ছবি : সংগৃহীত
আটলান্টায় সেমিফাইনালের রাতটা ছিল নিঃশ্বাসরুদ্ধ নাটক। শেষ পাঁচ মিনিটে দুই গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ স্পেন। জয়সূচক গোলটির শেষ পাসটি এসেছিল মেসির পা থেকে। ম্যাচ শেষে খেলায় না নামা জিওভান্নি লো সেলসো মেলে ধরেন একটি সাদা ব্যানার– ‘লাস মালভিনাস সন আর্হেন্তিনাস’, অর্থাৎ মালভিনাস আর্জেন্টিনার। ব্যানারটি প্রথমে উঠেছিল গ্যালারির সমর্থকদের হাতেই। বিজয়ের উল্লাসের মধ্যে হঠাৎ যেন জেগে উঠল ইতিহাসের এক পুরোনো ক্ষত।
এর কয়েক দিন আগেই নরওয়ের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। তাই ফাইনালের রাতে নিউ জার্সির গ্যালারিতে কৌতূহলোদ্দীপক এক দৃশ্য দেখা যেতে পারে। হলুদ জার্সির ভিড়ে অনেক ব্রাজিলীয় দর্শকের হাতে উঠতে পারে আকাশি-সাদা পতাকা। কেউ মেসির জন্য, কেউ দক্ষিণ আমেরিকার মর্যাদার জন্য, কেউ আবার ইউরোপীয় ফুটবলের দীর্ঘ আধিপত্যের বিপরীতে নিজেদের মহাদেশের প্রতিনিধিকে সমর্থন জানাতে।
এটি অবশ্য ব্রাজিলের সর্বজনীন অবস্থান নয়। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা আজও তীব্র। বহু ব্রাজিলীয় নিশ্চয়ই স্পেনকে সমর্থন করবেন। কিন্তু ব্রাজিলের একটি দৃশ্যমান অংশের আর্জেন্টিনা-প্রীতিকে নিছক মেসিপ্রেম বলে দেখলে দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাস, ভূগোল ও সামাজিক বাস্তবতার বড় একটি অংশ আড়ালে থেকে যায়।
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ফুটবলের দুই চিরপ্রতিপক্ষ, কিন্তু ভূগোলের দুই অপরিচিত রাষ্ট্র নয়। তাদের মধ্যে বারো শ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত। ইগুয়াসু নদী দুই দেশের সীমারেখা টেনেছে, আবার মানুষকেও যুক্ত করেছে। ফজ দো ইগুয়াসু, পুয়ের্তো ইগুয়াসু কিংবা মিসিওনেস অঞ্চলে সীমান্ত শুধু পাসপোর্টের রেখা নয়; তা বাজার, কর্মসংস্থান, পর্যটন, চিকিৎসা, আত্মীয়তা ও প্রেমের পথ।
দুই পাশে রাষ্ট্রভাষা আলাদা– ব্রাজিলে পর্তুগিজ, আর্জেন্টিনায় স্প্যানিশ। কিন্তু সীমান্তবাসীর মুখে জন্ম নিয়েছে মিশ্র ভাষা ‘পোর্তুনিয়ল’। এই ভাষা অভিধান থেকে তৈরি হয়নি। তৈরি হয়েছে বাজারে দরকষাকষি করতে গিয়ে, সীমান্ত পারাপারের বাসে গল্প জমাতে গিয়ে, মাঠে বন্ধুত্ব করতে গিয়ে, কখনও এক দেশের তরুণের সঙ্গে অন্য দেশের তরুণীর প্রেমে পড়ে।
ব্রাজিলীয়রা আর্জেন্টিনায় পড়তে যান, চিকিৎসা নেন, ব্যবসা করেন। আর্জেন্টাইনরা ব্রাজিলের সৈকত, নগর ও কর্মবাজারের দিকে ছুটে যান। হাজারো পরিবারে দুই দেশের নাগরিকত্ব, ভাষা ও স্মৃতি পাশাপাশি বাস করে। ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা গভীর হলেও তা সব সময় শত্রুতা নয়। বরং অনেকটা একই পরিবারের দুই প্রতিভাবান ভাইয়ের মতো, যারা পরস্পরকে হারাতে চায়, কিন্তু বাইরের কেউ পরিবারের একজনের সামনে দাঁড়ালে অন্যজনের ভেতরে জেগে ওঠে অদৃশ্য আত্মীয়তা।
এই সম্পর্কের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তিও শক্ত। সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ সন্দেহ পেছনে ফেলে দুই দেশ আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলে। পরে সেই আস্থা পথ তৈরি করে মেরকোসুরের। ১৯৯১ সালে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েকে নিয়ে গঠিত এই জোটের লক্ষ্য শুধু বাণিজ্য নয়; গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক সংহতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও।
আজও দুই দেশের অর্থনীতি একে অন্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ব্রাজিলের অটোমোবাইল শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনার গাড়ি ও যন্ত্রাংশের বাজার। আর্জেন্টিনার গম, জ্বালানি ও কৃষিপণ্যের জন্য ব্রাজিল গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা। আবার ব্রাজিলের শিল্পপণ্য ও বিনিয়োগ আর্জেন্টিনার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার বদলায়, মতাদর্শ বদলায়, কিন্তু নদীর স্রোত কিংবা পণ্যবাহী ট্রাকের পুরোনো পথ সহজে বদলায় না।
মালভিনাস বা ফকল্যান্ড প্রশ্নে ব্রাজিলের অবস্থান এই মহাদেশীয় আত্মীয়তার গভীরতম প্রমাণ। ১৯৮২ সালের যুদ্ধে আনুষ্ঠানিক নিরপেক্ষতার ভাষা ব্যবহার করলেও ব্রাজিলের রাজনৈতিক অবস্থান ছিল আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবির পক্ষে। ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সমর্থনের ইতিহাস ১৮৩৩ সাল পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যখন লন্ডনে নিযুক্ত ব্রাজিলীয় রাষ্ট্রদূতকে ব্রিটিশ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার প্রতিবাদের পক্ষে অবস্থান নিতে বলা হয়েছিল।
ফকল্যান্ড যুদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার বহু মানুষের কাছে শুধু আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের সংঘর্ষ ছিল না। সেটি ছিল ইউরোপীয় শক্তির বিরুদ্ধে এই মহাদেশের একটি দেশের ভূখণ্ডগত দাবির লড়াই। আর্জেন্টিনার তৎকালীন সামরিক জান্তার নিষ্ঠুরতা অবশ্যই সমালোচনার বিষয়। কিন্তু জান্তার অপরাধ আর দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন এক নয়। ব্রাজিল কূটনৈতিকভাবে এই পার্থক্য ধরে রেখেছে।
তাই লো সেলসোর হাতে মালভিনাসের ব্যানার নিছক একটি বিতর্কিত ফুটবল-মুহূর্ত নয়। এর ভেতরে আছে ১৯৮২ সালের যুদ্ধ, ম্যারাডোনার ১৯৮৬ সালের ইংল্যান্ডবধ এবং দক্ষিণ আমেরিকার দীর্ঘ স্মৃতি। ব্রাজিলীয়দের একাংশের আর্জেন্টিনা-সমর্থনের গভীরেও তাই ইউরোপের বিপরীতে মহাদেশীয় সংহতির একটি নীরব সুর কাজ করতে পারে।
ব্রাজিল ছিল পর্তুগালের উপনিবেশ, আর্জেন্টিনা স্পেনের। দুই সমাজই গড়ে উঠেছে উপনিবেশবাদ, আফ্রিকীয় দাসত্ব, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উচ্ছেদ ও পরবর্তী অভিবাসনের মধ্য দিয়ে। তাদের জাতিগত বিন্যাস এক নয়, কিন্তু উভয়ের জাতীয় পরিচয়ই মিশ্র। তাদের ঐক্য একই জাতিগোষ্ঠীতে নয়, বরং মিশ্রণের অভিজ্ঞতায়।
সাম্বা ও ট্যাঙ্গোর তাল আলাদা, কিন্তু দুটিই উঠে এসেছে বন্দরনগর, শ্রমজীবী মানুষ, অভিবাসন, প্রেম ও বিচ্ছেদের বেদনা থেকে। ব্রাজিলের ‘জোগো বনিতো’ আর আর্জেন্টিনার ‘লা নুয়েস্ত্রা’ও এক নয়, কিন্তু দুই দর্শনই ফুটবলকে নিছক শক্তি ও কৌশলের বাইরে নিয়ে গেছে। ইউরোপ ফুটবলকে শৃঙ্খলা দিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকা দিয়েছে ড্রিবল, কল্পনা, রাস্তার ফুটবল ও ব্যক্তিগত সৃষ্টিশীলতার সৌন্দর্য।
এই সমর্থনের সবচেয়ে মানবিক কারণ অবশ্য মেসি। পেলে ও ম্যারাডোনার পর দক্ষিণ আমেরিকা এমন একজন খেলোয়াড় পেয়েছে, যাকে জাতীয় সীমার মধ্যে আটকে রাখা যায় না। তিনি আর্জেন্টাইন, কিন্তু তাঁর প্রতিভার উত্তরাধিকার পুরো মহাদেশের। তাঁর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল বহু ব্রাজিলীয়র কাছেও একটি যুগের বিদায়।
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা একে অন্যকে হারিয়ে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায়। আবার বাইরের পৃথিবী দক্ষিণ আমেরিকাকে ছোট করে দেখলে তারা পরস্পরের সাফল্যের মধ্যেই নিজেদের মর্যাদা খুঁজে পায়। এ সম্পর্ক বন্ধুত্বের চেয়ে জটিল, শত্রুতার চেয়ে গভীর। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, ঈর্ষা আছে, ইতিহাসের ক্ষত আছে; আবার আছে সীমান্ত পেরোনো প্রেম, বাণিজ্য, একই নদীর জল এবং একই মহাদেশের স্মৃতি।
রোববার রাতে ব্রাজিলের যে দর্শক আকাশি-সাদা পতাকা হাতে তুলবেন, তিনি নিজের দেশকে ভুলে যাবেন না। তিনি শুধু স্বীকার করবেন, সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীটিই তাঁর সবচেয়ে কাছের আত্মীয়। হলুদ-সবুজ জার্সির নিচে হৃদয়টা তখনও থাকবে ব্রাজিলের, শুধু তার একটি অলিন্দে বাজতে থাকবে বুয়েনস এইরেসের ছন্দ।
নেইমার ও লিওনেল মেসি
বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের উদ্যাপনের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ করে বিতর্কে পড়েছেন নেইমার। ২০১৫ সালে লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে তার সেই উদ্যাপনের ভিডিওতে তিনজনকে মদ্যপ অবস্থায় নাচতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর নেইমারের এমন সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
নেইমারের নেটফ্লিক্স প্রামাণ্যচিত্র ‘নেইমার: দ্য পারফেক্ট ক্যাওস’-এ পুরোনো ভিডিও দেখার সময় ফুটেজটি সামনে আসে।
নিজের ফোনে সংরক্ষিত ভিডিও ঘাঁটতে ঘাঁটতেই সেই মুহূর্তটি আবার দেখেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সবাই বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি।বিশেষ করে মেসি সাধারণত পার্টি কিংবা অনুপযুক্ত আচরণসংক্রান্ত বিতর্কে জড়ান না বলে তার এমন ব্যক্তিগত মুহূর্ত প্রকাশ করাকে অনেকে ভালো সিদ্ধান্ত মনে করছেন না।
সমালোচকদের মতে, ভিডিওটি সে সময় প্রকাশ্যে এলে তিন ফুটবলারকেই কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হতো।
উদ্যাপনের সময় তাদের এমন অবস্থার কারণে বার্সেলোনার ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত বলে মনে করেন কেউ কেউ। অবশ্য ভিন্ন মতও রয়েছে। অনেক সমর্থকের মতে, একটি বড় শিরোপা জয়ের পর ফুটবলারদের উদ্যাপনের দৃশ্যকে অযথা বিতর্কিত করা হচ্ছে। তাদের যুক্তি, তিনজনই হয়তো একটু বেশি মদ্যপান করেছিলেন, কিন্তু তাতে তারা এমন কিছু করেননি যা নিয়ে এত সমালোচনার প্রয়োজন আছে।
তবে ভিডিওটির সমালোচকদের কাছে মূল প্রশ্ন মেসি, নেইমার ও সুয়ারেজের উদ্যাপনের ধরন নয়। বরং তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তটি জনসমক্ষে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েই আপত্তি। সেই কারণেই পুরোনো ভিডিওটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
নেইমার
প্রায় ভুলে যাওয়ার মতো একটা বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন নেইমার। প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলে ফিরলেও পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় প্রথম দুই ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। পরে ফিট হলেও নেইমার দুই ম্যাচে মাঠে ছিলেন মোটে ৩৭ মিনিট! তাতে তেমন কিছুই করতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এ ফরোয়ার্ড। ব্রাজিলও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে শেষ ষোলো থেকে।
বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর পোকার টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে আরও বেশি সমালোচিত হতে থাকেন নেইমার। তবে মাঠে ফিরেই সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ব্রাজিল তারকা। জোড়া গোল করে ক্লাব সান্তোসের হার ঠেকিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপের পর গতকাল শনিবার রাতে প্রথমবারের মতো মাঠে নামেন নেইমার। ব্রাজিলিয়ান সেরি আ-র ম্যাচে চাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ম্যাচের ৩৬ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন নেইমার। তাতে সান্তোস এগিয়ে যায় ১-০ গোলে।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ৫১ ও ৬২ মিনিটে দুই গোল ফেরত দিয়ে লিড নেয় চাপেকোয়েন্স। বহু চেষ্টা করেও ম্যাচে ফিরতে পারছিল না সান্তোস। ম্যাচটা নেইমাররা হেরে যাবেন বলেই মনে হচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পায় সান্তোস। নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট আগে নেওয়া ওই পেনাল্টি থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে সান্তোসকে এক পয়েন্ট এনে দেন নেইমার। ম্যাচটাও শেষ হয় ২-২ সমতায়।
