বিশ্বকাপ শুরুর আগে 'মেক্সিকান ওয়েভ' দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল বিশ্বকাপের অন্যতম সহ-আয়োজক মেক্সিকো। উদ্বোধনী ম্যাচেও 'ওয়েভ' দেখাল দলটি। তবে শুধু গ্যালারিতে নয়, মাঠের ফুটবলে মেক্সিকো দেখিয়েছে গতি আর আক্রমণের ঝড়। সেই ঝড়ে রীতিমতো উড়ে গিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বিখ্যাত আজতেকা স্টেডিয়ামে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা পেয়েছে স্বাগতিকরা। মেক্সিকোর হয়ে দুই অর্ধে গোল দুটি করেছেন জুলিয়ান কুইনোনেস ও রাউল জিমিনেস।
তবে মেক্সিকোর জয় ছাপিয়ে বেশি আলোচনায় লাল কার্ড। ম্যাচে তিনবার লাল কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে উদ্বোধনী ম্যাচে এটাই সর্বোচ্চ লাল কার্ডের রেকর্ড। এর দুটি দেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, অন্যটি মেক্সিকো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সরাসরি লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সিথোল। ২৭ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডারের ভুলে ম্যাচের প্রথম গোলটি হজম করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ৮ মিনিট আগে আরেকটি লাল কার্ড দেখেন থেম্বা জাওয়ানে। একটি লাল কার্ড দেখেছে মেক্সিকোও। ম্যাচের যোগ করা সময়ে খুলিসো মুদাউকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকো ডিফেন্ডার সিজার মন্তেস।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে মেক্সিকো। শুধু বলের দখলেই নয়, আক্রমণেও যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে জাভিয়ের আগুইয়েরের শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে ১৬টি শট নিয়েছে মেক্সিকো, যার ৪টি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার গোলমুখে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা পুরো ম্যাচে শট নিতে পেরেছে মোটে ৩টি।
ম্যাচে মেক্সিকো প্রথম সুযোগ পেয়েছিল ৫ম মিনিটে। ডানপ্রান্ত থেকে বাড়ানোর ইসরায়েল রেয়েসের বাড়ানো ক্রসে বক্সের ভেতর থেকে শট নিয়েছিলেন রাউল জিমিনেস। সেটি দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক উইলিয়ামস।
এ যাত্রায় না হলেও গোলের জন্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি মেক্সিকোকে। ৪ মিনিট পরে গ্যালারিতে উৎসবের মাত্রা বাড়িয়ে দেন কুইনোনেস। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় মেক্সিকো। এ গোলটিতে আফ্রিকার অবদানও কম নয়। দলটির গোলকিপার পাস দিয়েছিলেন সিথোলকে। সেই বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি দক্ষিণ আফ্রিকান মিডফিল্ডার। মেকিক্সোর ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লিরার চাপে পড়ে বল হারান সিথোল। অনেকটা সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়ে সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি কুইনোনেস। দারুণ এক শটে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম গোলের মালিক বনে যান ২৯ বছর বয়সী লেফট উইঙ্গার।
এই গোলের পর মেক্সিকো যেন আরও উজ্জ্বীবিত হয়ে ওঠে। ১৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া কুইনোনেসের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। একবার তাঁর শট পোস্টে লেগে ফেরত আসে। প্রথমার্ধের শেষ ৫ মিনিটেই অন্তত তিনটি সুযোগ তৈরি করে আগুইরের শিষ্যরা। এরপরও ১-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যেতে হয় মেক্সিকোকে।
দ্বিতীয়ার্ধেও দক্ষিণ আফ্রিকা রক্ষণে আক্রমণের ঢেউ বজায় রাখে মেক্সিকো। ৪৯ মিনিটে তেমনই এক আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে গুতিয়েরেজকে ফেলে দিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন সিথোল। ১০ জনের দলে পরিণত হয় আফ্রিকা।
এমনিতেই মেক্সিকোর আক্রমণ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিল দলটি, তারওপর একজন কম নিয়ে আরও বেশি বিপদে পড়ে। মাঠে একজন বেশি খেলোয়াড়ের সুযোগ নিয়ে ৬৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মেক্সিকো। রবার্তো আলভারাদোর ক্রসে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়ান রাউল জিমিনেস।
ম্যাচের শেষ দিকে আরও একটি লাল কার্ড দেখে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলটি আক্রমণে উঠলে মাটিতে পড়ে যান আলভারাদো। রেফারি শুরুতে খেলা চালিয়ে গেলেও পরে ভিএআর যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। মনিটরে ঘটনার রিপ্লে দেখে জাওয়ানেকে লালকার্ড দেখান তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেটের বড় হারটা মেনে নিতে পারছে না অস্ট্রেলিয়া। সিরিজে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে দ্বিতীয় টেস্টের আগে স্কোয়াডে পরিবর্তন এনেছে স্বাগতিকরা। স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন বাঁহাতি ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ড। তার জায়গায় দলে ফিরেছেন আরেক বাঁহাতি ব্যাটার ম্যাট রেনশ। এক বিবৃতিতে এই পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
