ছবি : সংগৃহীত
দুই দফায় সমতা টেনে লড়াই জমিয়ে তুলল চেলসি। কিন্তু গোলরক্ষকের মারাত্মক এক ভুলে আরেকবার পিছিয়ে পড়ার পর আর পেরে উঠল না তারা। তিন গোলের ব্যবধানে জিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল পিএসজি। প্যারিসে বুধবার রাতে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ৫-২ গোলে জিতেছে লুইস এনরিকের দল।
ব্রাডলি বারকোলা স্বাগতিকদের এগিয়ে নেওয়ার পর, সমতা ফেরান মালো গুস্তো। উসমান দেম্বেলের গোলে আবার পিছিয়ে পড়ার পর, সমতা টানেন এন্সো ফের্নান্দেস। ভিতিনিয়ার গোলে পিএসজি তৃতীয়বার এগিয়ে যাওয়ার পর, জোড়া গোল করেন দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা খাভিচা কাভারাৎস্খেলিয়া।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে শুরু থেকে জমে ওঠে লড়াই। দশম মিনিটে এগিয়ে যায় পিএসজি। ডান দিক থেকে ক্রস দেন দেম্বেলে, বক্সে জোয়াও নেভেসের হেড পাসে বাঁ পায়ের শটে ঠিকানা খুঁজে নেন বারকোলা।
পাঁচ মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত, কিন্তু দেম্বেলের জোরাল শট গোলরক্ষক ফিলিপ ইয়োর্গেনসেনের হাত ছুঁয়ে পোস্টে লাগে। পরের কয়েক মিনিটে পিএসজির আরও কয়েকটি প্রচেষ্টা ঠেকান তিনি।
২৮তম মিনিটে সমতা ফেরান গুস্তো। এন্সো ফের্নান্দেসের পাস বক্সে ফাঁকায় পেয়ে জোরাল নিচু শট নেন তিনি, বল গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে জালে জড়ায়।
৩৯তম মিনিটে কোল পামারের শট ঠেকান মাতভেই সাফোনোভ এবং সেখান থেকেই আক্রমণে উঠে আবার এগিয়ে যায় পিএসজি। নিজেদের অর্ধ থেকে দিজিরে দুয়ের পাস ধরে এগিয়ে যান দেম্বেলে। বক্সে ঢুকে চেলসি ডিফেন্ডার ওয়েসলি ফোফানাকে কাটিয়ে নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ব্যালন দ’র জয়ী।
সেই স্বস্তি বিরতি থেকে ফিরে বেশিক্ষণ থাকেনি স্বাগতিকদের। ৫৭তম মিনিটে স্কোরলাইন ২-২ করেন ফের্নান্দেস। বাঁ দিক দিয়ে দারুণভাবে বক্সে ঢুকে পাস দেন পেদ্রো নেতো, আর অনায়াসে লক্ষ্যভেদ করেন অরক্ষিত আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।
৭৪তম মিনিটে ইয়োর্গেনসেনের হাস্যকর ভুলে ম্যাচে তৃতীয়বার এগিয়ে যায় পিএসজি। সতীর্থের ব্যাক-পাস পেয়ে আরেক সতীর্থের উদ্দেশ্যে দেওয়ার চেষ্টা করেন চেলসি গোলরক্ষক, তার একটু সামনেই থাকা বারকোলা পা বাড়িয়ে আটকে দেন বল, কাভারাৎস্খেলিয়ার পা ঘুরে বল পেয়ে লব শটে গোলরক্ষকের মাথায় ওপর দিয়ে জালে পাঠান ভিতিনিয়া।
আবার পিছিয়ে পড়লেও, ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ভালোভাবেই লড়াইয়ে ছিল চেলসি। তবে ৮৬তম মিনিটে দারুণ এক গোলে সফরকারীদের ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে দেন কাভারাৎস্খেলিয়া। উইলিয়াম পাচোর পাস ধরে বক্সের বাইরে জায়গা বানিয়ে ডান পায়ের বুলেট গতির শটে জালে পাঠান জর্জিয়ার ফরোয়ার্ড।
দুয়ের বদলি নামা কাভারাৎস্খেলিয়া যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে চেলসির কফিনে পঞ্চম পেরেক ঠুকে দেন। আশরাফ হাকিমির পাস পেনাল্টি স্পটের কাছে পেয়ে নিচু শট নেন অরক্ষিত এই খেলোয়াড়। বল গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে জালে জড়ায়।
আগামী মঙ্গলবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে হবে ফিরতি লেগ। ঘরের মাঠে খেলা হলেও, তিন গোলের ব্যবধান ঘোচানো ভীষণ কঠিন হবে চেলসির জন্য।
বোদা/গ্লিম্টের স্বপ্নযাত্রা চলছেই
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চমক বোদা/গ্লিম্ট নকআউটে এসেও অব্যাহত রেখেছে তাদের স্বপ্নযাত্রা। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ঘরের মাঠে স্পোর্তিং সিপিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে নরওয়ের ক্লাবটি।
আসরে টানা পঞ্চম জয় পেল তারা। ম্যানচেস্টার সিটি ও আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারানোর পর প্লে-অফে ইন্টার মিলানকে দুই লেগেই হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠে আসে অখ্যাত ক্লাবটি।
আরেকটি রাত, আরেকটি ম্যাচ-কিন্তু এবার গল্পটা অন্যরকম। যে পায়ে যুগের পর যুগ ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছেন লিওনেল মেসি, সেই পা আজ শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে স্পর্শ করছে মনুমেন্টালের ঘাস। আলবিসেলেস্তে জার্সিকে বিদায় জানাচ্ছেন মহাতারকা।
বিদায়ের সেই মুহূর্তের আগে মেসিকে বিশেষ সম্মানে স্মরণ করল দেশটির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিভার প্লেট। আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ক্লাবটির সম্মানসূচক সদস্যপদের কার্ড।
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে রিভার প্লেটের সভাপতি স্টেফানো ডি কার্লো নিজ হাতে মেসির হাতে তুলে দেন সম্মানসূচক সদস্যপদ কার্ড। সঙ্গে ছিল একটি স্মারক ক্রেস্ট এবং মেসির নাম খোদাই করা ক্লাবটির ঐতিহ্যবাহী ‘মানতো সাগ্রাদো’-পবিত্র জার্সি।
বিশ্ব ফুটবলে তার অসামান্য অবদান ও একের পর এক ঐতিহাসিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই এই বিশেষ সম্মান জানায় রিভার প্লেট।
ম্যাচ শেষে বিদায়ী বক্তব্যে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০ বছরের মহাকাব্যিক অধ্যায়ের শেষ মুহুর্তে নিজের আবেগ আর সামলাতে পারলেন না কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে ম্যাচ শেষে জাতীয় দল থেকে বিদায়ের লগ্নে মাইক্রোফোন হাতে লিওনেল মেসির বক্তব্য হৃদয় ছুয়েছে ভক্তদের।
বিদায়ী ম্যাচে মেসি বলেন, আমি শপথ করে বলছি, সারাজীবন এখানে ফিরে আসতে চাইব। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলা একজন মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে সুন্দর বিষয়। আমি সারাজীবন এখানে থাকতে চাই।’
পরক্ষণেই বলেছেন, ‘কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, এটাই সঠিক সময়। শেষ বিশ্বকাপটা আমার জন্য অনেক বেশি কঠিন ছিল। আমরা আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম, খুব কাছেও গিয়েছিলাম। সত্যি বলতে, অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি। আমরা আমাদের সবটুকু দিয়েছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা শারীরিক ও মানসিক, দুই দিক থেকেই আমাদের জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। সত্যি বলতে, আমরা কোনোমতে টিকে ছিলাম।’
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমার ভেতর দিয়ে আবেগের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। আমি নিশ্চিতভাবেই এমন অনেক কিছু ভুলে যাচ্ছি যা আমি বলতে চেয়েছিলাম, কারণ এটা আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন এক মুহূর্ত। সবার আগে যার কথা আমার মনে আসছে, তিনি হলেন আমার বাবা। এখানে খেলতে না পারাটা আমি খুব মিস করব। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি এবং আমি একজন আর্জেন্টাইন হতে পেরে গর্বিত। আমি কৃতজ্ঞতা, গর্ব ও শান্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।
আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সির প্রতি ভালোবাসা জাতিয়ে বলেন, ‘এই জার্সিকে ধন্যবাদ। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে, এমনকি সবচেয়ে খারাপ মুহূর্তগুলোতেও আমি কখনও লড়াই করা থামাইনি। সামনে এগিয়ে যাওয়া বন্ধ করিনি, আমার যা কিছু ছিল তার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি এবং সবসময় এখানে থাকতে চেয়েছি। এখানে আর আসা এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে না খেলতে পারাটা আমাকে অনেক বেশি কষ্ট দেবে। যদি আমার হাতে থাকত, তাহলে আমি আমার সারা জীবন এখানে খেলে যেতে চাইতাম। কারণ আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আজ আমি অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি কথা বলছি, কারণ আমি স্রেফ চাই না যে এই মুহূর্তটি শেষ হয়ে যাক। কিন্তু আমার মনে হয়, এবার আমার অবসর নেওয়ার সময় চলে এসেছে। গত বিশ্বকাপে আমরা যা কিছুর মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তা আমাদের থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। আমরা আমাদের শেষ শক্তিটুকু নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিলাম কিন্তু আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি, ঠিক যেভাবে আমরা সবসময় করে এসেছি। আমরা আবারও জেতার খুব কাছাকাছি ছিলাম এবং আমাদের নিয়ে যা কিছু বলা হয়েছিল, আসলে তেমন অদ্ভুত কিছুই ঘটেনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের অনেক শক্তি ক্ষয় করেছিল, কারণ আমরা সেখানে আমাদের একেবারে সবটুকু ঢেলে দিয়েছিলাম।
মেসি বলেন, ‘২০২২ সালে, আমাদের কেবল আমার নিজের স্বপ্নই নয়, বরং পুরো একটি দেশের স্বপ্ন পূরণ করার আকাঙ্ক্ষা ছিল- আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আর আমরা তা করে দেখিয়েছিলাম। আমরা বিশ্বকাপ জিতেছি, কোপা আমেরিকা জিতেছি, ফিনালিস্সিমা জিতেছি… এই জাতীয় দলের সঙ্গে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, এর সবকিছুর জন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ। তবে এই যাত্রাটা কেবল ২০২২ বা এই শেষ বিশ্বকাপকে নিয়ে নয়। আমরা শেষ পর্যন্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনেক আগে থেকে অসংখ্য সতীর্থ এই জার্সির জন্য আমার পাশাপাশি লড়াই করেছে। তাদের প্রত্যেকে আর্জেন্টিনার জন্য কতটা লড়াই করেছে এবং নিজেদের কতটা উজাড় করে দিয়েছে, তা নিয়ে কখনো কোনো সন্দেহ করিনি ‘
মহাতারকা এই ফুটবলার বলেন, ‘আমার সব সতীর্থর সঙ্গে মাঠ ভাগাভাগি করতে পারা এবং ফুটবলের বাইরে আমাদের জীবনের এত বড় একটি অংশ এক সঙ্গে কাটাতে পারাটা ছিল একটি সৌভাগ্য ও সম্মানের। প্রতিবার যখন আমরা মাঠে পা রেখেছি, আমি জানতাম আমরা যে কোনো দলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারি। কারণ, আমার পাশে এমন সব যোদ্ধা ছিল যারা মাঠে তাদের সবটুকু দিতে প্রস্তুত ছিল। সবচেয়ে বড় অর্জনগুলো লুফে নিতে হলে আপনার একটি শক্তিশালী দলের প্রয়োজন। আর সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোতেই আপনি সত্যিই আবিষ্কার করতে পারবেন যে, আপনার দলটি কেমন। এটাই অন্যতম বড় কারণ, যার জন্য আমরা যা কিছু অর্জন করেছি, তা করতে পেরেছিলাম। বিশেষ করে এই দলকে ধন্যবাদ। তারা আমাকে ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করেছে। তারা আমাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করেছে। আমি জনগণকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। আর্জেন্টিনার অনেক শহরে খেলার সৌভাগ্য আমার হয়েছে এবং আমি যেখানেই গিয়েছি, অবিশ্বাস্য রকমের ভালোবাসা পেয়েছি ‘