এ ড্রতে লিগে খেলা ২০ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১৪ নম্বরে আছে সান্তোস। সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে (২০ নম্বরে) চাপেকোয়েন্স।
এদিকে গতকাল ম্যাচের প্রথম গোলের পর ব্যতিক্রমী উদযাপন করে নেইমার। সতীর্থ বারেলের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান করে বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত ফিনিশিং দেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। নেইমারের শট এতটাই নিখুঁত ছিল যে, চাপেকোয়েন্স গোলকিপার মাতেউস অরেলিওর কোনো সুযোগই পাননি।
গোলের পর নিজের স্বভাবজাত উদযাপনের পর কানে হাত দিয়ে সমালোচকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে থাকেন নেইমার। এরপর পোকার খেলার সঙ্গে সম্পর্কিত অঙ্গভঙ্গিও করেন।
সম্প্রতি নেইমারের পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নিয়ে যে সমালোচনা শুরু হয়েছিল, এই উদযাপনের মাধ্যমে নেইমার সেটাকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে উল্লেখ করেছে বেশ কয়েকটি ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম।
মেসির বিদায়ে আবেগাপ্লুত স্ত্রী আন্তোনেলা
একজন কিংবদন্তির বিদায়, গ্যালারিতে প্রায় ৮৫ হাজার মানুষের আবেগ আর মাঠের পাশে প্রিয় মানুষগুলো। আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ রাতটা তাই হয়ে উঠেছিল স্মরণীয় এক অধ্যায়। সেই রাতের প্রতিটি মুহূর্ত খুব কাছ থেকে দেখেছেন তার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও তিন সন্তান। বিদায়ের পরদিন মেসিকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আন্তোনেলার বার্তায় ফুটে উঠেছে গর্ব, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতার গভীর অনুভূতি।
বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলেছেন মেসি। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের সেই ম্যাচে দলের হয়ে একটি গোলও করেছেন তিনি। গ্যালারিতে বসে মেসির বিদায়ী মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন আন্তোনেলা ও তাদের তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও সিরো।
পরদিন ইনস্টাগ্রামে মেসির সঙ্গে নিজের ও পরিবারের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন আন্তোনেলা। সেখানেই স্বামীর বিদায়কে জীবনের বিশেষ এক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘এমন রাতও আছে, যেগুলো পুরো একটি জীবনকে ব্যাখ্যা করে। আর গত রাতটা ছিল তেমনই একটি রাত।’
মনুমেন্তালে মেসিকে ঘিরে দর্শকদের আবেগও ছুঁয়ে গেছে আন্তোনেলার হৃদয়। বছরের পর বছর আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির অবদানের প্রতিদান হিসেবেই মানুষের এই ভালোবাসাকে দেখছেন তিনি।
‘তোমাকে এত ভালোবাসায় ঘেরা অবস্থায় দেখা কতটা সুন্দর ছিল। এত মানুষ তোমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছিল এবং এত বছর ধরে তুমি তাদের যা দিয়েছো, তার সবটুকুই যেন তোমার কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছিল।’
মেসির প্রতি মানুষের এই ভালোবাসা এক দিনে তৈরি হয়নি এমনটাই মনে করেন আন্তোনেলা। তার মতে, মেসির ব্যক্তিত্ব, বিনয় এবং জাতীয় দলের জার্সির প্রতি নিবেদনই এই ভালোবাসা অর্জনের মূল কারণ।
‘এই ভালোবাসা তুমি অর্জন করেছো। তোমার ব্যক্তিত্ব, তোমার বিনয়, তোমার দায়বদ্ধতা এবং এই জার্সির জন্য সবসময় উজাড় করে দেওয়া তোমার হৃদয় দিয়ে তুমি এই ভালোবাসা গড়ে তুলেছো।’
মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পুরোটা সময়ই তার পাশে ছিলেন আন্তোনেলা। সেই দীর্ঘ যাত্রার কথা মনে করে নিজের গর্বের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
‘তোমার পাশে থেকে এই পথ পাড়ি দিতে পেরে কতটা গর্বিত আমি! আর তোমার জীবনের এত বড় একটি অধ্যায়ের এমনভাবে সমাপ্তি দেখতে পেরে অনুভূতিটা আরও গভীর।’
বার্তার শেষটায় মেসির কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আন্তোনেলা। পাশাপাশি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকার কথা।
‘আমাদের এত কিছু শেখানোর জন্য ধন্যবাদ! আমরা তোমাকে ভালোবাসি, লিও। সব সময় তোমার পাশে আছি।’
আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৮ ম্যাচে ১২৫ গোল ও ৬৯টি অ্যাসিস্ট নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন মেসি। তার বর্ণাঢ্য অধ্যায়ে রয়েছে একটি বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপা। আর সেই অধ্যায়ের শেষ ম্যাচটি দেখেছে মনুমেন্তালের প্রায় ৮৫ হাজার দর্শক। সঙ্গে ছিলেন মেসির সবচেয়ে কাছের মানুষগুলোর একজন আন্তোনেলাও।
ছবি : সংগৃহীত
লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিলেন রেফারি ফার্নান্দো ভেখার। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পর শেষ বাঁশি বাজিয়ে মেসির কাছে এগিয়ে যান তিনি। এরপর আর্জেন্টাইন অধিনায়কের হাতে তুলে দেন হলুদ ও লাল কার্ডের একটি সেট।
অবশ্য এগুলো কোনো শাস্তির কার্ড ছিল না। আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলোয়াড়দের অপরাধের জন্য যে হলুদ ও লাল কার্ড ব্যবহার করা হয়, বিদায়ী ম্যাচের স্মারক হিসেবে সেই কার্ড দুটির একটি বিশেষ সেটই মেসিকে উপহার দেন ভেখার। মেসিও সেগুলো স্মৃতি হিসেবে নিজের কাছে রেখে দেন।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পুরো মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের আলো ছিল মেসিকে ঘিরে। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে এমন উপহার দিয়ে তার বিদায়কে আরও বিশেষ করে তুললেন ম্যাচের রেফারি। বিদায়ী ম্যাচটিও মেসি রাঙিয়েছেন নিজের পারফরম্যান্সে। বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার তিন গোলেই সরাসরি অবদান ছিল তার। প্রথমে নিকোলাস ওতামেন্দির গোলের জোগান দেন কর্নার থেকে। এরপর নিকো পাজকে দিয়ে করান দ্বিতীয় গোল। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজেও গোল করেন তিনি।
ফলে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচে মেসির নামের পাশে থাকল ১ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট। বিদায়ী ম্যাচের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার হয়ে তার আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১২৬।
শুধু হলুদ-লাল কার্ডের সেটই নয়, ম্যাচে ব্যবহৃত বলটিও মেসির হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিদায়ী ম্যাচের স্মারক হিসেবে বল, বিশেষ কার্ডসহ একাধিক উপহারে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ রাতটি আরও স্মরণীয় হয়ে থাকল আর্জেন্টাইন মহাতারকার।
আরেকটি রাত, আরেকটি ম্যাচ-কিন্তু এবার গল্পটা অন্যরকম। যে পায়ে যুগের পর যুগ ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছেন লিওনেল মেসি, সেই পা আজ শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে স্পর্শ করছে মনুমেন্টালের ঘাস। আলবিসেলেস্তে জার্সিকে বিদায় জানাচ্ছেন মহাতারকা।
বিদায়ের সেই মুহূর্তের আগে মেসিকে বিশেষ সম্মানে স্মরণ করল দেশটির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিভার প্লেট। আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ক্লাবটির সম্মানসূচক সদস্যপদের কার্ড।
