ময়মনসিংহের শিল্পঘন ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা হাইওয়ে থানায় দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা ও আধুনিক পুলিশিংয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসতিয়াক আহমেদ।
ব্যস্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে তার নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি যাত্রীসেবায় এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন, যা স্থানীয় জনজীবন, পরিবহন খাত এবং সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রতিদিন হাজারো যানবাহনের চাপ সামলানো এই মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার ফলে পরিস্থিতির উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সক্রিয়তা কেবল প্রশাসনিক দক্ষতারই পরিচায়ক নয়, বরং মানবিক পুলিশিংয়ের এক বাস্তব প্রতিফলন।
এই ধারাবাহিক তৎপরতার অংশ হিসেবেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অপরাধ দমনেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে ভরাডোবা হাইওয়ে থানা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) ভোরে ভালুকা পৌর সদরের কাঁঠালী বাগরাপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসি ইসতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে একটি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ৯০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একটি প্রাইভেটকার জব্দ এবং এক যুবককে আটক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহাসড়ক ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য পরিবহনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ভরাডোবা হাইওয়ে থানার তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে আগের তুলনায় মহাসড়কের যানযট প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। একই সময়ে প্রায় ৪৫০ টির বেশি অবৈধ থ্রি-হুইলার ও অন্যান্য অননুমোদিত যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে কয়েক শতাধিক যানবাহনকে জরিমানা করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে এবং যান চলাচল আরও স্বাভাবিক হয়েছে।
সম্প্রতি এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়েছিলেন ঢাকাগামী যাত্রী আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার পর সবকিছু অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা খুব দ্রুত এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তাদের এই মানবিকতায় আমি নতুন জীবন পেয়েছি।” তার অভিজ্ঞতা যেন একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতীক, যেখানে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিকতা হয়ে উঠছে কেন্দ্রবিন্দু।
একই সড়কের নিয়মিত চালক শফিকুল ইসলাম জানান, “আগে এই রাস্তায় ভয় নিয়ে গাড়ি চালাতে হতো। এখন পুলিশ নিয়মিত টহল দেয়, সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে পাশে দাঁড়ায় এতে আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে।”
ভালুকার স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, “আগে প্রায়ই দুর্ঘটনা বা যানজটের কারণে আতঙ্কে থাকতে হতো। এখন পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এতে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যও স্বাভাবিক থাকছে।”
নারী ও শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। গার্মেন্টস কর্মী নাসরিন আক্তার বলেন, “রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে আগে ভয় লাগতো। এখন রাস্তার পাশে পুলিশের উপস্থিতি দেখলে অনেকটাই নিশ্চিন্ত লাগে।” রাতে একাকী চলাচলকারী নারী যাত্রীদের সহায়তা এবং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার মতো উদ্যোগ পুলিশের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো জাতীয় মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার বা তিন চাকার যানবাহনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান। ওসি ইসতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার সদস্যরা নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট স্থাপন এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে সিএনজি, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ ধীরগতির যান চলাচলের কারণে যে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতো, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী জাতীয় মহাসড়কে এ ধরনের যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবতায় অনেক সময় তা উপেক্ষিত হয়েছে। বর্তমান উদ্যোগের ফলে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে অবৈধ থ্রি-হুইলারের উপস্থিতি কমতে শুরু করেছে, যা দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচলকে আরও স্বাভাবিক ও নিরাপদ করছে। একই সঙ্গে চালকদের বিকল্প ফিডার রোড বা স্থানীয় সড়ক ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে জীবিকা ও আইনের মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত ভারসাম্য বজায় থাকে।
তবে ইতিবাচক অগ্রগতির মাঝেও কিছু কাঠামোগত ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। শিল্পঘন এই অঞ্চলে ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, অনিয়ন্ত্রিত গতি এবং মাঝে মাঝে অবৈধ যান চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক সময় সড়কের নির্দিষ্ট অংশে পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবও পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। সীমিত জনবল দিয়ে দীর্ঘ মহাসড়ক তদারকি করা হাইওয়ে পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।
কিছু সাধারণ যাত্রীর মতে, উন্নতির ধারা থাকলেও আরও ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসযাত্রী বলেন, “অনেক জায়গায় এখনো গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ ঠিকমতো মানা হয় না। মাঝে মাঝে পুলিশ না থাকলে চালকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।”
ওসি ইসতিয়াক আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, “চ্যালেঞ্জ আছে, তবে আমরা চেষ্টা করছি সর্বোচ্চ সেবা দিতে। জনগণের সহযোগিতা পেলে এই সড়ককে আরও নিরাপদ করা সম্ভব।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততাকেও তিনি সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।
চলমান এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে আরও টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি জোরদার, সিগন্যালিং ও মনিটরিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং যানবাহনের গতিনিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং ও দখলমুক্ত রাখতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সড়কের স্বাভাবিক গতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অবৈধ থ্রি-হুইলার ও অন্যান্য অননুমোদিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে মাদক, চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্যভিত্তিক অভিযান, গোপন সংবাদের কার্যকর ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে একটি নিরাপদ মহাসড়ক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক পুলিশিং কেবল কঠোরতা নয় বরং মানবিকতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের সমন্বয়। প্রশংসা ও সমালোচনা উভয়কেই গুরুত্ব দিয়ে সেবার মান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এর মূল চাবিকাঠি।
একটি ব্যস্ত মহাসড়কে দায়িত্ব পালন কখনোই সহজ নয়। তবুও সীমাবদ্ধতার ভেতর থেকেও যখন সেবা, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার সমন্বয় ঘটে, তখনই জন্ম নেয় আস্থা। ভরাডোবা হাইওয়ে থানায় সেই আস্থার ভিত্তি নীরবে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে গড়ে তুলছেন ওসি ইসতিয়াক আহমেদ যা নিরাপদ মহাসড়ক নির্মাণে এক অনুপ্রেরণাদায়ী উদাহরণ হয়ে থাকছে।
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় লাইলি বেগম (৪৬) নামে এক নারীকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তার ছেলে সৌরভ হোসেনকে (২৮) ও শাশুড়ি তফুরা বেগমকে (৭৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, সৌরভ মাদকাসক্ত ও মানসিক বিকারগ্রস্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে আসামিদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, শুক্রবার ভোর রাতের দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের গোপাই গ্রামের আলী আজম মহুরী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লাইলি বেগম ওই বাড়ির আলমগীর হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাইলি বেগম ও তার ছেলে সৌরভ একই বসতঘরের পৃথক কক্ষে থাকতেন। আলমগীর হোসেন গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব করেন। পাশাপাশি বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন এবং রাতে সেখানেই ঘুমান। প্রায় ৮-১০ দিন আগে বাড়ির সামনের পুকুরঘাটে পড়ে লাইলি বেগমের বাম হাত ভেঙে যায়। এতে তিনি স্বাভাবিকভাবে ঘরের কাজ করতে পারতেন না। এ কারণে কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা পাশের ঘরে থাকা লাইলির সৎ শাশুড়ি তফুরা বেগমের ঘরে করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে লাইলি বেগম তফুরা বেগমের ঘরে গিয়ে রাতের খাবার খান। পরে নিজ ঘরে ফিরে যান। রাত ১২টার দিকে আলমগীর হোসেনও তফুরা বেগমের ঘরে খাবার খেয়ে চায়ের দোকানে চলে যান। পরে লাইলি ও তার ছেলে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে সৌরভ ঘুম থেকে উঠে তার মাকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি তিনি তার দাদী তফুরা বেগমকে জানান। তফুরা বেগম ঘরে গিয়ে লাইলির নিথর দেহ দেখতে পান এবং চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
এরপর সৌরভ চায়ের দোকানে গিয়ে তার বাবা আলমগীর হোসেনকে ঘুম থেকে তুলে জানান, তার মা মারা গেছেন। বাড়িতে এসে আলমগীর তার স্ত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। লাইলি বেগমের গলার ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর কাটা জখম ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া তার বাম হাতের কাঁধের সামনের অংশ ও বাম হাঁটুতে ছেলা জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
খবর পেয়ে সুধারাম থানার এসআই সুমন বণিক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পিবিআই, সিআইডি ও ডিবির সদস্যরা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন বণিক বলেন, এ ঘটনায় প্রথমে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা নেওয়া হয়। পরে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে সৌরভ হোসেন ও তার দাদী তফুরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছেলে মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত।
অপরদিকে, তফুরাকে হত্যাকান্ডের আলামত লোপাট চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে কান্নাকাটি ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর অভিযোগে ১৪ দিন বয়সী নবজাতক ছেলেকে বৃষ্টির পানি রাখার প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নবজাতকের মা ফাতেমা বেগমকে (১৯) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়ির সৌরভের ঘরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নবজাতক ওই বাড়ির সৌরভ হোসেনের ছেলে। ফাতেমা বেগম উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের শরীফ উল্যার মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের পর সৌরভের সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়। এরপর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যা থেকে নবজাতক নিখোঁজ হলে পরিবারের সদস্যরা ফাতেমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, পেছন থেকে তাকে মাথায় আঘাত করে কে বা কারা শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে বলেন, জিনে নিয়ে গেছে। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে খোঁজাখুজির একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে ঘরে থাকা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফাতেমা সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। নবজাতক জ্বালাতন করত, ঘুম যেতনা, অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত, মাকে ঘুম যেতে দিতনা বলে প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে পেলে তাকে হত্যা করেন।
বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের এক ক্যামেরাম্যানসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের মৌশাকপুর গ্রামের গাজীটোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন, নজরুল ইসলাম শান্ত, মারুফ আহাম্মেদ, জসিম উদ্দিন, সাকিব হোসেন ও বাবলু। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
গুলিবিদ্ধ নজরুল ইসলাম শান্ত জানান, তিনটি মোটরসাইকেল, দুটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে কয়েকজন নারীসহ আমরা একটি বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ভিডিও করতে যাচ্ছিলাম। ওই সময় পিছন দিক থেকে আমাদের মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। এতে তারা মোটরসাইকেল থেকে সড়কে পড়ে যান। এতে তাদেরর সঙ্গে থাকা পাঁচজনের মাথায়, হাতে পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়। হামলাকারীদের মধ্যে স্থানীয় হারুন ও পিচ্চি রিয়াদকে চিনতে পেরেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় পিচ্চি রিয়াদ আমাকে জামায়াত-শিবির করি বলে মন্তব্য করে পায়ে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার হুমকি দেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হারুন ও রায়হানের মধ্যে পূর্ববিরোধের জেরে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। মূলত হারুন ও তার লোকজন তাদের প্রতিপক্ষ রায়হানের লোকজন ভেবেই এদের ওপর গুলি চালায় বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হারুন ও পিচ্চি রিয়াদের মুঠোফোনে একাধিক কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, মোটরসাইকেল আরোহীদের পিছন থেকে গুলি করা হলে তিনজন ছররা গুলিতে আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী এলেঙ্গাতে দুই দিনব্যাপী শাওনের ডালা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১৭ ই আগস্ট সোমবার এলেঙ্গা জমিদার বাড়ি অঙ্গনে সাধনা, ব্রতি ও জাতীয় জাদুঘর এ আয়োজন করে।
লুবনা মরিয়ম গবেষণা ও গ্রামীণ সংস্কৃতি কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা লুবনা মরিয়মের সভাপতিত্বে এই মেলার উদ্বোধন করেন কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জিতেন্দ্র বালা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, বরেণ্য অর্থনীতিবিদ ও সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ কাইয়ুম খান সিদ্দিকী, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সভাপতি মাছুদুর রহমান মিলন, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড এলেঙ্গা শাখার ম্যানেজার প্রবাল কমল ভট্টাচার্য মানিক, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা এলেঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ শিকদার প্রমুখ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শাওনে ডালার ইনচার্জ লাবণ্য সুলতানা। মেলায় দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গ্রামীণ জীবনের নানা অনুসংঘ তুলে ধরে ২০ টি স্টল অংশ নিয়েছে। দুইদিন ব্যাপী এ মেলায় স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা আয়োজন থাকবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
প্রায় চার দশক আগে যে বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে পা রেখেছিলেন, সেখানেই কেটে গেল তাঁর পুরো কর্মজীবন। টানা দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গেলেন। সোমবার সেই বিদ্যালয় থেকেই বিদায় নিলেন শিক্ষক বেলা রানী দেব। তবে তাঁর বিদায়টা ছিল অন্য রকম।
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন বেলা রানী দেব। গতকাল সোমবার দুপুরে তাঁর বিদায় উপলক্ষে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সহকর্মীরা মিলে এক বর্ণিল আয়োজন করেন। সেখানে অংশ নেন স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। ফুল, উপহার আর ভালোবাসায় ভরিয়ে দেওয়ার পর ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় প্রিয় শিক্ষককে। ঘোড়ার গাড়ির সামনে-পেছনে ছিল মোটরসাইকেলের বহর, যেন রাজকীয় বিদায়।
মেঘলা দিনে বিদায়ের আয়োজন
সোমবার সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। দুপুরে শুরু হয় হালকা থেকে ভারী বৃষ্টি। এর মধ্যেই বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। প্যান্ডেলের নিচে সাজানো চেয়ার।
বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের সবুজ মাঠ কাদায় থকথকে হয়ে গেলেও আয়োজন থামেনি। পানি সরাতে নালা কাটা থেকে শুরু করে নানা ব্যবস্থা করেন আয়োজকেরা। বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের কাছেই তখন দাঁড়িয়ে ছিল একটি ঘোড়ার গাড়ি।
একপর্যায়ে বিদ্যালয়ে এসে পৌঁছান বেলা রানী দেব। তাঁকে দেখেই ছুটে আসেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। কেউ জড়িয়ে ধরেন, কেউ সালাম দেন। নারী অভিভাবকদের অনেকে তাঁকে আলিঙ্গন করেন। বিদায়ের আয়োজন হলেও মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আনন্দ ও আবেগময়।
ফুল, উপহার আর স্মৃতির ভার
বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। অতিথি, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী—সবাই যোগ দেন আয়োজনে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ চন্দ্র ধরের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার, বিশেষ অতিথি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জলিল তালুকদার, উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক মো. রেজওয়ানুল হক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও লেখক মহিদুর রহমান, অন্যতম আয়োজক তুহিন জুবায়ের প্রমুখ।
বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বেলা রানী দেবও। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে শিশুশিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি পড়ে যায়। কারও হাতে ফুল, কারও হাতে ফুলের মালা, আবার কারও হাতে উপহারের ছোট-বড় রঙিন বাক্স। দল বেঁধে কিংবা একা একা এসে তারা প্রিয় শিক্ষকের হাতে উপহার তুলে দেয়। সহকর্মী ও অভিভাবকেরাও দেন উপহার।
‘ভালো শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা মনে রাখে’
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও লেখক মহিদুর রহমান বলেন, ‘ভালো শিক্ষকের নির্দেশক (ইন্ডিকেটর) হচ্ছেন তাঁর শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষক পাওয়া যায়, কিন্তু মনে থাকে এক-দুজনকে। শিক্ষার্থীরা ওই এক-দুজনকেই স্মরণ করেন। বেলা রানী দেব তাঁর কাজ দিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মনে জায়গা করে নিয়েছেন।’
সংবর্ধনার অন্যতম আয়োজক এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তুহিন জুবায়ের বলেন, ‘আমরা তাঁকে দিদিমণি ডাকি। আমরা তাঁর কাছে পড়েছি, আমাদের সিনিয়ররা পড়েছেন। শৈশব থেকেই তাঁকে দেখে আসছি। এত দিন বিদ্যালয়ে শিক্ষা দিয়েছেন, আমরা আমাদের দায় থেকে এই আয়োজন করেছি। তাঁকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানো কর্তব্য মনে করেছি। আমাদের চেষ্টা ছিল এমন কিছু করা, যাতে অবসর সময়ে এই স্মৃতিটুকু মনে করে তিনি আনন্দ পান, ভালো থাকেন।’
বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং রাজনগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহনা আক্তার, মেহজাবীন আক্তার ও জান্নাত আক্তারও এসেছিল প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে। তারা জানায়, বেলা রানী দেব তাদের খুব আনন্দ দিয়ে পড়াতেন। পাঠ্যসূচির বাইরেও জ্ঞান অর্জনের জন্য নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন তিনি।
‘এই স্কুলটা আমার বাড়ির মতো’
বিদ্যালয় থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে উত্তর নন্দীউড়া গ্রামে বেলা রানী দেবীর বাড়ি। ১৯৮৭ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন তিনি।
এরপর আর অন্য কোথাও যেতে হয়নি। তাঁর স্বামী রবীন্দ্র লাল দেব সরকারি চাকরি করতেন। তিনি মারা গেছেন। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। মেয়ে আবার মায়ের সেই বিদ্যালয়েই সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
৩৯ বছরের বেশি সময় একই বিদ্যালয়ে কাটানোর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বেলা রানী দেব বলেন, ‘আমার অনেক ছাত্রছাত্রী দেশে-বিদেশে। তারা যে আমাকে এতটা ভালোবাসে, এত আন্তরিক- এটা আমি আগে বুঝিনি। এই স্কুলটা আমার বাড়ির মতো, পরিবারের মতো।’ একটু থেমে তিনি বলেন, ‘এই স্কুলের শুরুতে যারা শিক্ষার্থী ছিল, তাদের সন্তানকে পড়িয়েছি। আজকের যে আয়োজন, এতে কত যে আনন্দ হচ্ছে, এটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’
কথা বলতে বলতে ভারী হয়ে আসে তাঁর গলা, চোখে জমে ওঠে অশ্রু। এত বছরের মায়ার বাঁধন ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁর চোখে-মুখে।
বিদায় মুহূর্ত ঘনিয়ে আসে। বিদ্যালয় ভবন থেকে শিক্ষকের বের হওয়ার পথে দুই পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় শিক্ষার্থীরা। ড্রাম ও বাদ্যের তালে উড়তে থাকে নানা রঙের ধোঁয়া। এরপর অপেক্ষায় থাকা ঘোড়ার গাড়িতে তুলে দেওয়া হয় বেলা রানী দেবকে। সামনে-পেছনে মোটরসাইকেলের বহর। সেই পুরোনো পথ ধরে রাজকীয় সাজে এগিয়ে চলে ঘোড়ার গাড়ি-তাঁর বাড়ির দিকে। এই পুরোনো পথ ধরে আগের মতো হয়তো তাঁর আর এই বিদ্যালয়ে ফেরা হবে না। তবে এই রঙিন পথটি অনেক দিন তাঁর মনে থাকবে।
পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপি নেতা মিয়া হাসিবুল হাসান হাসিব ও লাল চিহ্নে জেমিনি লোগো। ছবি: তার ফেসবুক থেকে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়েছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিয়া হাসিবুল হাসান হাসিব।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে ছবিটি পোস্ট করেন তিনি। পোস্টে দাবি করা হয়, আগের দিন ১৫ আগস্ট একটি দলীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। ছবিতে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
ছবিটি পোস্ট করে হাসিব লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! গতকাল আমার অনুভূতির মূল উৎস, আমার শ্রদ্ধেয় নেতার সঙ্গে সালাম বিনিময়ের পরম সৌভাগ্য হয়েছিল। যে নেতাকে দেখে প্রতিনিয়ত পথচলার প্রেরণা পাই, তার সঙ্গে এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ আমার হৃদয়ে অসীম আনন্দ এনে দিয়েছে।’
তবে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর ছবিটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে ছবিটি বিশ্লেষণ করে এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার বেশ কিছু আলামত পাওয়া যায়। ছবিতে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারের হাতলের নিচের অংশে Gemini AI-এর লোগোও দেখা যায়। এ ছাড়া ছবির বিভিন্ন অংশে অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। খন্দকার আব্দুল্লাহ নামের একজন ছবিটির নিচে মন্তব্য করেন, ‘ওরে বাটপাড়, এআই দিয়ে ছবি বানিয়ে ছাড়ে!’
আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি বাশারুল বারী বলেন, সে এর আগে আওয়ামী লীগের আমলে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছে, এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সংঙ্গে এআই জেনারেটেড ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে। তিনি আসলে কি বুঝাতে চাইছে। এগুলো করে এলাকায় বোঝাতে চায় যে, আমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ আছে। এতে প্রভাব বিস্তার ও জমি দখল করতে সুবিধা হয়। প্রশাসনও তাকে বেশি মূল্যায়ন করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার বড় ভাই ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য নুরুল হাসান মিয়া। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন হাসিব দেখভাল করছেন। পাঁচ তারিখের পর বিদেশ থেকে এসে বড় নেতা হয়ে গেছেন। এখন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগ, সবাই এআই বোঝে। এ ধরনের বাটপাড়ি ধরা পড়ে যাবে। এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রীর ছবি এভাবে এআই দিয়ে তৈরি করে ফেসবুকে পোস্ট করা আইনত অপরাধ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল হক রিপন বলেন, লিডারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।