বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ২:০৭ এএম

আবারও একটি অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। আওয়ামী লীগহীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে দলটি।


গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ১৫১টি জিতে নিয়েছে বিএনপি। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তারা পাচ্ছে তাদের দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীকে। জুলাই অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় নতুন শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হওয়া ধর্মভিত্তিক দলটি পেয়েছে ৪২টি আসন।


এছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি জোটে থাকা বিজেপি ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপি তিনটি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে।


চারটি আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ৯৪টি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা এখনো বাকি। সেখানেও বেশ কিছু আসনে বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এদিন সংস্কার প্রশ্নে গণভোটও হয়। আর তাতে অনুমিতভাবেই ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। এই ফলের অর্থ হল, জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮ দফা বাস্তবায়নের সম্মতি দিয়েছেন দেশের নাগরিকরা। অবশ্য গণভোটের প্রক্রিয়া ও প্রশ্নের গঠন নিয়ে সমালোচনা রয়েছে; নাগরিকরা ভোট দিয়েছেন না বুঝেই।


তারেকের নেতৃত্বে প্রত্যাবর্তন


১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনবার সরকারগঠন করেছিল তার স্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। আর এবার তাদেরই সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি চতুর্থবারের মত দেশ শাসনের ভার নিতে যাচ্ছে।


সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একানব্বইয়ের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরেছিল বিএনপি।


তার পরের তিন নির্বাচনে দুই বার সরকার গঠন করলেও মেয়াদ শেষ করতে পেরেছিল একবার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হেরে দলটি চলে গিয়েছিল শাসন ক্ষমতার বাইরে।


আওয়ামী লীগের আমলে তিনটি নির্বাচনের দুটি বর্জন করেছিল বিএনপি, একটিতে হয়েছিল ভরাডুবি। এরপর চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর নতুন বাস্তবতায় বিএনপির সামনে সরকারে ফেরার পথ তৈরি হয়।


১৯ বছর পর বিএনপি যখন সরকারে ফিরছে, তখন নতুন মেরুকরণে বিরোধীর আসনে নেই তাদের ৩৫ বছরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞা আর নিবন্ধন স্থগিত থাকায় সবচেয়ে বেশি সময় বাংলাদেশ শাসন করা আওয়ামী লীগের এবার ভোট করার সুযোগ ছিল না।


বাংলাদেশের যে কোনো নির্বাচন সর্বোচ্চ ১৮ আসন পাওয়া জামায়াতে ইসলামী সেই সুযোগে এবার বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়েছে বেশ। মায়ের ব্যাটন হাতে তুলে নেওয়ার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে বাংলাদেশের ক্ষমতা কেন্দ্রে প্রায় তিন যুগের চেনা চেহারা বদলে যাবে।


এই সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে তার মা, বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ঘিরে। প্রায় দেড় দশক টানা দেশ শাসন করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এখন ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। আর আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিরবিদায় নিয়েছেন।


খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দুজনে একটা সময়ে পর্যায়ক্রমে সরকার প্রধান হয়ে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একজন যখন সরকার প্রধান হয়েছেন, অন্যজন তখন থেকেছেন বিরোধী দলীয় নেতার ভূমিকায় রাজপথে।


এক সময় তাদের বৈরি সম্পর্ককে বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো ‘দুই বেগমের যুদ্ধ’ হিসেবেও চিত্রিত করেছে।


২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার জন্য তখনকার বিএনপি সরকারকে দায়ী করে আওয়ামী লীগ। আবার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি মামলার সাজা নিয়ে কারাগাযে যেতে হয়েছিল। পরে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও অসুস্থতার কারণে তাকে একপ্রকার ঘরবন্দি জীবন কাটাতে হয়।


চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর খালেদা জিয়া পুরোপুরি মুক্ত হন, আদালতের রায়ে মুক্তি পান সাজা থেকেও।গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া যখন চিরবিদায় নেন, তার কয়েক সপ্তাহ আগে ঘোষিত হয়েছিল ত্রয়োদশ নির্বাচনের তফসিল।


