দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ

ভালুকায় রাম্বুটানের আকাশছোঁয়া দাম

বিদেশি ফল রাম্বুটান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ এএম

বিদেশি ফল রাম্বুটানের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়লেও ময়মনসিংহের ভালুকায় এর আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ ক্রেতাদের হতাশ করছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় যেখানে প্রতি কেজি রাম্বুটান ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে ভালুকায় একই ফল কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দাম পরিশোধ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের।


স্থানীয় বাজার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ভালুকায় রাম্বুটানের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফলে ফলটির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের জন্য এটি এখন প্রায় বিলাসপণ্যে পরিণত হয়েছে।


ভালুকা উপজেলার গোয়ারী এলাকায় ‘তায়েফ এগ্রো’ নামে একটি বাণিজ্যিক বাগানে বর্তমানে থোকায় থোকায় ঝুলছে আকর্ষণীয় লাল রঙের রাম্বুটান। প্রায় ২০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা বাগানটিতে রয়েছে তিন শতাধিক পরিণত গাছ। থাইল্যান্ডপ্রবাসী উদ্যোক্তা আশরাফ শুভ তার চাচা মামুনকে সঙ্গে নিয়ে বাগানটির পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা করছেন। বাগান কর্তৃপক্ষ বর্তমানে প্রতি কেজি রাম্বুটান ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।


তবে বাজার ঘুরে জানা গেছে, ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ফল প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে ভালুকার ক্রেতাদের একই ফল কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ মূল্য। এই মূল্য পার্থক্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।


এ বিষয়ে তায়েফ এগ্রোর উদ্যোক্তা আশরাফ শুভ বলেন, “রাম্বুটান একটি বিদেশি ও উচ্চমূল্যের ফল। বাগান প্রতিষ্ঠা, চারা সংগ্রহ, সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থা, পরিচর্যা ও শ্রমিক ব্যয়সহ উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বর্তমানে ফলটির উৎপাদন সীমিত হলেও চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সে কারণেই বাজারে এর দাম বেশি রয়েছে।”


তিনি আরও বলেন, “রাম্বুটান চাষে দীর্ঘ সময়, নিবিড় পরিচর্যা ও বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। আমরা মানসম্পন্ন ফল উৎপাদনের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে ভালো পণ্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে দেশে বাণিজ্যিকভাবে রাম্বুটান চাষ সম্প্রসারিত হলে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়বে, ফলে বাজারমূল্যও সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে বলে আশা করছি।”


আশরাফ শুভ জানান, দেশের আবহাওয়া ও মাটিতে সফলভাবে রাম্বুটান চাষ সম্ভব হওয়ায় নতুন উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে। পরিকল্পিতভাবে চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে এটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।


উচ্চমূল্যের কারণে রাম্বুটান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে। অনেকেই ফলটির স্বাদ ও পুষ্টিগুণের প্রশংসা করলেও অতিরিক্ত দামকে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


মুক্তাগাছা থেকে আসা রিপন মিয়া জানান, “রাম্বুটান দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমনি সুস্বাদু। কিন্তু প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা দাম হওয়ায় পরিবারের জন্য নিয়মিত কেনা সম্ভব নয়।”


আরেক ক্রেতা জানান, “দেশের অন্য জেলায় যেখানে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় রাম্বুটান পাওয়া যায়, সেখানে ভালুকায় প্রায় দ্বিগুণ দাম দিতে হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে এবং সাধারণ মানুষও সহজে এই ফল কিনতে পারবে।”


এদিকে, রাম্বুটান বাগানকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বিদেশি এই ফলের বাগান দেখতে ভিড় করছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই বাগানে ঘুরতে আসছেন, ছবি তুলছেন এবং রাম্বুটান সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন। 


তবে বাগানের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হলেও ফলের দাম শুনে অনেক দর্শনার্থী হতাশ হচ্ছেন। আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও উচ্চমূল্যের কারণে অনেকে রাম্বুটান না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।


স্থানীয়দের মতে, বাগানটি ইতোমধ্যে ভালুকার একটি নতুন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে ফলটির বর্তমান মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় অধিকাংশ দর্শনার্থীর আগ্রহ কেবল দেখা ও ছবি তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।


অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো কৃষিপণ্যের দাম যখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য ব্যয়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হয়ে যায়, তখন সেটি ধীরে ধীরে সাধারণ ভোগ্যপণ্য থেকে বিলাসপণ্যে রূপ নেয়। বর্তমানে ভালুকায় প্রতি কেজি রাম্বুটানের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ফলটি কার্যত নাগালের বাইরে চলে গেছে।


দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেখানে প্রতি কেজি রাম্বুটান ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে ভালুকার ক্রেতাদের প্রায় দ্বিগুণ মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারে মূল্য বৈষম্যের একটি চিত্রও ফুটে উঠেছে। 


সচেতন ভোক্তাদের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এই অস্বাভাবিক মূল্য পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।


শুধু ফল নয়, ভালুকায় রাম্বুটানের চারার বাজারেও দেখা গেছে আকাশছোঁয়া দাম। স্থানীয়ভাবে প্রতিটি চারা প্রায় ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ফলগাছের চারার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। ফলে অনেক শৌখিন বাগানপ্রেমী ও নতুন উদ্যোক্তা আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও চারা কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে লাভজনক ফল হিসেবে রাম্বুটানের সম্ভাবনা থাকায় চারার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু সীমিত সরবরাহের কারণে চারার দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেকের মতে, ফলের পাশাপাশি চারার বাজারেও কৃত্রিম সংকট ও উচ্চ চাহিদার প্রভাব পড়েছে।


ভালুকা উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূর জাহান বলেন, “বিদেশি ফল হলেও রাম্বুটান বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই খাপ খাইয়ে নিয়েছে। ফলে দেশে বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষের সম্ভাবনা দিন দিন উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।”


তিনি আরও বলেন, “রাম্বুটান একটি উচ্চমূল্যের ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল। এর ব্যতিক্রমধর্মী স্বাদ, আকর্ষণীয় রঙ এবং বাজারমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে। ফলটিতে প্রচুর ভিটামিন-সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।”


নূর জাহান জানান, রাম্বুটানের মোটা ও শক্ত খোসা থাকায় এটি তুলনামূলক দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব। ফলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সহজে পরিবহন ও বাজারজাত করা যায়। পরিকল্পিতভাবে চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে ভবিষ্যতে রাম্বুটান দেশের একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।


স্থানীয়দের দাবি, ফল ও চারার উভয় ক্ষেত্রেই উৎপাদন এবং সরবরাহ বৃদ্ধি করা গেলে বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে, দাম কমবে এবং বিদেশি এই সুস্বাদু ফলটি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে। বর্তমানে রাম্বুটান যতটা তার স্বাদ ও সৌন্দর্যের জন্য আলোচিত, তার চেয়েও বেশি আলোচনায় রয়েছে এর আকাশছোঁয়া মূল্য।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫৪ পিএম

মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে। এতে নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকা ও সড়ক পানির নিচে চলে গেছে। সোমবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, জিইসি ও প্রবর্তকসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। 


কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ ও পথচারীরা।


আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।


পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা ইসমাইল মিয়া বলেন, সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়া এবং মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।


আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।


সোমবার সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমতে শুরু করে। মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, জিইসি ও প্রবর্তক এলাকার বিভিন্ন অংশে সড়কের ওপর পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। হাঁটুপানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায় পথচারীদের। জলাবদ্ধতার কারণে কিছু সড়কে যানবাহনের গতিও কমে যায়।


মুরাদপুর মোড়ে স্কুলগামী অভিভাবক আলতাফ হোসেন বলেন, সকালে বাসা থেকে বের হয়েই সড়কে পানি দেখতে পান। বাধ্য হয়ে পানি মাড়িয়ে বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে গেছেন। বৃষ্টি হলেই এই ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের। কাতালগঞ্জে অফিসগামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী শাহানারা বেগম বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই কাতালগঞ্জে পানি উঠে যায়। এমনিতে গণপরিবহন নেই। বৃষ্টির কারণে পানি জমে যাওয়ায় এদিকে সিএনজি অটোরিকশারও দেখা পাচ্ছেন না।


এদিকে লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।


উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামসহ দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

 


  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০৬ পিএম

কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে শরীয়তপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‎রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) বিকাল ৬টায় শরীয়তপুর পৌরসভা এলাকায় ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ, শরীয়তপুর জেলা শাখার আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

শরীয়তপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুল মোতালেব দেওয়ান হান্নান সভাপতিত্বে ও শরীয়তপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন পরিচালনায় ‎অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পারভেজ মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, গণঅধিকার পরিষদ শরীয়তপুর জেলা, কায়ুম মাতবর, সহ-সভাপতি , আসিক হোসেন, দপ্তর সম্পাদক, ছাত্র অধিকার পরিষদ শরীয়তপুর জেলা, ইব্রাহিম হোসেন, সভাপতি, সদর উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদ, মেহেদী হাসান আয়ান, সভাপতি, নড়িয়া উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদ, ‎ইমন চোকদার, সভাপতি  জাজিরা উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদ।


‎এসময় কর্মসূচিতে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

‎এসময় শরীয়তপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন বলেন, জামায়াত-শিবির কর্মীরা এই হামলা করেছে। এছাড়াও এমপির সমর্থক ও জামায়াত-শিবির কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয় ও সাধারণ সম্পাদকের ব্যক্তিগত অফিসে ভাঙচুর চালান।আমরা দ্রুত হামলাকারীদের বিচারের দাবি করছি। 

‎এসময় শরীয়তপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুল মোতালেব দেওয়ান হান্নান বলেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হামলা-সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

‎এ সময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার নেতৃত্বে এই হামলা করা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

‎উল্লেখ্য, সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ ওঠে এবং দলটির পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫৩ এএম

৪ নং কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর একটি অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।


রোববার (১৬ আগস্ট) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতা মো. রফিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে যান পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জননেতা ব্যারিস্টার নওশাদ জামির।


এ সময় তিনি তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। মো. রফিকুল ইসলামের দ্রুত সুস্থতা ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করে পঞ্চগড়বাসীর কাছে তাঁর জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে।


  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৮ পিএম

  • ‘এটা আমাদের কাজ নয়, সিটি করপোরেশনের কাজ’-পুলিশ কর্মকর্তা
  • ‘পুলিশের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে’-সিটি প্রশাসক


ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন ফুটপাত ও সড়কের পাশে বসানো দোকান ও অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, ফুটপাতকেন্দ্রিক এই চাঁদাবাজির পরিমাণ মাসে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। তবে এই অর্থের হিসাব, কারা চাঁদা আদায় করছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত-এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি।


ফুটপাত দখল ও সেখান থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “এটা আমাদের কাজ না, এটা সিটি করপোরেশনের কাজ।” 


তাঁর এমন বক্তব্যের পর ফুটপাত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


অন্যদিকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন দাবি করেন, ফুটপাত থেকে কারা চাঁদা আদায় করে-এ বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। ফলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এর আগে গত ১৭ জুলাই রাতে নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ এলাকায় পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের সময় দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন। এ ঘটনায় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।


নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও যানজট নিরসনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও এর আগে জানিয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরও বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকান বসানো এবং সেখান থেকে অর্থ আদায়ের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।


নগরবাসীর প্রশ্ন-যদি ফুটপাত থেকে প্রতি মাসে ২৪ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে কারা এই অর্থ সংগ্রহ করছে? টাকা যাচ্ছে কার কাছে? আর এর পেছনে রয়েছে কারা?


এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নিরপেক্ষ তদন্ত, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।


তবে মাসে ২৪ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের দাবিটি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণ প্রকাশের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


ইটের দেয়াল তুলে ও গাছ লাগিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৬ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে ইট দিয়ে ঘিরে ও গাছ লাগিয়ে জমি জবর দখলের পাঁয়তারা করার অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলা সদরের মেইন বাজারে এঘটনা ঘটে।


উপজেলা সদরের কাচারীপাড়ার মৃত নির্মাল্যভূষণ দাসের ছেলে শ্রী জয়ন্ত কুমার দাস অভিযোগ করেন যে, মহাদেবপুর বাজারের আরএস ৪০৫ ও ৪০৬ নং খতিয়ানের ৫৯০ দাগে তার পিতার ত্যক্ত মোট ১০ শতক সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী তারা তিন ভাই জয়ন্ত কুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস ও বিপ্লব কুমার দাস। এই সম্পত্তির সামনের অংশে তাদের দোকান ঘর রয়েছে। কিন্তু দোকানের পিছনের দিকে তাদের অংশের বেশিরভাগ জমি তার ভাই বিশ্বনাথ দাস ও ভাতিজা দেবাশীষ দাস দীর্ঘদিন ধরে জবর দখলের পাঁয়তারা করে আসছে। 


গত ৭ আগস্ট সকালে তারা সেখানে ইট দিয়ে ঘিরে দখল নেয়ার চেষ্টা চালায়। বাঁধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা তাদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এনিয়ে মহাদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু প্রতিপক্ষরা রাতের আধারে কাজ করতে থাকে। 


জয়ন্ত দাস এব্যাপারে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ বিচারক বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মহাদেবপুর উপজেলা সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয় পর্যবেক্ষণ করার জন্য মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) আদেশ দেন। মহাদেবপুর থানার এসআই আছির উদ্দিন গত ১২ আগস্ট এ বিষয়ে উভয়পক্ষকে নোটিশ দেন। নোটিশ পাবার পরও গত শনিবার প্রতিপক্ষরা বিরোধীয় জমিতে গাছ লাগিয়ে দখল প্রমাণের পাঁয়তারা করে।


জানতে চাইলে দেবাশীষ দাস বলেন, মৃত নির্মাল্য ভূষণ দাসের জয়ন্ত কুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস ও বিপ্লব কুমার দাস ছাড়াও প্রশান্ত কুমার দাস নামে আরো এক ছেলে রয়েছে। ১৯৯৬ সালে প্রশান্ত তার অংশের সমুদয় জমি দেবাশীষের নামে লিখে দিয়ে গেছেন। সেই দলিলমূলেই তিনি অতিরিক্ত জমি দাবি করছেন। কিন্তু জয়ন্তরা তা দিতে নারাজ। 


জয়ন্ত জানান, প্রশান্ত ১৯৭৪ সালে ভারতে গিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সুতরাং তার অংশের জমি তারা অন্য তিন ভাই পাবেন। প্রশান্ত এখন ভারতের আধারকার্ডধারী নাগরিক। ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে তিনি সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন। 


১৯৯৬ সালে তার স্বাক্ষরে একটি ভূয়া আমমুক্তারনামা সৃজন করে দেবাশীষ প্রশান্তের অংশের জমি দাবি করছে। ওই কথিত ভূয়া আমমুক্তারনামায় জমির কোন তপশীল উল্লেখ না করে সমুদয় সম্পত্তি লেখা হয়েছে।



  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৭ পিএম

“রূপালী মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরগুনায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। 




এ উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে অফিসার্স ক্লাবে এসে শেষ হয়। পরে বরগুনা অফিসার্স ক্লাবের পুকুরে রুই, কাতলা ও সিলভার কার্পের পোনা অবমুক্ত করেন জেলা প্রশাসকসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


বরগুনা জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং সংগ্রাম স্মার্ট প্রজেক্ট এর সহযোগিতায় আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি।


সভায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ তাছলিমা আক্তার’র সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন। 




সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- পুলিশ সুপার মোঃ কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা, সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ, সংগ্রাম’র উপনির্বাহী পরিচালক চৌধূরী মোহাম্মদ মঈন, প্রেসক্লাব সভাপতি হাফিজুর রহমান প্রমূখ।


আলোচনায় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।