ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। ময়মনসিংহের ভালুকার গ্রামীণ সড়ক ধরে একের পর এক ভ্যান, ঠেলাগাড়ি ও পিকআপ এগিয়ে যাচ্ছে বাজারের দিকে। প্রতিটি গাড়িতে সাজানো জাতীয় ফল কাঁঠাল। কোথাও কৃষকের ব্যস্ততা, কোথাও পাইকারের দরদাম, আবার কোথাও শ্রমিকদের হাঁকডাক–সব মিলিয়ে কাঁঠালের মৌসুমে প্রাণ ফিরে পেয়েছে উপজেলার হাট-বাজারগুলো।
প্রকৃতি এবার যেন ভালুকার কৃষকদের জন্য দু’হাত ভরে দিয়েছে। গাছের ডালে ডালে ঝুলছে অসংখ্য কাঁঠাল। বাজারে জমেছে ফলের স্তূপ। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, কৃষকের ঘরে এসেছে স্বচ্ছলতার বার্তা। কিন্তু এই প্রাচুর্যের আড়ালেই রয়েছে এক কঠিন বাস্তবতা–ফলন বাড়লেও বাড়ছে না কৃষকের লাভ।
কারণ, উৎপাদনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, বাজার ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা। ফলে মৌসুমের অল্প সময়ের মধ্যেই বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হয়। আর এই সুযোগে অনেক কৃষক বাধ্য হন কম দামে কাঁঠাল বিক্রি করতে।
লালমাটির উঁচুনিচু ভূপ্রকৃতি, বনাঞ্চল ও শিল্পসমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে পরিচিত ভালুকা বহু বছর ধরে কাঁঠাল উৎপাদনের জন্য পরিচিত। শিল্পায়নের বিস্তার ঘটলেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এখনো কাঁঠাল চাষ ধরে রেখেছেন হাজারো কৃষক।
ভোর হলেই উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের সিডস্টোর বাজার, ভালুকা বাসস্ট্যান্ড, ভরাডোবা বাসস্ট্যান্ড, উথুরা বাজারের চান্দের হাট, মল্লিকবাড়ী, বিরুনীয়া, কাচিনা, শান্তিগঞ্জ, পোনাশাইল ও আঙ্গারগাড়া বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় কাঁঠালের বেচাকেনা।
গ্রাম থেকে কৃষকরা নিয়ে আসেন তাদের বাগানের ফল। পাইকাররা আকার, মান ও পাকাভাব দেখে দরদাম করেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এসব বাজার থেকে কাঁঠাল কিনে নিয়ে যান।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভালুকায় কাঁঠালের প্রধান সমস্যা উৎপাদন নয়–সমস্যা হলো উৎপাদিত ফল ধরে রাখার সক্ষমতার অভাব। কাঁঠাল এমন একটি ফল, যা পাকলে দ্রুত বাজারজাত করতে হয়। পর্যাপ্ত ঠান্ডা সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হন।
সিডস্টোর উত্তর বাজারের ব্যবসায়ী ফালু সরকার বলেন, “ভালুকার কাঁঠালের চাহিদা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখানকার কাঁঠাল যায়। কিন্তু এবার ফলন বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। পরিবহন খরচও বেড়েছে। সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে কৃষক ও ব্যবসায়ী দুই পক্ষই লাভবান হতো।”
হবিরবাড়ী বাজারের আড়তদার মেহিদী মৃধা মিয়া বলেন, “অনেক বছর ধরে কাঁঠালের ব্যবসা করছি। বর্তমানে আকারভেদে ছোট কাঁঠাল ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বড় কাঁঠাল ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদন অনুযায়ী কৃষকরা লাভ পাচ্ছেন না।”।”
সিলেট থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মো. রাজু মিয়া বলেন, “কাঁঠাল কিনে পরিবহন ও বাজারজাত করতে অনেক খরচ হয়। আগের তুলনায় চাহিদা কমে যাওয়ায় লাভও কমেছে।”।”
কাচিনা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল করিম বলেন, “এ বছর গাছে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। কিন্তু দাম কম থাকায় খরচ তোলা কঠিন হয়ে গেছে। সময়মতো বিক্রি করতে না পারলে গাছেই ফল নষ্ট হয়ে যায়।”
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাঁঠালের মৌসুম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এই স্বল্প সময়ে সব ফল বাজারজাত করতে না পারলে কৃষকের হাতে আর কোনো বিকল্প থাকে না। অথচ কাঁঠাল থেকে জুস, চিপস, আচার, শুকনো কোয়া, বীজের গুঁড়া ও বিভিন্ন মূল্য সংযোজন পণ্য তৈরি করা সম্ভব।
ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, “ভালুকায় এবার কাঁঠালের উৎপাদন সন্তোষজনক। এ বছর ৩৮৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল চাষ হয়েছে, যার আনুমানিক উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রায় ৪৩ হাজার ৯০০ মেট্রিকটন। আমরা চেষ্টা করছি কীভাবে কাঁঠাল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য যেমন জেলি, চিপস তৈরি করা যায়। এতে কৃষকরা কাঁঠালের বাড়তি দাম পাবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁঠালকে শুধু মৌসুমি ফল হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব নয়। আধুনিক সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং বাজার ব্যবস্থাপনা তৈরি হলে একই ফল থেকে কৃষকরা মৌসুমের বাইরেও আয় করতে পারেন।
প্রতিবছর কাঁঠালকে ঘিরে ভালুকায় তৈরি হয় কোটি টাকার মৌসুমি অর্থনীতি। কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও পরিবহন খাতের হাজারো মানুষ এই ফলের সঙ্গে জড়িত।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়–যে অঞ্চলের গাছে গাছে হাজার হাজার কাঁঠাল ঝুলছে, সেই অঞ্চলের কৃষক কেন এখনো ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না?
কৃষকের ঘাম আর শ্রমে উৎপাদিত এই জাতীয় ফল যদি সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়, তবে ক্ষতি শুধু একটি ফলের নয়–ক্ষতি একটি সম্ভাবনাময় কৃষি অর্থনীতির।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে হিমাগার, আধুনিক বাজারব্যবস্থা ও কাঁঠালভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠলে ভালুকার কাঁঠাল দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিতে পারে।
মাদারীপুরের শিবচরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের বালাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার আজিজুর সরদারের মেয়ে নানাবাড়িতে বেড়াতে যায়। পরে খালাতো জান্নাতুল, আতিকা ও লাবিবাসহ তিনজন বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে তারা পুকুরের গভীর পানিতে চলে গেলে দুজন পানিতে তলিয়ে যায়। অপরজনও পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকে।
পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই কিশোরীকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর কিশোরীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুই কিশোরীর মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, দুই কিশোরীর পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি (বিসিডিএস) গাজীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে বার্ষিক মিলনমেলা-২০২৬ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) গাজীপুরের নাটা এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি (বিসিডিএস) গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি হাজী মো. শামসুল হক। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল-আমিন হোসেন (অপু), সহ-সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম এবং সাবেক সভাপতি এম এ লতিফ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পূর্ব মেট্রো থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাউদ্দিন, গাজীপুর মহানগর কৃষক দলের সভাপতি আতাউর রহমান আতা, বিসিডিএস টঙ্গী পশ্চিম থানা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রাফিজুল ইসলাম এবং সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য আরাফাত রহমান লিটু, কাউসার মাহমুদ, মো. খোরশেদ আলম, মো. নাসির উদ্দিন মাস্টার, মো. এনামুল হক, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. কানন, মো. সেলিম এবং ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেনসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ওষুধ ব্যবসায়ী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
বক্তারা বলেন, ওষুধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য এবং পেশাগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতেই এ ধরনের মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতেও সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কমন গিফট বিতরণ এবং র্যাফেল ড্র-এর আয়োজন করা হয়। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দিনাজপুরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বাদ আসর দিনাজপুর জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খালেদা জিয়া আজ তাঁদের মাঝে নেই। তাঁর আদর্শ ও রাজনৈতিক চেতনাকে ধারণ করে দলীয় নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীলভাবে পথ চলতে হবে। কোনো কাজ করার আগে তা দলের, দেশের এবং সাধারণ মানুষের জন্য ভালো না মন্দ—তা বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, “দল আমাদের, দেশ আমাদের। ক্ষমতায় বিএনপি—এমন কোনো কাজে আমরা জড়াবো না, এমন কোনো কাজ করবো না”। একই সঙ্গে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় সামাজিকভাবে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে এগিয়ে নিতে হবে। পরে তিনি মরহুমা খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তাঁদের প্রয়াত সন্তান আরাফাত রহমান কোকোর জন্য দোয়া কামনা করেন। পাশাপাশি বিএনপির প্রয়াত নেতাকর্মী এবং সম্প্রতি মৃত্যুবরণকারী সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।
জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিবর্গ এবং দিনাজপুরে মৃত্যুবরণকারী সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। আল্লাহ যেন তাঁদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন—এ কামনা করেন তিনি।
দোয়া মাহফিলে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. হাসানুজ্জামান উজ্জ্বল, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. আনিসুর রহমান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম গুরু, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সোহেল, দপ্তর সম্পাদক আখতারুজ্জামান আক্তার, সহ-প্রচার সম্পাদক হীরা ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান বাদশা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও নাজমুল হুদা জনি উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক মো. আব্দুল কাইয়ুম, দিনাজপুর পৌর বিএনপির সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক হাসু খাঁন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী জিন্নাত আরাসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. বাবু চৌধুরী।
দোয়া মাহফিলে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর জন্য দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে বিএনপির প্রয়াত নেতাকর্মী এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে তৎকালীন দিনাজপুর জেলার জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বলে বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ রয়েছে। তিনি দিনাজপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন এবং দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি মোট তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়ীত্ব পালন করেন।
২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট তাঁর মৃত্যুর পর প্রথম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।এদিকে, খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
ঐতিহ্য, আনন্দ ও গ্রামীণ নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গ্রাম বাংলার নারীদের উৎসব ২.০’। নুর এন্ড নাজাত ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) আটোয়ারীর বালিয়া লক্ষীথান উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের সাধারণ নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় উৎসবস্থল দিনভর প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
উৎসবের সমাপনী পর্বে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির ও তাঁর সহধর্মিণী সোনিয়া জামান খান। এ সময় তাঁরা উৎসবে অংশ নেওয়া গ্রামবাসীদের সঙ্গে সরাসরি কুশল বিনিময় ও মতবিনিময় করেন। তাঁদের আন্তরিক আলাপচারিতায় উপস্থিত নারীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।
আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ নারীদের আনন্দ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। উৎসবে অংশ নেওয়া নারীরাও এমন আয়োজনের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দিনব্যাপী উৎসব শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী, অতিথি ও সহযোগীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
নোয়াখালী সদর উপজেলার আলোচিত তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা ‘ট্রিপল মার্ডার’ মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো.শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার ওমর নাসির সাজু (৩২), ওমর শরীফ সুলতান (২৫) এবং নোয়াখালী পৌরসভা এলাকার মো. সৌরভ (২৭)। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী (২৭), কুদরত উল্যাহ (৬৫) ও হারুনুর রশীদ বাবুল (৪৫)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মে দুপুরে কলেজ নোয়াখালী সরকারি কলেজ সংলগ্ন হোস্টেলের পুকুরে কুকুরকে গোসল করানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন সন্ধ্যার পর স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠক বসে। শালিসে আনোয়ারের বন্ধু রাজিব ও ওয়াসিমও উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এজাহারভুক্ত আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে আসামি সাজু, সৌরভ ও সুলতান এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে ওয়াসিম, রাজিব ও ইয়াছিন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজিবকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাদেরও মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত রাজিবের স্ত্রী কামরুন নাহার ছবি বাদী হয়ে সুধারাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ১ নম্বর অতিরিক্ত আদালতের পিপি ও বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. বরুত উল্যাহ রাসেদ বলেন, গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি ফিরোজ আলম বাপ্পীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মামলার পর থেকে অপর পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. শামসুদ্দিন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পৌঁছান তিনি। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বিভিন্ন স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সকাল থেকেই কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে জেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। সফরের শুরুতে পাকুন্দিয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।
এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কটিয়াদীর আচমিতা এলাকায় কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১টার দিকে আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
ঢাকার বাইরে এবারই প্রথম জাতীয় পর্যায়ে মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন হচ্ছে কিশোরগঞ্জে। হাওর, নদী-বিল ও মিঠাপানির মাছের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের মৎস্য খাতের সম্ভাবনা ও সাফল্য জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে এবারের আয়োজন কিশোরগঞ্জে করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখা উদ্যোক্তাদের পুরস্কৃত করা হবে। আয়োজন ঘিরে মৎস্যচাষি, জেলে, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মাঠের উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
পরে সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও কিছুক্ষণ বিশ্রাম শেষে বিকেল ৪টার দিকে জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এ ছাড়া সারা দেশের শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার পাইলট কার্যক্রমও এ সফরের মাধ্যমে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কিশোরগঞ্জবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কিশোরগঞ্জ ইপিজেড বাস্তবায়ন, হাওরের মাছ সংরক্ষণে আধুনিক হিমাগার এবং পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি আবারও আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, মৎস্য ও কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সফর নতুন উদ্যোগের বার্তা নিয়ে আসবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলের নেতারা।