তার মৃত্যুর পর বিএনপির এক শোকাহত কর্মী আক্ষেপ করেছিলেন, “ও আল্লাহ, আর কয়টা দিন বাঁচায় রাখতা, আমার ম্যডাম যাতে নির্বাচনটা দেইখা মৃত্যুবরণ করত।”


আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে এই নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫০টি ছোটবড় দল। দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ভোটের মাঠে প্রার্থী ছিলেন ২০২৮ জন।


জামায়াতের একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে প্রচারের মাঝপথে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয় ২৯৯টি আসনে।


লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বিপুল সংবর্ধনায় দেশে ফিরে নির্বাচনি যাত্রায় নেমেছিলেন তারেক রহমান, যিনি মায়ের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। দেশ গঠনের ‘পরিকল্পনা’ নিয়ে দেশে আসার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, এক্ষেত্রে দেশবাসীর সমর্থন তিনি চান।


তার দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মাথায় মারা যান তার মা, খালেদা জিয়া; নির্বাচনি আমেজের মধ্যে তার এই বিদায়ে নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেন তারেক।


ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক কয়েকটি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে বিএনপি। তাদের জন্য আটটি আসন ছেড়ে দেয়।


২২ জানুয়ারি সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা থেকে নির্বাচনি প্রচার শুরু করে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জনসভা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।ভোটের প্রচারে জামায়াতে ইসলামীকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও ধর্মের নামে রাজনীতি করা’ দলকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান।


তারেক রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলে এতদিন রাজনীতি করে আসা জামায়াতকে তিনি ভোটের প্রচারে নতুন রূপে দেখানোর চেষ্টা করেন।


বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রমের দল এলডিপির পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থাকা তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিকে সঙ্গী হিসেবে পাশে টেনে নেয় জামায়াত। প্রার্থী করা হয় একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকেও।


ক্ষমতায় গেলে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা জামায়াত বললেও ভোটের প্রচারের সময় নারীদের নিয়ে জামায়াত আমিরসহ কয়েক নেতার বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক।


জামায়াতের আমিরও ভোটের প্রচারে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে বেড়িয়েছেন। বিএনপির অতীত মনে করিয়ে দিয়ে ‘দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের’ বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।


ভোটের সকালে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে এসে বিএনপির জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, আন্দোলনের সময়কার সঙ্গীদের পাশাপাশি ‘কম-বেশি’ আরও রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে তারা দেশ পরিচালনা করতে চান।


ঢাকা সেনানিবাসের আদমজী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মহাখালী, পান্থপথ, ভাষাণটেক, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ধানমন্ডির ২৭ নং সড়ক, সোহানবাগ ঘুরে নিজের কার্যালয়ে এসে তিনি দেশজুড়ে ভোটার উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।


তিনি বলেন, ‘‘ভোটার উপস্থিতি আমি যতটুকু ঢাকা শহরে দেখেছি, আমার কাছে মনে হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ ভরে তার ভোট প্রয়োগ করতে যাচ্ছে।”


“আমি বিশ্বাস করি, গত দুই দিনে যেভাবে দেখেছি মানুষজন লঞ্চ, স্টিমারে, ট্রেনে, বাসে করে বিভিন্ন উৎসাহ নিয়ে দেশে ফিরে গিয়েছে, যার যার এলাকায় ফিরে গিয়েছে, ভোট দেয়ার জন্য আমরা প্রত্যাশা করি যে, ইনশাআল্লাহ আজকে সেই প্রত্যাশা নিশ্চয়ই থাকবে।”


সকালে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের একটি কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর জামায়াত আমির শফিকুর রহমানও সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদের কথা বলেন ।


তিনি বলেন, “এই ভোটের মাধ্যমে আগামীতে এমন সরকার গঠিত হোক, যে সরকার কোনো ব্যক্তি, পরিবার, দলের হবে না; বরং যে সরকার হবে ১৮ কোটি মানুষের জনগণের সরকার। আমরা সেই সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী, আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।”


নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুর বলেছিলেন, “আমরা ছোটখাটো কোনো বিষয় হলে অবশ্যই এগুলোকে ইগনোর করব। কিন্তু বড় কোনো বিষয় হলে আমরা ছাড় দেব না এবং আমাদের যা করা প্রয়োজন, তাই করব। কারণ মানুষের ভোটের অধিকার হারিয়ে যাক, এটা আমরা কোনোভাবেই চাই না।”


২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে ঠাঁই পেয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতা। তবে নিজেদের সক্ষমতায় সরকার গঠন তো দূরে থাকা, প্রধান বিরোধী দলের আসনেও বসার সুযোগ তাদের হয়নি। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর বদলে যাওয়া বাংলাদেশে এবার তারা সে সুযোগ পেতে যাচ্ছে।


কেমন হল ভোট


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দেড় বছর পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এদিন গণভোট হয়। মোটাদাগে শান্তিপূর্ণভাবেই দিনভর ভোটগ্রহণ চলে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও কোথাও বড় ধরনের কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যয়নি। কোনো কেন্দ্র বাতিল বা স্থগিতও করতে হয়নি।


ভোট চলাকালে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, মানিকগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও গাইবান্ধায় ৬ জনের মৃত্যু হয়। তবে তাদের পাঁচজনই মারা যান হঠাত অসুস্থ হয়ে। আরেকজনকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।


জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট তিনটি আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ‘ভোটগ্রহণে বিশৃঙ্খলার’ অভিযোগ তোলে।


এনসিপি বলে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোটগহণ ‘সন্তোষজনক’ হলেও তারপর থেকেই সারা দেশ থেকে তারা বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছে। ভোটের সময় বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এনেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও।


অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলেছে, আশঙ্কাজনক কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, কোনো কেন্দ্র ভোট স্থগিতও হয়নি। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটে অংশগ্রহণ করায়, দেশবাসীকে ধন্যবাদও দিয়েছে তারা।


দুপুর ২টা পর্যন্ত সাড়ে ছয় ঘণ্টায় ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে পুরো ৯ ঘণ্টায় কত শতাংশ ভোট পড়েছে, সে তথ্য এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।


দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রে গিয়ে ভোটে নাগরিকদের ‘অংশগ্রহণের আগ্রহকে ইতিবাচক’হিসাবে বর্ণনা করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইইয়াবস।


সারা দেশে ইউ মিশনের পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিশ্বাসযোগ্য পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরির জন্য ইতোমধ্যে আমরা তথ্য গোছানোর কাজ করছি। দুপুর পর্যন্ত ভোটে বাংলাদেশের জনগণের অংশগ্রহণের আগ্রহ ইতিবাচক দেখতে পাচ্ছি।”


এদিকে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বেশ কিছু আসনে রিটার্নিং অফিসাররা ফল ঘোষণা না করে ‘ঝুলিয়ে’ রেখেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে এখনি বিস্তারিত বলতে চাননি।


তিনি বলেন, “বেশকিছু আসনে আমাদের জানামতে আমরা এগিয়ে আছি। গণনাও কমপ্লিট। কিন্তু রিটার্নিং অফিসাররা ফল ঘোষণা করছেন না। ঝুলিয়ে রেখেছেন, আমরা বুঝছি না কেন। মাঝখানে আবার ওয়েবসাইটে দিয়ে উধাও করে দেওয়া হল। ওনারা একটু আগে একদম প্রথম পর্যায়ের ১০টা, ১২টা ফল দিচ্ছেন।


“আমাদের বুথ ফেরত যে শিট এসেছে সেখানে আমরা দেখেছি, এগিয়ে আছি। কিন্তু এটা নিয়ে লোকালি বিভিন্ন টালবাহানা করা হচ্ছে।”


রাতে ঢাকা-৮ আসনে ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান জামায়াত জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পরে পাল্টা অভিযোগ নিয়ে সেখানে যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।


তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ‘শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায়’ জাতিকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।


একইসঙ্গে ফল ঘোষণার পরও যেন রাজনৈতিক দলগুলোর সংযম অব্যাহত থাকে, সেই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ভোটগ্রহণ শেষে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলসমূহের দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব- এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রমাণ করেছে যে, গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।”


প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী ও ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।


“তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”


প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই- চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”


তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ আবারও প্রমাণ করেছে, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আমরা সম্মিলিতভাবে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যাব।


“এই নির্বাচন আমাদের জন‍্য মহা আনন্দের ও উৎসবের। এর মধ‍্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো।


নোবেলজয়ী ইউনূস বিদায় বেলায় বলেন, “এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ছিল। এই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হলে আমাদের গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে যাবে। আসুন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এই অভিযাত্রায় আমরা একসঙ্গে কাজ করি।”



সর্বশেষ সব খবর

ভাণ্ডারিয়ার ৩ আসামি চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৫২ পিএম

ভাণ্ডারিয়ায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় তার বসতঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটেরও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তিন এজাহারভুক্ত আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।


গ্রেপ্তাররা হলেন ভাণ্ডারিয়ার দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া এলাকার মো. সাব্বির হাওলাদার (১৯), মো. জিহাদ হাওলাদার (৩০) ও মো. শাকিল হাওলাদার (৩৫)। গত ২৪ আগস্ট র‍্যাব-৭ ও র‍্যাব-৮-এর যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া গ্রামে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইকরামুল ইসলামের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র, দা ও লোহার রড নিয়ে ইকরামুলের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


এতে সাব্বিরের ধারালো অস্ত্রের আঘাত ইকরামুলের নাকে লাগে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। জিহাদের দায়ের কোপে তার বাম হাতের কনুই জখম হয় এবং শাকিল লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাকে রক্তাক্ত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


হামলার পর সাব্বির ও শাকিল ইকরামুলের ঘরে প্রবেশ করে ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের আট আনা ওজনের স্বর্ণের কানবালা নিয়ে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাধা দেওয়ায় ইকরামুলের স্ত্রী বিনাবালীকেও মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।


পরে স্থানীয়রা আহত ইকরামুলকে উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।


ভাণ্ডারিয়া থানার এসআই সিদ্দিক জানান, র‍্যাবের সহযোগিতায় মামলার ১, ২ ও ৩ নম্বর আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ভাণ্ডারিয়ায় এনে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পিরোজপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


মামলার অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৫২ পিএম

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক তার স্ত্রী সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছে মানববন্ধন সমাবেশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। এসময় কর্মসূচি থেকে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বক্তব্যে অমিল থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান সংগঠনটির নেতারা।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে রংপুর জেলা মহানগর সুজন সমাবেশের আয়োজন করে। এতে সুজনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন। সময় বক্তারা পুলিশের তদন্তে নানা অসংগতি তুলে ধরে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হুকুমদাতাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

সুজন রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রংপুরে থানা পুলিশের বিভিন্ন উইং বাড়লেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা কাটেনি। জনগণের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত সেতুবন্ধন তৈরি হয়নি। রাষ্ট্র নাগরিক পুলিশের কাছ থেকে সেবা নিরাপত্তা চায়।

 

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এক-দুজন মাদকাসক্ত যুবক চার চারটি মানুষকে এভাবে হত্যা করতে পারে না। শুধুমাত্র ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে একটি পরিবারকে নিঃশেষ করে দেয়ার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।  প্রকৃত ঘটনা বা কারণ আড়াল হতে পারে, এই ধারণাও উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়। তাই কোনো অজুহাত দিয়ে প্রকৃত অপরাধী, পরিকল্পনাকারী হুকুমদাতাদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

 

সুজনের এই সংগঠক ঘটনাটিতে পুলিশের আইজিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। একই সাথে তিনি স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

তদন্তের গাফিলতি তুলে ধরে মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবায়দুল ইসলাম বুলেট বলেন, আসামিদের আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তাদের নেপথ্যে কোনো চক্রান্ত রয়েছে কি না তা বের করা হয়নি। আসামিদের ডোপ টেস্ট করা হয়নি এবং যে ব্যক্তি আগাম তথ্য দিয়েছিল, সে কীভাবে জানল তা- খতিয়ে দেখা হয়নি। ঘটনার সময় বিদ্যুতের সংযোগকে বিচ্ছিন্ন করল তাও তদন্তের দাবি রাখে। ঘটনায় পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ের পর জনমনে যেসব প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে তার উত্তর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করাই দায়িত্বশীল পুলিশিং হতে পারে। কিন্তু আমরা সেটি এখনো দেখতে পাচ্ছি না।

 

দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে উল্লেখ করে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি বলেন, দুর্বল তদন্তের কারণে আসামিরা ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। পুলিশ তাদের এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এসময়  নগরীর প্রতিটি এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরো জোরদার করার তিনি দাবি জানান।

 

সুজনের উপদেষ্টা সদস্য নারীনেত্রী মঞ্জুশ্রী সাহা মিডিয়ায় উঠে আসা ধর্ষণের আলামত নিয়ে মর্গের ডোম ময়নাতদন্তের ফরেনসিক চিকিৎসকের বক্তব্যের গরমিল এবং ধর্ষণ প্রসঙ্গে প্রশাসনের এড়িয়ে যাবার প্রবণতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।

 

তিনি আরও বলেন, নিহত তরুণীর সঙ্গে তার বান্ধবীর কথোপকথনে হত্যার হুমকি জিডি করার বিষয় এবং ঘটনার দিন ভোরে বিদ্যুৎ না থাকা নিয়ে বান্ধবীর সাথে চ্যাটিং করার প্রসঙ্গটি পুলিশের ভালো ভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা আশপাশের সিসিটিভি নষ্ট থাকার মধ্যেও রহস্য রয়েছে, এসব কারণে মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। মানুষ মনে করছে ঘটনাটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। ঘটনার পরে থেকে মানুষ ঘরে-বাইরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

 

একই সময়ে দাবির সাথে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয় ফোর্ব জেলা ফোরাম ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গারের নেতৃবৃন্দ, সদস্য স্বেচ্ছাসেবীগণ। তারা বক্তব্যে

রংপুর নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত হয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান।

 

মানববন্ধন সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুজন রংপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বাধীন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহে আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক, ফোর্ব জেলা ফোরামের সদস্য জাকিয়া সুলতানা মলি, আফরোজা রাধন, ভারতী রানী, ইয়ুথ লিডার রাকিবুল ইসলাম, লাবিব প্রমুখ।

 

প্রসঙ্গত; গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

ঘটনায় রোববার ভোরে একই এলাকা থেকে কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯) আটক করা হয়। ওই দিন বিকেলে নিহত চারজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য হয়।

 

রোববার বিকেলে নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওইদিন রাতে আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

বর্তমানে আলোচিত মামলাটির তদন্তভার কোতয়ালী থানা থেকে বদল করে গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিনাত আলী মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১২ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারী, এক পুরুষ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের ভূল্লী উপজেলাধীন কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহতরা হলেন-ভূল্লী উপজেলার বড় বালিয়া এলাকার শাহজাহান আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) এবং অজ্ঞাতনামা এক পুরুষ (প্রায় ৪০) মারা যান।




আহতরা হলেন- মোটরসাইকেলচালক লক্ষ্মীরহাট বাজার এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. হারুনুর রশিদ (৩৮), অটোরিকশাচালক কিসমত কেশুরবাড়ি এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে মো. সাহিরুল ইসলাম (২৩), বড় বালিয়া এলাকার মোছা. জরিনা (৪০) এবং ঠিকানা অজ্ঞাত মো. শফিকুল ইসলাম। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হারুনুর রশিদ, সাহিরুল ইসলাম ও অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।




পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার সকালে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি মালবাহী পিকআপ কচুবাড়ী পোস্ট অফিস পাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনটি যানবাহনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী ও চালক গুরুতর আহত হন।


দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারা বেগম ও লাইলী বেগমের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হারুনুর রশিদ ও সাহিরুল ইসলামকে পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।


খবর পেয়ে ভূল্লী থানার পুলিশ এবং বোদা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।


এ ঘটনায় পিকআপের চালক মো. হাবিবুর রহমান (২৪)কে আটক করেছে পুলিশ। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিষকাকুড়ি গ্রামের মো. আব্দুল হামিদের ছেলে। পুলিশ পিকআপসহ তাকে ভূল্লী থানায় নিয়ে গেছে।


ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “কচুবাড়ী এলাকায় পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে দুই নারী নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পিকআপের চালককে গাড়িসহ আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”


পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৪৫ পিএম

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে তদন্তে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও গ্রেপ্তার দুই আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের আগে তারা দীর্ঘ সময় ধরে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। পরে ছাদে ধরা পড়ার পর মানসম্মানের ভয়ে একে একে পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। 


তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাসখানেক ধরে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে এক বা দুই পিস করে ইয়াবা সেবন করতেন সিদ্ধার্থ দাস। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে মুগ্ধকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেশী সীমান্তের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে তারা তিন পিস ইয়াবা সেবন করেন। তবে সীমান্ত মাদক সেবন করতেন না বলে জানা গেছে।


মধ্যরাতে আরও ইয়াবা সেবনের ইচ্ছে হলে শান্ত নামের এক মাদক কারবারির কাছ থেকে কয়েক পিস ইয়াবা কেনেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। পরে প্রতিবেশী দেবুদের তিনতলা বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে নির্মাণাধীন দোতলার ছাদ দিয়ে পাশের গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন তারা। দেবুর বাড়ির গেটে কুকুর থাকায় দেওয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন দুজন।


গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে ইয়াবা সেবন করতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে ভোরের আলো ফুটে যায়। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের আগে ওই রাতে তারা মোট আট পিস ইয়াবা সেবন করেছিলেন।


তদন্তে আরও জানা গেছে, এর আগে সিদ্ধার্থ ওই ছাদে এক-দুদিন ইয়াবা সেবন করলেও মুগ্ধ সেদিনই প্রথম সেখানে যান। গ্রেপ্তারের পর তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে এসব তথ্য স্বীকার করেছেন সিদ্ধার্থ দাস। ঘটনার রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ বাড়িতে ছিলেন না বলেও তাদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন।


তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ভোরের দিকে ছাদে ওঠেন বাড়ির মালিক গণপতি চক্রবর্তী। সেখানে দুজনকে দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হন। এরপর ধরা পড়ে যাওয়া এবং মানসম্মানের ভয়ে গণপতির ঘাড়ে থাকা গামছা দিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।


হত্যার পর গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ ছাদের এক কোণে রেখে টিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। টিনের শব্দ শুনে কিংবা অন্য কোনো কারণে ছাদে উঠে আসেন তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী।


তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাদে ওঠার পর মুগ্ধ গামছা দিয়ে প্রীতিলতা চক্রবর্তীর গলা পেঁচিয়ে ধরেন। অন্যদিকে সিদ্ধার্থ আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীর গলা ও মুখ চেপে ধরেন। প্রীতিলতাকে হত্যার পর দুজনে মিলে পাশে থাকা রশি ও গামছা দিয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।


পাশের ছাদ থেকে মরদেহগুলো যেন দেখা না যায়, সেজন্য মা ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়ির কাছে এনে রাখা হয় বলে তদন্তে জানা গেছে।


এরপর নিচতলায় নেমে ঘুম থেকে জেগে বিছানায় বসে থাকা আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকে দেখতে পান তারা। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রিয়ম সিদ্ধার্থকে চিনে ফেলায় তাকেও হত্যা করেন দুজন।


বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে এমন সন্দেহ থেকে নিচতলায় নেমে বৈদ্যুতিক মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন সিদ্ধার্থ। দীর্ঘ সময় ধরে এসব ঘটনার পর ক্লান্ত হয়ে পড়লে তারা ওই বাড়িতেই গোসল করেন। এরপর সেখানে বসে আরও এক পিস ইয়াবা সেবন করেন এবং খেজুর ও শসা খান বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।


ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পরে তারা ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখা হয়। পরে বাড়ি থেকে কিছু সোনার গয়না ও ১৫ হাজার টাকা নিয়ে জুমার নামাজের সময় ছাদ দিয়ে বেরিয়ে যান তারা।


তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ হাজার টাকা নেন মুগ্ধ। অন্যদিকে সিদ্ধার্থ সন্ধ্যার দিকে প্রতিবেশী পূর্ণিমা কাকির বাড়ির পাশে মাটিতে সোনার গয়না পুঁতে রাখেন। এ বিষয়ে পূর্ণিমা কিছু জানতেন না। পেশায় স্বর্ণকার সিদ্ধার্থ একটি বাসায় গয়না বের করে আগুনে পুড়িয়ে পরীক্ষা করে দেখেছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য মিলেছে।


পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিভিন্ন আলামত হিসেবে খেজুরের বিচি, আগুনে পোড়ানো গয়নার চিহ্ন এবং ইয়াবা সেবনের উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।


এ ঘটনায় রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করে পুলিশ। পরে বিকেলে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। ওইদিন রাতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।


মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, সিদ্ধার্থের শরীরে আঁচড়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার পর তিনি একটি ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসাও নেন।


স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে সিদ্ধার্থকে আটক করা হয়। পরে মুগ্ধর বাড়িতে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান তিনি। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ধাওয়া করার পর তুতফার্ম এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশের দাবি।


তবে তদন্ত এখনও চলমান বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা। ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়ালেও মামলার তদন্ত করছে একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফরেনসিক ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ও চূড়ান্ত রূপরেখা পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।


উল্লেখ্য, মামলার তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় এখানে বর্ণিত ঘটনাপ্রবাহ পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৩৫ পিএম

নাটোরের লালপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নিজেরা করি’র উদ্যোগে নেটওয়ার্কিং অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়বড়িয়াস্থ নিজেরা করি কার্যালয়ের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


আড়বাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাজার শরীফ টেকনিক্যাল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও দৈনিক প্রাপ্তি প্রসঙ্গের প্রকাশক-সম্পাদক ইমাম হাসান মুক্তি। সভাটি সঞ্চালনা করেন নিজেরা করি’র সমন্বয়ক রিনা মন্ডল।


এ সময় আরও বক্তব্য দেন মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আলম, সাপ্তাহিক পদ্মা প্রবাহের সম্পাদক অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক, ভূমিহীন নেতা হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।


সভায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশু ও নারী নির্যাতন বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বন্দোবস্ত, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধানে সচেতনতা সৃষ্টিসহ সামাজিক নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।


বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ভূমিহীনদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


সভায় এসব বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করে ‘নিজেরা করি’ কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৫ এএম

নোয়াখালী সদর উপজেলায় গলায় ফাঁস দিয়ে আবদুল্লাহ আল সাইফ (১৩) নামে এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে।  


মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলের দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের জামালপুর এলাকার কাউসারের ফার্মেসি দোকানের পেছনের চেম্বার রুমে এ ঘটনা ঘটে।


নিহত সাইফ উপজেলার দক্ষিণ কাদির হানিফ এলাকার মো.সোহাগের ছেলে। সে জামালপুর এলাকার কাউসার আহমেদের ফার্মেসি দোকানে সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিল।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানের মালিক কাউসার আহমেদ বাইরে থাকার সুযোগে দোকানের পেছনের চেম্বার রুমের ফ্যানের সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেয় সাইফ। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে দোকানে ফিরে মালিক সাইফকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে চেম্বার রুমে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সাইফ একটি মোবাইল ফোন কেনার জন্য দোকান মালিকের কাছে টাকা চেয়েছিল। তবে টাকা দেওয়া নিয়ে গড়িমসি হওয়ায় অভিমানে সে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কাউসারুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।


সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নজরুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিস্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর