ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৪৯ এএম

আটলান্টায় সেমিফাইনালের রাতটা ছিল নিঃশ্বাসরুদ্ধ নাটক। শেষ পাঁচ মিনিটে দুই গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ স্পেন। জয়সূচক গোলটির শেষ পাসটি এসেছিল মেসির পা থেকে। ম্যাচ শেষে খেলায় না নামা জিওভান্নি লো সেলসো মেলে ধরেন একটি সাদা ব্যানার– ‘লাস মালভিনাস সন আর্হেন্তিনাস’, অর্থাৎ মালভিনাস আর্জেন্টিনার। ব্যানারটি প্রথমে উঠেছিল গ্যালারির সমর্থকদের হাতেই। বিজয়ের উল্লাসের মধ্যে হঠাৎ যেন জেগে উঠল ইতিহাসের এক পুরোনো ক্ষত।


এর কয়েক দিন আগেই নরওয়ের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। তাই ফাইনালের রাতে নিউ জার্সির গ্যালারিতে কৌতূহলোদ্দীপক এক দৃশ্য দেখা যেতে পারে। হলুদ জার্সির ভিড়ে অনেক ব্রাজিলীয় দর্শকের হাতে উঠতে পারে আকাশি-সাদা পতাকা। কেউ মেসির জন্য, কেউ দক্ষিণ আমেরিকার মর্যাদার জন্য, কেউ আবার ইউরোপীয় ফুটবলের দীর্ঘ আধিপত্যের বিপরীতে নিজেদের মহাদেশের প্রতিনিধিকে সমর্থন জানাতে।


এটি অবশ্য ব্রাজিলের সর্বজনীন অবস্থান নয়। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা আজও তীব্র। বহু ব্রাজিলীয় নিশ্চয়ই স্পেনকে সমর্থন করবেন। কিন্তু ব্রাজিলের একটি দৃশ্যমান অংশের আর্জেন্টিনা-প্রীতিকে নিছক মেসিপ্রেম বলে দেখলে দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাস, ভূগোল ও সামাজিক বাস্তবতার বড় একটি অংশ আড়ালে থেকে যায়।


ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ফুটবলের দুই চিরপ্রতিপক্ষ, কিন্তু ভূগোলের দুই অপরিচিত রাষ্ট্র নয়। তাদের মধ্যে বারো শ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত। ইগুয়াসু নদী দুই দেশের সীমারেখা টেনেছে, আবার মানুষকেও যুক্ত করেছে। ফজ দো ইগুয়াসু, পুয়ের্তো ইগুয়াসু কিংবা মিসিওনেস অঞ্চলে সীমান্ত শুধু পাসপোর্টের রেখা নয়; তা বাজার, কর্মসংস্থান, পর্যটন, চিকিৎসা, আত্মীয়তা ও প্রেমের পথ।


দুই পাশে রাষ্ট্রভাষা আলাদা– ব্রাজিলে পর্তুগিজ, আর্জেন্টিনায় স্প্যানিশ। কিন্তু সীমান্তবাসীর মুখে জন্ম নিয়েছে মিশ্র ভাষা ‘পোর্তুনিয়ল’। এই ভাষা অভিধান থেকে তৈরি হয়নি। তৈরি হয়েছে বাজারে দরকষাকষি করতে গিয়ে, সীমান্ত পারাপারের বাসে গল্প জমাতে গিয়ে, মাঠে বন্ধুত্ব করতে গিয়ে, কখনও এক দেশের তরুণের সঙ্গে অন্য দেশের তরুণীর প্রেমে পড়ে।


