• প্রকাশ : শুক্রবার ১৯ জুন, ২০২৬, সময় : ১১:৫২ এএম

আমাদের সংস্কৃতিতে একটা প্রকট মানে প্রচণ্ড বাস্তব বিরোধ যেটা এই মুহূর্তে দেখাযাচ্ছে। সেটা হচ্ছে যে আমাদের একদিকেযেমন ধর্মনিরপেক্ষতার একটা সংস্কৃতি, আরেক দিকে একটা ইসলামের সংস্কৃতি। আবার মাঝখানে আমরা যারা সুবিধাবাদী আছি কিছু, যারা আমরা ইসলামটাকেও ধারণ করতে চাই আবার একই সঙ্গে অন্য সংস্কৃতিটাকেও ধারণ করতে চাই। এটা আরেকটা সংস্কৃতি। 


বাংলাদেশে এই তিন সংস্কৃতির টানাপোড়েন এই মুহূর্তে দেখাযাচ্ছে এবং সবাই আমরা সবারটা আরেকজনের উপরে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। এটা হচ্ছে আমাদের একটা সবচেয়ে বড় সমস্যা। এইজায়গাটা থেকে আমাদের উত্তরণের প্রয়োজন। পঞ্চগড় ১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয়  নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনসস্টিটিউটের ভবন নির্মান কাজের উদ্বোধনী মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। 


এসময় তিনি বলেন আমাদের সময়ে সকলে শিক্ষকদের দ্বারা অনুপ্রাণীত হয়েছেন। তাদের কথা আমাদের সবার মনে আছে। এবং শিক্ষকদের আদলে শিক্ষকদের চিন্তাভাবনায় কিন্তু আমরা আস্তে আস্তে বেড়ে উঠেছি। কাজেই আমাদের শিক্ষকরা যদি সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত হয়, তারা যদি তাদের যে জ্ঞান, তারাযে জ্ঞানটা আহরণ করবে সেটা যদি সঠিকভাবে আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলিয়ে দিতে পারে তাহলে  দেশেরএকটা অগ্রগতি হবে। তবে এটা অবশ্যই সময়ের সাপেক্ষে। আমি যখন শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া দেখি বিভিন্ন জায়গায়, আমার কাছে এটা একটু খারাপ লাগে এইজন্য যে শিক্ষকদের কেন দাবি করতে হবে? তবে এটার অনেক কারণ আছে, কিছু ঐতিহাসিক কারণ আছে, একটা প্রতিষ্ঠান যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, শিক্ষক যেভাবে নিয়োগ পাওয়া যায়, এই সবকিছু মিলিয়েআমাদের বিভিন্ন রকম শিক্ষা ব্যবস্থা। আমাদের এখানে কয়েক রকম শিক্ষা ব্যবস্থা আছে। আমাদের যারা সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করছেন, বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করছেন, আমাদের এই শিক্ষা ব্যবস্থাটাএকরকম। 


আবার যদি শহরগুলোতে যান, ঢাকাতে বিশেষ করে যেখানে ইংরেজি মিডিয়াম শিক্ষা আছে। ইংরেজি মিডিয়ামের মধ্যে আবার তিন চার ভাগ আছে। কেউ কেউ লন্ডন ইউনিভার্সিটি যে কারিকুলাম সেটাকেঅনুসরণ করে, কেউ কেউ ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালরিয়েট যেটাকে সংক্ষেপে আইবি বলে সেটা অনুসরণ করে, কেউ কেউ আমেরিকানটা করে, কেউ ইন্ডিয়ানটা করে। ইদানিং কিন্তু আরও দেখলাম আপনার ইরানিয়ান ইন্টারন্যাশনাল আছে, ইন্ডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল, টার্কিশ ইন্টারন্যাশনাল, অনেক রকম। ইংলিশ মিডিয়ামের মধ্যে অনেক রকম ভাগ আছে। বাংলা মিডিয়ামে আমাদের যেটা সরকারি সেটা একরকম, বেসরকারি যারা তারা আমাদের একই যে পাঠ্যক্রম সেটাঅনুসরণ করলেও দেখা যায় যে শিক্ষার যেতাদের যে কার্যক্রম সেটাএকরকম সরকারি স্কুলগুলোতে আরেক রকম। তারপর আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষা। মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যেও আবার ভাগ আছে। 


কাজেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে এত রকমউপসমষ্টি আছে, এটা আস্তে আস্তে মনে হয় আমাদের এইস্বাধীনতার এত বছর পরেআমাদের চিন্তা করার প্রয়োজন । আমাদের এই  শিক্ষাব্যবস্থাকে নিয়ে একটা জাতি হিসেবে আমরা কতটুকু এগোতে পারব? এটা এখন আমার মনে হয় একটা ডিবেটবা আমাদের আলোচনা অন্তত শুরু করার সময়। কারণ আমি জানি যে আমাদের অর্থনৈতিকবাস্তবতা যেটা সারা বাংলাদেশে, আমাদের অর্থনৈতিক বাস্তবতা আমাদেরকে বিভিন্ন শিক্ষা খাতের দিকে ধাবিত করে। আমরা স্বাভাবিকভাবে যেটা দেখেছি যে আমাদের যারাসুবিধাবঞ্চিত তারা সাধারণত মাদ্রাসা শিক্ষার দিকে ঝুঁকেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আগে দেখেছি, এখন যদিও মাদ্রাসা শিক্ষা অনেক এগিয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষায় বিভিন্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হচ্ছে, আপনার আমাদের ছেলেমেয়েরা যাচ্ছে সেখানে, ভালো ভালো তাদের ফলাফলও ভালো। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা অনেক ভালো অংশগ্রহণ করছে, এগুলো আমরা দেখতে পাচ্ছি। আসলে যেটা বলতে চাচ্ছি যে একটা জাতিকেএকই ইতিহাস জেনে বড় হওয়া, একইসংস্কৃতির মধ্য থেকে বড় হওয়া প্রয়োজন।এই জায়গাটাতে আমাদের একটা বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। যেমন আরও সহজ করে বলি, আমরা যারা আমাদের সময়কার, আমরা খুবই ব্রিটিশ বিরোধী। সাংঘাতিকভাবে। কারণ আমরা যে ইতিহাসটা পড়েবড় হয়েছি, আমাদের সমাজপাঠ থেকে শুরু করে ইতিহাসের যে জিনিসগুলো আমরাশিখেছি, দেখা যায় যে ঐতিহাসিকভাবে আমরাএকরকম বেড়ে উঠেছি। তার কারণ হচ্ছে আমাদের ইতিহাসের শিক্ষাটা। যারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করছে, তাদের সংস্কৃতিটাও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন রকমের হচ্ছে। আমরা এ পর্যন্ত কিন্তুএকটা জাতি হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারিনি। আমাদেরকে একই শিক্ষায় আসতে হবে। 


আমাদের সমস্ত রাজনীতিবিদের, আমাদের যারা বুদ্ধিজীবী আছেন, আমাদের যারা চিন্তাশীল যারা ব্যক্তিরা আছেন, তাদের সবাইকে বাংলাদেশের একটা সংস্কৃতির দিকে আমাদেরকে নিয়ে আসতে হবে। এবং এই উত্তরণটা আসবেতখনই যখন আমাদের পরমতসহিষ্ণুতাটাকে আমরা জেনে আমরা নিজেদের মধ্যে আমরা নিয়ে আসতে পারব। কারণ আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমরা মনে করি আমি যেটা চিন্তা করছি, আমি যেটা ভাবছি, আমি যেটা বলছি এটাই চূড়ান্ত এবং এটাই সবচেয়ে সত্য। আমাদের যেটা হওয়া উচিত সেটা হচ্ছে যে অন্যের মতামতটাকেগুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, অন্যের চিন্তাভাবনাটাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন এবং আমাদেরকে একটা জায়গায় আসতে হবে যে আমরা অন্যেরমতামতের সঙ্গে একমত নাও হতে পারি। তাদের একটা মতামতকে রেখে আমাদের প্রত্যেকের মতামতকে এক জায়গায় রেখেআমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। এটাই আমাদের শেষ লক্ষ্য হওয়া উচিত। কাজেই আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ আজকে জানাতে চাই এই প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেআমাকে আপনারা বলতে বলেছেন, এই প্রতিষ্ঠানের জন্যআমাদের সরকারের কাছ থেকে যত রকম সুবিধাআদায় করা প্রয়োজন আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করব।


ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী মো. কায়েদ-ই-আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইনস্টিটিউটের গভর্নিং বডির সভাপতি এম এ মজিদ, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল ও নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৯ পিএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন, গনতন্ত্রের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শনিবার (১৫ আগষ্ট) বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ হোসেন আরমান মাষ্টারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির। বিশেষ অতিথি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু। পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম প্রধান প্রমূখ।  


উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার বলেন, মহাকালের দুঃখ-বেদনার, নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের ক্রন্দনধ্বনি ছড়ানোর অবিসংবাদিত নেতা বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন। আপোসহীন নেত্রী সম্পুর্ণ জীবনটাই বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন।  


উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি আপসহীন ও গণমানুষের নেত্রী। বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকার পরেও দেশের মানুষের কথা ভেবে দেশত্যাগ করেননি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির হাল ধরে রাখার পাশাপাশি তিনি নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলেন। তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে চলেছেন। আমরা লক্ষ করছি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র অব্যহত আছে। সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আমাদের সাধারণ মানুষের কল্যাণে এগিয়ে যেতে হবে। যারা বিএনপিকে নিয়ে অপপ্রচার ও কটূক্তি করছেন তাদেরকে সমস্ত সমালোচনা ও গীবত বাদ দিয়ে দেশের কল্যাণে, দেশের মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। 


গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. খাইরুল আহসান মিন্টু বলেন, গণতন্ত্রের মা ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিনে আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অত্যন্ত সাদামাটা ও মানবিক মনের একজন মানুষ। নানা চাপ ও প্রতিকুলতার মধ্যেও তিনি কখনো মাথা নত করেননি। দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। প্রয়াত আপোষহীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার কর্মের মধ্যদিয়ে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল।


এ সময় অন্যান্যের মাঝে গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আশরাফ নেওয়াজ চৌধুরী শাওন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মোল্লা, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমান জুয়েল, বাহাদুরশাদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ¦ মো. জয়নাল আবেদীন সহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, শ্রমিক দল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


পরিশেষে পবিত্র মিলাদ মাহফিলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৩ পিএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়ীতে দুর্র্ধষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দল গৃহকর্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে গৃহকর্তা ও তার মেয়েকে গুরুতর জখম করেছে। নিহতের নাম মোসা. কামরুন নাহার আক্তার (৩৫)। আহত তার স্বামী মঞ্জুরুল হক (৪০) ও মেয়ে সানজিদা আক্তার (১৬)। ঘটনাটি শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নের নগরভেলা তেঁতুইবাড়ি গ্রামে ঘটেছে। 


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতে নগরভেলা গায়েনবাড়ী এলাকার বাসিন্দা রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের টিনশেড বাড়ির গ্রিলের গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে ১০-১২ জনের একদল ডাকাত। এ সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখে তারা। বাড়িতে ঢুকেই তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁদের কোপাতে শুরু করে। এ সময় ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। ততক্ষণে মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. কামরুন নাহার আক্তার মারা যান। আহত ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম ও তার মেয়ে সানজিদা আক্তার মিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


কালীগঞ্জ থানার উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ  উপপরিদর্শক (এসআই) ফাইজুর রহমান বলেন, ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতে গৃহকর্ত্রী মোসা. কামরুন নাহার ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আহত দুইজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এই পরিবার একটি এনজিও থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। টাকা নিতে এসে ডাকাত দলের সদস্যরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বাড়ির ভেতরের আসবাবপত্র সব গোছানো অবস্থায় রয়েছে। বাড়ির সদস্যরা হাসপাতালে থাকায় কোনো মালামাল বা টাকা লুট হয়েছে কি না তা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।


কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, হামলার ধরন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ডাকাত বেশে এসে এই হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ক্রাইমসিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসেছেন। তাঁরা ভেতরে প্রবেশের পর বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। 


শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:২৬ পিএম

মাদারীপুরের শিবচরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 


শনিবার দুপুরে শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের বালাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার আজিজুর সরদারের মেয়ে নানাবাড়িতে বেড়াতে যায়। পরে খালাতো জান্নাতুল, আতিকা ও লাবিবাসহ তিনজন বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে তারা পুকুরের গভীর পানিতে চলে গেলে দুজন পানিতে তলিয়ে যায়। অপরজনও পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকে।

পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই কিশোরীকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর কিশোরীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুই কিশোরীর মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।


 শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, দুই কিশোরীর পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। 


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:১৯ পিএম

বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি (বিসিডিএস) গাজীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে বার্ষিক মিলনমেলা-২০২৬ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) গাজীপুরের নাটা এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি (বিসিডিএস) গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি হাজী মো. শামসুল হক। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল-আমিন হোসেন (অপু), সহ-সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম এবং সাবেক সভাপতি এম এ লতিফ।


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পূর্ব মেট্রো থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাউদ্দিন, গাজীপুর মহানগর কৃষক দলের সভাপতি আতাউর রহমান আতা, বিসিডিএস টঙ্গী পশ্চিম থানা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রাফিজুল ইসলাম এবং সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।


এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য আরাফাত রহমান লিটু, কাউসার মাহমুদ, মো. খোরশেদ আলম, মো. নাসির উদ্দিন মাস্টার, মো. এনামুল হক, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. কানন, মো. সেলিম এবং ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেনসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ওষুধ ব্যবসায়ী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।


বক্তারা বলেন, ওষুধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য এবং পেশাগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতেই এ ধরনের মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতেও সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।


অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কমন গিফট বিতরণ এবং র‍্যাফেল ড্র-এর আয়োজন করা হয়। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:১৩ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দিনাজপুরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বাদ আসর দিনাজপুর জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খালেদা জিয়া আজ তাঁদের মাঝে নেই। তাঁর আদর্শ ও রাজনৈতিক চেতনাকে ধারণ করে দলীয় নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীলভাবে পথ চলতে হবে। কোনো কাজ করার আগে তা দলের, দেশের এবং সাধারণ মানুষের জন্য ভালো না মন্দ—তা বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, “দল আমাদের, দেশ আমাদের। ক্ষমতায় বিএনপি—এমন কোনো কাজে আমরা জড়াবো না, এমন কোনো কাজ করবো না”। একই সঙ্গে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় সামাজিকভাবে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে এগিয়ে নিতে হবে। পরে তিনি মরহুমা খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তাঁদের প্রয়াত সন্তান আরাফাত রহমান কোকোর জন্য দোয়া কামনা করেন। পাশাপাশি বিএনপির প্রয়াত নেতাকর্মী এবং সম্প্রতি মৃত্যুবরণকারী সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।


জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিবর্গ এবং দিনাজপুরে মৃত্যুবরণকারী সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। আল্লাহ যেন তাঁদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন—এ কামনা করেন তিনি।


দোয়া মাহফিলে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. হাসানুজ্জামান উজ্জ্বল, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. আনিসুর রহমান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম গুরু, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সোহেল, দপ্তর সম্পাদক আখতারুজ্জামান আক্তার, সহ-প্রচার সম্পাদক হীরা ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান বাদশা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও নাজমুল হুদা জনি উপস্থিত ছিলেন।


এ ছাড়া দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক মো. আব্দুল কাইয়ুম, দিনাজপুর পৌর বিএনপির সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক হাসু খাঁন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী জিন্নাত আরাসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. বাবু চৌধুরী।

দোয়া মাহফিলে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর জন্য দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে বিএনপির প্রয়াত নেতাকর্মী এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।


উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে তৎকালীন দিনাজপুর জেলার জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বলে বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ রয়েছে। তিনি দিনাজপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন এবং দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি মোট তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়ীত্ব পালন করেন।


২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট তাঁর মৃত্যুর পর প্রথম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।এদিকে, খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০৭ পিএম

ঐতিহ্য, আনন্দ ও গ্রামীণ নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গ্রাম বাংলার নারীদের উৎসব ২.০’। নুর এন্ড নাজাত ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) আটোয়ারীর বালিয়া লক্ষীথান উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের সাধারণ নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় উৎসবস্থল দিনভর প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।


উৎসবের সমাপনী পর্বে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির ও তাঁর সহধর্মিণী সোনিয়া জামান খান। এ সময় তাঁরা উৎসবে অংশ নেওয়া গ্রামবাসীদের সঙ্গে সরাসরি কুশল বিনিময় ও মতবিনিময় করেন। তাঁদের আন্তরিক আলাপচারিতায় উপস্থিত নারীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।


আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ নারীদের আনন্দ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। উৎসবে অংশ নেওয়া নারীরাও এমন আয়োজনের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


দিনব্যাপী উৎসব শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী, অতিথি ও সহযোগীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

সর্বশেষ সব খবর