধ্যে বিরোধ এবার গড়িয়েছে হাতাহাতি পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ডাকতে হয়েছে ব্রিটিশ কোচ জোন্সকে।
দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে জেরার্ড জোন্স ও মিশুর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। পরে জোন্স জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ হোটেলে গেলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
কোচিং স্টাফের এমন ঘটনায় বিব্রত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও। বয়সভিত্তিক দল হলেও অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করে।
ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই কোচের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি মাঠের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে দলের ম্যানেজার ও বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য সামিদ কাশেম বলেন, ‘আমরা ডেভেলপমেন্ট কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, দ্রুতই একটি সুন্দর সমাধান হবে। আমাদের লক্ষ্য ফুটবলারদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করে দেশকে সাফল্য এনে দেওয়া।’
অবশ্য জেরার্ড জোন্সকে ঘিরে বিতর্ক এবারই প্রথম নয়। কিছুদিন আগে বেতনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে আলোচনায় এসেছিলেন এই ইংলিশ কোচ।
সেখানে নিজের পরিবার ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বাফুফের সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে তার আচরণ নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচিং নিয়ে বিতর্ক অবশ্য জোন্সের আগেও ছিল। তার আগে দায়িত্বে থাকা ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্সের কোচিং সনদ ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। জোন্সের যোগ্যতা নিয়ে বড় কোনো প্রশ্ন না থাকলেও এবার তার আচরণ নিয়ে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের মাটিতে ম্যাচ খেলতে আগ্রহ দেখিয়েছে ব্রাজিল। আগামী ৬ অক্টোবর ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার প্রস্তাবও দিয়েছে তারা। তবে প্রস্তাবের সঙ্গে রয়েছে কিছু শর্তও।
বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের প্রস্তাব অনুযায়ী কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পর পুরো দলকে ঢাকা নিয়ে আসার বিমান খরচ বহন করতে হবে বাংলাদেশকে।
শুধু বিমানভাড়া নয়, বাংলাদেশে অবস্থানের সময় ব্রাজিল দলের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের খরচও বহন করতে হবে বাফুফেকে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যয়। ঢাকা থেকে ব্রাজিল ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও পুরো দলের বিমানভাড়ার একটি অংশ বহনের শর্ত রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে দুবাই পর্যন্ত তাদের যাত্রার খরচ বহন করতে হবে বাংলাদেশকে।
তবে ব্রাজিলকে ম্যাচ ফি বা কমার্শিয়াল কোনো অর্থ দিতে হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। ফলে পুরো আয়োজনের মোট ব্যয় কত দাঁড়াবে, সেটিও এখনো চূড়ান্ত নয়।
অবশ্য সরাসরি ব্রাজিলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেয়ে এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ব্রাজিল আগে থেকেই ভারতে আসছে। ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পর সেখান থেকে ঢাকায় আসতে পারবে তারা। ফলে দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণ ও লজিস্টিক খরচ অনেকটাই কমে আসবে।
ছবি : সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার সফরের শেষটা ভালো হয়নি। ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে, তাও দুই দিনের মধ্যেই। এরপরও বাংলাদেশ দল গড়েছে নতুন ইতিহাস। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ স্থানে উঠেছে বাংলাদেশ।
আজ আইসিসি ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করা টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ২৪ ম্যাচে ১৮৭৮ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের রেটিং এখন ৭৮। এর আগে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাত নম্বরে উঠেছিল বাংলাদেশ। সেটি ছিল ২০২৪ সালে পাকিস্তানকে তাদের মাটিতে ২-০ তে সিরিজ হারানোর পর।
বাংলাদেশ এখন পেছনে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়েকে। বাংলাদেশের উত্থানের কারণে এক ধাপ করে পিছিয়েছে শ্রীলঙ্কা (৭),পাকিস্তান (৮) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৯)।
শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের রেটিং ১২৬। ১১৯ রেটিং নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয়। এরপর নিউজিল্যান্ড, ভারত ও ইংল্যান্ড আছে সেরা পাঁচে। সেরা পাঁচে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করাতেই এমন উত্থান বাংলাদেশের। সিরিজের প্রথম টেস্টে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
এমন জয় চমকে দিয়েছিল ক্রিকেটবিশ্বকে। যদিও বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিততে পারেনি। ম্যাকাইয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে এমন উত্থানকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। ম্যাকাই টেস্ট শেষে তিনি বলেছেন, ‘ ভালো খবর, অবশ্যই ভালো খবর। খবরটা আরও ভালো হতো যদি এই টেস্ট ম্যাচটা আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারতাম। তবে ছয় নম্বরে আমরা প্রথমবারের মতো আসলাম টেস্ট ক্রিকেটে, এটা অনেক বড় অর্জন।’
ছবি : সংগৃহীত
ইনিংস হারের শঙ্কা নিয়ে চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতি থেকে ফিরে ৩ বলে ২ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ও ৫১ রানে দ্বিতীয় টেস্ট হেরেছে সফরকারীরা। এই জয়ে সিরিজে সমতা টেনেছে অস্ট্রেলিয়া। দেড় দিনেই শেষ হলো ম্যাকাই টেস্ট।
চা-বিরতির পর নাথান লায়নের প্রথম বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৮ রান করে ফেরেন তাসকিন আহমেদ। ৯৫ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে হারের একেবারে দ্বারপ্রান্তে তখন বাংলাদেশ।শেষ ব্যাটার হিসেবে নামা শরিফুল ইসলাম প্রথম বল ডিফেন্স করেন। পরের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে আউট হলে ৯৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ফলে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়।
মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ২৯ রানে। দুই ইনিংসে মিচেল স্টার্কের শিকার ১০ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ঝুলিতে ৪টি। ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন কামিন্স ও লায়ন।
এর আগে, ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। লাঞ্চের আগে ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা।
এই ইনিংসেও স্টার্কের তোপে পরপর দুই বলে আউট হন সাদমান ও মুমিনুল। টিকতে পারেননি প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিমও। কামিন্সের বলে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।
শুরুতেই একবার আউট হতে গিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর ইতিবাচক ব্যাটিং করার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশার শেষই হলো তার ইনিংসের।
নাথান লায়নের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে লং অফের ওপর দিয়ে ছক্কা মারতে চেয়ে ক্যাচ দিয়েছেন লং অফে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার স্টার্কের হাতে। চতুর্থ উইকেট হারালো বাংলাদেশ। ৪৬ বলে ৩১ রান করে আউট হলেন নাজমুল।
ডারউইনে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ০ রানে সাজঘরে ফেরেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করার দরকার পড়েনি। ম্যাকাইতে প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও আউট হলেন কোনো রান না করেই।
তিন শূন্য নিয়ে চলমান টেস্ট সিরিজ ব্যর্থতায় পার করলেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ বল খেলে শূন্য রানে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেছেন। স্টার্কের অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে বল খোঁচা মেরে ক্যাচ দিয়েছেন স্লিপে দাঁড়ানো ওয়েবস্টারের হাতে।
প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৯২ বলে ১৪ রান করা হাসানও পারেননি কিছু করতে। ২ রানেই প্যাট কামিন্সের বলে ট্রাভিস হেডকে ক্যাচ দিয়ে।
এরপর আউট হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজও। কামিন্সের বলে ১ রান করে খোঁচা দিয়ে ফিরেছেন তিনি। ৬৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ইনিংস হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ।
তাইজুলকে বোল্ড করে বাংলাদেশ অষ্টম উইকেটের পতন ঘটান মিচেল স্টার্ক। ৭ রান করে ফিরলেন তাইজুল। এই উইকেটের মধ্য দিয়ে চলমান টেস্টে ১০ উইকেট শিকার করলেন স্টার্ক। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটের পর এখন পর্যন্ত এই ইনিংসে তার ঝুলিতে ৪ উইকেট।
প্রথম ইনিংসে ২১০ রানে অলআউট হয়ে অস্ট্রেলিয়া লিড তুলেছে ১৪৬ রানের।