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে রিভার প্লেটের সভাপতি স্টেফানো ডি কার্লো নিজ হাতে মেসির হাতে তুলে দেন সম্মানসূচক সদস্যপদ কার্ড। সঙ্গে ছিল একটি স্মারক ক্রেস্ট এবং মেসির নাম খোদাই করা ক্লাবটির ঐতিহ্যবাহী ‘মানতো সাগ্রাদো’-পবিত্র জার্সি।
বিশ্ব ফুটবলে তার অসামান্য অবদান ও একের পর এক ঐতিহাসিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই এই বিশেষ সম্মান জানায় রিভার প্লেট।
ম্যাচ শেষে বিদায়ী বক্তব্যে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০ বছরের মহাকাব্যিক অধ্যায়ের শেষ মুহুর্তে নিজের আবেগ আর সামলাতে পারলেন না কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে ম্যাচ শেষে জাতীয় দল থেকে বিদায়ের লগ্নে মাইক্রোফোন হাতে লিওনেল মেসির বক্তব্য হৃদয় ছুয়েছে ভক্তদের।
বিদায়ী ম্যাচে মেসি বলেন, আমি শপথ করে বলছি, সারাজীবন এখানে ফিরে আসতে চাইব। কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলা একজন মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে সুন্দর বিষয়। আমি সারাজীবন এখানে থাকতে চাই।’
পরক্ষণেই বলেছেন, ‘কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, এটাই সঠিক সময়। শেষ বিশ্বকাপটা আমার জন্য অনেক বেশি কঠিন ছিল। আমরা আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম, খুব কাছেও গিয়েছিলাম। সত্যি বলতে, অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি। আমরা আমাদের সবটুকু দিয়েছিলাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা শারীরিক ও মানসিক, দুই দিক থেকেই আমাদের জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। সত্যি বলতে, আমরা কোনোমতে টিকে ছিলাম।’
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমার ভেতর দিয়ে আবেগের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। আমি নিশ্চিতভাবেই এমন অনেক কিছু ভুলে যাচ্ছি যা আমি বলতে চেয়েছিলাম, কারণ এটা আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন এক মুহূর্ত। সবার আগে যার কথা আমার মনে আসছে, তিনি হলেন আমার বাবা। এখানে খেলতে না পারাটা আমি খুব মিস করব। আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি এবং আমি একজন আর্জেন্টাইন হতে পেরে গর্বিত। আমি কৃতজ্ঞতা, গর্ব ও শান্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।
আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সির প্রতি ভালোবাসা জাতিয়ে বলেন, ‘এই জার্সিকে ধন্যবাদ। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে, এমনকি সবচেয়ে খারাপ মুহূর্তগুলোতেও আমি কখনও লড়াই করা থামাইনি। সামনে এগিয়ে যাওয়া বন্ধ করিনি, আমার যা কিছু ছিল তার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি এবং সবসময় এখানে থাকতে চেয়েছি। এখানে আর আসা এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে না খেলতে পারাটা আমাকে অনেক বেশি কষ্ট দেবে। যদি আমার হাতে থাকত, তাহলে আমি আমার সারা জীবন এখানে খেলে যেতে চাইতাম। কারণ আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আজ আমি অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি কথা বলছি, কারণ আমি স্রেফ চাই না যে এই মুহূর্তটি শেষ হয়ে যাক। কিন্তু আমার মনে হয়, এবার আমার অবসর নেওয়ার সময় চলে এসেছে। গত বিশ্বকাপে আমরা যা কিছুর মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তা আমাদের থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। আমরা আমাদের শেষ শক্তিটুকু নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিলাম কিন্তু আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছি, ঠিক যেভাবে আমরা সবসময় করে এসেছি। আমরা আবারও জেতার খুব কাছাকাছি ছিলাম এবং আমাদের নিয়ে যা কিছু বলা হয়েছিল, আসলে তেমন অদ্ভুত কিছুই ঘটেনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের অনেক শক্তি ক্ষয় করেছিল, কারণ আমরা সেখানে আমাদের একেবারে সবটুকু ঢেলে দিয়েছিলাম।
মেসি বলেন, ‘২০২২ সালে, আমাদের কেবল আমার নিজের স্বপ্নই নয়, বরং পুরো একটি দেশের স্বপ্ন পূরণ করার আকাঙ্ক্ষা ছিল- আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আর আমরা তা করে দেখিয়েছিলাম। আমরা বিশ্বকাপ জিতেছি, কোপা আমেরিকা জিতেছি, ফিনালিস্সিমা জিতেছি… এই জাতীয় দলের সঙ্গে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, এর সবকিছুর জন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ। তবে এই যাত্রাটা কেবল ২০২২ বা এই শেষ বিশ্বকাপকে নিয়ে নয়। আমরা শেষ পর্যন্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনেক আগে থেকে অসংখ্য সতীর্থ এই জার্সির জন্য আমার পাশাপাশি লড়াই করেছে। তাদের প্রত্যেকে আর্জেন্টিনার জন্য কতটা লড়াই করেছে এবং নিজেদের কতটা উজাড় করে দিয়েছে, তা নিয়ে কখনো কোনো সন্দেহ করিনি ‘
মহাতারকা এই ফুটবলার বলেন, ‘আমার সব সতীর্থর সঙ্গে মাঠ ভাগাভাগি করতে পারা এবং ফুটবলের বাইরে আমাদের জীবনের এত বড় একটি অংশ এক সঙ্গে কাটাতে পারাটা ছিল একটি সৌভাগ্য ও সম্মানের। প্রতিবার যখন আমরা মাঠে পা রেখেছি, আমি জানতাম আমরা যে কোনো দলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারি। কারণ, আমার পাশে এমন সব যোদ্ধা ছিল যারা মাঠে তাদের সবটুকু দিতে প্রস্তুত ছিল। সবচেয়ে বড় অর্জনগুলো লুফে নিতে হলে আপনার একটি শক্তিশালী দলের প্রয়োজন। আর সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোতেই আপনি সত্যিই আবিষ্কার করতে পারবেন যে, আপনার দলটি কেমন। এটাই অন্যতম বড় কারণ, যার জন্য আমরা যা কিছু অর্জন করেছি, তা করতে পেরেছিলাম। বিশেষ করে এই দলকে ধন্যবাদ। তারা আমাকে ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করেছে। তারা আমাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করেছে। আমি জনগণকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। আর্জেন্টিনার অনেক শহরে খেলার সৌভাগ্য আমার হয়েছে এবং আমি যেখানেই গিয়েছি, অবিশ্বাস্য রকমের ভালোবাসা পেয়েছি ‘
লড়াকু এই ফুটবলার আরও বলেন, এই এত বছর ধরে, পৃথিবীর যেখানেই আমরা খেলি, স্টেডিয়ামগুলো সবসময় আর্জেন্টাইনদের দিয়ে পরিপূর্ণ ছিল। ম্যাচ যেমনই হোক কিংবা দূরত্ব যতই হোক না কেন, মানুষ সেখানে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। আমরা জানি সেটা কতটা কঠিন। পৃথিবীর যেখানেই আমরা গিয়েছি, মনে হয়েছে আমরা নিজেদের ঘরের মাঠেই খেলছি, কারণ আমরা সবসময় আপনাদের সমর্থন অনুভব করতে পেরেছি। এই সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে। কঠিন মুহূর্ত আসবে, আর সেই মুহূর্তগুলোতেই দলকে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সমর্থন করতে হবে। আপনাদের শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ দলের প্রয়োজন, কারণ সবসময় এমন কিছু মানুষ থাকবে, যারা জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চায় এবং আমরা তাদের সেই আত্মতৃপ্তির সুযোগ দিতে পারি না। এখানে, এই স্টেডিয়ামে, আমি আমার জীবনের অন্যতম আনন্দের একটি দিন পার করেছি–বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ঘরের মাঠে খেলা আমাদের প্রথম ম্যাচটি। সেটি ছিল খুব সুন্দর। আর আজকের দিনটি হয়ত সবচেয়ে দুঃখের দিনগুলোর একটি, কারণ আমি এখানে দাঁড়িয়ে বিদায় নিচ্ছি। আমি আপনাদের সবাইকে খুব মিস করব, কিন্তু আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকব। আমি এই ছেলেদের এবং এরপর যারা আসবে, তাদের সবাইকে সমর্থন করে যাব।