শহীদ তুরাবের কবর জিয়ারত ও তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করেন- জামায়াতের নেতৃবৃন্দ
সিলেটের ইতিহাসে প্রথম পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার নিয়ে চলছে নানা সংশয়ও নানা আশংকা। এ দিকে দফায় দফায় তদন্তের নামে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বিচার নিয়ে হতাশা বেড়েছে শহীদ পরিবারে। বিচারের দীর্ধ সুত্রিতা নিয়ে ক্ষুব্ধ সিলেটের সাংবাদিক সমাজও। ২ বছরে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে দেশে। ক্ষমতার মসনদে বসেছে নির্বাচিত সরকার। সেই সরকারের মেয়াদও ৬ মাস হতে চলেছে। কেবল শেষ হয়নি তুরাব হত্যার বিচার। এ মামলায় ২ বছরে অর্জন কেবল ২ জন আসামী গ্রেফতার। প্রকাশ্য পুলিশের গুলির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এখনো তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতায় আটকে আছে সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর ব্যস্ততম এলাকা কোর্টপয়েন্টের উত্তর পাশে ডায়বেটিক হাসপালের প্রধান গেইটের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের গুলীতে নিহত হন দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার আবু তাহের মো. তুরাব (এটিএম তুরাব)। এরপর কেটে গেছে ২ বছর। এই সময়ে এসএমপির কোতোয়ালী থানা, পি বি আই হয়ে মামলাটি এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- আইসিটিতে। অপেক্ষা বাড়ছে বিচারের। মৃত্যুর আগে ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চান শহীদ তুরাবের মা, স্বামী হত্যার বিচার দেখতে চান বিয়ের ৩ মাসের মাথায় প্রিয়জনকে হারানো স্ত্রী ও তুরাবের ভাই-বোনেরা।
সেদিন কি ঘটেছিলঃ ১৯ জুলাই বাদ জুমআ সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় ছাত্র-জনতার উপর নৃশংস গণহত্যার প্রতিবাদে মিছিল বের করে বিএনপি। তখন ন্যুনতম কোনো উত্তেজনা ছিলনা। নিত্যদিনের মতো সেদিনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিকগণ। পাশেই ছিল পুলিশের সশস্ত্র অবস্থান। হঠাৎই অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তাদের মারমুখী আচরণে বদলে যায় পরিস্থিতি। উত্তপ্ত হয়ে উঠে কোর্ট পয়েন্ট এলাকা। ঐ পুলিশের কিলিং মিশনের টার্গেটে পড়ে যান সাংবাদিক এটিএম তুরাব। পুলিশের ছুঁড়া ৯৮টি ছররা গুলি বিদ্ধ হয় তুরাবের শরীরে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে জরুরী ভিত্তিতে সোবহানী ঘাটস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানেই আইসিইউ-তে থাকা অবস্থায় সাংবাদিক তুরাব সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।
তুরাবের ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক ও সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম তখন জানিয়েছিলেন, তুরাবের শরীরে ৯৮টি ছররা গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুলিতে তার লিভার ও ফুসফুস আঘাতপ্রাপ্ত হয়। মাথায়ও আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ কারণেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
মাত্র তিন মাস আগে লন্ডনি কন্যা বিয়ে করেছিলেন সাংবাদিক এটিএম তুরাব। লন্ডন যাওয়ার সব প্রক্রিয়া এগিয়েও রেখেছিলেন। হয়তো কয়েক মাসের মধ্যে তার লন্ডন পাড়ি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয় তাকে।
এমন ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়ে তার পরিবার। লন্ডনে থাকা সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী তানিয়া ইসলাম বিয়ের তিন মাসের মধ্যে হয়ে যান বিধবা। এখনো কাঁদেন তিনি। কারণ তখন দেশে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় স্বামীর মরদেহ ও শেষ বিদায়ের দৃশ্য দেখতে পারেননি তিনি। সাংবাদিক তুরাব হত্যার দুই বছর পেরিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে তুরাব হত্যা মামলায় এসএমপির তৎকালীন এডিসি সাদেক কাউসার দস্তগীর ও পুলিশ কনস্টেবল উজ্জল সিংহ কারাগারে রয়েছেন। কিন্তু এজাহারভুক্ত অধিকাংশ আসামী এখনো বাইরে থাকায় ন্যায়বিচার নিয়ে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে সংশয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যার ঘটনায় মৃত্যুর ৫ দিনের মাথায় একই বছরের ২৪ জুলাই সাংবাদিক তুরাবের বড় ভাই আবুল আহসান মো. আজরফ (জাবুর) এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানায় আট থেকে ১০ জন পুলিশকে অভিযুক্ত করে এজাহার দাখিল করেন। কিন্তু কোতোয়ালি থানা পুলিশ সেটিকে মামলা হিসেবে গ্রহণ না করে জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করে। এরপর সেই বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর ১৯ আগস্ট সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মোমেনের আদালতে এটিএম তুরাব হত্যার ঘটনায় পুনরায় মামলা দায়ের করেন তার ভাই আবুল আহসান মো. আযরফ (জাবুর)। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
আদালত শুনানি শেষে মামলার এফআইআর করার নির্দেশ দেন। মামলায় ২নং আসামি এসএমপির তৎকালীন উপকমিশনার (ক্রাইম উত্তর) মো. সাদেক দস্তগীর কাউসার, ৩নং আসামি তৎকালীন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ ও ৪নং আসামি হন কোতোয়ালী থানার তৎকালীন সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ কল্লোল গোস্বামী, থানার তৎকালীন ওসি মঈন উদ্দিন, ওসি (তদন্ত) ফজলুর রহমান, থানার এসআই কাজি রিপন সরকার, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আফতাব উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পিযূষ কান্তি দে, যুবলীগ নেতা ও সিসিকের তৎকালীন গণসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর, সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সিসিকের ৩২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রুহেল আহমদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস অনিক, নগরের চালিবন্দর নেহার মঞ্জিলের বাসিন্দা শিবলু আহমদ (মো. রুহুল আমিন), এসএমপির কনস্টেবল সেলিম মিয়া, কনস্টেবল আজহার, কনস্টেবল ফিরোজ ও কনস্টেবল উজ্জ্বল। এছাড়া মামলায় ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়।
এদিকে, দীর্ঘ দুই বছরে এই মামলায় দু’জন আসামি গ্রেফতার হলেও বাকিরা এখনো পলাতক। গেল বছর মামলাটি পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কোর্টে স্থানান্তর করা হয়। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তরের পর আইসিটি কোর্টের তদন্ত টীম দফায় দফায় সিলেট সফর করেন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেন। গেল বছরের ২০ জুলাই প্রথমবারের মতো তুরাব হত্যা মামলার দুই আসামীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। চাওয়া হয় রিমান্ড।
গত বছরের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে চার্জশীট দাখিল করার কথাও জানিয়েছিলেন আইসিটি কোর্টের তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তাগণ। কিন্তু এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে আরও দুই বছর। সামনে চলে আসছে আরেক আগস্ট। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কোর্টের একটি তদন্ত টীম গত সপ্তাহে সিলেট সফর করে গেছেন। তারা তুরাব হত্যা মামলার সাক্ষীদের সাথে কথাও বলছেন। এব্যাপারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, আমরা তদন্তের কাজে সিলেটে এসেছি। তুরাব হত্যা মামলার বাদি ও সাক্ষীদের সাথে কথা বলেছি। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ে মন্তব্য করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।
মামলার বাদী সাংবাদিক তুরাবের বড় ভাই আবুল আহসান মোহাম্মদ আজরফ (জাবুর) হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের গুলিতে আমার ভাইকে হত্যা করা হলো। শত শত ফুটেজ, নিউজ ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী থাকার পরও একের পর এক তদন্তের নামে কালক্ষেপনে আমরা বিচার নিয়ে হতাশ। প্রশাসন এখন পর্যন্ত মাত্র ২ জন আসামীকে গ্রেফতার করতে পেরেছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারে কোন তৎপরতা না থাকার বিষয়টি দুঃখনজক। আমরা তুরাব হত্যার বিচার চাই।
এদিকে, চব্বিশের জুলাই গণ আন্দোলনে সিলেটের রাজপথে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের কবর জিয়ারত করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। আজ রোববার (২৬ জুলাই) সকালে বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ফতেহপুর কবরস্থানে গিয়ে তিনি দৈনিক নয়া দিগন্তের তৎকালিন সিলেট ব্যুরো প্রধান ও দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার শহীদ তুরাবের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন। জিয়ারত শেষে শহীদ সাংবাদিক তুরাবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ডা. শফিকুর রহমান। এসময় তিনি তুরাবের বড় ভাই আবু আজরফ মো. জাবুরসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শহীদ সাংবাদিক তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই আজ দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, শহীদ হওয়ার দুই বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত তাঁর হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়নি। শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে তুরাবের মতো সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক তৈরি হবে না। সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা জরুরি। তিনি বলেন, আমরা সাংবাদিক তুরাবের হত্যার বিচারের দাবী জোরদার করবো। এর বিচারের হতেই হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সার্থে তুরাব হত্যার বিচার হওয়া উচিত। আমরা জানিনা এই সরকার তুরাব হত্যার বিচার করবে কিনা। তবে শেষ বিচারের দিনে অবশ্যই তুরাব ন্যায়বিচার পাবেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় তিনি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন, পরিবারের খোঁজ খবর নেন ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপি নেতা মিয়া হাসিবুল হাসান হাসিব ও লাল চিহ্নে জেমিনি লোগো। ছবি: তার ফেসবুক থেকে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়েছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিয়া হাসিবুল হাসান হাসিব।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে ছবিটি পোস্ট করেন তিনি। পোস্টে দাবি করা হয়, আগের দিন ১৫ আগস্ট একটি দলীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। ছবিতে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
ছবিটি পোস্ট করে হাসিব লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! গতকাল আমার অনুভূতির মূল উৎস, আমার শ্রদ্ধেয় নেতার সঙ্গে সালাম বিনিময়ের পরম সৌভাগ্য হয়েছিল। যে নেতাকে দেখে প্রতিনিয়ত পথচলার প্রেরণা পাই, তার সঙ্গে এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ আমার হৃদয়ে অসীম আনন্দ এনে দিয়েছে।’
তবে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর ছবিটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে ছবিটি বিশ্লেষণ করে এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার বেশ কিছু আলামত পাওয়া যায়। ছবিতে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারের হাতলের নিচের অংশে Gemini AI-এর লোগোও দেখা যায়। এ ছাড়া ছবির বিভিন্ন অংশে অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। খন্দকার আব্দুল্লাহ নামের একজন ছবিটির নিচে মন্তব্য করেন, ‘ওরে বাটপাড়, এআই দিয়ে ছবি বানিয়ে ছাড়ে!’
আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি বাশারুল বারী বলেন, সে এর আগে আওয়ামী লীগের আমলে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছে, এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সংঙ্গে এআই জেনারেটেড ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে। তিনি আসলে কি বুঝাতে চাইছে। এগুলো করে এলাকায় বোঝাতে চায় যে, আমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ আছে। এতে প্রভাব বিস্তার ও জমি দখল করতে সুবিধা হয়। প্রশাসনও তাকে বেশি মূল্যায়ন করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার বড় ভাই ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য নুরুল হাসান মিয়া। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন হাসিব দেখভাল করছেন। পাঁচ তারিখের পর বিদেশ থেকে এসে বড় নেতা হয়ে গেছেন। এখন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগ, সবাই এআই বোঝে। এ ধরনের বাটপাড়ি ধরা পড়ে যাবে। এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রীর ছবি এভাবে এআই দিয়ে তৈরি করে ফেসবুকে পোস্ট করা আইনত অপরাধ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল হক রিপন বলেন, লিডারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলামের নেতৃত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতায় জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সংস্কার, মেরামত ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
সোমবার বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি, জাজিরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এসএম বজলুর রশীদ।
এ সময় জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যক্ষ মো. দাদন মিয়া সহ জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও বিকেনগর সরকারি কলেজের সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় এসএম বজলুর রশীদ বলেন, “জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ফলে কলেজের নিরাপত্তা ও পরিবেশ আরও সুন্দর হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলামের নেতৃত্ব ও সহযোগিতায় কলেজের উন্নয়ন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।”
এসময় অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দিত। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ হলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষার্থীদের সুন্দর পরিবেশে পাঠদানের সুযোগ তৈরি হবে। কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে যারা সহযোগিতা করছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কলেজের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।”
কলেজ সংশ্লিষ্টরা জানান, সংস্কার, মেরামত ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যেও সন্তোষ দেখা দিয়েছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সুমি আক্তারকে (২১) হত্যার অভিযোগে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা স্বামী মো. ইসমাইল হোসেনকে (২৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গতকাল রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। এর আগে, শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানাধীন ফৌজদারহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ও র্যাব-৭-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. ইসমাইল উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের দিলিলপুর গ্রামের মাইজা বেপারী বাড়ির এনামুল হক বাবুলের ছেলে।
র্যাব জানায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্ত্রী সুমি আক্তারের কাছে ছাগল ও স্টিলের আলমারি অথবা ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন ইসমাইল। ভুক্তভোগীর বাবা কিছু টাকা পাঠালেও দাবিকৃত টাকা কম হওয়ায় গত বছরের ৬ জুন রাতে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন তিনি। পরে সুমিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের পর আদালতের নির্দেশে বেগমগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। মামলায় ইসমাইলকে প্রধান আসামি করা হয়।
র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু আরও বলেন, গ্রেপ্তার ইসমাইলকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে অজু করতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে আলী আকবর (৮০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় ৮ ঘণ্টা পর পুকুরে ভাসতে থাকা জুতার সূত্র ধরে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম চরজব্বর গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদের বাড়ির পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আলী আকবর ওই বাড়ির মৃত দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে।
সুবর্ণচর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রুবেল মিয়া জানান, ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে ঘরের পাশের পুকুরঘাটে অজু করতে যান আলী আকবর। একপর্যায়ে পুকুরে পড়ে গিয়ে তিনি ডুবে যান। সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে দুপুরে পুকুরে তার একটি জুতা ভাসতে দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হবে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য ও প্রত্যাশার চেয়ে কম ফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘ব্যর্থতাই শেষ নয়, তোমাকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এসএসসি পরীক্ষা জীবনের একটি ধাপ মাত্র। দক্ষতা ও অধ্যবসায় থাকলে এই হোঁচট থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও বড় হওয়া সম্ভব।’
জেলা প্রশাসক তার নিজের জীবনের এক না বলা গল্পের কথা শোনান, ‘আমার ইচ্ছে ছিল প্রকৌশলী হবার। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষায় অংকে ফল খারাপ হওয়ায় ভর্তির আবেদনই করতে পারিনি। তখন মা ও পরিবারের সাহসে নতুন করে শুরু করি। পরে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করে প্রথমবার বিসিএস পরীক্ষা দিয়েই প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পাই। সেদিন হেরে গেলে আজ এখানে আসতে পারতাম না।’
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘তোমার ফলাফল তোমার গল্পের শেষ নয়’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের এক ব্যতিক্রমী সমাবেশে বক্তব্য দানকালে জেলা প্রশাসক কথাগুলো বলেন। সমাবেশে তিনি সভাপতিত্ব করেন।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মনির আলী আকন্দ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মাহমুদ, পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন প্রমুখ। আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা ভূলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখান।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘জীবন মানেই সিঁড়ির পর সিঁড়ি। পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল করেও জগতে অনেক বড় হয়েছেন, এমন উদাহরণ ভুরিভুরি আছে। একটি ধাপে ব্যর্থ হওয়া মানেই জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়।’
সমাবেশে আসা নওগাঁ প্যারিমোহন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা আখতার বলে, ‘জিপিএ-৫ না পেয়ে মন ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু আজ স্যারদের কথা শুনে অনুপ্রাণিত হলাম। আগের ভুল শুধরে ভবিষ্যতে ভালো ফল করতে চাই।’
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিগারেটের বড় একটি চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৮০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ১৩টি আইফোন জব্দ করা হয়েছে। শুল্ক-করসহ আটক পণ্যের মোট মূল্য ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, আজ সোমবার সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে দুবাই থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লাইটের যাত্রী ও ব্যাগেজে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়।
অভিযানে যাত্রী এমডি মঈনুল আবদিনের কাছ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের ২৪৯ কার্টন ও মন্ড ব্র্যান্ডের ১৫ কার্টন-মোট ২৬৪ কার্টন সিগারেট এবং চারটি আইফোন জব্দ করা হয়। একই ফ্লাইটের আরেক যাত্রী আবদুল মান্নানের কাছ থেকে প্লাটিনামের ২৩৩ কার্টন ও মন্ডের ১৩ কার্টনসহ মোট ২৪৬ কার্টন সিগারেট এবং চারটি আইফোন জব্দ করা হয়। সিআইআইডির অভিযানে নুরুল আলম রিয়াদ নামে আরেক যাত্রীর কাছ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের ২৬৫ কার্টন ও ইজি ব্র্যান্ডের সাত কার্টন-মোট ২৭২ কার্টন সিগারেট এবং পাঁচটি আইফোন জব্দ করা হয়।
২ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে ১ হাজার ২০ কার্টুন
অভিযানের সবচেয়ে বড় চালানটি পাওয়া যায় বিমানবন্দরের ২ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে। একই বিজি-১৪৮ফ্লাইটে আসা মালিকানাবিহীন ব্যাগেজ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের আরও ১ হাজার ২০ কার্টন জব্দ করা হয়। এ নিয়ে এক ফ্লাইট থেকেই মোট ১ হাজার ৮০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ১৩টি আইফোন জব্দ করা হয়েছে।
সিআইআইডি জানিয়েছে, আটক সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। এর ওপর ৬২১ শতাংশ অনুযায়ী প্রযোজ্য শুল্ক-কর প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ৩ হাজার ৬৮০ টাকা। অন্যদিকে, জব্দ ১৩টি আইফোনের আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ৫৮ শতাংশ অনুযায়ী এসব মোবাইল ফোনের প্রযোজ্য শুল্ক-কর প্রায় ৭ লাখ ২৩ হাজার ৭১০ টাকা। ফলে আটক সিগারেট ও মোবাইল ফোনের শুল্ক-করসহ সর্বমোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ টাকা।
সিআইআইডি জানিয়েছে, একই ফ্লাইটের একাধিক যাত্রীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও আইফোন এবং মালিকানাবিহীন ব্যাগেজে আরও ১ হাজার কার্টনের বেশি সিগারেট পাওয়ার ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
সিআইআইডির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে সাম্প্রতিক ইতিহাসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একযোগে সর্ববৃহৎ সিগারেটের চালান আটকের ঘটনা হিসেবে এটি বিবেচিত হচ্ছে।