র্যাঙ্কিংয়ে আবার ১ নম্বর বিরাট কোহলি
সাড়ে চার বছর পর ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে আবার ১ নম্বর বিরাট কোহলি। বেশ কিছুদিন ধরেই দুর্দান্ত ছন্দে আছেন কোহলি।
২০২১ সালের জুলাইয়ের পর প্রথমবার আইসিসি ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠেছেন ভারতীয় এই তারকা। ওয়ানডেতে সর্বশেষ ৫ ম্যাচে কোহলির সর্বনিম্ন ইনিংস অপরাজিত ৬৫, সেঞ্চুরি আছে দুটি। এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কারই কোহলি পেলেন র্যাঙ্কিংয়ে।
৩৭ বছর বয়সী কোহলি প্রথমবার শীর্ষে উঠেছিলেন ২০১৩ সালের অক্টোবরে। এবারসহ মোট ১১ বার শীর্ষে উঠেছেন তিনি।
আজকের দিনসহ তিনি শীর্ষ স্থানে আছেন ৮২৫ দিন, ভারতীয়দের মধ্যে যা সর্বোচ্চ, সব মিলিয়ে দশম সর্বোচ্চ। সবচেয়ে বেশি দিন ওয়ানডে ব্যাটসম্যানের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকার রেকর্ড ভিভ রিচার্ডসের। ২৩০৬ দিন তিনি শীর্ষে ছিলেন।
ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে কোহলির ঘাড়েই নিশ্বাস ফেলছেন নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল। কোহলির রেটিং পয়েন্ট যেখানে ৭৮৫, মিচেলের ৭৮৪। ৭৭৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৩ নম্বরে আছেন রোহিত শর্মা।
ওয়ানডেতে বোলারদের শীর্ষ পাঁচে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আফগানিস্তান তারকা রশিদ খান শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছেন। শীর্ষ পাঁচে আছেন যথাক্রমে জফরা আর্চার, কুলদীপ যাদব, মহীশ তিকশানা ও কেশব মহারাজ।
অ্যাশেজ সিরিজ শেষ হওয়ার পর টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার একাধিক ক্রিকেটারের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন ট্রাভিস হেড। তিনি সাত ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে ৩ নম্বরে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজে সবচেয়ে বেশি রান করেন হেড, করেছেন ৬২৯ রান, গড় ৬২.৯০। এই সিরিজে তাঁর ব্যাট থেকে আসে তিনটি সেঞ্চুরি।
টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করা অন্যদের মধ্যে আছেন ইংল্যান্ডের জ্যাকব বেথেল ও অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল নেসার। শেষ অ্যাশেজ টেস্টে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করে বেথেল ২৫ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৫২ নম্বরে উঠেছেন। তাঁর সঙ্গী নিউজিল্যান্ডের টম ব্লান্ডেল। মাইকেল নেসার বোলিংয়ে সাত ধাপ এগিয়ে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ৪৭ নম্বরে উঠেছেন।
পাকিস্তান–শ্রীলঙ্কা টি-টুয়েন্টি সিরিজের প্রভাবও র্যাঙ্কিংয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজ ড্র করতে বড় ভূমিকা রাখেন শ্রীলঙ্কার লেগ স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। এই পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি তিন ধাপ এগিয়ে টি-টুয়েন্টি বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠেছেন।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টুয়েন্টিতে ৩ উইকেট নেওয়ার পর পাকিস্তানের পেসার সালমান মির্জা ১৬ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ১৯ নম্বরে।
ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কারণে সাহিবজাদা ফারহান এক ধাপ এগিয়ে টি-টুয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে ৫ নম্বরে উঠেছেন। পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগাও ১৩ ধাপ উন্নতি করে উঠে এসেছেন ৪১ নম্বরে।
অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে সাইম আইয়ুব এক ধাপ পিছিয়ে যাওয়ায় আবারও শীর্ষ স্থান দখল করেছেন জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা।
উয়েফা নেশন্স লিগে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। এক গোলে পিছিয়ে থাকা ফরাসিরা শেষ ১৪ মিনিটে চারবার জালের দেখা পায়। এই জয়ে কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদানের অপরাজিত যাত্রাও অব্যাহত থাকল। ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ফ্রান্স। তবে প্রথম গোলটি পায় বেলজিয়াম। ৩৫ মিনিটে রোমেও লাভিয়ার প্রায় ৬০ গজের থ্রু বল ধরে ফরাসি গোলরক্ষক হিসেবে অভিষেক হওয়া গিয়োম রেস্তেকে পরাস্ত করেন দোদি লুকেবাকিও। ফলে বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স। একের পর এক আক্রমণ করেও গোল পাচ্ছিল না তারা। অবশেষে ৭৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দেজিরে দুয়ের নিচু শটে সমতায় ফেরে ফরাসিরা।
এর চার মিনিট পরই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। মাইকেল ওলিসের কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে বদলি হিসেবে নামা রায়ান শেরকি ফ্রান্সকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ফ্রান্স। ৮৭ ও যোগ করা সময়ে আরও দুটি গোল করেন ওলিসে। দুই গোলেই সহায়তা করেন দুয়ে। ফলে শেষ ১৩ মিনিটে চার গোল করে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স। জাতীয় দলের জার্সিতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওলিসে ২০২৬ সালে ফ্রান্সের হয়ে ১৬ ম্যাচে ১৭ গোলে সরাসরি অবদান রাখলেন।
এই জয়ে চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ এ১-এর শীর্ষে ফ্রান্স। বেলজিয়াম ছয় পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে তুরস্ককে ৩-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে ইতালি। ইতালির হয়ে গোল করেন জিয়ানলুকা স্কামাক্কা, রিকার্দো কালাফিওরি ও পিও এসপোসিতো। তুরস্কের একমাত্র গোলটি করেন আরাল সিমসির।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচের অপেক্ষা এখন শেষের পথে। বেনিনের বিপক্ষে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বুধবারের ম্যাচ দিয়েই জাতীয় দলের হয়ে তার বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের ইতি টানার কথা। বিদায়ী ম্যাচের আগে শেষ অনুশীলন সেরে সতীর্থদের সঙ্গে একটি ছবি দিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
নিজের নামে নামকরণ করা এজেইজা ট্রেনিং কমপ্লেক্সে শেষ অনুশীলনের পর ইনস্টাগ্রামে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন মেসি। সতীর্থ, কোচিং স্টাফ, মাঠকর্মী ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্তের ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘বিশেষ কিছু মুহূর্ত, যেগুলো আমি জানি খুব মিস করবো।’
মেসির পোস্ট করা ছবিগুলোর একটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সেখানে জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের পাশাপাশি মাঠের কর্মী এবং এএফএর কর্মকর্তাদেরও দেখা যায়। ছিলেন সংস্থাটির সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও।
বেনিনের বিপক্ষে মেসির বিদায়ী ম্যাচকে ঘিরে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে থাকছে বিশেষ আয়োজন। ধারণা করা হচ্ছে, কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে গ্যালারি। কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের মেসির বেশির ভাগ সতীর্থও এই বিশেষ দিনে উপস্থিত থাকবেন। থাকবে বিভিন্ন আয়োজন ও অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনা।
এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা দলে রয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দি, রদ্রিগো ডি পল ও জিওভানি লো সেলসোর মতো মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থরা। ওতামেন্দিও জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। বেনিনের বিপক্ষে মেসি পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থাকবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন মাঠে অনুশীলনে লিওনেল মেসি
আর একটি ম্যাচ। এরপরই সমাপ্তি ঘটছে ঝলমলে স্বর্ণালী একটি অধ্যায়। বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সুপারস্টার লিওনেল মেসি বিদায়ী ম্যাচটি খেলবেন বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোরে। বুয়েন্স আয়ার্সের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন এই মহাতারকা। নিজ দেশের জার্সিতে শেষ ম্যাচের আগে শেষবারের মতো জাতীয় দলের অনুশীলনে নেমেছেন তিনি।
জাতীয় দলের খবর অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকেই আর্জেন্টিনা দল কোচিং স্টাফদের অধীনে অনুশীলন শুরু করেছে। বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সোমবার শেষবারের মতো অনুশীলনে নামবে তারা। ম্যাচের আগে মেসি এবং কোচ স্কালোনি উভয়েই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নিজ দেশের জার্সি গায়ে শেষ ম্যাচে বিশেষ ডিজাইন করা জার্সি পরবেন মেসি। যা খেলা শেষে তার ব্যক্তিগত ট্রফি ও পুরস্কারের সংগ্রাহশালায় শোভা পাবে। আকাশী-সাদা রঙের এই জার্সির ঠিক মাঝখানে থাকবে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার সূর্য এবং তার নাম ও নম্বর থাকবে সোনালী রঙে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আগেই বিদায় জানিয়েছিলেন মেসি। তবে ঘরের মাঠে বিদায়টা রাঙাতে শেষ ম্যাচের আয়োজন করে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আর্জেন্টিনায় পৌঁছেছেন দুই দিন আগে। শুক্রবার নিজ শহর রোজারিওতে পৌঁছান তিনি। এরপর রোববার বুয়েনস এইরেসে ফিরে যোগ দিয়েছেন এএফএ অনুশীলন মাঠে। এরই মধ্যে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অনুশীলন ক্যাম্পে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের পৌঁছানোর একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। রোজারিওতে দুই দিন কাটানোর পর আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক বুয়েনস আইরেসে পৌঁছান, যাতে কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের শেষ ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন।
আর্জেন্টাইন সংবাদ মাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী ম্যাচ খেলতে স্ত্রী, তিন ছেলে ও মাকে নিয়ে রোজারিওতে পৌঁছেছেন মেসি। দ্রুতই আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এ মহাতারকার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন জাতীয় দলের সতীর্থ ও কোচিং স্টাফরা।
৩৯ বছর বয়সী এ ফুটবলারকে বিদায় জানাতে এরই মধ্যে সতীর্থরা বিশেষ একটি ভিডিও তৈরি করেছেন। সে ভিডিওতে আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব পাওয়া কুতি রোমেরো বলেছেন, মেসিকে তিনি কতটা ভালোবাসেন, সেটা কখনও ভাষায় প্রকাশ করতে পারেননি বলে তাঁর মনের মধ্যে একটা আক্ষেপ থেকে যাবে। মেসির পরামর্শেই তাঁকে জাতীয় দলের নেতৃত্বের জন্য মনোনীত করা হয়েছে বলে জানান রোমেরো।
মেসিকে ছাড়া প্রথম ম্যাচে গত বৃহস্পতিবার বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। রোববার ভোরে বুরকিনা ফাসোর জালে ৭ গোল দিয়েছে আর্জেন্টিনা।
এদিকে মেসির বিদায়কে স্মরণীয় করতে তাঁর সঙ্গে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সব সদস্যকে এ ম্যাচে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভিডিও বার্তায় এএফএ সভাপতি বলেন, ‘লিওনেল এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করার পর আমরা কাতারে তাঁর সঙ্গে খেলা ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সব সদস্যকে পরিবারসহ এ ম্যাচে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা স্মরণীয় উপলক্ষ হতে চলেছে।’গত বিশ্বকাপে ফাইনাল ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। এরপর জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন আর্জেন্টিনার ফুটবল সুপারস্টার।
নিজের ফেসবুক পেজে অবসরের কথা জানিয়ে মেসি বলেন, ‘ফাইনালের পর থেকে অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক ভেবেচিন্তে আমি সবাইকে জানাতে চাই, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি। এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা হৃদয়ে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়েছে এবং এখনও দিচ্ছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, এখনই সরে দাঁড়ানোর সময়। আমি শপথ করে বলতে পারি, সবসময় নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি। শুধু সাম্প্রতিক কয়েক বছরে, যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, তা নয়; এর আগেও জাতীয় দলের এই জার্সির জন্য সবসময় লড়েছি।’
জাতীয় দলের হয়ে দেশের মানুষকে আনন্দ দেওয়াই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফুটবলের মাধ্যমে যেন আপনারা আর্জেন্টাইন হওয়ার জন্য গর্ববোধ করেন, সেই চেষ্টা সবসময় করেছি।’
অবসরের সিদ্ধান্তের কষ্টের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর খুব বেশি সময় বাকি নেই, একের পর এক অধ্যায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এটি এমন একটি অধ্যায়, যা আমাকে অনেক কষ্ট দিচ্ছে। জাতীয় দলে থাকা আমি ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সবসময় ভালোবাসব। আমি নিজেকে পুরোপুরি উজাড় করে দিয়েছি। এখন আর দেওয়ার মতো কিছু নেই। তাছাড়া পেছন থেকে দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা জাতীয় দলে থাকার যোগ্য।’
ছবি : সংগৃহীত
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে যতই ঝড় উঠুক, মাঠে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না পর্তুগালে। দলের সবচেয়ে বড় তারকাকে ছাড়াই আরও একটি জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান নেশন্স লিগ চ্যাম্পিয়নরা। নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে চার ম্যাচে চার জয় নিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালও নিশ্চিত করেছে দলটি। পর্তুগালের জয়ের নায়ক গনসালো রামোস। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে তার গোলে নিশ্চিত হয় জয়। এই জয়ে গ্রুপ ‘এ৪’-এ শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। চার ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১২, দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডেনমার্কের চেয়ে ছয় পয়েন্ট এগিয়ে তারা।
অথচ কয়েক দিন আগেও পর্তুগালের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ফুটবল নয়, রোনালদো। কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের পর গত সপ্তাহে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান পর্তুগিজ মহাতারকা। তাকে ছাড়াই গত বৃহস্পতিবার ডেনমার্ককে হারিয়েছিল পর্তুগাল। এবার নরওয়ের বিপক্ষেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখল তারা। পোর্তোতে অবশ্য শুরুটা পর্তুগালের পক্ষে ছিল না। ৩৬ মিনিটে নরওয়েকে এগিয়ে দেন ক্রিস্টোফার আইয়ার। বক্সের বাইরে থেকে তার নিচু হয়ে আসা ভলি ঠেকানোর কোনো সুযোগই ছিল না পর্তুগাল গোলরক্ষকের।
তবে দুই মিনিট পরই ম্যাচে সমতা ফেরান জোয়াও ক্যানসেলো। বক্সের বাইরে থেকে তার জোরালো শট নরওয়ের জালে গিয়ে আছড়ে পড়ে। আইয়ারের গোল যদি ছিল দারুণ, ক্যানসেলোর জবাব ছিল আরও দুর্দান্ত।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন রামোস। জোয়াও ফেলিক্সের হেড করা বল তার দিকে এলে পায়ের পেছনের অংশ দিয়ে সেটিকে জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। সেই গোলেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয় পর্তুগালের।
ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বাস না দেখালেও জয় ও কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করাটাকেই বড় করে দেখেছেন কোচ জর্জ জেসুস, 'নরওয়েকে হারাতে অনেক বেশি কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন।'
তিনি আরও বলেন, 'ডেনমার্কের বিপক্ষে যেমন খেলেছিলাম, এবার তেমন পারফরম্যান্স করতে পারিনি। তবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল জয় এবং কোয়ালিফিকেশন। এই দলটির ওপর আমার অনেক বিশ্বাস ছিল। তবে প্রথম চার ম্যাচে চারটি জয় পাব, হয়তো এতটা আশা করিনি।'
জয় পেলেও ম্যাচের শেষটা অবশ্য স্বস্তির ছিল না পর্তুগালের জন্য। ম্যাচ শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে লাল কার্ড দেখেন ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও। হলুদ কার্ড দেখার পর রেফারিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে থাম্বস আপ দেখানোয় সঙ্গে সঙ্গেই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন রেফারি।
অন্যদিকে গ্রুপ ‘এ৪’-এর আরেক ম্যাচে ওয়েলসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ডেনমার্ক। কার্ডিফে ডেনমার্ককে বেশ কিছুক্ষণ আটকে রেখেছিলেন ওয়েলস গোলরক্ষক ড্যানি ওয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত ৭৫ মিনিটে গুস্তাভ ইসাকসেনকে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেন তিনি। স্পট কিক থেকে গোল করে ডেনমার্ককে জয় এনে দেন রাসমুস হইলুন্দ।
গ্রুপ ‘এ২’-এ সার্বিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে উঠেছে নেদারল্যান্ডস। ৩১ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি গোল করে ডাচদের এগিয়ে দেন টেউন কুপমেইনার্স। চার মিনিট পরই সার্বিয়াকে সমতায় ফেরান ১৮ বছর বয়সী মিহাইলো স্ভেটকোভিচ, জাতীয় দলের হয়ে এটিই তার প্রথম গোল।
৭২ মিনিটে আবার এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। তিজানি রেইন্ডার্সের বাড়িয়ে দেওয়া বল জালে পাঠান জশুয়া জির্কজি। এই জয়ে গ্রুপে গ্রিসের সঙ্গে সমান পয়েন্টে থাকলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে উঠে গেছে ডাচরা।
অন্য ম্যাচে ঘরের মাঠে জার্মানির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে গ্রিস। পুরো ম্যাচে আধিপত্য ছিল জার্মানির, কিন্তু গোলের দেখা পায়নি তারা। নতুন কোচের অধীনে চার ম্যাচে এটি জার্মানির মাত্র একটি জয়।
গ্রুপ ‘বি৩’-এ কসোভোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেও শীর্ষে আছে অস্ট্রিয়া। আর আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের ম্যাচও শেষ হয়েছে একই ব্যবধানে। অন্যদিকে গ্রুপ ‘ডি২’-এ লিথুয়ানিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে উঠেছে আজারবাইজান। গ্রুপ ‘ডি১’-এ অ্যান্ডোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে মাল্টা।
লিওনেল মেসি
জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলতে আর্জেন্টিনা পৌঁছেছেন লিওনেল মেসি। গত শুক্রবার নিজ শহর রোজারিওতে পৌঁছান তিনি।
বুয়েন্স আয়ার্সের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন মেসি। বাংলাদেশ সময় ৭ অক্টোবর বুধবার ভোর ৫টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
আর্জেন্টাইন সংবাদ মাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী ম্যাচ খেলতে স্ত্রী, তিন ছেলে ও মাকে নিয়ে রোজারিওতে পৌঁছেছেন মেসি। দ্রুতই আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এ মহাতারকার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন জাতীয় দলের সতীর্থ ও কোচিং স্টাফরা।
৩৯ বছর বয়সী এ ফুটবলারকে বিদায় জানাতে এরই মধ্যে সতীর্থরা বিশেষ একটি ভিডিও তৈরি করেছেন। সে ভিডিওতে আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব পাওয়া কুতি রোমেরো বলেছেন, মেসিকে তিনি কতটা ভালোবাসেন, সেটা কখনও ভাষায় প্রকাশ করতে পারেননি বলে তাঁর মনের মধ্যে একটা আক্ষেপ থেকে যাবে। মেসির পরামর্শেই তাঁকে জাতীয় দলের নেতৃত্বের জন্য মনোনীত করা হয়েছে বলে জানান রোমেরো।
মেসিকে ছাড়া প্রথম ম্যাচে গত বৃহস্পতিবার বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় আজ রোববার ভোরে বুরকিনা ফাসোর জালে ৭ গোল দিয়েছে আর্জেন্টিনা।
শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ
বলটি ব্যাটে লেগেছিল, নাকি প্যাডে? নিউ চণ্ডীগড়ে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৃতীয় ওয়ানডে শেষ হওয়ার পর এই আলোচনাটা থেকে গেছে। আর এই আলোচনার কেন্দ্রে বাংলাদেশের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ। গতকাল ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে তিনি ছিলেন থার্ড আম্পায়ার। তাঁর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান শেরফান রাদারফোর্ডকে আউট দেওয়া হয়।
কী হয়েছিল
ঘটনাটি ঘটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ৩০তম ওভারের শেষ বলে। ৩৫২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের হয়ে বল করছিলেন নামান ধীর। তাঁর করা বলটি কাট করতে যান রাদারফোর্ড। বলটি উইকেটকিপার লোকেশ রাহুলের হাতে গেলে ক্যাচের আবেদন করে ভারত। মাঠের আম্পায়ারও আউট দেন। সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন রাদারফোর্ড।
রিপ্লেতে বল ব্যাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি স্পাইক দেখা যায়। এরপর বিষয়টি যায় তৃতীয় আম্পায়ার বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলার কাছে। রিপ্লে দেখে তিনি মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। তবে সিদ্ধান্তে খুশি ছিলেন না রাদারফোর্ড। তিনি আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেন। নিজের অসন্তোষও জানান। মাঠ ছাড়েন ক্ষুব্ধ অবস্থায়।
যা নিয়ে বিতর্ক
রিপ্লেতে আরেকটি বিষয় নিয়ে তৈরি হয় প্রশ্ন। বল ব্যাটের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় একই সঙ্গে ব্যাট ও প্যাডের সংস্পর্শ দেখা যায়। ফলে স্পাইকটি ব্যাটে বল লাগার কারণে তৈরি হয়েছিল, নাকি ব্যাট প্যাডে লাগার কারণে—তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভিডিও দেখে মনে হয়েছে বল ও ব্যাটের মধ্যে একটা ফাঁক ছিল।
বিষয়টি নিয়ে তখন ধারাভাষ্যকার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা ইয়ান বিশপও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘রাদারফোর্ড মোটেও খুশি ছিলেন না। তাঁর মনে হয়েছিল, ব্যাট বলের বদলে প্যাডে লেগেছিল। তৃতীয় আম্পায়ারের ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন বিশপ। তিনি বলেন, ‘তৃতীয় আম্পায়ার বলেছেন, ব্যাট ও বলের মধ্যে কোনো ফাঁক তিনি দেখতে পাননি। এটা ইন্টারেস্টিং।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শরফুদ্দৌলার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। এই যেমন সাংবাদিক বিক্রান্ত গুপ্ত এক্সে লিখেছেন, ‘রাদারফোর্ড আউট ছিলেন না। টিভি আম্পায়ার কীভাবে বল আর ব্যাটের এজের মধ্যে কোনো ফাঁক দেখেননি, তা আমি বুঝতে পারছি না—যেখানে একই টিভিতে আমরা সবাই স্পষ্ট দেখেছি, সেখানে ফাঁক ছিল। স্নিকোতে যে শব্দটি ধরা পড়েছিল, সেটি ছিল ব্যাট প্যাডে লাগার। বাজে সিদ্ধান্ত।’
রাদারফোর্ডের আউট নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ম্যাচে দারুণ জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তারা ৪৮.২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় পায়।
এ জয়ে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম দুই ম্যাচ জেতায় তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় ভারত।