প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : রবিবার ০৩ মে, ২০২৬, সময় : ৮:০৯ এএম

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি চেয়রম্যান সিলেট সফরে এসেছিলেন শনিবার (২ মে)। ব্যস্ত শিডিউলের এই সফর শেষ করে তিনি সন্ধ্যায় আবার ঢাকায় ফিরেও গিয়েছেন। তবে এরমধ্যে সিলেটবাসীর সার্বিক কল্যাণে বা সিলেটের উন্নয়নে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।


সিলেট সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহানগরীর দীর্ঘদিনের বড় সমস্যা বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭ হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেছেন।


জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে সিলেট নগরবাসীর। দুপুরে তিনি সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া নদী পূণঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন। তার আগে নগরভবন প্রাঙ্গনে সিলেট সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত এক সুধি সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন তিনি। 


এখানে দেওয়া তার বক্তব্যে আগামী দিনের জন্য তার সরকার সিলেটবাসীর জন্য কয়েকটি উন্নয়ন কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর প্রত্যেকটি কাজই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেন প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় সিলেট থেকে ঢাকায় যাতায়াত অনেক কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সময়তো প্রায় ১০/১২ ঘন্টা লেগেই যায়। বিষয়টি উপলব্ধি করে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ শুরু এবং তা শেষ করতে তার সরকারের তৎপরতার কথা তুলে ধরেছেন। এছাড়াও ঢাকা-সিলেট রেলপথ ডাবল লাইন করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। সিলেটবাসীর জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বড়ই কঠিন এক কাজ। পুরো বিভাগের ৪টি জেলার জন্য প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র হচ্ছে ৯০০ শয্যার ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এই হাসপাতালটিকে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করতেও কাজ করছে বর্তমান বিএনপি সরকার। 


এছাড়া ২৫০ শয্যার সিলেট জেলা হাসপাতালটিকেও যতদ্রুত সম্ভব চালুর প্রতিশ্রুত দিয়েছেন তিনি। বর্তমান সময়টা হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তির যৌবণকাল। কিন্তু এ সময়টাতে এসেও সিলেট এ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীরও নজরে আছে। আর তাই কোম্পানীগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত আইটি পার্কটিকেও দ্রুত সচল করার কথা জানিয়েছেন তিনি। আর বাসিয়া নদী পূণঃখননের কাজ শেষ হলে এর দুই তীরে ৫০ হাজার গাছ লাগানোর কথাও বলেছেন তিনি। এরমধ্যে ফলদবৃক্ষও থাকবে। নিঃসন্দেহে এটি বাস্তবায়ন হলে সিলেটের পর্যটন খাত আরও এগিয়ে যাবে। এছাড়াও আরও কিছু উন্নয়ন কাজের কথা তিনি বলেছেন। সেগুলো কেবলমাত্র সিলেটের জন্য নয়। সারাদেশের জন্য। যেমন ১ লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ, বন্ধ কল-কারখানা সচল করা, নতুন শিল্প উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও শিল্প স্থাপনও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা প্রভৃতি।




  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৪৪ পিএম

নোয়াখালী সদর উপজেলার আলোচিত তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা ‘ট্রিপল মার্ডার’ মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো.শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন।


মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার ওমর নাসির সাজু (৩২), ওমর শরীফ সুলতান (২৫) এবং নোয়াখালী পৌরসভা এলাকার মো. সৌরভ (২৭)। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী (২৭), কুদরত উল্যাহ (৬৫) ও হারুনুর রশীদ বাবুল (৪৫)।


মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মে দুপুরে কলেজ নোয়াখালী সরকারি কলেজ সংলগ্ন হোস্টেলের পুকুরে কুকুরকে গোসল করানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন সন্ধ্যার পর স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠক বসে। শালিসে আনোয়ারের বন্ধু রাজিব ও ওয়াসিমও উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এজাহারভুক্ত আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে আসামি সাজু, সৌরভ ও সুলতান এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে ওয়াসিম, রাজিব ও ইয়াছিন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজিবকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাদেরও মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত রাজিবের স্ত্রী কামরুন নাহার ছবি বাদী হয়ে সুধারাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ১ নম্বর অতিরিক্ত আদালতের পিপি ও বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. বরুত উল্যাহ রাসেদ বলেন, গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি ফিরোজ আলম বাপ্পীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মামলার পর থেকে অপর পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন।


