ছবি : সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে টিকিটের প্রথম দফার উন্মুক্ত বিক্রি শুরু হয়েছে। সেখানে ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৯৯০ ডলার (প্রায় ১৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা) রাখছে ফিফা। পুনর্বিক্রয় বা ‘রিসেল’ বাজার বাদ দিয়ে শুধু বক্স অফিসের দাম বিবেচনা করলে ফুটবল ইতিহাসে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের ক্ষেত্রে এটাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম। অথচ আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর পক্ষ থেকে বিশ্বকাপের বিড–বুকে জানানো হয়েছিল, ফাইনালে টিকিটের সর্বোচ্চ দাম হবে ১ হাজার ৫৫০ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা)।
গত ডিসেম্বরে যখন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অফিশিয়াল সমর্থকগোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য টিকিট ছাড়া হয়েছিল, তখন সর্বোচ্চ দাম ছিল ৮ হাজার ৬৮০ ডলার (প্রায় ১০ লাখ ৬২ হাজার টাকা)। গত বুধবার যখন সাধারণ দর্শকদের জন্য টিকিট বিক্রি শুরু হয়, তখন সেই দাম আরও বেড়ে যায়। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে গ্যালারির সেরা আসনের টিকিটের দাম ছিল ১ হাজার ৬০৪ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা)।
২০২৬ বিশ্বকাপে টিকিটের প্রকৃত মূল্যকাঠামো বোঝা বেশ কঠিন। কারণ, ফিফা কখনোই তাদের পূর্ণাঙ্গ মূল্যতালিকা প্রকাশ করেনি। ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা মূলত ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি অনুসরণ করছে, যেখানে টিকিটের চাহিদা অনুযায়ী সময়ভেদে দাম পরিবর্তিত হয়।
টিকিটের এমন আকাশচুম্বী দামের কারণে গত বছরের শেষ দিকে অনেকেই একে ফুটবলভক্তদের সঙ্গে ‘চরম বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে বলেছিলেন। যদিও গত ডিসেম্বরে ফিফা মাত্র ৬০ ডলার মূল্যের কিছু স্বল্পমূল্যের টিকিটের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে বুধবার প্রথমবারের মতো টিকিটের উন্মুক্ত বিক্রি শুরু হওয়ার পর চড়া দামের বিষয়টি আবারও সামনে চলে এল।
ফাইনালে টিকিটের দাম বেড়েছে ৩৮ শতাংশ
আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। ফাইনাল আগামী ১৯ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
ফাইনালসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের টিকিটের দাম আসলে কত, তা নিশ্চিতভাবে বলা প্রায় অসম্ভব। কারণ, ফিফা কখনোই টিকিটের দামের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা কোন ক্যাটাগরিতে কতটি টিকিট আছে, সেই তথ্য প্রকাশ করেনি।
ফিফার টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইট ঘেঁটে বর্তমানে কী ধরনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে এবং সেগুলোর দাম কেমন, সে সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। তবে এর বাইরে আরও দামি কোনো টিকিট আছে কি না, কিংবা তুলনামূলক সস্তা ক্যাটাগরির টিকিট বেশি সংখ্যায় ছাড়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার কোনো উপায় নেই।
এখন পর্যন্ত যা দেখা গেছে, তাতে গত ডিসেম্বরের তুলনায় এবারের উন্মুক্ত বিক্রিতে ফাইনালের টিকিটের দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। প্রথম ক্যাটাগরিতে ১০ হাজার ৯৯০ ডলারের টিকিটের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যাটাগরিতেও দাম বেড়েছে।
দ্বিতীয় ক্যাটাগরি: টিকিটের দাম ৫ হাজার ৫৭৫ ডলার থেকে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৮০ ডলারে (প্রায় ৯ লাখ টাকা)।
তৃতীয় ক্যাটাগরি: টিকিটের দাম ৪ হাজার ১৮৫ ডলার থেকে ৩৮ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৭৮৫ ডলার (প্রায় ৭ লাখ টাকা)।
শেষ মুহূর্তের টিকিট বিক্রি শুরুর আগে ফিফা কোনো পূর্বঘোষণা দেয়নি যে কোন ম্যাচের টিকিট কত দামে পাওয়া যাবে। বিবিসি জানিয়েছে, যাঁরা টিকিট কিনতে পেরেছেন, তাঁরা দেখেছেন যে শীর্ষ দলগুলোর ম্যাচ এবং নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলোর টিকিটের দাম অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ফিফার অফিশিয়াল ‘রিসেল’ বা পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মটি আবার চালু হয়েছে। সেখানে টিকিটের দাম আরও আকাশচুম্বী। বিবিসি জানিয়েছে, একজন বিক্রেতা তাঁর একটি টিকিটের জন্য ৮২ হাজার ৭৮০ ডলার (প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা) দাবি করেন।
টিকিট পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও প্রযুক্তিগত বিভ্রাট
গত বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি টিকিটপ্রত্যাশী সাধারণ সমর্থকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল লাইনে যুক্ত হয়। বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া আটটার দিকে সেই লাইনে দাঁড়ানোর পর শুরুতে একটি ‘হোল্ডিং মেসেজ’ দেখা যায়। রাত ৯টায় সেটি পরিবর্তিত হয়ে একটি লাল বৃত্তে পরিণত হয় এবং লেখা ওঠে: ‘অলমোস্ট দেয়ার’ বা ‘প্রায় কাছাকাছি’।
রাত ১০টার দিকে পর্দায় একটি ক্ষণগণনা (কাউন্টডাউন) শুরু হয়। যখন দেখাচ্ছিল, লাইন আর মাত্র দুই মিনিটের, ঠিক তখনই সময় হঠাৎ বেড়ে ১৫ মিনিট হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত যখন ওয়েবসাইটে প্রবেশের সুযোগ মেলে, তখন হাজার হাজার সমর্থকের মতো বিবিসিকেও পড়তে হয় কারিগরি জটিলতায়।
শুরুতেই যাঁরা লগইন করেছিলেন, তাঁদের ভুল করে ‘পিএমএ টিকিট’ (প্লে-অফ জয়ী দলের সমর্থকদের জন্য সংরক্ষিত) দেওয়া হয়। সেখানে ঢোকার পর দেখা যায়, একটি কোড চাওয়া হচ্ছে। সমর্থকেরা ভুল বুঝতে পারলেও ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। তাঁদের আবার নতুন করে লাইনের শেষে দাঁড়াতে হয়। এর ফলে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর টিকিট পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় অনেকেরই।
ফিফা এই ভুলের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি। তবে তারা দাবি করেছে, রাত ১০টার মধ্যেই লিংকগুলো ঠিকঠাক কাজ করা শুরু করে। নতুন করে লাইনে দাঁড়ানোর পর টিকিটের মূল পাতায় পৌঁছাতে সময় লেগেছে ৬ ঘণ্টা ১৪ মিনিট।
গ্রুপ পর্বের ৭২টি ম্যাচের মধ্যে ৩৫টির টিকিট সেখানে দেখায়। তবে বিবিসির প্রবেশের সময় ইংল্যান্ড বা স্কটল্যান্ডের কোনো ম্যাচ কিংবা নকআউট পর্বের কোনো টিকিট বরাদ্দ ছিল না। আয়োজক দেশগুলো বাদে শীর্ষ ১০টি বাছাই দলের মধ্যে কেবল নেদারল্যান্ডসের একটি ম্যাচের টিকিট তখন অবশিষ্ট ছিল।
টিকেটের দাম শুরু হয়েছে ১৪০ ডলার থেকে, যা সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৮৫ ডলার পর্যন্ত দেখা গেছে। প্রদর্শিত টিকিটের গড় মূল্য ছিল ৩৫৮ ডলার। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর মধ্যে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৮৫ ডলার দেখা যায়, যদিও ৮৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামের তুলনায় এই টিকিটের পরিমাণ ছিল খুবই সামান্য।
করপোরেট হসপিটালিটি প্যাকেজের আওতায় ইংল্যান্ড–পানামা ম্যাচের একটি বিলাসবহুল স্যুইটের দাম দেখা গেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮০০ ডলার। ২৪টি টিকিটসহ খাবার ও পানীয়ের এই প্যাকেজে জনপ্রতি খরচ পড়ছে ৫ হাজার ২০০ ডলার।
ফিফা ইঙ্গিত দিয়েছে, কিক-অফের আগপর্যন্ত যেকোনো সময় নতুন টিকিট ছাড়া হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ১৩টি ম্যাচের টিকিট দেখা যায়, যার মধ্যে ৬টি ছিল কেবল হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের সঙ্গীদের জন্য। বিতর্কিত বিষয় হলো, ফিফা এবার হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের সহকারীদের জন্য কোনো বিনা মূল্যে টিকিটের ব্যবস্থা রাখেনি। তাঁদের পুরো দাম দিয়েই টিকিট কিনতে হচ্ছে এবং আসনগুলোও পাশাপাশি হবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এখনো সবচেয়ে বেশি টিকিট পড়ে আছে ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্র–প্যারাগুয়ে ম্যাচের। এই ম্যাচের ১ হাজার ৪০৬টি প্রথম ক্যাটাগরির টিকিট প্রতিটি ২ হাজার ৭৩৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কানাডা বনাম বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ম্যাচেরও ৮৪৬টি টিকিট অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে।
পুনর্বিক্রয়ের বাজারে দাম ১ কোটি টাকা
গত বৃহস্পতিবার ফিফার অফিশিয়াল ‘রিসেল’ বা পুনর্বিক্রয়ের প্ল্যাটফর্মটি আবারও উন্মুক্ত করা হয়। ধারণা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম এখানে চড়া হবে। মেক্সিকোর আইন অনুযায়ী, সেখানে মূল দামের চেয়ে বেশি দামে টিকিট পুনর্বিক্রয় করা নিষিদ্ধ।
ফিফার এই প্ল্যাটফর্মে যে কেউ টিকিট কেনার পর তা নিজের ইচ্ছেমতো দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করতে পারেন। তবে এগুলো মূলত বিক্রেতাদের চাওয়া দাম, যা নিশ্চিত করে না যে টিকিটগুলো ওই দামেই বিক্রি হচ্ছে।
প্ল্যাটফর্মটি চালু হওয়ার পরপরই বিবিসি স্পোর্ট দেখেছে, ফাইনাল ম্যাচের সবচেয়ে দামি টিকিটের দাম চাওয়া হচ্ছে ৮২ হাজার ৭৮০ ডলার। এমনকি সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দামও ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ডলার (প্রায় ৩৩ লাখ টাকা)।
ইংল্যান্ড–ক্রোয়েশিয়ার উদ্বোধনী ম্যাচের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। মাত্র ৬০ ডলারের একটি টিকিট সেখানে ১ হাজার ৪৯৯ ডলারে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। আবার যে টিকিটের প্রকৃত দাম ৪৪৫ ডলার, সেটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৬ হাজার ডলার। এই মূল্যের ওপর ফিফা ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষ থেকেই ১৫ শতাংশ ফি কেটে রাখবে।
‘ফিফার টিকিট বিক্রিতে আরও এক কলঙ্ক’
টিকিট বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া ফিফা যেভাবে সামলাচ্ছে, তা সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। টিকিটের কোনো সুনির্দিষ্ট মূল্যতালিকা না থাকা এবং বিক্রির আগপর্যাপ্ত তথ্য না দেওয়ায় ফুটবলপ্রেমীরা বিশ্বকাপের পরিকল্পনা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।
ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বস্থানীয় টমাস কনক্যানন বিবিসি স্পোর্টকে বলেন, ‘পুরো বিষয় যেন একটা বড় রহস্য। সমর্থকেরা আসলে বুঝতেই পারছে না তাঁরা এখন কী করবে।’ কনক্যানন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ফিফার টিকিট বিক্রির ইতিহাসে এটি আরেকটি বড় কলঙ্ক। টুর্নামেন্টজুড়েই এমনটা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
কনক্যাননের মতে, সব খরচ মিলিয়ে মাত্র কয়েকটি ম্যাচ দেখতেই একজন সমর্থকের কয়েক হাজার পাউন্ড থেকে শুরু করে ১০ হাজার পাউন্ডের (প্রায় ১৬ লাখ টাকা) বেশি খরচ হয়ে যেতে পারে। কনক্যানন বলেন, ‘জীবনে হয়তো একবারই বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ আসে। অনেকের জন্য এটি ছিল সেই সুযোগ, কিন্তু উচ্চমূল্যের কারণে তারা আর যেতে পারবে না।’
ছবি : সংগৃহীত
ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ যখন চালকের আসনে, তখনই মাঠে উত্তাপ ছড়াল মেহেদী হাসান মিরাজ ও মিচেল স্টার্ক। মিরাজের একটি সিঙ্গেল নেওয়ার সময় উইকেটের মাঝের অংশ দিয়ে দৌড়ানোকে কেন্দ্র করে স্টার্কের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি বেশি দূর গড়ানোর আগেই আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা হস্তক্ষেপ করে দুজনকে শান্ত করেন।
ঘটনাটি ঘটে বাংলাদেশের ইনিংসের ১০৩তম ওভারে, স্টার্কের ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে। স্টার্কের শর্ট অব লেংথের বল পয়েন্টের দিকে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নিতে দৌড়ান মিরাজ। বলের দিকে তাকিয়ে দৌড়াতে গিয়ে তিনি স্টার্কের সামনে চলে আসেন। এরপর স্টার্ককে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় উইকেটের মাঝের সুরক্ষিত অংশ দিয়েই দৌড়ান বাংলাদেশের ব্যাটার।
ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, বোলারের রানআপ ও ফলো-থ্রুর মতো ব্যাটারদেরও পিচের মাঝের সুরক্ষিত অংশ এড়িয়ে উইকেটের মধ্যে দৌড়ানোর কথা। বিষয়টি নজরে আসে আম্পায়ার ধর্মসেনার। রানটি সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি মিরাজের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে সতর্ক করেন। তখন মিরাজ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। বল দেখতে গিয়ে সামনে কী ছিল, তা খেয়াল করতে পারেননি বলে জানান তিনি। মিরাজ বলেন, ‘আমি দেখতে পারিনি।’
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন স্টার্ক। স্টাম্প মাইক্রোফোনে অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসারের কণ্ঠও শোনা যায়। মিরাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এটা আমার ফলো-থ্রু, এখন তোমার ফলো-থ্রু। উইকেট থেকে সরে যাও।’ এরপর নিজের বোলিং মার্কে ফিরে যাওয়ার সময়ও স্টার্ককে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি এখন আর বাংলাদেশে নেই।’
তবে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং মনে করেন, মিরাজ ইচ্ছা করে পিচের মাঝ দিয়ে দৌড়াননি। চ্যানেল সেভেনে ম্যাচ বিশ্লেষণের সময় তিনি মিরাজের পক্ষেই অবস্থান নেন। পন্টিং বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার মনে হয় না এটা ইচ্ছাকৃত ছিল।’ তার ব্যাখ্যা, মিরাজ যখন সামনে তাকান, তখন স্টার্ক তার পথে ছিলেন। ফলে দ্রুত দৌড়ানোর সময় অস্ট্রেলিয়ান পেসারকে পাশ কাটাতে গিয়ে তিনি পিচের মাঝের দিকটিই বেছে নেন। ধারাভাষ্যকার অ্যালিস্টার নিকোলসন অবশ্য মনে করেন, স্টার্কের এমন উত্তেজিত হওয়া দলের হতাশারই বহিঃপ্রকাশ।
দিনের খেলার চিত্রও অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার হতাশারই। প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করেছে। তানজিদের সেঞ্চুরি এবং শান্তর ৮৪ রানের পর শেষ দিকে মিরাজ ও হাসানের প্রতিরোধে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানে।
মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ এবং হাসান ৭৬ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। ফলে তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের লিড আরও বড় করার সুযোগ রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ডারউইনে রীতিমতো আগুন ঝরালেন বাংলাদেশি পেসাররা। হাসান মাহমুদ-এবাদত হোসেনদের তোপের মুখে দাঁড়াতেই পারেনি অজিরা। হাসান একাই শিকার করেছেন ৬ উইকেট। টাইগার পেসারদের এমন পারফরম্যান্সে প্রথম ইনিংসে দুইশ রানও করতে পারল না অস্ট্রেলিয়া। ডারউইন টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেছেন স্টিভেন স্মিথ। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ৫৫ রানে ৬ উইকেট শিকার করেছেন হাসান।
ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে নতুন বলের বাড়তি সুবিধা কাজে লাগান তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। বিশেষ করে হাসান দুর্দান্ত ছিলেন। দুই দিকেই সুইংয়ের সঙ্গে বাড়তি বাউন্সও আদায় করে নেন এই পেসার। তার করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ তুলেছিলেন ট্রাভিস হেড। তবে বল পড়ে নিরাপদ জায়গায়। ফলে সেই যাত্রায় বেঁচে যান এই ওপেনার।
নিয়মিত ভালো লাইন-লেংথে বোলিং করার পুরস্কার পেতে কিছুটা সময় লেগেছে বাংলাদেশের। প্রথম ব্রেকথ্রু পেতে অপেক্ষা করতে হয় ১২তম ওভার পর্যন্ত। চতুর্থ বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে করেন হাসান। সেখানে ড্রাইভ করতে গিয়ে এজ হয়ে উইকেটকিপার লিটনের গ্লাভসে জমা পড়ে বল। ২৩ রান করে এই ওপেনার ফিরলে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।
নিজের ফিরতি ওভারে আবারো আঘাত হানেন হাসান। এবার তার শিকার আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড। ১৪ তম ওভারে চতুর্থ বলে গুড লেংথ থেকে ইন সুইং করা বল ব্যাটের ভেতরের দিকের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। ফেরার আগে হেড করেন ২২ রান।
১৭তম ওভারে এবাদত হোসেনের বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ। তৃতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা তানজিদ তামিম সেটা রাখতে পারেননি। জায়গায় দাঁড়িয়েও বল হাতে জমাতে না পারায় মাথায় হাত দেয় পুরো বাংলাদেশ! তবে নিজের প্রথম শিকার ধরতে খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি এবাদতকে। ফিরতি ওভারেই মার্নাস ল্যাবুশেনকে ফেরান এই পেসার।
১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে গুড লেংথে করেছিলেন এবাদত। সেখানে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে আউট সাইড এজে বল যায় দ্বিতীয় স্লিপে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত আর কোনো ভুল করেননি। ২০ বল খেলে মাত্র এক রান করতে পেরেছেন ল্যাবুশেন।
দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অজিদের উদ্ধার করতে কাউন্টার অ্যাটাক বেছে নেন ক্যামেরুন গ্রিন। তাসকিনের করা ২২তম ওভারের প্রথম বলেই ডিপ স্কয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে গ্রিনের সেই আক্রমণাত্মক মনোভাবের সুযোগ নিতে ফাঁদ পাতে বাংলাদেশ। আর তাতেই পা দেন এই অজি ব্যাটার। ওভারের শেষ বলটি গুড লেংথে করেছিলেন তাসকিন। সেখানে অন সাইডে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে মুশফিকের হাতে ধরা পড়েন গ্রিন। সাজঘরে ফেরার আগে ১৩ বলে ১৩ রান করেন তিনি। তাতে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৪ রান তুলে লাঞ্চ বিরতিতে যায় অজিরা।
লাঞ্চের পর বাংলাদেশি পেসারদের সাবলীল ভাবেই খেলছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। এই সময়ে দ্রুত রানও তুলছিলেন এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাতে বড় জুটি গড়ার পথে হাঁটছিল অজিরা। ভয়ঙ্কর হতে যাওয়া সেই জুটি ভেঙেছেন এবাদত হোসেন।
৩৭তম ওভারের প্রথম বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে কিছুটা ভেতরে ঢুকেছিল। সেখানে পাঞ্চ করতে চেয়েছিলেন ক্যারি। কিন্তু ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল চলে যায় স্টাম্পে। ১৯ রান করে ক্যারি ফেরায় ভাঙে ৫৫ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি।
ক্যারি ফেরার পর উইকেটে আসা বো ওয়েবস্টারকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলে ১০ বলে ১২ রান করা ওয়েবস্টারকে সরাসরি বোল্ড করেন এই পেসার। এরপর প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককেও দ্রুত ফেরায় বাংলাদেশ। দুজনের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। ফলে চা বিরতির আগেই ৮ উইকেট হারায় অজিরা।
চা বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন স্মিথ। তাতে হিতে বিপরীত হয়। হাসানের খাটো লেংথের বল এগিয়ে এসে পুল করার চেষ্টা করলে টপ এজ হয়ে বল সোজা উপরে উঠে যায়। ৭১ রান করা স্মিথকে ফিরিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন হাসান। এরপর নাথান লায়নকেও ফেরান এই পেসার। তাতে ইনিংসে ৬ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন তিনি।
জাভি হার্নান্দেজ
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শেষেই একের পর এক নতুন কোচ পাচ্ছে দলগুলো। জার্মানিতে ইয়ুর্গেন ক্লপ, ফ্রান্সে জিনেদিন জিদান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন কদিন আগেই। সেই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলেন জাভি হার্নান্দেজ। নেদারল্যান্ডসের কোচ হয়ে মনে করালেন ৪৮ বছরের পুরোনো এক ঘটনা।
জাভিকে গতকাল চার বছরের চুক্তিতে নিয়েছে রয়্যাল ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কেএনভিবি)। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের কোচের দায়িত্বে থাকছেন তিনি। দীর্ঘ ৪৮ বছর পর ডাচ ফুটবল দল পেল কোনো বিদেশি কোচ। ১৯৭৮ সালে অস্ট্রিয়ান কোচ আর্নস্ট হ্যাপেল দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনিই প্রথম নন-ডাচ কোচ হিসেবে নেদারল্যান্ডসের দায়িত্ব নিচ্ছেন জাভি।
জাভি মূলত রোনাল্ড কোমানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর নেদারল্যান্ডসের কোচের দায়িত্ব ছাড়েন কোমান। কোচ হওয়ার পর জাভি বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। বার্সেলোনার একাডেমিতে বেড়ে ওঠা একজন খেলোয়াড় হিসেবে, যেখানে ইয়োহান ক্রুইফ ও রিনাস মিশেলসের মতো ব্যক্তিত্বদের দর্শনের গভীর প্রভাব ছিল। নেদারল্যান্ডসের ফুটবলের সঙ্গে এক ধরনের টান অনুভব করি।’
খেলোয়াড় হিসেবে জাভির ক্যাবিনেট শিরোপায় টইটুম্বুর। বার্সেলোনার হয়ে আটবার লা লিগা, চারবার চ্যাম্পিয়নস লিগ, ছয়বার স্প্যানিশ সুপার কাপ, তিনটি কোপা দেল রে, দুইবার করে সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনি। স্পেনের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপ জিতেছেন নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েই। ২০০৮ ও ২০১২ সালে ইউরোও জেতেন তিনি। এ ছাড়া কাতারের ক্লাব আল সাদের জার্সিতেও চারবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পান জাভি।
আল সাদ-বার্সেলোনাকেও কোচ হিসেবে শিরোপা জেতানো জাভি নেদারল্যান্ডসের কোচ হতে পেরে গর্ব অনুভব করছেন। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার বলেন, ‘আপনি বলতে পারেন, আমি আংশিকভাবে ডাচ ফুটবলেরই সন্তান। লুইস ফন গাল—যাঁর অধীনে বার্সেলোনায় আমার অভিষেক হয়েছিল—এবং ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের মতো অন্যান্য গ্রেট কোচরাও একজন খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে আমাকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।’
নেদারল্যান্ডসের কোচ হওয়ার সঙ্গে তিন বছরের আগের এক ঘটনারও মিল করিয়েছেন জাভি। ২০২১ সালে জাভি বার্সেলোনার কোচ হয়েছিলেন রোনাল্ড কোমানের পরিবর্তেই। তাঁর অধীনেই বার্সা ২০২২-২৩ মৌসুমে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছিল।
এবার ডাচ কোচ হয়ে চার বছর পর কোচিং ক্যারিয়ারে ফিরেছেন জাভি। ২০২৪ সালে বার্সেলোনার কোচের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন তিনি। নেদারল্যান্ডের কোচ হিসেবে তাঁর প্রথম ম্যাচ ২৪ সেপ্টেম্বর। সেদিন বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে শুরু হবে নেদারল্যান্ডস-জার্মানি ম্যাচ। এই ম্যাচে ডাচরা স্বাগতিক।
শমিত
বর্তমানে আমেরিকান ফুটবলের তৃতীয় স্তরে খেলা এই ক্লাবেই শমিতের যোগদানের খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। যদিও এখন পর্যন্ত শমিত বা ক্লাব কর্তৃপক্ষ কেউই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
তবে নেট দুনিয়ায় এই সম্ভাব্য ট্রান্সফার নিয়ে উত্তেজনার কমতি নেই। শমিতের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পথচলাটা বেশ বৈচিত্র্যময়। ক্যারিয়ারের শুরুতে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডার জাতীয় দলের জার্সিতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি।
তবে গত বছর বাবা-মায়ের মাতৃভূমির টানে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এই মিডফিল্ডার। লাল-সবুজের জার্সিতে সুযোগ পাওয়ার পর খুব দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন তিনি।
২০২৫ সালের জুনে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশের হয়ে তার অভিষেক হয়। অভিষেকের চার মাসের মাথায় হংকংয়ের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে লাল-সবুজের জার্সিতে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটি আদায় করে নেন তিনি। দেশের জার্সিতে খেলার পর থেকেই তার ক্যারিয়ার এবং পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের বাড়তি নজর কেড়েছে।
গত জানুয়ারিতে দীর্ঘ তিন বছরের বর্ণিল সম্পর্কের পর ক্যাভালরি এফসি ছাড়েন শমিত। তারপর থেকেই ফ্রি এজেন্ট বা মুক্ত খেলোয়াড় হিসেবে নতুন ক্লাবের সন্ধানে ছিলেন তিনি।
নিউ ইয়র্ক কসমসের মতো ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বখ্যাত ক্লাবে যদি তার এই যাত্রা সত্যি হয়, তবে তা শুধু শমিতের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেই নয়, বরং সামগ্রিক অর্থে বাংলাদেশি ফুটবলের ভাবমূর্তির জন্যও এক দারুণ প্রাপ্তি হবে।
পেলের স্মৃতিধন্য আঙিনায় লাল-সবুজের জার্সির এই কান্ডারী শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নাম লেখান কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।
রোনালদো ও জর্জিনা
বিয়ের ফুল ফুটল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ কিংবদন্তি এখন বিবাহিত। কয়েক দিন ধরেই রোনালদোর বিয়ের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। গতকাল মঙ্গলবার সেটাই সত্যি হলো। পর্তুগালের সৈকত শহর কাসকাইসে এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজকে বিয়ে করেছেন রোনালদো। বাগ্দানের ঘোষণা দেওয়ার ঠিক এক বছর পর তাঁরা বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন।
