• প্রকাশ : শুক্রবার ০২ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১:১৭ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটি আসনে দাখিল করা মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার প্রথম দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল- আশুগঞ্জ) ও বিজয়নগরের আংশিক এলাকা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ সদর ও বিজয়নগর আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করা হয়।

এদিন মোট ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই করা হয়। বৈধতা পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম হিসেবে উঠে এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি আসনে ৬জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মোট ভোটারের এক শতাংশ সমর্থনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় তাঁদের প্রার্থিতা বৈধতা পায়নি। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের নজরুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের আরিফুর রহমান, নূরে আলম সিদ্দিকী, উমর ইউসুফ খান এবং কাজী জাহাঙ্গীর।

অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ১১ জন প্রার্থীর সকলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, ২ ও ৩ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জোট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে কোনো জটিলতা না থাকায় সেগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এই তিন আসনে মনোনয়ন বৈধতা পাওয়া উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং বিএনপির সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমীন জাহান আক্তার জানান, যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।

আগামীকাল শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে।




  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:০৭ পিএম

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী এলেঙ্গাতে দুই দিনব্যাপী শাওনের ডালা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১৭ ই আগস্ট  সোমবার এলেঙ্গা জমিদার বাড়ি অঙ্গনে সাধনা, ব্রতি ও জাতীয় জাদুঘর এ আয়োজন করে।


লুবনা মরিয়ম গবেষণা ও গ্রামীণ সংস্কৃতি কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা লুবনা মরিয়মের সভাপতিত্বে এই মেলার উদ্বোধন করেন কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন জিতেন্দ্র বালা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, বরেণ্য অর্থনীতিবিদ ও সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ কাইয়ুম খান সিদ্দিকী, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সভাপতি মাছুদুর রহমান মিলন, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড এলেঙ্গা শাখার ম্যানেজার প্রবাল কমল ভট্টাচার্য মানিক, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা এলেঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ শিকদার প্রমুখ।


অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শাওনে ডালার ইনচার্জ লাবণ্য সুলতানা। মেলায় দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গ্রামীণ জীবনের নানা অনুসংঘ তুলে ধরে ২০ টি স্টল অংশ নিয়েছে। দুইদিন ব্যাপী এ মেলায় স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা আয়োজন থাকবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০১ পিএম

প্রায় চার দশক আগে যে বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে পা রেখেছিলেন, সেখানেই কেটে গেল তাঁর পুরো কর্মজীবন। টানা দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গেলেন। সোমবার সেই বিদ্যালয় থেকেই বিদায় নিলেন শিক্ষক বেলা রানী দেব। তবে তাঁর বিদায়টা ছিল অন্য রকম।


মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন বেলা রানী দেব। গতকাল সোমবার দুপুরে তাঁর বিদায় উপলক্ষে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সহকর্মীরা মিলে এক বর্ণিল আয়োজন করেন। সেখানে অংশ নেন স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। ফুল, উপহার আর ভালোবাসায় ভরিয়ে দেওয়ার পর ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় প্রিয় শিক্ষককে। ঘোড়ার গাড়ির সামনে-পেছনে ছিল মোটরসাইকেলের বহর, যেন রাজকীয় বিদায়।


মেঘলা দিনে বিদায়ের আয়োজন


সোমবার সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। দুপুরে শুরু হয় হালকা থেকে ভারী বৃষ্টি। এর মধ্যেই বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। প্যান্ডেলের নিচে সাজানো চেয়ার। 


বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের সবুজ মাঠ কাদায় থকথকে হয়ে গেলেও আয়োজন থামেনি। পানি সরাতে নালা কাটা থেকে শুরু করে নানা ব্যবস্থা করেন আয়োজকেরা। বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের কাছেই তখন দাঁড়িয়ে ছিল একটি ঘোড়ার গাড়ি।


একপর্যায়ে বিদ্যালয়ে এসে পৌঁছান বেলা রানী দেব। তাঁকে দেখেই ছুটে আসেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। কেউ জড়িয়ে ধরেন, কেউ সালাম দেন। নারী অভিভাবকদের অনেকে তাঁকে আলিঙ্গন করেন। বিদায়ের আয়োজন হলেও মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আনন্দ ও আবেগময়।


ফুল, উপহার আর স্মৃতির ভার


বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। অতিথি, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী—সবাই যোগ দেন আয়োজনে।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ চন্দ্র ধরের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার, বিশেষ অতিথি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জলিল তালুকদার, উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক মো. রেজওয়ানুল হক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও লেখক মহিদুর রহমান, অন্যতম আয়োজক তুহিন জুবায়ের প্রমুখ।


বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বেলা রানী দেবও। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে শিশুশিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি পড়ে যায়। কারও হাতে ফুল, কারও হাতে ফুলের মালা, আবার কারও হাতে উপহারের ছোট-বড় রঙিন বাক্স। দল বেঁধে কিংবা একা একা এসে তারা প্রিয় শিক্ষকের হাতে উপহার তুলে দেয়। সহকর্মী ও অভিভাবকেরাও দেন উপহার।


‘ভালো শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা মনে রাখে’


অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও লেখক মহিদুর রহমান বলেন, ‘ভালো শিক্ষকের নির্দেশক (ইন্ডিকেটর) হচ্ছেন তাঁর শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষক পাওয়া যায়, কিন্তু মনে থাকে এক-দুজনকে। শিক্ষার্থীরা ওই এক-দুজনকেই স্মরণ করেন। বেলা রানী দেব তাঁর কাজ দিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মনে জায়গা করে নিয়েছেন।’


সংবর্ধনার অন্যতম আয়োজক এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তুহিন জুবায়ের বলেন, ‘আমরা তাঁকে দিদিমণি ডাকি। আমরা তাঁর কাছে পড়েছি, আমাদের সিনিয়ররা পড়েছেন। শৈশব থেকেই তাঁকে দেখে আসছি। এত দিন বিদ্যালয়ে শিক্ষা দিয়েছেন, আমরা আমাদের দায় থেকে এই আয়োজন করেছি। তাঁকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানো কর্তব্য মনে করেছি। আমাদের চেষ্টা ছিল এমন কিছু করা, যাতে অবসর সময়ে এই স্মৃতিটুকু মনে করে তিনি আনন্দ পান, ভালো থাকেন।’


বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং রাজনগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহনা আক্তার, মেহজাবীন আক্তার ও জান্নাত আক্তারও এসেছিল প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে। তারা জানায়, বেলা রানী দেব তাদের খুব আনন্দ দিয়ে পড়াতেন। পাঠ্যসূচির বাইরেও জ্ঞান অর্জনের জন্য নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন তিনি।


‘এই স্কুলটা আমার বাড়ির মতো’


বিদ্যালয় থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে উত্তর নন্দীউড়া গ্রামে বেলা রানী দেবীর বাড়ি। ১৯৮৭ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন তিনি। 


এরপর আর অন্য কোথাও যেতে হয়নি। তাঁর স্বামী রবীন্দ্র লাল দেব সরকারি চাকরি করতেন। তিনি মারা গেছেন। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। মেয়ে আবার মায়ের সেই বিদ্যালয়েই সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।


৩৯ বছরের বেশি সময় একই বিদ্যালয়ে কাটানোর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বেলা রানী দেব বলেন, ‘আমার অনেক ছাত্রছাত্রী দেশে-বিদেশে। তারা যে আমাকে এতটা ভালোবাসে, এত আন্তরিক- এটা আমি আগে বুঝিনি। এই স্কুলটা আমার বাড়ির মতো, পরিবারের মতো।’ একটু থেমে তিনি বলেন, ‘এই স্কুলের শুরুতে যারা শিক্ষার্থী ছিল, তাদের সন্তানকে পড়িয়েছি। আজকের যে আয়োজন, এতে কত যে আনন্দ হচ্ছে, এটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’


কথা বলতে বলতে ভারী হয়ে আসে তাঁর গলা, চোখে জমে ওঠে অশ্রু। এত বছরের মায়ার বাঁধন ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁর চোখে-মুখে।


বিদায় মুহূর্ত ঘনিয়ে আসে। বিদ্যালয় ভবন থেকে শিক্ষকের বের হওয়ার পথে দুই পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় শিক্ষার্থীরা। ড্রাম ও বাদ্যের তালে উড়তে থাকে নানা রঙের ধোঁয়া। এরপর অপেক্ষায় থাকা ঘোড়ার গাড়িতে তুলে দেওয়া হয় বেলা রানী দেবকে। সামনে-পেছনে মোটরসাইকেলের বহর। সেই পুরোনো পথ ধরে রাজকীয় সাজে এগিয়ে চলে ঘোড়ার গাড়ি-তাঁর বাড়ির দিকে। এই পুরোনো পথ ধরে আগের মতো হয়তো তাঁর আর এই বিদ্যালয়ে ফেরা হবে না। তবে এই রঙিন পথটি অনেক দিন তাঁর মনে থাকবে।


পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপি নেতা মিয়া হাসিবুল হাসান হাসিব ও লাল চিহ্নে জেমিনি লোগো। ছবি: তার ফেসবুক থেকে

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়েছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিয়া হাসিবুল হাসান হাসিব।


রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে ছবিটি পোস্ট করেন তিনি। পোস্টে দাবি করা হয়, আগের দিন ১৫ আগস্ট একটি দলীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। ছবিতে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।


ছবিটি পোস্ট করে হাসিব লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! গতকাল আমার অনুভূতির মূল উৎস, আমার শ্রদ্ধেয় নেতার সঙ্গে সালাম বিনিময়ের পরম সৌভাগ্য হয়েছিল। যে নেতাকে দেখে প্রতিনিয়ত পথচলার প্রেরণা পাই, তার সঙ্গে এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ আমার হৃদয়ে অসীম আনন্দ এনে দিয়েছে।’


তবে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর ছবিটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে ছবিটি বিশ্লেষণ করে এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার বেশ কিছু আলামত পাওয়া যায়। ছবিতে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারের হাতলের নিচের অংশে Gemini AI-এর লোগোও দেখা যায়। এ ছাড়া ছবির বিভিন্ন অংশে অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


এ নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। খন্দকার আব্দুল্লাহ নামের একজন ছবিটির নিচে মন্তব্য করেন, ‘ওরে বাটপাড়, এআই দিয়ে ছবি বানিয়ে ছাড়ে!’


আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি বাশারুল বারী বলেন, সে এর আগে আওয়ামী লীগের আমলে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছে, এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সংঙ্গে এআই জেনারেটেড ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে। তিনি আসলে কি বুঝাতে চাইছে। এগুলো করে এলাকায় বোঝাতে চায় যে, আমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ আছে। এতে প্রভাব বিস্তার ও জমি দখল করতে সুবিধা হয়। প্রশাসনও তাকে বেশি মূল্যায়ন করে।’


তিনি আরও বলেন, ‘তার বড় ভাই ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য নুরুল হাসান মিয়া। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন হাসিব দেখভাল করছেন। পাঁচ তারিখের পর বিদেশ থেকে এসে বড় নেতা হয়ে গেছেন। এখন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগ, সবাই এআই বোঝে। এ ধরনের বাটপাড়ি ধরা পড়ে যাবে। এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’


প্রধানমন্ত্রীর ছবি এভাবে এআই দিয়ে তৈরি করে ফেসবুকে পোস্ট করা আইনত অপরাধ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।


আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল হক রিপন বলেন, লিডারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ বিষয়ে জানতে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১২ পিএম

শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলামের নেতৃত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতায় জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সংস্কার, মেরামত ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।


সোমবার বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি, জাজিরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এসএম বজলুর রশীদ।


এ সময় জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যক্ষ মো. দাদন মিয়া সহ জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও বিকেনগর সরকারি কলেজের সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


এসময় এসএম বজলুর রশীদ বলেন, “জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ফলে কলেজের নিরাপত্তা ও পরিবেশ আরও সুন্দর হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলামের নেতৃত্ব ও সহযোগিতায় কলেজের উন্নয়ন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।”


এসময় অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দিত। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ হলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষার্থীদের সুন্দর পরিবেশে পাঠদানের সুযোগ তৈরি হবে। কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে যারা সহযোগিতা করছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কলেজের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।”


কলেজ সংশ্লিষ্টরা জানান, সংস্কার, মেরামত ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যেও সন্তোষ দেখা দিয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৬ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সুমি আক্তারকে (২১) হত্যার অভিযোগে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা স্বামী মো. ইসমাইল হোসেনকে (২৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।  


গতকাল রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। এর আগে, শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানাধীন ফৌজদারহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ও র‍্যাব-৭-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তার মো. ইসমাইল উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের দিলিলপুর গ্রামের মাইজা বেপারী বাড়ির এনামুল হক বাবুলের ছেলে।  


র‍্যাব জানায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্ত্রী সুমি আক্তারের কাছে ছাগল ও স্টিলের আলমারি অথবা ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন ইসমাইল। ভুক্তভোগীর বাবা কিছু টাকা পাঠালেও দাবিকৃত টাকা কম হওয়ায় গত বছরের ৬ জুন রাতে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন তিনি। পরে সুমিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের পর আদালতের নির্দেশে বেগমগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। মামলায় ইসমাইলকে প্রধান আসামি করা হয়।


র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু আরও বলেন, গ্রেপ্তার ইসমাইলকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৫ পিএম

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে অজু করতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে আলী আকবর (৮০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় ৮ ঘণ্টা পর পুকুরে ভাসতে থাকা জুতার সূত্র ধরে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।


গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম চরজব্বর গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদের বাড়ির পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আলী আকবর ওই বাড়ির মৃত দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে।


সুবর্ণচর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রুবেল মিয়া জানান, ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে ঘরের পাশের পুকুরঘাটে অজু করতে যান আলী আকবর। একপর্যায়ে পুকুরে পড়ে গিয়ে তিনি ডুবে যান। সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে দুপুরে পুকুরে তার একটি জুতা ভাসতে দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হবে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।