সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও মৌলভীবাজার-২ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী সাদিয়া নৌশিন তাসনিম চৌধুরী।

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:০৪ পিএম

সিলেট বিভাগের ১৯ টি আসনের মধ্যে মাত্র দুজন নারী প্রার্থী হয়েছেন। তাদের একজন সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও অপরজন মৌলভীবাজার-২ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী সাদিয়া নৌশিন তাসনিম চৌধুরী।



ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগে দলের প্রার্থিতার দৌড়ে ছিলেন আট নারী। তবে শেষ পর্যন্ত এই দুজনই দলের মনোনয়ন পান। বিভাগের ১৯ আসনে মোট প্রার্থী ১০৪ জন। লুনা আর সাদিয়া ছাড়া বাকী ১০২ জনই পুরুষ।সিলেটে ভোটযুদ্ধের মাঠে থাকা সিলেট-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা বিএনপির নিখোঁজ কেন্দ্রীয় নেতা এম. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী। তাঁর প্রার্থিতা আগে থেকেই অনুমেয় ছিল। বিভাগ বিভিন্ন আসন থেকে আরও ছয় জন নারী বিএনপির মনোনয়ন চাইলেও তারা পাননি।


আর মৌলভীবাজার-২ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) দল থেকে প্রার্থী সাদিয়া নৌশিন তাসনিম চৌধুরী। তিনি কাঁচি প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়ছেন।


ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই সিলেটে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করে। মাঠে নেমে পড়েন সিলেটের ১৯ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সে তালিকায় ছিলেন অন্তত আট নারী, যাঁরা সরাসরি দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।


লুনা ছাড়া বাকি সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন সিলেট-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের স্ত্রী ও জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জেবুন্নাহার সেলিম, সিলেট-৫ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব মরহুম আবুল হারিস চৌধুরীর মেয়ে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ব্যারিস্টার সামিরা তানজিম চৌধুরী এবং মহিলা দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক লুৎফা খানম চৌধুরী স্বপ্না, সিলেট-৬ আসনে জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি মরহুম কমর উদ্দিনের মেয়ে ও যুক্তরাজ্যের কাউন্সিলর সাবিনা আক্তার পপি, সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেছু মিয়ার মেয়ে সামিরা হোসেন, হবিগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাম্মী আক্তার এবং মৌলভীবাজার-২ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) নেত্রী সাদিয়া নৌশিন তাসনিম চৌধুরী। তবে তাঁদের মধ্যে তাহসিনা রুশদীর ও সাদিয়া নৌশিন ছাড়া বাকিরা মনোনয়ন পাননি। মাঠে কর্তৃত্ব ধরে রেখেছেন তাহসিনা রুশদীর।


২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল স্বামী এম ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পর থেকেই মূলত বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসনে দলের কর্তৃত্ব তাহসিনার হাতে চলে যায়। এরপর দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই দুই উপজেলায় বিএনপির অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনিই দলের প্রার্থী হবেন এটি অনুমেয় ছিল। যদিও যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবীর (বর্তমানে দলের যুগ্ম মহাসচিব)-এর নাম প্রার্থী হিসেবে মাঝখানে শোনা যাচ্ছিল। তবে শেষপর্যন্ত দল তাহসিনাকেই মনোনয়ন দেয়। এরপর থেকেই নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন তিনি। প্রতীক পাওয়ার পর থেকে পুরো দমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন লুনা।


সাদিয়া নৌশিন তাসনিমে মুগ্ধ ভোটাররাগণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী হয়েছেন বাসদ (মার্কসবাদী) নেত্রী সাদিয়া নৌশিন তাসনিম চৌধুরী। কাঁচি প্রতীকে লড়ছেন মৌলভীবাজার-২ আসনে। তরুণ এই নেত্রী তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। দলের বাইরের অনেকে তাঁকে সমর্থন দিচ্ছেন। 


প্রবাসী বাংলাদেশি প্রখ্যাত জিন বিজ্ঞানী ও ধান গবেষক ড. আবেদ চৌধুরী তাঁদের একজন। নিজের এলাকায় প্রথম নারী নৌশিনকে সমর্থন জানাতে নিজের উদ্যোগে ছুটে এসেছেন।গত ১৪ জানুয়ারি কুলাউড়া উপজেলার লস্করপুরে বাসদের কর্মী সভায় এসে নৌশিনকে সমর্থন জানিয়ে এই বিজ্ঞানী বলেন, ‘এটা একেবারে অসম্ভব একটা জিনিসের মতো। এই এলাকায় আমি বড় হয়েছি। ৪৫ বছর বিদেশে থাকি। তার পরও এ দেশকে পর্যবেক্ষণ করি। কিন্তু রাজনীতিতে এরকম মানুষ তো আমি দেখিনি। সে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।’


ভোটের মাঠে নারী প্রার্থীদের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের হার কম হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করে ড. আবেদ বলেন, ‘অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’-১০০ বছর আগে নজরুল লিখেছেন। অথচ এখনো আমরা তামাশা করছি। নির্বাচনে পুরো প্রার্থীদের মধ্যে মেয়েরা মাত্র তিন শতাংশ। এর চেয়ে অপমানজনক আর কিছু হতে পারে না।’


এটি রাষ্ট্রকে কালিমালিপ্ত করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এটা অন্তবর্তীকালীন সরকার এবং পুরো শাসকগোষ্ঠীতে যাঁরা আছেন, তাঁদের কালিমালিপ্ত করছে। সেই তিন শতাংশের মধ্যে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম হলো নৌশিন।’


নারী সংসদসদস্য প্রার্থী সাদিয়া নৌশিন তাসনিম চৌধুরীও হতাশা নিয়ে বলেন, ‘ঐক্যমত্যের কমিশনের আলোচনায়ও সর্বনিম্ন পাঁচ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার কথা। অথচ ৩০টি দল কোনো নারী প্রার্থীই দেয়নি। যাঁরা দিয়েছেন তার মধ্যে আমাদের দল ৩৩ প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনই নারী প্রার্থী। বিএনপির মতো দলে মাত্র ১০ জন নারী প্রার্থী। এতে জুলাই সনদের যে বাস্তবায়ন, এ ক্ষেত্রে শুরুতেই তা খারিজ হয়ে গেল। তাহলে সনদ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে।’


সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক রেহানা আফরোজ খান বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের যে আকাঙ্খা তার অন্যতম নারীর ক্ষমতায়ন। এই আন্দোলনে নারীরা সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ঢাল হিসেবে সামনে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু নতুন বাংলাদেশে আমরা নারীর প্রতি সেই ইনসাফ দেখতে পাচ্ছি না। যার একটি বড় উদাহরণ হতে পারে এবারের নির্বাচনে পুরো বিভাগ থেকে মাত্র দুইজন নারী প্রার্থী দেওয়া।’


সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সিলেটের সভাপতি ও বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি সিলেটের বিভাগীয় প্রধান সৈয়দ শিরিন আক্তার বলেন, ‘নারী প্রার্থী দেওয়ার কথা ছিল, বেশিরভাগ দল দেয়নি। পাঁচ শতাংশের কথা বলা হলেও বাস্তবায়িত হয়নি। জামায়াতে ইসলামী তো একজনও দেয়নি। এটি নারীদের প্রতি বৈষম্য, তাঁরা কথা রাখেননি।’হতাশা ব্যক্ত করে শিরিন আক্তার বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে তাঁরা বলেছেন, পর্যায়ক্রমে নারী আসন বাড়ানো হবে। কিন্তু তার প্রতিফলন কই? তবু আমরা অপেক্ষায় আছি। আমরা বঞ্চিত হয়েছি; ক্ষুব্ধ, ব্যথিত, হতাশ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি। বিশেষ করে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি। তারা পারেননি। ঐক্যমত্যের কমিশনেও কোনো নারী প্রতিনিধি নেই। এগুলো হতাশার।’


যাঁরা নির্বাচনী বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবেন তাঁরা কী করেন দেখার বিষয় উল্লেখ করে শিরিন আক্তার বলেন, ‘নির্বাচনে যারা বিজয়ী হবেন বা যেসব দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, অথবা জাতীয় সনদ যারা বাস্তবায়ন করেন, তারা যদি এ বিষয়টি বাস্তবায়ন করেন। না হলে অধিকার আদায় আমরা প্রতিবাদ, আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’




গাজীরহাট হাজি নৈমুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ পিএম

খুলনার দিঘলিয়ায় হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে তাকে স্কুলের পাশের ভবনের কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক উদ্ধার করেন। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।


স্থানীয়রা জানান, উদ্ধার শিক্ষার্থী উপজেলার গাজীরহাট হাজী নৈমুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে বিদ্যালয়ের টয়লেটে যায় সে। কিন্তু পেছন থেকে কে বা কারা তাকে মারধর ও তার ওপর চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগ করে। চেতনা ফিরে এলে সে দেখে তার হাত-পা ও মুখ বাঁধা। এ সময়ে বাথরুমের ভেতর থেকে চিৎকার করতে থাকে।


তারা আরও জানান, বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী একটি ভবনে কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেন। পরে তারা ওয়াশরুমের দরজা ভেঙে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন। এরপর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে খুলনার বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়।


খুলনার দিঘলিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সাথে সে কথা বলেছে। হামলাকারীদের সে দেখতে পায়নি। বিস্তারিত কোনো কিছু সে জানাতে পারেনি। ঘটনাস্থলে পুলিশে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। ঘটনার পর ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামিরদিয়া এলাকায় ওয়াসিম মিয়া নামের এক ব্যক্তির মাদক সেবন ও অসদাচরণের প্রতিবাদ করেন স্থানীয় যুবক আলমগীর হোসাইন। এ নিয়ে ওয়াসিমের সঙ্গে আলমগীরের বিরোধের সৃষ্টি হয়।


এর জের ধরে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আলমগীর হোসাইনের বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ও বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।


অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি আবারও বাড়িতে এসে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।


ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:১৫ পিএম

পটুয়াখালীর মহিপুরে চার বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সেকান্দার চৌকিদার (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতার সেকান্দার চৌকিদার অনন্তপাড়া এলাকার মৃত মোতাহার আলীর ছেলে।


মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সেকান্দার চৌকিদার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের অনন্তপাড়ার একই এলাকায় বসবাস করায় মাঝেমধ্যে ভিকটিমের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। গত ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ৮টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের শিশুটিকে তার পৈত্রিক বাড়ির সংলগ্ন খালপাড়ে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


ঘটনার পর ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে ২০ আগস্ট মহিপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মহিপুর থানার (মামলা নং-০৭)মামলা রুজু করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে অভিযুক্ত সেকান্দার চৌকিদারকে গ্রেফতার করে।


মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো শামীম আহমেদ বলেন, “চার বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আসামি সেকান্দার চৌকিদারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ  শেষে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।”


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৩ পিএম

সিলেট নগরীতে বাসার ভেতরে ঢুকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের আদালত পরিদর্শক সৈয়দ মাহবুবুল আলম এ তথ্য জানান।


তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামী বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে ফের জেল-হাজতে প্রেরণ করা হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘জবানবন্দিতে তিনি আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। যা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা যাবে না।’


এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বাবুল মিয়াকে আদালতে তোলে পুলিশ। পরে রাত ৯টার দিকে জবানবন্দি শেষে তাকে আদালত থেকে বের করা হয়।

  

সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফারহানা সুলতানা গত রোববার (১৬ আগস্ট) বাবুল মিয়ার চারদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। এদিন পুলিশ বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমাণ্ড আবেদন করেছিল। শুনানি শেষে আদালত তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।


সিলেট নগরির রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে গত বুধবার সকালে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে শুক্রবার রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা। তবে অভিযোগে তিনি হত্যাকাণ্ডে পুলিশের হাতে আটক বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আইনজীবী ও ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করেন সেলিনা। মামলার এজহারে সেলিনা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে তার বাবা, মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৪৬ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ১৪ দিন বয়সী এক নবজাতককে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে হত্যার ঘটনায় মায়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।


গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা সৌরভ হোসেন বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে নিহতের মা ফাতেমা বেগমকে (১৯)। এর আগে, সোমবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়ির সৌরভের ঘরে এ ঘটনা ঘটে। পরে একই দিন রাত ১০টার দিকে বসতঘরে রাখা একটি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ড্রাম থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।  


নিহত নবজাতক ওই বাড়ির সৌরভ হোসেনের ছেলে। গ্রেপ্তার ফাতেমা বেগম বেগমগঞ্জের নরোত্তমপুর ইউনিয়নের শরীফ উল্যার মেয়ে।


স্থানীয়রা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের পর সৌরভের সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়। এরপর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যা থেকে নবজাতক নিখোঁজ হলে পরিবারের সদস্যরা ফাতেমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, পেছন থেকে তাকে মাথায় আঘাত করে কে বা কারা শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে বলেন, জিনে নিয়ে গেছে। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে খোঁজাখুজির একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে ঘরে থাকা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফাতেমা সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। নবজাতক জ্বালাতন করত,ঘুম যেতনা, অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত, মাকে ঘুম যেতে দিতনা বলে প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে পেলে তাকে হত্যা করেন।


বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মাকে ঘটনার পরপরই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী মাকে একমাত্র আসামি করে মামলা নেওয়া হয়।  


অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওসি মো. শামসুজ্জামান আরও বলেন, নবজাতকের মা তাকে বসতঘরে থাকা বৃষ্টি পানি রাখার ড্রামে ফেলে মুখ বন্ধ করে দেন। এতে নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৮ এএম

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স অভিযানে গাঁজা ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের অভিযোগে দুইজনকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহফুজুল হক ও মোসাদ্দেক হোসেন।


দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নোয়াখালী পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত.কাজী ওয়াজী উল্ল্যার ছেলে আব্দুল কাদের (৫১) ও একই এলাকার আলী হোসেনের ছেলে মো. নুর ইসলাম (২৩)।


অভিযান সূত্রে জানা যায়, বুধবার নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষীনারায়ণপুর এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের অংশগ্রহণে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গাঁজা ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের মাধ্যমে জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলেই তাদের দুজনকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।


মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ আরও বলেন, মাদক  নিমূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে।