ছবি : সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে টিকিটের প্রথম দফার উন্মুক্ত বিক্রি শুরু হয়েছে। সেখানে ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৯৯০ ডলার (প্রায় ১৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা) রাখছে ফিফা। পুনর্বিক্রয় বা ‘রিসেল’ বাজার বাদ দিয়ে শুধু বক্স অফিসের দাম বিবেচনা করলে ফুটবল ইতিহাসে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের ক্ষেত্রে এটাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম। অথচ আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর পক্ষ থেকে বিশ্বকাপের বিড–বুকে জানানো হয়েছিল, ফাইনালে টিকিটের সর্বোচ্চ দাম হবে ১ হাজার ৫৫০ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা)।
গত ডিসেম্বরে যখন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অফিশিয়াল সমর্থকগোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য টিকিট ছাড়া হয়েছিল, তখন সর্বোচ্চ দাম ছিল ৮ হাজার ৬৮০ ডলার (প্রায় ১০ লাখ ৬২ হাজার টাকা)। গত বুধবার যখন সাধারণ দর্শকদের জন্য টিকিট বিক্রি শুরু হয়, তখন সেই দাম আরও বেড়ে যায়। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে গ্যালারির সেরা আসনের টিকিটের দাম ছিল ১ হাজার ৬০৪ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা)।
২০২৬ বিশ্বকাপে টিকিটের প্রকৃত মূল্যকাঠামো বোঝা বেশ কঠিন। কারণ, ফিফা কখনোই তাদের পূর্ণাঙ্গ মূল্যতালিকা প্রকাশ করেনি। ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা মূলত ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি অনুসরণ করছে, যেখানে টিকিটের চাহিদা অনুযায়ী সময়ভেদে দাম পরিবর্তিত হয়।
টিকিটের এমন আকাশচুম্বী দামের কারণে গত বছরের শেষ দিকে অনেকেই একে ফুটবলভক্তদের সঙ্গে ‘চরম বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে বলেছিলেন। যদিও গত ডিসেম্বরে ফিফা মাত্র ৬০ ডলার মূল্যের কিছু স্বল্পমূল্যের টিকিটের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে বুধবার প্রথমবারের মতো টিকিটের উন্মুক্ত বিক্রি শুরু হওয়ার পর চড়া দামের বিষয়টি আবারও সামনে চলে এল।
ফাইনালে টিকিটের দাম বেড়েছে ৩৮ শতাংশ
আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। ফাইনাল আগামী ১৯ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
ফাইনালসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের টিকিটের দাম আসলে কত, তা নিশ্চিতভাবে বলা প্রায় অসম্ভব। কারণ, ফিফা কখনোই টিকিটের দামের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা কোন ক্যাটাগরিতে কতটি টিকিট আছে, সেই তথ্য প্রকাশ করেনি।
ফিফার টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইট ঘেঁটে বর্তমানে কী ধরনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে এবং সেগুলোর দাম কেমন, সে সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। তবে এর বাইরে আরও দামি কোনো টিকিট আছে কি না, কিংবা তুলনামূলক সস্তা ক্যাটাগরির টিকিট বেশি সংখ্যায় ছাড়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার কোনো উপায় নেই।
এখন পর্যন্ত যা দেখা গেছে, তাতে গত ডিসেম্বরের তুলনায় এবারের উন্মুক্ত বিক্রিতে ফাইনালের টিকিটের দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। প্রথম ক্যাটাগরিতে ১০ হাজার ৯৯০ ডলারের টিকিটের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যাটাগরিতেও দাম বেড়েছে।
দ্বিতীয় ক্যাটাগরি: টিকিটের দাম ৫ হাজার ৫৭৫ ডলার থেকে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৮০ ডলারে (প্রায় ৯ লাখ টাকা)।
তৃতীয় ক্যাটাগরি: টিকিটের দাম ৪ হাজার ১৮৫ ডলার থেকে ৩৮ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৭৮৫ ডলার (প্রায় ৭ লাখ টাকা)।
শেষ মুহূর্তের টিকিট বিক্রি শুরুর আগে ফিফা কোনো পূর্বঘোষণা দেয়নি যে কোন ম্যাচের টিকিট কত দামে পাওয়া যাবে। বিবিসি জানিয়েছে, যাঁরা টিকিট কিনতে পেরেছেন, তাঁরা দেখেছেন যে শীর্ষ দলগুলোর ম্যাচ এবং নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলোর টিকিটের দাম অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ফিফার অফিশিয়াল ‘রিসেল’ বা পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মটি আবার চালু হয়েছে। সেখানে টিকিটের দাম আরও আকাশচুম্বী। বিবিসি জানিয়েছে, একজন বিক্রেতা তাঁর একটি টিকিটের জন্য ৮২ হাজার ৭৮০ ডলার (প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা) দাবি করেন।
টিকিট পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও প্রযুক্তিগত বিভ্রাট
গত বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি টিকিটপ্রত্যাশী সাধারণ সমর্থকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল লাইনে যুক্ত হয়। বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া আটটার দিকে সেই লাইনে দাঁড়ানোর পর শুরুতে একটি ‘হোল্ডিং মেসেজ’ দেখা যায়। রাত ৯টায় সেটি পরিবর্তিত হয়ে একটি লাল বৃত্তে পরিণত হয় এবং লেখা ওঠে: ‘অলমোস্ট দেয়ার’ বা ‘প্রায় কাছাকাছি’।
রাত ১০টার দিকে পর্দায় একটি ক্ষণগণনা (কাউন্টডাউন) শুরু হয়। যখন দেখাচ্ছিল, লাইন আর মাত্র দুই মিনিটের, ঠিক তখনই সময় হঠাৎ বেড়ে ১৫ মিনিট হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত যখন ওয়েবসাইটে প্রবেশের সুযোগ মেলে, তখন হাজার হাজার সমর্থকের মতো বিবিসিকেও পড়তে হয় কারিগরি জটিলতায়।
শুরুতেই যাঁরা লগইন করেছিলেন, তাঁদের ভুল করে ‘পিএমএ টিকিট’ (প্লে-অফ জয়ী দলের সমর্থকদের জন্য সংরক্ষিত) দেওয়া হয়। সেখানে ঢোকার পর দেখা যায়, একটি কোড চাওয়া হচ্ছে। সমর্থকেরা ভুল বুঝতে পারলেও ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। তাঁদের আবার নতুন করে লাইনের শেষে দাঁড়াতে হয়। এর ফলে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর টিকিট পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় অনেকেরই।
ফিফা এই ভুলের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি। তবে তারা দাবি করেছে, রাত ১০টার মধ্যেই লিংকগুলো ঠিকঠাক কাজ করা শুরু করে। নতুন করে লাইনে দাঁড়ানোর পর টিকিটের মূল পাতায় পৌঁছাতে সময় লেগেছে ৬ ঘণ্টা ১৪ মিনিট।
গ্রুপ পর্বের ৭২টি ম্যাচের মধ্যে ৩৫টির টিকিট সেখানে দেখায়। তবে বিবিসির প্রবেশের সময় ইংল্যান্ড বা স্কটল্যান্ডের কোনো ম্যাচ কিংবা নকআউট পর্বের কোনো টিকিট বরাদ্দ ছিল না। আয়োজক দেশগুলো বাদে শীর্ষ ১০টি বাছাই দলের মধ্যে কেবল নেদারল্যান্ডসের একটি ম্যাচের টিকিট তখন অবশিষ্ট ছিল।
টিকেটের দাম শুরু হয়েছে ১৪০ ডলার থেকে, যা সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৮৫ ডলার পর্যন্ত দেখা গেছে। প্রদর্শিত টিকিটের গড় মূল্য ছিল ৩৫৮ ডলার। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর মধ্যে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৮৫ ডলার দেখা যায়, যদিও ৮৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামের তুলনায় এই টিকিটের পরিমাণ ছিল খুবই সামান্য।
করপোরেট হসপিটালিটি প্যাকেজের আওতায় ইংল্যান্ড–পানামা ম্যাচের একটি বিলাসবহুল স্যুইটের দাম দেখা গেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮০০ ডলার। ২৪টি টিকিটসহ খাবার ও পানীয়ের এই প্যাকেজে জনপ্রতি খরচ পড়ছে ৫ হাজার ২০০ ডলার।
ফিফা ইঙ্গিত দিয়েছে, কিক-অফের আগপর্যন্ত যেকোনো সময় নতুন টিকিট ছাড়া হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ১৩টি ম্যাচের টিকিট দেখা যায়, যার মধ্যে ৬টি ছিল কেবল হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের সঙ্গীদের জন্য। বিতর্কিত বিষয় হলো, ফিফা এবার হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের সহকারীদের জন্য কোনো বিনা মূল্যে টিকিটের ব্যবস্থা রাখেনি। তাঁদের পুরো দাম দিয়েই টিকিট কিনতে হচ্ছে এবং আসনগুলোও পাশাপাশি হবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এখনো সবচেয়ে বেশি টিকিট পড়ে আছে ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্র–প্যারাগুয়ে ম্যাচের। এই ম্যাচের ১ হাজার ৪০৬টি প্রথম ক্যাটাগরির টিকিট প্রতিটি ২ হাজার ৭৩৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কানাডা বনাম বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ম্যাচেরও ৮৪৬টি টিকিট অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে।
পুনর্বিক্রয়ের বাজারে দাম ১ কোটি টাকা
গত বৃহস্পতিবার ফিফার অফিশিয়াল ‘রিসেল’ বা পুনর্বিক্রয়ের প্ল্যাটফর্মটি আবারও উন্মুক্ত করা হয়। ধারণা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম এখানে চড়া হবে। মেক্সিকোর আইন অনুযায়ী, সেখানে মূল দামের চেয়ে বেশি দামে টিকিট পুনর্বিক্রয় করা নিষিদ্ধ।
ফিফার এই প্ল্যাটফর্মে যে কেউ টিকিট কেনার পর তা নিজের ইচ্ছেমতো দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করতে পারেন। তবে এগুলো মূলত বিক্রেতাদের চাওয়া দাম, যা নিশ্চিত করে না যে টিকিটগুলো ওই দামেই বিক্রি হচ্ছে।
প্ল্যাটফর্মটি চালু হওয়ার পরপরই বিবিসি স্পোর্ট দেখেছে, ফাইনাল ম্যাচের সবচেয়ে দামি টিকিটের দাম চাওয়া হচ্ছে ৮২ হাজার ৭৮০ ডলার। এমনকি সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দামও ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ডলার (প্রায় ৩৩ লাখ টাকা)।
ইংল্যান্ড–ক্রোয়েশিয়ার উদ্বোধনী ম্যাচের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। মাত্র ৬০ ডলারের একটি টিকিট সেখানে ১ হাজার ৪৯৯ ডলারে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। আবার যে টিকিটের প্রকৃত দাম ৪৪৫ ডলার, সেটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৬ হাজার ডলার। এই মূল্যের ওপর ফিফা ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষ থেকেই ১৫ শতাংশ ফি কেটে রাখবে।
‘ফিফার টিকিট বিক্রিতে আরও এক কলঙ্ক’
টিকিট বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া ফিফা যেভাবে সামলাচ্ছে, তা সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। টিকিটের কোনো সুনির্দিষ্ট মূল্যতালিকা না থাকা এবং বিক্রির আগপর্যাপ্ত তথ্য না দেওয়ায় ফুটবলপ্রেমীরা বিশ্বকাপের পরিকল্পনা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।
ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বস্থানীয় টমাস কনক্যানন বিবিসি স্পোর্টকে বলেন, ‘পুরো বিষয় যেন একটা বড় রহস্য। সমর্থকেরা আসলে বুঝতেই পারছে না তাঁরা এখন কী করবে।’ কনক্যানন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ফিফার টিকিট বিক্রির ইতিহাসে এটি আরেকটি বড় কলঙ্ক। টুর্নামেন্টজুড়েই এমনটা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
কনক্যাননের মতে, সব খরচ মিলিয়ে মাত্র কয়েকটি ম্যাচ দেখতেই একজন সমর্থকের কয়েক হাজার পাউন্ড থেকে শুরু করে ১০ হাজার পাউন্ডের (প্রায় ১৬ লাখ টাকা) বেশি খরচ হয়ে যেতে পারে। কনক্যানন বলেন, ‘জীবনে হয়তো একবারই বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ আসে। অনেকের জন্য এটি ছিল সেই সুযোগ, কিন্তু উচ্চমূল্যের কারণে তারা আর যেতে পারবে না।’
ভোজিনিয়া
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য পথচলায় বড় ভূমিকা রেখে রাতারাতি তারকা বনে গিয়েছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। তবে মাঠের সাফল্যের পর পাওয়া বিপুল জনপ্রিয়তা এখন তার কাছে অনেকটাই বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়ার পর ব্যক্তিগত জীবনের শান্তি ও স্বস্তি হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। এমনকি সুযোগ পেলে আগের সাধারণ জীবনেই ফিরে যেতে চান।
গোল ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ পারফরম্যান্সের পর ক্যারিয়ারে নতুন দরজা খুলে যায় ভোজিনিয়ার। চিলির ক্লাব কোলো কোলোতে খেলা এই গোলরক্ষক ‘দ্য অবজারভার’-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের বদলে যাওয়া জীবন নিয়ে কথা বলেছেন।
ভোজিনিয়ার কাছে খ্যাতির এই পরিবর্তন এতটাই বড় যে, বর্তমান জীবন ও আগের জীবনের মধ্যে বেছে নেয়ার সুযোগ পেলে তিনি পুরোনোটিই বেছে নেবেন। তার ভাষায়, বর্তমান জীবনের তুলনায় আগের জীবনই তার কাছে বেশি স্বস্তির ছিল।
বিশ্বকাপের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোজিনিয়ার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৬ হাজার। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সেটিই রাতারাতি বেড়ে যায় মিলিয়নের ঘরে।
তবে এই খ্যাতির সঙ্গে আসা বাড়তি মনোযোগ তার কাছে মোটেও স্বস্তির নয়। ভোজিনিয়া বলেন, আগের মতো ব্যক্তিগত পরিসর এখন আর নেই। বাইরে বের হলে কিংবা রেস্তোরাঁয় গেলেই ভক্তরা ছবি ও অটোগ্রাফের জন্য ছুটে আসেন। কেউ কেউ আবার অনুমতি না নিয়েই ভিডিও করতে শুরু করেন।
বিশ্বকাপের আগে যে স্বাভাবিক জীবন ছিল, সেটিই এখন সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে বলে জানিয়েছেন কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক। তার মতে, জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর জীবনে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তন এসেছে, সেটি হলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হারিয়ে যাওয়া।
ভোজিনিয়ার পরিবারও এর প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। কেপ ভার্দেতে থাকা তার বাবা-মায়ের বাড়িতে মাঝেমধ্যে সমর্থকেরা হাজির হয়ে যান। তারা কখনো ভোজিনিয়ার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে, আবার কখনো ছবি তুলতে চান। তার বাবা অবশ্য এসব পরিস্থিতি থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
এ নিয়ে ভোজিনিয়ার আক্ষেপ, তিনি দেশের বাইরে থাকায় বাবা-মায়ের পাশে থেকে পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না। ফলে সমর্থকদের সঙ্গে কীভাবে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করতে হবে, সেটি তার পরিবারকেই শিখে নিতে হচ্ছে।
সেমিফাইনালে ভারত-পাকিস্তান
বৃষ্টির কারণে খেলা ভেস্তে যাওয়ার কারণে ভারত ও পাকিস্তান এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত ফলাফলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত আফগানিস্তানের বিপক্ষে এবং পাকিস্তান হংকংয়ের বিপক্ষে পরবর্তী ধাপে উন্নীত হয়েছে। শেষ চারে ভারত খেলবে শ্রীলঙ্কা অথবা নেপালের বিপক্ষে এবং পাকিস্তান মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ অথবা মালয়েশিয়ার।
যদি ম্যাচগুলো পুরোপুরি ভেস্তে যায়, তবে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উন্নীত হবে।
ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকে এই টুর্নামেন্টের জন্য শীর্ষ বাছাই (সিডেড দল) হিসেবে রাখা হয়েছিল এবং তারা সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর আবহাওয়ার পূর্বাভাসও খুব একটা ভালো নয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইফুন ‘সুরিগে’ জাপানের দিকে ধেয়ে আসছে এবং এটি আইচি-নাগোয়া গেমসের বাকি অংশে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই টাইফুনের প্রভাবে আইচি এবং মধ্য জাপানের অন্যান্য অঞ্চলে তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত হবে।
এর আগে ভারতের নারী দল সফলভাবে তাদের টি-টোয়েন্টি স্বর্ণপদক ধরে রেখেছিল, কিন্তু পুরুষদের বিভাগটি আবহাওয়ার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি বৃষ্টি খেলা পণ্ড করতে থাকে, তবে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাপকাঠি।
হাংঝুতে অনুষ্ঠিত আগের এশিয়ান গেমসেও একই পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল; সেখানে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় ভারতকে স্বর্ণপদক এবং আফগানিস্তানকে রৌপ্যপদক দেওয়া হয়েছিল। এর অর্থ হলো, যদি বাকি সব ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যায় তবে ভারত তাদের স্বর্ণপদক ধরে রাখবে কারণ তারাই এই প্রতিযোগিতায় শীর্ষ র্যাঙ্কিংধারী দল।
নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে সকালে অনুষ্ঠেয় প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ছিল হংকং, চীন; কিন্তু অবিরাম বৃষ্টির কারণে টস হওয়ার আগেই ম্যাচটি বাতিল করতে বাধ্য হন কর্মকর্তারা। বিকেলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার কথা থাকলেও মাঠ ভেজা থাকায় টসের আগেই সেই ম্যাচটিও বাতিল করা হয়।
সোমবার নিশিনে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় ভারত ও পাকিস্তান ২০২৬ এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে- ভারত ১ নম্বর ও পাকিস্তান ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে- মাঠে না নেমেই দল দুটি সেমিফাইনালে উন্নীত হয়েছে। ফলে আফগানিস্তান ও হংকং, চীন টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আকস্মিক বন্যার শিকার হয়ে দুই দিন ধরে থাইল্যান্ডের একটি বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয় টেবিল টেনিস দলের পাঁচ খেলোয়াড় ও কোচ।
আটকা পড়া দলের সদস্যরা হলেন রামহিম লিয়ন বম, ইমরুল কায়েস ইমন, সোনাম সুলতানা সোমা, নওরিন সুলতানা মাহি, সামান্তা হোসেন তুসি এবং দলের কোচ ও ফেডারেশনের সদস্য মো. মোহসিনুল আলম ঝিনু।
এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের ম্যানেজার ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল হক সাদী এবং পুরুষ দলের শীর্ষ খেলোয়াড় মুহতাসিন আহমেদ হৃদয় ভিন্ন ফ্লাইটের টিকিট থাকায় সৌভাগ্যক্রমে দেশে ফিরতে পেরেছেন।
জানা গেছে, মূলত থাই এয়ারওয়েজের যাত্রীরাই এই পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে থাই এয়ারওয়েজ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আটকে পড়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
বাংলাদেশ দলের সদস্যদের এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এদিকে, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন খেলোয়াড়দেরকে ভিন্ন ফ্লাইটে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
কর্মচাঞ্চল্য শেষে যে বয়সে অধিকাংশ মানুষই অবসরের জীবন উপভোগ করেন, সেই বয়সেও তোশিসুকে কানাজাওয়া বডিবিল্ডিংয়ের মঞ্চে দাপটের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে জয়ী হচ্ছেন। ৯০ বছর বয়সী এই জাপানি বডিবিল্ডার সম্প্রতি ‘জাপান মাস্টার্স বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর ৮৫-ঊর্ধ্ব বিভাগে সাতজন প্রতিযোগিকে পরাজিত করে তার ১৯তম জাতীয় শিরোপা জয় করেছেন।
এই জয়ের ঠিক আগের দিনই তিনি ৯০তম জন্মদিন পালন করেছিলেন। হিরোশিমার বাসিন্দা কানাজাওয়া কয়েক দশক ধরে শরীরচর্চা ও বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার এবং সার্জিও অলিভার মতো এই খেলার কিংবদন্তিদের সঙ্গে একই মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
১৯৩৬ সালে জাপানের শিমানে প্রিফেকচারে জন্মগ্রহণকারী কানাজাওয়া শুরুতে সাঁতারের প্রতি মনোযোগী ছিলেন। হাইস্কুলে পড়ার সময় তিনি ১,৫০০ মিটার ফ্রিস্টাইল সাঁতারে দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছিলেন এবং অলিম্পিকে জাপানের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু পেশীর সমস্যার কারণে সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়। একপর্যায়ে তিনি বডিবিল্ডিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
তার এই সিদ্ধান্তটি পরিবারের সদস্যরা শুরুতে ভালোভাবে নেননি। বিট্রিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে কানাজাওয়া বলেন, আমার মা বিষয়টি নিয়ে কিছুটা সন্দিহান থাকলেও আমাকে সমর্থন দিয়েছিলেন, কিন্তু বাবা ছিলেন এর ঘোর বিরোধী। তিনি মনে করতেন তরুণদের চাকরি-বাকরি বা কাজ করা উচিত। আমি তাদের বলেছিলাম, আমি জাপানের সেরা হতে চাই, তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমার কয়েক বছর সময় লাগবে।
এরপর কানাজাওয়া নিজেকে পুরোপুরি প্রশিক্ষণে নিয়োজিত করেন; কখনও কখনও তিনি দিনে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরচর্চা করতেন। কোনো জটিল বা বিশেষ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করার পরিবর্তে তিনি মূলত মায়ের হাতের তৈরি সাধারণ খাবারই খেতেন।
২৪ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম ‘মিস্টার জাপান’ শিরোপা জয় করেন এবং বাবা-মাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। তিন বছর পর তিনি আবারও এই শিরোপাটি জিতে নেন। তার এই সাফল্য তাকে আন্তর্জাতিক বডিবিল্ডিংয়ের মঞ্চে নিয়ে যায়। ১৯৬৭ সালে মন্ট্রিলে আয়োজিত ‘মিস্টার ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় শোয়ার্জনেগার ও অলিভার পাশাপাশি কানাজাওয়াও অংশ নেন। সেই প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ স্থান অধিকার করেন এবং অলিভা বিজয়ী হন।
তবে কানাজাওয়া বডিবিল্ডিং থেকে চিরতরে সরে যাননি। ত্রিশের কোঠার মাঝামাঝি সময়ে তিনি প্রতিযোগিতামূলক বডিবিল্ডিং থেকে অবসর নিলেও ৫০ বছর বয়সে আবারও এই খেলায় ফিরে আসেন। দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় ভোগা স্ত্রীকে মনোবল জোগানোর আকাঙ্ক্ষা থেকেও তিনি প্রতিযোগিতায় ফিরে আসার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, আমার স্ত্রী সবসময়ই আমাকে সমর্থন জুগিয়েছেন, কিন্তু তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। অবসরের পর আমি নিজের শরীরের প্রতি অবহেলা করেছি তা উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম; তাই আমি তাকে দেখাতে চেয়েছিলাম যে অসাধ্য সাধন করাও সম্ভব।
প্রতিযোগিতায় ফেরার সাত বছর পর কানাজাওয়া একটি ‘মাস্টার্স বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ’ জয় করেন। ৮০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পরও তিনি ছয়টি ‘ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স’ শিরোপা জিতেছেন, যা তার কয়েক দশকব্যাপী দীর্ঘ ক্রীড়াজীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কানাজাওয়া তার দীর্ঘ কর্মক্ষম জীবনের বড় কৃতিত্ব দেন তার পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন পদ্ধতিকে। তিনি বলেন, আগে আমি দিনে ছয়বার প্রোটিন শেক পান করতাম, কিন্তু এখন তা কমিয়ে তিনবারে এনেছি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এত বেশি তরল খাবার হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বর্তমানে তিনি হিরোশিমায় অবস্থিত নিজের জিমে সপ্তাহে ছয় দিন, দিনে প্রায় দুই ঘণ্টা করে শরীরচর্চা করেন। পাশাপাশি তিনি শরীরকে সেরে ওঠার (রিকভারি) জন্য পর্যাপ্ত সময় দেন এবং রাতে প্রায় সাত ঘণ্টা করে ঘুমান। তিনি বলেন, ভারোত্তোলনের ব্যায়ামের ধকল কাটিয়ে উঠতে এখন আগের চেয়ে বেশি সময় লাগে, তাই ব্যায়ামের প্রতিটি সেটের মাঝে আমি যথাযথ বিশ্রাম নিই।
ছবি : সংগৃহীত
এশিয়ান গেমসের পুরুষ হকিতে শুরুতে হোঁচট খেলেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার পর এবার ইন্দোনেশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে লাল-সবুজের দল। আজ শনিবার জাপানের কাওয়াসাকি জুকো স্টেডিয়ামে পুল ‘এ’-র ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বাংলাদেশ।
১১তম মিনিটে আমিরুল ইসলামের গোলে এগিয়ে যায় তারা। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
তৃতীয় কোয়ার্টারে আরও দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। ৩১তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন আমিরুল। পাঁচ মিনিট পর রাসেল মাহমুদ জিমির গোলে ব্যবধান ৩-০ হয়। শেষ কোয়ার্টারে পেনাল্টি কর্নার থেকে একটি গোল শোধ করে ইন্দোনেশিয়া।
তবে আওউলিয়া আল আরদের সেই গোল কেবল ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
এশিয়ান গেমসে এটি বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়। প্রথম দুই ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ এবং জাপানের কাছে ৬-১ গোলে হারের পর শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিল তারা। চার ম্যাচে দুই জয় নিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ সোমবার, প্রতিপক্ষ ভারত। তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে ভারত।
গ্রুপের পরের ধাপে যেতে বাংলাদেশের জন্য ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ।
লিওনেল মেসি
লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ বলে কথা! আর্জেন্টিনায় উন্মাদনা তো তুঙ্গেই থাকবে। সেই উন্মাদনা এতটাই যে বিক্রি শুরুর পরপরই ক্রাশ করে টিকিট কেনার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। শেষ পর্যন্ত দুই ঘণ্টার কম সময়ে সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলো।
ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটির টিকিট বিক্রি শুরু হয় বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায়। টিকিট বিক্রির দায়িত্বে ছিল ‘ডেপোরটিক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বিক্রি শুরুর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ওয়েবসাইটে ঢুকে পড়েন লাখো সমর্থক। অতিরিক্ত চাপ সামলাতে পারেনি সাইটটি।
অনেকের সামনে ভেসে ওঠে, টিকিট কিনতে তাঁদের আরও এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় নানা অভিযোগ। অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এত দীর্ঘ ভার্চ্যুয়াল লাইন পেরিয়ে টিকিট পাওয়া কঠিন হবে!
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’-ও টিকিট কেনার এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। ভার্চ্যুয়াল কিউতে ঢোকার ৭০ মিনিট পরও তাদের সামনে একই বার্তা ছিল। সেখানে জানানো হচ্ছিল, টিকিট কেনার সুযোগ পেতে আরও এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হবে।
মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা প্রায় ৮৫ হাজার। তবে সব আসনের টিকিট বিক্রির জন্য ছাড়া হয়নি। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) স্পনসর ও সহযোগীদের জন্যও টিকিট বরাদ্দ রাখে। ফলে সাধারণ সমর্থকদের জন্য টিকিটের সংখ্যা ছিল আরও কম।
‘ওলে’ তাদের প্রতিবেদনে জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে এক সমর্থক এক্সে স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। তিনি ভার্চ্যুয়াল লাইন পেরিয়ে টিকিট কেনার সুযোগ পেয়েছিলেন। তখনো শুধু ওপরের সারির কিছু আসন বাকি ছিল। সেসব টিকিটের দাম ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার পেসো, বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৬ হাজার টাকা।
এর মাত্র ১৩ মিনিট পর, সন্ধ্যা ৭টা ২৮ মিনিটে, আরেক ব্যবহারকারী জানান, সব টিকিট শেষ। তখনো অনেক সমর্থক ওয়েবসাইটে এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার বার্তা দেখছিলেন।