ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে টিকিটের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। ফিফার অফিশিয়াল রিসেল (পুনর্বিক্রয়) সাইটে ফাইনালের চারটি টিকিট বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ কোটি ২১ লাখ টাকা)।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে বিশ্বকাপ। ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। সেখানকার গ্যালারির নিচতলার ১২৪ নম্বর ব্লকের ৪৫ নম্বর সারিতে গোলপোস্টের পেছনের ৩৩ থেকে ৩৬ নম্বর আসনগুলোর প্রতিটির দাম হাঁকা হয়েছে ২২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ ডলার।
ফিফা তাদের এই রিসেল বা বিনিময় প্ল্যাটফর্মে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণ করে না, অর্থাৎ বিক্রেতা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাতে পারেন।
তবে প্রতিটি লেনদেন থেকে বড় অঙ্কের লভ্যাংশ পায় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নিয়ে থাকে ফিফা।
সে হিসাবে, এ চারটি টিকিট যদি নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়, তবে শুধু কমিশন বাবদই ফিফার পকেটে যাবে প্রায় ২৬ লাখ ৯৯ হাজার ডলার বা ৩৩ কোটি টাকার বেশি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ জানিয়েছে, ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে টিকিটের বাজারে অস্থিরতা গত শুক্রবার সকালেও দেখা গেছে। এদিন গ্যালারির অন্যান্য আসনের টিকিটও বিক্রি হয়েছে কয়েক লাখ পাউন্ডে। এমনকি সবচেয়ে কম দামি টিকিটের জন্য গুনতে হচ্ছে ১০ হাজার ৯২৩ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৩ লাখ টাকা।
ফিফার দাবি, বিশ্বকাপ থেকে আসা আয় তারা ফুটবলের উন্নয়নের জন্য ২১১টি সদস্যদেশের পেছনে ব্যয় করে।
গত বুধবার নিজেদের ওয়েবসাইটে সরাসরি বিক্রির জন্য নতুন ব্লকের কিছু টিকিট ছেড়েছে ফিফা, যেখানে ফাইনাল ম্যাচে টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৯৯০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা)।
এ ছাড়া আগামী ১৪ জুলাই টেক্সাসের আর্লিংটনে সেমিফাইনালের টিকিট ১১ হাজার ১৩০ ডলারে এবং ১৫ জুলাই আটলান্টার সেমিফাইনাল ম্যাচের টিকিট ৯ হাজার ৬৬০ ও ৪ হাজার ৩৬০ ডলারে বিক্রি করছে ফিফা।
বিশ্বকাপ দেখার এই অস্বাভাবিক খরচ নিয়ে গত শুক্রবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা, ‘আমার মনে আছে, কয়েক বছর আগেও বিশ্বকাপ মানেই ছিল ফুটবল নিয়ে এক আনন্দ উৎসব। নিজের দেশকে সমর্থন দিতে সারা বিশ্ব থেকে সাধারণ মানুষ সেখানে যেত এবং সেটা তাদের নাগালের মধ্যেই ছিল। কিন্তু আধুনিক যুগে এটি ভীষণ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।’
গার্দিওলা আরও বলেন, ‘আমি যেহেতু সেখানে (ফিফায়) নেই, তাই সঠিক কারণ আমার জানা নেই। তবে আশা করব, তারা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাববে। ফুটবল মূলত দর্শকদের জন্যই। অবশ্যই স্পনসর বা অন্যান্য বাণিজ্যিক দিকের কথা ভাবতে হবে, নয়তো এটি টিকিয়ে রাখা যাবে না, সবাই সেটা জানে। কিন্তু এই ব্যবসা সচল রাখার মূল চাবিকাঠি হলো সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা।’
টেলিগ্রাফের মতে, ফাইনালে টিকিটের আকাশচুম্বী দাম মূলত ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে চলমান বিশাল এক ‘লুটতরাজ’-এর খণ্ডচিত্র। ফুটবলপ্রেমীদের পকেট কাটার এ মহোৎসবে আরও কী কী ঘটছে, সেসব নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানে নেমেছে ‘টেলিগ্রাফ স্পোর্টস’।
বড় সংকটে ইনফান্তিনো
ফিফার প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্ভবত এটাই সবচেয়ে সংকট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য। বিশ্বকাপে টিকিটের দাম ৮ হাজার ৬৮০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশের পর জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
টিকিটের এমন অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে বিভিন্ন ফুটবল-সমর্থক গোষ্ঠী। ব্যাপারটা আরও গুরুতর হয়ে ওঠার আগেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা।
