কক্সবাজারের বিএমচর ইউনিয়নের বহদ্দারকাটা ষ্টেশনে নির্বাচনী পথসভায় কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি ক্ষমতায় এলে অতীতের তুলনায় ১০০ গুণ বেশি উন্নয়ন হবে, সঙ্গে এলাকায় শান্তিও প্রতিষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার-১ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) নিজ নির্বাচনী এলাকা কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) বিএমচর ইউনিয়নের বহদ্দারকাটা ষ্টেশনে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ১৭ বছর ধরে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরে পাওয়ার সংগ্রাম করেছে। স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। হারানো ভোটাধিকার জনগণ ফিরে পেয়েছে, সেই ভোট প্রয়োগ করতে হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অসমাপ্ত কাজগুলো আগামীতে তার সুযোগ্য সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ বা দ্বিতীয় সপ্তাহে যে নির্বাচন হবে, দয়া করে আপনারা সবাই ধানের শীষের পক্ষে রায় দিন, ভোট দিন। ইনশাআল্লাহ বিএনপি সরকার প্রতিষ্ঠা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকার প্রতিষ্ঠা করলে আপনাদের এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না। অতীতের তুলনায় শতগুণ বেশি উন্নয়ন হবে এবং এলাকায় শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠিত হবে।’
তিনি বলেন, শহীদের রক্তের শপথ, বিএনপির প্রতিশ্রুতি ও জনগণের প্রত্যাশা আগামী দিনে আইনের শাসনের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। এদেশের সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। গণতান্ত্রিক অধিকার, নাগরিক অধিকার, মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে আমাদের শপথ।
কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির মনোনীত এ প্রার্থী বলেন, আপনাদের ভোটে আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। বাংলাদেশ হবে কৃষকের বাংলাদেশ, কৃষকের জন্য কৃষি কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে, কৃষকের ন্যায্যমূলে বিষ, সারসহ সব কিছু তারা পাবে এবং সহজ শর্তে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। এই দেশে সবার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হবে। কোনো মানুষ বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করবে না। সব দরিদ্র পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে নিয়ে আসব। তাদেরকে পারিবারিক কার্ড দেওয়া হবে। তাদেরকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য চাল, ডালসহ সব কিছু দেওয়া হবে।
এদিন সকাল ১১টায় নিজ নির্বাচনী এলাকায় চতুর্থ দিনের দিনের মত গণসংযোগ শুরু করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। বিভিন্ন ষ্টেশনে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে নারী ও পুরুষেরা তাকে স্বাগত জানায়।
এদিকে তার নির্বাচনী পথসভাগুলো জনসভায় রূপ নিতে দেখা যায়। মানুষ ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে পথসভাগুলোতে আসছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ সবার কাছে ধানের শীষে ভোট চান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সাংসদ এবং তার সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ, মাতামুহুরী (সাংগঠনিক) উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ বদরী, সাধারণ সম্পাদক হেফাজতুর রহমান টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম সবুজসহ আরও অনেকে।
পরে ধারাবাহিক ভাবে পূর্ব বড় ভেওলা, শাহারবিল, পশ্চিম বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, বদরখালী ইউনিয়নে গণসংযোগ করবেন এবং একাধিক পথসভায় বক্তব্য রাখবেন।
চকরিয়া ও পেকুয়া নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। গত ২ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচনী এলাকায় আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন দলের এই অন্যতম শীর্ষ নেতা।
প্রচারণায় আর বাকি আছে এক দিন। তা শেষ করে আগামী ৭ই ডিসেম্বর (রোববার) তিনি রাজধানীতে ফিরে আসবেন।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে এক নারী যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেটি মাসকটে জরুরি অবতরণ করে। সেখানে বিমানবন্দরের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি ওই যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।আজ বুধবার শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর ছানোয়ারা বেগম (৫৫) নামের এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফ্লাইটটি মাসকট বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে বিমানবন্দরের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ফ্লাইটটি আবার মাসকট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আজ দুপুরের পর ফ্লাইটটির চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। ওই নারী যাত্রীর মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ এখনো জানা যায়নি।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মাছে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বা কৃত্রিম রং মেশানোর অপরাধে তিন মৎস্য ব্যবসায়ীকে মোট ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভাণ্ডারিয়া পৌর শহর ও স্থানীয় বাজারে অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪২ ধারায় তাদের এ জরিমানা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানে মাছে কৃত্রিম রং ও ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মেশানোর দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। তাদের মধ্যে মো. মিলন হাওলাদার (৩৭)-কে ১ হাজার টাকা, মো. মনসুর মোল্লা-কে ১ হাজার টাকা এবং জহির (৪০)-কে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান বলেন, অসাধু উপায়ে মাছে কৃত্রিম রং মিশিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে এবং একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছে। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও জনস্বার্থে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মাছকে আকর্ষণীয় দেখাতে কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বাজারে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
ভাণ্ডারিয়ার ৩ আসামি চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার
ভাণ্ডারিয়ায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় তার বসতঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটেরও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তিন এজাহারভুক্ত আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তাররা হলেন ভাণ্ডারিয়ার দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া এলাকার মো. সাব্বির হাওলাদার (১৯), মো. জিহাদ হাওলাদার (৩০) ও মো. শাকিল হাওলাদার (৩৫)। গত ২৪ আগস্ট র্যাব-৭ ও র্যাব-৮-এর যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া গ্রামে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইকরামুল ইসলামের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র, দা ও লোহার রড নিয়ে ইকরামুলের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে সাব্বিরের ধারালো অস্ত্রের আঘাত ইকরামুলের নাকে লাগে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। জিহাদের দায়ের কোপে তার বাম হাতের কনুই জখম হয় এবং শাকিল লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাকে রক্তাক্ত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলার পর সাব্বির ও শাকিল ইকরামুলের ঘরে প্রবেশ করে ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের আট আনা ওজনের স্বর্ণের কানবালা নিয়ে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাধা দেওয়ায় ইকরামুলের স্ত্রী বিনাবালীকেও মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত ইকরামুলকে উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ভাণ্ডারিয়া থানার এসআই সিদ্দিক জানান, র্যাবের সহযোগিতায় মামলার ১, ২ ও ৩ নম্বর আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ভাণ্ডারিয়ায় এনে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পিরোজপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
রংপুরে
অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক ও
তার স্ত্রী সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের
দাবি জানিয়েছে মানববন্ধন সমাবেশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। এসময় কর্মসূচি থেকে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বক্তব্যে অমিল
থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান সংগঠনটির নেতারা।
বুধবার
(২৬ আগস্ট) দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে রংপুর জেলা ও মহানগর সুজন
এ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে সুজনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন। এ সময় বক্তারা
পুলিশের তদন্তে নানা অসংগতি তুলে ধরে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও হুকুমদাতাদের আইনের
আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
সুজন
রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রংপুরে থানা ও পুলিশের বিভিন্ন
উইং বাড়লেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা কাটেনি। জনগণের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত সেতুবন্ধন তৈরি হয়নি। রাষ্ট্র ও নাগরিক পুলিশের
কাছ থেকে সেবা ও নিরাপত্তা চায়।
তিনি
প্রশ্ন তোলেন, এক-দু’জন
মাদকাসক্ত যুবক চার চারটি মানুষকে এভাবে হত্যা করতে পারে না। শুধুমাত্র ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে একটি পরিবারকে নিঃশেষ করে দেয়ার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত
ঘটনা বা কারণ আড়াল
হতে পারে, এই ধারণাও উড়িয়ে
দেয়ার মতো নয়। তাই কোনো অজুহাত দিয়ে প্রকৃত অপরাধী, পরিকল্পনাকারী ও হুকুমদাতাদের আড়াল
করার চেষ্টা চলছে কি না, তা
খতিয়ে দেখতে হবে।
সুজনের
এই সংগঠক ঘটনাটিতে পুলিশের আইজিপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতা নিয়েও
প্রশ্ন তোলেন। একই সাথে তিনি স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তদন্তের
গাফিলতি তুলে ধরে মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবায়দুল ইসলাম বুলেট বলেন, আসামিদের আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তাদের নেপথ্যে কোনো চক্রান্ত রয়েছে কি না তা
বের করা হয়নি। আসামিদের ডোপ টেস্ট করা হয়নি এবং যে ব্যক্তি আগাম
তথ্য দিয়েছিল, সে কীভাবে জানল
তা-ও খতিয়ে দেখা
হয়নি। ঘটনার সময় বিদ্যুতের সংযোগকে বিচ্ছিন্ন করল তাও তদন্তের দাবি রাখে। এ ঘটনায় পুলিশের
প্রেস ব্রিফিংয়ের পর জনমনে যেসব
প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে তার উত্তর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করাই দায়িত্বশীল পুলিশিং হতে পারে। কিন্তু আমরা সেটি এখনো দেখতে পাচ্ছি না।
দেশের
পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে উল্লেখ করে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি বলেন, দুর্বল তদন্তের কারণে আসামিরা ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে ওই এলাকার মাদক
ব্যবসায়ীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। পুলিশ তাদের এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এসময় নগরীর
প্রতিটি এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও কমিউনিটি পুলিশিং
কার্যক্রম আরো জোরদার করার তিনি দাবি জানান।
সুজনের
উপদেষ্টা সদস্য ও নারীনেত্রী মঞ্জুশ্রী
সাহা মিডিয়ায় উঠে আসা ধর্ষণের আলামত নিয়ে মর্গের ডোম ও ময়নাতদন্তের ফরেনসিক
চিকিৎসকের বক্তব্যের গরমিল এবং ধর্ষণ প্রসঙ্গে প্রশাসনের এড়িয়ে যাবার প্রবণতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
তিনি
আরও বলেন, নিহত তরুণীর সঙ্গে তার বান্ধবীর কথোপকথনে হত্যার হুমকি ও জিডি করার
বিষয় এবং ঘটনার দিন ভোরে বিদ্যুৎ না থাকা নিয়ে
বান্ধবীর সাথে চ্যাটিং করার প্রসঙ্গটি পুলিশের ভালো ভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ও আশপাশের সিসিটিভি
নষ্ট থাকার মধ্যেও রহস্য রয়েছে, এসব কারণে মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। মানুষ মনে করছে এ ঘটনাটি গভীর
ষড়যন্ত্রের অংশ। ঘটনার পরে থেকে মানুষ ঘরে-বাইরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
একই
সময়ে এ দাবির সাথে
সংহতি জানিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয় ফোর্ব জেলা ফোরাম ও ইয়ুথ এন্ডিং
হাঙ্গারের নেতৃবৃন্দ, সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীগণ। তারা বক্তব্যে
রংপুর
নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত
হয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান।
এ
মানববন্ধন সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুজন রংপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বাধীন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহে আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক, ফোর্ব জেলা ফোরামের সদস্য জাকিয়া সুলতানা মলি, আফরোজা রাধন, ভারতী রানী, ইয়ুথ লিডার রাকিবুল ইসলাম, লাবিব প্রমুখ।
প্রসঙ্গত;
গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে
রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ
ঘটনায় রোববার ভোরে একই এলাকা থেকে কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের
ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯) আটক করা হয়। ওই দিন বিকেলে
নিহত চারজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য হয়।
রোববার
বিকেলে নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ
চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওইদিন রাতে আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বর্তমানে আলোচিত এ মামলাটির তদন্তভার কোতয়ালী থানা থেকে বদল করে গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিনাত আলী এ মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা।
ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারী, এক পুরুষ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের ভূল্লী উপজেলাধীন কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-ভূল্লী উপজেলার বড় বালিয়া এলাকার শাহজাহান আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) এবং অজ্ঞাতনামা এক পুরুষ (প্রায় ৪০) মারা যান।
আহতরা হলেন- মোটরসাইকেলচালক লক্ষ্মীরহাট বাজার এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. হারুনুর রশিদ (৩৮), অটোরিকশাচালক কিসমত কেশুরবাড়ি এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে মো. সাহিরুল ইসলাম (২৩), বড় বালিয়া এলাকার মোছা. জরিনা (৪০) এবং ঠিকানা অজ্ঞাত মো. শফিকুল ইসলাম। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হারুনুর রশিদ, সাহিরুল ইসলাম ও অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার সকালে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি মালবাহী পিকআপ কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনটি যানবাহনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ও চালক গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারা বেগম ও লাইলী বেগমের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হারুনুর রশিদ ও সাহিরুল ইসলামকে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে ভূল্লী থানার পুলিশ এবং বোদা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
এ ঘটনায় পিকআপের চালক মো. হাবিবুর রহমান (২৪)কে আটক করেছে পুলিশ। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিষকাকুড়ি গ্রামের মো. আব্দুল হামিদের ছেলে। পুলিশ পিকআপসহ তাকে ভূল্লী থানায় নিয়ে গেছে।
ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “কচুবাড়ী এলাকায় পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পিকআপের চালককে গাড়িসহ আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে তদন্তে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও গ্রেপ্তার দুই আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের আগে তারা দীর্ঘ সময় ধরে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। পরে ছাদে ধরা পড়ার পর মানসম্মানের ভয়ে একে একে পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাসখানেক ধরে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে এক বা দুই পিস করে ইয়াবা সেবন করতেন সিদ্ধার্থ দাস। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে মুগ্ধকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেশী সীমান্তের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে তারা তিন পিস ইয়াবা সেবন করেন। তবে সীমান্ত মাদক সেবন করতেন না বলে জানা গেছে।
মধ্যরাতে আরও ইয়াবা সেবনের ইচ্ছে হলে শান্ত নামের এক মাদক কারবারির কাছ থেকে কয়েক পিস ইয়াবা কেনেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। পরে প্রতিবেশী দেবুদের তিনতলা বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে নির্মাণাধীন দোতলার ছাদ দিয়ে পাশের গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন তারা। দেবুর বাড়ির গেটে কুকুর থাকায় দেওয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন দুজন।
গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে ইয়াবা সেবন করতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে ভোরের আলো ফুটে যায়। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের আগে ওই রাতে তারা মোট আট পিস ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, এর আগে সিদ্ধার্থ ওই ছাদে এক-দুদিন ইয়াবা সেবন করলেও মুগ্ধ সেদিনই প্রথম সেখানে যান। গ্রেপ্তারের পর তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে এসব তথ্য স্বীকার করেছেন সিদ্ধার্থ দাস। ঘটনার রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ বাড়িতে ছিলেন না বলেও তাদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ভোরের দিকে ছাদে ওঠেন বাড়ির মালিক গণপতি চক্রবর্তী। সেখানে দুজনকে দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হন। এরপর ধরা পড়ে যাওয়া এবং মানসম্মানের ভয়ে গণপতির ঘাড়ে থাকা গামছা দিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যার পর গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ ছাদের এক কোণে রেখে টিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। টিনের শব্দ শুনে কিংবা অন্য কোনো কারণে ছাদে উঠে আসেন তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাদে ওঠার পর মুগ্ধ গামছা দিয়ে প্রীতিলতা চক্রবর্তীর গলা পেঁচিয়ে ধরেন। অন্যদিকে সিদ্ধার্থ আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীর গলা ও মুখ চেপে ধরেন। প্রীতিলতাকে হত্যার পর দুজনে মিলে পাশে থাকা রশি ও গামছা দিয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
পাশের ছাদ থেকে মরদেহগুলো যেন দেখা না যায়, সেজন্য মা ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়ির কাছে এনে রাখা হয় বলে তদন্তে জানা গেছে।
এরপর নিচতলায় নেমে ঘুম থেকে জেগে বিছানায় বসে থাকা আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকে দেখতে পান তারা। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রিয়ম সিদ্ধার্থকে চিনে ফেলায় তাকেও হত্যা করেন দুজন।
বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে এমন সন্দেহ থেকে নিচতলায় নেমে বৈদ্যুতিক মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন সিদ্ধার্থ। দীর্ঘ সময় ধরে এসব ঘটনার পর ক্লান্ত হয়ে পড়লে তারা ওই বাড়িতেই গোসল করেন। এরপর সেখানে বসে আরও এক পিস ইয়াবা সেবন করেন এবং খেজুর ও শসা খান বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পরে তারা ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখা হয়। পরে বাড়ি থেকে কিছু সোনার গয়না ও ১৫ হাজার টাকা নিয়ে জুমার নামাজের সময় ছাদ দিয়ে বেরিয়ে যান তারা।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ হাজার টাকা নেন মুগ্ধ। অন্যদিকে সিদ্ধার্থ সন্ধ্যার দিকে প্রতিবেশী পূর্ণিমা কাকির বাড়ির পাশে মাটিতে সোনার গয়না পুঁতে রাখেন। এ বিষয়ে পূর্ণিমা কিছু জানতেন না। পেশায় স্বর্ণকার সিদ্ধার্থ একটি বাসায় গয়না বের করে আগুনে পুড়িয়ে পরীক্ষা করে দেখেছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য মিলেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিভিন্ন আলামত হিসেবে খেজুরের বিচি, আগুনে পোড়ানো গয়নার চিহ্ন এবং ইয়াবা সেবনের উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করে পুলিশ। পরে বিকেলে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। ওইদিন রাতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, সিদ্ধার্থের শরীরে আঁচড়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার পর তিনি একটি ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসাও নেন।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে সিদ্ধার্থকে আটক করা হয়। পরে মুগ্ধর বাড়িতে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান তিনি। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ধাওয়া করার পর তুতফার্ম এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশের দাবি।
তবে তদন্ত এখনও চলমান বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা। ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়ালেও মামলার তদন্ত করছে একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফরেনসিক ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ও চূড়ান্ত রূপরেখা পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, মামলার তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় এখানে বর্ণিত ঘটনাপ্রবাহ পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে।