ঝালকাঠির নলছিটি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শাওন।
ঝালকাঠির নলছিটি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শাওন ও তাঁর ফুপু শাহাজাদী রেকসনার বিরুদ্ধে প্রতিবেশীর একটি ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দলীয় প্রভাব বিস্তার করে ওই ভবনের পাশ ঘেষে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেছে তাঁরা। এতে বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন ওই ছাত্রদল নেতা।
সোমবার সকালে ঝালকাঠির নলছিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন লাবনী আক্তার নামে এক নারী। তিনি শহরের পূর্ব মালিপুর বিআইপি সড়ক এলাকার বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লাবনী আক্তার অভিযোগ করেন, তাঁর শ্বশুর মোহাম্মদ আলী তালুকদার ২২ বছর আগে আফরোজা নিলু নামে এক নারীর কাছ থেকে পূর্ব মালিপুর বিআইপি সড়ক এলাকায় আড়াই শতাংশ জমি কেনেন। পরে নিলুর ভাইদের কাছ থেকে আরও ০.৫৫ শতাংশ জমি কিনে ২০১৯ সালে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। পাশ্ববর্তী জমির মালিক শাহাজাদী রেকসনা ও তাঁর ভাইয়ের ছেলে নলছিটি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শাওন এতে বাধা দিয়ে আসছেন। এক পর্যায়ে তাঁরা আদালতের মাধ্যমে জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের উদ্যোগে সালিস ˆবঠকের মাধ্যমে জমি মেপে উভয় পক্ষকে নিজ নিজ অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মামলাটিও নিষ্পত্তি করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন।
লাবনী জানান, সালিস ˆবঠকের পর তাঁরা একতলা ভবন নির্মাণ করে বসবাস শুরু করলেও কার্নিশের জমি ও সীমানা প্রাচীর বেআইনিভাবে দখল করে রাখা হয়। একাধিকবার বলার পরও তা দখলমুক্ত করা হয়নি। ২০২৬ সালে দ্বিতীয় তলার নির্মাণ কাজ শুরু করার পর পুনরায় বাধা প্রদান করে তাঁরা। আদালতে আবারও ১৪৪ ধারা (মামলা নং-৭১/২০২৬ (নল)) জারি করা হয়। পরে আদালত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তাদের পক্ষে রায় দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করে বলে তিনি জানান।
মামলা নিষ্পত্তির পরও শাহাজাদী রেকসনা ও মেহেদী হাসান শাওনসহ কয়েকজন পুনরায় তাদের হুমকি প্রদান করেন। এ বিষয়ে তারা নলছিটি থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দাখিল করেছেন।
লাবনী আক্তার বলেন, আমাদের সাবকবলা জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে দ্বিতীয় তলার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে চাই এবং দখল ও হুমকি থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছি।
এ ব্যাপারে নলছিটি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শাওন বলেন, আমার ফুপুর পৈত্রিক জমির ভেতরে মোহাম্মদ আলী ও তাঁর দুই ছেলে ভবন নির্মাণ করছেন। এতে বাধা দিলে তাঁরা আমাদের হুমকি দিচ্ছে| এ ব্যাপারে আমরা সংবাদ সম্মেলন করার পরে তাঁরাও একটি পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের নামে অপপ্রচার করছে। প্রশাসনের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পৌঁছান তিনি। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বিভিন্ন স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সকাল থেকেই কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে জেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। সফরের শুরুতে পাকুন্দিয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।
এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কটিয়াদীর আচমিতা এলাকায় কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১টার দিকে আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
ঢাকার বাইরে এবারই প্রথম জাতীয় পর্যায়ে মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন হচ্ছে কিশোরগঞ্জে। হাওর, নদী-বিল ও মিঠাপানির মাছের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের মৎস্য খাতের সম্ভাবনা ও সাফল্য জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে এবারের আয়োজন কিশোরগঞ্জে করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখা উদ্যোক্তাদের পুরস্কৃত করা হবে। আয়োজন ঘিরে মৎস্যচাষি, জেলে, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মাঠের উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
পরে সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও কিছুক্ষণ বিশ্রাম শেষে বিকেল ৪টার দিকে জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এ ছাড়া সারা দেশের শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার পাইলট কার্যক্রমও এ সফরের মাধ্যমে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কিশোরগঞ্জবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কিশোরগঞ্জ ইপিজেড বাস্তবায়ন, হাওরের মাছ সংরক্ষণে আধুনিক হিমাগার এবং পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি আবারও আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, মৎস্য ও কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সফর নতুন উদ্যোগের বার্তা নিয়ে আসবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলের নেতারা।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে আমানিয়া হোটেলের ম্যানেজার ইমাম উদ্দিনকে (৪৫) কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হোটেলের ক্যাশ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত সোয়া ৯টার দিকে দিকে উপজেলার চৌমুহনী-ফেনী রোডের আমানিয়া হোটেলের ম্যানেজারের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ইমাম উদ্দিন নোয়াখালী সদর উপজেলার নওয়াজপুর ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং আমানিয়া হোটেলের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।
এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় দায়ের করা এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন, হাসান মাহমুদ শুভ (৩৫), বাবু (৩৫), এনামুল হক লালন (৩২) ও মহদী হাসান (৩০)। তারা সবাই চৌমুহনী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং মাদকাসক্ত।
এজাহারে ইমাম উদ্দিন অভিযোগ করেন, হোটেলের পার্টনার হাসান মাহমুদ শুভ বিভিন্ন সময় হিসাবের বাইরে টাকা নিয়ে যেতেন। অন্যান্য পার্টনাররা তাকে হিসাবের বাইরে কোনো টাকা না দিতে নিষেধ করেন। এরপর থেকে শুভ তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন।
ভক্তভোগী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে চার আসামিসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জন রামদা, ছেনি, চাপাতি ও লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হোটেলের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে ইমাম উদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি চাপাতি দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়। এতে মাথার ডান পাশে গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়ে পাঁচটি সেলাই লাগে। এছাড়া লোহার রড দিয়ে মাথার বাম পাশে আঘাত করে গুরুতর জখম করা এবং ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দেয়। অপর এক আসামি গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়। ইমাম উদ্দিনকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আব্দুল মালেক নামে এক বৃদ্ধকেও মারধর করে আহত করা হয়। এর আগেও তিনি একাধিকবার হোটেলে হামলা ভাঙচুর চালান। পরে হামলাকারীরা মামলা করলে প্রাণে মেরে লাশ গুম করার হুমকি দেন। পরে আহত ইমাম উদ্দিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার হাসান মাহমুদ শুভ'র মুঠোফোনে কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যোগাযোগ করা হলে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শামসুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে বর্ণাঢ্য র্যালি, বেলুন উড়ানো ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁওয়ের আয়োজনে জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য সড়ক র্যালিটি বের হয়। র্যালির আগে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন উপলক্ষে বেলুন উড়ানো হয়। পরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য পক্ষের তাৎপর্য ও দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল হক, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার।
সভায় বক্তারা মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ মাছ উৎপাদন, জলাশয় সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ চলবে ১৬ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। এ উপলক্ষে মৎস্য খাতের উন্নয়ন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জে) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হকের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি।
অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে তাদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন।
শনিবার বিকেলে রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া আড়চালা এলাকায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) উপজেলা পরিষদের কাছে স্থাপনের দাবিতে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মতবিনিময় সভা শেষে এমপি আয়নুল হক গাড়িবহর নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তাঁর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার পর ধানগড়া এলাকায় স্থানীয় জনতা বিক্ষোভ করেন। সেখানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী মো. শেখ রিয়াদ ও শ্রাবণ বলেন, ফয়সাল বিশ্বাসকে আজকের অনুষ্ঠানে কেউ দাওয়াত দেয়নি। তিনি এসে তাদের উসকানিমূলক কথা বলেন।
তারা বলেন, ‘আমরা এমপিকে শ্রদ্ধা করি। আমরা তাঁকে আমাদের দাবি-দাওয়া জানাচ্ছিলাম। কিন্তু ফয়সাল বিশ্বাস আমাদের জঙ্গিসহ বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে গালাগালি করেন। বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মী আমাদের আহত করেন। পরে ফয়সাল বিশ্বাস এমপির গাড়িতে চলে গিয়ে লাইভে এমপির গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে বলে জানান।’
শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, এমপির গাড়িতে যাওয়ার সময় তাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মী মো. ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, এমপির গাড়িতে হামলা হয়েছে। শিবিরের, এনসিপি ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে।
অন্যদিকে এমপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে চান্দাইকোনা এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা এমপির গাড়িবহরে হামলার জন্য জামায়াতে ইসলামী, শিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বক্তব্য দেন। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
ঘটনার বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হক বলেন, ‘আজ আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কতিপয় ব্যক্তি হামলা করেছে। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল, আমি নিজ চোখে দেখেছি। প্রশাসন আজ রাতেই এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করবে।’
তিনি বলেন, এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীসহ বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে।
রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ডা. এসএম মুনসুর আলী বলেন, ‘আমি সিরাজগঞ্জ শহরে ছিলাম। এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ছাত্রশিবিরের সভাপতির সাথে কথা বলেছি তারা অবগত নয় বলে জানিয়েছে।’ তবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ঘটনার পর রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম খান বলেন, ‘এ ঘটনায় রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এমপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে ঘটনার পর থেকে ধানগড়া ও চান্দাইকোনা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হামলার ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন বরগুনার পাথরঘাটা আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেন।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের কয়েকজন সদস্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও বিপন্ন মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করে কয়েক প্রজাতির ৬৯০ কেজি সামুদ্রিক মাছ জব্দ করে মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। যা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারের পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।
গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বণ্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) ২০২৬ এর ধারা ৩৬ (২), (৪) ও ৪৭ (২), সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা, ২০২৩ এর ২৬ (৩) এবং দ্যা কোড অফ ক্রিমিনাল প্রোসিডিউর, ১৯৮৯ ধারা ১০৩, ৫১৬ ক ও ৫২৫ এর বিধানর ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডার লেঃ এ এইচ এন সারতাজ বিন সোহরাব এর বিরুদ্ধে কেনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ প্রদান করা হবে না; সে মর্মে আদেশ প্রাপ্তির ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডারকে স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।
জব্দকৃত অবৈধ মাছের মধ্যে ছিলো শাপলাপাতা মাছ ৪৪০ কেজি ও গিটার মাছ ২৫০ কেজি। এর আনুমানিক বাজার মূল্য ১৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা।
কোস্টগার্ডের সূত্রানুযায়ী- স্থানীয় বিএফডিসি মৎস্য ঘাটের একটি আড়তে সামুদ্রিক মাছ মজুদ রেখে বিক্রয়ের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু পালিয়ে যাওয়ার দোহাই দিয়ে কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হননি বলে জানান কোস্টগার্ড।
একই সূত্রে আরও জানা গেছে- পাথরঘাটা উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জব্দকৃত মাছগুলো মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। কিন্তু পাথরঘাটার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বিষয়টি জানেন না বলে আদালতকে অবহিত করেন।
সুশিলা রাণী
জীবন সায়াহ্নের শেষ দশকে এসেও একটু শান্তির মুখ দেখতে পারছেন না আশি পেরোনো রুহিয়ার বয়োবৃদ্ধা সুশিলা রাণী। স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটেমাটিতে শান্তিতে দিন কাটানো তো দূরের কথা, নিজের সম্পত্তি ভোগদখল করতে না পেরে উল্টো পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও ভুক্তভোগী এই বৃদ্ধার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং বদলেছে কেবল অত্যাচারীর পেছনের রাজনৈতিক অভিভাবক।
ভুক্তভোগীর দাবি, ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে রুহিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা পার্থ সারথি সেনের প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সুশিলা রাণীর দূর সম্পর্কের ভাসতে বিকাশ চন্দ্র সরকার জমি জবর দখলের এসব অন্যায় কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন। সে সময় একাধিকবার স্থানীয়ভাবে জানানোর পরও কোনো বিচার পাননি অসহায় সুশিলা রাণী।
২৪ এর অভ্যূত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও বদলায়নি সুশিলা রাণীর জীবনের চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে বিকাশ চন্দ্র সরকারের এই অপকর্মের নতুন আগের রাজনৈতিক আশ্রয়ের চেইন ধরে রেখে বর্তমানে নতুন স্থানীয় নেতৃত্বকে ব্যবহার করে জমি দখলের পাঁয়তারা ও নির্যাতন অব্যাহত রেখেছেন বিকাশ।
আজ শনিবার (১৫ আগষ্ট) সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, সুশিলা রাণী তার জরাজীর্ণ ঘরের দাওয়ায় বসে স্বামীর ভিটের দিকে ফেল ফেল তাকিয়ে রয়েছেন আর নিজ মনে কি যেন বিরবির করে বলছেন।
ভিটেমাটির বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলে উঠেন, যে পতাকাই উড়ুক না কেন, যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন,তার মতো নিঃস্ব মানুষের শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে নিতে কেনো সবাই এক হয়ে যায়? রাজনৈতিক রঙ বদলালেও ক্ষমতার আশ্রয়পুষ্ট বিকাশের মতো মানুষদের চাবুকের আঘাত তো একই রকম রয়ে গেল। ভেবেছিলাম আ’লীগ পালাইছে, এখন হয়তো শান্তিতে থাকতে পারবো। কিন্তু আমার সেই আশা আর পুরণ হলো না, বিএনপি ক্ষমতায় এসে আবার বিকাশ তাদের দলে ভিরে ওই একই রকম আচরণ করছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই, এর শেষ দেখতে চাই।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, দল বদলালেও তাদের ওপর নির্যাতনের রূপ বদলায়নি। বিগত সরকারের সময় শুরু হওয়া অসম্পূর্ণ অন্যায়গুলোর দায় যেন এখন নতুন করে কে বা কারা গ্রহণ করেছে।
সুশিলা রাণীর মেয়ে শোভা রাণী সরকার বলেন, আমি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করি। আমার মা আমাদের বোনদেরকে সহ অনেক কষ্টে জীবন যাপন করেছেন। আমাদের কোন অভিভাবক না থাকায় আমাদের ভিটে মাটি নিয়ে যখন যে ইচ্ছে তাই করেছে, আমাদের সাথে ক্রমাগতভাবে অন্যায় করে চলেছে। আমার মাকে মেরে রক্তাক্ত করেছে। অনেকবার বিচার সালিশ হয়েছে, কিন্তু ফল পায়নি আমার মা। আমার কাকাতো ভাই বিকাশ বা তার মত যারা আছে তারা তো অন্যায় করেছেই। ভাবতে আশ্চর্য লাগে এই ভেবে যে এ শ্রেণির মানুষ গুলোই সব রাজনৈতিক দলেই আশ্রয় পায়।
এ বিষয়ে সুশিলার ভাসতে বিকাশ চন্দ্র সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে পালিয়ে যান।
নিজের ভিটেমাটিতে শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাসটুকু ফেলার আকুতি জানিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অসহায় সুশিলা রাণী। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।