ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।
এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।
শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।
বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।
বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।
ইমরান
পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির সরকারের অবস্থান নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন মাইকেল আথারটন। ইংলিশ সাবেক অধিনায়কের অভিযোগ, জনজীবন ও ইতিহাস থেকে ইমরানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কারাবন্দি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত রোববার পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লেখেন বিভিন্ন দেশের একদল সাবেক অধিনায়ক। ছয় মাসের ব্যবধানে যেটি ছিল তাদের দ্বিতীয় চিঠি। ওই অধিনায়কদের মধ্যে একজন ছিলেন আথারটনও।
পরদিন (সোমবার) স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেটে বিষয়টি নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন আথারটন। যেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আরেক সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন। তিনিও ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
“নাস (নাসের হুসাইন) এবং আমি সেই ২১ সাবেক অধিনায়কের মধ্যে ছিলাম, যারা গতকাল (রোববার) দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি দিয়েছি। এটি ছিল মানবিক আবেদন- ইমরান খান যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। তবে আমার মনে হয়, রাষ্ট্র যেন ইমরানের অস্তিত্ব প্রায় মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে যা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।”
মোট ২১ জন সাবেক ক্রিকেটার ইমরানের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে ওই চিঠি দেন। যেখানে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনিল গাভাস্কার, কাপিল দেব ও দিলিপ ভেঙ্গসারকারও স্বাক্ষর করেন।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাহবাজকে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই সময় খবর বের হয়েছিল, চোখের সমস্যায় ভুগছেন ইমরান। তার পরিবার জানিয়েছিল, ওই সমস্যার কারণে এক চোখে প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি। কারাগারে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না- এমন অভিযোগও উঠেছিল।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন চলছে অনেক দিন ধরেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করা এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তার কাছে যেতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবের জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করে আসছে বিরোধী দল। সরকার এই অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করেছে।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। এরপর ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যে অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তানের হয়ে ৮৮ টেস্ট ও ১৭৫ ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান। তাকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা পেসারদের একজন, সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে তিনি অবিসংবাদিত।
১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিদায়ের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইমরানের নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান, যা এখনও ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি রূপকথা হয়ে আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডার অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ আরও বাড়াতে থাকলে, যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমন হুমকি দিয়েছেন অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। সম্প্রতি কানাডার গাড়ি, ট্রাক, অটো যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা।
এছাড়া, প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর গত শনিবার পৃথক ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ফোর্ড সোমবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দেন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) ডগ ফোর্ড বলেন, ‘সবকিছুই বিবেচনার মধ্যে আছে। যা করা দরকার, আমি তাই করব।’
তিনি আরও বলেন, অন্টারিও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারে, এমনকি রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে।
ফোর্ড জানান, তারা প্রায় ১৫ লাখ বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন। তাই কানাডার উৎপাদন খাত ধ্বংসের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে চাইলে ট্রাম্পের উচিত ব্যাটারি সঙ্গে রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বিদেশি দেশগুলোর মধ্যে কানাডাই সবচেয়ে বড়। তবে পুরো দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা তুলনামূলকভাবে কম।
মার্কিন ‘এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের’ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কানাডা থেকে প্রায় ২৪ দশমিক ৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় প্রায় ১৬ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধানকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে ‘কানাডার নেতাদের লাইনে আসার’ জন্য সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।
তিনি লিখেছেন, কেউ দয়া করে এই ‘ভাঁড়গুলোকে লাইনে আসতে’ বলুন। তা না হলে কানাডার পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে।
পোস্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে আবারও ‘গভর্নর’ হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক বড়, ধনী ও শক্তিশালী। তাদেরকে ছাড়া কানাডা টিকে থাকতে পারবে না।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইরান তার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার ইসরায়েলের সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১৪-এর সঙ্গে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন। তবে কখন বা কীভাবে এই হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল এবং ঠিক কোন ছেলেকে (আভনার নাকি ইয়াইর) লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।
তিনি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য একটি ঘটনা ঘটেছে- ইরান আমার এক ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। ইরান আমার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছে।’
আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট নিরাপত্তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে—এমন প্রতিবেদনের বিষয়ে আলোচনার সময়ই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই দাবিটি সামনে আসে। নির্বাচনে হেরে গেলেও স্ত্রী ও ছেলেদের অন্তত পাঁচ বছরের জন্য নিরাপত্তা দিতে শিন বেটের সঙ্গে হওয়া একটি চুক্তির পক্ষে যুক্তি দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, তার পরিবার যে নিরাপত্তা পাচ্ছে তা কোনো বিলাসিতা নয়। এই নিরাপত্তা না থাকলে গুপ্তঘাতকেরা তার ছেলেকে হত্যা করতে সফল হতো বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার বড় ছেলে ইয়াইর ২০২৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছেন এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে তিনি শিন বেটের সুরক্ষায় রয়েছেন। ইয়াইরের নিরাপত্তার পেছনে করদাতাদের বিপুল অর্থের ব্যবহার নিয়ে এরই মধ্যে ইসরায়েলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ ফ্লোরিডার কিছু বাসিন্দা ইসরায়েলের শত্রুদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, ছোট ছেলে আভনার তার জীবনের বেশিরভাগ সময় ইসরায়েলেই কাটিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা এই ইসরায়েলি নেতা নির্বাচনী প্রচারণার সময় সবাইকে কিছুটা সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকোটকে নিরাপত্তা না দেওয়ার বিতর্ক প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানান, তিনি শিন বেট প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং যেকোনো প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীকেই যথাযথ নিরাপত্তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের বাণিজ্য অংশীদারদের লক্ষ্য করে সর্বকালের সবচেয়ে বড় আর্থিক আক্রমণ চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি নাকচ করে দিয়েছে। উল্টো যদি অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলে তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সব ধরনের তেলের আমদানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তারা। দেশটি বলেছে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হবে না।
পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তাদের অনুমতি ছাড়া জাহাজ পার না হওয়া-সংক্রান্ত নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তারা। সবমিলিয়ে ৪৫টি জাহাজ তাদের নীতিমালা ভেঙেছে বলেও উল্লেখ করেছে তারা। এসব যখন ঘটছে, ঠিক সে সময়টিতেই তেহরানে মধ্যস্থতার জন্য সফর করছেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান আসিম মুনির। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরও হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার জন্য আজ মঙ্গলবার ইরান সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর বলছে, মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে কিছু আর্থিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ১৯৭৯ সালের পর থেকেই দেশটি ক্রমাগত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে।
গত রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে বেসেন্ট লিখেছেন, ‘ভোর থেকে অর্থনৈতিক ডি-ডে শুরু হতে যাচ্ছে। এটি হবে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে বৃহৎ আর্থিক আক্রমণ।’ বেসেন্টের ঘোষণার পরপরই ডলারের বিপরীতে ইরানের রিয়ালের সর্বোচ্চ দর পতন হয়েছে। খোলাবাজারে এক ডলারের দাম গিয়ে ঠেকে ২০ লাখ রিয়ালে।
পাকিস্তানের সামরিক প্রধান আসিম মুনির গতকাল সোমবার তেহরানে আলোচনার জন্য পৌঁছান। ইরানের গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে বিষয়টি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসিম মুনিরের সফর আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রচারের প্রচেষ্টার অংশ।
এক পাকিস্তানি সূত্র জানায়, এবারের সফরে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে মুনিরের।
পাকিস্তানের দুই সূত্র জানায়, ট্রাম্প মুনিরকে গত সপ্তাহে ফোন করেছিলেন। আরেক সূত্র জানায়, ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস এ প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ও ইরানের সামরিক বাহিনী গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একে অন্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। তবে সর্বশেষ জুনে তারা যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় বসেছিল। এর মধ্যে দুই দেশের আর কোনো আলোচনাও হয়নি। এ সময়ের মধ্যে একাধিকবার হরমুজ প্রণালিতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
সৌদি আরবের লোহিত সাগর বন্দরের কাছে ট্যাঙ্কারে হামলা
গতকাল সোমবার সৌদি আরবের বন্দর শহর ইয়ানবু থেকে পশ্চিমে এক ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এতে জাহাজের মূল ডেকে আগুন ধরে যায়। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানায় এসব তথ্য। তবে ঠিক কে হামলা চালিয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। ইরানের হুতি মিত্ররা গত মাসে জানায়, হরমুজ এড়িয়ে সৌদি আরব যেসব তেল রপ্তানি লোহিত সাগরের মাধ্যমে করছে, সেগুলোকে আটকানো হবে।
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। বিশেষ করে ইরান ও লেবাননে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়ে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে স্থবির করে দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তেল ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে চাপ তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর। যুদ্ধের অন্যতম প্রধান একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কথা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চেয়েছিল সেটির অবসান ঘটাতে। তবে বর্তমানে সেটির কী অবস্থা, তা এখনও অস্পষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্র গতকাল সোমবার জানায়, দুই সপ্তাহ দাম বাড়ার পর গত সোমবার তেলের দাম কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী বেসেন্ট সুনির্দিষ্টভাবে নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানাননি। তবে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সেসব দেশকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে, যারা ইরানের অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে নিজেদের জড়িয়েছে। বেসেন্ট ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে লিখেছেন, ‘তাদের এটি চালিয়ে যাওয়ার পরিণতি সম্পর্কে ভাবা উচিত।’
রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে একাধিক বিবৃতিতে বড় সামরিক প্রতিক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করেছে তারা। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ে গত রোববার বলেন, ‘যদি অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলমান থাকে, তাহলে এক বিন্দু তেলও রপ্তানি হবে না। না হরমুজ প্রণালি দিয়ে, না পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো স্থান দিয়ে।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘ইরান এই যুদ্ধে যে কোনো দেশের অংশগ্রহণ বা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে সমর্থনের বিষয়টিকে যুদ্ধে জড়ানো হিসেবে দেখবে।’
নিষেধাজ্ঞা ও চাপ কাজ করবে না: চীন
এদিকে, চীন বলেছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও চাপ কাজ করবে না। এর আগে চীনের কাছে সহায়তা চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি চেয়েছিল, তারা যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর চাপ তৈরিতে সহযোগিতা করে। চীন বহু বছর ধরে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। তবে চলতি বছরের মধ্য জুলাই থেকে ইরানের বন্দরে অবরোধ দেওয়ার কারণে চীনে ইরানের তেল যাওয়ার প্রবাহ বিঘ্নিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হুমকি সামনে আসার পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ও চাপের কৌশল সহায়তা করবে না এবং বেইজিং চীনের স্বার্থ রক্ষায় যা যা করার করবে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী বিদেশি নাগরিকদের নন-ইমিগ্র্যান্ট বা অস্থায়ী ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অভিবাসনবিরোধী ব্যাপক অভিযানের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র গতকাল সোমবার বলেছেন, যেসব বিদেশি নাগরিক স্বল্প সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে এসেছিলেন, কিন্তু পরে এখানে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে ভিসা বাতিল করা হবে। এ লক্ষ্যে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ঠিক কতটি ভিসা বাতিল করা হবে, তা বিস্তারিত জানায়নি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় দুই লাখ বিদেশির ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা বাতিল হবে। সে হিসাবে এটি হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি ভিসা বাতিলের ঘটনা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি ও দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এপি আরও জানিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা সব বি-১ (ব্যবসায়িক) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসা এ প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে।
তবে ভিসা বাতিল হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হবে না। বর্তমানে যাঁদের আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়াধীন, তাঁদের বেশির ভাগের ভিসার মর্যাদা নতুন শ্রেণিতে পরিবর্তন করা হতে পারে। তবে তাঁরা ব্যবসা বা পর্যটনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অস্থায়ী ভিসার মর্যাদা হারাবেন।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ‘ভিত্তিহীন বা ভুয়া আশ্রয়ের আবেদনে’ ভরে গেছে।
এর আগে চলতি মাসেই মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। এর আওতায় ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিলের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ অভিযান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুরা এর ফলে বৈষম্য ও চরম নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তাঁর প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ শুধু অবৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। বৈধভাবে অভিবাসনের প্রক্রিয়াও কঠিন করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ এরই মধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।