ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৪৯ এএম

আটলান্টায় সেমিফাইনালের রাতটা ছিল নিঃশ্বাসরুদ্ধ নাটক। শেষ পাঁচ মিনিটে দুই গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ স্পেন। জয়সূচক গোলটির শেষ পাসটি এসেছিল মেসির পা থেকে। ম্যাচ শেষে খেলায় না নামা জিওভান্নি লো সেলসো মেলে ধরেন একটি সাদা ব্যানার– ‘লাস মালভিনাস সন আর্হেন্তিনাস’, অর্থাৎ মালভিনাস আর্জেন্টিনার। ব্যানারটি প্রথমে উঠেছিল গ্যালারির সমর্থকদের হাতেই। বিজয়ের উল্লাসের মধ্যে হঠাৎ যেন জেগে উঠল ইতিহাসের এক পুরোনো ক্ষত।


এর কয়েক দিন আগেই নরওয়ের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। তাই ফাইনালের রাতে নিউ জার্সির গ্যালারিতে কৌতূহলোদ্দীপক এক দৃশ্য দেখা যেতে পারে। হলুদ জার্সির ভিড়ে অনেক ব্রাজিলীয় দর্শকের হাতে উঠতে পারে আকাশি-সাদা পতাকা। কেউ মেসির জন্য, কেউ দক্ষিণ আমেরিকার মর্যাদার জন্য, কেউ আবার ইউরোপীয় ফুটবলের দীর্ঘ আধিপত্যের বিপরীতে নিজেদের মহাদেশের প্রতিনিধিকে সমর্থন জানাতে।


এটি অবশ্য ব্রাজিলের সর্বজনীন অবস্থান নয়। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা আজও তীব্র। বহু ব্রাজিলীয় নিশ্চয়ই স্পেনকে সমর্থন করবেন। কিন্তু ব্রাজিলের একটি দৃশ্যমান অংশের আর্জেন্টিনা-প্রীতিকে নিছক মেসিপ্রেম বলে দেখলে দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাস, ভূগোল ও সামাজিক বাস্তবতার বড় একটি অংশ আড়ালে থেকে যায়।


ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ফুটবলের দুই চিরপ্রতিপক্ষ, কিন্তু ভূগোলের দুই অপরিচিত রাষ্ট্র নয়। তাদের মধ্যে বারো শ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত। ইগুয়াসু নদী দুই দেশের সীমারেখা টেনেছে, আবার মানুষকেও যুক্ত করেছে। ফজ দো ইগুয়াসু, পুয়ের্তো ইগুয়াসু কিংবা মিসিওনেস অঞ্চলে সীমান্ত শুধু পাসপোর্টের রেখা নয়; তা বাজার, কর্মসংস্থান, পর্যটন, চিকিৎসা, আত্মীয়তা ও প্রেমের পথ।


দুই পাশে রাষ্ট্রভাষা আলাদা– ব্রাজিলে পর্তুগিজ, আর্জেন্টিনায় স্প্যানিশ। কিন্তু সীমান্তবাসীর মুখে জন্ম নিয়েছে মিশ্র ভাষা ‘পোর্তুনিয়ল’। এই ভাষা অভিধান থেকে তৈরি হয়নি। তৈরি হয়েছে বাজারে দরকষাকষি করতে গিয়ে, সীমান্ত পারাপারের বাসে গল্প জমাতে গিয়ে, মাঠে বন্ধুত্ব করতে গিয়ে, কখনও এক দেশের তরুণের সঙ্গে অন্য দেশের তরুণীর প্রেমে পড়ে।


ব্রাজিলীয়রা আর্জেন্টিনায় পড়তে যান, চিকিৎসা নেন, ব্যবসা করেন। আর্জেন্টাইনরা ব্রাজিলের সৈকত, নগর ও কর্মবাজারের দিকে ছুটে যান। হাজারো পরিবারে দুই দেশের নাগরিকত্ব, ভাষা ও স্মৃতি পাশাপাশি বাস করে। ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা গভীর হলেও তা সব সময় শত্রুতা নয়। বরং অনেকটা একই পরিবারের দুই প্রতিভাবান ভাইয়ের মতো, যারা পরস্পরকে হারাতে চায়, কিন্তু বাইরের কেউ পরিবারের একজনের সামনে দাঁড়ালে অন্যজনের ভেতরে জেগে ওঠে অদৃশ্য আত্মীয়তা।


এই সম্পর্কের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তিও শক্ত। সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ সন্দেহ পেছনে ফেলে দুই দেশ আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলে। পরে সেই আস্থা পথ তৈরি করে মেরকোসুরের। ১৯৯১ সালে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েকে নিয়ে গঠিত এই জোটের লক্ষ্য শুধু বাণিজ্য নয়; গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক সংহতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও।


আজও দুই দেশের অর্থনীতি একে অন্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ব্রাজিলের অটোমোবাইল শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনার গাড়ি ও যন্ত্রাংশের বাজার। আর্জেন্টিনার গম, জ্বালানি ও কৃষিপণ্যের জন্য ব্রাজিল গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা। আবার ব্রাজিলের শিল্পপণ্য ও বিনিয়োগ আর্জেন্টিনার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার বদলায়, মতাদর্শ বদলায়, কিন্তু নদীর স্রোত কিংবা পণ্যবাহী ট্রাকের পুরোনো পথ সহজে বদলায় না।


মালভিনাস বা ফকল্যান্ড প্রশ্নে ব্রাজিলের অবস্থান এই মহাদেশীয় আত্মীয়তার গভীরতম প্রমাণ। ১৯৮২ সালের যুদ্ধে আনুষ্ঠানিক নিরপেক্ষতার ভাষা ব্যবহার করলেও ব্রাজিলের রাজনৈতিক অবস্থান ছিল আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবির পক্ষে। ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সমর্থনের ইতিহাস ১৮৩৩ সাল পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যখন লন্ডনে নিযুক্ত ব্রাজিলীয় রাষ্ট্রদূতকে ব্রিটিশ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার প্রতিবাদের পক্ষে অবস্থান নিতে বলা হয়েছিল।


ফকল্যান্ড যুদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার বহু মানুষের কাছে শুধু আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের সংঘর্ষ ছিল না। সেটি ছিল ইউরোপীয় শক্তির বিরুদ্ধে এই মহাদেশের একটি দেশের ভূখণ্ডগত দাবির লড়াই। আর্জেন্টিনার তৎকালীন সামরিক জান্তার নিষ্ঠুরতা অবশ্যই সমালোচনার বিষয়। কিন্তু জান্তার অপরাধ আর দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন এক নয়। ব্রাজিল কূটনৈতিকভাবে এই পার্থক্য ধরে রেখেছে।


তাই লো সেলসোর হাতে মালভিনাসের ব্যানার নিছক একটি বিতর্কিত ফুটবল-মুহূর্ত নয়। এর ভেতরে আছে ১৯৮২ সালের যুদ্ধ, ম্যারাডোনার ১৯৮৬ সালের ইংল্যান্ডবধ এবং দক্ষিণ আমেরিকার দীর্ঘ স্মৃতি। ব্রাজিলীয়দের একাংশের আর্জেন্টিনা-সমর্থনের গভীরেও তাই ইউরোপের বিপরীতে মহাদেশীয় সংহতির একটি নীরব সুর কাজ করতে পারে।


ব্রাজিল ছিল পর্তুগালের উপনিবেশ, আর্জেন্টিনা স্পেনের। দুই সমাজই গড়ে উঠেছে উপনিবেশবাদ, আফ্রিকীয় দাসত্ব, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উচ্ছেদ ও পরবর্তী অভিবাসনের মধ্য দিয়ে। তাদের জাতিগত বিন্যাস এক নয়, কিন্তু উভয়ের জাতীয় পরিচয়ই মিশ্র। তাদের ঐক্য একই জাতিগোষ্ঠীতে নয়, বরং মিশ্রণের অভিজ্ঞতায়।


সাম্বা ও ট্যাঙ্গোর তাল আলাদা, কিন্তু দুটিই উঠে এসেছে বন্দরনগর, শ্রমজীবী মানুষ, অভিবাসন, প্রেম ও বিচ্ছেদের বেদনা থেকে। ব্রাজিলের ‘জোগো বনিতো’ আর আর্জেন্টিনার ‘লা নুয়েস্ত্রা’ও এক নয়, কিন্তু দুই দর্শনই ফুটবলকে নিছক শক্তি ও কৌশলের বাইরে নিয়ে গেছে। ইউরোপ ফুটবলকে শৃঙ্খলা দিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকা দিয়েছে ড্রিবল, কল্পনা, রাস্তার ফুটবল ও ব্যক্তিগত সৃষ্টিশীলতার সৌন্দর্য।


এই সমর্থনের সবচেয়ে মানবিক কারণ অবশ্য মেসি। পেলে ও ম্যারাডোনার পর দক্ষিণ আমেরিকা এমন একজন খেলোয়াড় পেয়েছে, যাকে জাতীয় সীমার মধ্যে আটকে রাখা যায় না। তিনি আর্জেন্টাইন, কিন্তু তাঁর প্রতিভার উত্তরাধিকার পুরো মহাদেশের। তাঁর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল বহু ব্রাজিলীয়র কাছেও একটি যুগের বিদায়।


ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা একে অন্যকে হারিয়ে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায়। আবার বাইরের পৃথিবী দক্ষিণ আমেরিকাকে ছোট করে দেখলে তারা পরস্পরের সাফল্যের মধ্যেই নিজেদের মর্যাদা খুঁজে পায়। এ সম্পর্ক বন্ধুত্বের চেয়ে জটিল, শত্রুতার চেয়ে গভীর। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, ঈর্ষা আছে, ইতিহাসের ক্ষত আছে; আবার আছে সীমান্ত পেরোনো প্রেম, বাণিজ্য, একই নদীর জল এবং একই মহাদেশের স্মৃতি।


রোববার রাতে ব্রাজিলের যে দর্শক আকাশি-সাদা পতাকা হাতে তুলবেন, তিনি নিজের দেশকে ভুলে যাবেন না। তিনি শুধু স্বীকার করবেন, সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীটিই তাঁর সবচেয়ে কাছের আত্মীয়। হলুদ-সবুজ জার্সির নিচে হৃদয়টা তখনও থাকবে ব্রাজিলের, শুধু তার একটি অলিন্দে বাজতে থাকবে বুয়েনস এইরেসের ছন্দ।



সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৪ এএম
  • আপডেট : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৪ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৪ এএম

জাতীয় অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল আগেই। দুজনই নারী হিসেবেই খেলে আসছিলেন জাতীয় প্রতিযোগিতায়। কিন্তু আদতে তাঁরা পুরুষ, এমন অভিযোগও ওঠে। ১৯ বছর বয়সী কবিতা স্প্রিন্টার। ২৮ বছরের জান্নাত থ্রোয়ার।


বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি দুজনকেই পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করে তাঁদের সব পদক বাতিল ও আজীবন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আজ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।


জান্নাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট, কবিতা নৌবাহিনীর। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে লিঙ্গ নির্ধারণে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুরোধ জানায় অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের আগের কমিটি।


বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। গত ১১ মে শেষ হয় তাঁদের কার্যক্রম। ১৬ মে মেডিক্যাল বোর্ড তাঁদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে জমা দেয়।


মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী জান্নাত ও কবিতার শরীরে নারীর স্বাভাবিক হরমোনের চেয়ে বেশি হরমোন ধরা পড়েছে।


রক্তে জান্নাত বেগমের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯ দশমিক ৬৬ এনমোল/লিটার, যা ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার (২ দশমিক ৫ এনমোল/ লিটার) প্রায় ৮ গুণ বেশি, কবিতা রায়ের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৬ দশমিক ৫০ এনমোল/লিটার, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে (২ দশমিক ৫ এনমোল/লিটার) সাড়ে ৬ গুণের বেশি।


ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের বিধিমালা অনুযায়ী নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ধরে ২ দশমিক ৫ এনমোল/লিটার-এর নিচে থাকা বাধ্যতামূলক।


এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন বলেন, ‘চিকিৎসক বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত, ওরা দুজন নারী নয়, পুরুষ। তাই দুই খেলোয়াড়ের জাতীয় প্রতিযোগিতায় সব পদক বাতিল করা হয়েছে। জান্নাতের কয়েকটি সোনাসহ ৯টি পদক রয়েছে। কবিতার পদক গোটা চারেক। পদকগুলো বডিলি শিফট হয়ে যাবে এখন।’ 


আলী ইমাম বলেন, ‘তাদের দুজনকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী হিসেবে তারা আর খেলতে পারবে না।’

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ পিএম

একদিকে ২২৮ রানের বিশাল লিড, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেটের পতন। ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে হিসাবটা বেশ পরিষ্কার; জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ, আর ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কা ঘিরে ধরেছে অস্ট্রেলিয়াকে। দিন শেষে স্বাগতিকরা এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে।


সিরিজের প্রথম টেস্টের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে দারুণ জবাব দেয় টাইগাররা। শান্ত, মিরাজ ও তানজিদদের ব্যাটে বাংলাদেশ থামে ৪২৬ রানে। তাতেই প্রথম ইনিংসে লিড দাঁড়ায় ২২৮ রান।


বড় সেই লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখার কাজটাও ভালোভাবেই করেছে বাংলাদেশের বোলাররা। তৃতীয় দিনের শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৬১/৪ অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে তারা।


অস্ট্রেলিয়ার হয়ে লড়াইটা ধরে রেখেছেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি। গ্রিন ৮৬ বলে ৪৩ এবং ক্যারি ৫০ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেছেন। শেষ বিকেলে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিই আপাতত অস্ট্রেলিয়াকে টিকিয়ে রেখেছে।


এর আগে প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা স্টিভ স্মিথ দ্বিতীয় ইনিংসে থামেন ৪৪ রানে। দুর্দান্ত ক্যাচে তাকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।


বল হাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। দুই ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শুরুতেই ধাক্কা দেন তিনি। বাকি দুটি উইকেট গেছে মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ঝুলিতে।


এখন অস্ট্রেলিয়ার সামনে প্রথম লক্ষ্য; বাংলাদেশের লিড পেরোনো। আর বাংলাদেশের লক্ষ্য তারও আগে স্বাগতিকদের বাকি ছয় উইকেট তুলে নেওয়া। ডারউইনে তাই চতুর্থ দিনটা হতে পারে ইতিহাস লেখার দিন বাংলাদেশের।

সর্বশেষ সব খবর

জেফ বেজোস

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৪ পিএম

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুলের সংখ্যালঘু অংশীদারত্ব কিনতে যাচ্ছে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের নেতৃত্বাধীন একটি বিনিয়োগকারী জোট। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ক্লাবটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ (এফএসজি) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন আনাদোলুর। 


এফএসজি জানিয়েছে, ‘১৮৯২ হোল্ডিংস’ নামের একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে লিভারপুলের কিছু মালিকানা বিক্রির জন্য চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে। ১৮৯২ হোল্ডিংসের জোটে রয়েছেন অমিত ভাটিয়া, মিত্তল ফ্যামিলি ট্রাস্টস, কে৫ স্পোর্টস এবং ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো স্যাভেরিন ও তার স্ত্রী এলেইন স্যাভেরিনের পারিবারিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইই ক্যাপিটাল।


বেজোস এই বিনিয়োগে কে৫ স্পোর্টসের প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। চুক্তি সম্পন্ন হলে কোনো পেশাদার ক্রীড়া ক্লাবে এটিই হবে তার প্রথম বিনিয়োগ। তবে তিনি লিভারপুলের পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।


এফএসজি চুক্তির আর্থিক বিবরণ প্রকাশ করেনি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোটটি লিভারপুলের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনতে ১.৬৫ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করবে। এতে ক্লাবটির মোট মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৭.৪ বিলিয়ন ডলার)।


চুক্তি সম্পন্ন হলে অমিত ভাটিয়া লিভারপুলের সহসভাপতি হবেন। পাশাপাশি সম্প্রসারিত পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেবেন কে৫ স্পোর্টসের প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান বম এবং এলেইন স্যাভেরিন।


১৮৯২ হোল্ডিংসের পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভাটিয়া বলেন, লিভারপুলে বিনিয়োগ করতে পেরে তারা অত্যন্ত গর্বিত। এফএসজির সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করার সুযোগকে তিনি বড় সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।


তিনি আরও বলেন, ‘আমরা লিভারপুল ও এর নেতৃত্বের ওপর গভীরভাবে বিশ্বাস করি। আগামী বছরগুলোতে ক্লাবটির সাফল্য ধরে রাখতে আমরা সহযোগিতা করার অপেক্ষায় আছি।’


এর আগে অমিত ভাটিয়া কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের (কিউপিআর) শেয়ারহোল্ডার ও চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ভারতীয় ইস্পাত ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তলের জামাতা।


২০১০ সালে মাত্র ৩০ কোটি পাউন্ডে লিভারপুল কিনেছিল ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ। নতুন বিনিয়োগের পরও এফএসজিই ক্লাবটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা ও পরিচালনাগত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০৫ এএম

লাঞ্চের পর ফিরে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। জশ হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ হন তিনি। ১৫৪ বলে ৬৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মিরাজ। মিরাজকে ফিরিয়ে টেস্টে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হ্যাজলউড। একই সঙ্গে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার। অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেটের ক্লাবে ঢুকেছেন তিনি।


এরপর শেষ উইকেট হিসেবে এবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসও গুটিয়ে দেন হ্যাজলউড। ১৩৭.৬ ওভারে শর্ট অব লেংথের বলে ব্যাট চালিয়ে অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ হন এবাদত। ১৮ বলে ৭ রান করেন তিনি।


বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রানে অলআউট হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে সফরকারীদের লিড দাঁড়িয়েছে ২২৮ রান। বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান তামিমের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ ও মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংস ছিল উল্লেখযোগ্য। এখন দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামবে অস্ট্রেলিয়া।


২১৯ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চে বাংলাদেশ


ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনও নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরাজের অপরাজিত ফিফটির সঙ্গে তাসকিনের ব্যাটিংয়ে লাঞ্চে যাওয়ার সময় ৮ উইকেটে ৪১৭ রান করেছে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে করা ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ২১৯ রানে।


দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। প্রথম সেশনেই ২ উইকেট হারালেও মিরাজের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে বড় লিডের পথে এগিয়ে যায় দল। হাসান মাহমুদকে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়ার পর ৯২ বলে ১৪ রান করে ফেরেন হাসান। জশ হ্যাজলউডের ফুল ও সোজা বল তার প্যাডে আঘাত করলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। এরপর তাইজুল ইসলাম ২৩ বলে ১৭ রান করে আউট হন। হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।


এরপরও এক প্রান্ত আগলে রাখেন মিরাজ। ১১৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। এর আগে দিনের শুরুতেই হ্যাজলউডের বলে এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আউট দেওয়া হলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান এই অলরাউন্ডার। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল।


তৃতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টা পেরিয়ে বাংলাদেশের লিড দুইশ ছাড়ায়। এরপর প্যাট কামিন্সের বলে চার মেরে দলকে ৪০০ রানের মাইলফলকে পৌঁছে দেন তাসকিন। পরের বলেই অবশ্য জীবন পান তিনি। স্কয়ার লেগে তার ক্যাচ নিতে পারেননি স্টিভ স্মিথ।


সেশনের শেষ দিকে ক্যামেরন গ্রিনের বাউন্সারে দারুণ এক শটে ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকান মিরাজ। লাঞ্চে যাওয়ার সময় ১১৭ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত তিনি। তার সঙ্গে ১২ রানে ব্যাট করছেন তাসকিন আহমেদ। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে ২৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান করেছে বাংলাদেশ।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪৪ পিএম

ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ যখন চালকের আসনে, তখনই মাঠে উত্তাপ ছড়াল মেহেদী হাসান মিরাজ ও মিচেল স্টার্ক। মিরাজের একটি সিঙ্গেল নেওয়ার সময় উইকেটের মাঝের অংশ দিয়ে দৌড়ানোকে কেন্দ্র করে স্টার্কের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি বেশি দূর গড়ানোর আগেই আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা হস্তক্ষেপ করে দুজনকে শান্ত করেন।


ঘটনাটি ঘটে বাংলাদেশের ইনিংসের ১০৩তম ওভারে, স্টার্কের ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে। স্টার্কের শর্ট অব লেংথের বল পয়েন্টের দিকে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নিতে দৌড়ান মিরাজ। বলের দিকে তাকিয়ে দৌড়াতে গিয়ে তিনি স্টার্কের সামনে চলে আসেন। এরপর স্টার্ককে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় উইকেটের মাঝের সুরক্ষিত অংশ দিয়েই দৌড়ান বাংলাদেশের ব্যাটার।


ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, বোলারের রানআপ ও ফলো-থ্রুর মতো ব্যাটারদেরও পিচের মাঝের সুরক্ষিত অংশ এড়িয়ে উইকেটের মধ্যে দৌড়ানোর কথা। বিষয়টি নজরে আসে আম্পায়ার ধর্মসেনার। রানটি সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি মিরাজের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে সতর্ক করেন। তখন মিরাজ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। বল দেখতে গিয়ে সামনে কী ছিল, তা খেয়াল করতে পারেননি বলে জানান তিনি। মিরাজ বলেন, ‘আমি দেখতে পারিনি।’


অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন স্টার্ক। স্টাম্প মাইক্রোফোনে অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসারের কণ্ঠও শোনা যায়। মিরাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এটা আমার ফলো-থ্রু, এখন তোমার ফলো-থ্রু। উইকেট থেকে সরে যাও।’ এরপর নিজের বোলিং মার্কে ফিরে যাওয়ার সময়ও স্টার্ককে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি এখন আর বাংলাদেশে নেই।’


তবে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং মনে করেন, মিরাজ ইচ্ছা করে পিচের মাঝ দিয়ে দৌড়াননি। চ্যানেল সেভেনে ম্যাচ বিশ্লেষণের সময় তিনি মিরাজের পক্ষেই অবস্থান নেন। পন্টিং বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার মনে হয় না এটা ইচ্ছাকৃত ছিল।’ তার ব্যাখ্যা, মিরাজ যখন সামনে তাকান, তখন স্টার্ক তার পথে ছিলেন। ফলে দ্রুত দৌড়ানোর সময় অস্ট্রেলিয়ান পেসারকে পাশ কাটাতে গিয়ে তিনি পিচের মাঝের দিকটিই বেছে নেন। ধারাভাষ্যকার অ্যালিস্টার নিকোলসন অবশ্য মনে করেন, স্টার্কের এমন উত্তেজিত হওয়া দলের হতাশারই বহিঃপ্রকাশ। 


দিনের খেলার চিত্রও অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার হতাশারই। প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করেছে। তানজিদের সেঞ্চুরি এবং শান্তর ৮৪ রানের পর শেষ দিকে মিরাজ ও হাসানের প্রতিরোধে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানে।


মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ এবং হাসান ৭৬ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। ফলে তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের লিড আরও বড় করার সুযোগ রয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৫ পিএম

ডারউইনে রীতিমতো আগুন ঝরালেন বাংলাদেশি পেসাররা। হাসান মাহমুদ-এবাদত হোসেনদের তোপের মুখে দাঁড়াতেই পারেনি অজিরা। হাসান একাই শিকার করেছেন ৬ উইকেট। টাইগার পেসারদের এমন পারফরম্যান্সে প্রথম ইনিংসে দুইশ রানও করতে পারল না অস্ট্রেলিয়া। ডারউইন টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেছেন স্টিভেন স্মিথ। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ৫৫ রানে ৬ উইকেট শিকার করেছেন হাসান।


ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে নতুন বলের বাড়তি সুবিধা কাজে লাগান তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। বিশেষ করে হাসান দুর্দান্ত ছিলেন। দুই দিকেই সুইংয়ের সঙ্গে বাড়তি বাউন্সও আদায় করে নেন এই পেসার। তার করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ তুলেছিলেন ট্রাভিস হেড। তবে বল পড়ে নিরাপদ জায়গায়। ফলে সেই যাত্রায় বেঁচে যান এই ওপেনার।


নিয়মিত ভালো লাইন-লেংথে বোলিং করার পুরস্কার পেতে কিছুটা সময় লেগেছে বাংলাদেশের। প্রথম ব্রেকথ্রু পেতে অপেক্ষা করতে হয় ১২তম ওভার পর্যন্ত। চতুর্থ বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে করেন হাসান। সেখানে ড্রাইভ করতে গিয়ে এজ হয়ে উইকেটকিপার লিটনের গ্লাভসে জমা পড়ে বল। ২৩ রান করে এই ওপেনার ফিরলে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।


নিজের ফিরতি ওভারে আবারো আঘাত হানেন হাসান। এবার তার শিকার আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড। ১৪ তম ওভারে চতুর্থ বলে গুড লেংথ থেকে ইন সুইং করা বল ব্যাটের ভেতরের দিকের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। ফেরার আগে হেড করেন ২২ রান।


১৭তম ওভারে এবাদত হোসেনের বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ। তৃতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা তানজিদ তামিম সেটা রাখতে পারেননি। জায়গায় দাঁড়িয়েও বল হাতে জমাতে না পারায় মাথায় হাত দেয় পুরো বাংলাদেশ! তবে নিজের প্রথম শিকার ধরতে খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি এবাদতকে। ফিরতি ওভারেই মার্নাস ল্যাবুশেনকে ফেরান এই পেসার।


১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে গুড লেংথে করেছিলেন এবাদত। সেখানে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে আউট সাইড এজে বল যায় দ্বিতীয় স্লিপে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত আর কোনো ভুল করেননি। ২০ বল খেলে মাত্র এক রান করতে পেরেছেন ল্যাবুশেন।


দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অজিদের উদ্ধার করতে কাউন্টার অ্যাটাক বেছে নেন ক্যামেরুন গ্রিন। তাসকিনের করা ২২তম ওভারের প্রথম বলেই ডিপ স্কয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে গ্রিনের সেই আক্রমণাত্মক মনোভাবের সুযোগ নিতে ফাঁদ পাতে বাংলাদেশ। আর তাতেই পা দেন এই অজি ব্যাটার। ওভারের শেষ বলটি গুড লেংথে করেছিলেন তাসকিন। সেখানে অন সাইডে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে মুশফিকের হাতে ধরা পড়েন গ্রিন। সাজঘরে ফেরার আগে ১৩ বলে ১৩ রান করেন তিনি। তাতে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৪ রান তুলে লাঞ্চ বিরতিতে যায় অজিরা।


লাঞ্চের পর বাংলাদেশি পেসারদের সাবলীল ভাবেই খেলছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। এই সময়ে দ্রুত রানও তুলছিলেন এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাতে বড় জুটি গড়ার পথে হাঁটছিল অজিরা। ভয়ঙ্কর হতে যাওয়া সেই জুটি ভেঙেছেন এবাদত হোসেন।


৩৭তম ওভারের প্রথম বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে কিছুটা ভেতরে ঢুকেছিল। সেখানে পাঞ্চ করতে চেয়েছিলেন ক্যারি। কিন্তু ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল চলে যায় স্টাম্পে। ১৯ রান করে ক্যারি ফেরায় ভাঙে ৫৫ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি।


ক্যারি ফেরার পর উইকেটে আসা বো ওয়েবস্টারকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলে ১০ বলে ১২ রান করা ওয়েবস্টারকে সরাসরি বোল্ড করেন এই পেসার। এরপর প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককেও দ্রুত ফেরায় বাংলাদেশ। দুজনের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। ফলে চা বিরতির আগেই ৮ উইকেট হারায় অজিরা।


চা বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন স্মিথ। তাতে হিতে বিপরীত হয়। হাসানের খাটো লেংথের বল এগিয়ে এসে পুল করার চেষ্টা করলে টপ এজ হয়ে বল সোজা উপরে উঠে যায়। ৭১ রান করা স্মিথকে ফিরিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন হাসান। এরপর নাথান লায়নকেও ফেরান এই পেসার। তাতে ইনিংসে ৬ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন তিনি। 


 

সর্বশেষ সব খবর