রংপুরে
অপহরণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তারসহ অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করেছে র্যাব। গতকাল মঙ্গলবার কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার অশোকতলা এলাকায় কুমিল্লা ও রংপুর র্যাব
যৌথ অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী তৌকির রহমানকে (১৯) গ্রেপ্তার করে।
তৌকির
রংপুর নগরীর পূর্ব বোতলাপাড়া গ্রামের রাহেল মিয়ার ছেলে।
বুধবার
(২২ এপ্রিল) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-১৩
এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী এ তথ্য জানান।
তিনি
আরও জানান, রংপুর নগরীর বাসিন্দা সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে স্কুলে
যাতায়াতের সময় তৌকির দীর্ঘদিন ধরে প্রেম নিবেদন করে আসছিল। বিষয়টি জানতে পেরে ওই ছাত্রীর পরিবার
তৌকিরকে সতর্ক করলে সে ক্ষুব্ধ হয়ে
অপহরণের হুমকি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত পহেলা এপ্রিল
স্কুলে যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীকে অপহরণ
করে তৌকির।
এ
ঘটনায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধারে
একাধিকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় তার পরিবার।এরপর
গত ১০ এপ্রিল ওই
ছাত্রীর বাবা থানায় মামলা করলে ওই ছাত্রীকে নিয়ে
আত্মগোপনে চলে যায় তৌকির।
মামলার
পর থেকে ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব। গোপন
সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে একটি বাড়ি থেকে তৌকিরকে গ্রেপ্তারসহ অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী
আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অপহৃত ও অপহরণকারীকে থানায়
হস্তান্তর করেছে র্যাব।
দলিল লেখকদের দীর্ঘদিনের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি (বাদলেস), শরীয়তপুর জেলা শাখা।
আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) সংগঠনের পক্ষ থেকে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসকের পক্ষে উক্ত স্মারকলিপি গ্রহণ করেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া ইসলাম সীমা।
স্মারকলিপিতে শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ নুরুল হক মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক বি এম মকবুল হোসেন স্বাক্ষর করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি সরোবর হোসেন সবুজ, সহ-সভাপতি আজিজুল হক, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান ফকির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন সাগর, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস বেপারী, অর্থ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, ধর্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন, ভেদরগঞ্জ উপজেলা দলিল লেখক সমিতির আহবায়ক বি এম মোস্তাফিজ (মোস্তফা), জেলা কার্যকরী সদস্য মোঃ সাগির হোসেন, সদস্য মফিদুল ইসলাম পাহাড়, সদস্য কামাল হোসেন মামুন তালুকদার, সদস্য সাখাওয়াত হোসেন প্রমূখ।
স্মারকলিপিতে দলিল লেখকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে; দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা, দলিলপ্রতি ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কাউকে দলিল লেখা বা মুসাবিদার সুযোগ না দেওয়া, থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে দলিল লেখকদের বসার ও নামাজের স্থান নির্মাণ, পেশাগত কারণে দলিল লেখকদের হয়রানি বা মামলায় আসামি না করা। থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ব্যতিত অনভিজ্ঞদের দলিল লেখাার লাইসেন্স প্রদান করা যাবেনা মর্মে প্রজ্ঞাপন জারী করতে হবে। থানা ও জেলা কার্যালয় সরকারি খরচে দলিল লেখকদের বসার ও নামাজের স্থান নির্মাণ করে দিতে হবে। যেহেতু পক্ষগণের সরবরাহকৃত কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল লেখা হয়; সেহেতু দলিল দেখকদের আসামী করা যাবেনা। দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি দিতে হবে।
স্মারকলিপিতে সংগঠনটি জানায়, দলিল লেখকরা দীর্ঘদিন ধরে ভূমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হলে সাধারণ মানুষের সেবাও আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির সমাবেশে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সারাদেশের দলিল লেখকরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এসব দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, আইনমন্ত্রী বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দলিল লেখকদের ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় লাইলি বেগম (৪৬) নামে এক নারীকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তার ছেলে সৌরভ হোসেনকে (২৮) ও শাশুড়ি তফুরা বেগমকে (৭৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, সৌরভ মাদকাসক্ত ও মানসিক বিকারগ্রস্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে আসামিদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, শুক্রবার ভোর রাতের দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের গোপাই গ্রামের আলী আজম মহুরী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লাইলি বেগম ওই বাড়ির আলমগীর হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাইলি বেগম ও তার ছেলে সৌরভ একই বসতঘরের পৃথক কক্ষে থাকতেন। আলমগীর হোসেন গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব করেন। পাশাপাশি বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন এবং রাতে সেখানেই ঘুমান। প্রায় ৮-১০ দিন আগে বাড়ির সামনের পুকুরঘাটে পড়ে লাইলি বেগমের বাম হাত ভেঙে যায়। এতে তিনি স্বাভাবিকভাবে ঘরের কাজ করতে পারতেন না। এ কারণে কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা পাশের ঘরে থাকা লাইলির সৎ শাশুড়ি তফুরা বেগমের ঘরে করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে লাইলি বেগম তফুরা বেগমের ঘরে গিয়ে রাতের খাবার খান। পরে নিজ ঘরে ফিরে যান। রাত ১২টার দিকে আলমগীর হোসেনও তফুরা বেগমের ঘরে খাবার খেয়ে চায়ের দোকানে চলে যান। পরে লাইলি ও তার ছেলে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে সৌরভ ঘুম থেকে উঠে তার মাকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি তিনি তার দাদী তফুরা বেগমকে জানান। তফুরা বেগম ঘরে গিয়ে লাইলির নিথর দেহ দেখতে পান এবং চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
এরপর সৌরভ চায়ের দোকানে গিয়ে তার বাবা আলমগীর হোসেনকে ঘুম থেকে তুলে জানান, তার মা মারা গেছেন। বাড়িতে এসে আলমগীর তার স্ত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। লাইলি বেগমের গলার ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর কাটা জখম ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া তার বাম হাতের কাঁধের সামনের অংশ ও বাম হাঁটুতে ছেলা জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
খবর পেয়ে সুধারাম থানার এসআই সুমন বণিক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পিবিআই, সিআইডি ও ডিবির সদস্যরা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন বণিক বলেন, এ ঘটনায় প্রথমে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা নেওয়া হয়। পরে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে সৌরভ হোসেন ও তার দাদী তফুরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছেলে মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত।
অপরদিকে, তফুরাকে হত্যাকান্ডের আলামত লোপাট চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে কান্নাকাটি ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর অভিযোগে ১৪ দিন বয়সী নবজাতক ছেলেকে বৃষ্টির পানি রাখার প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নবজাতকের মা ফাতেমা বেগমকে (১৯) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়ির সৌরভের ঘরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নবজাতক ওই বাড়ির সৌরভ হোসেনের ছেলে। ফাতেমা বেগম উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের শরীফ উল্যার মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের পর সৌরভের সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়। এরপর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যা থেকে নবজাতক নিখোঁজ হলে পরিবারের সদস্যরা ফাতেমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, পেছন থেকে তাকে মাথায় আঘাত করে কে বা কারা শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে বলেন, জিনে নিয়ে গেছে। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে খোঁজাখুজির একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে ঘরে থাকা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফাতেমা সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। নবজাতক জ্বালাতন করত, ঘুম যেতনা, অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত, মাকে ঘুম যেতে দিতনা বলে প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে পেলে তাকে হত্যা করেন।
বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের এক ক্যামেরাম্যানসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের মৌশাকপুর গ্রামের গাজীটোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন, নজরুল ইসলাম শান্ত, মারুফ আহাম্মেদ, জসিম উদ্দিন, সাকিব হোসেন ও বাবলু। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
গুলিবিদ্ধ নজরুল ইসলাম শান্ত জানান, তিনটি মোটরসাইকেল, দুটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে কয়েকজন নারীসহ আমরা একটি বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ভিডিও করতে যাচ্ছিলাম। ওই সময় পিছন দিক থেকে আমাদের মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। এতে তারা মোটরসাইকেল থেকে সড়কে পড়ে যান। এতে তাদেরর সঙ্গে থাকা পাঁচজনের মাথায়, হাতে পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়। হামলাকারীদের মধ্যে স্থানীয় হারুন ও পিচ্চি রিয়াদকে চিনতে পেরেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় পিচ্চি রিয়াদ আমাকে জামায়াত-শিবির করি বলে মন্তব্য করে পায়ে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার হুমকি দেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হারুন ও রায়হানের মধ্যে পূর্ববিরোধের জেরে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। মূলত হারুন ও তার লোকজন তাদের প্রতিপক্ষ রায়হানের লোকজন ভেবেই এদের ওপর গুলি চালায় বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হারুন ও পিচ্চি রিয়াদের মুঠোফোনে একাধিক কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, মোটরসাইকেল আরোহীদের পিছন থেকে গুলি করা হলে তিনজন ছররা গুলিতে আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী এলেঙ্গাতে দুই দিনব্যাপী শাওনের ডালা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১৭ ই আগস্ট সোমবার এলেঙ্গা জমিদার বাড়ি অঙ্গনে সাধনা, ব্রতি ও জাতীয় জাদুঘর এ আয়োজন করে।
লুবনা মরিয়ম গবেষণা ও গ্রামীণ সংস্কৃতি কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা লুবনা মরিয়মের সভাপতিত্বে এই মেলার উদ্বোধন করেন কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জিতেন্দ্র বালা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, বরেণ্য অর্থনীতিবিদ ও সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ কাইয়ুম খান সিদ্দিকী, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সভাপতি মাছুদুর রহমান মিলন, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড এলেঙ্গা শাখার ম্যানেজার প্রবাল কমল ভট্টাচার্য মানিক, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা এলেঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ শিকদার প্রমুখ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শাওনে ডালার ইনচার্জ লাবণ্য সুলতানা। মেলায় দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গ্রামীণ জীবনের নানা অনুসংঘ তুলে ধরে ২০ টি স্টল অংশ নিয়েছে। দুইদিন ব্যাপী এ মেলায় স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা আয়োজন থাকবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
প্রায় চার দশক আগে যে বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে পা রেখেছিলেন, সেখানেই কেটে গেল তাঁর পুরো কর্মজীবন। টানা দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গেলেন। সোমবার সেই বিদ্যালয় থেকেই বিদায় নিলেন শিক্ষক বেলা রানী দেব। তবে তাঁর বিদায়টা ছিল অন্য রকম।
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন বেলা রানী দেব। গতকাল সোমবার দুপুরে তাঁর বিদায় উপলক্ষে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সহকর্মীরা মিলে এক বর্ণিল আয়োজন করেন। সেখানে অংশ নেন স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। ফুল, উপহার আর ভালোবাসায় ভরিয়ে দেওয়ার পর ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় প্রিয় শিক্ষককে। ঘোড়ার গাড়ির সামনে-পেছনে ছিল মোটরসাইকেলের বহর, যেন রাজকীয় বিদায়।
মেঘলা দিনে বিদায়ের আয়োজন
সোমবার সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। দুপুরে শুরু হয় হালকা থেকে ভারী বৃষ্টি। এর মধ্যেই বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। প্যান্ডেলের নিচে সাজানো চেয়ার।
বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের সবুজ মাঠ কাদায় থকথকে হয়ে গেলেও আয়োজন থামেনি। পানি সরাতে নালা কাটা থেকে শুরু করে নানা ব্যবস্থা করেন আয়োজকেরা। বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের কাছেই তখন দাঁড়িয়ে ছিল একটি ঘোড়ার গাড়ি।
একপর্যায়ে বিদ্যালয়ে এসে পৌঁছান বেলা রানী দেব। তাঁকে দেখেই ছুটে আসেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। কেউ জড়িয়ে ধরেন, কেউ সালাম দেন। নারী অভিভাবকদের অনেকে তাঁকে আলিঙ্গন করেন। বিদায়ের আয়োজন হলেও মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আনন্দ ও আবেগময়।
ফুল, উপহার আর স্মৃতির ভার
বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। অতিথি, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী—সবাই যোগ দেন আয়োজনে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ চন্দ্র ধরের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার, বিশেষ অতিথি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জলিল তালুকদার, উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক মো. রেজওয়ানুল হক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও লেখক মহিদুর রহমান, অন্যতম আয়োজক তুহিন জুবায়ের প্রমুখ।
বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বেলা রানী দেবও। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে শিশুশিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি পড়ে যায়। কারও হাতে ফুল, কারও হাতে ফুলের মালা, আবার কারও হাতে উপহারের ছোট-বড় রঙিন বাক্স। দল বেঁধে কিংবা একা একা এসে তারা প্রিয় শিক্ষকের হাতে উপহার তুলে দেয়। সহকর্মী ও অভিভাবকেরাও দেন উপহার।
‘ভালো শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা মনে রাখে’
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও লেখক মহিদুর রহমান বলেন, ‘ভালো শিক্ষকের নির্দেশক (ইন্ডিকেটর) হচ্ছেন তাঁর শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষক পাওয়া যায়, কিন্তু মনে থাকে এক-দুজনকে। শিক্ষার্থীরা ওই এক-দুজনকেই স্মরণ করেন। বেলা রানী দেব তাঁর কাজ দিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মনে জায়গা করে নিয়েছেন।’
সংবর্ধনার অন্যতম আয়োজক এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তুহিন জুবায়ের বলেন, ‘আমরা তাঁকে দিদিমণি ডাকি। আমরা তাঁর কাছে পড়েছি, আমাদের সিনিয়ররা পড়েছেন। শৈশব থেকেই তাঁকে দেখে আসছি। এত দিন বিদ্যালয়ে শিক্ষা দিয়েছেন, আমরা আমাদের দায় থেকে এই আয়োজন করেছি। তাঁকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানো কর্তব্য মনে করেছি। আমাদের চেষ্টা ছিল এমন কিছু করা, যাতে অবসর সময়ে এই স্মৃতিটুকু মনে করে তিনি আনন্দ পান, ভালো থাকেন।’
বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং রাজনগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহনা আক্তার, মেহজাবীন আক্তার ও জান্নাত আক্তারও এসেছিল প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে। তারা জানায়, বেলা রানী দেব তাদের খুব আনন্দ দিয়ে পড়াতেন। পাঠ্যসূচির বাইরেও জ্ঞান অর্জনের জন্য নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন তিনি।
‘এই স্কুলটা আমার বাড়ির মতো’
বিদ্যালয় থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে উত্তর নন্দীউড়া গ্রামে বেলা রানী দেবীর বাড়ি। ১৯৮৭ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন তিনি।
এরপর আর অন্য কোথাও যেতে হয়নি। তাঁর স্বামী রবীন্দ্র লাল দেব সরকারি চাকরি করতেন। তিনি মারা গেছেন। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। মেয়ে আবার মায়ের সেই বিদ্যালয়েই সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
৩৯ বছরের বেশি সময় একই বিদ্যালয়ে কাটানোর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বেলা রানী দেব বলেন, ‘আমার অনেক ছাত্রছাত্রী দেশে-বিদেশে। তারা যে আমাকে এতটা ভালোবাসে, এত আন্তরিক- এটা আমি আগে বুঝিনি। এই স্কুলটা আমার বাড়ির মতো, পরিবারের মতো।’ একটু থেমে তিনি বলেন, ‘এই স্কুলের শুরুতে যারা শিক্ষার্থী ছিল, তাদের সন্তানকে পড়িয়েছি। আজকের যে আয়োজন, এতে কত যে আনন্দ হচ্ছে, এটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’
কথা বলতে বলতে ভারী হয়ে আসে তাঁর গলা, চোখে জমে ওঠে অশ্রু। এত বছরের মায়ার বাঁধন ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁর চোখে-মুখে।
বিদায় মুহূর্ত ঘনিয়ে আসে। বিদ্যালয় ভবন থেকে শিক্ষকের বের হওয়ার পথে দুই পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় শিক্ষার্থীরা। ড্রাম ও বাদ্যের তালে উড়তে থাকে নানা রঙের ধোঁয়া। এরপর অপেক্ষায় থাকা ঘোড়ার গাড়িতে তুলে দেওয়া হয় বেলা রানী দেবকে। সামনে-পেছনে মোটরসাইকেলের বহর। সেই পুরোনো পথ ধরে রাজকীয় সাজে এগিয়ে চলে ঘোড়ার গাড়ি-তাঁর বাড়ির দিকে। এই পুরোনো পথ ধরে আগের মতো হয়তো তাঁর আর এই বিদ্যালয়ে ফেরা হবে না। তবে এই রঙিন পথটি অনেক দিন তাঁর মনে থাকবে।