ব্রাজিলীয়রা আর্জেন্টিনায় পড়তে যান, চিকিৎসা নেন, ব্যবসা করেন। আর্জেন্টাইনরা ব্রাজিলের সৈকত, নগর ও কর্মবাজারের দিকে ছুটে যান। হাজারো পরিবারে দুই দেশের নাগরিকত্ব, ভাষা ও স্মৃতি পাশাপাশি বাস করে। ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা গভীর হলেও তা সব সময় শত্রুতা নয়। বরং অনেকটা একই পরিবারের দুই প্রতিভাবান ভাইয়ের মতো, যারা পরস্পরকে হারাতে চায়, কিন্তু বাইরের কেউ পরিবারের একজনের সামনে দাঁড়ালে অন্যজনের ভেতরে জেগে ওঠে অদৃশ্য আত্মীয়তা।


এই সম্পর্কের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তিও শক্ত। সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ সন্দেহ পেছনে ফেলে দুই দেশ আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলে। পরে সেই আস্থা পথ তৈরি করে মেরকোসুরের। ১৯৯১ সালে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েকে নিয়ে গঠিত এই জোটের লক্ষ্য শুধু বাণিজ্য নয়; গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক সংহতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও।


আজও দুই দেশের অর্থনীতি একে অন্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ব্রাজিলের অটোমোবাইল শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনার গাড়ি ও যন্ত্রাংশের বাজার। আর্জেন্টিনার গম, জ্বালানি ও কৃষিপণ্যের জন্য ব্রাজিল গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা। আবার ব্রাজিলের শিল্পপণ্য ও বিনিয়োগ আর্জেন্টিনার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার বদলায়, মতাদর্শ বদলায়, কিন্তু নদীর স্রোত কিংবা পণ্যবাহী ট্রাকের পুরোনো পথ সহজে বদলায় না।


মালভিনাস বা ফকল্যান্ড প্রশ্নে ব্রাজিলের অবস্থান এই মহাদেশীয় আত্মীয়তার গভীরতম প্রমাণ। ১৯৮২ সালের যুদ্ধে আনুষ্ঠানিক নিরপেক্ষতার ভাষা ব্যবহার করলেও ব্রাজিলের রাজনৈতিক অবস্থান ছিল আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবির পক্ষে। ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সমর্থনের ইতিহাস ১৮৩৩ সাল পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যখন লন্ডনে নিযুক্ত ব্রাজিলীয় রাষ্ট্রদূতকে ব্রিটিশ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার প্রতিবাদের পক্ষে অবস্থান নিতে বলা হয়েছিল।


ফকল্যান্ড যুদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার বহু মানুষের কাছে শুধু আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের সংঘর্ষ ছিল না। সেটি ছিল ইউরোপীয় শক্তির বিরুদ্ধে এই মহাদেশের একটি দেশের ভূখণ্ডগত দাবির লড়াই। আর্জেন্টিনার তৎকালীন সামরিক জান্তার নিষ্ঠুরতা অবশ্যই সমালোচনার বিষয়। কিন্তু জান্তার অপরাধ আর দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন এক নয়। ব্রাজিল কূটনৈতিকভাবে এই পার্থক্য ধরে রেখেছে।


তাই লো সেলসোর হাতে মালভিনাসের ব্যানার নিছক একটি বিতর্কিত ফুটবল-মুহূর্ত নয়। এর ভেতরে আছে ১৯৮২ সালের যুদ্ধ, ম্যারাডোনার ১৯৮৬ সালের ইংল্যান্ডবধ এবং দক্ষিণ আমেরিকার দীর্ঘ স্মৃতি। ব্রাজিলীয়দের একাংশের আর্জেন্টিনা-সমর্থনের গভীরেও তাই ইউরোপের বিপরীতে মহাদেশীয় সংহতির একটি নীরব সুর কাজ করতে পারে।


ব্রাজিল ছিল পর্তুগালের উপনিবেশ, আর্জেন্টিনা স্পেনের। দুই সমাজই গড়ে উঠেছে উপনিবেশবাদ, আফ্রিকীয় দাসত্ব, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উচ্ছেদ ও পরবর্তী অভিবাসনের মধ্য দিয়ে। তাদের জাতিগত বিন্যাস এক নয়, কিন্তু উভয়ের জাতীয় পরিচয়ই মিশ্র। তাদের ঐক্য একই জাতিগোষ্ঠীতে নয়, বরং মিশ্রণের অভিজ্ঞতায়।


সাম্বা ও ট্যাঙ্গোর তাল আলাদা, কিন্তু দুটিই উঠে এসেছে বন্দরনগর, শ্রমজীবী মানুষ, অভিবাসন, প্রেম ও বিচ্ছেদের বেদনা থেকে। ব্রাজিলের ‘জোগো বনিতো’ আর আর্জেন্টিনার ‘লা নুয়েস্ত্রা’ও এক নয়, কিন্তু দুই দর্শনই ফুটবলকে নিছক শক্তি ও কৌশলের বাইরে নিয়ে গেছে। ইউরোপ ফুটবলকে শৃঙ্খলা দিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকা দিয়েছে ড্রিবল, কল্পনা, রাস্তার ফুটবল ও ব্যক্তিগত সৃষ্টিশীলতার সৌন্দর্য।


এই সমর্থনের সবচেয়ে মানবিক কারণ অবশ্য মেসি। পেলে ও ম্যারাডোনার পর দক্ষিণ আমেরিকা এমন একজন খেলোয়াড় পেয়েছে, যাকে জাতীয় সীমার মধ্যে আটকে রাখা যায় না। তিনি আর্জেন্টাইন, কিন্তু তাঁর প্রতিভার উত্তরাধিকার পুরো মহাদেশের। তাঁর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল বহু ব্রাজিলীয়র কাছেও একটি যুগের বিদায়।


ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা একে অন্যকে হারিয়ে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায়। আবার বাইরের পৃথিবী দক্ষিণ আমেরিকাকে ছোট করে দেখলে তারা পরস্পরের সাফল্যের মধ্যেই নিজেদের মর্যাদা খুঁজে পায়। এ সম্পর্ক বন্ধুত্বের চেয়ে জটিল, শত্রুতার চেয়ে গভীর। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, ঈর্ষা আছে, ইতিহাসের ক্ষত আছে; আবার আছে সীমান্ত পেরোনো প্রেম, বাণিজ্য, একই নদীর জল এবং একই মহাদেশের স্মৃতি।


রোববার রাতে ব্রাজিলের যে দর্শক আকাশি-সাদা পতাকা হাতে তুলবেন, তিনি নিজের দেশকে ভুলে যাবেন না। তিনি শুধু স্বীকার করবেন, সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীটিই তাঁর সবচেয়ে কাছের আত্মীয়। হলুদ-সবুজ জার্সির নিচে হৃদয়টা তখনও থাকবে ব্রাজিলের, শুধু তার একটি অলিন্দে বাজতে থাকবে বুয়েনস এইরেসের ছন্দ।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৬ পিএম

ব্রাজিলের ব্র্যান্ডই হলো ফুটবল। তাদের শৈল্পিক ফুটবলে মোহিত পুরো বিশ্ব। পেলে-রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের খেলা দেখে ব্রাজিলের ভক্ত হয়ে গেছে বাংলাদেশের একটি অংশ। 


টেলিভিশনে যে দলের সুন্দর ফুটবলে মুগ্ধ হয়েছিলেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা, এবার বাস্তবে সেই ব্রাজিলের ছন্দময় খেলা দেখার সুযোগ। ঢাকার মাঠে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-রাফিনিয়ার মতো ইউরোপ মাতানো তারকা খেলবেন, ব্যাপারটি স্বপ্ন মনে হলেও বাস্তবতায় খুবই সম্ভব। 


