ছবি : সংগৃহীত
গভীর রাতে অতর্কিতে এসে গুলি ছোড়া হয় র্যাবের ক্যাম্পে (চৌকি)। এরপর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ক্যাম্পের দেয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যাতে ঘটনাস্থলে অভিযান চালাতে না পারেন, সেই লক্ষ্যে অন্তত তিনটি স্থানে কেটে দেওয়া হয় রাস্তা। গতকাল রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে এসব ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায়।
র্যাব জানিয়েছে, রাস্তা কেটে দেওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অভিযানে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। র্যাবের দাবি, ‘সন্ত্রাসী’ ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা র্যাবের ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। সন্ত্রাসীরা ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকলে র্যাব সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়েন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাড়তি ফোর্স যেতে না পারে সে লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে দেয় সন্ত্রাসীরা। এরপরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে পৌঁছে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একপর্যায়ে কিছু সন্ত্রাসী পালিয়ে গেছে, কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
কামাল হোসেন নামে র্যাবের এক কর্মকর্তা নিজের ফেসবুক আইডিতে অভিযানের বেশ কয়েকটি ভিডিও আপলোড করেন। এর মধ্যে আজ সোমবার ভোরে আপলোড করা দুটি ভিডিওতে জঙ্গল সলিমপুরের রাস্তা কেটে দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।
ভিডিওতে র্যাব কর্মকর্তা কামাল হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাতে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য এখানে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন স্থানে কালভার্ট এবং রাস্তা কেটে দিয়েছে। যাতে আমাদের গাড়িগুলো ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। ওরা মনে করেছে যে ওদের কৌশলের কাছে আমরা পরাজিত হয়ে যাব। কিন্তু আমরা যে ওদের থেকে আরও বেশি কৌশলী, সেটা ওরা বুঝতে পারেনি।’
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, রাস্তা কেটে ফেলায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। যেখানে রাস্তা কেটে ফেলা হয়েছে, সেখানে গাড়ি রেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তাঁরা।
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক ধরে এগোলে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিপরীত দিকে একটি সড়ক ঢুকে গেছে পাহাড়ের ভেতরে। সে পথেই শুরু জঙ্গল সলিমপুর। ছিন্নমূল ও আলীনগর-মূলত এ দুটি অংশে বিভক্ত এলাকাটি।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এখানে ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।
গত ৯ মার্চ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের যৌথ অভিযানে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়।
এর আগে বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেও এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বরং অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানের পর এলাকাটিতে পুলিশ ও র্যাবের জন্য দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে র্যাব আলীনগরে একটি ক্যাম্প তৈরির কাজ শুরু করে।
গতকাল রাতে সেই ক্যাম্পটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।
গত ৯ মার্চ পরিচালিত যৌথ অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিন; মশিউর রহমান, নুরুল হক ভান্ডারি, গাজী সাদেক, গোলাম গফুরসহ কয়েকজন ‘সন্ত্রাসী’ এখনো পলাতক।
এলাকাবাসী জানান, অভিযানের আগে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা রোকনের দখলে আর আলীনগর এলাকা ইয়াসিনের দখলে ছিল।
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ ভবনে নতুন পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলামের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথনে সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তা ও অন্যান্য ব্যক্তিরা কিছুটা বিব্রত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধনী ফলকে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিমের নাম থাকায় আপত্তি তোলেন বিলকিস ইসলাম। তাঁর প্রশ্ন ছিল, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁকে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়নি কেন এবং উদ্বোধনী ফলকে শুধু একজন সংসদ সদস্যের নাম রাখা হলো কেন।
এ নিয়ে শুরু হওয়া তর্ক একপর্যায়ে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে উপজেলা পরিষদের পরিদর্শন কক্ষে বসে দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে কথাবার্তা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলে।
বিলকিস ইসলাম নিজের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের পরিদর্শন কক্ষে তাঁরও জায়গা থাকা উচিত। বিষয়টি তিনি সংসদে উত্থাপন করবেন বলেও জানান। নিজের অধিকার আদায়ে কোনো ছাড় দেবেন না-এমন কথাও বলেন তিনি।
অন্যদিকে আব্দুল মুনতাকিমের বক্তব্য, উপজেলা পরিষদের এ পরিদর্শন কক্ষ কোনো একক ব্যক্তির জন্য নয়; জাতীয় সংসদের সব সদস্যই প্রয়োজনে এটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে নীলফামারী-৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে স্থানীয়ভাবে তাঁর নাম ফলকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট নির্বাচন। নির্বাচনী এলাকা না থাকায় তাঁদের জন্য আলাদা করে কোনো পরিদর্শন কক্ষ নির্ধারণের বিধান আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন আব্দুল মুনতাকিম। তিনি এ বিষয়ে সরকারি পরিপত্র বা সংশ্লিষ্ট নথির কথা উল্লেখ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থলে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহা ফাতেহা তাকমিলা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে পরিদর্শন কক্ষটি কারা কীভাবে ব্যবহার করবেন এবং উদ্বোধনী ফলকে কার নাম থাকবে-এ নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে এক নারী যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেটি মাসকটে জরুরি অবতরণ করে। সেখানে বিমানবন্দরের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি ওই যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।আজ বুধবার শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর ছানোয়ারা বেগম (৫৫) নামের এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফ্লাইটটি মাসকট বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে বিমানবন্দরের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ফ্লাইটটি আবার মাসকট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আজ দুপুরের পর ফ্লাইটটির চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। ওই নারী যাত্রীর মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ এখনো জানা যায়নি।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মাছে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বা কৃত্রিম রং মেশানোর অপরাধে তিন মৎস্য ব্যবসায়ীকে মোট ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভাণ্ডারিয়া পৌর শহর ও স্থানীয় বাজারে অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪২ ধারায় তাদের এ জরিমানা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানে মাছে কৃত্রিম রং ও ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মেশানোর দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। তাদের মধ্যে মো. মিলন হাওলাদার (৩৭)-কে ১ হাজার টাকা, মো. মনসুর মোল্লা-কে ১ হাজার টাকা এবং জহির (৪০)-কে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান বলেন, অসাধু উপায়ে মাছে কৃত্রিম রং মিশিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে এবং একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছে। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও জনস্বার্থে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মাছকে আকর্ষণীয় দেখাতে কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বাজারে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
ভাণ্ডারিয়ার ৩ আসামি চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার
ভাণ্ডারিয়ায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় তার বসতঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটেরও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তিন এজাহারভুক্ত আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তাররা হলেন ভাণ্ডারিয়ার দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া এলাকার মো. সাব্বির হাওলাদার (১৯), মো. জিহাদ হাওলাদার (৩০) ও মো. শাকিল হাওলাদার (৩৫)। গত ২৪ আগস্ট র্যাব-৭ ও র্যাব-৮-এর যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া গ্রামে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইকরামুল ইসলামের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র, দা ও লোহার রড নিয়ে ইকরামুলের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে সাব্বিরের ধারালো অস্ত্রের আঘাত ইকরামুলের নাকে লাগে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। জিহাদের দায়ের কোপে তার বাম হাতের কনুই জখম হয় এবং শাকিল লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাকে রক্তাক্ত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলার পর সাব্বির ও শাকিল ইকরামুলের ঘরে প্রবেশ করে ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের আট আনা ওজনের স্বর্ণের কানবালা নিয়ে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাধা দেওয়ায় ইকরামুলের স্ত্রী বিনাবালীকেও মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত ইকরামুলকে উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ভাণ্ডারিয়া থানার এসআই সিদ্দিক জানান, র্যাবের সহযোগিতায় মামলার ১, ২ ও ৩ নম্বর আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ভাণ্ডারিয়ায় এনে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পিরোজপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
রংপুরে
অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক ও
তার স্ত্রী সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের
দাবি জানিয়েছে মানববন্ধন সমাবেশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। এসময় কর্মসূচি থেকে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বক্তব্যে অমিল
থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান সংগঠনটির নেতারা।
বুধবার
(২৬ আগস্ট) দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে রংপুর জেলা ও মহানগর সুজন
এ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে সুজনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন। এ সময় বক্তারা
পুলিশের তদন্তে নানা অসংগতি তুলে ধরে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও হুকুমদাতাদের আইনের
আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
সুজন
রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রংপুরে থানা ও পুলিশের বিভিন্ন
উইং বাড়লেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা কাটেনি। জনগণের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত সেতুবন্ধন তৈরি হয়নি। রাষ্ট্র ও নাগরিক পুলিশের
কাছ থেকে সেবা ও নিরাপত্তা চায়।
তিনি
প্রশ্ন তোলেন, এক-দু’জন
মাদকাসক্ত যুবক চার চারটি মানুষকে এভাবে হত্যা করতে পারে না। শুধুমাত্র ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে একটি পরিবারকে নিঃশেষ করে দেয়ার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত
ঘটনা বা কারণ আড়াল
হতে পারে, এই ধারণাও উড়িয়ে
দেয়ার মতো নয়। তাই কোনো অজুহাত দিয়ে প্রকৃত অপরাধী, পরিকল্পনাকারী ও হুকুমদাতাদের আড়াল
করার চেষ্টা চলছে কি না, তা
খতিয়ে দেখতে হবে।
সুজনের
