ভোটের লড়াইয়ে নামার আগেই এবার বিসিবি পরিচালক হওয়া নিশ্চিত ৮ জনের। তাদের মধ্যে ৭ জনই ক্যাটেগরি-১ বা আঞ্চলিক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি। ক্যাটেগরি-৩ তথা সাবেক অধিনায়ক, ক্রিকেটার ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থা থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হয়ে গেছেন আরেকজন। বিসিবি নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রত্যাহারের সময় শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয় সোমবার দুপুরে।
ক্যাটেগরি-১ থেকে ভোটের লড়াই হয়ে স্রেফ দুটি বিভাগে। ভোটের মূল লড়াই এবার থাকছে ক্যাটেগরি-২ বা ক্লাব ক্যাটেগরিতে, যেখানে ১২টি পরিচালক পদে লড়বেন ১৬ জন। বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল লড়বেন এই ক্লাব ক্যাটেগরিতেই।
গত অক্টোবরে বিসিবির সবশেষ নির্বাচনে ভোটের আগে পরিচালক হওয়া নিশ্চিত হয়েছিল ৯ জনের। ক্লাব প্রতিনিধিদের ১২টি পদে প্রার্থী ছিলেন ১৫ জন।
প্রার্থীতা প্রত্যাহারের দিনে চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর শরীফুল ইসলাম (অপু)। এই বিভাগ থেকে তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হয়ে যান চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিল, সাবেক জাতীয় অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও লক্ষীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর মঈন উদ্দিন চৌধুরী।
এছাড়াও ক্যাটেগরি-১ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হয়ে গেছেন ঢাকা বিভাগ থেকে ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাইদ বিন জামান ও জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার এস.এম. আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, সিলেট বিভাগ থেকে সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, রাজশাহী বিভাগ থেকে বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং রংপুর বিভাগ থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা ক্রীড়া সংস্থার মির্জা ফয়সাল আমীন।
ক্যাটেগরি-৩ থেকে একমাত্র প্রাথী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর সিরাজউদ্দিন মোঃ আলমগীর। চট্টগ্রামের এই সংগঠক প্রথমবার বিসিবি পরিচালক হয়েছিলেন ২০০৫ সালে। নাজমুল হাসান (পাপন) প্রথম দফায় সভাপতি থাকার সময়ও পরিচালক ছিলেন তিনি।
বিসিবি নির্বাচনে ক্যাটেগরি-১ থেকে পরিচালক পদ ১০টি, ক্যাটেগরি-২ থেকে ১২টি ও ক্যাটেগরি-৩ থেকে ১টি। এছাড়াও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সরাসরি মনোনয়নে পরিচালক হন দুজন।১ নম্বর ক্যাটেগরিতে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগ থেকে পরিচালক পদ দুটি করে, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও রংপুর বিভাগ থেকে একটি করে। ৫ বিভাগে ৭ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হয়ে যাওয়ায় ভোট হবে শুধু দুটি বিভাগে।
খুলনা বিভাগে দুটি পরিচালক পদের লড়াইয়ে থাকছেন তিনজন- খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার মোঃ শফিকুল আলম, যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার শান্তনু ইসলাম ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার মোঃ আব্দুছ সালাম। বরিশাল বিভাগে একটি পদের লড়াইয়ে আছেন দুজন- বরিশাল বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার মোঃ মিজানুর রহমান ও ভোলা জেলা ক্রীড়া সংস্থার মোঃ মুনতাসির আলম চৌধুরী।
ক্যাটেগরি-২ থেকে ভোটের লড়াইয়ে থাকছেন ফাহিম সিন্হা (আবাহনী লিমিটেড), মাসুদুজ্জামান (মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব), আসিফ রব্বানী (শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব), ফৈয়াজুর রহমান (উত্তরা ক্রিকেট ক্লাব), ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক (বসুন্ধরা রাইডার্স), তামিম ইকবাল খান (ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাব), মোহাম্মাদ আমজাদ হোসেন (ট্রাই স্টেট ক্রিকেটার্স), মির্জা ইয়াসির আব্বাস (আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব), ইসরাফিল খসরু (এক্সিউম ক্রিকেটার্স), মোঃ রফিকুল ইসলাম বাবু (ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র), প্রফেসর ডাঃ সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম (ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব), শানিয়ান তানিম নাভিন (ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাব), সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ (ফেয়ার ফাইটার্স স্পোর্টিং ক্লাব), সৈয়দ বোরহানুল হোসেন (তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমি), সাকিব আহমেদ সালাম (পূর্বাচল স্পোর্টিং ক্লাব), মেজর ইমরোজ আহমেদ (অবঃ)(কাঁঠালবাগান গ্রীন ক্রিসেন্ট ক্লাব)।
এই প্রার্থীদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে বিসিবির গত পরিচালনা পর্ষদেও ছিলেন ফৈয়াজুর রহমান, ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, আমজাদ হোসেন ও শানিয়ান তানিম নাভিন। তবে পরে নানা সময়ে তারা পদত্যাগ করেন। মেজর ইমরোজ আহমেদও প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু নানা অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়ান শেষ সময়ে।
এবারের বিসিবি নির্বাচনে কাউন্সিলর বা ভোটার মোট ১৮৪ জন। তাদের মধ্যে ১ নম্বর ক্যাটেগরির ভোটার ৬৬ জন, ২ নম্বর ক্যাটেগরি ৭৬ ও ৩ নম্বর ক্যাটেগরির ৪২ জন।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা নির্বাচিত হয়েছে এবং এখনও যারা প্রার্থী আছেন, তাদের মধ্যে বেশ কজনই সরকারী দল বিএনপি সংশ্লিষ্ট বা ঘনিষ্ঠ। রংপুর বিভাগ থেকে নির্বাচিত পরিচালক মির্জা ফয়সল আমীন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের ভাই। এই মন্ত্রণালয়েরই প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া–২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত পরিচালক হয়ে গেছেন রাজশাহী বিভাগ থেকে।
সিলেট বিভাগের পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি। বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ছেলে সাইদ বিন জামান পরিচালক হয়ে গেছেন ঢাকা বিভাগ থেকে। পানিসম্পদমন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর চাচা মঈন উদ্দিন চৌধুরী পরিচালক হয়েছেন চট্টগ্রাম থেকে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও যশোর–৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলামের ভাই শান্তনু ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন খুলনা বিভাগ থেকে।
ক্লাব ক্যাটেগরিতে প্রার্থীদের মধ্যে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদের বাবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইসরাফুল খসরুর বাবা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মির্জা ইয়াসির আব্বাসের বাবা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। এই তিনজনই বর্তমানে বোর্ডের অ্যাডহক কমিটিতে আছেন।
আগামী ৭ জুন হবে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন। ২৫ পরিচালকের ভোটে পরে নির্বাচিত হবেন বিসিবি সভাপতি।
আট মাসের মধ্যে বোর্ডের দ্বিতীয় নির্বাচন এটি। গত ৬ অক্টোবর নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব নিয়েছিল একটি পরিচালনা পর্ষদ এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের নানা অভিযোগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী। পরে সেসব অভিযাগ খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৭ এপ্রিল আমিনুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
ওই কমিটি বাদ দিয়ে ১১ সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করে ক্রীড়া পরিষদ, যেটির প্রধান হয় তামিম ইকবালকে। তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে বলা হয় কমিটিকে। সেই নির্বাচন হয়ে যাচ্ছে দুই মাসের মধ্যেই।
এবারের বিসিবি নির্বাচনে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম। কমিশনের বাকি দুই সদস্য গাজীপুর মহানগরের পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এবং উপ সচিব এ বি এম এহসানুল মামুন।
কোহলি নিজেও ফ্লিক শট ভালো খেলেন
ওয়ানডেতে বিরাট কোহলির ব্যাটিং নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড তাঁর (৫৫)। এখন ছুটছেন সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডে।
এরপরও ‘আলটিমেট’ ওয়ানডে ব্যাটসম্যান বানাতে গিয়ে কোহলি নিজেকে রাখেননি। সাতজন কিংবদন্তিকে বেছে নেন কোহলি।
গুয়াহাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে স্টার স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোহলিকে বলা হয়েছিল, শট ধরে ধরে তাঁর ‘আলটিমেট ওয়ানডে ব্যাটসম্যান’ বেছে নিতে। কোহলি তাতে রাখেননি নিজেকে, রাখেননি মহেন্দ্র সিং ধোনিকেও!
