তিন দফা দাবিতে নলছিটিতে অবস্থান কর্মসূচী
অসম্পূর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার কাজ সম্পন্নকরন, নতুন প্রকল্পের বরাদ্দ প্রস্তাব বাতিল রহিতকরন ও ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট সংস্কারের তিন দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে সাধারণ নাগরিকরা।
নলছিটি পৌরসভা চত্তরে আজ ১৫ জুন সোমবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত নলছিটি পৌরসভার সামনে অবস্থান কর্মসূচী ও প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা কর্মসূচি পালন করা হয়। সাধারণ নাগরিকদের ব্যানারে তিন দফা দাবিতে প্রায় তিন ঘন্টা শান্তিপূর্ণ এ অবস্থান কর্মসূচী পালন করা হয়।
এতে তাদের দাবি ছিলো ২০২০-২১ সালে শুরু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের প্রায় দশটি সংস্কার কাজ সম্পন্ন না করেই পরে আছে যা জনভোগান্তি তৈরি করেছে সেগুলো সহ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপির কিছু কাজ উদ্বোধন করেও সম্পন্ন হয়নি সেগুলো দ্রুত সম্পন্নকরন।
পৌরসভার আধুনিকায়নের সুযোগ থাকা একটি প্রকল্পের প্রায় তেরো কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব বাতিলের পথে আছে সেই বাতিল রহিত করন। এবং নতুন বাড়তি বরাদ্দ আনয়ন। এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পৌরসভার প্রাপ্ত পুরো বরাদ্দ দিয়ে কোনো কাজ করা হয়নি যা বিধি অনুযায়ী সরকারের তহবিলে ফেরত দিতে হবে, সেই অর্থ ফেরত না দিয়ে বিধিমত এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আটকে থাকা সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসেই নতুন অর্থবছরে প্রকল্প গ্রহণ করে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্টের নির্মান কাজ শুরু করতে হবে।
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বৈষম্য বিরোধী নেত্রী সাথী আক্তার, তিনি বলেন দেরশো বছরের এই শহরটি পুরো উপজেলার মানুষের জন্য ঐতিহ্যের প্রতিক ছিলো কিন্তু শহরটিতে কোনো উন্নয়ন নেই। রাস্তাঘাট, পার্ক, টার্মিনাল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বস্তি উন্নয়ন কিছুই নেই। রাস্তাঘাটের বরাদ্দ এলেও সব লুটপাট হয়েছে যারফলে ভুগছি আমরা। তাই আমাদের দাবি লুটপাট হওয়া রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি সহ আমাদের এই তিন দফা দাবি মানতে হবে। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত আমরা এই অবস্থানে অনড় থাকবো।
আরেক আন্দোলনকারী ইমরান হোসেন বলেন, দেশের দ্বিতীয় পৌরসভা হলেও উন্নয়নের দিক থেকে আমরা একেবারেই পিছিয়ে আছি। এতবছরেও উন্নয়নের ছিটেফোটাও বাস্তবায়ন হয়নি। অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এক ইঞ্চিও উন্নয়ন কাজ হয়নি যেকারণে সেই বরাদ্দ এখন ফেরত যাবার পথে কেন আমরা সেই প্রশ্নের জবাব চাই। আমরা এক পয়সাও ফেরত যেতে দেবো না। এবং দ্রুত সব রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করতে হবে।
আরেক আন্দোলকারী আসিফ জিয়া মুন্না বলেন, ১৮৬৫ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া নগরীতে রাস্তাঘাট নেই, একটি শিশুপার্ক নেই, সড়কবাতি জ্বলে না, জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা নেই, বারবার বরাদ্দ আসে কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। আমরা সাধারণ নাগরিক হিসেবে এর নিরসন চাই।
মো: রাহাত বলেন, এত বড় একটি পৌরসভার অথচ এর সামনের রাস্তাটিই বেহাল দশা, সংকীর্ণ রাস্তা এরমধ্যে ফুটপাত দখলের কারনে আরও বেশি দুর্ভোগ হয়। এছাড়াও কোনো সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্যোগ নেই, তাই আমরা এই নগরীর আধুনিকায়ন চাই।
আহত জুলাই যোদ্ধা মূসা সরদার বলেন, এতো পুরনো পৌরসভার রাস্তাঘাট সবগুলোই মরনফাদ হয়ে আছে আর বরাদ্দ আত্মসাৎ করছে এটা হতে পারে না। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই,কারন এই শহরে শুধু পৌরসভার নাগরিকরা থাকে না পুরো উপজেলার মানুষ আসে যায় তাই আমাদের এই তিন দফা দাবি মানতে হবে। এটা শুধু দাবি নয় আমাদের অধিকার।
আন্দোলনের সমন্বয়কারী সমাজকর্মী বালী তাইফুর রহমান তূর্য বলেন, আমরা বছরের পর বছর ধরে পৌরসভা এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, পয়নিস্কাষন, ড্রেনেজ, অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা, বস্তি এলাকা উন্নয়ন, নতুন গোরস্থান তৈরি, শিশুপার্ক, ইকোপার্ক নির্মান, ফায়ার হাইড্র্যান্ট বসানো, গার্বেজ রিসাইক্লিং প্লান্ট, বিউটিফিকেশনের মতো সুযোগ থাকা সিটিসিআরপি প্রকল্পর এই অংশটির বরাদ্দ বাতিল হতে যাচ্ছে যা আমাদের জন্য একেবারেই দু:খজনক। আমরা বছরের পর বছর এগুলো নিয়ে আন্দোলন করেছি এই মুহুর্তে ডিপিপি রিভিশনের সময় এই অংশ বাতিল হলে আমরা তা মেনে নেব না। প্রকল্পটির প্রায় দুই বছর সময় অতিবাহিত হলেও অগ্রগতি না থাকায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান কিছুদিন আগে নলছিটি পৌরসভা পরিদর্শনের সময় এই উদ্বেগ আরও বেরে যায়। পৌরসভার খালি জমি না থাকার অযুহাতে প্রকল্পের এই আধুনিকায়নের অংশটি বাতিল হতে পারে বলে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
এছাড়াও ২০২১ সালে শুরু করা রাস্তার কাজও আজ পর্যন্ত সমাপ্ত করা হয়নি, লুটপাটের কারনে মানুষের জীবন এখন দুর্বিষহ হয়ে পরেছে। এসব রাস্তা এখনো আদায় না হলে পরবর্তীতে এই দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এই প্রকল্পের শেষ সাক্ষী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুজ্জামা, তিনি এই বছর নভেম্বরের দিকে অবসরে যাওয়ার কথা তিনি অবসরে চলে গেলে এসব রাস্তা পুনরুদ্ধার একেবারেই অসম্ভব হয়ে পরবে। তাই ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের অসম্পন্ন সবগুলো রাস্তার নির্মান কাজ সম্পন্ন করতেই হবে এবং এই দুর্ভোগ সৃষ্টির জন্য দ্বায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং ঠিকাদারদেরকে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে।
এছাড়াও ১৬ একর সম্পত্তির মালিক থাকা পৌরসভায় জমি সংকট দেখিয়ে আধুনিকায়নের সুযোগ থাকা প্রকল্পের প্রায় চৌদ্দ কোটি টাকার অংশ বাতিল হওয়ার মতো দু:খজনক বিষয় আর নেই। অথচ পৌরসভাটি প্রতি বছর প্রায় সারে তেরো একর জমির ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করে অথচ সব জমি কেউ চেনে না, কাদের দখলে আছে কেউ জানে না,কেউ বলে না। প্রয়োজনে পৌরসভার রাজস্ব তহবিল থেকে জমি ক্রয় করে হলেও এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেই হবে। আমরা এই বরাদ্দ বাতিল রহিতকরনের দাবি জানাচ্ছি এবং অসম্পূর্ণ সকল রাস্তাঘাট সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন কাজ জুলাই আগস্টের মধ্যে শুরু করার দাবি জানাই।আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
প্রায় তিন ঘন্টা অবস্থান কর্মসূচী পালন করে পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভার:) রিজভী আহমেদ সবুজের কাছে লিখিত স্মারকলিপি পেশ করেন।
ছবি : সংগৃহীত
মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে। এতে নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকা ও সড়ক পানির নিচে চলে গেছে। সোমবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, জিইসি ও প্রবর্তকসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ ও পথচারীরা।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা ইসমাইল মিয়া বলেন, সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়া এবং মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমতে শুরু করে। মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, জিইসি ও প্রবর্তক এলাকার বিভিন্ন অংশে সড়কের ওপর পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। হাঁটুপানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায় পথচারীদের। জলাবদ্ধতার কারণে কিছু সড়কে যানবাহনের গতিও কমে যায়।
মুরাদপুর মোড়ে স্কুলগামী অভিভাবক আলতাফ হোসেন বলেন, সকালে বাসা থেকে বের হয়েই সড়কে পানি দেখতে পান। বাধ্য হয়ে পানি মাড়িয়ে বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে গেছেন। বৃষ্টি হলেই এই ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের। কাতালগঞ্জে অফিসগামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী শাহানারা বেগম বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই কাতালগঞ্জে পানি উঠে যায়। এমনিতে গণপরিবহন নেই। বৃষ্টির কারণে পানি জমে যাওয়ায় এদিকে সিএনজি অটোরিকশারও দেখা পাচ্ছেন না।
এদিকে লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামসহ দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে শরীয়তপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) বিকাল ৬টায় শরীয়তপুর পৌরসভা এলাকায় ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ, শরীয়তপুর জেলা শাখার আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শরীয়তপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুল মোতালেব দেওয়ান হান্নান সভাপতিত্বে ও শরীয়তপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পারভেজ মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, গণঅধিকার পরিষদ শরীয়তপুর জেলা, কায়ুম মাতবর, সহ-সভাপতি , আসিক হোসেন, দপ্তর সম্পাদক, ছাত্র অধিকার পরিষদ শরীয়তপুর জেলা, ইব্রাহিম হোসেন, সভাপতি, সদর উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদ, মেহেদী হাসান আয়ান, সভাপতি, নড়িয়া উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইমন চোকদার, সভাপতি জাজিরা উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদ।
এসময় কর্মসূচিতে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় শরীয়তপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন বলেন, জামায়াত-শিবির কর্মীরা এই হামলা করেছে। এছাড়াও এমপির সমর্থক ও জামায়াত-শিবির কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয় ও সাধারণ সম্পাদকের ব্যক্তিগত অফিসে ভাঙচুর চালান।আমরা দ্রুত হামলাকারীদের বিচারের দাবি করছি।
এসময় শরীয়তপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুল মোতালেব দেওয়ান হান্নান বলেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হামলা-সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ সময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার নেতৃত্বে এই হামলা করা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ ওঠে এবং দলটির পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
৪ নং কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর একটি অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতা মো. রফিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে যান পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জননেতা ব্যারিস্টার নওশাদ জামির।
এ সময় তিনি তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। মো. রফিকুল ইসলামের দ্রুত সুস্থতা ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করে পঞ্চগড়বাসীর কাছে তাঁর জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন ফুটপাত ও সড়কের পাশে বসানো দোকান ও অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, ফুটপাতকেন্দ্রিক এই চাঁদাবাজির পরিমাণ মাসে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। তবে এই অর্থের হিসাব, কারা চাঁদা আদায় করছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত-এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি।
ফুটপাত দখল ও সেখান থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “এটা আমাদের কাজ না, এটা সিটি করপোরেশনের কাজ।”
তাঁর এমন বক্তব্যের পর ফুটপাত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন দাবি করেন, ফুটপাত থেকে কারা চাঁদা আদায় করে-এ বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। ফলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত ১৭ জুলাই রাতে নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ এলাকায় পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের সময় দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন। এ ঘটনায় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও যানজট নিরসনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও এর আগে জানিয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরও বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকান বসানো এবং সেখান থেকে অর্থ আদায়ের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
নগরবাসীর প্রশ্ন-যদি ফুটপাত থেকে প্রতি মাসে ২৪ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে কারা এই অর্থ সংগ্রহ করছে? টাকা যাচ্ছে কার কাছে? আর এর পেছনে রয়েছে কারা?
এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নিরপেক্ষ তদন্ত, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
তবে মাসে ২৪ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের দাবিটি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণ প্রকাশের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইটের দেয়াল তুলে ও গাছ লাগিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা
নওগাঁর মহাদেবপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে ইট দিয়ে ঘিরে ও গাছ লাগিয়ে জমি জবর দখলের পাঁয়তারা করার অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলা সদরের মেইন বাজারে এঘটনা ঘটে।
উপজেলা সদরের কাচারীপাড়ার মৃত নির্মাল্যভূষণ দাসের ছেলে শ্রী জয়ন্ত কুমার দাস অভিযোগ করেন যে, মহাদেবপুর বাজারের আরএস ৪০৫ ও ৪০৬ নং খতিয়ানের ৫৯০ দাগে তার পিতার ত্যক্ত মোট ১০ শতক সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী তারা তিন ভাই জয়ন্ত কুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস ও বিপ্লব কুমার দাস। এই সম্পত্তির সামনের অংশে তাদের দোকান ঘর রয়েছে। কিন্তু দোকানের পিছনের দিকে তাদের অংশের বেশিরভাগ জমি তার ভাই বিশ্বনাথ দাস ও ভাতিজা দেবাশীষ দাস দীর্ঘদিন ধরে জবর দখলের পাঁয়তারা করে আসছে।
গত ৭ আগস্ট সকালে তারা সেখানে ইট দিয়ে ঘিরে দখল নেয়ার চেষ্টা চালায়। বাঁধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা তাদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এনিয়ে মহাদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু প্রতিপক্ষরা রাতের আধারে কাজ করতে থাকে।
জয়ন্ত দাস এব্যাপারে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ বিচারক বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মহাদেবপুর উপজেলা সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয় পর্যবেক্ষণ করার জন্য মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) আদেশ দেন। মহাদেবপুর থানার এসআই আছির উদ্দিন গত ১২ আগস্ট এ বিষয়ে উভয়পক্ষকে নোটিশ দেন। নোটিশ পাবার পরও গত শনিবার প্রতিপক্ষরা বিরোধীয় জমিতে গাছ লাগিয়ে দখল প্রমাণের পাঁয়তারা করে।
জানতে চাইলে দেবাশীষ দাস বলেন, মৃত নির্মাল্য ভূষণ দাসের জয়ন্ত কুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস ও বিপ্লব কুমার দাস ছাড়াও প্রশান্ত কুমার দাস নামে আরো এক ছেলে রয়েছে। ১৯৯৬ সালে প্রশান্ত তার অংশের সমুদয় জমি দেবাশীষের নামে লিখে দিয়ে গেছেন। সেই দলিলমূলেই তিনি অতিরিক্ত জমি দাবি করছেন। কিন্তু জয়ন্তরা তা দিতে নারাজ।
জয়ন্ত জানান, প্রশান্ত ১৯৭৪ সালে ভারতে গিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সুতরাং তার অংশের জমি তারা অন্য তিন ভাই পাবেন। প্রশান্ত এখন ভারতের আধারকার্ডধারী নাগরিক। ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে তিনি সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন।
১৯৯৬ সালে তার স্বাক্ষরে একটি ভূয়া আমমুক্তারনামা সৃজন করে দেবাশীষ প্রশান্তের অংশের জমি দাবি করছে। ওই কথিত ভূয়া আমমুক্তারনামায় জমির কোন তপশীল উল্লেখ না করে সমুদয় সম্পত্তি লেখা হয়েছে।
“রূপালী মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরগুনায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে অফিসার্স ক্লাবে এসে শেষ হয়। পরে বরগুনা অফিসার্স ক্লাবের পুকুরে রুই, কাতলা ও সিলভার কার্পের পোনা অবমুক্ত করেন জেলা প্রশাসকসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বরগুনা জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং সংগ্রাম স্মার্ট প্রজেক্ট এর সহযোগিতায় আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি।
সভায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ তাছলিমা আক্তার’র সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন।
সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- পুলিশ সুপার মোঃ কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা, সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ, সংগ্রাম’র উপনির্বাহী পরিচালক চৌধূরী মোহাম্মদ মঈন, প্রেসক্লাব সভাপতি হাফিজুর রহমান প্রমূখ।
আলোচনায় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।