দুই ম্যাচের সিরিজের জন্য শুরুতে ১৩ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে দলে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ডারউইনে দুই ইনিংসে ওয়েদারাল্ডের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ২৩ ও ০ রান।
অন্যদিকে রেনশ প্রায় সাড়ে তিন বছর পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে ফিরলেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন ৩০ বছর বয়সী এই ব্যাটার। কঠিন পরিস্থিতিতেই এবার আবার সাদা পোশাকে ফেরার সুযোগ পেলেন তিনি। স্কোয়াডে পরিবর্তন অবশ্য একটিই।
তবে একাদশেও পরিবর্তন আসতে পারে। দলে থাকলেও দ্বিতীয় টেস্টে মার্নাস লাবুশেনের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার পরিবর্তে জশ ইংলিসকে একাদশে দেখা যেতে পারে।
ডারউনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৪২৬ রানের বিশাল সংগ্রহের পর অস্ট্রেলিয়াকে দুই ইনিংসে ১৯৮ ও ২৮৪ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ।
ফলে মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য পেয়ে ৯ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এতে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী ২২ আগস্ট, ম্যাকাইয়ে। সিরিজ বাঁচাতে সেই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই অস্ট্রেলিয়ার।
দ্বিতীয় টেস্টের জন্য অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াড: ট্রাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স কেয়ারি, বাউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জশ হ্যাজেলউড, জশ ইংলিস ও স্কট বোল্যান্ড।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের স্মরণীয় জয় পাওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১৬ আগস্ট) এক ভিডিও কলে জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি দলের অসাধারণ পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন এবং সিরিজের পরবর্তী টেস্টের জন্য খেলোয়াড়দের শুভকামনা জানান।
এসময় তিনি সড়ক পথে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ দলের জয়ের খবর আসলে তিনি ভিডিও কলে টাইগারদের অবিনন্দন জানান।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ৯ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এই জয়ে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের পর তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি। ব্যাটে-বলে দুই দাপুটে পারফরম্যান্সের পর অস্ট্রেলিয়া সফরে আসার আগে জয়ের স্বপ্ন না দেখা বাংলাদেশ দল ও ভক্ত-সমর্থকরা আশা করতে শুরু করে ঐতিহাসিক কিছুর। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই। ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করার পর ২২৮ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ করে ৪২৬ রানে। তানজিদের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং ইতিহাস গড়তে মাঝপথে কাজটা সহজ করে দেন মেহেদী হাসান অলরাউন্ড নৈপুণ্যে। ৬৫ রানের অনবদ্য ইনিংসের পর বল হাতে ফাইফার। দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে হাজার রান ও ১০০ উইকেটেরও মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। ক্যামেরন গ্রিন ১০৪ রান করলেও মিরাজের তোপে ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে ৫৬ রানের বেশি লিড নিতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
ক্ষুদ্র এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হলেও জয় পেতে কষ্ট করতে হয়নি সফরকারীদের। জশ হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হয়ে তামিম সাজঘরে ফেরেন ডাক মেরে। দলীয় ৪ রানে বোল্ড হন তিনি।
কিন্তু সাদমান ইসলাম ২৫ ও মুমিনুল হক ৩০ রানে অপরাজিত থেকে ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন বীরের বেশে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এবং সবমিলিয়ে দ্বিতীয়
এর আগে, তৃতীয় দিন শেষে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ৬৭ রানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ দিনের শুরুটাও করে নড়বড়ে। ব্যাট হাতে ফিফটি করার পর বল হাতেও অজিদের চেপে ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে দিন শেষ করা অস্ট্রেলিয়া হারায় আরও ৩ উইকেট লাঞ্চের আগেই।
চতুর্থ দিন হলুদ জার্সিধারিদের সেই ৩ উইকেটই তুলে নেন মিরাজ। ৩০ রান করার অ্যালেক্স ক্যারিকে ফেরান দলীয় ১৭৮ রানে। পতন হয় পঞ্চম উইকেটের। ক্যাচ নেন লিটন কুমার দাস।
এরপর ৫ রান করা ওয়েবস্টার বোল্ড হলে ১৯৩ রানে ৬ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
সপ্তম উইকেটের পতন হয় অধিনাক প্যাট কামিন্স ৮ রান করে মিরাজের বলে সাদমানকে ক্যাচ দিলে। দলীয় ২০৭ রানে আউট হন কামিন্স।
লাঞ্চের পর তাসকিনের বলে উইকেটের পেছনে লিটন কুমার দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন স্টার্ক ১৮ রান করে। ২৫০ রানে ৮ উইকেট হারায় অজিরা।
স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি আদায় করেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ক্যামেরন গ্রিন। দলের বিপদের সময় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গ্রিন। টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি করেন ধীরসুস্থে খেলে ৪টি চার ও এক ছক্কায়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি তার ছিল তার প্রথম সেঞ্চুরি। কিন্তু ১০৪ রানে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করা হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। ফলে ৯ উইকেট হারিয়ে বড় লিডের আশা শেষ হয় অজিদের।
শেষ উইকেট হিসেবে নাথান লায়নকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। রিভিউ নিয়েও তাতে কোনো লাভ হয়নি তার। লায়নকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করেন মিরাজ।
অলআউট হওয়ার আগে ৫৬ রানের লিড জমা হয় স্বাগতিকদের বোর্ডে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জিততে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। যে লক্ষ্য সহজেই তাড়া করে ৯ উইকেটে জিতে নেয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এবং সবমিলিয়ে দ্বিতীয়।
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট আগামী ২২ আগস্ট শুরু হবে ম্যাকায়।
জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়
জাতীয় অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল আগেই। দুজনই নারী হিসেবেই খেলে আসছিলেন জাতীয় প্রতিযোগিতায়। কিন্তু আদতে তাঁরা পুরুষ, এমন অভিযোগও ওঠে। ১৯ বছর বয়সী কবিতা স্প্রিন্টার। ২৮ বছরের জান্নাত থ্রোয়ার।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি দুজনকেই পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করে তাঁদের সব পদক বাতিল ও আজীবন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আজ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জান্নাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট, কবিতা নৌবাহিনীর। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে লিঙ্গ নির্ধারণে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুরোধ জানায় অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের আগের কমিটি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। গত ১১ মে শেষ হয় তাঁদের কার্যক্রম। ১৬ মে মেডিক্যাল বোর্ড তাঁদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে জমা দেয়।
মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী জান্নাত ও কবিতার শরীরে নারীর স্বাভাবিক হরমোনের চেয়ে বেশি হরমোন ধরা পড়েছে।
রক্তে জান্নাত বেগমের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯ দশমিক ৬৬ এনমোল/লিটার, যা ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার (২ দশমিক ৫ এনমোল/ লিটার) প্রায় ৮ গুণ বেশি, কবিতা রায়ের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৬ দশমিক ৫০ এনমোল/লিটার, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে (২ দশমিক ৫ এনমোল/লিটার) সাড়ে ৬ গুণের বেশি।
ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের বিধিমালা অনুযায়ী নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ধরে ২ দশমিক ৫ এনমোল/লিটার-এর নিচে থাকা বাধ্যতামূলক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন বলেন, ‘চিকিৎসক বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত, ওরা দুজন নারী নয়, পুরুষ। তাই দুই খেলোয়াড়ের জাতীয় প্রতিযোগিতায় সব পদক বাতিল করা হয়েছে। জান্নাতের কয়েকটি সোনাসহ ৯টি পদক রয়েছে। কবিতার পদক গোটা চারেক। পদকগুলো বডিলি শিফট হয়ে যাবে এখন।’
আলী ইমাম বলেন, ‘তাদের দুজনকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী হিসেবে তারা আর খেলতে পারবে না।’
ছবি : সংগৃহীত
একদিকে ২২৮ রানের বিশাল লিড, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেটের পতন। ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে হিসাবটা বেশ পরিষ্কার; জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ, আর ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কা ঘিরে ধরেছে অস্ট্রেলিয়াকে। দিন শেষে স্বাগতিকরা এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে।
সিরিজের প্রথম টেস্টের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে দারুণ জবাব দেয় টাইগাররা। শান্ত, মিরাজ ও তানজিদদের ব্যাটে বাংলাদেশ থামে ৪২৬ রানে। তাতেই প্রথম ইনিংসে লিড দাঁড়ায় ২২৮ রান।
বড় সেই লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখার কাজটাও ভালোভাবেই করেছে বাংলাদেশের বোলাররা। তৃতীয় দিনের শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৬১/৪ অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে তারা।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে লড়াইটা ধরে রেখেছেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি। গ্রিন ৮৬ বলে ৪৩ এবং ক্যারি ৫০ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেছেন। শেষ বিকেলে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিই আপাতত অস্ট্রেলিয়াকে টিকিয়ে রেখেছে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা স্টিভ স্মিথ দ্বিতীয় ইনিংসে থামেন ৪৪ রানে। দুর্দান্ত ক্যাচে তাকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
বল হাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। দুই ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শুরুতেই ধাক্কা দেন তিনি। বাকি দুটি উইকেট গেছে মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ঝুলিতে।
এখন অস্ট্রেলিয়ার সামনে প্রথম লক্ষ্য; বাংলাদেশের লিড পেরোনো। আর বাংলাদেশের লক্ষ্য তারও আগে স্বাগতিকদের বাকি ছয় উইকেট তুলে নেওয়া। ডারউইনে তাই চতুর্থ দিনটা হতে পারে ইতিহাস লেখার দিন বাংলাদেশের।
জেফ বেজোস
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুলের সংখ্যালঘু অংশীদারত্ব কিনতে যাচ্ছে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের নেতৃত্বাধীন একটি বিনিয়োগকারী জোট। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ক্লাবটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ (এফএসজি) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন আনাদোলুর।
এফএসজি জানিয়েছে, ‘১৮৯২ হোল্ডিংস’ নামের একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে লিভারপুলের কিছু মালিকানা বিক্রির জন্য চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে। ১৮৯২ হোল্ডিংসের জোটে রয়েছেন অমিত ভাটিয়া, মিত্তল ফ্যামিলি ট্রাস্টস, কে৫ স্পোর্টস এবং ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো স্যাভেরিন ও তার স্ত্রী এলেইন স্যাভেরিনের পারিবারিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইই ক্যাপিটাল।
বেজোস এই বিনিয়োগে কে৫ স্পোর্টসের প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। চুক্তি সম্পন্ন হলে কোনো পেশাদার ক্রীড়া ক্লাবে এটিই হবে তার প্রথম বিনিয়োগ। তবে তিনি লিভারপুলের পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এফএসজি চুক্তির আর্থিক বিবরণ প্রকাশ করেনি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোটটি লিভারপুলের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনতে ১.৬৫ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করবে। এতে ক্লাবটির মোট মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৭.৪ বিলিয়ন ডলার)।
চুক্তি সম্পন্ন হলে অমিত ভাটিয়া লিভারপুলের সহসভাপতি হবেন। পাশাপাশি সম্প্রসারিত পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেবেন কে৫ স্পোর্টসের প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান বম এবং এলেইন স্যাভেরিন।
১৮৯২ হোল্ডিংসের পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভাটিয়া বলেন, লিভারপুলে বিনিয়োগ করতে পেরে তারা অত্যন্ত গর্বিত। এফএসজির সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করার সুযোগকে তিনি বড় সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা লিভারপুল ও এর নেতৃত্বের ওপর গভীরভাবে বিশ্বাস করি। আগামী বছরগুলোতে ক্লাবটির সাফল্য ধরে রাখতে আমরা সহযোগিতা করার অপেক্ষায় আছি।’
এর আগে অমিত ভাটিয়া কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের (কিউপিআর) শেয়ারহোল্ডার ও চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ভারতীয় ইস্পাত ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তলের জামাতা।
২০১০ সালে মাত্র ৩০ কোটি পাউন্ডে লিভারপুল কিনেছিল ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ। নতুন বিনিয়োগের পরও এফএসজিই ক্লাবটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা ও পরিচালনাগত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে।