রংপুর নগরীর সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান এক বছর ১১ মাস অর্থাৎ ২৩ মাস থেকে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেও অধ্যক্ষ পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অপরদিকে অধ্যক্ষের অনুপস্থিতে দায়িত্ব পালন করা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের বেতন বন্ধ করে দেওয়ার পরে প্রতিষ্ঠানটিতে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, চাকরির প্রলোভনে অর্থ আত্মসাত, প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎসহ নানাবিধ অনিয়মে জড়িত ছিলো সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকার পটপরিবর্তনের পরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের কাছে অনিয়মগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট হতে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মোছা. শহিদা আক্তার বানু ২৫ আগস্ট হতে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেন।
এদিকে দীর্ঘ সময় প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতে ওই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর মো. আ.ত.ম মকছুদার রহমানকে (দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক) হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন রংপুরের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল মান্নান। মাকছুদার রহমান ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল অবসরে গেলে কিছুদিন সিনিয়র শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। ওই বছরের ২৬ অক্টোবর সিরাজুল ইসলাম দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশের পরে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ প্রতিষ্ঠানটির অফিস কক্ষে সিনিয়র শিক্ষক মো. মোস্তফা জামানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ চলতি বছরের ১৮ মে এক পত্রের মাধ্যমে ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখ হতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা জামানকে অব্যাহতি দিয়ে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে দায়িত্বে পুনরায় বহাল করেন। ওই পত্রে উল্লেখ করা হয় গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভায় নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ওই পত্র অনুযায়ী গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখার স্মারকমূলে অধ্যক্ষ শাহজাহান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে ২৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী ১৮০ দিন অতিবাহিত হওয়ায় উক্ত শিক্ষক স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীয়পদে বহাল হওয়ায় অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারপূর্বক স্বীয়পদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং মোস্তফা জামানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
একই সঙ্গে অধ্যক্ষ শাহজাহানের বিরুদ্ধে হওয়া তদন্ত প্রতিবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু সেই প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত অধিদপ্তরে পাঠানো হয়নি।
তবে ম্যানেজিং কমিটিতে থাকা স্কুলের শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামানের দাবি, অধ্যক্ষ শাহজাহান প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন থেকে অনুপস্থিত অবস্থায় আছেন। কোন মিটিংয়েই তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বা পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যাকডেটে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে বরখাস্ত দেখিয়ে নিজের খেয়াল খুশিমতো তাকে পুনর্বহাল করেছিলেন তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ। ম্যানেজিং কমিটির মতামত না নিয়ে একক ক্ষমতাবলে তিনি অধ্যক্ষ শাহজাহানকে পুনর্বহাল করেছেন।
এদিকে দায়িত্ব পাওয়ার পরে প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান না করেই অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামানের ঈদুল আযহার উৎসব ভাতা ও মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত বেতন সাবমিট করে নাই। কোনো কারণ ছাড়াই বেতন বন্ধ করে দিয়ে এটিকে মন্ত্রণালয়ের আদেশ বললেও কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি অধ্যক্ষ শাহজাহান।
অপরদিকে প্রতিষ্ঠানের সারে তিন কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অধ্যক্ষ শাহজাহানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তফা জামান। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে বেলা ২টা ৩০ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকরা অফিস কক্ষে অলস সময় কাটাচ্ছেন। কেউবা স্বেচ্ছায় ছুটি ছাড়াই আসেনি প্রতিষ্ঠানে। ক্লাস না থাকায় নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বাড়িতে চলে গেছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম রব্বানী বলেন, গত তিন চার মাস থেকে স্কুলে ক্লাস ভালভাবে হচ্ছে না। আমরা শুনেছি আমাদের যে অধ্যক্ষ রয়েছেন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তিনি তো গত দুই বছর থেকেই স্কুলেই আসে না। শিক্ষকরাও আসে, আসে না।
একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, অনেকে উপবৃত্তির টাকা পেলেও আমরা উপবৃত্তির টাকা পাইনি। এজন্য স্যারদের কাছে গিয়েছিলাম। তারা বলছেন কলেজের অধ্যক্ষ পাসওয়ার্ড নিয়ে রাখার কারণে তারা সাবমিট করতে পারে নাই। আর অধ্যক্ষ স্কুলে আসে না।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার জুলি বলেন, অধ্যক্ষ ও সহকারি প্রধান শিক্ষক গত দুই বছর থেকে প্রতিষ্ঠানে আসেন না। স্যার ম্যাডাম এর যখন যার ইচ্ছা আসে যায় তেমন একটা ক্লাস হয় না আমাদের তাই আমরাও দুপুর হলেই চলে যাই। অনেকে আবার স্কুলেই আসে না।
সহকারী শিক্ষক কৃষ্ণ বলেন, ডিসি অফিসের মিটিংয়ে আমরা যখন যাই। তখন এডিসি স্যার উপস্থিতির স্বাক্ষর নেন। দুই একটা কথা বলি মিটিং শেষ করেন। পরবর্তীতে রেজুলেশনে উনি কি লেখেন, না লেখেন আমরা কিছুই জানি না। যে ১৬ তারিখের মিটিংয়ের কথা উল্লেখ করে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সে তারিখে গভর্নিং বডির কোন মিটিং হয়নি। তার আগে ১২ তারিখ মিটিং হয়েছে। কিন্তু সেদিন কোনো ডিসিশন হয়নি। অধ্যক্ষকে কবে বরখাস্ত করা হয়েছে, কবে বহাল করা হয়েছে আমরা কিছুই জানি নাহ।
সহকারী শিক্ষক শাহ আলম বলেন, অধ্যক্ষের বরখাস্ত হওয়া এবং বহাল হওয়ার বিষয়টি আমরা জানি না। মিটিংয়ের পরে কি লিখেছে সেটাও জানি না।
সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ শাহজাহান স্যার এখনো অনুপস্থিত। উনি আসেন না। উনাকে কবে বরখাস্ত করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তফা জামান বলেন, গত বছরের ২৬ অক্টোবর মিনিস্ট্রি অডিটের সময় আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। চলতি বছরের ১৮ মে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে পাঠানো এক পত্রে জানতে পারি আমাকে অব্যাহতি প্রদান করে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এরপরে প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান না করে অনুপস্থিত থেকেই এমপিওসহ সকল ধরনের পাসওয়ার্ড নিজের কাছে নিয়ে অধ্যক্ষ শাহজাহান আমার ঈদুল আযহার উৎসব ভাতা ও বেতন সাবমিট করে নাই।
গত ২ মাস থেকে কোন কারণ ছাড়াই আমার বেতন বন্ধ করে রাখছে অনুপস্থিত থাকা অধ্যক্ষ। আজ পর্যন্ত আমি জানি না কি কারণে আমার বেতন ভাতা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এবিষয়ে আমি উপজেলা শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত আমি কোন সমাধান পাইনি।
তিনি আরও বলেন, এছাড়াও অনুপস্থিত অধ্যক্ষের কাছে পাসওয়ার্ড থাকায় ষষ্ঠ, নবম ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ফরম যথাসময়ে সাবমিট করতে না পারায় ২০০ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি বঞ্চিত হয়েছে। পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার পরে একাডেমি কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য অনুপস্থিত অধ্যক্ষ শাহজাহান সিনিয়র শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের নামে একটি নোটিশ ইস্যু করে তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়সহ সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা সময়মতো স্কুলে আসছেন না। ক্লাসগুলো ঠিকভাবে হচ্ছে না গত দুই মাস থেকেই।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান মুঠোফোনে বলেন, আমি মাঝে মধ্যে প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছি। মোস্তফা জামান মুকুল মাস্টার হাজিরা খাতা লুকিয়ে রাখে। সেখানে আমার আস্থাভাজন কোনো লোক নেই। আমি চাকরি করি, সবাই আমার লোক।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামান মুকুলের বেতন কেনো বন্ধ করে রাখা হয়েছে, প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যখন আমার বিলটা বন্ধ ছিলো, তখন মন্ত্রণালয় থেকে বিল প্রদানের আদেশ প্রদান করার পরেও আমার বিল না করায় মন্ত্রণালয় মোস্তফা জামান মুকুলের বিল বন্ধ করে দিছে। এখানে আমার কোন হাত নেই।
শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি কেন হলো না, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, মোস্তফা মাস্টার উপবৃত্তির ফরম তুলে নিজের কাছে রাখায় উপবৃত্তি ফরম সাবমিট করা সম্ভব হয়নি। এজন্য বাচ্চাদের উপবৃত্তি হয়নি। এখানে আমার কোন অপরাধ নেই। প্রতিষ্ঠানটা নষ্ট করি ফেলছে মুকুল মাস্টারসহ কিছু স্থানীয়রা।
রংপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন জানান, সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী ঘটনার জন্য দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে স্বীয় পদে বহাল করা হয়। যদি প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে থাকে সেটি আমরা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
তিনি আরও বলেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তাকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি। বর্তমানে অধ্যক্ষ নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে কিনা এ বিষয়ে আমরা খোঁজ নিবো। অবশ্যই নিয়মিত অফিস করতে হবে।
এনায়েত হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা কেন উপবৃত্তি পায়নি। এর পিছনে কাদের গাফিলতি রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রংপুরের বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খৃষ্টফার হিমেল রিছিল জানান, আমি কয়েকদিন থেকে এডিসি রাজস্ব স্যারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। আগের এডিসি স্যার প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সবকিছু বলতে পারতো। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপি নেতা মিয়া হাসিবুল হাসান হাসিব ও লাল চিহ্নে জেমিনি লোগো। ছবি: তার ফেসবুক থেকে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়েছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিয়া হাসিবুল হাসান হাসিব।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে ছবিটি পোস্ট করেন তিনি। পোস্টে দাবি করা হয়, আগের দিন ১৫ আগস্ট একটি দলীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। ছবিতে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
ছবিটি পোস্ট করে হাসিব লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! গতকাল আমার অনুভূতির মূল উৎস, আমার শ্রদ্ধেয় নেতার সঙ্গে সালাম বিনিময়ের পরম সৌভাগ্য হয়েছিল। যে নেতাকে দেখে প্রতিনিয়ত পথচলার প্রেরণা পাই, তার সঙ্গে এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ আমার হৃদয়ে অসীম আনন্দ এনে দিয়েছে।’
তবে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর ছবিটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে ছবিটি বিশ্লেষণ করে এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার বেশ কিছু আলামত পাওয়া যায়। ছবিতে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারের হাতলের নিচের অংশে Gemini AI-এর লোগোও দেখা যায়। এ ছাড়া ছবির বিভিন্ন অংশে অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। খন্দকার আব্দুল্লাহ নামের একজন ছবিটির নিচে মন্তব্য করেন, ‘ওরে বাটপাড়, এআই দিয়ে ছবি বানিয়ে ছাড়ে!’
আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি বাশারুল বারী বলেন, সে এর আগে আওয়ামী লীগের আমলে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছে, এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সংঙ্গে এআই জেনারেটেড ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে। তিনি আসলে কি বুঝাতে চাইছে। এগুলো করে এলাকায় বোঝাতে চায় যে, আমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ আছে। এতে প্রভাব বিস্তার ও জমি দখল করতে সুবিধা হয়। প্রশাসনও তাকে বেশি মূল্যায়ন করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার বড় ভাই ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য নুরুল হাসান মিয়া। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন হাসিব দেখভাল করছেন। পাঁচ তারিখের পর বিদেশ থেকে এসে বড় নেতা হয়ে গেছেন। এখন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগ, সবাই এআই বোঝে। এ ধরনের বাটপাড়ি ধরা পড়ে যাবে। এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রীর ছবি এভাবে এআই দিয়ে তৈরি করে ফেসবুকে পোস্ট করা আইনত অপরাধ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল হক রিপন বলেন, লিডারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলামের নেতৃত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতায় জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সংস্কার, মেরামত ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
সোমবার বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি, জাজিরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এসএম বজলুর রশীদ।
এ সময় জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যক্ষ মো. দাদন মিয়া সহ জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও বিকেনগর সরকারি কলেজের সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় এসএম বজলুর রশীদ বলেন, “জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ফলে কলেজের নিরাপত্তা ও পরিবেশ আরও সুন্দর হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলামের নেতৃত্ব ও সহযোগিতায় কলেজের উন্নয়ন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।”
এসময় অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দিত। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ হলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষার্থীদের সুন্দর পরিবেশে পাঠদানের সুযোগ তৈরি হবে। কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে যারা সহযোগিতা করছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কলেজের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।”
কলেজ সংশ্লিষ্টরা জানান, সংস্কার, মেরামত ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যেও সন্তোষ দেখা দিয়েছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সুমি আক্তারকে (২১) হত্যার অভিযোগে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা স্বামী মো. ইসমাইল হোসেনকে (২৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গতকাল রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। এর আগে, শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানাধীন ফৌজদারহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ও র্যাব-৭-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. ইসমাইল উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের দিলিলপুর গ্রামের মাইজা বেপারী বাড়ির এনামুল হক বাবুলের ছেলে।
র্যাব জানায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্ত্রী সুমি আক্তারের কাছে ছাগল ও স্টিলের আলমারি অথবা ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন ইসমাইল। ভুক্তভোগীর বাবা কিছু টাকা পাঠালেও দাবিকৃত টাকা কম হওয়ায় গত বছরের ৬ জুন রাতে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন তিনি। পরে সুমিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের পর আদালতের নির্দেশে বেগমগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। মামলায় ইসমাইলকে প্রধান আসামি করা হয়।
র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু আরও বলেন, গ্রেপ্তার ইসমাইলকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে অজু করতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে আলী আকবর (৮০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় ৮ ঘণ্টা পর পুকুরে ভাসতে থাকা জুতার সূত্র ধরে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম চরজব্বর গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদের বাড়ির পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আলী আকবর ওই বাড়ির মৃত দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে।
সুবর্ণচর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রুবেল মিয়া জানান, ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে ঘরের পাশের পুকুরঘাটে অজু করতে যান আলী আকবর। একপর্যায়ে পুকুরে পড়ে গিয়ে তিনি ডুবে যান। সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে দুপুরে পুকুরে তার একটি জুতা ভাসতে দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হবে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য ও প্রত্যাশার চেয়ে কম ফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘ব্যর্থতাই শেষ নয়, তোমাকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এসএসসি পরীক্ষা জীবনের একটি ধাপ মাত্র। দক্ষতা ও অধ্যবসায় থাকলে এই হোঁচট থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও বড় হওয়া সম্ভব।’
জেলা প্রশাসক তার নিজের জীবনের এক না বলা গল্পের কথা শোনান, ‘আমার ইচ্ছে ছিল প্রকৌশলী হবার। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষায় অংকে ফল খারাপ হওয়ায় ভর্তির আবেদনই করতে পারিনি। তখন মা ও পরিবারের সাহসে নতুন করে শুরু করি। পরে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করে প্রথমবার বিসিএস পরীক্ষা দিয়েই প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পাই। সেদিন হেরে গেলে আজ এখানে আসতে পারতাম না।’
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘তোমার ফলাফল তোমার গল্পের শেষ নয়’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের এক ব্যতিক্রমী সমাবেশে বক্তব্য দানকালে জেলা প্রশাসক কথাগুলো বলেন। সমাবেশে তিনি সভাপতিত্ব করেন।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মনির আলী আকন্দ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মাহমুদ, পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন প্রমুখ। আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা ভূলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখান।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘জীবন মানেই সিঁড়ির পর সিঁড়ি। পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল করেও জগতে অনেক বড় হয়েছেন, এমন উদাহরণ ভুরিভুরি আছে। একটি ধাপে ব্যর্থ হওয়া মানেই জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়।’
সমাবেশে আসা নওগাঁ প্যারিমোহন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা আখতার বলে, ‘জিপিএ-৫ না পেয়ে মন ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু আজ স্যারদের কথা শুনে অনুপ্রাণিত হলাম। আগের ভুল শুধরে ভবিষ্যতে ভালো ফল করতে চাই।’
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিগারেটের বড় একটি চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৮০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ১৩টি আইফোন জব্দ করা হয়েছে। শুল্ক-করসহ আটক পণ্যের মোট মূল্য ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, আজ সোমবার সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে দুবাই থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লাইটের যাত্রী ও ব্যাগেজে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়।
অভিযানে যাত্রী এমডি মঈনুল আবদিনের কাছ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের ২৪৯ কার্টন ও মন্ড ব্র্যান্ডের ১৫ কার্টন-মোট ২৬৪ কার্টন সিগারেট এবং চারটি আইফোন জব্দ করা হয়। একই ফ্লাইটের আরেক যাত্রী আবদুল মান্নানের কাছ থেকে প্লাটিনামের ২৩৩ কার্টন ও মন্ডের ১৩ কার্টনসহ মোট ২৪৬ কার্টন সিগারেট এবং চারটি আইফোন জব্দ করা হয়। সিআইআইডির অভিযানে নুরুল আলম রিয়াদ নামে আরেক যাত্রীর কাছ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের ২৬৫ কার্টন ও ইজি ব্র্যান্ডের সাত কার্টন-মোট ২৭২ কার্টন সিগারেট এবং পাঁচটি আইফোন জব্দ করা হয়।
২ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে ১ হাজার ২০ কার্টুন
অভিযানের সবচেয়ে বড় চালানটি পাওয়া যায় বিমানবন্দরের ২ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে। একই বিজি-১৪৮ফ্লাইটে আসা মালিকানাবিহীন ব্যাগেজ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের আরও ১ হাজার ২০ কার্টন জব্দ করা হয়। এ নিয়ে এক ফ্লাইট থেকেই মোট ১ হাজার ৮০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ১৩টি আইফোন জব্দ করা হয়েছে।
সিআইআইডি জানিয়েছে, আটক সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। এর ওপর ৬২১ শতাংশ অনুযায়ী প্রযোজ্য শুল্ক-কর প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ৩ হাজার ৬৮০ টাকা। অন্যদিকে, জব্দ ১৩টি আইফোনের আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ৫৮ শতাংশ অনুযায়ী এসব মোবাইল ফোনের প্রযোজ্য শুল্ক-কর প্রায় ৭ লাখ ২৩ হাজার ৭১০ টাকা। ফলে আটক সিগারেট ও মোবাইল ফোনের শুল্ক-করসহ সর্বমোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ টাকা।
সিআইআইডি জানিয়েছে, একই ফ্লাইটের একাধিক যাত্রীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও আইফোন এবং মালিকানাবিহীন ব্যাগেজে আরও ১ হাজার কার্টনের বেশি সিগারেট পাওয়ার ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
সিআইআইডির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে সাম্প্রতিক ইতিহাসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একযোগে সর্ববৃহৎ সিগারেটের চালান আটকের ঘটনা হিসেবে এটি বিবেচিত হচ্ছে।