তারা ঘোষণা করে, জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মাধ্যমে অতি সীমিতসংখ্যক টিকিট মাত্র ৬০ ডলারে বণ্টন করা হবে, যা কেবল দলগুলোর সবচেয়ে অনুগত বা নিয়মিত সমর্থকেরাই পাবেন।
টিকিটের এই মাত্রাতিরিক্ত দামের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ফিফার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ বা পরিবর্তনশীল মূল্যপদ্ধতিকে। মূলত এই পদ্ধতির কারণেই চলতি মাসে ফাইনাল ম্যাচের সবচেয়ে দামি টিকিটগুলোর মূল্য আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে।
ফিফার অনুমোদনেই টিকিটের কালোবাজারি
নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির সুযোগ করে দিয়ে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফিফা। মূলত সংস্থাটির এ সিদ্ধান্তের কারণেই তাদের নিজস্ব ‘রিসেল’ বা পুনর্বিক্রয় সাইটে বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র চারটি টিকিটের দাম (একেকটি ২৩ লাখ ডলার) এত বেড়েছে।
বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে ফিফার কমিশন-বাণিজ্য।
তবে নিজস্ব টিকিটের উচ্চ মূল্য, ডায়নামিক প্রাইসিং এবং এই পুনর্বিক্রয় পদ্ধতি নিয়ে ফিফার আত্মপক্ষ সমর্থনও বেশ জোরালো। তাদের দাবি, এখান থেকে অর্জিত নিট মুনাফা বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নেই পুনর্নিয়োগ করা হবে।
হোটেল ভাড়া বেড়েছে চার গুণ
বিশ্বকাপের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর হোটেলগুলোতে কক্ষভাড়া কয়েক শ ডলার বেড়েছে। দেখা গেছে, আয়োজক ১৬টি শহরে উদ্বোধনী ম্যাচগুলোর দিন আবাসন খরচ গড়ে চার গুণ বেড়েছে। মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা উদ্বোধনী ম্যাচের সময় একটি হোটেলের কক্ষভাড়া যেখানে গত মে মাসের শেষে ছিল মাত্র ১৫৭ ডলার, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৮২ ডলারে (প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা)।
ট্রেনভাড়া ১৩ ডলার থেকে বেড়ে ১৫০ ডলার
পেন স্টেশন থেকে মেটলাইফ স্টেডিয়াম- উড়োজাহাজে নয়, মাত্র ৩০ মিনিটের এই ট্রেনভ্রমণের টিকিটের দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫০ ডলারের বেশি। যেখানে যাতায়াতের স্বাভাবিক খরচ ১২ ডলার ৯০ সেন্ট, সেখানে বিশ্বকাপের সময় তা প্রায় ১২ গুণ বাড়িয়ে দেওয়ায় খোদ ফিফাই নিউ জার্সি ট্রানজিটের বিরুদ্ধে ‘লুটতরাজের’ অভিযোগ তুলেছে। যদিও ফিফার এমন অবস্থানকে ‘স্পর্ধা’ হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
নিউ জার্সির গভর্নর মাইকি শেরিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমরা এমন এক চুক্তি পেয়েছি, যেখানে ফিফা বিশ্বকাপের পরিবহন খাতে এক পয়সাও দিচ্ছে না। সমর্থকদের নিরাপদে আনা-নেওয়ার জন্য নিউ জার্সি ট্রানজিটকে ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বিশাল বিল মেটাতে হচ্ছে, সেখানে ফিফা আয় করছে ১১০০ কোটি ডলার। আমাদের সাধারণ যাত্রীদের ওপর আমি এই ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিতে পারি না। ফিফার উচিত যাতায়াত খরচ বহন করা।’
পরিবহন খরচের এই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে অন্য শহরগুলোতেও। বোস্টনের উপকণ্ঠে জিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালে ট্রেনের টিকিটের দাম পড়বে ৮০ ডলার এবং কোচের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৫ ডলার।
স্টেডিয়ামে পার্কিং খরচ ২২৫ ডলার
যাঁরা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে খেলা দেখতে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের পকেটও ভালোই কাটা পড়বে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একটি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য গুনতে হবে ২২৫ ডলার (প্রায় ২৭ হাজার টাকা)। পিছিয়ে নেই বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামও, সেখানে একটি গাড়ির পার্কিং খরচ ধরা হয়েছে ১৭৫ ডলার।
ফ্যান জোনে ঢুকতেও খরচ করতে হবে
টিকিটের অস্বাভাবিক দাম ও যাতায়াত খরচের পর যুক্ত হয়েছে ফ্যান জোনে প্রবেশমূল্য। সাধারণত বিশ্বকাপের ফ্যান জোনগুলো উন্মুক্ত থাকলেও এবার নিউ জার্সিতে তা হচ্ছে না। গত ডিসেম্বরেই এ নিয়ে শুরু হয় নতুন বিতর্ক।
জানা গেছে, সেখানকার ফ্যান জোনে ঢুকতে সাধারণ মানুষকে টিকিট কাটতে হবে। টিকিটমাস্টার ওয়েবসাইটে এ টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ১২ ডলার ৫০ সেন্ট।
লিওনেল মেসি
জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলতে আর্জেন্টিনা পৌঁছেছেন লিওনেল মেসি। গত শুক্রবার নিজ শহর রোজারিওতে পৌঁছান তিনি।
বুয়েন্স আয়ার্সের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন মেসি। বাংলাদেশ সময় ৭ অক্টোবর বুধবার ভোর ৫টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
আর্জেন্টাইন সংবাদ মাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী ম্যাচ খেলতে স্ত্রী, তিন ছেলে ও মাকে নিয়ে রোজারিওতে পৌঁছেছেন মেসি। দ্রুতই আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এ মহাতারকার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন জাতীয় দলের সতীর্থ ও কোচিং স্টাফরা।
৩৯ বছর বয়সী এ ফুটবলারকে বিদায় জানাতে এরই মধ্যে সতীর্থরা বিশেষ একটি ভিডিও তৈরি করেছেন। সে ভিডিওতে আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব পাওয়া কুতি রোমেরো বলেছেন, মেসিকে তিনি কতটা ভালোবাসেন, সেটা কখনও ভাষায় প্রকাশ করতে পারেননি বলে তাঁর মনের মধ্যে একটা আক্ষেপ থেকে যাবে। মেসির পরামর্শেই তাঁকে জাতীয় দলের নেতৃত্বের জন্য মনোনীত করা হয়েছে বলে জানান রোমেরো।
মেসিকে ছাড়া প্রথম ম্যাচে গত বৃহস্পতিবার বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় আজ রোববার ভোরে বুরকিনা ফাসোর জালে ৭ গোল দিয়েছে আর্জেন্টিনা।
শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ
বলটি ব্যাটে লেগেছিল, নাকি প্যাডে? নিউ চণ্ডীগড়ে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৃতীয় ওয়ানডে শেষ হওয়ার পর এই আলোচনাটা থেকে গেছে। আর এই আলোচনার কেন্দ্রে বাংলাদেশের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ। গতকাল ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে তিনি ছিলেন থার্ড আম্পায়ার। তাঁর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান শেরফান রাদারফোর্ডকে আউট দেওয়া হয়।
কী হয়েছিল
ঘটনাটি ঘটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ৩০তম ওভারের শেষ বলে। ৩৫২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের হয়ে বল করছিলেন নামান ধীর। তাঁর করা বলটি কাট করতে যান রাদারফোর্ড। বলটি উইকেটকিপার লোকেশ রাহুলের হাতে গেলে ক্যাচের আবেদন করে ভারত। মাঠের আম্পায়ারও আউট দেন। সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন রাদারফোর্ড।
রিপ্লেতে বল ব্যাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি স্পাইক দেখা যায়। এরপর বিষয়টি যায় তৃতীয় আম্পায়ার বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলার কাছে। রিপ্লে দেখে তিনি মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। তবে সিদ্ধান্তে খুশি ছিলেন না রাদারফোর্ড। তিনি আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেন। নিজের অসন্তোষও জানান। মাঠ ছাড়েন ক্ষুব্ধ অবস্থায়।
যা নিয়ে বিতর্ক
রিপ্লেতে আরেকটি বিষয় নিয়ে তৈরি হয় প্রশ্ন। বল ব্যাটের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় একই সঙ্গে ব্যাট ও প্যাডের সংস্পর্শ দেখা যায়। ফলে স্পাইকটি ব্যাটে বল লাগার কারণে তৈরি হয়েছিল, নাকি ব্যাট প্যাডে লাগার কারণে—তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভিডিও দেখে মনে হয়েছে বল ও ব্যাটের মধ্যে একটা ফাঁক ছিল।