অন্যদিকে, আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. শামসুদ্দিন।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫২ পিএম

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পৌঁছান তিনি। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বিভিন্ন স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।


প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সকাল থেকেই কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে জেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। সফরের শুরুতে পাকুন্দিয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।


এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কটিয়াদীর আচমিতা এলাকায় কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১টার দিকে আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।


ঢাকার বাইরে এবারই প্রথম জাতীয় পর্যায়ে মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন হচ্ছে কিশোরগঞ্জে। হাওর, নদী-বিল ও মিঠাপানির মাছের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের মৎস্য খাতের সম্ভাবনা ও সাফল্য জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে এবারের আয়োজন কিশোরগঞ্জে করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।


অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখা উদ্যোক্তাদের পুরস্কৃত করা হবে। আয়োজন ঘিরে মৎস্যচাষি, জেলে, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।


মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মাঠের উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।


পরে সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও কিছুক্ষণ বিশ্রাম শেষে বিকেল ৪টার দিকে জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এ ছাড়া সারা দেশের শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার পাইলট কার্যক্রমও এ সফরের মাধ্যমে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কিশোরগঞ্জবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কিশোরগঞ্জ ইপিজেড বাস্তবায়ন, হাওরের মাছ সংরক্ষণে আধুনিক হিমাগার এবং পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি আবারও আলোচনায় এসেছে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, মৎস্য ও কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সফর নতুন উদ্যোগের বার্তা নিয়ে আসবে।


সফরসূচি অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।


সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলের নেতারা।

 


  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৪৩ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে আমানিয়া হোটেলের ম্যানেজার ইমাম উদ্দিনকে (৪৫) কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হোটেলের ক্যাশ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।


শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত সোয়া ৯টার দিকে দিকে উপজেলার চৌমুহনী-ফেনী রোডের আমানিয়া হোটেলের ম্যানেজারের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।


আহত ইমাম উদ্দিন নোয়াখালী সদর উপজেলার নওয়াজপুর ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং আমানিয়া হোটেলের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।


এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় দায়ের করা এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন, হাসান মাহমুদ শুভ (৩৫), বাবু (৩৫), এনামুল হক লালন (৩২) ও মহদী হাসান (৩০)। তারা সবাই চৌমুহনী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং মাদকাসক্ত।


এজাহারে ইমাম উদ্দিন অভিযোগ করেন, হোটেলের পার্টনার হাসান মাহমুদ শুভ বিভিন্ন সময় হিসাবের বাইরে টাকা নিয়ে যেতেন। অন্যান্য পার্টনাররা তাকে হিসাবের বাইরে কোনো টাকা না দিতে নিষেধ করেন। এরপর থেকে শুভ তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন।  


ভক্তভোগী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে চার আসামিসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জন রামদা, ছেনি, চাপাতি ও লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হোটেলের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে ইমাম উদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি চাপাতি দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়। এতে মাথার ডান পাশে গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়ে পাঁচটি সেলাই লাগে। এছাড়া লোহার রড দিয়ে মাথার বাম পাশে আঘাত করে গুরুতর জখম করা এবং ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দেয়। অপর এক আসামি গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়। ইমাম উদ্দিনকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আব্দুল মালেক নামে এক বৃদ্ধকেও মারধর করে আহত করা হয়। এর আগেও তিনি একাধিকবার হোটেলে হামলা ভাঙচুর চালান। পরে হামলাকারীরা মামলা করলে প্রাণে মেরে লাশ গুম করার হুমকি দেন। পরে আহত ইমাম উদ্দিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার হাসান মাহমুদ শুভ'র মুঠোফোনে কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  


যোগাযোগ করা হলে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শামসুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  


  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩০ পিএম

“রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে বর্ণাঢ্য  র‍্যালি, বেলুন উড়ানো ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


রোববার (১৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁওয়ের আয়োজনে জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য সড়ক র‍্যালিটি বের হয়। র‍্যালির আগে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন উপলক্ষে বেলুন উড়ানো হয়। পরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।


র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য পক্ষের তাৎপর্য ও দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


এ সময় বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল হক, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার।


সভায় বক্তারা মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ মাছ উৎপাদন, জলাশয় সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


উল্লেখ্য, জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ চলবে ১৬ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। এ উপলক্ষে মৎস্য খাতের উন্নয়ন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।



  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৭ পিএম


সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জে) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হকের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি। 


অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে তাদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন।


শনিবার বিকেলে রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া আড়চালা এলাকায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) উপজেলা পরিষদের কাছে স্থাপনের দাবিতে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মতবিনিময় সভা শেষে এমপি আয়নুল হক গাড়িবহর নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তাঁর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে।


এ ঘটনার পর ধানগড়া এলাকায় স্থানীয় জনতা বিক্ষোভ করেন। সেখানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী মো. শেখ রিয়াদ ও শ্রাবণ বলেন, ফয়সাল বিশ্বাসকে আজকের অনুষ্ঠানে কেউ দাওয়াত দেয়নি। তিনি এসে তাদের উসকানিমূলক কথা বলেন।


তারা বলেন, ‘আমরা এমপিকে শ্রদ্ধা করি। আমরা তাঁকে আমাদের দাবি-দাওয়া জানাচ্ছিলাম। কিন্তু ফয়সাল বিশ্বাস আমাদের জঙ্গিসহ বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে গালাগালি করেন। বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মী আমাদের আহত করেন। পরে ফয়সাল বিশ্বাস এমপির গাড়িতে চলে গিয়ে লাইভে এমপির গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে বলে জানান।’


শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, এমপির গাড়িতে যাওয়ার সময় তাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।


পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মী মো. ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, এমপির গাড়িতে হামলা হয়েছে। শিবিরের, এনসিপি ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। 


অন্যদিকে এমপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে চান্দাইকোনা এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


সমাবেশে বক্তারা এমপির গাড়িবহরে হামলার জন্য জামায়াতে ইসলামী, শিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বক্তব্য দেন। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।


ঘটনার বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হক বলেন, ‘আজ আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কতিপয় ব্যক্তি হামলা করেছে। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল, আমি নিজ চোখে দেখেছি। প্রশাসন আজ রাতেই এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করবে।’


তিনি বলেন, এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীসহ বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে।


রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ডা. এসএম মুনসুর আলী বলেন, ‘আমি সিরাজগঞ্জ শহরে ছিলাম। এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ছাত্রশিবিরের সভাপতির সাথে কথা বলেছি তারা অবগত নয় বলে জানিয়েছে।’ তবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।


ঘটনার পর রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।


রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম খান বলেন, ‘এ ঘটনায় রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এমপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


এদিকে ঘটনার পর থেকে ধানগড়া ও চান্দাইকোনা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হামলার ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৭ পিএম

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন বরগুনার পাথরঘাটা আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেন।


বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের কয়েকজন সদস্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও বিপন্ন মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করে কয়েক প্রজাতির ৬৯০ কেজি সামুদ্রিক মাছ জব্দ করে মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। যা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারের পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।


গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বণ্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) ২০২৬ এর ধারা ৩৬ (২), (৪) ও ৪৭ (২), সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা, ২০২৩ এর ২৬ (৩) এবং দ্যা কোড অফ ক্রিমিনাল প্রোসিডিউর, ১৯৮৯ ধারা ১০৩, ৫১৬ ক ও ৫২৫ এর বিধানর ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডার লেঃ এ এইচ এন সারতাজ বিন সোহরাব এর বিরুদ্ধে কেনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ প্রদান করা হবে না; সে মর্মে আদেশ প্রাপ্তির ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডারকে স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।   


জব্দকৃত অবৈধ মাছের মধ্যে ছিলো শাপলাপাতা মাছ ৪৪০ কেজি ও গিটার মাছ ২৫০ কেজি। এর আনুমানিক বাজার মূল্য ১৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। 


কোস্টগার্ডের সূত্রানুযায়ী- স্থানীয় বিএফডিসি মৎস্য ঘাটের একটি আড়তে সামুদ্রিক মাছ মজুদ রেখে বিক্রয়ের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু পালিয়ে যাওয়ার দোহাই দিয়ে কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হননি বলে জানান কোস্টগার্ড। 


একই সূত্রে আরও জানা গেছে- পাথরঘাটা উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জব্দকৃত মাছগুলো মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। কিন্তু পাথরঘাটার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বিষয়টি জানেন না বলে আদালতকে অবহিত করেন।