রোনালদোর বিয়ের খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর প্রতিনিধিরা। এর মধ্য দিয়ে জর্জিনা ও রোনালদোর দীর্ঘ এক দশকের প্রেম পূর্ণতা পেল। রোনালদোর জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা ব্রান্সউইক গ্রুপ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, সম্পূর্ণ ‘ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া’ এই অনুষ্ঠানে দম্পতির পাঁচ সন্তান উপস্থিত ছিল।
বাংলাদেশ সময় গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করেন রোনালদো। জর্জিনার হাতের ওপর তাঁর হাত, দুজনের অনামিকায় আংটি। ক্যাপশনে ‘সি’ ও ‘জি’ দুটি শব্দের মাঝে ভালোবাসার একটি ইমো। সমর্থকেরা তাতেই যা বোঝার বুঝে নেন।
রোনালদোর বাগ্দত্তা হওয়ার খবর গত বছর ১১ আগস্ট ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে জানান জর্জিনা। অনামিকায় বেশ বড়সড় একটি আংটি পরে রোনালদোর হাতের ওপর হাত রাখার ছবি পোস্ট করেন। ঠিক এক বছরের মাথায় উল্টে গেল হাতের ওপর হাত রাখার ছবিটি—এখন জর্জিনার হাতের ওপর রোনালদোর ভরসা ও ভালোবাসামাখা হাতখানি। আইনগতভাবে দুজনে এখন স্বামী-স্ত্রী।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমগুলোয় গুঞ্জন ছিল, লিসবনের বাইরে সিনত্রা বা আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দ্বীপ মাদেইরায় রোনালদোর জন্মশহরে এ বিয়ে হতে পারে। মাদেইরার ফুনশালের এক গির্জায় বিয়ে হচ্ছে—এমন খবর চাউর হওয়ার পর সেই গির্জার সামনে শত শত মানুষ ভিড় করেন। কিন্তু পরে দেখা গেল বর-কনে এলেও তাঁরা রোনালদো ও জর্জিনা নন!
গির্জাটির কর্তৃপক্ষ আগেই এএফপিকে জানিয়েছিল, রোনালদোর বিয়ের অনুষ্ঠান সেখানে নির্ধারিত নেই। তবে এমন একটি আয়োজন করতে পারা তাদের জন্য ‘সম্মানের’ হতো বলেও জানায় তারা। শেষ পর্যন্ত লিসবন থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে সৈকত শহর কাসকাইসকে বিয়ের ভেন্যু হিসেবে বেছে নিলেন রোনালদো-জর্জিনা। সেখানে তাঁদের একটি ভিলা রয়েছে।
৩২ বছর বয়সী জর্জিনার জন্ম আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে। ২০১৬ সালে মাদ্রিদে গুচির একটি শোরুমে জর্জিনা বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করার সময় দুজনের মধ্যে পরিচয় থেকে প্রণয়ের সূত্রপাত। জর্জিনার ভাষায় সেটি ছিল ‘প্রথম দেখাতেই প্রেম’।
২০২৫ সালে ভোগ অ্যারাবিয়া সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জর্জিনা জানান, রোনালদোর সান্নিধ্যে আসার পর তাঁর মনে হয়েছিল, ‘আমরা একে অপরকে চিরকাল ধরে চিনি।’ ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ফিফার বর্ষসেরা ‘দ্য বেস্ট ফিফা ফুটবল অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে দুজন একসঙ্গে জনসমক্ষে হাজির হন প্রথমবারের মতো। সে বছরই মে মাসে ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে জর্জিনার সঙ্গে মন দেওয়া-নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান রোনালদো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জুটির অনুসারীর সংখ্যা ৭৫ কোটির বেশি। ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে তাঁরা বিশ্বের অন্যতম পরিচিত তারকা জুটি। ফ্যাশন ব্র্যান্ড, হোটেল চেইনসহ বিভিন্ন খাতে তাঁদের বিনিয়োগের পোর্টফোলিও রয়েছে।
রোনালদোর বড় ছেলের নাম ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র। ২০১০ সালে জন্ম নেওয়া জুনিয়রের মায়ের পরিচয় পর্তুগিজ কিংবদন্তি কখনো প্রকাশ করেননি। ২০১৭ সালের জুনে সারোগেটের মাধ্যমে ইভা মারিয়া ও মাতেওয়ের বাবা হন আল নাসরের এই তারকা। পাঁচ মাস পর তাঁর প্রেমিকা জর্জিনার কোল আলো করে জন্ম নেয় অ্যালানা মার্টিনা। ২০২২ সালে জর্জিনার গর্ভেই জন্মায় দুই যমজ সন্তান বেলা ও অ্যাঞ্জেল। তবে জন্মের কিছুক্ষণ পরেই মারা যায় অ্যাঞ্জেল।
পেশাদার ক্যারিয়ারে ৯৭৬ গোল করেছেন রোনালদো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাসের হয়ে মাঠ মাতানোর পর এখন খেলছেন সৌদি প্রো লিগের দল আল নাসরে। এই পথে জিতেছেন পাঁচটি ব্যালন ডি’অর। পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পাশাপাশি ইতালি, স্পেন ও ইংল্যান্ডে জিতেছেন লিগ শিরোপা। পর্তুগালের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও গোলের রেকর্ডও রোনালদোর।
মেসি ও তার বাবা। ছবি: সংগৃহীত
লিওনেল মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসি আর নেই, এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে বেশ কিছু গণমাধ্যমে। যেখানে বেশিরভাগই সূত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়েকে। সংবাদ মাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসি শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে রোজারিও শহরের একটি ক্লিনিকে মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।
তবে খবরটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি। লিওনেল মেসি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে হোর্হে মেসির মৃত্যুর বিষয়ে কোনো বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ইনফোবায়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী খবরটি সামনে এলেও, এটিকে এখনই নিশ্চিত মৃত্যু সংবাদ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এর আগে ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালেও হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া সেই গুঞ্জনের পর মেসির পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছিল। ফলে হোর্হে মেসিকে ঘিরে নতুন করে একই ধরনের খবর সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে সংশয়।
এবার অবশ্য আর্জেন্টিনার অন্যতম পরিচিত সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ে হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর রোজারিওর একটি ক্লিনিকে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মেসি পরিবার বা সংশ্লিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে হোর্হের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবা হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ছেলের এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মেসি যখন কিশোর বয়সে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে খেলতেন, তখন তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হোর্হে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পরবর্তীতে মেসির ইউরোপযাত্রার সময়ও ছেলের সঙ্গে বার্সেলোনায় যান হোর্হে। মেসির ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের নানা সিদ্ধান্ত ও পেশাগত দায়িত্ব সামলানোর ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান ব্যক্তি।
হোর্হে মেসি ও সেলিয়া কুচিত্তিনির চার সন্তানের মধ্যে লিওনেল ছাড়াও রয়েছেন রদ্রিগো, মাতিয়াস ও মারিয়া সোল। ছেলের বিশ্বজোড়া খ্যাতির আড়ালে থাকা হোর্হে খুব বেশি গণমাধ্যমে আসতেন না। বিভিন্ন সময়ে দেয়া অল্প কিছু সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে করা পোস্টের মাধ্যমেই তাকে দেখা গেছে।
বিশ্বকাপের সময়ও মেসির পরিবারের সদস্যদের প্রায়ই গ্যালারিতে দেখা গেছে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে মেসির পরিবারের উপস্থিতি নিয়ে কিছুটা ভিন্নতা চোখে পড়ে। স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও সন্তানদের দেখা গেলেও জর্জের উপস্থিতি তেমনভাবে সামনে আসেনি।
এমন পরিস্থিতিতেই নতুন করে তার মৃত্যুর খবর সামনে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। তবে আগেরবারও একই ধরনের গুজব ছড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবারও সতর্ক থাকা জরুরি। আপাতত হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবরের সূত্র হিসেবে রয়েছে ইনফোবায়ের প্রতিবেদন। মেসি পরিবার বা সংশ্লিষ্ট কোনো নির্ভরযোগ্য আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে নিশ্চিত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
🕊️ FALLECIÓ JORGE MESSI, PADRE Y REPRESENTANTE DE LIONEL
📝 Jorge Messi falleció a los 68 años en Rosario, tras atravesar una larga enfermedad.
🕯️ Su fallecimiento se produjo anoche, a las 22:00, en la ciudad de Rosario.
🇦🇷 Desde nuestro medio enviamos nuestras fuerzas y… pic.twitter.com/pn8dB7YbFe