বিষয়টি নিয়ে তখন ধারাভাষ্যকার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা ইয়ান বিশপও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘রাদারফোর্ড মোটেও খুশি ছিলেন না। তাঁর মনে হয়েছিল, ব্যাট বলের বদলে প্যাডে লেগেছিল। তৃতীয় আম্পায়ারের ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন বিশপ। তিনি বলেন, ‘তৃতীয় আম্পায়ার বলেছেন, ব্যাট ও বলের মধ্যে কোনো ফাঁক তিনি দেখতে পাননি। এটা ইন্টারেস্টিং।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শরফুদ্দৌলার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। এই যেমন সাংবাদিক বিক্রান্ত গুপ্ত এক্সে লিখেছেন, ‘রাদারফোর্ড আউট ছিলেন না। টিভি আম্পায়ার কীভাবে বল আর ব্যাটের এজের মধ্যে কোনো ফাঁক দেখেননি, তা আমি বুঝতে পারছি না—যেখানে একই টিভিতে আমরা সবাই স্পষ্ট দেখেছি, সেখানে ফাঁক ছিল। স্নিকোতে যে শব্দটি ধরা পড়েছিল, সেটি ছিল ব্যাট প্যাডে লাগার। বাজে সিদ্ধান্ত।’
রাদারফোর্ডের আউট নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ম্যাচে দারুণ জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তারা ৪৮.২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় পায়।
এ জয়ে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম দুই ম্যাচ জেতায় তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় ভারত।
কাভান সুলিভান
অভিষেক হয়েছে এক সপ্তাহও হয়নি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে দিলেন কাভান সুলিভান। দেশটির ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা এখন তিনি। শনিবার রাতে মেক্সিকোর বিপক্ষে তিনি গোল করেছেন। তখন তার ছিল বয়স ১৭ বছর ৫ দিন।
ম্যাচের ৬২ মিনিটে গোলটি আসে। মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রানহেলের একটি পাস ধরে ফেলেন সুলিভান। এরপর দারুণ এক চিপে বল গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান। এই গোলে যুক্তরাষ্ট্র ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। মেক্সিকো কনকাকাফ অঞ্চলে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।
কয়েক দিন আগেই রেকর্ডটি গড়েছিলেন সতীর্থ মাথিস আলবার্ট। মঙ্গলবার চিলির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে গোল করার সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর ১৩১ দিন। সুলিভান সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন।
রেকর্ড গড়া সুলিভানের নতুন কিছু নয়। ১৭তম জন্মদিনের মাত্র দুই দিন আগে তিনি পেরুর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে শুরুর একাদশে নামেন। ২০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে তিনিই যুক্তরাষ্ট্র দলের সর্বকনিষ্ঠ অভিষিক্ত খেলোয়াড়।
ক্লাব পর্যায়েও তিনি ইতিহাস গড়েছেন। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই একাডেমির খেলোয়াড় মাত্র ১৪ বছর ২৯৩ দিন বয়সে এমএলএসে অভিষেক করেন। উত্তর আমেরিকার কোনো শীর্ষ লিগে এত কম বয়সে কেউ নামেননি। ফ্রেডি আদুর ২০ বছরের পুরোনো রেকর্ড তিনি ভেঙে দেন। আদু ২০০৪ সালে ১৪ বছর ৩০৬ দিন বয়সে অভিষেক করেছিলেন।
এ মৌসুমে ইউনিয়নের হয়ে দুর্দান্ত খেলছেন সুলিভান। সে কারণেই এবার তিনি যুক্তরাষ্ট্র দলে ডাক পেয়েছেন। শেষ আট এমএলএস ম্যাচেই তিনি ছয়টি গোল ও আটটি অ্যাসিস্ট করেছেন। তার পারফর্ম্যান্সে ভর করে ফিলাডেলফিয়া টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত থেকেছে। এটি ক্লাবের রেকর্ড।
সেপ্টেম্বরে তিনি এমএলএসের মাসসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। এই সম্মান পেতে তিনি লিওনেল মেসিসহ অনেককে পেছনে ফেলেন। সবচেয়ে কম বয়সে এ পুরস্কার জেতার রেকর্ডও এখন তার। সেপ্টেম্বরে মাত্র চার ম্যাচে তার গোলে অবদান ছিল নয়টি। চারটি গোল, পাঁচটি অ্যাসিস্ট।
এই মাসেই তিনি আদুর আরেকটি রেকর্ড ভেঙেছেন। ১৬ বছর বা তার কম বয়সী কোনো খেলোয়াড়ের এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোলে অবদানের রেকর্ড ছিল আদুর। সুলিভান ১৩ সেপ্টেম্বর সান দিয়েগো এফসির বিপক্ষে ম্যাচে ১১তম অবদান রেখে সেটি পেছনে ফেলেন। আগের রেকর্ড ছিল ১০।
দুর্দান্ত খেলেছেন বেলিংহ্যাম ও কেইন
হ্যারি কেইন ও বুকায়ো সাকা জোড়া গোল করেছেন। জুড বেলিংহ্যাম, অ্যান্থনি গর্ডন ও মর্গান রজার্সও গোলের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। সব মিলিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করে উয়েফা নেশনস লিগে দারুণ জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। রিজেকার মাঠে শনিবার (৩ অক্টোবর) টমাস টুখেলের দল শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। এই জয়ে নেশনস লিগে নিজেদের গ্রুপে প্রথম তিন ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয় হলো দুটি। টুখেল দায়িত্ব নেয়ার পর এটিই ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় জয়।
ম্যাচের মাত্র অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। অভিষেক শুরুর ম্যাচ খেলতে নামা অ্যালেক্স স্কটের নিখুঁত পাস থেকে বল পান বেলিংহ্যাম। এরপর তার দারুণ থ্রু-পাসে বল পেয়ে ১০ গজ দূর থেকে গোল করেন হ্যারি কেইন।
২১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বেলিংহ্যাম। ২৭ পাসের দুর্দান্ত এক আক্রমণের শেষে সাকার ক্রস ঠিকভাবে সতীর্থদের কাছে পৌঁছায়নি। তবে অ্যান্থনি গর্ডন মাঝআকাশে বল নিয়ন্ত্রণ করে আবার বক্সে পাঠান। সেখান থেকে বেলিংহ্যাম পায়ের ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে দেন। ৩৯ মিনিটে ইংল্যান্ডের তৃতীয় গোলটি করেন গর্ডন। জ্যারেল কুয়ানসাহর নিখুঁত ক্রসে ছয় গজ দূর থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন তিনি। ইংল্যান্ডের হয়ে শেষ চার ম্যাচে এটি গর্ডনের চতুর্থ গোল।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে আবারও গোলের দেখা পায় ইংল্যান্ড। ২০১৮ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা ক্রোয়েশিয়ার বক্সে দুর্দান্তভাবে ঢুকে পড়ে বেলিংহ্যাম বল বাড়িয়ে দেন সাকার দিকে। সেখান থেকে সহজেই বল জালে পাঠিয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন আর্সেনাল উইঙ্গার। ফলে বিরতিতে ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
বিরতির পরও ক্রোয়েশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখে ইংল্যান্ড। ৫৩ মিনিটে আবারও গোল করেন কেইন। অ্যান্ডারসনের ক্রসের দিকে ছুটে গিয়ে স্লাইডিং ফিনিশে বল জালে পাঠান বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার। ৬৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন সাকা। কেইনের পাস থেকে বল পেয়ে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগের আরেকটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজেই গোল করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ৮৭ মিনিটে ইংল্যান্ডের সপ্তম গোলটি আসে মর্গান রজার্সের পা থেকে। বেলিংহ্যামের পাস পেয়ে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচকে কাটিয়ে বল জালে পাঠান বদলি হিসেবে নামা রজার্স।
গোল করেই থেমে থাকেননি বেলিংহ্যাম। ইংল্যান্ডের সাত গোলের মধ্যে তিনটিতেই সরাসরি সহায়তা করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার। পুরো ম্যাচে তার পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত।
এই জয়ে নেশনস লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নেয়ার লড়াইয়ে ইংল্যান্ড নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। গ্রুপের সেরা দুই দলের মধ্যে থাকতে পারলেই আগামী মার্চে কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে তারা।
টিকেটের চড়া দামের কারণে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামের গ্যালারি পুরোপুরি পূর্ণ না হলেও, বড় জয় নিয়ে নিজেদের এশিয়া সফর সফলভাবে শেষ করেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে স্বাগতিক ভারতকে। যদিও কাঙ্ক্ষিত মন ভোলানো ফুটবল উপহার দিতে পারেনি সেলেসাওরা, তবে নিজেদের শক্তি, সামর্থ্য আর ঐতিহ্যের ব্যবধান ঠিকই মাঠে ফুটিয়ে তুলেছে তারা। অন্যদিকে, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে লড়াইয়ের ম্যাচে আশাব্যঞ্জক উন্নতির ছাপ রেখেছে ভারতীয় দলও।
শনিবার সল্টলেক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রেখে খেলতে শুরু করে ব্রাজিল। ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে এগিয়ে নেন উদীয়মান তারকা এস্তেভাঁও। এরপর আক্রমণ শানিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফরোয়ার্ড পেদ্রো। ভারতের ডিফেন্ডাররা প্রথমার্ধে কিছু প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের তারকাখচিত আক্রমণভাগের সামনে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দুই গোলে এগিয়ে থেকে স্বস্তিতে বিরতিতে যায় কার্লো আনচেলত্তির দল।
বিরতির পর খেলার গতি আরও বাড়িয়ে দেয় ব্রাজিলিয়ানরা। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে জোড়া গোল করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে পুরোপুরি ভেঙে দেন সামুয়েল লিনো। ভারতের ফুটবলাররা মাঝেমধ্যে কিছু ভালো আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে জালের দেখা পায়নি। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
ছবি: ক্রিকইনফো
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের গ্রুপিং এবং সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৭ সালের ২ অক্টোবর শুরু হবে ক্রিকেটের বিশ্বআসর। ২১ নভেম্বর মাঠে গড়াবে ফাইনাল ম্যাচ।
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচেই ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আগামী ৮ অক্টোবর নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোকে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে লিটন কুমার দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের ১৪তম আসরের গ্রুপিং ও সূচি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
বাংলাদেশ জায়গা পেয়েছে ‘বি’ গ্রুপে। এই গ্রুপে ইংল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা একটি দলও যুক্ত হবে গ্রুপটিতে, যাদের আপাতত ‘কোয়ালিফায়ার বি’ হিসেবে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। বাছাইপর্ব থেকে আসবে আরও একটি দল, ‘কোয়ালিফায়ার এ’।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ অক্টোবরের ম্যাচের পর ১২ অক্টোবর কুয়াগোম্পো সিটিতে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর ১৬ অক্টোবর ডারবানে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে লিটন-মিরাজরা।
সহ-আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচও হবে ডারবানে। ১৯ অক্টোবরের ওই ম্যাচের পর গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ২৩ অক্টোবর ছুয়ানে ‘কোয়ালিফায়ার বি’র মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপের মূল পর্বের লড়াই শুরু হবে ৭ অক্টোবর। কেপ টাউনে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ও রানার্সআপ ভারতের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে গ্রুপ পর্ব। ১০ অক্টোবর জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত হবে ভারত-পাকিস্তানের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ। গ্রুপ পর্বের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই লড়াইকে।
এর আগে ২ অক্টোবর পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। বাছাইপর্বে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা তিন দলের মধ্যে হবে নতুন কাঠামোর ‘সুপার সিরিজ’। সেখান থেকে একটি দল মূল পর্বে জায়গা করে নেবে।
দ্বিতীয় ধাপে ১২টি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। প্রতিটি দল নিজেদের গ্রুপের অন্য দলগুলোর বিপক্ষে খেলবে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ ৩টি দল এবং দুই গ্রুপের চতুর্থ স্থানে থাকা দলের মধ্যে সেরা দলটি নিয়ে গঠিত হবে ‘সুপার ৭’। সুপার ৭ পর্বে হবে ২১টি রাউন্ড-রবিন ম্যাচ। সেখান থেকে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে উঠবে।
কেন ভারতে বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ- ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ নজরুল
সেমিফাইনালে প্রথম স্থানে থাকা দল খেলবে চতুর্থ স্থানে থাকা দলের বিপক্ষে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দল মুখোমুখি হবে তৃতীয় স্থানে থাকা দলের। সেমিফাইনালের জয়ী দুই দল খেলবে বিশ্বকাপের ফাইনালে। সেখানেই নির্ধারিত হবে ২০২৭ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।