লড়াকু এই ফুটবলার আরও বলেন, এই এত বছর ধরে, পৃথিবীর যেখানেই আমরা খেলি, স্টেডিয়ামগুলো সবসময় আর্জেন্টাইনদের দিয়ে পরিপূর্ণ ছিল। ম্যাচ যেমনই হোক কিংবা দূরত্ব যতই হোক না কেন, মানুষ সেখানে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। আমরা জানি সেটা কতটা কঠিন। পৃথিবীর যেখানেই আমরা গিয়েছি, মনে হয়েছে আমরা নিজেদের ঘরের মাঠেই খেলছি, কারণ আমরা সবসময় আপনাদের সমর্থন অনুভব করতে পেরেছি। এই সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে। কঠিন মুহূর্ত আসবে, আর সেই মুহূর্তগুলোতেই দলকে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সমর্থন করতে হবে। আপনাদের শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ দলের প্রয়োজন, কারণ সবসময় এমন কিছু মানুষ থাকবে, যারা জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায় এবং আমরা তাদের সেই আত্মতৃপ্তির সুযোগ দিতে পারি না। এখানে, এই স্টেডিয়ামে, আমি আমার জীবনের অন্যতম আনন্দের একটি দিন পার করেছি–বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ঘরের মাঠে খেলা আমাদের প্রথম ম্যাচটি। সেটি ছিল খুব সুন্দর। আর আজকের দিনটি হয়ত সবচেয়ে দুঃখের দিনগুলোর একটি, কারণ আমি এখানে দাঁড়িয়ে বিদায় নিচ্ছি। আমি আপনাদের সবাইকে খুব মিস করব, কিন্তু আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকব। আমি এই ছেলেদের এবং এরপর যারা আসবে, তাদের সবাইকে সমর্থন করে যাব।
ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীতের সময় তিন সন্তানের সঙ্গে মেসি
২০০৫ সালের আগেস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে শুরু। সেই থেকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ২১ বছর ধরে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, অসংখ্য রাতকে রাঙিয়েছেন। সেই জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমে আবেগ সামলাতে পারলেন না লিওনেল মেসি। কিংবদন্তি এ ফুটবলারের চোখের কোণে দেখা গেল জল। বেনিনের বিপক্ষে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে তার গল্পের শেষ অধ্যায় লিখে ফেলার আগ মুহূর্তে আবেগ লুকাতে পারেননি এই মহাতারকা।
ম্যাচের আগে থেকে শুরু করে মাঠের ভেতরেও বারবার ফুটে উঠেছে তার আবেগ, কখনো চোখের জলে, কখনো তৃপ্তির হাসিতে। সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে আর্জেন্টিনার জাতীয় সংগীতের সময়। সতীর্থ ও কোচ লিওনেল স্কালোনির মতো মেসির চোখেও তখন জল। আবেগ সামলানোর চেষ্টা করলেও চোখের পানি আটকে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সিধারী। মাথা উঁচু করে সামনে তাকিয়ে ছিলেন তিনি, পাশে ছিল ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের পতাকা।
তবে চোখের জল সামলে সেই বিশেষ মুহূর্তটাকে উপভোগও করেছেন তিনি। গ্যালারিজুড়ে তার জন্য তৈরি হওয়া উৎসবের আবহ দেখে কয়েক সেকেন্ড থমকে ছিলেন মেসি। এরপর ঠোঁটে ফুটে ওঠে ছোট্ট, তৃপ্তির এক হাসি। স্টেডিয়ামের পথে দলের বাসে বসে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি মেসি। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ভালোবাসার ঢল দেখে বাসের ভেতরেই কেঁদে ফেলেন তিনি। আবেগ সামলে নেওয়ার চেষ্টা করলেও চোখের পানি থামেনি। বাইরে থাকা সমর্থকদের দিকে তাকিয়ে শুধু উষ্ণ এক হাত নেড়ে ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
শেষবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে ওয়ার্ম-আপ করতে মাঠে প্রবেশের সময় দুই হাত তুলে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন গ্যালারির দিকে অভিবাদন জানান মেসি। আর সেটুকুতেই যেন বিস্ফোরিত হয় মনুমেন্তাল। মুহূর্তেই গর্জে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। এরপর যখন ঘোষক একে একে আর্জেন্টিনার একাদশের নাম ঘোষণা করছিলেন, তখন মেসির নাম আসতেই একসঙ্গে গর্জে ওঠে হাজারো কণ্ঠ। শেষবারের মতো ১০ নম্বর জার্সি গায়ে, শেষবারের মতো জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এভাবে, 'শেষবারের মতো ১০ নম্বর জার্সিতে, আমাদের অধিনায়ক, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। কিংবদন্তি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।'
ম্যাচ শুরুর পরও থামেনি বিদায়ের আবেগ। প্রথমার্ধের ১০ মিনিটে হঠাৎ যেন ফুটবল ম্যাচের কথা ভুলে গেলেন মাঠের ২২ খেলোয়াড়। আগে থেকেই মেসির শেষ ম্যাচ উপভোগ করার কথা জানিয়েছিলেন বেনিনের ফুটবলাররা। তাই অপ্রত্যাশিত সেই বিরতিতে কয়েকজন বেনিন খেলোয়াড় এগিয়ে এসে মেসিকে শুভেচ্ছা জানান। আর গ্যালারিতে তখন অন্য দৃশ্য, পুরো মনুমেন্তাল দাঁড়িয়ে, করতালিতে শেষবারের মতো নিজেদের অধিনায়ককে অভিবাদন জানাচ্ছে।
বিদায়ী ম্যাচের জন্য অনুশীলন কমপ্লেক্স থেকে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আসতে সময় লাগে এক ঘণ্টার বেশি। রাস্তায় নেমে আসেন ভক্তরা। সে সময়ও মেসির চোখে দেখা যায় জল। বিশেষ জার্সি পরে সতীর্থদের সঙ্গে ওয়ার্মআপ করেন মেসি। দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দেন তিনি। গ্যালারিতে ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা।
বিদায়ী ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন মেসি। আর্জেন্টিনার মানুষের উদ্দেশে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি। আমি সবকিছু দিয়ে চেষ্টা করেছি।’
জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির এই বিদায় শুধু একটি ম্যাচের সমাপ্তি নয়; এটি একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের শেষও। যে জার্সিতে তিনি দেখেছেন হতাশা, কান্না ও ব্যর্থতা, সেই জার্সিতেই পেয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের গৌরব। ২১ বছরের এই যাত্রায় আর্জেন্টিনার হয়ে অসংখ্য স্মৃতি উপহার দিয়েছেন তিনি। তার কথায় যেন সেই দীর্ঘ পথচলারই প্রতিধ্বনি।
লিওনেল মেসি
শেষবারের মতো জাতীয় সংগীত। শেষবারের মতো আকাশি-সাদা জার্সি। শেষবারের মতো মনুমেন্টালের হাজারো কণ্ঠে নিজের নাম শুনলেন লিওনেল মেসি। চোখের কোণে জমে থাকা জল মুছে মাঠের দিকে তাকালেন, যেন নিজের দুই দশকের গল্পটাকে একবারে চোখের সামনে দেখতে চাইলেন। তারপর বল পায়ে নেমে যা করলেন, সেটিও ছিল মেসিসুলভ। বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় দিয়ে শেষ হলো জাতীয় দলের হয়ে মেসির ২১ বছরের পথচলা।
বিদায়ী ম্যাচে নিজে একটি গোল করেছেন, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে করা গোলটি হয়ে থাকল আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার শেষ গোল। শেষ বাঁশির পর সতীর্থরা যখন তাকে ঘিরে ধরলেন, তখন বুঝে নেওয়া গেল, সত্যিই শেষ হয়ে গেল একটি যুগ।
ম্যাচ শুরুর আগেই মনুমেন্টাল যেন রূপ নিয়েছিল উৎসবের মঞ্চে। এজেইজা থেকে স্টেডিয়ামে আসার পথে রাস্তার দুই পাশে সমর্থকদের ঢল। বাসের ভেতর থেকেই সেই দৃশ্য দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। চোখের পানি মুছতে মুছতে বাইরে থাকা সমর্থকদের দিকে হাত নেড়ে ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন।
স্টেডিয়ামে ঢোকার সময় সঙ্গে ছিলেন তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও সিরো। মাঠে ওয়ার্ম-আপে এসে দুই হাত তুলে গ্যালারির প্রতিটি অংশকে অভিবাদন জানাতেই গর্জে ওঠে মনুমেন্টাল। এরপর ঘোষকের কণ্ঠে শেষবারের মতো শোনা গেল, ‘আমাদের অধিনায়ক, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, কিংবদন্তি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।’
জাতীয় সংগীতের সময় আবেগ আর লুকিয়ে রাখতে পারেননি তিনি। মেসির চোখে জল, একই দৃশ্য দেখা গেল কোচ লিওনেল স্কালোনির চোখেও। যে জার্সিতে ২১ বছর ধরে একটি জাতির স্বপ্ন বহন করেছেন, সেই জার্সিতে দাঁড়িয়ে শেষবার জাতীয় সংগীত গাইলেন তিনি।
বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল আর্জেন্টিনা। তবে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি তারা। ৭ মিনিটে রদ্রিগো দি পলের পাস থেকে বক্সের বাইরে মেসির শট ঠেকিয়ে দেন বেনিন গোলরক্ষক। ২৫ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিকও রুখে দেন তিনি। ৩২ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের পাস থেকে পাওয়া সুযোগে মেসির শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এর মধ্যেই আসে রাতের সবচেয়ে প্রতীকী মুহূর্ত। ম্যাচের ১০ মিনিটে রেফারি খেলা থামিয়ে দেন মেসিকে সম্মান জানাতে। ৮৫ হাজার দর্শক একসঙ্গে দাঁড়িয়ে যান। সতীর্থ, কোচিং স্টাফ, এমনকি বেনিনের খেলোয়াড়েরাও যোগ দেন করতালিতে। এক মিনিট ধরে শুধু মেসির জন্যই থেমে থাকে খেলা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে পাওয়া বলে ভলিতে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। মেসির মতো এই ম্যাচটিও ছিল ওতামেন্দির বিদায়ী ম্যাচ। গোলের কিছুক্ষণ পর তাকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মাঠ ছাড়ার সময় পুরো গ্যালারি দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় তাকে।
এরপর আবারও মেসির পাস থেকে গোল পায় আর্জেন্টিনা। বাঁ দিক থেকে মেসির বাড়ানো বল পেয়ে বক্সে ঘুরে বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান নিকো পাজ। তার নিখুঁত শটে বেনিনের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। বিদায়ী ম্যাচে এ নিয়ে দুটি গোলে সরাসরি অ্যাসিস্ট করলেন মেসি।
এরপর ৬৮ মিনিটে বেনিন বক্সে অগাস্টিন জিয়াই ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক থেকে ৭১ মিনিটে গোল করেন মেসি। তার শটে ডান দিকে ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি বেনিন গোলরক্ষক। জাতীয় দলের হয়ে এটি মেসির ১২৬তম গোল।
শেষ দিকে আরও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। ৭৫ মিনিটে নিকো গঞ্জালেসের পাস থেকে পাওয়া সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ৮৯ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে তার বাঁ পায়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। যোগ করা সময়েও একটি ফ্রি-কিক পেয়েছিলেন মেসি, তবে সেটি জালে জড়ায়নি।
শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশির পর সতীর্থরা মেসিকে ঘিরে ধরেন। বেনিনের খেলোয়াড়েরাও তাকে শুভেচ্ছা জানান। ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তাতে এসেছে ব্যর্থতা, কান্না, সমালোচনা, ফাইনালে হার। এসেছে কোপা আমেরিকার শিরোপা, ফাইনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ। যে ট্রফির জন্য আর্জেন্টিনার মানুষ ৩৬ বছর অপেক্ষা করেছিল, সেটিও এনে দিয়েছেন তিনি। আজ সেই গল্পের শেষ। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচ, ১২৬ গোল, ৬৮ অ্যাসিস্ট।
মেসির বিদায় ম্যাচ আজ
লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের সমাপ্তি হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ২১ বছরের পথচলা শেষে ৩৯ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার। বেনিনের বিপক্ষে এই প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমেই তিনি জাতীয় দলকে বিদায় জানাবেন।
আর্জেন্টিনার স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টায় বুয়েন্স আয়ার্সের ৮৫ হাজারের বেশি দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে। সময়ের পার্থক্যের কারণে বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের ম্যাচটি দেখতে হবে বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর ৫টায়।
২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার অনেক সতীর্থই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেও, মেসির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির সাক্ষী হতে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকবেন তারা।
যেভাবে দেখবেন মেসির বিদায়ী ম্যাচ (লাইভ সম্প্রচার)
বাংলাদেশের কোনো টিভি চ্যানেলে ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার না হলেও, কিছু বিকল্প মাধ্যমে দর্শকরা খেলাটি উপভোগ করতে পারবেন। ভারতীয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভে (ZEE5) সাবস্ক্রিপশন থাকলে ম্যাচটি দেখা যাবে, কারণ দক্ষিণ এশিয়ায় এই প্ল্যাটফর্মেই সম্প্রচার নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া অঞ্চলভেদে বেইন স্পোর্টস এবং অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে ম্যাচটির কাভারেজ থাকতে পারে। বাংলাদেশি দর্শকরা স্পোর্জিফাই অ্যাপের মাধ্যমেও ম্যাচটি সরাসরি দেখতে পারবেন।
পাশাপাশি, কিছু দর্শক ভিপিএন ব্যবহার করেও বিভিন্ন দেশের স্ট্রিমিং সেবা থেকে ম্যাচটি উপভোগ করতে পারেন।
১৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রেখেছিলেন মেসি। ২১ বছরের সেই অবিশ্বাস্য যাত্রার ইতি টেনে বেনিনের বিপক্ষে এই ম্যাচটি বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক আবেগময় ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
উয়েফা নেশন্স লিগে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। এক গোলে পিছিয়ে থাকা ফরাসিরা শেষ ১৪ মিনিটে চারবার জালের দেখা পায়। এই জয়ে কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদানের অপরাজিত যাত্রাও অব্যাহত থাকল। ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ফ্রান্স। তবে প্রথম গোলটি পায় বেলজিয়াম। ৩৫ মিনিটে রোমেও লাভিয়ার প্রায় ৬০ গজের থ্রু বল ধরে ফরাসি গোলরক্ষক হিসেবে অভিষেক হওয়া গিয়োম রেস্তেকে পরাস্ত করেন দোদি লুকেবাকিও। ফলে বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স। একের পর এক আক্রমণ করেও গোল পাচ্ছিল না তারা। অবশেষে ৭৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দেজিরে দুয়ের নিচু শটে সমতায় ফেরে ফরাসিরা।
এর চার মিনিট পরই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। মাইকেল ওলিসের কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে বদলি হিসেবে নামা রায়ান শেরকি ফ্রান্সকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ফ্রান্স। ৮৭ ও যোগ করা সময়ে আরও দুটি গোল করেন ওলিসে। দুই গোলেই সহায়তা করেন দুয়ে। ফলে শেষ ১৩ মিনিটে চার গোল করে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স। জাতীয় দলের জার্সিতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওলিসে ২০২৬ সালে ফ্রান্সের হয়ে ১৬ ম্যাচে ১৭ গোলে সরাসরি অবদান রাখলেন।
এই জয়ে চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ এ১-এর শীর্ষে ফ্রান্স। বেলজিয়াম ছয় পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে তুরস্ককে ৩-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে ইতালি। ইতালির হয়ে গোল করেন জিয়ানলুকা স্কামাক্কা, রিকার্দো কালাফিওরি ও পিও এসপোসিতো। তুরস্কের একমাত্র গোলটি করেন আরাল সিমসির।