তিস্তা
মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ঈদুল
আজহার পর বৃহত্তর আন্দোলনের
ঘোষণা দিয়েছে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ। এই সময়ের মধ্যে
নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের কাছে রোডম্যাপ প্রকাশ ও একনেকে অর্থ
বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
বুধবার
(২০ মে) দুপুরে নগরীর একটি বেসরকারি কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী এই দাবি জানান।
তিনি
আরও জানান, নির্বাচনের আগে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে তিস্তাপাড়ের মানুষের গণজারগণ প্রমাণ করেছিল এটি এ অঞ্চলের মানুষের
অস্তিত্বের লড়াই। গণজাগরণের মুখে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি
নিয়ে নতুন করে টালবাহানা শুরু হয়েছে।
নজরুল
ইসলাম বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে শেখ হাসিনা জনগণের সাথে অঙ্গীকার করে বাস্তবায়ন করেনি। বরং প্রতিশ্রুতির ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করেছেন। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর
অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান ২০২৬ সালের পহেলা জানুয়ারি তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে বলে দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমে
বলেছিলেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে সেটা তারা শুরু করেননি।
তিনি
আরও বলেন, অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা রেজওয়ানা হাসান আমাদের জানিয়েছিল তিস্তাপাড়ের ৫ জেলার মানুষের
মতামত নেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতার
বিষয়টি চূড়ান্ত করতে চীন সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়নি।
নজরুল
ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের অভ্যন্তরে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দেখা যাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও ত্রাণমন্ত্রী তিস্তা
মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে ইতিবাচক কথা বললেও পানিসম্পদ মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে জনগণের মধ্যে অনিশ্চিয়তা-উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তিস্তা কোন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার
বিষয় না। এটি উত্তরের মানুষের বাঁচা-মরার লড়াই। আমরা নতুন করে আর তিস্তা নিয়ে
সময়ক্ষেপণের রাজনৈতিক গালগল্প শুনতে চাই না। তিস্তাপাড়ের মানুষ সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা চায়, যেমনটা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে হয়েছে।
এ
সময় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৬ দফা দাবি
উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে
১. একনেক সভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনার অনুমোদন করে প্রথম পর্যায়ের কাজ অবিলম্বে শুরু করা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে
রোডম্যাপ ঘোষণা, ২. জাতীয় বাজেটে
বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করাসহ পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজস্ব অর্থায়নের ভিত্তি গড়ে তোলা, ৩. নদী প্রকৌশলী,
কৃষিবিদ, পরিবেশবিদ, জলবায়ু গবেষক, নদী আন্দোলন প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্বশাসিত কর্তৃপক্ষ গঠন, ৪. তিস্তা নদীর
অববাহিকায় হিমাগার, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, কৃষি ভিত্তিক শিল্প-কারখানা, রপ্তানিমূখী শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলে কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা ও স্থায়ী কর্মসংস্থান
তৈরি, ৫. তিস্তা নদী
খননে পাথর, বালু উত্তোলনে সরকারি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সেই আয়ে প্রকল্প, নদী সংরক্ষণে বিনিয়োগ করা, ৬. জনগণের অংশগ্রহণমূলক
অর্থায়নের জন্য তিস্তা বন্ড চালু, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিস্তার তীর সংরক্ষণ, সেচ কাজ সম্প্রসারণ, শাখা, উপ-নদী পুনঃখনন,
জলাধার নির্মাণ এবং কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
এসব
দাবি বাস্তবায়নে জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ২১
থেকে ২৬শে মে পর্যন্ত তিস্তা
পাড়ের জনপদে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়
ও গণসংযোগ, ঈদুল আজহায় ঈদগাহ মাঠে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ
মোনাজাত, ৫ জুন আসন্ন
বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনার অর্থ বরাদ্দ, একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদন এবং সময়বদ্ধ রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে রংপুর নগরে জনপ্রতিনিধি রাজনৈতিক দল সামাজিক সাংস্কৃতিক
পেশাজীবী সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে
নিয়ে সংহতি সমাবেশ এবং জুন মাসব্যাপী তিস্তাপাড়ের পাঁচ জেলার ১২ উপজেলায় কর্মশালা,
লিফলেট বিতরণ, হাটসভা পথসভা, গণসমাবেশ ও মশাল প্রজ্জ্বলন
কর্মসূচি পালন করা হবে।
সংবাদ
সম্মেলনে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান, সদস্য মোহাম্মদ আলী, বখতিয়ার হোসেন শিশিরসহ আরও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে তদন্তে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও গ্রেপ্তার দুই আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের আগে তারা দীর্ঘ সময় ধরে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। পরে ছাদে ধরা পড়ার পর মানসম্মানের ভয়ে একে একে পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাসখানেক ধরে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে এক বা দুই পিস করে ইয়াবা সেবন করতেন সিদ্ধার্থ দাস। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে মুগ্ধকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেশী সীমান্তের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে তারা তিন পিস ইয়াবা সেবন করেন। তবে সীমান্ত মাদক সেবন করতেন না বলে জানা গেছে।
মধ্যরাতে আরও ইয়াবা সেবনের ইচ্ছে হলে শান্ত নামের এক মাদক কারবারির কাছ থেকে কয়েক পিস ইয়াবা কেনেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। পরে প্রতিবেশী দেবুদের তিনতলা বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে নির্মাণাধীন দোতলার ছাদ দিয়ে পাশের গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন তারা। দেবুর বাড়ির গেটে কুকুর থাকায় দেওয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন দুজন।
গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে ইয়াবা সেবন করতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে ভোরের আলো ফুটে যায়। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের আগে ওই রাতে তারা মোট আট পিস ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, এর আগে সিদ্ধার্থ ওই ছাদে এক-দুদিন ইয়াবা সেবন করলেও মুগ্ধ সেদিনই প্রথম সেখানে যান। গ্রেপ্তারের পর তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে এসব তথ্য স্বীকার করেছেন সিদ্ধার্থ দাস। ঘটনার রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ বাড়িতে ছিলেন না বলেও তাদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ভোরের দিকে ছাদে ওঠেন বাড়ির মালিক গণপতি চক্রবর্তী। সেখানে দুজনকে দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হন। এরপর ধরা পড়ে যাওয়া এবং মানসম্মানের ভয়ে গণপতির ঘাড়ে থাকা গামছা দিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যার পর গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ ছাদের এক কোণে রেখে টিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। টিনের শব্দ শুনে কিংবা অন্য কোনো কারণে ছাদে উঠে আসেন তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাদে ওঠার পর মুগ্ধ গামছা দিয়ে প্রীতিলতা চক্রবর্তীর গলা পেঁচিয়ে ধরেন। অন্যদিকে সিদ্ধার্থ আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীর গলা ও মুখ চেপে ধরেন। প্রীতিলতাকে হত্যার পর দুজনে মিলে পাশে থাকা রশি ও গামছা দিয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
পাশের ছাদ থেকে মরদেহগুলো যেন দেখা না যায়, সেজন্য মা ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়ির কাছে এনে রাখা হয় বলে তদন্তে জানা গেছে।
এরপর নিচতলায় নেমে ঘুম থেকে জেগে বিছানায় বসে থাকা আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকে দেখতে পান তারা। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রিয়ম সিদ্ধার্থকে চিনে ফেলায় তাকেও হত্যা করেন দুজন।
বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে এমন সন্দেহ থেকে নিচতলায় নেমে বৈদ্যুতিক মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন সিদ্ধার্থ। দীর্ঘ সময় ধরে এসব ঘটনার পর ক্লান্ত হয়ে পড়লে তারা ওই বাড়িতেই গোসল করেন। এরপর সেখানে বসে আরও এক পিস ইয়াবা সেবন করেন এবং খেজুর ও শসা খান বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পরে তারা ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখা হয়। পরে বাড়ি থেকে কিছু সোনার গয়না ও ১৫ হাজার টাকা নিয়ে জুমার নামাজের সময় ছাদ দিয়ে বেরিয়ে যান তারা।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ হাজার টাকা নেন মুগ্ধ। অন্যদিকে সিদ্ধার্থ সন্ধ্যার দিকে প্রতিবেশী পূর্ণিমা কাকির বাড়ির পাশে মাটিতে সোনার গয়না পুঁতে রাখেন। এ বিষয়ে পূর্ণিমা কিছু জানতেন না। পেশায় স্বর্ণকার সিদ্ধার্থ একটি বাসায় গয়না বের করে আগুনে পুড়িয়ে পরীক্ষা করে দেখেছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য মিলেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিভিন্ন আলামত হিসেবে খেজুরের বিচি, আগুনে পোড়ানো গয়নার চিহ্ন এবং ইয়াবা সেবনের উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করে পুলিশ। পরে বিকেলে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। ওইদিন রাতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, সিদ্ধার্থের শরীরে আঁচড়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার পর তিনি একটি ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসাও নেন।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে সিদ্ধার্থকে আটক করা হয়। পরে মুগ্ধর বাড়িতে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান তিনি। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ধাওয়া করার পর তুতফার্ম এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশের দাবি।