শুরুটা হলো স্ট্রেট ড্রাইভ দিয়ে। এখানে কোহলির একটুও দ্বিধা ছিল না। থাকার কথাও নয়। এই শটের জন্য কোহলি বেছে নেন শচীন টেন্ডুলকারকে।
এরপর কাভার ড্রাইভ। এই শটের সঙ্গে কোহলির নিজের নামটাও অনেকের মুখে উঠে আসে। ক্যারিয়ারজুড়ে তাঁর কাভার ড্রাইভ মায়াঞ্জন মেখেছে অনেকের চোখে। কিন্তু কোহলি কাভার ড্রাইভে বেছে নিলেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারাকে। সাঙ্গাকারার কাভার ড্রাইভও ছিল একই সঙ্গে টেকনিক্যালি নিখুঁত এবং দেখতে দারুণ।
এরপর ফ্লিক শট। এই শটেও কিন্তু অনেকেরই প্রিয় কোহলি। কবজির মোচড়ে কোহলি এই শট দারুণ খেলেন। ভারতের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনও এই শটকে নিজের ‘ট্রেডমার্ক’-এ পরিণত করেছিলেন।
কিন্তু কোহলির পছন্দ আরেক কিংবদন্তি- রাহুল দ্রাবিড়। কাট শটের জন্য কোহলি বেছে নিয়েছেন বীরেন্দর শেবাগকে। এতে খুব একটা অবাক হওয়ার সুযোগ নেই। ভারতের সাবেক ওপেনারের ব্যাটিংয়ে স্কয়ার কাট ছিল নিয়মিত বাউন্ডারি মারার অন্যতম প্রধান অস্ত্র।
এরপর সুইপ। কোহলি এই শটে পছন্দের খেলোয়াড় বেছে নিতে খানিকটা সময় নেন। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটসম্যান ম্যাথু হেইডেনের নামটা বললেন। ছক্কার জন্য অবশ্য কোহলির পছন্দ নিয়ে খুব বেশি ভাবতে হয়নি। সঙ্গে সঙ্গেই বলে দিলেন- ক্রিস গেইল। একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড ছিল গেইলের। ৫৫৩টি ছক্কা মেরেছেন। পরে রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন রোহিত শর্মা। তাঁর ছক্কা এখন ৬৬৫টি।
গেইলের ছক্কার প্রতি কোহলির আলাদা টান থাকার কারণও আছে। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে গেইলের সঙ্গে খেলেছেন কোহলি। খুব কাছ থেকে দেখেছেন গেইলের ব্যাটিং।
সর্বশেষে ছিল রানিং বিটুইন দ্য উইকেট। এখানেই এল সবচেয়ে বড় চমক। এই বিভাগে ভারতের কিংবদন্তি মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নয়, কোহলি বেছে নিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আরেক সাবেক বেঙ্গালুরু সতীর্থ এবি ডি ভিলিয়ার্সকে। ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে কোহলির বন্ধুত্ব অনেক দিনের। একসঙ্গে উইকেটে থাকলে কী করতে পারেন, আইপিএলে বারবার সেটা দেখিয়েছেন।
তবে ধোনির সঙ্গে উইকেটে সময় কাটাতে পছন্দ করেন কোহলি। তিনি নিজেই এ কথা বলেছিলেন। তবে দুজনের মধ্যে হয়তো অন্য প্রান্তে ডি ভিলিয়ার্স থাকলেও বেশি স্বচ্ছন্দে থাকেন কোহলি।
ছবি : সংগৃহীত
বেলজিয়ামের বিপক্ষে দারুণ একক নৈপুণ্যে গোল করে ফ্রান্সকে জয় এনে দিয়েছেন মাইকেল অলিসে। তার ৮৮ মিনিটের গোলেই বেলজিয়ামকে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে ফ্রান্স।
জিনেদিন জিদানের অধীনে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে শুক্রবার তুরস্কের বিপক্ষে জেতা ম্যাচের একাদশে নয়টি পরিবর্তন এনেছিল ফ্রান্স। তবে ব্রাসেলসে বেলজিয়ামের জমাট রক্ষণ ভাঙতে শেষ পর্যন্ত বেঞ্চের খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে তাদের।
৮৮ মিনিটে নিজের অর্ধে কাঁধ দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন বায়ার্ন মিউনিখের উইঙ্গার অলিসে। এরপর দুর্দান্ত গতিতে সামনে এগিয়ে এক ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে নিচের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।
তার এই অসাধারণ একক প্রচেষ্টাতেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটিতে দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল।
তবে স্কোয়াডে ছিলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুতে চোট পাওয়ায় এই ম্যাচে তাকে দলে রাখা হয়নি। ফলে আক্রমণভাগে বেশ কিছু সুযোগ পেয়েও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি ফ্রান্স। ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন দেজিরে দুয়ে। পাঁচবার গোলের চেষ্টা করেও জালের দেখা পাননি তিনি। এর মধ্যে একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অভিষেক হওয়া লুকাস দা কুনহাও একটি শটে পোস্টে বল লাগান।
অন্যদিকে বেলজিয়ামের দুই উইঙ্গার মিকা গডটস ও দোদি লুকেবাকিও ফ্রান্সের রক্ষণে বেশ চাপ তৈরি করেছিলেন। তবে অভিজ্ঞতাহীন ফরাসি রক্ষণভাগের বিপক্ষে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত গোল করতে পারেননি তারা।
এই জয়ে গ্রুপ ‘এ১’-এর শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স। আগামী শুক্রবার ইতালির বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। একই দিনে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ তুরস্ক।
ভোজিনিয়া
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য পথচলায় বড় ভূমিকা রেখে রাতারাতি তারকা বনে গিয়েছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। তবে মাঠের সাফল্যের পর পাওয়া বিপুল জনপ্রিয়তা এখন তার কাছে অনেকটাই বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়ার পর ব্যক্তিগত জীবনের শান্তি ও স্বস্তি হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। এমনকি সুযোগ পেলে আগের সাধারণ জীবনেই ফিরে যেতে চান।
গোল ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ পারফরম্যান্সের পর ক্যারিয়ারে নতুন দরজা খুলে যায় ভোজিনিয়ার। চিলির ক্লাব কোলো কোলোতে খেলা এই গোলরক্ষক ‘দ্য অবজারভার’-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের বদলে যাওয়া জীবন নিয়ে কথা বলেছেন।
ভোজিনিয়ার কাছে খ্যাতির এই পরিবর্তন এতটাই বড় যে, বর্তমান জীবন ও আগের জীবনের মধ্যে বেছে নেয়ার সুযোগ পেলে তিনি পুরোনোটিই বেছে নেবেন। তার ভাষায়, বর্তমান জীবনের তুলনায় আগের জীবনই তার কাছে বেশি স্বস্তির ছিল।
বিশ্বকাপের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোজিনিয়ার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৬ হাজার। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সেটিই রাতারাতি বেড়ে যায় মিলিয়নের ঘরে।
তবে এই খ্যাতির সঙ্গে আসা বাড়তি মনোযোগ তার কাছে মোটেও স্বস্তির নয়। ভোজিনিয়া বলেন, আগের মতো ব্যক্তিগত পরিসর এখন আর নেই। বাইরে বের হলে কিংবা রেস্তোরাঁয় গেলেই ভক্তরা ছবি ও অটোগ্রাফের জন্য ছুটে আসেন। কেউ কেউ আবার অনুমতি না নিয়েই ভিডিও করতে শুরু করেন।
বিশ্বকাপের আগে যে স্বাভাবিক জীবন ছিল, সেটিই এখন সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে বলে জানিয়েছেন কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক। তার মতে, জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর জীবনে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তন এসেছে, সেটি হলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হারিয়ে যাওয়া।
ভোজিনিয়ার পরিবারও এর প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। কেপ ভার্দেতে থাকা তার বাবা-মায়ের বাড়িতে মাঝেমধ্যে সমর্থকেরা হাজির হয়ে যান। তারা কখনো ভোজিনিয়ার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে, আবার কখনো ছবি তুলতে চান। তার বাবা অবশ্য এসব পরিস্থিতি থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
এ নিয়ে ভোজিনিয়ার আক্ষেপ, তিনি দেশের বাইরে থাকায় বাবা-মায়ের পাশে থেকে পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না। ফলে সমর্থকদের সঙ্গে কীভাবে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করতে হবে, সেটি তার পরিবারকেই শিখে নিতে হচ্ছে।
সেমিফাইনালে ভারত-পাকিস্তান
বৃষ্টির কারণে খেলা ভেস্তে যাওয়ার কারণে ভারত ও পাকিস্তান এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত ফলাফলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত আফগানিস্তানের বিপক্ষে এবং পাকিস্তান হংকংয়ের বিপক্ষে পরবর্তী ধাপে উন্নীত হয়েছে। শেষ চারে ভারত খেলবে শ্রীলঙ্কা অথবা নেপালের বিপক্ষে এবং পাকিস্তান মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ অথবা মালয়েশিয়ার।
যদি ম্যাচগুলো পুরোপুরি ভেস্তে যায়, তবে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উন্নীত হবে।
ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকে এই টুর্নামেন্টের জন্য শীর্ষ বাছাই (সিডেড দল) হিসেবে রাখা হয়েছিল এবং তারা সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর আবহাওয়ার পূর্বাভাসও খুব একটা ভালো নয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইফুন ‘সুরিগে’ জাপানের দিকে ধেয়ে আসছে এবং এটি আইচি-নাগোয়া গেমসের বাকি অংশে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই টাইফুনের প্রভাবে আইচি এবং মধ্য জাপানের অন্যান্য অঞ্চলে তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত হবে।
এর আগে ভারতের নারী দল সফলভাবে তাদের টি-টোয়েন্টি স্বর্ণপদক ধরে রেখেছিল, কিন্তু পুরুষদের বিভাগটি আবহাওয়ার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি বৃষ্টি খেলা পণ্ড করতে থাকে, তবে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাপকাঠি।
হাংঝুতে অনুষ্ঠিত আগের এশিয়ান গেমসেও একই পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল; সেখানে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় ভারতকে স্বর্ণপদক এবং আফগানিস্তানকে রৌপ্যপদক দেওয়া হয়েছিল। এর অর্থ হলো, যদি বাকি সব ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যায় তবে ভারত তাদের স্বর্ণপদক ধরে রাখবে কারণ তারাই এই প্রতিযোগিতায় শীর্ষ র্যাঙ্কিংধারী দল।
নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে সকালে অনুষ্ঠেয় প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ছিল হংকং, চীন; কিন্তু অবিরাম বৃষ্টির কারণে টস হওয়ার আগেই ম্যাচটি বাতিল করতে বাধ্য হন কর্মকর্তারা। বিকেলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার কথা থাকলেও মাঠ ভেজা থাকায় টসের আগেই সেই ম্যাচটিও বাতিল করা হয়।
সোমবার নিশিনে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় ভারত ও পাকিস্তান ২০২৬ এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে- ভারত ১ নম্বর ও পাকিস্তান ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে- মাঠে না নেমেই দল দুটি সেমিফাইনালে উন্নীত হয়েছে। ফলে আফগানিস্তান ও হংকং, চীন টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আকস্মিক বন্যার শিকার হয়ে দুই দিন ধরে থাইল্যান্ডের একটি বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয় টেবিল টেনিস দলের পাঁচ খেলোয়াড় ও কোচ।
আটকা পড়া দলের সদস্যরা হলেন রামহিম লিয়ন বম, ইমরুল কায়েস ইমন, সোনাম সুলতানা সোমা, নওরিন সুলতানা মাহি, সামান্তা হোসেন তুসি এবং দলের কোচ ও ফেডারেশনের সদস্য মো. মোহসিনুল আলম ঝিনু।
এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের ম্যানেজার ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল হক সাদী এবং পুরুষ দলের শীর্ষ খেলোয়াড় মুহতাসিন আহমেদ হৃদয় ভিন্ন ফ্লাইটের টিকিট থাকায় সৌভাগ্যক্রমে দেশে ফিরতে পেরেছেন।
জানা গেছে, মূলত থাই এয়ারওয়েজের যাত্রীরাই এই পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে থাই এয়ারওয়েজ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আটকে পড়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
বাংলাদেশ দলের সদস্যদের এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এদিকে, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন খেলোয়াড়দেরকে ভিন্ন ফ্লাইটে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
কর্মচাঞ্চল্য শেষে যে বয়সে অধিকাংশ মানুষই অবসরের জীবন উপভোগ করেন, সেই বয়সেও তোশিসুকে কানাজাওয়া বডিবিল্ডিংয়ের মঞ্চে দাপটের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে জয়ী হচ্ছেন। ৯০ বছর বয়সী এই জাপানি বডিবিল্ডার সম্প্রতি ‘জাপান মাস্টার্স বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর ৮৫-ঊর্ধ্ব বিভাগে সাতজন প্রতিযোগিকে পরাজিত করে তার ১৯তম জাতীয় শিরোপা জয় করেছেন।
এই জয়ের ঠিক আগের দিনই তিনি ৯০তম জন্মদিন পালন করেছিলেন। হিরোশিমার বাসিন্দা কানাজাওয়া কয়েক দশক ধরে শরীরচর্চা ও বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার এবং সার্জিও অলিভার মতো এই খেলার কিংবদন্তিদের সঙ্গে একই মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
১৯৩৬ সালে জাপানের শিমানে প্রিফেকচারে জন্মগ্রহণকারী কানাজাওয়া শুরুতে সাঁতারের প্রতি মনোযোগী ছিলেন। হাইস্কুলে পড়ার সময় তিনি ১,৫০০ মিটার ফ্রিস্টাইল সাঁতারে দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছিলেন এবং অলিম্পিকে জাপানের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু পেশীর সমস্যার কারণে সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়। একপর্যায়ে তিনি বডিবিল্ডিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
তার এই সিদ্ধান্তটি পরিবারের সদস্যরা শুরুতে ভালোভাবে নেননি। বিট্রিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে কানাজাওয়া বলেন, আমার মা বিষয়টি নিয়ে কিছুটা সন্দিহান থাকলেও আমাকে সমর্থন দিয়েছিলেন, কিন্তু বাবা ছিলেন এর ঘোর বিরোধী। তিনি মনে করতেন তরুণদের চাকরি-বাকরি বা কাজ করা উচিত। আমি তাদের বলেছিলাম, আমি জাপানের সেরা হতে চাই, তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমার কয়েক বছর সময় লাগবে।
এরপর কানাজাওয়া নিজেকে পুরোপুরি প্রশিক্ষণে নিয়োজিত করেন; কখনও কখনও তিনি দিনে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরচর্চা করতেন। কোনো জটিল বা বিশেষ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করার পরিবর্তে তিনি মূলত মায়ের হাতের তৈরি সাধারণ খাবারই খেতেন।
২৪ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম ‘মিস্টার জাপান’ শিরোপা জয় করেন এবং বাবা-মাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। তিন বছর পর তিনি আবারও এই শিরোপাটি জিতে নেন। তার এই সাফল্য তাকে আন্তর্জাতিক বডিবিল্ডিংয়ের মঞ্চে নিয়ে যায়। ১৯৬৭ সালে মন্ট্রিলে আয়োজিত ‘মিস্টার ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় শোয়ার্জনেগার ও অলিভার পাশাপাশি কানাজাওয়াও অংশ নেন। সেই প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ স্থান অধিকার করেন এবং অলিভা বিজয়ী হন।
তবে কানাজাওয়া বডিবিল্ডিং থেকে চিরতরে সরে যাননি। ত্রিশের কোঠার মাঝামাঝি সময়ে তিনি প্রতিযোগিতামূলক বডিবিল্ডিং থেকে অবসর নিলেও ৫০ বছর বয়সে আবারও এই খেলায় ফিরে আসেন। দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় ভোগা স্ত্রীকে মনোবল জোগানোর আকাঙ্ক্ষা থেকেও তিনি প্রতিযোগিতায় ফিরে আসার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, আমার স্ত্রী সবসময়ই আমাকে সমর্থন জুগিয়েছেন, কিন্তু তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। অবসরের পর আমি নিজের শরীরের প্রতি অবহেলা করেছি তা উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম; তাই আমি তাকে দেখাতে চেয়েছিলাম যে অসাধ্য সাধন করাও সম্ভব।
প্রতিযোগিতায় ফেরার সাত বছর পর কানাজাওয়া একটি ‘মাস্টার্স বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ’ জয় করেন। ৮০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পরও তিনি ছয়টি ‘ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স’ শিরোপা জিতেছেন, যা তার কয়েক দশকব্যাপী দীর্ঘ ক্রীড়াজীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কানাজাওয়া তার দীর্ঘ কর্মক্ষম জীবনের বড় কৃতিত্ব দেন তার পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন পদ্ধতিকে। তিনি বলেন, আগে আমি দিনে ছয়বার প্রোটিন শেক পান করতাম, কিন্তু এখন তা কমিয়ে তিনবারে এনেছি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এত বেশি তরল খাবার হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বর্তমানে তিনি হিরোশিমায় অবস্থিত নিজের জিমে সপ্তাহে ছয় দিন, দিনে প্রায় দুই ঘণ্টা করে শরীরচর্চা করেন। পাশাপাশি তিনি শরীরকে সেরে ওঠার (রিকভারি) জন্য পর্যাপ্ত সময় দেন এবং রাতে প্রায় সাত ঘণ্টা করে ঘুমান। তিনি বলেন, ভারোত্তোলনের ব্যায়ামের ধকল কাটিয়ে উঠতে এখন আগের চেয়ে বেশি সময় লাগে, তাই ব্যায়ামের প্রতিটি সেটের মাঝে আমি যথাযথ বিশ্রাম নিই।