রোববার ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের পাঁচ প্রতিনিধি ঢাকায় আসার পরই যে গুঞ্জন রটেছিল ফুটবলপাড়ায়, তা হয়তো আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। আগামী অক্টোবরে ঢাকার মাঠে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলার আগ্রহ দেখিয়েছে ব্রাজিল প্রতিনিধি দল। তাদের আগ্রহে সাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। সবকিছু ঠিক থাকলে ৬ অক্টোবর হামজা চৌধুরী-ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দ্বৈরথটা দেখা যাবে জাতীয় স্টেডিয়ামে।


রোববার জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার মাঠ দেখেন ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি কয়েকটি আবাসিক হোটেলও দেখেন তারা। দুই মাঠের মান ও সংলগ্ন অবকাঠামো নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তারা। 


তবে ড্রেসিংরুম, টেকনিক্যাল জোন এবং প্রবেশ-বহির্গমন গেটের নিরাপত্তাসহ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছে প্রতিনিধি দল। দুটি স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে পরশু রাতেই বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা। সেখানেই বাংলাদেশ আর ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। 


ব্রাজিলের প্রস্তাবিত তারিখ ৫ ও ৬ অক্টোবর। ৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে ঢাকায় আসতে চাইছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নানা আলোচনা চললেও ৬ অক্টোবর ম্যাচ নিশ্চিত হয়ে গেছে- এমন খবর সঠিক নয় বলে গতকাল জানিয়েছেন বাফুফে সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন, ‘আমাদের সভাপতি ফিফার সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্ত নেবেন, যাতে ব্রাজিল ম্যাচটাও খেলতে পারি এবং আসিয়ান কাপও খেলতে পারি।’


ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার জন্য আসিয়ান কাপ থেকে সরে দাঁড়ায় ভারত। তাদের জায়গায় এই টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ হয়েছে বাংলাদেশের। এখন মহাসমস্যায় পড়েছে বাফুফে। ফিফার আমন্ত্রিত টুর্নামেন্ট আসিয়ান কাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে পারছে না দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আবার ব্রাজিলের মতো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রস্তাবও উপেক্ষা করার মতো নয়। তাই তো বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল হাঁটছেন সুন্দর সমাধানের পথে। ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ফিফা আসিয়ান কাপ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলবে। 


এরপর আছে স্থান নির্ধারণী ম্যাচও, যার সম্ভ্যাব্য তারিখ ৩ অক্টোবর। তাই স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি না খেলে অথবা এক দিন এগিয়ে ২ অক্টোবর করা যায় কিনা, তা ফিফার কাছে আবেদন করবে বাফুফে। সেক্ষেত্রে স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলে রাতেই ঢাকায় রওনা দিলে ধকলটা কমবে বাংলাদেশের। তখন ৬ অক্টোবর ব্রাজিলের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়।


বাংলাদেশে বেশ বড় বহর নিয়ে আসতে চায় ব্রাজিল। জানা গেছে ৯০ জনের কন্টিনজেন্টকে কলকাতা থেকে ঢাকায় এবং ঢাকা থেকে দুবাই চার্টার্ড করে পাঠাতে হবে বাফুফেকে। পাশাপাশি আনুষঙ্গিক খরচ তো রয়েছেই। শুধু ম্যাচ আয়োজনের জন্য কয়েক কোটি টাকা প্রয়োজন। পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান দিয়ে এই খরচ বহন করা কঠিন বাফুফের জন্য। তাই ব্রাজিলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের অর্থের জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা চাইবে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। 


‘ভালো কোনো উদ্যোগের জন্য অর্থ তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের সভাপতি নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নেবেন। ক্রীড়ামন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তা নেওয়া হবে। এ রকম ম্যাচ সরকারের সহায়তা নিয়েই করতে হবে’ বলেন শাহীন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:২৮ পিএম

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী একটি বল এবারও উঠল নিলামে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার করা বিখ্যাত ‘হাত দিয়ে করা’ গোলের বলটি বিক্রি হয়েছে ২৫ লাখ পাউন্ডে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪২ কোটি টাকায়।


যুক্তরাষ্ট্রে গত শনিবার এই নিলামের আয়োজন করে হেরিটেজ অকশনস। ঐতিহাসিক বলটির দাম সর্বোচ্চ ১ কোটি মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৭৩ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম দামেই এটি বিক্রি হয়েছে। নিলামে বলটির চূড়ান্ত মূল্য দাঁড়ায় ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার, যা প্রায় ২৫ লাখ পাউন্ডের (৪১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩৫০০ টাকা) সমান।


বলটি ছিল অ্যাডিডাসের ‘আজতেকা’। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের মেক্সিকো সিটিতে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনারের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে এই বলই ব্যবহার করা হয়েছিল। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে লড়াইয়ে মাথার বদলে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান ম্যারাডোনা। গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন তিউনিসিয়ান রেফারি আলি বিন নাসের।


শুধু বিতর্কিত সেই গোলই নয়, একই ম্যাচে ম্যারাডোনা এমন একটি গোল করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে পরিচিত হয়। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোল করেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। পাঁচজন ইংলিশ আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে ড্রিবল করে শিলটনকে পরাস্ত করেছিলেন তিনি।


শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপও জিতে নেয় ম্যারাডোনার দল।


৩০ বছর ধরে রেফারির কাছে ছিল বল


ওই ম্যাচের পর বলটি নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন ম্যাচের রেফারি আলি বিন নাসের। তিন দশকেরও বেশি সময় তার সংগ্রহেই ছিল ঐতিহাসিক এই বস্তুটি।


২০২৩ সালে বিন নাসের একটি চিঠিতে নিশ্চিত করেন, ১৯৮৬ সালের ওই ম্যাচে ব্যবহৃত একমাত্র বলটিই তার কাছে আছে। পরে স্বাধীনভাবে করা পরীক্ষাতেও বলটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।


নিলামের আগে হেরিটেজ অকশনসের নিলাম বিশেষজ্ঞ মাইক প্রোভেনজালে বলটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার মতে, এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীগুলোর একটি।


এর আগেও বিক্রি হয়েছিল


এটি অবশ্য বলটির প্রথম নিলাম নয়। ২০২২ সালে আলি বিন নাসের বলটি বিক্রি করেছিলেন ২৩ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলারে, যা সে সময় প্রায় ১৭ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডের সমান ছিল। পরের বছর নতুন মালিক আবার বলটি নিলামে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্য পর্যন্ত কোনো দর না ওঠায় সেটি বিক্রি হয়নি।


অবশেষে ২০২৬ সালের নতুন নিলামে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাওয়া যায়। ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার বা ২৫ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হলো ম্যারাডোনার ‘হাত দিয়ে করা’ গোলের সেই ঐতিহাসিক বল।


একই ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সিও এর আগে নিলামে উঠেছিল। ২০২২ সালে সেই জার্সি বিক্রি হয়েছিল ৭১ লাখ পাউন্ডে। ফলে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচের স্মারক হিসেবে ম্যারাডোনার জার্সির তুলনায় বলটির দাম এবারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমই থাকল।

সর্বশেষ সব খবর

পুলিশ ডাকলেন বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:০৬ পিএম

আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ দল ২৭ আগস্ট দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 


কিন্তু মাঠের অনুশীলন কিংবা দলীয় পারফরম্যান্সের চেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে কোচিং স্টাফের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর মধ্যে বিরোধ এবার গড়িয়েছে হাতাহাতি পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ডাকতে হয়েছে ব্রিটিশ কোচ জোন্সকে।


দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে জেরার্ড জোন্স ও মিশুর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। পরে জোন্স জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ হোটেলে গেলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।


কোচিং স্টাফের এমন ঘটনায় বিব্রত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও। বয়সভিত্তিক দল হলেও অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। 


ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই কোচের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি মাঠের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


ঘটনার বিষয়ে দলের ম্যানেজার ও বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য সামিদ কাশেম বলেন, ‘আমরা ডেভেলপমেন্ট কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, দ্রুতই একটি সুন্দর সমাধান হবে। আমাদের লক্ষ্য ফুটবলারদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করে দেশকে সাফল্য এনে দেওয়া।’


অবশ্য জেরার্ড জোন্সকে ঘিরে বিতর্ক এবারই প্রথম নয়। কিছুদিন আগে বেতনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে আলোচনায় এসেছিলেন এই ইংলিশ কোচ। 


সেখানে নিজের পরিবার ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বাফুফের সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে তার আচরণ নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।


বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচিং নিয়ে বিতর্ক অবশ্য জোন্সের আগেও ছিল। তার আগে দায়িত্বে থাকা ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্সের কোচিং সনদ ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। জোন্সের যোগ্যতা নিয়ে বড় কোনো প্রশ্ন না থাকলেও এবার তার আচরণ নিয়ে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১০ পিএম

বাংলাদেশের মাটিতে ম্যাচ খেলতে আগ্রহ দেখিয়েছে ব্রাজিল। আগামী ৬ অক্টোবর ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার প্রস্তাবও দিয়েছে তারা। তবে প্রস্তাবের সঙ্গে রয়েছে কিছু শর্তও। 


বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের প্রস্তাব অনুযায়ী কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পর পুরো দলকে ঢাকা নিয়ে আসার বিমান খরচ বহন করতে হবে বাংলাদেশকে।


শুধু বিমানভাড়া নয়, বাংলাদেশে অবস্থানের সময় ব্রাজিল দলের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের খরচও বহন করতে হবে বাফুফেকে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যয়। ঢাকা থেকে ব্রাজিল ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও পুরো দলের বিমানভাড়ার একটি অংশ বহনের শর্ত রয়েছে। 


প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে দুবাই পর্যন্ত তাদের যাত্রার খরচ বহন করতে হবে বাংলাদেশকে।


তবে ব্রাজিলকে ম্যাচ ফি বা কমার্শিয়াল কোনো অর্থ দিতে হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। ফলে পুরো আয়োজনের মোট ব্যয় কত দাঁড়াবে, সেটিও এখনো চূড়ান্ত নয়।


অবশ্য সরাসরি ব্রাজিলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেয়ে এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ব্রাজিল আগে থেকেই ভারতে আসছে। ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পর সেখান থেকে ঢাকায় আসতে পারবে তারা। ফলে দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণ ও লজিস্টিক খরচ অনেকটাই কমে আসবে।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৯ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার সফরের শেষটা ভালো হয়নি। ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে, তাও দুই দিনের মধ্যেই। এরপরও বাংলাদেশ দল গড়েছে নতুন ইতিহাস। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ স্থানে উঠেছে বাংলাদেশ।


আজ আইসিসি ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করা টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ২৪ ম্যাচে ১৮৭৮ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের রেটিং এখন ৭৮। এর আগে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাত নম্বরে উঠেছিল বাংলাদেশ। সেটি ছিল ২০২৪ সালে পাকিস্তানকে তাদের মাটিতে ২-০ তে সিরিজ হারানোর পর।


বাংলাদেশ এখন পেছনে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়েকে। বাংলাদেশের উত্থানের কারণে এক ধাপ করে পিছিয়েছে শ্রীলঙ্কা (৭),পাকিস্তান (৮) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৯)।


শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের রেটিং ১২৬। ১১৯ রেটিং নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয়। এরপর নিউজিল্যান্ড, ভারত ও ইংল্যান্ড আছে সেরা পাঁচে। সেরা পাঁচে কোনো পরিবর্তন আসেনি।


অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করাতেই এমন উত্থান বাংলাদেশের। সিরিজের প্রথম টেস্টে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।


এমন জয় চমকে দিয়েছিল ক্রিকেটবিশ্বকে। যদিও বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিততে পারেনি। ম্যাকাইয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।


টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে এমন উত্থানকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। ম্যাকাই টেস্ট শেষে তিনি বলেছেন, ‘ ভালো খবর, অবশ্যই ভালো খবর। খবরটা আরও ভালো হতো যদি এই টেস্ট ম্যাচটা আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারতাম। তবে ছয় নম্বরে আমরা প্রথমবারের মতো আসলাম টেস্ট ক্রিকেটে, এটা অনেক বড় অর্জন।’

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫৪ পিএম

ইনিংস হারের শঙ্কা নিয়ে চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতি থেকে ফিরে ৩ বলে ২ উইকেট হারিয়ে ইনিংস ও ৫১ রানে দ্বিতীয় টেস্ট হেরেছে সফরকারীরা। এই জয়ে সিরিজে সমতা টেনেছে অস্ট্রেলিয়া। দেড় দিনেই শেষ হলো ম্যাকাই টেস্ট।


চা-বিরতির পর নাথান লায়নের প্রথম বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৮ রান করে ফেরেন তাসকিন আহমেদ। ৯৫ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে হারের একেবারে দ্বারপ্রান্তে তখন বাংলাদেশ।শেষ ব্যাটার হিসেবে নামা শরিফুল ইসলাম প্রথম বল ডিফেন্স করেন। পরের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে আউট হলে ৯৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ফলে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়।


মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ২৯ রানে। দুই ইনিংসে মিচেল স্টার্কের শিকার ১০ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ঝুলিতে ৪টি। ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন কামিন্স ও লায়ন।


এর আগে, ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। লাঞ্চের আগে ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা।


এই ইনিংসেও স্টার্কের তোপে পরপর দুই বলে আউট হন সাদমান ও মুমিনুল। টিকতে পারেননি প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিমও। কামিন্সের বলে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।


শুরুতেই একবার আউট হতে গিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর ইতিবাচক ব্যাটিং করার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশার শেষই হলো তার ইনিংসের।


নাথান লায়নের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে লং অফের ওপর দিয়ে ছক্কা মারতে চেয়ে ক্যাচ দিয়েছেন লং অফে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার স্টার্কের হাতে। চতুর্থ উইকেট হারালো বাংলাদেশ। ৪৬ বলে ৩১ রান করে আউট হলেন নাজমুল।


ডারউইনে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ০ রানে সাজঘরে ফেরেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করার দরকার পড়েনি। ম্যাকাইতে প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও আউট হলেন কোনো রান না করেই।


তিন শূন্য নিয়ে চলমান টেস্ট সিরিজ ব্যর্থতায় পার করলেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ বল খেলে শূন্য রানে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেছেন। স্টার্কের অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে বল খোঁচা মেরে ক্যাচ দিয়েছেন স্লিপে দাঁড়ানো ওয়েবস্টারের হাতে।


প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৯২ বলে ১৪ রান করা হাসানও পারেননি কিছু করতে। ২ রানেই প্যাট কামিন্সের বলে ট্রাভিস হেডকে ক্যাচ দিয়ে।


এরপর আউট হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজও। কামিন্সের বলে ১ রান করে খোঁচা দিয়ে ফিরেছেন তিনি। ৬৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ইনিংস হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ।


তাইজুলকে বোল্ড করে বাংলাদেশ অষ্টম উইকেটের পতন ঘটান মিচেল স্টার্ক। ৭ রান করে ফিরলেন তাইজুল। এই উইকেটের মধ্য দিয়ে চলমান টেস্টে ১০ উইকেট শিকার করলেন স্টার্ক। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটের পর এখন পর্যন্ত এই ইনিংসে তার ঝুলিতে ৪ উইকেট।


প্রথম ইনিংসে ২১০ রানে অলআউট হয়ে অস্ট্রেলিয়া লিড তুলেছে ১৪৬ রানের।

সর্বশেষ সব খবর