তবে তদন্ত এখনও চলমান বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা। ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়ালেও মামলার তদন্ত করছে একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফরেনসিক ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ও চূড়ান্ত রূপরেখা পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, মামলার তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় এখানে বর্ণিত ঘটনাপ্রবাহ পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে।
নাটোরের লালপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নিজেরা করি’র উদ্যোগে নেটওয়ার্কিং অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়বড়িয়াস্থ নিজেরা করি কার্যালয়ের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আড়বাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাজার শরীফ টেকনিক্যাল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও দৈনিক প্রাপ্তি প্রসঙ্গের প্রকাশক-সম্পাদক ইমাম হাসান মুক্তি। সভাটি সঞ্চালনা করেন নিজেরা করি’র সমন্বয়ক রিনা মন্ডল।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আলম, সাপ্তাহিক পদ্মা প্রবাহের সম্পাদক অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক, ভূমিহীন নেতা হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
সভায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশু ও নারী নির্যাতন বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বন্দোবস্ত, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধানে সচেতনতা সৃষ্টিসহ সামাজিক নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ভূমিহীনদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় এসব বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করে ‘নিজেরা করি’ কর্তৃপক্ষ।
নোয়াখালী সদর উপজেলায় গলায় ফাঁস দিয়ে আবদুল্লাহ আল সাইফ (১৩) নামে এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলের দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের জামালপুর এলাকার কাউসারের ফার্মেসি দোকানের পেছনের চেম্বার রুমে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফ উপজেলার দক্ষিণ কাদির হানিফ এলাকার মো.সোহাগের ছেলে। সে জামালপুর এলাকার কাউসার আহমেদের ফার্মেসি দোকানে সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানের মালিক কাউসার আহমেদ বাইরে থাকার সুযোগে দোকানের পেছনের চেম্বার রুমের ফ্যানের সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেয় সাইফ। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে দোকানে ফিরে মালিক সাইফকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে চেম্বার রুমে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সাইফ একটি মোবাইল ফোন কেনার জন্য দোকান মালিকের কাছে টাকা চেয়েছিল। তবে টাকা দেওয়া নিয়ে গড়িমসি হওয়ায় অভিমানে সে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কাউসারুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নজরুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিস্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা "আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের" শরীয়তপুর জেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ আগস্ট ২০২৬ আইন সহায়তা কেন্দ্র আসক ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ শামছুল আলম ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মোঃ মনির হোসেন ৪১ সদস্যবিশিষ্ট এ জেলা কমিটি অনুমোদন করেন।
অনুমোদিত কমিটিতে এ্যাড. সুলতান নাসিরকে সভাপতি, উজ্জ্বল খানকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং কে এম কামরুজ্জামান মিলন, জি এম ওহিদুজ্জামান, মোঃ কবির খান, মতিউর রহমান মাদবর, ফারুক খান, ডি এম কামাল হোসেন, সুমন খান ও জাকির হোসাইনকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে।
এছাড়া মো. আবুল কালাম (মুন্না) সাধারণ সম্পাদক, মনজুর হাসান সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নাসরিন সুলতানা, এ্যাড. মো. মোস্তফা কামাল, সৈয়দ বেপারী, আব্দুল সাদার সরদার, রিপন ফকির, মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, মো. মাহবুব আলম মাহফুজ, মোঃ সোহাগ ও আমির হোসেন সরদারকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
এছাড়াও মোঃ বাতেন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তরিকুল ইসলাম সৈকত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, মালেক ঢালী, সোহেল সরদার, নাইম মালত, জহিরুল ইসলাম ও আল আমিন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
এ কমিটিতে সোহাগ সরদার দপ্তর সম্পাদক, ইনছান সরদার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, মোঃ রুহুল আমিন অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, কাওছার হোসেন আইন বিষয়ক সম্পাদক, হাফেজ আনিসুর রহমান ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, মুন্নি হাবিবা মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, আতিকুর রহমান রাসেল আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, দাউদ মোঃ,তুহিন প্রশিক্ষণ সম্পাদক, সামিম মাঝি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক, মোঃ রুবেল মোল্লা সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন।
নতুন এ কমিটিতে রেহেনা সুলতানা আখি, মোঃ আবু সুফিয়ান ও মোঃ আল-আমিন মাতুব্বরকে কার্যনির্বাহী সদস্য করা হয়েছে।
অনুমোদনপত্রে বলা হয়েছে, কমিটিকে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনগত সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। নির্ধারিত সময় পরপর সংগঠনের কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটেও আইনগত সহায়তা ও মানবাধিকার কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য এবং বিভিন্ন জেলা কমিটির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, নবগঠিত শরীয়তপুর জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ মানবাধিকার সুরক্ষা, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
অন্যদিকে, নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দকে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালায় । এতে নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের অন্তত: ১২ সদস্য আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত রেজাউল প্যাদা (৪০), হীরন প্যাদা (৩৫), ইমাম প্যাদা (৩০), খোকন (২৫) ও হাসান (২০) নামের ৫ জনকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার শেষ বিকালে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটি সংলগ্ন বটতলা বাজারে এঘটনা ঘটে।
আহত শ্রমিকরা জানায়, মঙ্গলবার বেলা এগারোটা থেকে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জাহাজের মালামাল বোঝাই ও খালাস কার্যক্রমে সরকার নিবন্ধিত সংগঠন পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। বিকাল তিনটার দিকে কলাপাড়া থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় তারা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেন। তবে তারা বিচ্ছিন্ন ভাবে বটতলা বাজারেই অবস্থান করছিলো। পরে বিকালে সন্ত্রাসীরা ৭ থেকে ৮ জন লাঠিসোটা নিয়ে তাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসে।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হইবে।
খুলনার নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার ওমর ফারুক খুলনায় এখন থেকে কেউ অপরাধ করে আর ছাড় পাবে না। জেলার প্রতিটি থানা সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার জায়গা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সন্ত্রাস, মাদক, ধর্ষণ ও অপরাধ মুক্ত এমন সব প্রত্যয় গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে খুলনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিত ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।
নবাগত এসপি আরও বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করবে। খুলনায় অপরাধীদের সংখ্যা খুবই কম। সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কোনো জটিল বিষয় নয়। পুলিশের একার পক্ষে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনগণ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, অপরাধ ও বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কাজ করতে চায়। গণমাধ্যমের সহযোগিতায় অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশের কাছে পৌঁছালে জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন আরও সহজ হবে।
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, মাদকদ্রব্য, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ, জেলা প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যারা অপরাধ করে বা অপরাধ ঘটায়, তাদের সংখ্যা খুবই কম। তাদের চেয়ে আইন মেনে চলা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। জনগণ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা এবং পুলিশের পেশাদারিত্বের মাধ্যমে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। মতবিনিময় সভায় খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আবির সিদ্দিকী শুভ্র এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এ-সার্কেল সাইফুল ইসলাম সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।