এই সংগঠক ঘটনাটিতে পুলিশের আইজিপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতা নিয়েও
প্রশ্ন তোলেন। একই সাথে তিনি স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তদন্তের
গাফিলতি তুলে ধরে মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবায়দুল ইসলাম বুলেট বলেন, আসামিদের আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তাদের নেপথ্যে কোনো চক্রান্ত রয়েছে কি না তা
বের করা হয়নি। আসামিদের ডোপ টেস্ট করা হয়নি এবং যে ব্যক্তি আগাম
তথ্য দিয়েছিল, সে কীভাবে জানল
তা-ও খতিয়ে দেখা
হয়নি। ঘটনার সময় বিদ্যুতের সংযোগকে বিচ্ছিন্ন করল তাও তদন্তের দাবি রাখে। এ ঘটনায় পুলিশের
প্রেস ব্রিফিংয়ের পর জনমনে যেসব
প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে তার উত্তর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করাই দায়িত্বশীল পুলিশিং হতে পারে। কিন্তু আমরা সেটি এখনো দেখতে পাচ্ছি না।
দেশের
পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে উল্লেখ করে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি বলেন, দুর্বল তদন্তের কারণে আসামিরা ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে ওই এলাকার মাদক
ব্যবসায়ীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। পুলিশ তাদের এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এসময় নগরীর
প্রতিটি এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও কমিউনিটি পুলিশিং
কার্যক্রম আরো জোরদার করার তিনি দাবি জানান।
সুজনের
উপদেষ্টা সদস্য ও নারীনেত্রী মঞ্জুশ্রী
সাহা মিডিয়ায় উঠে আসা ধর্ষণের আলামত নিয়ে মর্গের ডোম ও ময়নাতদন্তের ফরেনসিক
চিকিৎসকের বক্তব্যের গরমিল এবং ধর্ষণ প্রসঙ্গে প্রশাসনের এড়িয়ে যাবার প্রবণতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
তিনি
আরও বলেন, নিহত তরুণীর সঙ্গে তার বান্ধবীর কথোপকথনে হত্যার হুমকি ও জিডি করার
বিষয় এবং ঘটনার দিন ভোরে বিদ্যুৎ না থাকা নিয়ে
বান্ধবীর সাথে চ্যাটিং করার প্রসঙ্গটি পুলিশের ভালো ভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ও আশপাশের সিসিটিভি
নষ্ট থাকার মধ্যেও রহস্য রয়েছে, এসব কারণে মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। মানুষ মনে করছে এ ঘটনাটি গভীর
ষড়যন্ত্রের অংশ। ঘটনার পরে থেকে মানুষ ঘরে-বাইরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
একই
সময়ে এ দাবির সাথে
সংহতি জানিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয় ফোর্ব জেলা ফোরাম ও ইয়ুথ এন্ডিং
হাঙ্গারের নেতৃবৃন্দ, সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীগণ। তারা বক্তব্যে
রংপুর
নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত
হয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান।
এ
মানববন্ধন সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুজন রংপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বাধীন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহে আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক, ফোর্ব জেলা ফোরামের সদস্য জাকিয়া সুলতানা মলি, আফরোজা রাধন, ভারতী রানী, ইয়ুথ লিডার রাকিবুল ইসলাম, লাবিব প্রমুখ।
প্রসঙ্গত;
গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে
রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ
ঘটনায় রোববার ভোরে একই এলাকা থেকে কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের
ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯) আটক করা হয়। ওই দিন বিকেলে
নিহত চারজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য হয়।
রোববার
বিকেলে নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ
চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওইদিন রাতে আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বর্তমানে আলোচিত এ মামলাটির তদন্তভার কোতয়ালী থানা থেকে বদল করে গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিনাত আলী এ মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা।
ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারী, এক পুরুষ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের ভূল্লী উপজেলাধীন কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-ভূল্লী উপজেলার বড় বালিয়া এলাকার শাহজাহান আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) এবং অজ্ঞাতনামা এক পুরুষ (প্রায় ৪০) মারা যান।
আহতরা হলেন- মোটরসাইকেলচালক লক্ষ্মীরহাট বাজার এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. হারুনুর রশিদ (৩৮), অটোরিকশাচালক কিসমত কেশুরবাড়ি এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে মো. সাহিরুল ইসলাম (২৩), বড় বালিয়া এলাকার মোছা. জরিনা (৪০) এবং ঠিকানা অজ্ঞাত মো. শফিকুল ইসলাম। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হারুনুর রশিদ, সাহিরুল ইসলাম ও অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার সকালে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি মালবাহী পিকআপ কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনটি যানবাহনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ও চালক গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারা বেগম ও লাইলী বেগমের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হারুনুর রশিদ ও সাহিরুল ইসলামকে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে ভূল্লী থানার পুলিশ এবং বোদা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
এ ঘটনায় পিকআপের চালক মো. হাবিবুর রহমান (২৪)কে আটক করেছে পুলিশ। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিষকাকুড়ি গ্রামের মো. আব্দুল হামিদের ছেলে। পুলিশ পিকআপসহ তাকে ভূল্লী থানায় নিয়ে গেছে।
ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “কচুবাড়ী এলাকায় পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পিকআপের চালককে গাড়িসহ আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।